ট্রাম্পের অভিযোগ ‘সত্য নয়’ : বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্পষ্টত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিছু দিন আগে তোলা অভিযোগে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশি একটি প্রতিষ্ঠান ২৯ মিলিয়ন ডলার পেয়ে যায়, যার নামও কেউ শোনেনি। এই অভিযোগটি বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অস্বীকার করেছে। ৩ মার্চ সোমবার, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এ বিষয়ে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ২৯ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্পটি বাংলাদেশের জন্য ইউএসএআইডির অর্থায়নে পরিচালিত ‘স্ট্রেনদেনিং পলিটিক্যাল ল্যান্ডস্কেপ (এসপিএল) ইন বাংলাদেশ’। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রকল্প নিয়ে কিছু বক্তব্য প্রদান করেছেন, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টির বিস্তারিত অনুসন্ধান করেছে এবং এর সত্যতা খতিয়ে দেখেছে।

অনুসন্ধান ফলাফল অনুযায়ী, প্রকল্পটি ২০১৭ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল (ডিআই) এর মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক নির্বাচিত একটি প্রকল্প হিসাবে, যেখানে ইউএসএআইডি একটি স্বচ্ছ প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নির্বাচিত করে। এই প্রকল্পের অর্থায়ন বিভিন্ন দাতা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ধাপে ধাপে হয়েছে। এর অর্থায়নে যুক্তরাজ্যের ডিএফআইডি (বর্তমানে এফসিডিও) এবং ইউএসএআইডি ছিল গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার।

প্রকল্পটির মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক সহিংসতা হ্রাস করা, রাজনৈতিক দলের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান প্রতিষ্ঠা, দলের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চার উন্নয়ন। এই প্রকল্পের অধীনে জরিপ কার্যক্রমও পরিচালিত হয়।

এছাড়া, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে যে, মার্কিন সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নীতির অধীনে প্রকল্পটির পর্যালোচনা এবং নিরীক্ষণ প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। প্রকল্পের অর্থায়ন সম্পর্কিত সমস্ত নথিপত্র সংরক্ষিত থাকে এবং প্রয়োজনে পুনঃনিরীক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, ট্রাম্পের অভিযোগটি ভ্রান্ত এবং প্রকল্পটি দুজন বাংলাদেশি ব্যক্তি বা তাদের প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়নি। প্রকল্পটির বাস্তবায়ন হয়েছে বাংলাদেশ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক উন্নয়ন সহযোগিতা চুক্তি (DOAG) এর আওতায়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর নাম পরিবর্তন, নতুন নাম বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১

দেশের একমাত্র স্যাটেলাইট, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১, এর নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ রাখার প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (৩ মার্চ) এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ (বিএস-১) এর নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (বিএস-১) করার প্রস্তাব প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন করেছেন। এছাড়াও, এ বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।

এটা উল্লেখযোগ্য যে, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর নাম পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৮ সালে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। পরে ২০২২ সালের ৩১ জানুয়ারি স্যাটেলাইটের মালিকানা হস্তান্তর করা হয় নতুন কোম্পানি বিএসসিএলের কাছে, যা স্যাটেলাইট পরিচালনার জন্য গঠন করা হয়। বিএসসিএল ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ একটি প্রতিষ্ঠান।

ফ্রান্সের থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস কোম্পানির মাধ্যমে স্যাটেলাইটটি তৈরি করা হয় এবং উৎক্ষেপণের মাধ্যমে বাংলাদেশ স্যাটেলাইটের ক্লাবে ৫৭তম দেশ হিসেবে যোগ দেয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সম্ভবত ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন, ইইউ প্রতিনিধিকে ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সম্ভবত এই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার (৩ মার্চ) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সমতা, প্রস্তুতি ও সংকট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিশনার হাজদা লাহবিব তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে আলাপের এক পর্যায়ে এ কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

সাক্ষাৎকালে ইইউর কমিশনার হাজদা লাহবিব বলেন, ইইউ এ বছর বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা ও মিয়ানমারের পশ্চিম রাখাইন রাজ্যে সংঘাতে আটকে পড়া মানুষের সহায়তায় ৬৮ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেবে।




রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে বিশেষ উদ্যোগ পটুয়াখালী প্রশাসনের

পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে এবং বাজার ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু রাখতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন। সোমবার (৩ মার্চ) বিকেলে জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিনের নেতৃত্বে জেলা টাস্কফোর্স কমিটি পটুয়াখালী পৌর শহরের পুরান বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে অভিযান পরিচালনা করে।

এ সময় টাস্কফোর্স কমিটি কাঁচা বাজার, মাছ-মাংস, দুধ, ডিম ও ফলের দোকান পরিদর্শন করে। বাজারে পণ্যের দাম, সরবরাহ এবং মান নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর নজরদারির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক ব্যবসায়ীদের দোকানে মূল্য তালিকা প্রদর্শনের নির্দেশ দেন এবং খাদ্যদ্রব্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে সংরক্ষণ ও বিক্রির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, কেউ যদি কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের চেষ্টা করে, তাহলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাজার মনিটরিং কার্যক্রমে অংশ নেন অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট ও টাস্কফোর্স কমিটির আহ্বায়ক মো. তারেক হাওলাদার, জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সোয়াইব মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান, জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মো. আবু রায়হানসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন বলেন, “রমজানে প্রতিদিন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। কেউ যাতে পণ্যের দাম বাড়াতে না পারে বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হবে।”

এছাড়া, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট কিছু স্থানে টিসিবির (ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ) মাধ্যমে চাল, ডাল, তেল, চিনি ও ছোলা স্বল্প দামে বিক্রি করা হবে। এর ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ সহজেই তাদের প্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহ করতে পারবেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভিটামিনে ভরপুর ক্যাপসিকাম: দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার

দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলছে ক্যাপসিকাম চাষ। ভিটামিন-এ ও ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ এই ফসলটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হওয়ায় কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরিশাল বিভাগে ৭৬ হেক্টর জমিতে ১,৩৫৩ মেট্রিক টন ক্যাপসিকাম উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে ভোলায় ৭৪ হেক্টর এবং পটুয়াখালীতে ২ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।

বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা, মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা, মুলাদীসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলেও এই ফসল চাষ শুরু হয়েছে। চাষীরা বলছেন, চরাঞ্চলের উর্বর মাটি ও সহজ পানি সরবরাহের কারণে এখানে ভালো ফলন হচ্ছে।

ভোলার কৃষক মো. ইব্রাহিম বলেন, “আমি এক যুগ ধরে ক্যাপসিকাম চাষ করছি। চরাঞ্চলের মাটিতে গাছ ভালো হয়, আর নদী-খাল থাকায় সহজে পানি দেওয়া যায়।”

কিন্তু এই চাষ ব্যয়বহুল। কৃষক মুনসুর আলী মিয়া জানান, এক কেজি বীজ কিনতে ২.৮ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত লাগে, আর এক বিঘা জমিতে মৌসুমে খরচ হয় ৬-৭ লাখ টাকা।

কৃষক আল আমিন হোসেন অভিযোগ করেন, “কৃষি অফিস থেকে কোনো সহায়তা পাই না। যদি সরকার বীজ বা স্বল্প সুদে ঋণ দিত, তাহলে আরও বেশি চাষ করা যেত।”

চাষীরা জানান, আড়তে প্রতি কেজি ক্যাপসিকাম ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে এটি ১৫০-২২০ টাকায় বিক্রি হয়।

ক্যাপসিকামের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা::
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মাহাবুব আলম মীর্জা জানান,

ভিটামিন সি ও এ সমৃদ্ধ: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ত্বক ভালো রাখে ও দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে।

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ: দেহের কোষগুলোকে ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিকাল থেকে রক্ষা করে, বার্ধক্য প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ওজন কমাতে সহায়ক: কম ক্যালোরিযুক্ত ও ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়: পটাশিয়াম ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

হজমে সহায়ক: ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।

ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক: এতে থাকা ফাইটোকেমিক্যাল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরিশাল অঞ্চলের উদ্যান বিশেষজ্ঞ জিএমএম কবীর খান বলেন, “ক্যাপসিকামের চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকদের সহায়তা দিলে এটি দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

ক্যাপসিকামের বাণিজ্যিক চাষ ও বাজার নিশ্চিত করা গেলে এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে। তবে সরকারি সহায়তা ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে চাষিরা আরও উৎসাহী হয় এবং দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“নির্বাচন যত দেরি হবে, দেশ তত ক্ষতিগ্রস্ত হবে”: আমির খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “দেশে জনগণের নির্বাচিত, দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার অপেক্ষায় আছে সবাই। কিন্তু নির্বাচন যত দেরি হবে, দেশ তত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

সোমবার (৩ মার্চ) দুপুরে চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু বলেন, “যত দ্রুত দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে সরকার গঠন করা যাবে, তত ভালো। জনগণ সেই পরিবর্তনের অপেক্ষায় আছে।”

নতুন রাজনৈতিক দলের বিষয়ে মতামত::

এনসিপির (ন্যাশনাল কনস্টিটিউশন পার্টি) ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন,
“আমরা ১৬ বছর ধরে আন্দোলন করছি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির জন্য। এখানে সব রাজনৈতিক দলের সমান অধিকার থাকতে হবে। যে কোনো দল তাদের মতামত তুলে ধরতে পারে। গণতন্ত্র মানেই হলো, সব দলের অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা।”

নির্বাচন কবে সম্ভব?::

নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যে সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নে আমির খসরু বলেন, “নির্বাচন জুনের মধ্যেই সম্ভব। নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত। এখন এটা সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। দেশের জনগণ ছাড়াও আন্তর্জাতিক স্টেকহোল্ডাররা সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে, কারণ তারা নির্বাচিত সরকারের অধীনে তাদের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়।”

নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট প্রয়োজন::

তিনি আরও বলেন, “যারা নতুন রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা উপস্থাপন করছে, তাদের জনগণের কাছে যেতে হবে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংসদে গিয়ে তা পাস করাতে হবে। নির্বাচিত সরকারই দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে।”

এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আহমেদ আজম খান এবং নবনির্বাচিত কর আইনজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সাড়ে ৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের রায় স্থগিত

ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ বাতিলের হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। এর ফলে, ৬ হাজার ৫৩১ জন প্রার্থীর নিয়োগ স্থগিত হওয়ার অনিশ্চয়তা সাময়িকভাবে কাটল

সোমবার (৩ মার্চ) জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালতে এই আদেশ ঘোষণা করা হয়।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, আর রিটের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন

ঘটনার পটভূমি

  • ৬ ফেব্রুয়ারি: হাইকোর্ট ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে উত্তীর্ণ ৬ হাজার ৫৩১ জনের নিয়োগ বাতিলের রায় দেন
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি: হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আপিল করা হলে আদালত ২ মার্চ শুনানির দিন ধার্য করেন।
  • ৩ মার্চ: আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় স্থগিত করে

হাইকোর্টের রায় কারা দিয়েছিলেন?

এই রায় দেন বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি মাহমুদুর রাজীর হাইকোর্ট বেঞ্চ

এই স্থগিতাদেশের ফলে, প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগপ্রাপ্তদের চাকরির ব্যাপারে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত অনিশ্চয়তা থাকছে


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“কারও অধিকার কেড়ে নেওয়ার উপায় নেই”: আ’লীগ প্রসঙ্গে ড. ইউনূস

আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “এই দেশ থেকে কারও অধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনো উপায় নেই। তবে যে অন্যায় করেছে, তার বিচার হতে হবে।”

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

গ্রেপ্তার আতঙ্ক ও দায়িত্ব গ্রহণ

ড. ইউনূস জানান, গ্রেপ্তার নিয়ে তিনি আতঙ্কিত ছিলেন না, তবে সম্ভাবনা ছিল। তিনি এটাকে সহজভাবেই নিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিতে হয়েছে তাকে। তখন দেশ একটি ধ্বংসস্তূপের মতো ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমার প্রথম কাজ ছিল সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে আসল চেহারাটা বের করে আনা, মানুষের দৈনন্দিন জীবন সহজ করা।”

সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ও অর্জন

দেশে দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদী শাসন চলেছে দাবি করে তিনি বলেন, “১৬ বছর ধরে এ সরকার টিকে ছিল, তিনটি নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত ভোটারদের কোনো উপস্থিতি ছিল না। বিপুল পরিমাণ দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা ছিল।”

এই অবস্থার পরিবর্তন আনতে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর জোর দেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, সংস্কার এখনো শুরু হয়নি।

অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক আস্থা

অর্থনীতিতে পজিটিভ পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, “দেশ-বিদেশের আস্থা অর্জন করতে পেরেছি। বিশ্ব আমাদের ওপর আস্থা স্থাপন করেছে। তারা বলছে, অতীতে যা করেনি, এখন তার চেয়েও বেশি করবে, কারণ তারা দেখছে, সরকার সঠিকভাবে চলছে।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সমালোচনা

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, “মানুষের আস্থা আমাদের ওপর আছে, সেটাই বড় বিষয়। কিছু ক্ষেত্রে ভুলভ্রান্তি হতে পারে, কিছু ভালো হয়েছে, কিছু হয়নি। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার খালাস বহাল

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালাসের রায় বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ

সোমবার (৩ মার্চ) সকালে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ রায় ঘোষণা করেন।

২০১৮ সালের অক্টোবরে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। একইসঙ্গে অপর তিন আসামিকেও একই মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রায়ের আওতায়:

  • প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
  • ট্রাস্টের নামে কেনা কাকরাইলে ৪২ কাঠা জমি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রের অনুকূলে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়।

পরে, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন বেগম খালেদা জিয়া

আদালতের পর্যায়ক্রমিক সিদ্ধান্ত

  • ২৭ নভেম্বর ২০২৩: হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের দণ্ড থেকে খালাস দেন।
  • ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪: এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
  • ২ মার্চ: আদালত শুনানির দিন ধার্য করলেও পরে দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩ মার্চ শুনানি হয়
  • ৩ মার্চ: আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেওয়া খালাসের রায় বহাল রাখে

এর ফলে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া সম্পূর্ণ খালাস পেলেন


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




রাজশাহীতে ট্রাক-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে নিহত ৩

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় ট্রাকের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

সোমবার (৩ মার্চ) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার রাজাবাড়ি চেকপোস্ট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স চালক জুয়েলের পরিচয় পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গোদাগাড়ী হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে রাজশাহী যাচ্ছিল অ্যাম্বুলেন্সটি। রাজাবাড়ি এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গোদাগাড়ী থানার ওসি রুহুল আমিন জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছে। পুলিশ ট্রাকটি শনাক্তের চেষ্টা করছে এবং এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম