দেশ-ঈমান রক্ষা ও ‘ইত্তেহাদ মায়াল ইখতেলাফ’ নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের শপথ

ঝালকাঠির নেছারাবাদ দরবারের ঐতিহ্যবাহী বার্ষিক ঈসালে-সওয়াব ওয়াজ-মাহফিলের সমাপনী দিনে দেশ-ঈমান রক্ষা এবং ‘ইত্তেহাদ মায়াল ইখতেলাফ’ নীতির ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠনের শপথ গ্রহণ করা হয়েছে। বাদ ফজর শুরু হওয়া দু’দিনব্যাপী এই মাহফিলের শেষ দিনে সভাপতিত্ব ও আখেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন দরবার শরীফের গদিনশীন পীর ছাহেব, আমীরুল মুছলিহীন হযরত মাওলানা মুহম্মদ খলীলুর রহমান নেছারাবাদী হুজুর।

মাহফিলের আগের দিন, রোববার সকাল ১০টায় দেশের খ্যাতনামা পীর-মাশায়েখ, ওলামায়ে কেরাম এবং ইসলামী নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে একটি বিশেষ জলসা অনুষ্ঠিত হয়। এই জলসায় আলেমসমাজের ঐক্য এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের কল্যাণে একটি গণমুখী ইসলামী সরকার কায়েমের ব্যাপারে উপস্থিত লাখো মানুষ একাত্মতা প্রকাশ করেন।

মাহফিলের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ইসলামী জীবনযাপনের বিভিন্ন বিষয়ের ওপর হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, যা সাধারণত অন্যান্য মাহফিলে দেখা যায় না।

সমাপনী বয়ানে হযরত নেছারাবাদী পীর ছাহেব হুজুর দেশ ও ঈমান রক্ষা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি বলেন, “ইসলামের বাস্তবতা হলো, সৃষ্টির সবকিছু স্বেচ্ছায় বা অনিচ্ছায় ইসলাম মেনে নিয়েছে। তবে মানুষের ইচ্ছাশক্তির উপর ভিত্তি করে আল্লাহ তাকে পুরস্কৃত বা তিরস্কৃত করেন। সুতরাং আমাদের জীবনকে মাওলার ইচ্ছাধীন করে জান্নাতের মুস্তাহেক হতে হবে।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত আলেমে-দ্বীন মাওলানা গাজী মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম, মাওলানা আব্দুল কাদির আল-মাদানী, মাওলানা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ আযীযাবাদী, মাওলানা শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দীকী, মাওলানা শাহ আতাউল্লাহ বোখারী, মাওলানা কাজী মুহাম্মদ আব্দুল মান্নান, প্রফেসর ড. মাওলানা মুহাম্মদ শহীদুল হক সহ দেশের বিশিষ্ট আলেমরা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরগুনায় ৩টি সংসদীয় আসন পুনর্বহালের দাবি

বরগুনায় তিনটি সংসদীয় আসন পুনর্বহাল করার দাবি জানিয়ে ঢাকাস্থ বরগুনা জেলা সমিতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এন এম নাসির উদ্দিনের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে।

সংগঠনটির নেতারা অভিযোগ করেছেন, বরগুনায় আগে তিনটি সংসদীয় আসন ছিল, কিন্তু বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে একটি আসন বাদ দিয়ে দুটি সংসদীয় আসন রাখা হয়। তারা মনে করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যা দক্ষিণাঞ্চলের এই অঞ্চলের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করেছে।

এসময় সংগঠনের নেতারা সিইসির কাছে তাদের দাবির সমর্থনে পুনর্বহালের আহ্বান জানান। তারা জানান, এই পরিবর্তন জনস্বার্থে ক্ষতিকর এবং বরগুনার জনগণ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আশ্বস্ত করেছেন, বিষয়টি আইনগতভাবে সমাধানের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

বরগুনা জেলা সমিতির সভাপতি মো. জিয়াউল কবির দুলু, সাবেক সাংসদ অ্যাডভোকেট আবদুল মজিদ মল্লিক, উপদেষ্টা ডা. সুলতান আহমদ, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আবুল হাশেম, সিনিয়র সহসভাপতি সাবেক সিনিয়র জেলা জজ মোহাম্মদ আলতাফ হোসাইনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বিনা চাষে সরিষা আবাদে বিপুল ফলন

বরিশালে চাষ ছাড়াই সরিষার বাম্পার ফলন, যা দেখে এলাকার কৃষকরা চমকে গেছেন। বিশেষভাবে, কোনো ধরনের জমি চাষ না করেও এই অঞ্চলে সরিষার সফল আবাদ হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য আয়ের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের কৃষক মো. গোলাম কবির জানিয়েছেন, আমন ধান পাকার আগে সরিষার বীজ ছিটিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ধান কাটা হলে প্রয়োজনীয় সার ও ওষুধ দেয়া হয় এবং এই প্রক্রিয়াতে জমিতে কোনো চাষ করতে হয় না। এভাবে বিনা চাষে সরিষার আবাদ সফল হওয়ায় কৃষকরা খুশি। তার মতে, জমি চাষ ছাড়াই সরিষা আবাদ করা সম্ভব এবং ফলনও চমৎকার হয়।

গোলাম কবির আরও বলেন, “প্রথমবার পাঁচ বছর আগে বিনা চাষে সরিষার আবাদ শুরু করি, তখন থেকে কৃষকদের মধ্যে এটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে। আজকাল আমাদের এলাকায় প্রায় ৯০% কৃষক বিনা চাষে সরিষা রোপণ করছেন।” তিনি জানালেন, এই পদ্ধতিতে আবাদে খরচ কম, শ্রমও কম লাগে এবং ফলনও ভালো হয়।

এ বিষয়ে ভবানিপুর গ্রামের কৃষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “গোলাম কবিরকে দেখে আমি এই পদ্ধতিতে সরিষা আবাদ শুরু করি। প্রথমবার খরচও কম ছিল এবং ফলনও বেশ ভালো পেয়েছি।”

এছাড়া নারী কৃষক ফজিলাতুন্নেছা জানান, “বিনা চাষে সরিষা আবাদে শুধু সার দিতে হয় এবং মাটির পরিস্থিতি অনুযায়ী সেচ দিতে হয়। এর বেশি কিছু করতে হয় না।”

স্থানীয় সাংবাদিক আরিফুর রহমান বলেন, “পাঁচ বছর আগে যখন প্রথম বিনা চাষে সরিষা আবাদ শুরু হয়েছিল, তখন অনেকেই এটি নিয়ে হাসাহাসি করেছিল। কিন্তু এখন ৯০% কৃষকই এই পদ্ধতি অনুসরণ করছে।”

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক (উদ্যান) মোসা. ফাহিমা হক জানান, “বরিশাল অঞ্চলে আমন ধান একটু দেরিতে পাকে, ফলে ধান কাটার পর সরিষা রোপণ করা সম্ভব হয় না। তাই আমন ধান মাঠে থাকার সময়ই সরিষার বীজ ছিটিয়ে দেয়া হয়। এতে খরচ কমে, কিন্তু ফসল উৎপাদনে কোনো সমস্যা হয় না।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে জনগণের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার নিরপেক্ষতা বজায় রেখে জনগণের হারানো ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেবে।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশে কিছুদিন ধরে অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আজ যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের নিয়ে জনগণের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আমরা সরকার গঠনের সময় থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সমর্থন করে এসেছি, কারণ আমরা চেয়েছি তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করবে। কিন্তু এখন তাদের বিভিন্ন বক্তব্য ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।”

তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবেই, তবে বিভেদ তৈরি করা যাবে না। বিভেদের ফলে গণতন্ত্র ও দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতেই হবে, যাতে গণতন্ত্রবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া যায়।”

তারেক রহমান বলেন, “দেশের জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। যদি গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত থাকে, তাহলে মানুষ ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা পাবে। ভোটাধিকার নিশ্চিত হলে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে।”

তিনি বিএনপির অতীত আন্দোলনের কথা তুলে ধরে বলেন, “বিএনপি ৪৫ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের দলে পরিণত হয়েছে। আমরা সবসময় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব।”

নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশ্য করে তারেক রহমান বলেন, “নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব হবে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করা। কুমিল্লাসহ সারাদেশে দলের আদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের অনেক সহকর্মী গুম, খুন, ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোট প্রদানের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে এবং সরকারের কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে।”

সম্মেলনের শেষ মুহূর্তে তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দেশ গঠনের সময় এখনই। সবাই মিলে জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে, কে দেশ পরিচালনা করবে। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের প্রশ্নে আমাদের অটল থাকতে হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“শামীম ওসমান ও পরিবারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা”

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান, তার ছেলে ইমতিনান ওসমান এবং মেয়ে লাবিবা জোহা দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেনের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। দুদকের উপপরিচালক রেজাউল করিম আসামিদের বিদেশ যাত্রা রোধে আবেদন করেছিলেন।

আবেদনে জানানো হয়, শামীম ওসমানসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, জমি দখল, অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ক্রয়, দুবাইয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে।

এছাড়া, অনুসন্ধানকালে জানা যায় যে, তারা বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন, ফলে তদন্ত কাজ ব্যাহত হতে পারে। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধান নিশ্চিত করতে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“পদত্যাগের পর নাহিদ ইসলামের মন্তব্য: আসিফ-মাহফুজের পদত্যাগ নিয়ে স্পষ্টতা নেই”

 

সম্প্রতি পদত্যাগ করা তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মাহফুজ আলমের পদত্যাগের বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি জানিয়েছেন, তারা এখনো সরকারের দায়িত্বে আছেন এবং সরকারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে, প্রধান উপদেষ্টা যমুনার বাসভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “এই সরকারের গঠনের সময় বিচার ও সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, সেই লক্ষ্য পূরণে এখনও তারা সক্রিয় রয়েছেন। তবে যদি তারা রাজনীতি করতে চান, তখনই হয়তো পদত্যাগ করবেন।”

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “গত ছয় মাসে আমরা আমাদের সাধ্যমতো কাজ করার চেষ্টা করেছি। দুটি মন্ত্রণালয়ের বাইরেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে, তবে আমি বিশ্বাস করি যে, জনগণ আমাদের কাজের ফলাফল দেখবে।”

তিনি আরো উল্লেখ করেন, “আমি এখন সরকারের কোনো দায়িত্বে নেই, তবে আমাদের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। আমি নতুন রাজনৈতিক শক্তি ও দলের অংশ হিসেবে মাঠে থাকতে চাই। জনগণের সাথে একত্র হয়ে এই লক্ষ্য পূরণে কাজ করব।”

এছাড়া, নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন হতে যাচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি নতুন দলটি আত্মপ্রকাশ করবে। এজন্য নাহিদ ইসলাম তার উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




“নিরপেক্ষ ও শক্ত হাতে দেশ পরিচালনার আহ্বান মির্জা ফখরুলের”

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্তর্বর্তী সরকারকে দেশের স্থিতিশীলতা এবং শান্তি বজায় রাখতে নিরপেক্ষভাবে এবং শক্ত হাতে সরকার পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দেশের জনগণের জন্য একটি সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার ইন্সটিটিউটে পিলখানায় শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “আপনি যদি এই সরকারের নেতৃত্ব দেন, তবে আমাদের প্রত্যাশা থাকবে যে, আপনি পক্ষপাতিত্ব ছাড়া শক্ত হাতে দেশের সরকার পরিচালনা করবেন।”

তিনি আরও জানান, অনেকে বিএনপিকে সমালোচনা করছে যে তারা শুধু নির্বাচনের কথা বলছে, কিন্তু বিএনপির মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা। “আমরা শুধু নির্বাচন নয়, বরং সার্বিক সংস্কারের কথা বলছি। যখনই প্রকৃত নির্বাচন হবে, তখনই দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে।”

মির্জা ফখরুল দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “আজকাল নানা ধরনের অপপ্রচার চলছে, যা দেশের শান্তি ও স্বাধীনতার জন্য ক্ষতিকর। তবে আমরা আশাবাদী যে, জনগণের ঐক্যবদ্ধতায় আমরা একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পারব।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের শক্তি, জাতির দুঃসময়ে তারা সবসময় এগিয়ে এসেছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ৭ নভেম্বর দেশের স্বাধীনতা রক্ষা করা এই বাহিনীর সাহসিকতা এবং দেশপ্রেমের নজির।”

মির্জা ফখরুল শেষের দিকে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “একত্র হয়ে এবং ধৈর্য ধরে আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারব।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে সরকারি হাসপাতালেই বেশি যান মানুষ

এ বছর সরকারি হাসপাতালেই বেশি যাচ্ছেন বরিশালের মানুষ, তবে সেবার মান নিয়ে রয়েছে নানা সমস্যা

বরিশালের মানুষ সরকারি হাসপাতালকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন, একটি জরিপের ফলাফলে উঠে এসেছে এমন তথ্য। গত এক বছরে গড়ে ৬২ শতাংশ মানুষ সরকারি ও বেসরকারি উভয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে যাচ্ছে ৬২ শতাংশ মানুষ, এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬১ শতাংশ মানুষ। তবে, ৩৯ শতাংশ জনগণ কখনোই বেসরকারি হাসপাতালে এবং ৩৮ শতাংশ মানুষ সরকারি হাসপাতালে যাননি। এই মানদণ্ডে, গ্রামের তুলনায় শহরের মানুষ বেশি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

বরিশালের গ্রামাঞ্চলের মানুষ সরকারি হাসপাতালেই বেশি চিকিৎসা নিচ্ছেন। গ্রামে সরকারি হাসপাতালে গিয়েছেন ৬৩ শতাংশ মানুষ, যেখানে শহরে এই হার ৫৯ শতাংশ। বয়সের হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন ১৮-২৯ বছর বয়সী মানুষ, এই বয়সী ৬৩ শতাংশ মানুষ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে ৩০-৪৯ বছরের ৬২ শতাংশ ও ৫০ বছরের বেশি বয়সী ৬২ শতাংশ মানুষ সরকারি হাসপাতালকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

এছাড়া, ২০২৫ সালের স্বাস্থ্য খাত সংস্কার বিষয়ে একটি জনমত জরিপ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৮,২৫৬টি পরিবারের ১৮ বছরের বেশি বয়সী সদস্যদের মতামত নেওয়া হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এই জরিপটি পরিচালনা করেছে। তবে জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা পাচ্ছেন, কিন্তু সেবার মান তেমন সন্তোষজনক নয়। অন্যদিকে, বেসরকারি হাসপাতালে সেবার মান ভালো হলেও মূল্য বেশ বেশি, যা বেশিরভাগ মানুষকেই বাধাগ্রস্ত করছে।

বরিশালের মানুষের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৬৯ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন, যা দেশের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। একইভাবে, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামেও সরকারি হাসপাতালের প্রতি আগ্রহের হার বেশি (৬৮% এবং ৬৭%)। ঢাকায় সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার হার সবচেয়ে কম, যা ৫৭ শতাংশ।

বরিশালের চট্টগ্রামের তুলনায় মানুষ বেশি বেসরকারি হাসপাতালে যায়। চট্টগ্রামে ৭৫% মানুষ বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পাশাপাশি, ঢাকায় ৬৬% ও বরিশালে ৬৬% মানুষ বেসরকারি হাসপাতালে গিয়েছেন।

দেশে সাত ধরনের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, যেখানে ৩৮% মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে, গ্রামে মানুষ প্রধানত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (৪২%) এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে (২৭%) চিকিৎসা নিচ্ছেন। শহরে বেশিরভাগ মানুষ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন, যার হার ৩৭%।

সার্বিকভাবে, সরকারি হাসপাতালগুলির সেবার গুণমান নিয়ে জনমনে এক ধরনের অসন্তোষ রয়েছে। তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি হাসপাতালে সেবার মান উন্নত হলে, বেসরকারি হাসপাতালের চেয়ে সরকারি হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়বে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি হাসপাতালগুলিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সেবাদানকারীদের আচরণ এবং রোগীদের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার মাধ্যমে সেবার মান বাড়ানো সম্ভব।

জরিপের তথ্যানুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেওয়া ৮১% মানুষ কমপক্ষে একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের সেবা পেয়েছেন। গ্রামাঞ্চলে ৭৭% মানুষ এমবিবিএস চিকিৎসকের সেবা পেয়েছেন, তবে শহরে এই সংখ্যা ৮৯%। অন্যদিকে, ৪% মানুষ কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা দানকারী বা পল্লী চিকিৎসকের সেবা নিয়েছেন।

স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যার মোকাবিলা করতে হলে, হাসপাতালগুলির সেবার মান বৃদ্ধি করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং রোগীদের প্রতি ভালো আচরণ নিশ্চিত করা গেলে, সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বেশি আগ্রহী হবেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




একদিন প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন নাহিদ ইসলাম: প্রেস সচিব

অন্তর্বর্তী সরকারের সদ্য সাবেক তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম একদিন দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে, শফিকুল আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে নাহিদ ইসলামের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এই শুভেচ্ছা জানান। তিনি ফেসবুকে লিখেন, ‘দেশের সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নাহিদ ইসলাম। তার বয়স মাত্র ২৬, এবং এরই মধ্যে তিনি একজন নৃশংস স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে একটি বড় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি দেশের রাজনীতির অঙ্গনে আরও কয়েক দশক বড় বৈশিষ্ট্য হয়ে থাকবেন।’

পোস্টের শেষে শফিকুল আলম আরও উল্লেখ করেন, ‘একদিন সে দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন।’

এর আগে, মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) নাহিদ ইসলাম অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নাহিদ ইসলামকে রাজপথে স্বাগত জানালেন সারজিস আলম

নাহিদ ইসলাম, যারা ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা, তাকে রাজপথে স্বাগত জানালেন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সারজিস আলম তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে এক পোস্টের মাধ্যমে নাহিদ ইসলামকে অভিবাদন জানান। তিনি তার পোস্টে লিখেছেন, ‘এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার। রাজপথে স্বাগতম, সহযোদ্ধা’।

নাহিদ ইসলাম অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের টেলিযোগাযোগ, তথ্য ও ডাক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তবে, নতুন রাজনৈতিক দলে যোগ দিতে তিনি মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম