ঢাকায় এসেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে চার দি‌নের সফরে ঢাকায় এসেছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

প্রায় সাত বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশে এটি তার দ্বিতীয় সফর। জাতিসংঘ মহাসচিবের সফরে আলোচনায় অগ্রাধিকার পাবে রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট। এ ছাড়া মানবাধিকার ইস্যুও গুরুত্ব পাবে বলে বার্তা দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সূচি অনুযায়ী শুক্রবার (১৪ মার্চ) সকালে মহাসচিবের সঙ্গে (হোটেলে) প্রথমে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এবং প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি-সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি খলিলুর রহমান সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে তার দপ্তরে বৈঠক করবেন জাতিসংঘ মহাসচিব।




বিধবা সিমার মানবেতর জীবন: জরাজীর্ণ ঘরে সন্তানদের নিয়ে সংগ্রাম

সাত বছর আগে স্বামী হারানো সিমা বেগম বর্তমানে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। স্বামীকে হারানোর পর, তিন সন্তান নিয়ে তাকে দিনমজুরি ও ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালাতে হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে নানা শারীরিক অসুখে ভোগার কারণে সিমা ঝিয়ের কাজও ঠিকমতো করতে পারছেন না। এর ফলে দুই শিশুসন্তানসহ তিনি একটি জরাজীর্ণ ঘরে চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

ঘটনাটি ঘটছে বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের পূর্ব শরিফাবাদ গ্রামে। সিমা বেগম, যিনি মৃত দেলোয়ার সিকদারের স্ত্রী, দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত কষ্টে জীবনযাপন করছেন। তার স্বামী মৃত্যুর পর বাড়িতে কিছুই রেখে যেতে পারেননি। স্বামীর রেখে যাওয়া বাঁশের খুঁটি এবং টিনের ছাউনি দিয়ে তৈরি করা বাড়ির সামনের বেড়া পুরানো কাপড়ে ঢেকে রাখা হয়েছে, এবং অর্থ সংকটের কারণে ঘরটি মেরামতও করা সম্ভব হয়নি। হালকা ঝড়-বৃষ্টিতেই ঘরটি পুরোপুরি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

সিমা বেগম কান্না ভেঙে বলেন, “দিনমজুর স্বামী মৃত্যুকালে কোনো অর্থ-সম্পদ কিছুই রেখে যেতে পারেননি। বাবার বাড়ির অবস্থা খারাপ হওয়ায় পাড়া প্রতিবেশীদের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে সংসার চালিয়েছি। ঝিয়ের কাজ করেই বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি, কিন্তু এখন নানা অসুখে ভুগছি এবং কাজ করতে পারছি না। একমুঠো খাবার জোগাড় করতেই সংগ্রাম করতে হয়।”

তিনি আরও জানান, তার ছোট মেয়ে বর্তমানে সপ্তম শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে এবং তার একমাত্র ছেলে দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে। চরম অর্থ সংকটের কারণে তাদের পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার পথে। সিমা বর্তমানে সমাজের বিত্তবান ও প্রবাসীদের কাছে সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়েছেন, যাতে তার সন্তানদের লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পারে এবং ঘরটি সংস্কার করা সম্ভব হয়।

এ বিষয়ে মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সিমা বেগমের জন্য বিভিন্ন সময়ে সরকারি সুবিধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে বর্তমানে তার বসতঘরের অবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাই সবাইকে এই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই।”

স্থানীয়রা বলেন, “সিমার স্বামী মৃত্যুর পর থেকে তিনি দুই সন্তানকে নিয়ে জীবনের সংগ্রামে পার করছেন। আমরা দাবি জানাচ্ছি, সরকারের পক্ষ থেকে সিমা ও তার সন্তানদের জন্য একটি ঘর এবং উপযুক্ত সাহায্য প্রদান করা হোক।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে নির্বাচন কর্মকর্তাদের মানবন্ধন

জাতীয় পরিচয়পত্র পরিষেবাকে স্বাধীন নির্বাচন কমিশন থেকে নতুন কমিশনে স্থানান্তরের পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বরিশালে মানবন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) বেলা ১২টা থেকে বরিশাল শহরের নথুল্লাবাদে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার অফিস চত্বরে এই প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন আঞ্চলিক এবং জেলা নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।

প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আনিছুর রহমান বলেন, “জাতীয় পরিচয়পত্র সবসময় নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমের অংশ ছিল। ২০০৭ সাল থেকে আমরা এটি পরিচালনা করে আসছি। কিন্তু কিছু দুষ্কৃতিকারী ষড়যন্ত্র শুরু করেছে, যাতে আমাদের কাছ থেকে এই দায়িত্ব ছিনিয়ে নেয়া যায়। আমরা কোনভাবেই এটি হতে দেব না। যদি এটি আমাদের অধীনে না থাকে, তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে এবং নির্বাচনী কার্যক্রমেও বিরূপ প্রভাব পড়বে।”

তিনি আরও বলেন, “কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা এই প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাবো, যতদিন না আমাদের দাবি পূর্ণ হয়।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল সিটি করপোরেশনের আয় বৃদ্ধি: ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা

বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) গত বছর তুলনায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা বেশি রাজস্ব আয় করেছে। এই আয় বৃদ্ধির মূল কারণ হিসেবে, এবারের ইজারা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং দক্ষতা চিহ্নিত করা হয়েছে।

গত বছর যেখানে বরিশাল সিটি করপোরেশনের রাজস্ব আয় সর্বোচ্চ ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ছিল, সেখানে এবারে আয় পৌঁছেছে সাড়ে তিন কোটি টাকায়। এই আয় মূলত হাট-বাজার, পুকুর, বাসস্ট্যান্ড এবং শৌচাগারের লিজ থেকে এসেছে।

বিসিসি সূত্রে জানা গেছে, পূর্বের রাজস্ব আয় কম হওয়ার কারণগুলো তদন্তের আওতায় আনা হবে। তবে এবারে, বাজারগুলো ইজারা হয়েছে অনেক বেশি দামে। উদাহরণস্বরূপ, বরিশাল জেলা পাইকারী মৎস্য বাজারের ইজারা গতবছরের ১০ লাখ টাকার তুলনায় এবার ৭০ লাখ টাকায় ইজারা হয়েছে। রূপাতলী হাউজিং বাজারের ইজারা মূল্যও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ টাকায়, যা পূর্বে ছিলো মাত্র ৭৪ হাজার টাকা।

বিসিসি প্রশাসক রায়হান কাওছার জানান, “আমরা আইনগতভাবে প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করেছি এবং টেন্ডার ড্রপিং পয়েন্ট বাড়িয়ে দিয়েছি। এতে আগের মতো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়নি, বরং শান্তিপূর্ণভাবে সবকিছু সম্পন্ন হয়েছে। এখন জনগণ এবং সরকার উভয়েই লাভবান হচ্ছে।”

এছাড়া, এবারে বিপুল সংখ্যক দরপত্র ফরম বিক্রি হয়েছে—৭০০টিরও বেশি, যা বিগত ১৫ বছরে সর্বোচ্চ। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারি জানান, “আমরা আরও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ই-টেন্ডার চালু করার পরিকল্পনা করছি।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ক্যান্সার হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি, সময় বাড়িয়েও অগ্রগতি কম

বরিশালে ক্যান্সার, কিডনি এবং হৃদরোগীদের জন্য বিশেষায়িত হাসপাতালের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়নি, যদিও এর জন্য দু’বার সময় বাড়ানো হয়েছে। ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, এখন পর্যন্ত নির্মাণ কাজের মাত্র ৬৫ শতাংশ অগ্রগতি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যন্ত্রপাতি আমদানির জটিলতা এবং নির্মাণ কাজের ধীরগতির কারণে দ্বিতীয় দফায় সময় বাড়ানোর পরও কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। ২০২১ সালের ২৩ জুলাই, বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পাশে আড়াই একর জমিতে ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগীদের জন্য ৪৬০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ কাজ শুরু হয়, যা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের জুনে। তবে নানা জটিলতায় কাজ শেষ না হওয়ায় মেয়াদ দুই বছর বাড়ানো হয়।

এ বিষয়ে হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্মাণ কাজে বিলম্বের ফলে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চাপ বেড়ে গেছে। প্রতিদিন রোগীদের সঠিকভাবে সেবা দিতে চিকিৎসকরা হিমশিম খাচ্ছেন। শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজের সহকারী পরিচালক রেজওয়ানুর আলম জানান, এই বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু হলে ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীরা একই জায়গায় আধুনিক চিকিৎসা পাবেন।

বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কামাল হোসেন বলেন, “নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার প্রধান কারণ যন্ত্রপাতি আমদানির জটিলতা এবং নির্মাণ কাজে ধীরগতির কারণে। তবে ৩০ জুনের মধ্যে ৯০ শতাংশ কাজ শেষ করার আশা করা হচ্ছে।”

বর্তমানে, বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রতি মাসে প্রায় ৪০০ ক্যান্সার রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। বিশেষায়িত হাসপাতাল চালু হলে শেবামেক-এর ওপর রোগীদের চাপ অনেক কমে যাবে।

মো: তুহিন হোসেন 
চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বাবুগঞ্জের আখের গুড়ের চাহিদা বাড়ছে রমজানে

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় আখের গুড়ের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশেষত রমজান মাসে। স্থানীয় আখচাষিরা বছরের পর বছর ধরে ভেজালমুক্ত গুড় উৎপাদন করে আসছেন, যা স্থানীয় বাজারে বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে রমজান মাসে এই গুড়ের চাহিদা অনেক বেশি থাকে, যা চাষিদের জন্য একটি বড় সুযোগ হয়ে দাঁড়ায়।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, তাদের আখের গুড়ের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া ভেজালমুক্ত। চাষিরা ক্ষেত থেকেই আখ সংগ্রহ করে এবং তা মাড়াই করে রস সংগ্রহ করেন। এরপর মাটির চুলায় ৪০-৪৫ মিনিট ধরে জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় এই গুড়। এই প্রাকৃতিক পদ্ধতির কারণে গুড়ের স্বাদ এবং গুণমান থাকে অতুলনীয়।

এ সম্পর্কে চাঁদপাশা ইউনিয়নের বায়লাখালি গ্রামের আব্দুল হাকিম বলেন, “আমি ৫০ বছর ধরে ভেজালমুক্ত আখের গুড় তৈরি করছি। রমজান মাসে এ গুড়ের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। গত বছর প্রায় তিন লাখ টাকার গুড় বিক্রি করেছি, আর এবার প্রতি কেজি গুড় বিক্রি হচ্ছে ২০০-২৫০ টাকার মধ্যে।”

আখচাষি সুলতান খা জানান, তাদের তৈরি গুড়ের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা রয়েছে কারণ এটি সম্পূর্ণ ভেজালমুক্ত। তিনি আরও বলেন, “এই গুড় খাওয়ানো আমাদের জন্য গর্বের ব্যাপার, লাভের চেয়ে প্রাপ্তি অনেক বড়।”

এদিকে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুরাদুল হাসান বলেন, “আমরা আখচাষিদের আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারের জন্য সহায়তা প্রদান করছি। কিছু চাষিকে ডিজেল ইঞ্জিনের মাড়াই মেশিনও দেওয়া হয়েছে, যার ফলে তারা বাণিজ্যিকভাবে সফল হয়েছেন। আশা করছি, আগামী বছর এই অঞ্চলে আখ উৎপাদনে একটি বিপ্লব ঘটবে।”

মো: তুহিন হোসেন 
চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মাগুরায় ধর্ষণের শিকার সেই শিশু মারা গেছে

 

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক: মাগুরায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে এসে ধর্ষণের শিকার ৮ বছর বয়সী সেই শিশুটি মারা গেছে। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার সকালে জানানো হয়, শিশুটির আজ আরও দু’বার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছে (হৃদ্‌যন্ত্রের স্পন্দন বা হার্টবিট বন্ধ হয়ে যাওয়া); দ্বিতীয়বার প্রায় ৩০ মিনিট সিপিআর দেওয়ার পর রিভার্স করেছে। ব্রেন ফাংশন করছে না; জিসিএস (কোমা) লেভেল ৩। তার রক্ত চাপ ও অক্সিজেন লেভেল অনেক কম।

শিশুটি গত ৮ মার্চ সন্ধ্যা ৬টায় সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকার সিএমএইচ-এ ভর্তি হয়। তার চিকিৎসার জন্য সব ধরনের সম্ভাব্য পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

গত ৬ মার্চ মাগুরার শহরতলী নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় ৮ বছর বয়সি শিশুটি। ওই সময় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টাও চালানো হয়।

ধর্ষণের ঘটনার পর গত ৮ মার্চ শনিবার শিশুটির মা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করে। এতে শিশুটির বোনের শ্বশুর হিটু শেখ, বোনের স্বামী সজিব, সজিবের বড় ভাই রাতুল ও বোনের শাশুড়ি জাহেদাকে আসামি করা হয়। মামলায় সকল আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা মাগুরা কারাগারে রয়েছেন।




লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৬ বাংলাদেশি

লিবিয়ায় আটকেপড়া ১৭৬ বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহযোগিতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) ভোর ৪টার দিকে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান।

লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, আগামী ১৯ ও ২৬ মার্চ আরও দুটি ফ্লাইটে তিন শতাধিক বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফেরত পাঠানো হবে।

দূতাবাসের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, এই ১৭৬ জন বাংলাদেশি নাগরিককে আইওএমের সহযোগিতায় দেশে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে ১০৬ জন ত্রিপলীর তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন, আর ৭০ জন বিপদগ্রস্ত অবস্থায় স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নিষেধাজ্ঞার ১২ দিনেও জেলেদের বাড়িতে পৌঁছায়নি সরকারি চাল

ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ শিকারের জন্য ২ মাসের নিষেধাজ্ঞা চলমান রয়েছে, তবে ১২ দিন পার হলেও এখনও জেলেদের কাছে সরকারি বরাদ্দের চাল পৌঁছেনি। এর ফলে জেলেরা অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছেন এবং কেউ কেউ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীতে ইলিশ ধরতে নামছেন।

সরেজমিনে ভোলা জেলার সদর উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া, ইলিশা, ভেদুরিয়া, ভেদুমিয়া ও দৌলতখান উপজেলার মদনপুরসহ ইউনিয়নগুলোর মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেদের মাছ শিকারের দৃশ্য দেখা গেছে। শিবপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর জেলে মো. জামাল মাঝি ও সুমন মাঝি জানান, “২ মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞার ১০ দিন হয়ে গেছে, এখনও আমরা সরকারিভাবে চাল পাইনি। কাজ-কাম নেই, সংসারে অনেক অভাব। রোজার মধ্যে খুব কষ্ট হচ্ছে। যদি সরকারি চাল পেতাম, তাহলে অনেক উপকার হতো।”

ভেলুমিয়া ইউনিয়নের হাজিরহাট এলাকার তেঁতুলিয়া নদীর জেলে মোশারেফ মাঝি ও ইলিশা ইউনিয়নের জাংশন এলাকার মেঘনা নদীর জেলে হানিফ মাঝি বলেন, “অভিযান চলাকালীন আমরা নদীতে নামি না, কিন্তু কাজকাম নেই। সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। আড়ৎদারদের থেকে টাকা ধার করে চাল কিনছি, কিন্তু যদি সরকারি চাল পেতাম, তাহলে আরও ভালো হতো।”

এছাড়া, কিছু জেলে নাম প্রকাশ না করে জানিয়েছেন যে, “নিষেধাজ্ঞার এই কয়েকদিন আমরা নদীতে নামিনি, কিন্তু ঘরের চাল কিনতে হতো, সংসার চালাতে হতো, এনজিওর কিস্তি পরিশোধ করতে হতো, তাই প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীতে মাছ ধরতে গিয়েছি।”

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানিয়েছেন, “প্রতিটি উপজেলায় জেলেদের মাঝে দ্রুত চাল বিতরণের জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে। আশা করছি আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে ভোলার সাত উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে চাল বিতরণ শুরু হবে।”

তিনি আরও জানান, “মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় সব ধরনের মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে ভোলা জেলার সাত উপজেলায় নিবন্ধিত ১ লাখ ৭০ হাজার ২৮৩ জন জেলে থাকলেও ৮৯ হাজার ৬০০ জেলেকে ৪০ কেজি চাল বরাদ্দ দেয়া হবে।”




বরিশালে সয়াবিন চাষ বাড়লেও তেল উৎপাদন কম

বাংলাদেশে উৎপাদিত সয়াবিনের প্রায় ৪০ শতাংশ বরিশালে আবাদ হয়, তবে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত বিপণন ব্যবস্থার অভাবে সয়াবিনের উৎপাদন ও ব্যবহার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাতে পারছে না। দেশের বিপুল পরিমাণ সয়াবিন উৎপাদিত হলেও, তা মূলত হাঁস-মুরগি ও মাছের খাবার তৈরির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, যার ফলে বরিশালসহ সারাদেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, চলতি রবি মৌসুমে দেশে প্রায় ৯৫ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ করা হয়েছে। ফলে দেশের মোট উৎপাদিত সয়াবিনের প্রায় ৪০ ভাগই বরিশাল অঞ্চল থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এই মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে সয়াবিনের উৎপাদন প্রায় ১ লাখ টন ছুঁতে পারে এবং সমগ্র দেশে ২ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তবে, সয়াবিন চাষের মাধ্যমে দেশের ভোজ্যতেল উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সয়াবিন ভোজ্যতেল উৎপাদনকারীদের কাছে বিক্রি করতে পারছেন না। বরং ফিসফিড ও পোল্ট্রি ফিড কারখানার ফড়িয়ারা মাঠ থেকেই সয়াবিন কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে প্রায় ২ লাখ টন সয়াবিন তেলবীজ পোল্ট্রি ফিডের কারখানায় চলে যাচ্ছে এবং দেশীয় ভোজ্যতেল উৎপাদন বাড়ছে না।

সয়াবিন তেল জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং এতে ৪০-৪৫% আমিষ এবং ১৯-২২% পর্যন্ত তেল থাকে। অন্যান্য শস্যের তুলনায় সয়াবিনে আমিষের পরিমাণ বেশি, যা অল্প খরচে উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।

বরিশালের মুলাদী উপজেলার কৃষক আবদুল হাকিম জানান, “প্রতি বছর আমি কয়েক বিঘা জমিতে সয়াবিন চাষ করি, ফলন ভালো হয় কিন্তু লাভ ঠিকমতো হয় না। কারণ ফড়িয়ারা কম দামে আমাদের কাছ থেকে সয়াবিন কিনে নেয়।” একইভাবে, হিজলা উপজেলার কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “সয়াবিন চাষে খরচ বাড়ছে, তবে দাম আগের মতোই রয়ে গেছে। যদি সরকার স্থানীয় পর্যায়ে তেল উৎপাদনের ব্যবস্থা করত, তাহলে আমরা ভালো দাম পেতাম।”

কৃষকরা আরো দাবি করেছেন যে, সরকার যদি উন্নত জাতের সয়াবিন বীজ সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করত, তাহলে তারা আরও বেশি সয়াবিন চাষ করতে পারতেন এবং লাভবান হতেন। বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মরিয়ম বলেন, “সয়াবিন তেলবীজের যথাযথ বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং দেশীয় ভোজ্যতেলের উৎপাদন বাড়বে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম