দেশবাসীকে সতর্ক করে যা বললেন সেনাপ্রধান

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: দেশবাসীকে সতর্ক করে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলছেন, আপনারা যদি ভেদাভেদ ভুলে একসাথে কাজ না করতে পারেন, নিজেরা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করেন, মারামারি কাটাকাটি করেন। তাহলে এই দেশ এবং জাতির স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে।

২০০৯ সালে পিলখানায় সংঘটিত নির্মম হত্যাকাণ্ডে শাহাদাত বরণকারী শহিদ অফিসারদের স্মরণে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, আমার একটাই আকাঙ্ক্ষা, দেশ ও জাতিকে একটা সুন্দর জায়গায় রেখে সেনানিবাসে ফেরত আসবো।

তিনি আরও বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপের পেছনে কিছু কারণ আছে। প্রথম কারণ হচ্ছে— আমরা নিজেরা হানাহানির মধ্যে ব্যস্ত। একজন আরেকজনের বিষোদ্‌গারে ব্যস্ত। এটা একটা চমৎকার সুযোগ অপরাধীদের জন্য। যেহেতু আমরা একটা অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে বিরাজ করছি। তারা (অপরাধী) খুব ভালোভাবেই জানে এই সময়ে অপরাধ করলে পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। সেই কারণে এই অপরাধগুলো হচ্ছে। আমরা যদি সংগঠিত থাকি, একত্রিত থাকি তাহলে এটা সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই এগুলো দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছে অতীতে। খারাপ কাজের সঙ্গে অসংখ্য ভালো কাজ করেছে। আজকে দেশের স্থিতিশীলতা, দেশটাকে এতো বছর স্থিতিশীল রাখা হয়েছে, এর কারণ হচ্ছে সশস্ত্র বাহিনীর বহু সেনা সদস্য ও সিভিলিয়ান সবাই মিলে এই অর্গানাইজেশনগুলোকে অসামরিক, সামরিক সবাই মিলে ইফেক্টিভ রেখেছে, সেজন্য এতোদিন ধরে একটা সুন্দর পরিবেশ পেয়েছি।

তিনি আরও বলেন, এর মধ্যে যারা কাজ করেছে, যারা অপরাধ করে থাকে তাদের শাস্তি হবে, অবশ্যই শাস্তি হতে হবে। নাহলে এই জিনিস আবার ঘটবে। আমরা সেটাকে চিরতরে বন্ধ করতে চাই। কিন্তু তার আগে মনে রাখতে হবে- আমরা এমনভাবে কাজটা করবো এই সমস্ত অর্গানাইজেশনগুলো আন্ডারমাইন্ড (অবমূল্যায়ন) না হয়।

সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, আজকে পুলিশ সদস্য কাজ করছে না। এর বড় কারণ অনেকের বিরুদ্ধে মামলা, অনেকেই জেলে। র‍্যাব, বিজিবি, ডিজিএফআই, এনএসআই প্যানিকড (আতঙ্কিত)। বিভিন্ন গুম-খুনের তদন্ত চলছ। অবশ্যই তদন্ত হবে। দোষীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। এমনভাবে কাজটা করতে হবে যেন এই অর্গানাইজেশনগুলো আন্ডারমাইন্ড (অবমূল্যায়ন) না হয়। এই অর্গানাইজেশনগুলোকে আন্ডারমাইন্ড করে আপনারা যদি মনে করেন দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিরাজ করবে, সবাই শান্তিতে থাকবেন, সেটা সম্ভব না। আমি পরিষ্কার করে বলে দিচ্ছি।

তিনি বলেন, এই দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব শুধু সেনাবাহিনীর না। দুই লাখ পুলিশ আছে, বিজিবি, র‍্যাব ও আনসার ভিডিপি আছে। আমার আছে ৩০ হাজার সদস্য। ৩০ হাজার সদস্য দিয়ে আমি কীভাবে পূরণ করবো। ৩০ হাজার থাকে, আবার ৩০ হাজার চলে যায় ক্যান্টনমেন্টে, এটা দিয়ে আমরা দিন-রাত চেষ্টা করে যাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, যে সমস্ত উচ্ছৃঙ্খল কাজ হয়েছে সেটা আমাদের নিজস্ব তৈরি। বিপরীতমুখী কাজ করলে দেশে কখনো শান্তি-শৃঙ্খলা আসবে না। এই জিনিসটা আপনাদের মনে রাখতে হবে।

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের তদন্তের কথা উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, তদন্ত কমিশন হচ্ছে আরেকটা। আমরা চেষ্টা করবো তদন্ত কমিশনকে সহায়তা করতে। যে ধরনের সাহায্য-সহযোগিতার প্রয়োজন হয় আমরা করবো।

নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরা দেশে একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দিকে ধাবিত হচ্ছি। তার আগে যে সমস্ত সংস্কার করা প্রয়োজন অবশ্যই সরকার সেদিকে খেয়াল করবেন। ড. ইউনূস যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন দেশটাকে একত্রিত রাখতে। উনাকে আমাদের সাহায্য করতে হবে। উনি যেন সফল হতে পারে। সেদিকে আমরা সবাই চেষ্টা করবো। আসুন আমরা নিজেদের মধ্যে মারামারি, কাটাকাটি না করে একত্রিত থাকি। দেশ-জাতি যেন একসঙ্গে থাকতে পারে, সেইদিকে কাজ করতে হবে।

সেনাপ্রধান বলেন, আমাদের মধ্যে মতের বিরোধ থাকতে পারে, চিন্তা-চেতনার বিরোধ থাকতে পারে কিন্তু দিনশেষে দেশ ও জাতির দিকে খেয়াল করে আমরা যেন এক থাকতে পারি। তাহলেই দেশ উন্নত হবে, দেশটা সঠিক পথে পরিচালিত হবে। বিশ্বাস করেন নাহলে আমরা আরও সমস্যার মধ্যে পড়তে যাবো। ওদিকে আমরা যেতে চাই না।

তিনি সতর্ক করে বলেন, আমি আপনাদের সতর্ক করে দিচ্ছি, পরে বলবেন আমি সতর্ক করিনি। আপনারা যদি ভেদাভেদ ভুলে একসাথে কাজ না করতে পারেন, নিজেরা যদি কাদা ছোড়াছুড়ি করেন, মারামারি কাটাকাটি করেন। তাহলে এই দেশ এবং জাতির স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হবে। আমি আজকে বলে দিলাম, না হলে আপনারা বলবেন আমি সতর্ক করিনি। আমি সতর্ক করে দিচ্ছি আপনাদের। এই দেশ আমাদের সবার, সবাই সুখে শান্তিতে থাকতে চাই। আমরা চাই না হানাহানি, কাটাকাটি, মারামারি।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর প্রতি আক্রমণ করবেন না। একটা কমন জিনিস আমি দেখতে পাচ্ছি সেনাবাহিনী প্রধানের প্রতি বিদ্বেষ কারো কারো। কী কারণে আমি আজ পর্যন্ত এটা খুঁজে পাইনি। আমাদের সাহায্য করুন, আমাদের আক্রমণ করবেন না। আমাদের অনুপ্রাণিত করেন, আমাদের উপদেশ দেন। আমরা অবশ্যই ভালো উপদেশ গ্রহণ করব। আমরা একসঙ্গে থাকতে চাই দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, রাওয়ার চেয়ারম্যান কর্নেল মোহাম্মদ আব্দুল হক (অব), পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শহীদ পরিবারের সদস্যরা, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও জামায়াতে ইসলামীর সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরসহ আরও অনেকে।




পিরোজপুরে আগুনে ৪১ দোকান পুড়ে গেছে, কোটি টাকার ক্ষতি

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় ভোরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৪১টি দোকান পুড়ে গেছে। এতে প্রায় শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মিয়ারহাট বন্দরের মাছ বাজার সংলগ্ন এলাকায় মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুন লাগে। আগুনের সূত্রপাত হয় বাজারের মাসুদ নামে এক ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ীর দোকান থেকে। পরে দ্রুত আগুনের তীব্রতা বেড়ে যায় এবং বাজারের প্রায় ৩০টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। তবে, বরিশাল, বানারীপাড়া, পিরোজপুর, কাউখালি ও নেছারাবাদ ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী আমির হোসেন জানান, আগুন লাগার খবর পেয়ে দোকানে গিয়ে দেখেন তার দুটি দোকান আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনি কোনো মালামাল বের করতে পারেননি। মিয়ারহাট বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক বাদল বেপারী জানান, আগুনে প্রায় ৩০টি দোকান পুড়ে গেছে এবং এতে আনুমানিক শত কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার পাঁচপাড়া বাজারে আরেকটি আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে ১১টি দোকান পুড়ে যায়। আগুনের সূত্রপাত হয় জয়দেব মজুমদারের সারের ও ইলেকট্রনিক্স দোকান থেকে। এরপর আগুন অন্যান্য দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয় বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।

পিরোজপুর ও নাজিরপুর ফায়ার সার্ভিসের দুইটি ইউনিট এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন জানিয়েছেন, আগুনের সূত্রপাত বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট হতে পারে। তবে, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ তদন্তের পর জানা যাবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে মশার উপদ্রব বেড়েছে, নগরবাসী অতিষ্ঠ

বরিশাল শহরে বেড়েছে মশার উপদ্রব। নগরবাসী একদিকে মশা থেকে রক্ষা পেতে মশারি টানিয়ে, কয়েল জ্বালিয়ে সময় কাটাচ্ছেন, অন্যদিকে সিটি করপোরেশন মশা নিধনে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা কার্যকর হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

বরিশাল নগরীজুড়ে গত কয়েকদিন ধরে মশার উপদ্রব বেড়ে গেছে। নগরবাসী জানান, দিনের বেলাতেও মশার উৎপাতে তারা অতিষ্ঠ। অনেকেই মশার কয়েল ও মশারি ব্যবহার করেও উপশম পাচ্ছেন না। যদিও বরিশাল সিটি করপোরেশন থেকে মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে, তাতে মশা নিধন হচ্ছে না বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা নিয়মিত মশা নিধনে কাজ করে যাচ্ছে। তবে নগরবাসীর অসচেতনতা এবং ময়লা-আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেলার কারণে মশার উপদ্রব বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী জানিয়েছেন, তারা নিয়মিতভাবে নগরীর চারটি ওয়ার্ডে মশার স্প্রে এবং ফগার মেশিনের মাধ্যমে ওষুধ ছিটাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, এই ওষুধ সম্পূর্ণ কার্যকর এবং মশার ৯০% লার্ভা ধ্বংস হচ্ছে। তবে, নগরবাসীর ময়লা ফেলার প্রবণতা মশার উপদ্রব বাড়াচ্ছে।

এছাড়া, বরিশাল সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা খন্দকার মঞ্জুরুল ইসলাম শুভ্রও জানান, মশার লার্ভা ৯০% পরিমাণে নিধন করা সম্ভব হয়েছে। তারা প্রতিদিন মাঠ পর্যায়ে তদারকি করে মশার ওষুধ ছিটানোর কাজ অব্যাহত রেখেছেন।

নগরবাসী অভিযোগ করেছেন যে, সিটি করপোরেশন থেকে ময়লা পরিষ্কার না করার কারণে মশার উপদ্রব দিন দিন বেড়ে চলেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মশার ওষুধ ছিটানো হলেও তাতে মশা মরে না, বরং বাইরের মশা ঘরে ঢুকে আরও সমস্যা সৃষ্টি করছে। অনেকের মতে, সিটি করপোরেশন যে মশার ওষুধ ব্যবহার করছে তা সঠিকভাবে কার্যকর নয়।

বরিশাল সুশীল সমাজের প্রতিনিধি গোপাল সরকার জানান, “মশার উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার পেছনে সঠিক মিশ্রণ না হওয়া বা ওষুধের মান খারাপ থাকতে পারে।” তিনি আরও বলেন, মশার উৎসব যেন চলছে বরিশাল নগরীতে।

বরিশাল সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, মশা নিধনের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। বর্তমানে ১৮টি ফগার মেশিন এবং ৬০টি হ্যান্ড স্প্রে মেশিনের মাধ্যমে মশা নিধনের কাজ চলমান রয়েছে। সিটি করপোরেশনের চিকিৎসকরা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে কার্যকারিতা পরীক্ষা করছেন।

এদিকে, গত বছর মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছিল প্রায় আড়াই হাজার মানুষ। এর মধ্যে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৪৪ জন, তবে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

নগরবাসী দাবি করেছেন, সিটি করপোরেশন যদি সময়মতো ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার না করে এবং কার্যকর মশা নিধন ব্যবস্থা না নেয়, তবে বর্ষা মৌসুমে মশার উপদ্রব আরও বেড়ে যাবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পদত্যাগপত্রে নাহিদ ইসলামের ভাষণ: দেশ ও জাতির স্বার্থে পদত্যাগের ঘোষণা

অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম আজ (২৫ ফেব্রুয়ারি) পদত্যাগ করেছেন। তিনি তার পদত্যাগপত্রটি প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেন।

পদত্যাগপত্রে নাহিদ ইসলাম লেখেন, “মহোদয়, প্রথমেই আমি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহত সহযোদ্ধাদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের পর ছাত্র-জনতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের দায়িত্ব গ্রহণ করায় আপনার প্রতি আমি চিরকাল কৃতজ্ঞ। বৈষম্যহীন, ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত উন্নত বাংলাদেশ গড়তে আপনার নেতৃত্বে গঠিত উপদেষ্টা পরিষদে আমাকে দায়িত্ব দেওয়ার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

তিনি আরও জানান, গত ০৮ আগস্ট ২০২৪ তারিখে শপথ নেওয়া উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে তিনি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন শুরু করেন। তিনি বলেন, “নানামুখী চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আপনার নেতৃত্বে দায়িত্ব পালনে সদা সচেষ্ট থেকেছি। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে, দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে, আমি মনে করি যে, আমার ছাত্র-জনতার কাতারে অবস্থান করা উচিত।”

শেষে, তিনি তার পদত্যাগের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন, “এমতাবস্থায়, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা পদ থেকে অব্যাহতি চাচ্ছি। আমার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার জন্য মহোদয়কে অনুরোধ করছি।”

এছাড়া, নাহিদ ইসলাম বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করবে। নতুন দলটির নেতৃত্ব দেবেন তিনি, আর এ কারণেই তিনি উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের পদত্যাগ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : পদত্যাগ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের লক্ষ্যে তার এ পদত্যাগ বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা অনির্ধারিত বৈঠকে বসেছে। দুপুর আড়াইটার দিকে যমুনার সামনে এ বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের জানানো হবে বলে প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে।

গত কয়েকদিন ধরেই গুঞ্জন চলছিল নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে নতুন রাজনৈতিক দল আসছে। উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামও বেশ কয়েকবার জানিয়েছিলেন পদত্যাগ করেই তিনি নতুন দলে যোগ দেবেন। আজকে তার পদত্যাগের মধ্যদিয়ে সে পথ অনেকটা সুগম হলো। আগামী শুক্রবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ছাত্রদের পক্ষ থেকে নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হবে।

রাজধানীর মানিকমিয়া অ্যাভিনিউয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটবে। নতুন এ দলের নাম না জানা গেলেও এর নেতৃত্বে নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব হবেন আকতার হোসেন থাকবেন বলে জানা গেছে।

নতুন রাজনৈতিক দলের মুখপাত্র এবং মুখ্য সংগঠক পদে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম থাকার জোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া শীর্ষ পদগুলোতে নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ, মুখপাত্র সামান্তা শারমিন, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, তাসনিম জারা ও আরিফুল ইসলাম আদীব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদস্য সচিব আরিফ সোহেল, মুখ্য সংগঠক আবদুল হান্নান মাসউদ থাকবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে নাহিদ ইসলামকে ট্যাগ করে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক সারজিস আলম দুপুরে ফেসবুক দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, ‘এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার। রাজপথে স্বাগতম সহযোদ্ধা।’




গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি: শিল্প খাতে বিপর্যয়ের আশঙ্কা

দেশের শিল্প খাত বর্তমানে নানা কারণে গভীর সংকটে। গ্যাস-বিদ্যুতের অভাব, উচ্চ সুদের হার, ডলার সংকট এবং ঋণপত্র খোলার হার কমে যাওয়ার মতো সমস্যা বাড়ছে। এর ফলে কয়েক শ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেক কারখানা কার্যক্রম চালাতে পারছে না। অনেকেই নিয়মিত বেতন-ভাতা দিতে পারছে না, ফলে শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।

এদিকে, সরকার গ্যাসের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে, যা শিল্প খাতে আরও চাপ সৃষ্টি করবে। গত রবিবার রাজধানীতে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, গ্যাসের দাম দ্বিগুণ হলে বিনিয়োগ কমবে এবং আমদানিনির্ভরতা বাড়বে। এভাবে গেলে দেশের অর্থনীতি সংকটে পড়বে।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ জানান, গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে উৎপাদন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, যা প্রতিযোগিতা কমাবে। নতুন বিনিয়োগেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে সিমেন্ট, ইস্পাত ও সিরামিক খাতে আমদানিনির্ভরতা আরও বাড়বে।

বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স (বিসিআই) এর সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত শিল্প খাতে আরও সংকট সৃষ্টি করবে। তিনি দাবি করেন, সরকার যদি শিল্প খাতে সহায়তা না করে, তবে বর্তমান শিল্পগুলোও টিকিয়ে রাখা যাবে না।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও সাভারের শিল্প এলাকায় গ্যাসের সংকটের কারণে উৎপাদন কমে গেছে। ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে, যার ফলে সরবরাহ চেইনেও বিপর্যয় সৃষ্টি হচ্ছে।

এ অবস্থায়, গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করলে শিল্প খাতের বিপর্যয় নিশ্চিত। ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত নয়, যা দেশের শিল্প খাতের উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সারাদেশে র‌্যাবের ২১৮ টহল দল মোতায়েন

দেশব্যাপী চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) সারাদেশে ২১৮টি টহল দল মোতায়েন করেছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারীও বাড়ানো হয়েছে।

আজ (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিকুর রহমান জানান, রাজধানী ঢাকা শহরে ৬৯টি এবং ঢাকার বাহিরে ১৪৯টি, মোট ২১৮টি টহল দল মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “র‌্যাবের রোবাস্ট পেট্রোল ও চেকপোস্ট স্থাপনসহ আভিযানিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে, যাতে সন্ত্রাসী, ডাকাত, চুরি, ছিনতাই, মাদকবিরোধী অপরাধ, খুন, চাঁদাবাজি এবং অপহরণের সাথে জড়িত অপরাধীদের গ্রেফতার করা যায়।”

আশিকুর রহমান আরও জানান, “সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সন্ত্রাসী ও অপরাধী চক্র নাশকতা এবং হামলা চালানোর চেষ্টা করেছে, যা জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তাই, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি রাত থেকে র‌্যাবের আভিযানিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।”

র‌্যাবের গ্রহণ করা প্রধান কার্যক্রম:

  • যৌথ অভিযান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার 강화
  • সড়কগুলোতে চেকপোস্ট বৃদ্ধি
  • গুজব ও মিথ্যা তথ্য ছড়ানো প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং
  • প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশিত অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান

র‌্যাব জনগণের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে যে, কোনও বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে স্থানীয় র‌্যাব ব্যাটালিয়ন বা র‌্যাব কন্ট্রোল রুমে (হটলাইন নম্বর: ০১৭৭৭৭২০০২৯) যোগাযোগ করার জন্য।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ডিসেম্বর বা মার্চে হতে পারে জাতীয় নির্বাচন: প্রেস সচিব

চলতি বছরের ডিসেম্বর বা সর্বোচ্চ আগামী বছরের মার্চের মধ্যে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

আজ (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, নির্বাচন আয়োজনের সময় নির্ধারণ নির্ভর করছে রাজনৈতিক দলের সংস্কারের পরিমাণের ওপর। তিনি আরও বলেন, “যদি রাজনৈতিক দলগুলো কম সংস্কার চায়, তবে নির্বাচন চলতি বছরের ডিসেম্বরে হতে পারে, তবে যদি বেশি সংস্কার চায়, তাহলে আগামী বছরের প্রথমার্ধে, অর্থাৎ জুন মাসে নির্বাচন হতে পারে।”

শফিকুল আলম এসময় নির্বাচন সংক্রান্ত কিছু আবহাওয়া সমস্যা উল্লেখ করে বলেন, “এপ্রিল মাস থেকে কাল বৈশাখী ঝড় এবং বর্ষার শুরু হওয়ায় এপ্রিল, মে এবং জুন মাসে নির্বাচন আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়বে। আমার মতে, নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যে অথবা সর্বোচ্চ আগামী বছরের মার্চ মাসের মধ্যে হবে।”

এছাড়া, জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে শফিকুল আলম বলেন, “এটা অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। এই বিষয়টি উপদেষ্টা পরিষদের মধ্যে এখনও আলোচনা হয়নি।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কলকাতায় ভূমিকম্প, ঢাকায়ও অনুভূত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী রাজ্য ওড়িশায় আজ সকালে ৫.১ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫.১, যার কেন্দ্র ছিল বঙ্গোপসাগরে এবং এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ৯১ কিলোমিটার গভীরে ছিল।

ভূমিকম্পের প্রভাব এতটাই ছিল যে, এটি বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাতেও অনুভূত হয়েছে। ভূমিকম্পের খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমসহ ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি বিষয়ক ওয়েবসাইট “ভলকানো ডিসকভারি” এবং “লাইভ মিন্ট” নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ১০ মিনিটে কলকাতার কাছে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হলেও এটি কলকাতা, হাওড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা এবং আশেপাশের এলাকায় ব্যাপকভাবে অনুভূত হয়। এছাড়া, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল ওড়িশার পারাদ্বীপ থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দূরে।

ভারতীয় ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি ভূমিকম্পের প্রকৃত উৎস এবং তার গভীরতা নিশ্চিত করেছে। এই ভূমিকম্পের অনুভূতি শুধু ভারতেই নয়, বাংলাদেশ এবং ওড়িশাতেও ছিল।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জলবায়ুর রোষানলে পটুয়াখালী: দারিদ্র্য, বাস্তুচ্যুতি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি

একসময় বরিশাল বিভাগকে বলা হতো ‘বাংলার শস্যভান্ডার’, যার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল পটুয়াখালী। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জেলার অর্থনীতি ও জনজীবন আজ কঠিন সংকটের মুখে। ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নদীভাঙন ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে কৃষি ও জীবিকা ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বাড়ছে দারিদ্র্য, বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষা, আর জনস্বাস্থ্য পড়ছে মারাত্মক হুমকির মুখে।

প্রকৃতির সঙ্গে অসম লড়াই

শীতের সকাল। দোচালা টিনের ঘরের বারান্দায় কাঁথা মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছেন মতলেব মল্লিক। পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়ার এই প্রবীণ বাসিন্দা জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছেন প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিরুদ্ধে লড়াই করে। ১৯৭০ সালের ভয়াল ঘূর্ণিঝড়ের স্মৃতি এখনো তাঁকে শিহরিত করে। তিনি বলেন, “সে কি ভয়ংকর ঝড় ছিল! চারদিকে শুধু পানি আর পানি, কিছুই দেখা যায় না।”

এই দুর্যোগের ধাক্কা আজও পটুয়াখালীর বাসিন্দাদের পিছু ছাড়েনি। একের পর এক ঘূর্ণিঝড় ও নদীভাঙনে হাজার হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়েছে। মতলেব মল্লিকের মতো বহু কৃষক আজ জমিহারা। একসময় যে জমিতে ৫০০-৬০০ মণ ধান হতো, এখন সেখানে শুধুই পানি আর শূন্যতা।

দারিদ্র্যের করাল গ্রাস

একসময় কৃষিনির্ভর এই জেলা এখন দেশের অন্যতম দরিদ্র অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। ২০১৯ সালের জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (নিপোর্ট) জরিপে দেখা যায়, পটুয়াখালীতে দরিদ্র খানার হার ৬০.৬%। অথচ একসময় দেশের দরিদ্রতম জেলা ছিল কুড়িগ্রাম। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২২ সালের দারিদ্র্য মানচিত্র অনুযায়ী, পটুয়াখালীর দারিদ্র্যের হার ২০.৮%।

স্বাস্থ্যঝুঁকিতে লাখো মানুষ

প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও দূষিত পানির কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়েছে। একশনএইড বাংলাদেশের এক জরিপে দেখা গেছে, জেলার ৪৫% মানুষ গ্যাস্ট্রিকের সমস্যায় ভুগছেন। পাশাপাশি চর্মরোগ, ডায়রিয়া, ডায়াবেটিস, জ্বর, ফুসকুড়ি এখন নিত্যসঙ্গী।

পটুয়াখালীতে গত কয়েক দশকে ৭০টির বেশি ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে। ২০০৭ সালের সিডর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রায় ১,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এক লাখের বেশি পরিবার, নষ্ট হয়েছে হাজার কোটি টাকার ফসল ও মাছ।

নদীভাঙনের শিকার অসহায় মানুষ

রাঙ্গাবালীর চর মোন্তাজে নদীভাঙনে নিঃস্ব নূরুল হাওলাদার বলেন, “আমার ১৬ একর জমি নদীতে চলে গেছে। এখন ছেলেমেয়েদের নিয়ে কোনো রকমে বেঁচে আছি।”

২০১৭ সালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২০০২-২০১৬ সালের মধ্যে পটুয়াখালীতে ১,০০০ একরের বেশি চাষাবাদযোগ্য জমি, ২১০টি পরিবার, দুটি বাজার, তিনটি স্কুল ও ১০টি মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় কৃষি ও জীবনযাত্রা

জেলার কৃষকদের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও অনিয়মিত বৃষ্টিপাত। ২০১৭ সালের তুলনায় ২০২২ সালে পটুয়াখালীতে গড়ে ৮৪ মিলিমিটার কম বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে মরিচসহ নানা শস্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

কৃষক আলাউদ্দিন চৌকিদার বলেন, “গরমের সময় মাঠে কাজ করাই যায় না, মাটিতে যেন আগুন ধরে থাকে।”

বেঁচে থাকার লড়াই

জলবায়ুর সঙ্গে টিকে থাকার এই লড়াইয়ে অনেকেই পেশা বদলাতে বাধ্য হয়েছেন। একসময় কৃষক বেল্লাল গাজী আজ অন্যের নৌকায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন। তিনি বলেন, “আমার বাবার সময় জমিতে কাজের লোক লাগত, আর এখন আমি নিজেই দিনমজুরি করি।”

সমাধান কী?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পটুয়াখালীকে জলবায়ু সহনশীল করতে টেকসই বেড়িবাঁধ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, বিকল্প জীবিকা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোকেও আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

পটুয়াখালীর মানুষ বেঁচে থাকার জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু তাদের টিকে থাকার জন্য রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও সহায়তা প্রয়োজন। নাহলে এ জেলা ক্রমেই বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।


মো: আল-আমিন