আঁর হতা হইবাল্লাই ন আইয়ি, অনারাত্তুন জাইনত আইসসিদে: প্রধান উপদেষ্টা

কক্সবাজার জেলার পর্যটন ও উন্নয়ন সম্ভাবনা নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “আমি কথা বলতে আসিনি, আপনাদের কাছ থেকে জানতে এসেছি।”

শুক্রবার (১৪ মার্চ) বিকেলে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত সভার শুরুতে তিনি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় বলেন, “আঁর হতা হইবাল্লাই ন আইয়ি, অনারাত্তুন জাইনত আইসসিদে।” যার অর্থ—“আমি কথা বলতে আসিনি, আপনাদের থেকে জানতে এসেছি।”

মতবিনিময় সভায় কক্সবাজারের পর্যটন খাতের উন্নয়ন, অবকাঠামো সমস্যা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ মতামত দেন।

এর আগে দুপুরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এর সঙ্গে কক্সবাজারে আসেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

বিকেল ৫টার দিকে তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যান। সেখানে জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে লাখো রোহিঙ্গার সঙ্গে ‘মেগা’ ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আছিয়া ধর্ষণ-হত্যার বিচার দাবিতে বরিশালে মহিলা ফোরামের বিক্ষোভ

মাগুরায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশু আছিয়া এর ন্যায়বিচারের দাবিতে বরিশালে সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন করেছে।

শুক্রবার (১৪ মার্চ) সকাল ১১টায় বরিশাল জেলা শাখার উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। পরে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন মাফিয়া বেগম, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম বরিশাল জেলা শাখার সভাপতি। সমাবেশ পরিচালনা করেন ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. মনীষা চক্রবর্তী।

এতে বক্তব্য রাখেন, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী শম্পা বসু ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট দিলরুবা নূরী।

বক্তারা বলেন, ৮ বছরের শিশু আছিয়া এর ধর্ষণ ও হত্যার ন্যায়বিচার না হলে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব নয়। তারা অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

বক্তারা আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানে নারীদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু পরবর্তীতে তাদের ব্যাপকভাবে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। তারা নারীর প্রতি হামলা, নির্যাতন, এবং প্রতিবন্ধকতার বিষয়েও কথা বলেন।

নারী ফুটবলারদের ওপর হামলা হয়েছে।

নারী শিল্পীদের চলাফেরায় বাধা দেওয়া হয়েছে।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।

রাজশাহীগামী বাসে দীর্ঘ সময় নারী নির্যাতন ঘটেছে।


বক্তারা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, নারী নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে, উল্টো ধর্ষণবিরোধী মিছিলে পুলিশি হামলা এবং মামলা করা হচ্ছে, যা ধর্ষকদের উৎসাহিত করছে।

নেতৃবৃন্দ নারী নির্যাতনের প্রতিটি ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দ্রুত বিচার করার দাবি জানান। তারা হুঁশিয়ারি দেন যে, অন্যথায়, সারাদেশে নারীরা কঠোর আন্দোলনে নামবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাংলাদেশের সংস্কার উদ্যোগে জাতিসংঘের সমর্থন: গুতেরেস

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সংস্কার ও উন্নয়ন প্রচেষ্টায় জাতিসংঘ পাশে থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন সংস্থাটির মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

শুক্রবার (১৪ মার্চ) এক্স-এ দেওয়া বার্তায় তিনি বলেন, “আমি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বাংলাদেশের জনগণকে উষ্ণ অভ্যর্থনার জন্য ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশের পরিবর্তনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একটি টেকসই ও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গঠনে জাতিসংঘ সর্বদা পাশে থাকবে।”

সফরের দ্বিতীয় দিনে জাতিসংঘ মহাসচিব সকাল ৯টায় রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টালে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন। পরে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তার আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠক শেষে জাতিসংঘ মহাসচিব ও প্রধান উপদেষ্টা একসঙ্গে কক্সবাজার যান। সেখানে তারা নির্মাণাধীন কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং খুরুশকূল জলবায়ু উদ্বাস্তু কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে জাতিসংঘ মহাসচিব ও ড. মুহাম্মদ ইউনূস উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান, যেখানে তারা প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

কক্সবাজারে জাতিসংঘ মহাসচিবকে স্বাগত জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা ফারুক ই আজম। এ সময় তিনি রোহিঙ্গা লার্নিং সেন্টার, রোহিঙ্গাদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র এবং পাটজাত পণ্যের উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

ইফতার শেষে জাতিসংঘ মহাসচিব ও প্রধান উপদেষ্টা একসঙ্গে ঢাকায় ফিরে আসেন।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরগুনায় পায়রা নদী রক্ষায় মানববন্ধন ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি

“আমাদের নদ-নদীগুলো আমাদের ভবিষ্যৎ”—এই স্লোগানে বরগুনার তালতলীতে পায়রা নদী রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতীকী পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ মার্চ) সকাল ১০টায় আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস উপলক্ষে “ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা)”“পায়রা নদী ইলিশ রক্ষা কমিটি” এ কর্মসূচির আয়োজন করে। তালতলী উপজেলার জেটিঘাটে পায়রা নদীর তীরে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,
পায়রা নদীর সংযুক্ত খাল ও সুইসগেটগুলো অবৈধ দখল ও দূষণের শিকার হচ্ছে, ফলে এসব খাল ধীরে ধীরে শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে।
বরিশালের ৩০৭ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে নির্গত কয়লা, ধোঁয়া, গরম পানি, প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য নদীতে ফেলা হচ্ছে, যার ফলে নদী দূষণ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে
এতে সুপেয় পানি ও কৃষিকাজের সংকট বাড়ছে এবং নদীর লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে
দ্বিতীয় সুন্দরবন খ্যাত টেংরাগিরি সংরক্ষিত বনাঞ্চলও ধ্বংসের মুখে পড়ছে

বক্তারা পায়রা নদীকে দখল ও দূষণমুক্ত করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন—
🔹 মিয়া রিয়াজুল ইসলাম – উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব
🔹 আমিনুল ইসলাম আমির – উপজেলা শ্রমিকদলের আহ্বায়ক
🔹 আরিফ রহমান – ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা), তালতলী-আমতলী উপজেলা সমন্বয়ক
🔹 হাইরাইজ মাঝি, এম মিলন, মো. মোস্তাফিজ – পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিক


✍ মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কক্সবাজারে প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘ মহাসচিব

রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বাংলাদেশ সফররত জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস কক্সবাজারে পৌঁছেছেন।

শুক্রবার (১৪ মার্চ) দুপুর ১টায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তারা কক্সবাজারে পৌঁছান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

কক্সবাজার বিমানবন্দরে তাদের স্বাগত জানান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাউদ্দিন এবং পুলিশ সুপার

কক্সবাজারে পৌঁছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্মাণাধীন কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং খুরুশকূল জলবায়ু উদ্বাস্তু কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এরপর তিনি উখিয়ায় জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর সঙ্গে ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।

অন্যদিকে, জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেস বিমানবন্দর থেকে সরাসরি উখিয়ায় যান। সেখানে তিনি রোহিঙ্গা লার্নিং সেন্টার, রোহিঙ্গা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন ও ইফতার শেষে প্রধান উপদেষ্টা ও জাতিসংঘ মহাসচিব একসঙ্গে সন্ধ্যায় ঢাকায় ফিরবেন।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। শুক্রবার (১৪ মার্চ) সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সাক্ষাৎ শেষে জাতিসংঘ মহাসচিব ও প্রধান উপদেষ্টা একই বিমানে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখানে তারা কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্মাণকাজ এবং খুরুশকূল জলবায়ু উদ্বাস্তু কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শন শেষে প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস উখিয়ায় রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে যান। সেখানে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

এ সফরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ফারুক ই আজম কক্সবাজারে জাতিসংঘ মহাসচিবকে স্বাগত জানান।

জাতিসংঘ মহাসচিব বিমানবন্দর থেকে সরাসরি উখিয়ায় যান এবং সেখানে রোহিঙ্গা লার্নিং সেন্টার, রোহিঙ্গাদের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও পাটজাত পণ্যের উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শিশুর নির্মম মৃত্যুতে তারেক রহমানের নিন্দা

নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এক বিবৃতিতে তিনি আছিয়া নামের এক শিশুর নির্মম মৃত্যুকে “অগ্রহণযোগ্য ও হৃদয়বিদারক” বলে মন্তব্য করেছেন।

তারেক রহমান বলেন, “শিশুটির মৃত্যু দেশবাসীকে মর্মাহত করেছে। আমরা দেখছি, পবিত্র রমজান মাসেও নারী ও শিশুদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চলছে, যা আমাদের সমাজের চরম নৈতিক অবক্ষয় প্রকাশ করে।”

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই পাশবিক ঘটনার প্রতিবাদে শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত মানুষ ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। রাজপথে মিছিল ও স্লোগানের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “আমি শুরু থেকেই শিশুটির চিকিৎসা ও আইনি সহায়তার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনা বাড়ছে। আইনের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে অপরাধীরা বারবার রক্ষা পাচ্ছে, যা সমাজের জন্য ভয়াবহ হুমকি।”

তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন, “এ ধরনের জঘন্য অপরাধ শুধু একজন ব্যক্তির প্রতি নয়, এটি মানবতার বিরুদ্ধে চরম আঘাত। আমাদের সমাজে নৈতিক অবক্ষয় এতটাই চরমে পৌঁছেছে যে, রমজান মাসের পবিত্রতাও রক্ষা করা হচ্ছে না।”

নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “একটি কার্যকর শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যাতে তারা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে। ডিজিটাল নিরাপত্তা ও নাগরিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করাও অপরিহার্য।”

অপরাধ দমনে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, “যারা এই বর্বরোচিত অপরাধ ঘটিয়েছে, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন নৃশংসতার সাহস না পায়।”

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শিশু আছিয়ার মৃত্যুতে বরিশালে গায়েবানা জানাজা ও মশাল মিছিল

মাগুরায় ধর্ষণের শিকার হয়ে মারা যাওয়া শিশু আছিয়ার মৃত্যুতে বরিশালে গায়েবানা জানাজা, বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) রাতে বরিশাল ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে ধর্ষণবিরোধী মঞ্চের উদ্যোগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি নথুল্লাবাদে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে গিয়ে অবস্থান নেয় এবং এক ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। এরপর সড়কের ওপর গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়

গায়েবানা জানাজার পর বক্তারা বলেন, “আমরা এমন বাংলাদেশ চাই না, যেখানে ধর্ষকের বিচারের আগেই ধর্ষিতার মৃত্যু হয়। আছিয়া আমাদের বোন। আমরা চাই না, আর কোনো আছিয়া ধর্ষণের শিকার হোক। ধর্ষকের প্রকাশ্যে বিচার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।”

অন্যদিকে, একই দাবিতে বরিশাল ছাত্র ফেডারেশনের নেতৃবৃন্দ নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হল চত্বর থেকে মশাল মিছিল বের করেন, যা শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন,“গত পাঁচ মাসে ধর্ষণের হার ভয়াবহভাবে বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি চরম অবনতির দিকে যাচ্ছে। অবিলম্বে সরকারকে ব্যবস্থা নিতে হবে। আছিয়া ও অন্যান্য ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

তারা আরও বলেন,“ধর্ষকের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করলেই বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ হবে।”


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ঈদ যাত্রা নিয়ে উদ্বেগ

এস এল টি তুহিন,বরিশাল :: ঈদ আসলেই এক মহা উৎসব, যা মূলত পরিবার ও প্রিয়জনদের সঙ্গে মিলিত হওয়ার আনন্দে ভরা। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের জন্য সেই আনন্দের যাত্রা কতটা নিরাপদ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের ঈদযাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে এবারও উদ্বেগ প্রকাশিত হয়েছে। রাষ্ট্রীয় নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) এবং বেসরকারি নৌযান মালিকদের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের কারণে যাত্রীরা পূর্বের মতোই নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন।
বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা বর্তমানে মাফিয়া চক্রের হাতে চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যদিও সরকারিভাবে যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা ছিল, তা এখন কার্যত অকার্যকর। যাত্রীরা বাধ্য হয়ে বেসরকারি লঞ্চ মালিকদের ওপর নির্ভরশীল। এই মালিকরা তাদের ইচ্ছামতো ভাড়া নির্ধারণ করে এবং লঞ্চের সংখ্যা সীমিত রাখে, যার ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ে।
বরিশাল অঞ্চলের নৌ যোগাযোগ অনেক দিন ধরেই অব্যবস্থাপনার শিকার। করোনার আগেই বিআইডব্লিউটিসি এসব নৌযান পরিচালনা বন্ধ করে দিয়েছিল। বরিশালের যাত্রীরা এখন বেসরকারি লঞ্চের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
২০২২ সালে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের তিন বছর আগে থেকেই বিআইডব্লিউটিসি দক্ষিণাঞ্চলের নৌযাত্রী সেবা সংকুচিত করতে শুরু করে। বর্তমানে, ঢাকা-বরিশাল নৌপথে প্রতিদিন মাত্র ২-৩টি লঞ্চ চলাচল করে, যা বিপুলসংখ্যক যাত্রীর তুলনায় খুবই অপ্রতুল। এর ফলে ঈদযাত্রায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হয়।
একটি কেবিনের জন্য যাত্রীদের অনেক জায়গায় তদবির করতে হয় এবং অনেক ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যায় না। যাত্রীরা অভিযোগ করছেন, লঞ্চ মালিকরা ইচ্ছাকৃতভাবে লঞ্চের সংখ্যা কম রাখছেন এবং ভাড়া বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করছেন, যা তাদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।
যাত্রা শুধুমাত্র নৌপথে নয়, বরিশাল-ঢাকা সড়কপথেও এক বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। বরিশাল থেকে রাজধানী ঢাকার দূরত্ব ১৬৫ কিলোমিটার হলেও, প্রায় ৯৫ কিলোমিটার মহাসড়ক এখনও সংকীর্ণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ। ঈদকালে অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে এই সড়কপথে ব্যাপক যানজট হতে পারে, যা যাত্রীদের জন্য আরও চ্যালেঞ্জিং হতে পারে।
যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদকালে সড়কপথে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি করে, যা তাদের ভোগান্তির কারণ হয়। নৌপথের সংকট থাকলেও, সড়কপথ কোনো নির্ভরযোগ্য বিকল্প হয়ে দাঁড়ায় না। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ অতিরিক্ত দুর্ভোগের শিকার হন।
এ বিষয়ে সরকারিভাবে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। বুধবার বিআইডব্লিউটিসির বাণিজ্য বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা হলে, কোন ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। তবে বিআইডব্লিউটিসির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে যে, তাদের দুটি স্ক্রু-হুইল নৌযান প্রস্তুত রয়েছে এবং সরকারের সিদ্ধান্ত আসলেই এগুলো চালু করা হতে পারে।
অপরদিকে, একাধিক বেসরকারি নৌযান মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও, তারা ঈদের বিশেষ যাত্রীসেবা চালুর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। অর্থাৎ, দক্ষিণাঞ্চলের ঈদযাত্রা অনেকটাই মালিকপক্ষের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে এক বৈঠকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে এবং যাত্রীসেবার মান উন্নত করার নির্দেশনা দিয়েছে। তবে বাস্তবে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
বরিশাল-ঢাকা নৌপথে নতুন একটি বিলাসবহুল লঞ্চ যোগ হতে চলেছে। বরিশালের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহফুজ খান এমভি এম খান-৭ নামে একটি বিলাসবহুল নৌযান চালু করতে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে। এই নৌযানটি ৩২৫ ফুট দৈর্ঘ্যের হবে এবং এতে যাত্রীদের জন্য আধুনিক ও নিরাপদ ভ্রমণের সব ধরনের ব্যবস্থা থাকবে বলে দাবি করা হয়েছে। এতে ফাইভ-স্টার মানের কেবিন, আধুনিক নিরাপত্তা সরঞ্জাম, উন্নত খাবারের ব্যবস্থা এবং আরামদায়ক যাত্রার সুবিধা থাকবে। তবে, প্রশ্ন হচ্ছে, এটি কি শুধুমাত্র অভিজাত যাত্রীদের জন্য হবে, নাকি সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে ভূমিকা রাখবে।
ঢাকায় চাকরিজীবী শামীম হোসেন বলেন, প্রতি বছরই ঈদের আগে টিকিট পাওয়া যেন যুদ্ধের মতো হয়ে যায়। লঞ্চ মালিকরা ইচ্ছামতো ভাড়া বাড়ায়, কিন্তু তাও টিকিট মেলে না। বরিশাল থেকে ঢাকার নৌপথে এত সংকট কেন, তা বুঝতে পারি না। সরকার কি আমাদের দুর্ভোগের কথা শুনবে না।
ঢাকায় বসবাসরত গৃহিণী মাহমুদা আক্তার জানান, পরিবার নিয়ে ঈদে গ্রামের বাড়ি যাবো, কিন্তু টিকিটের জন্য এত দৌড়াদৌড়ি করতে হচ্ছে যে মনে হচ্ছে, আমরা যেন কোনো দয়া চাইতে এসেছি। কেবিনের জন্য কত জায়গায় ধরনা দিলাম, কোথাও জায়গা নেই। এমন পরিস্থিতিতে ঈদের আনন্দ থাকে কীভাবে।
বরিশাল নৌ বন্দর কর্মকর্তা উপ-পরিচালক শেখ মো: সেলিম রেজা বলেন,আমরা ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালাচ্ছি। তবে সরকারিভাবে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি যেমন ছিল, তেমনই থাকবে।



বরিশালে প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেপ্তার

বরিশালের মুলাদীতে হত্যার ভয় দেখিয়ে এক প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে খোকন কবিরাজ (৩৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৩ মার্চ) বিকেলে মুলাদী পৌরসভার চরডিক্রী কালাপাহাড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মুলাদী থানায় মামলা করেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মুলাদী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মমিন উদ্দিন

পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগীর খালু মারা যাওয়ায় তার বাবা-মা বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে যান। ওই সময় তরুণী তার ভাইয়ের ছেলের সঙ্গে বাড়িতে ছিলেন।

বেলা ২টার দিকে তার ভাইয়ের ছেলে খেলতে বের হলে, অভিযুক্ত খোকন কবিরাজ দা নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করেন। পরে তরুণীকে জবাই করার ভয় দেখিয়ে হাত-পা বেঁধে ধর্ষণ করেন।

কিছুক্ষণ পর তরুণীর ভাইয়ের ছেলে বাড়ি ফিরে এ ঘটনা দেখতে পায় এবং দ্রুত সাইকেল চালিয়ে তার বাবাকে জানায়। এরপর তরুণীর ভাই থানায় খবর দিলে, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে অভিযান চালিয়ে খোকনকে গ্রেপ্তার করে

পুলিশ পরিদর্শক মমিন উদ্দিন জানান, ধর্ষণের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগীকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) পাঠানো হবে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম