বাংলাদেশে উৎপাদিত সয়াবিনের প্রায় ৪০ শতাংশ বরিশালে আবাদ হয়, তবে আধুনিক প্রযুক্তি ও উন্নত বিপণন ব্যবস্থার অভাবে সয়াবিনের উৎপাদন ও ব্যবহার কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাতে পারছে না। দেশের বিপুল পরিমাণ সয়াবিন উৎপাদিত হলেও, তা মূলত হাঁস-মুরগি ও মাছের খাবার তৈরির জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে, যার ফলে বরিশালসহ সারাদেশের ভোজ্যতেলের চাহিদা পূরণে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, চলতি রবি মৌসুমে দেশে প্রায় ৯৫ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষ করা হয়েছে। ফলে দেশের মোট উৎপাদিত সয়াবিনের প্রায় ৪০ ভাগই বরিশাল অঞ্চল থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এই মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে সয়াবিনের উৎপাদন প্রায় ১ লাখ টন ছুঁতে পারে এবং সমগ্র দেশে ২ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তবে, সয়াবিন চাষের মাধ্যমে দেশের ভোজ্যতেল উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সয়াবিন ভোজ্যতেল উৎপাদনকারীদের কাছে বিক্রি করতে পারছেন না। বরং ফিসফিড ও পোল্ট্রি ফিড কারখানার ফড়িয়ারা মাঠ থেকেই সয়াবিন কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে প্রায় ২ লাখ টন সয়াবিন তেলবীজ পোল্ট্রি ফিডের কারখানায় চলে যাচ্ছে এবং দেশীয় ভোজ্যতেল উৎপাদন বাড়ছে না।
সয়াবিন তেল জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী এবং এতে ৪০-৪৫% আমিষ এবং ১৯-২২% পর্যন্ত তেল থাকে। অন্যান্য শস্যের তুলনায় সয়াবিনে আমিষের পরিমাণ বেশি, যা অল্প খরচে উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন খাবার হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
বরিশালের মুলাদী উপজেলার কৃষক আবদুল হাকিম জানান, “প্রতি বছর আমি কয়েক বিঘা জমিতে সয়াবিন চাষ করি, ফলন ভালো হয় কিন্তু লাভ ঠিকমতো হয় না। কারণ ফড়িয়ারা কম দামে আমাদের কাছ থেকে সয়াবিন কিনে নেয়।” একইভাবে, হিজলা উপজেলার কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “সয়াবিন চাষে খরচ বাড়ছে, তবে দাম আগের মতোই রয়ে গেছে। যদি সরকার স্থানীয় পর্যায়ে তেল উৎপাদনের ব্যবস্থা করত, তাহলে আমরা ভালো দাম পেতাম।”
কৃষকরা আরো দাবি করেছেন যে, সরকার যদি উন্নত জাতের সয়াবিন বীজ সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ প্রদান করত, তাহলে তারা আরও বেশি সয়াবিন চাষ করতে পারতেন এবং লাভবান হতেন। বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মরিয়ম বলেন, “সয়াবিন তেলবীজের যথাযথ বিপণন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারলে কৃষকরা ন্যায্যমূল্য পাবেন এবং দেশীয় ভোজ্যতেলের উৎপাদন বাড়বে।”
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম