বরিশালের ‘বায়তুল আমান’ মসজিদ,আকাশছোঁয়া মিনার ও অপূর্ব সৌন্দর্যের এক দৃষ্টান্ত

বরিশালের বায়তুল আমান জামে মসজিদ, যার আকাশছোঁয়া মিনার এবং দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্য সবার মন কাড়ে, এক অনন্য আইকন হয়ে উঠেছে। ২০০৬ সালে গুঠিয়া ইউনিয়নে প্রতিষ্ঠিত এই মসজিদটি তার সৌন্দর্য ও আধুনিক স্থাপত্যশৈলীর জন্য সারা দেশের মধ্যে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে। মসজিদটির ১৯৩ ফুট উচ্চতার মিনার এবং ঐতিহ্যবাহী গম্বুজে শোভিত স্থাপত্য দর্শনার্থীদের এক মোহনীয় অনুভূতি দেয়।
বায়তুল আমান জামে মসজিদটি গুঠিয়া ইউনিয়নে ১৪ একর জমির উপর নির্মিত হয়েছে। এটি নির্মাণের জন্য প্রায় তিন বছর সময় লেগেছে। স্থানীয় বিএনপি নেতা এস সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু নিজের অর্থায়নে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদটির অভ্যন্তর এবং বাইরের স্থাপত্য এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যেন এটি এক নতুন দৃষ্টিনন্দন আধুনিকতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। সাদা মার্বেল পাথর এবং গ্রানাইটের ব্যবহারে মসজিদটি আরও এক অনন্য রূপ পেয়েছে।

মসজিদের নয়টি গম্বুজের নিচে ঝুলছে নয়টি বিশাল ঝাড়বাতি, যা সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করেছে। সেগুলোর আলো পুরো মসজিদকে এক অপূর্ব রূপে রাঙিয়ে তোলে, বিশেষ করে সন্ধ্যায় এর আলোকসজ্জায় মসজিদের পরিবেশ আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। মসজিদের ভেতরে সুরা আর-রহমানের আয়াত ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে উৎকীর্ণ করা হয়েছে, যা মসজিদের মর্যাদাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক গোলাম ফেরদৌস এই মসজিদটি পরিদর্শন করেছেন এবং আধুনিক স্থাপত্যশৈলী দেখে মুগ্ধ হয়েছেন। তিনি ২০২৫ সালের মার্চ মাসে প্রথমবারের মতো এই মসজিদটি দেখে এর সৌন্দর্য এবং স্থাপত্যের প্রশংসা করেন।
মসজিদটির সামনে রয়েছে একটি মনোমুগ্ধকর দিঘি এবং শানবাঁধানো ঘাট, যা গোটা পরিবেশের সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। মসজিদ কমপ্লেক্সে একটি বিশাল ঈদগাহ মাঠ, খতিব ও মুয়াজ্জিনের বাসস্থান, কবরস্থান, ডাকবাংলো, হেলিপ্যাড, গাড়ি পার্কিং, এতিমখানা ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার মতো নানা সুবিধা রয়েছে। বিশেষত, এখানে নারীদের জন্য পৃথক নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা আরও এক বিশেষ উদ্যোগ।
বরিশালের বায়তুল আমান জামে মসজিদে দিনের বেলায় যেমন এক অসাধারণ সৌন্দর্য ফুটে ওঠে, তেমনি রাতে এর আলোকসজ্জায় মসজিদটি এক নতুন চেহারা নেয়। চিত্র সাংবাদিক সুমন হাসান জানিয়েছেন, রাতের দৃশ্য আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে, যখন আলোকসজ্জার রোশনাই অন্ধকার ভেদ করে মসজিদটির সৌন্দর্য প্রকাশিত হয়।
মসজিদে একসাথে ১,৩০০ জন মুসুল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন, এবং খোলা চত্বরে আরও ৪-৫ হাজার মুসুল্লি জায়গা পেয়ে থাকেন। মক্কা, মদিনা, বাগদাদ শরিফ ও জেদ্দার পবিত্র মাটি এখানে সংরক্ষিত রয়েছে, এবং প্রতিদিন অসংখ্য দর্শনার্থী এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন।
বরিশালের বায়তুল আমান জামে মসজিদ তার বিশাল স্থাপত্য, আধুনিক ডিজাইন এবং মসজিদের অপূর্ব সৌন্দর্যের জন্য দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ইসলামিক স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। এটি শুধু বরিশালেই নয়, পুরো দেশের জন্য এক গর্বের বিষয়।
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








