বাংলাদেশ-গাম্বিয়া বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে বৈঠক

বাংলাদেশের বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে গাম্বিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মামাদৌ টাঙ্গারা সাক্ষাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সচিবালয়ে উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, বিশেষ করে কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, “গাম্বিয়া বাংলাদেশের বন্ধুরাষ্ট্র। রোহিঙ্গা ইস্যুতে গাম্বিয়ার সমর্থন আমাদের জনগণের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার সুযোগ রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ ও গাম্বিয়ার বাণিজ্যের পরিমাণ তুলনামূলক কম। উভয় দেশ রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে এ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে।”

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মামাদৌ টাঙ্গারা বলেন, “রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে পেরে গাম্বিয়ার জনগণ গর্বিত। বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির মাধ্যমে দু’দেশের মানুষের মধ্যে সংযোগ আরও বাড়বে।”

তিনি বাংলাদেশ থেকে সামুদ্রিক হিমায়িত মাছ আমদানির পাশাপাশি গাম্বিয়া থেকে চিনাবাদাম বাংলাদেশে রপ্তানির আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন—

  • বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান
  • অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রহিম খান
  • ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী
  • আয়েশা আক্তার
  • মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ
  • বাংলাদেশে নিযুক্ত গাম্বিয়ার অনাবাসিক হাইকমিশনার মুস্তাফা জাওয়ারা
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মাগুরার শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে জামায়াত আমীরের শোক প্রকাশ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান মাগুরার শিশুটির মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দানের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেছেন।

তিনি বলেন, দেশে কুরআনের অনুশাসন প্রতিষ্ঠিত না থাকার কারণেই শিশুরা প্রতিনিয়ত ধর্ষণের শিকার হচ্ছে এবং অনেককে জীবন দিতে হচ্ছে। তিনি শোকাহত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং ধৈর্য ধারণের তাওফিক কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

ইফতার মাহফিলে বক্তব্য

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর মিরপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে মিরপুর পূর্ব থানা জামায়াত আয়োজিত ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

থানা আমীর শাহ আলম তুহিনের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি ওয়াহিদুল ইসলাম সাদীর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন—

  • কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য শাহাবুদ্দিন
  • ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন
  • কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান মূসা
  • ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দীন মানিক

কুরআনী অনুশাসন প্রতিষ্ঠার আহ্বান

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “রমজান মাসেই বদর যুদ্ধ ও মক্কা বিজয়ের মাধ্যমে ইসলাম প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি পেয়েছিল। ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, দুর্নীতি ও দুঃশাসন বন্ধ হবে।”

তিনি আরও বলেন, “যাকাতভিত্তিক সমাজ গঠন করা গেলে দেশে দারিদ্র্য থাকবে না, কেউ বেকার বা কর্মহীন থাকবে না। সমাজে ভেদাভেদ দূর হবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে।”

দেশকে ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে কল্যাণ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মাগুরার শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার দ্রুত শুরু হবে

মাগুরায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার আগামী সাত দিনের মধ্যে শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) সচিবালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

দ্রুত তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম

ড. আসিফ নজরুল বলেন, শিশুটি বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মারা গেছে। এই ঘটনায় সরকার গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং শিশুটির মরদেহ হেলিকপ্টারে করে মাগুরায় নিয়ে যাওয়া হবে। সরকারের পক্ষ থেকে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার সেখানে উপস্থিত থাকবেন এবং দাফন প্রক্রিয়া তদারকি করবেন।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে এবং আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে রিপোর্ট পাওয়া যাবে। এ ছাড়া ১২-১৩ জনের ১৬১ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক চললে সাত দিনের মধ্যে বিচার শুরু করা সম্ভব হবে।

বিচার ব্যবস্থার সংস্কার ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল

ড. আসিফ নজরুল বলেন, অতীতে ধর্ষণ মামলায় দ্রুত বিচার কাজ সম্পন্ন হওয়ার নজির রয়েছে। এবারও দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিরলসভাবে কাজ করছে।

তিনি জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংশোধন করে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান সংযোজন করা হচ্ছে। এই আইনের অধীনে শিশু ধর্ষণ ও বলাৎকারের মামলাগুলোর বিচার দ্রুত শেষ করার জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশোধিত আইনের খসড়া অনুযায়ী,

  • ধর্ষণের মামলার তদন্তের সময় ৩০ দিন থেকে কমিয়ে ১৫ দিন করা হচ্ছে।
  • মামলার বিচার কাজ ১৮০ দিনের পরিবর্তে ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান রাখা হচ্ছে।
  • তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা যাবে না, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তদন্ত শেষ করতে হবে।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, “আমরা নতুন আইন প্রণয়ন করছি, যা খুব শিগগিরই কার্যকর হবে। এতে শিশু ধর্ষণ মামলার দ্রুত ও সঠিক বিচার নিশ্চিত করা হবে।”

অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস

আইন উপদেষ্টা বলেন, “আমরা যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার কার্যক্রম শুরু করতে পারি, তাহলে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সব প্রমাণ ও তথ্য বিশ্লেষণ করে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের ঘটনা নিয়ে কেউ যেন রাজনৈতিক নৈরাজ্য সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।”

শিশুটির চিকিৎসা ও মৃত্যু

ধর্ষণের শিকার আট বছর বয়সী শিশুটি দীর্ঘ চিকিৎসার পর বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় সিএমএইচে মারা যায়।

৫ মার্চ মাগুরায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। পরে তাকে মাগুরা সদর হাসপাতাল, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং শেষ পর্যন্ত ঢাকা সিএমএইচে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একাধিকবার কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে শিশুটি মারা যায়।

সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, এই নির্মম ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মারা গেছেন ঢাবির সাবেক ভিসি আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক আর নেই। বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) রাতে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের নিউরোসায়েন্স ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

তার পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গত ৬ মার্চ, দুপুরে ঢাকা ক্লাবে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় হঠাৎ পড়ে যান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে নিউরো আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিউরোসার্জন অধ্যাপক নজরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

২০০৯ সালের ১৫ জানুয়ারি, তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭তম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।

২০১৭ সালের ৪ সেপ্টেম্বর উপাচার্যের দায়িত্ব শেষ করে তিনি আবারও বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। ২০২০ সালের জুন মাসে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর নেন।

অবসরের পর, ২০২০ সালের ১৫ জুলাই, তাকে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ছাড়া গণতন্ত্র টেকে না : রহমাতুল্লাহ

বরিশালের সাংবাদিকদের সম্মানে ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বরিশাল সদর উপজেলা শাখার ১ নম্বর সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর সদর রোডস্থ হোটেল কিং ফিশারে এই আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বরিশালের বিভিন্ন পর্যায়ের সাংবাদিকরা অংশ নেন।

ইফতার মাহফিলে আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ বলেন, “গত ১৫ বছর ধরে সাংবাদিকদের নিয়ে ইফতার করার ইচ্ছে থাকলেও তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে এবার সেই সুযোগ পেয়েছি।”

তিনি অভিযোগ করেন, “শেখ মুজিব তার শাসনামলে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করেছিলেন। চারটি পত্রিকা বাদে বাকি সব বন্ধ করে দেন, যা ছিল গণমাধ্যমের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে এক বড় আঘাত। পরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা করেন। কিন্তু গত ১৫ বছর ধরে শেখ হাসিনার সরকার আবারও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করেছে। সাংবাদিকদের হয়রানি, গুম, খুন ও কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “যে সমাজে গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে না, সেই সমাজ গণতান্ত্রিক হতে পারে না। গণমাধ্যম কর্মীরা সব মানুষের খোঁজ নিলেও তাদের খোঁজ নেওয়ার কেউ থাকে না। গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য।”

ইফতার মাহফিলে বরিশালের সিনিয়র ও নবীন সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সভাপতি আমিনুল ইসলাম খসরু, সহ-সভাপতি জাকির হোসেন, বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ, প্রবীণ সাংবাদিক নুরুল আলম ফরিদ, সমকাল পত্রিকার ব্যুরো প্রধান সুমন চৌধুরী, সাংবাদিক সাইফুর রহমান মিরন, পারভেজ রাসেল, অপূর্ব অপু, মুশফিক সৌরভসহ আরও অনেকে।

এই আয়োজনের মাধ্যমে বরিশালের সাংবাদিকদের সঙ্গে বিএনপি নেতা রহমাতুল্লাহর সুসম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




রমজানে যে চার আমল বেশি বেশি করবেন

রমজান মাসের পবিত্রতা ও মর্যাদা অনেক বেশি। এই মাসে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য কিছু বিশেষ আমল রয়েছে, যেগুলি আমাদের জন্য একান্তভাবে উপকারী। এখানে জানানো হলো সেই চারটি আমল, যা রমজানে বেশি বেশি করা উচিত।

১. ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করা
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হলো আল্লাহর একত্ববাদের ঘোষণা। এটি আল্লাহর কাছে অত্যন্ত পছন্দনীয় একটি আমল। যার দ্বারা ঈমানদারদের আল্লাহর প্রতি আনুগত্য স্পষ্ট হয় এবং কুফর থেকে পার্থক্য তৈরি হয়। হজরত মুয়াজ বিন জাবাল (রা.) এক হাদিসে বলেছেন, “যার সর্বশেষ কথা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ হবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।” (সুনানে আবু দাউদ: ৩১১৬)

২. ইস্তেগফার পড়া
রমজানে বেশি বেশি ইস্তেগফার পাঠ করা সফল মুমিনের অন্যতম গুণ। ইস্তেগফার দ্বারা শয়তানের প্ররোচনা এবং গুনাহ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, “আমি তাদের বলেছি, নিজ প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি অতিশয় ক্ষমাশীল।” (সুরা নুহ: ১০)

৩. জান্নাত চাওয়া
রমজানের এই পবিত্র সময়ে আল্লাহর কাছে জান্নাত চাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জান্নাত মুমিনের চিরস্থায়ী সুখের আবাস এবং এটি সব মুসলমানের একান্ত আকাঙ্ক্ষা। আল্লাহর কাছে জান্নাত প্রার্থনা করা আমাদের মনের শান্তি ও পরকালীন সুখের পথ।

৪. জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া
যদিও সবাই জানে, জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তা সত্ত্বেও মানুষ প্রায়ই তার কর্মকাণ্ডের ফলস্বরূপ জাহান্নামের দিকে চলে যায়। সুতরাং, রমজানে আল্লাহর কাছে জাহান্নাম থেকে মুক্তি চাওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রমজান হলো আল্লাহর কাছে বেশি বেশি চাওয়ার মাস। চারটি আমলের মধ্যে তিনটি চাওয়ার এবং একটিতে ধ্যান স্থাপন করতে হবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই আমলগুলো বেশি বেশি করার তওফিক দান করুন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম


 




কিঙ্কর আহসান অভিনয় করলেন নিজের লেখা গল্পে

নতুন এক পরিচয়ে দর্শকদের সামনে আসছেন লেখক কিঙ্কর আহসান। তিনি এখন কেবল লেখক নন, বরং নিজেই অভিনয় করেছেন তার লেখা গল্পে। আসন্ন ঈদ উপলক্ষে মুক্তি পেতে যাচ্ছে কিঙ্কর আহসানের লেখা এবং অভিনীত বিশেষ নাটক “তুমি যাকে ভালোবাসো”।

নাটকটির পরিচালক আবুল খায়ের চাঁদ, আর চিত্রনাট্য রচনা করেছেন আহনাফ তাহমিদ খান। নাটকের মূল গল্পে কিঙ্কর আহসান ছাড়াও অভিনয় করেছেন জনপ্রিয় তারকা ফারহান আহমেদ জোভান এবং কেয়া পায়েল। এটি একটি ত্রিভুজ প্রেমের গল্প, যেখানে প্রেম, বিরহ এবং রোমাঞ্চের মিশ্রণ পাওয়া যাবে। নাটকের দৃশ্যে কিঙ্কর আহসানকে এক নতুনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা তার ভক্তদের জন্য বিশেষ আকর্ষণীয় হবে।

কিঙ্কর আহসান নাটকটির গল্প ও অভিনয় প্রসঙ্গে বলেন, “প্রযোজক পাপ্পু ভাই আমাকে পুরোপুরি স্বাধীনতা দিয়েছেন, যা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পরিচালক আবুল খায়ের চাঁদ এবং সিনেমাটোগ্রাফার রাজু রাজ-সহ অন্যান্যদের সহযোগিতায় নাটকটি একেবারে নিখুঁতভাবে নির্মিত হয়েছে। জোভান এবং কেয়া পায়েলের সহযোগিতায় আমার অভিনয় সহজ হয়েছে। তাদের প্রতি আমি চিরকাল কৃতজ্ঞ।”

নাটকটি প্রযোজনা করছে সিএমভি এবং এটি ঈদ উৎসবে চাঁদ রাত থেকে সিএমভি’র ইউটিউব চ্যানেলে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম ে




প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করে ফেরার পথে অজ্ঞান হয়ে পড়ে তরুণী, অতঃপর…

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানা পুলিশ এক ১৭ বছর বয়সি তরুণীকে উদ্ধার করেছে, যিনি প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করে ফেরার পথে রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে ছিলেন। পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা শেষে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।

ঘটনাটি ঘটে ১২ মার্চ রাত ১১টার দিকে, যখন ওই তরুণীকে ভান্ডারিয়া উপজেলার বাঁশেরপুল এলাকা থেকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, তরুণী মঙ্গলবার তার এক আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। পরের দিন, বুধবার, নিজের বাড়িতে ফেরার কথা বলে সে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে বের হয়। পথে, ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার গালুয়া এলাকায় গিয়ে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করে। তবে, প্রেমিক তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনায় নিরাশ হয়ে, ওই তরুণী রাতে গালুয়া থেকে ভান্ডারিয়া হয়ে কাঁঠালিয়া যেতে শুরু করেন। হাঁটতে হাঁটতে তিনি রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। স্থানীয়রা তাকে পড়ে থাকতে দেখে ভান্ডারিয়া থানায় খবর দেয়। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে ভান্ডারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

পুলিশ জানায়, তরুণী রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল কারণ তিনি দীর্ঘ সময় খেতে পাননি এবং দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। তদন্তের পর জানা যায় যে, তার সঙ্গে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। সুস্থ হওয়ার পর, তরুণীকে তার ঠিকানা সংগ্রহ করে পরিবারকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পিরোজপুরে ফুলের চারা বিক্রিতে আয় শতকোটি টাকা!

ফুলের প্রতি ভালোবাসা আমাদের চিরন্তন। তবে এখন ফুলের চারা শুধু সৌন্দর্য আর ভালোবাসারই প্রতীক নয়, এটি পিরোজপুরে একটি বিশাল ব্যবসা এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থানের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কাউখালী এবং সদরের বিভিন্ন অঞ্চল জুড়ে চলছে ফুলের চারা উৎপাদন এবং বিক্রি, যা বছরে শতকোটি টাকার ব্যবসা করে থাকে।

পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার অলংকার কাঠী গ্রামে আজকাল দেখা যায় বিভিন্ন প্রকারের ফুল ও ফলের বাহারি চারা। এখানকার নার্সারি গুলো পুরো গ্রামকে ফুলের গালিচায় ঢেকে দেয়, যা দেখতে আসেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীরা। অনেকেই ফুলের ছবি তুলে আনন্দিত হন, আবার কেউ নতুন ফুলের চারা কিনতে আসেন।

এছাড়া, স্বরূপকাঠি ইউনিয়নের অলংকার কাঠি গ্রামটি এখন ‘নার্সারি গ্রাম’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এখানকার নার্সারিতে উৎপাদিত ফুলের চারার পাশাপাশি, ফল ও বনজ চারা বিক্রি হয় বারো মাস ধরে। বিশেষ করে, নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত এসব নার্সারির ফুলে ভরে ওঠে, যা দেখতে সত্যিই মনোমুগ্ধকর। এই ব্যবসার মাধ্যমে এলাকার হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এবং তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই কাজে যুক্ত আছেন।

এখানকার নার্সারির মালিক ফজলুর শেখ বলেন, ‘প্রতিটি শীত মৌসুমে আমরা বিভিন্ন প্রকার ফুলের চারা খুচরা এবং পাইকারি বিক্রি করি। পিরোজপুরে নার্সারি ব্যবসার সাথে জড়িত রয়েছে কয়েক হাজার পরিবার, যারা এই ব্যবসার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আয় করছে।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম জানান, নার্সারি ব্যবসাকে আরও সম্প্রসারণ করার জন্য স্থানীয়দের বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে এবং ব্যাংক থেকে সহজ শর্তে ঋণ নিতে তাদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। বর্তমানে পিরোজপুর জেলার ৭টি উপজেলায় প্রায় ৫৫০ হেক্টর জমিতে ২ হাজার নার্সারি গড়ে উঠেছে, যা প্রায় ১২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পিরোজপুরে মোবাইল গেইম না দেয়ায় বন্ধুকে হত্যা, ১৩ বছরের কারাদণ্ড কিশোরের

মোবাইল দিয়ে অনলাইন গেইম “ফ্রি ফায়ার” খেলতে না দেয়ার কারণে ২০২১ সালে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার একটি ঘটনা ঘটে, যেখানে এক স্কুল ছাত্রকে হত্যা করে তার বন্ধু। পিরোজপুরের একটি আদালত হত্যাকারী কিশোর আবির হোসেন হাওলাদার (১৭) কে ১৩ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছে।

আবির হোসেন হাওলাদার, যিনি উপজেলার নদমূলা গ্রামের কালাম হাওলাদারের ছেলে, ২০২1 সালে এক স্কুল ছাত্র শান্ত হাওলাদারের (১৪) সাথে মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। শান্ত তার স্মার্ট ফোন দিয়ে অনলাইন গেইম খেলত, কিন্তু আবিরের নিজের কোনো ফোন ছিল না। একদিন আবির শান্তর কাছে তার মোবাইল ফোনটি চেয়েছিল, কিন্তু শান্ত তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এই কারণে তাদের মধ্যে তীব্র ঝগড়া হয়, যা পরবর্তীতে হত্যাকাণ্ডে রূপ নেয়।

ঘটনার পর, ২০২১ সালের ২ ডিসেম্বর, আবির শান্তকে মোবাইল ফোন দেখানোর কথা বলে বাড়ির কাছে একটি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে সে শান্তর মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেয় এবং তাকে নালায় ফেলে পানিতে চেপে ধরে শান্তর মৃত্যু নিশ্চিত করে। এরপর সে শান্তর মরদেহ নালার মধ্যে লুকানোর চেষ্টা করে।

পরিবারের সদস্যরা অনেক রাত পর্যন্ত শান্তকে খুঁজে না পেয়ে পরের দিন তার মরদেহ নালার মধ্যে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং চার মাস পরে আবিরকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তদন্ত ও সব প্রমাণ যাচাই-বাছাইয়ের পর আদালত আবিরকে ১৩ বছরের কারাদণ্ড দেয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম