জামায়াত আমিরের সঙ্গে রুশ রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জি. খোজিন। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের বলেন, “এটাই প্রথম যে, রাশিয়ান কোনো রাষ্ট্রদূত আমাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয় পরিদর্শন করলেন। আমাদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ ছিল এবং আছে, তবে অফিসিয়ালি এটি প্রথমবার রুশ রাষ্ট্রদূতের এখানে আসা।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক এমপি ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, নায়েবে আমির সাবেক সংসদ সদস্য আ ন ম শামসুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন এবং কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।

ডা. তাহের আরও বলেন, “বৈঠকে রাশিয়া-বাংলাদেশ সম্পর্ক, অর্থায়ন এবং বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী কী ধরনের বাংলাদেশ দেখতে চায়, এবং আমাদের মধ্যে আন্তঃসম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, বৈঠকে দুটি বিষয়ে একমত হওয়া হয়েছে: প্রথমত, বাংলাদেশে রাশিয়ার আর্থিক সহযোগিতা ও অর্থায়ন বাড়ানো হবে এবং দ্বিতীয়ত, জামায়াতে ইসলামীসহ অন্যান্য দলের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সম্পর্ক বজায় রাখা হবে।

বৈঠক থেকে একাত্তরের স্বাধীনতার যুদ্ধে রাশিয়ার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। যখন নির্বাচনের বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়, তাহের বলেন, “হ্যাঁ, বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়েও কথা হয়েছে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




তিন দিন ধরে নিখোঁজ বরিশালের এডিসি

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) রাশেদুল ইসলাম রাশেদ তিন দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি ঢাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়ের একটি মামলার আসামি। গত ৯ মার্চ দুপুর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, ৯ মার্চ দুপুর ২টার দিকে বরিশালের শীতলাখোলা ট্রাফিক অফিস থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে বের হয়ে যান এডিসি রাশেদ। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, মামলায় গ্রেফতার এড়াতে তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন।

এডিসি রাশেদ ঢাকার রামপুরা এলাকায় আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামি। পুলিশ অভিযোগ করেছে, ওই ঘটনায় তিনি কার্নিশে ঝুলতে থাকা এক আন্দোলনকারীকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়েছিলেন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার শরফুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, গত তিন দিন ধরে অফিসে আসেননি এডিসি রাশেদ। তবে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

এদিকে, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, “রাশেদ পালিয়ে গেছেন কিনা, তা নিশ্চিত নই। তবে গত তিন দিন তার কোনো খোঁজ নেই। বিষয়টি পুলিশ হেডকোয়ার্টারে জানানো হয়েছে।” তিনি আরো বলেন, “ঢাকার রামপুরা থানার মামলার ব্যাপারে আমরা রাশেদ নিখোঁজ হওয়ার পরেই জানতে পারি।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে তরমুজের দাম নিয়ে ক্রেতাদের অসন্তোষ

বরিশাল নগরীতে রমজান মাস উপলক্ষে তরমুজের সরবরাহ বেড়েছে, তবে বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। পেশাদার ফল বিক্রেতাদের পাশাপাশি মৌসুমি ব্যবসায়ীরাও তরমুজ বিক্রি করছেন, তবুও দাম কমছে না, যা নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

গত কয়েকদিনে তরমুজের আমদানি বেড়েছে, কিন্তু বাজারে দাম সুলভ হওয়া তো দূরের কথা, বরং তা আরো বেশি হয়ে গেছে। ক্রেতারা অভিযোগ করছেন, সরবরাহ ভালো হওয়ার পরেও দাম কমানো হয়নি।

পোর্টরোডের আড়তদার শাকিল সিকদার জানান, মৌসুম শুরুতে তরমুজের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল, তবে এখন দাম কিছুটা কমেছে। তবে তরমুজের দাম ১৪ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠছে, যার কারণ হিসেবে আকারভেদে দাম বাড়ানো হচ্ছে। খুচরা বাজারে কেজি দরে বিক্রির কারণে দাম আরো বেড়ে যাচ্ছে।

খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম কম থাকলেও তারা দাম বেশি দিয়ে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। সাগরদি হাউজিং এলাকার ফল বিক্রেতা এলায়েত শেখ বলেন, “পাইকারি বাজারে দাম কমলে তবেই খুচরা বাজারে সস্তা বিক্রি করা সম্ভব, কিন্তু এখন দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে।” এছাড়া, কেজি দরে বিক্রির বিষয়টিকে ভুল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এক সাধারণ ক্রেতা জালাল তালুকদার বলেন, “বাজারে তরমুজের পরিমাণ বাড়লেও দাম কমা উচিত ছিল। ব্যবসায়ীরা ৫০-৬০ টাকা কেজি দরে দাম নিচ্ছেন, যা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। বাজার মনিটরিং করে দাম নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করা উচিত।”

বরিশাল অঞ্চলের তরমুজ চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় প্রতিবছর উৎপাদন বাড়ছে। এবারের সিজনে বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলায় ৪৯ হাজার ৯১৪ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার ৩% বেশি। সবচেয়ে বেশি তরমুজ চাষ হয়েছে পটুয়াখালী জেলায়, যেখানে ২৭ হাজার ৪৯ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে।

সামগ্রিকভাবে, তরমুজের বাজারে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও দাম নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের মনিটরিং ব্যবস্থা আরো কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় চিংড়ির রেনু পোনা পাচারে সক্রিয় সিন্ডিকেট

ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলায় চলছে চিংড়ির রেনু পোনা পাচারের এক বৃহৎ সিন্ডিকেট। অবৈধভাবে বাগদা চিংড়ির রেনু পোনা পাচারের অভিযোগ উঠেছে একটি শক্তিশালী চক্রের বিরুদ্ধে। রাতের আঁধারে গজারিয়া খালগোড়া ঘাট থেকে ট্রলারে করে এসব রেণু পোনা পাচার করা হচ্ছে খুলনা অঞ্চলের দিকে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, গত জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৪৩৩ ব্যারেল রেণু পোনা পাচার হয়েছে। এই পাচার চক্রের মূল কেন্দ্রবিন্দু লালমোহন, চরফ্যাশন ও বোরহানউদ্দিন উপজেলাগুলো, যেখানে চক্রটির নেতৃত্বে রয়েছেন বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের নসু মিয়া। তার তত্ত্বাবধানে বোরহানউদ্দিনের শিপন মাঝির ট্রলারে নিয়মিত রেণু পোনা পাচার হয়ে আসছে।

লালমোহনে নসু মিয়ার সহযোগী হিসেবে কাজ করছে মামুন ও মতিন নামের দুই ব্যক্তি, যারা প্রশাসনের সঙ্গে যোগসাজশ করে পাচারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। চক্রটি প্রথমে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধ বিহুন্দি জাল দিয়ে বাগদা রেণু পোনা সংগ্রহ করে। পরে এসব রেণু পোনা প্লাস্টিকের ব্যারেলে করে গজারিয়া খালগোড়া ঘাটে নিয়ে আসা হয়। গভীর রাতে, নসু মিয়ার লোকজন ট্রলারে করে রেণু পোনা পাচারের জন্য খুলনা দিকে নিয়ে যায়।

প্রতি ট্রিপে কমপক্ষে ২০ ব্যারেল রেণু পোনা পাচার করা হয়। গজারিয়া খালগোড়া ঘাটে স্থানীয় নিয়ন্ত্রকরা প্রতি ব্যারেল পাচারের জন্য ৩০০ টাকা করে নেয়। জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত এই পাচারের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা অবৈধ লেনদেন হয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সহযোগিতায় প্রশাসনের নজর এড়িয়ে এই পাচার অব্যাহত রয়েছে।

এছাড়া, রেণু পোনা ধরতে গিয়ে অন্যান্য মাছ ও জলজ প্রাণির ক্ষতি হচ্ছে, ফলে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরকার এরই মধ্যে বাগদা ও গলদা চিংড়ির রেণু পোনা আহরণ ও সংরক্ষণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। পূর্বে মৎস্য বিভাগের অভিযানে ২২টি ব্যারেল রেণু পোনা জব্দ করা হয় এবং দুইজনকে জরিমানা করা হয়েছিল। তবে, পাচার এখনও বন্ধ হয়নি।

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আলী আহমেদ আখন্দ বলেন, “যদি আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য আসে, তবে অভিযান চালানো হবে।” তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তার সহযোগিতায় এই পাচার চক্র বছরের পর বছর ধরে চলতে থাকে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মহাসড়কে বাধা সৃষ্টি করে জনগণের অসুবিধা করা যাবে না: পুলিশ প্রধান

ঈদকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য মহাসড়কে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা যাবে না, এমন মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সকাল ১০টায় গাজীপুর শিল্প পুলিশ কার্যালয়ের মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা বলেন।

মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম বলেন, “ঈদের আগে বেতন, বোনাসসহ অন্যান্য অধিকার শ্রমিকদের থাকে, এবং যেসব কারখানা বেতন বা বোনাসের বিষয়ে গড়িমসি করে, তাদের আমরা সতর্ক করি। কিন্তু শ্রমিকদের যদি হুটহাট সড়কে নেমে জনগণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়, তা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।” তিনি আরও বলেন, “এ বিষয়ে আইনেও রয়েছে স্পষ্ট নির্দেশনা, এবং পুলিশ বারবার সেটাই মনে করিয়ে দেয়।”

তিনি শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “যেকোনো সমস্যা হলে আমাদের জানান, পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করুন, আশা করি সমস্যাগুলো সমাধান হয়ে যাবে।” তিনি আরও জানান, “পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করে দেশের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।”

ঈদকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে বাহারুল আলম বলেন, “ঈদের সময় ঢাকাসহ আশপাশের জেলা ফাঁকা হয়ে যায়, এ সময় চুরি ডাকাতি এবং অন্যান্য অপরাধের আশঙ্কা থাকে। তাই পুলিশ বাহিনী ঈদের সময় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।” তিনি জানান, “এছাড়াও, সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশ যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত রয়েছে।”

সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুরের পুলিশ সুপার ডা. জাবের সাদিক, শিল্প পুলিশ সুপার একে এম জহিরুল ইসলাম এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার নাজমুল কবীরসহ পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




তাৎপর্যপূর্ণ সফরে আজ ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘের মহাসচিব




যমুনা রেলসেতু দিয়ে চলা সব ট্রেনের ভাড়া বাড়ছে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সদ্য নির্মিত যমুনা রেলসেতু ট্রেন চলাচলের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। এই সেতু দিয়ে আগামী ১৮ মার্চ থেকে পূর্ণমাত্রায় যাত্রীবাহী ট্রেন চলবে। আর ওইদিন থেকেই এই সেতু দিয়ে চলাচলকারী ট্রেনগুলোর ভাড়া বাড়তে যাচ্ছে।

রোববার (৯ মার্চ) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে আসন্ন ঈদুল ফিতরে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করতে আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ কথা জানান রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ ফাহিমুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “যমুনা রেলসেতু আগামী ১৮ মার্চ থেকে (আনুষ্ঠানিকভাবে) চালু হচ্ছে। ওইদিন থেকে এটার উপর দিয়ে ফুল ফেজে (পূর্ণমাত্রায়) ট্রেন চলবে। এই রুটে ট্রেনের ভাড়া বাড়বে। যেমন— ঢাকা থেকে রাজশাহীর যে ভাড়া ৪০৫ টাকা ছিল, সেটি ৪৫০ টাকা হবে। যে ট্রেনগুলো এই সেতু অতিক্রম করবে, সেগুলোর ভাড়া বাড়বে। এটা সিস্টেম অনুযায়ীই বাড়বে। ঈদের আগে ভাড়া বেড়েছে বলার সুযোগ নেই।”

ট্রেনের টিকিট বিক্রির ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, আগামী ১৮ মার্চ ঢাকা থেকে রাজশাহী যেতে ধূমকেত এক্সপ্রেস ট্রেনে শোভন চেয়ার শ্রেণীর আসনের ভাড়া ৪০৫ টাকা, সিগ্ধা (এসি চেয়ার) শ্রেণীর আসনের ভাড়া ৭৭১ টাকা ও এসি সিট শ্রেণীর আসনের ভাড়া ৯২৬ টাকা দেখাচ্ছে। কিন্তু একই ট্রেনে ১৯ মার্চে শোভন চেয়ার শ্রেণীর আসনের ভাড়া ৪৫০ টাকা, সিগ্ধা (এসি চেয়ার) শ্রেণীর আসনের ভাড়া ৮৬৩ টাকা ও এসি সিট শ্রেণীর আসনের ভাড়া ১০৩৫ টাকা দেখাচ্ছে।




জাতিসংঘ মহাসচিবকে নিরাপত্তা দেবে এসএসএফ

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে বাংলাদেশে আসছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। আগামী ১৩ মার্চ তার আসার কথা রযেছে। এই সফরে তিনি চার দিন বাংলাদেশে থাকবেন। তার নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)। এজন্য জাতিসংঘ মহাসচিবকে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার।

গত ৬ মার্চ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে। তাতে বলা হয়— সরকার বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স) আইন, ২০২১-এর ধারা ২(ক)-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস-কে আগামী ১৩-১৬ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশ সফরকালীন ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করিলো।

আইনে বলা আছে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি’ অর্থ সরকার কর্তৃক, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, কোনও বিদেশি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপ্রধান বা সরকার প্রধান এবং এই আইনের উদ্দেশ্যগুলো পূরণকল্পে, অনুরূপ ব্যক্তি বলে ঘোষিত অন্য কোনও ব্যক্তিও এর অন্তর্ভুক্ত হবেন।

আইন অনুযায়ী ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিকে’ বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী দৈহিক নিরাপত্তা দিয়ে থাকে।

এর আগে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব গুতেরেস। সেই হিসেবে এটি তার দ্বিতীয় সফর।

জাতিসংঘের সদর দফতর জানিয়েছে, তিনি ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কক্সবাজারে যাবেন এবং মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন এবং শরণার্থীদের আশ্রয় কেন্দ্রে উদারভাবে কাজ করে আসা স্থানীয় বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করবেন।

সফরকালে তিনি ঢাকায় থাকবেন, সেখানে তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহম্মদ ইউনূস, তরুণ নারী ও পুরুষ এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।




এখনো গুরুতর অসুস্থ শিশু আসিয়া, আছে পিআইসিইউতে

মাগুরায় ধর্ষণের শিকার ৮ বছরের শিশু আসিয়া ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচে) পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউতে) চিকিৎসাধীন রয়েছে।

রোববার (১০ মার্চ) দিবাগত রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এ তথ্য জানিয়েছে।

পিআইসিইউ হলো হাসপাতালের একটি বিশেষায়িত ইউনিট। সেখানে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এর আগে শনিবার (৮ মার্চ) শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) থেকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচে) নেওয়া হয়।

গত বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) রাতে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে ঢামেকে আনা হয়। পরে তাকে হাসপাতালটির পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিআইসিইউ) নেওয়া হয়। পরেরদিন শুক্রবার রাতে পিআইসিইউতে চিকিৎসাধীন শিশুটিকে লাইফ সাপোর্ট দেওয়া হয়।

মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে নির্মম ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের এ শিশুটি। এরপর থেকে জীবন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে সে। আসিয়ার ধর্ষকসহ সকল ধর্ষকের উপযুক্ত বিচারের দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ ও আন্দোলন চলছে।

মো: আল-আমিন স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শেখ হাসিনা ও জেনারেল আজিজসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা নথিভুক্ত

২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ডে কারা অভ্যন্তরে বিডিআরের সাবেক উপ-সহকারী পরিচালক (ডিএডি) আব্দুর রহিমের মৃত্যুর ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন নিহত আব্দুর রহিমের ছেলে অ্যাডভোকেট আব্দুল আজিজ।

মামলার অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বিডিআর বিদ্রোহ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল, সাবেক কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশরাফুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক সংসদ সদস্য নূরে আলম চৌধুরী লিটন, শেখ সেলিম, শেখ হেলাল, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবীর নানক, সাবেক সংসদ সদস্য মির্জা আজম, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এবং কেন্দ্রীয় কারাগারের তৎকালীন জেল সুপার ও চিকিৎসকরা। এছাড়া, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মন্ত্রী-এমপিসহ আরও ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৯ সালের ২৫-২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় বিডিআর বিদ্রোহের সময় ৫৭ জন সেনা অফিসারসহ ৭৪ জনকে হত্যা করা হয়। বাদীর দাবি, তার বাবা আব্দুর রহিমকে মিথ্যা রাজসাক্ষী হতে প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর ২০১০ সালের ২৯ জুলাই ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।

আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি নথিভুক্তের আদেশ দিয়েছেন। এটি বর্তমান সরকারের সময়ে পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রথম মামলা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম