পদায়নের আড়াই মাস পরও বরগুনায় যোগ দেননি ৯ চিকিৎস

বরগুনায় প্রায় ১২ লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবা সংকটের মধ্যে পড়েছে। জেলায় ছয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সিভিল সার্জন অফিসে মোট ১৪৭ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৮ জন, তার মধ্যে ১৪ জন চিকিৎসক অননুমোদিত ছুটিতে থাকায় কর্মস্থলে উপস্থিত রয়েছেন মাত্র ১৪ জন চিকিৎসক। এই সংকটের কারণে জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
বরগুনা সিভিল সার্জন অফিসের সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১৩ জন নতুন চিকিৎসককে বরগুনায় পদায়ন করেছিল। তবে, এর মধ্যে মাত্র চারজন যোগদান করেছেন, বাকিরা এখনো যোগদান করেননি। এই বিষয়ে একাধিক চিঠি চালাচালি হলেও কোনো সমাধান হয়নি, যার ফলে সাধারণ মানুষ যথাযথ চিকিৎসা পেতে সমস্যায় পড়ছে।
জেলার ছয়টি উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৭ জন চিকিৎসকের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র চারজন, বামনা উপজেলায় ২৫ জন চিকিৎসকের মধ্যে পাঁচজন, বেতাগী উপজেলায় ২৭ জনের বিপরীতে পাঁচজন, আমতলী উপজেলায় ২৯ জনের মধ্যে চারজন এবং তালতলী উপজেলায় ২৪ জনের মধ্যে দুইজন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন।
এছাড়া বরগুনা সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা অফিসে ১৩ জন চিকিৎসকের মধ্যে সাতজন কর্মরত থাকলেও তাদের মধ্যে চারজন বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে সংযুক্ত আছেন।
বরগুনা জেলা স্বাস্থ্য অধিকার ফোরামের সভাপতি হাসানুর রহমান ঝন্টু বলেন, “চিকিৎসক সংকট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। একাধিকবার আন্দোলন হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। যদি চিকিৎসকদের দ্রুত পদায়ন করে তাদের কাজে যোগদান নিশ্চিত করা হয়, তবে পরিস্থিতি কিছুটা শোধরানো যেতে পারে।”
বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. প্রদীপ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, “গত ১৮ ডিসেম্বর ১৩ জন চিকিৎসক পদায়ন করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে চারজন যোগদান করেছেন। বাকিরা এখনো যোগদান করেননি, যদিও বদলি আদেশে তাদের ৩ দিনের মধ্যে যোগদান করার কথা ছিল। এ বিষয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি।”
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম









