বরিশাল বিভাগের ১৫০০ কিমি গ্রামীণ সড়ক বেহাল, দুর্ভোগ চরমে

দক্ষিণাঞ্চলের গ্রামীণ সড়কগুলোর অবস্থা দিন দিন ভয়াবহ হয়ে উঠছে। বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় অন্তত ১৫০০ কিলোমিটার সড়ক খানাখন্দে ভরে গেছে। সংস্কারের উদ্যোগ না থাকায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে নানান সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাঠী বাজার দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার। আশপাশের গ্রামের অধিকাংশ সড়ক কাঁচা থাকায় এখানকার ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. কালাম তালুকদার বলেন,“প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ বাজারে আসে। বর্ষার সময় কাঁচা রাস্তার কারণে ভীষণ কষ্ট হয়। রাস্তা ভালো থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য আরও ভালো চলত, কিন্তু দীর্ঘদিনেও রাস্তার উন্নয়ন হয়নি।”
শুধু কলসকাঠী নয়, বরিশালের প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের একই অবস্থা। সংস্কারের অভাবে প্রতিদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।
বরগুনার আমতলী ধান বাজার দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম বড় পাইকারি বাজার। প্রতি হাটবারে কয়েক কোটি টাকার ধান কেনাবেচা হয়। তবে অধিকাংশ ধান আসে গ্রাম থেকে, যেখানকার রাস্তা কাঁচা ও চলাচলের অনুপযোগী।
আঙ্গুলকাটা গ্রামের কৃষক মো. শফিক হাওলাদার জানান,
“ধান বাজারে নিতে রাস্তার কারণে আমাদের বেশি ভাড়া গুনতে হয়। এতে লাভ কমে যায়।”
কলাগাছিয়া গ্রামের জামাল তালুকদার বলেন,“শীতকালে সবজি কোনো রকম বিক্রি করা যায়, কিন্তু বর্ষায় রাস্তা দিয়ে কিছুই নেয়া যায় না। রাস্তা পাকা হলে আমাদের অনেক উপকার হতো।”
বরগুনা সদরের হেউলিবুনিয়া গ্রামের একমাত্র সড়ক এক দশকেও সংস্কার হয়নি। স্থানীয়রা চাঁদা তুলে সাময়িকভাবে রাস্তা সচল রাখছেন।
পটুয়াখালীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের সড়কগুলোর অবস্থাও ভয়াবহ। শুকনো মৌসুমে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যানবাহন চললেও বর্ষায় চলাচল একেবারে বন্ধ হয়ে যায়।
পটুয়াখালী পৌর শহরের অদূরে আউলিয়াপুর ইউনিয়নের মুচির পোল এলাকায় ২ কিলোমিটার সড়কে বছরের পর বছর কোনো উন্নয়ন হয়নি। বর্ষায় শিক্ষার্থী ও রোগীদের চলাচলে ভয়াবহ দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
আউলিয়াপুর গ্রামের মো. কাউসার বলেন,“গ্রাম হবে শহর এই প্রতিশ্রুতি শুনে আসছি, কিন্তু আমাদের গ্রামের সড়কের অবস্থা এখনও আগের মতোই।”
বরিশাল ও পটুয়াখালী এলজিইডির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ কাঁচা সড়ক পাকাকরণের জন্য মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। ধাপে ধাপে সংস্কার কাজ শুরু হবে।
মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম










