বাংলাদেশের সংকটে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি জাতিসংঘ মহাসচিবের

ঢাকায় জাতিসংঘের নতুন ভবন পরিদর্শনকালে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, “বাংলাদেশের আতিথেয়তায় আমি মুগ্ধ। বাংলাদেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে জাতিসংঘ সবসময় পাশে থাকবে।”

শনিবার, ১৫ মার্চ, তিনি ঢাকায় জাতিসংঘের নতুন ভবন পরিদর্শন করেন এবং সেখানে ৫০ বছরের অর্জনের আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখেন। এই অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার রক্ষা এবং সংস্কার প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন। তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য জনগণের উদারতা সত্যিই প্রশংসনীয়।”

জাতিসংঘ মহাসচিব তার বক্তব্যে জানান, “বাংলাদেশে জাতিসংঘের কোনো নির্দিষ্ট এজেন্ডা নেই। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণকে সহযোগিতা করা। বর্তমান সংকটকালীন সময়ে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর পরিবর্তে জনগণের জন্য অর্থের যথাযথ ব্যয় নিশ্চিত করা।”

এসময় জাতিসংঘের কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আমাদের কাজ হল জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা, কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়।” অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।

প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ মহাসচিব ১৩ মার্চ বাংলাদেশ সফরে আসেন। সফরের দ্বিতীয় দিনে তিনি কক্সবাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মেঘনা থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন, তীর রক্ষা বাঁধের জন্য হুমকি

ভোলার মনপুরা উপজেলার পূর্ব-পশ্চিম পাশের মেঘনা নদীতে একাধিক ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নদীর পাড় থেকে খুব কাছাকাছি অবস্থিত এই বালু সরাসরি তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা নদীর পাড় এবং নির্মিতব্য বাঁধের জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় নেতাকর্মীরা এই ড্রেজার ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিল, তবে বর্তমানে বিএনপির নেতাকর্মীরাও এতে জড়িত। যদিও তারা প্রকাশ্যে কিছু বলতে চাইছে না, কারণ তারা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভয় পাচ্ছে।

সম্প্রতি মনপুরার মেঘনায় গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে ১০ থেকে ১৫টি ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। নদীর তীর থেকে ১০০ মিটার, ৩০০ মিটার বা আরও অনেক কাছাকাছি থেকে এই বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, যা সরাসরি তীর রক্ষা বাঁধের নির্মাণ প্রকল্পে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

প্রতিবেদকের বালু উত্তোলনের খবর সংগ্রহের সময় তাকে হুমকি দেওয়া হয় এবং ছবি ও ভিডিও করার জন্য বাধা দেওয়া হয়। এমনকি সংবাদ প্রকাশ না করার জন্যও চাপ দেওয়া হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আশফাউদৌলা জানান, গত বছর মেঘনার পাড়ের এক কিলোমিটার দূর থেকে বালু তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে তাদের দাবি অনুযায়ী, ওই অনুমোদনের সীমা অতিক্রম করে বালু উত্তোলন হচ্ছে।

স্থানীয় বিশেষজ্ঞরা জানান, মেঘনার তীর রক্ষা বাঁধের কাছ থেকে অবৈধভাবে বালু তোলা হলে নির্মিতব্য বাঁধের স্থায়িত্ব ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যার ফলে তা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে এবং সরকারের অর্থ নষ্ট হবে। এছাড়া নদী পাড়ে ভাঙন বাড়বে।

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা রাকিব, সজিব, হেলালসহ অনেকে জানান, আগে পতিত সরকারের লোকজন বালু তোলার কাজটি করত, তবে এখন আওয়ামী লীগ ও বিএনপির লোকজন একত্রে এই কাজটি করছে।

মনপুরা থানার ওসি আহসান কবির জানিয়েছেন, ‘অভিযোগ পেলে সরেজমিনে গিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বনিক বলেন, ‘বালু তোলার কাজটি যদি অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




বরগুনায় ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টায় ঝালমুড়ি বিক্রেতা গ্রেপ্তার

বরগুনায় এক পথশিশুকে ধর্ষণচেষ্টার পর হাসপাতালে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। ঘটনার সাত দিন পর শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মোসলেম (৬৫) নামে এক ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (১৫ মার্চ) রাত ২টার দিকে পৌরশহরের নয়াকাটা এলাকার ভাড়া বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত বৃদ্ধ মোসলেম সদর উপজেলার হেউলিবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা।

ভুক্তভোগী শিশুর নাম ফাহিমা (৮) (ছদ্মনাম)। বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের বৈকালীন বাজার এলাকার বাসিন্দা। শিশুটির বাবা ভিক্ষুক ও মা মানসিক প্রতিবন্ধী। তিনি শহরের বিভিন্ন জনবহুল স্থানে এবং বরগুনা সদর হাসপাতাল এলাকায় ভাসমান অবস্থায় থাকত।

জানা গেছে, অভিযুক্ত মোসলেম বরগুনা সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ঝালমুড়ি বিক্রি করতেন। গত ৭ মার্চ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের দক্ষিণ পাশের গেটের কাছে পথশিশু ফাহিমাকে চকোলেটের লোভ দেখিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করেন তিনি। এ সময় তার পাশবিক নির্যাতনের ফলে শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং তাকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লে খোঁজ করলে একপর্যায়ে হাসপাতালে দেখা যায়, শিশুটিকে কোনো রেজিস্ট্রারে ভর্তি করা হয়নি। পরে পঞ্চম তলার একটি ওয়ার্ডে তার সন্ধান মেলে।

শনিবার (১৫ মার্চ) রাত ২টার দিকে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে। এ সময় তার সঙ্গে তার ছোট বোনও ছিল। সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করে থানায় নিয়ে গেলে শিশুটি নিজেই অভিযুক্ত মোসলেমকে শনাক্ত করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোসলেম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে জানায় পুলিশ।

বরগুনা থানা ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান মো. আবদুল হালিম বলেন, খবর পেয়ে সারারাত অভিযান চালিয়ে আমরা নির্যাতিত শিশুটিকে উদ্ধার করি এবং তার দেওয়া বর্ণনা অনুযায়ী তিনজনকে আটক করি। এদের মধ্যে এক বৃদ্ধকে শিশুটি শনাক্ত করেছে এবং আমরা তাকে গ্রেপ্তার করেছি। তার বিরুদ্ধে মেয়ের বক্তব্য অনুযায়ী বৃদ্ধের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালের শিবির নেতাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার

বরিশালের গৌরনদী উপজেলা শাখার ছাত্রশিবিরের ‘সাথী’ এবং উপজেলা সেক্রেটারি মাইনুল ইসলাম পলাশকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ মার্চ) বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির বরিশাল জেলার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মাইনুল ইসলাম পলাশকে বহিষ্কার করার পেছনে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ছাত্রশিবিরের আদর্শ ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এর আগে, ১৩ মার্চ দিবাগত রাতে গৌরনদী উপজেলার নলচিড়ার ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে এক সৌদি প্রবাসীর বসতঘর থেকে তাকে এবং এক প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে অশোভন আচরণ করার অভিযোগে স্থানীয়রা হাতেনাতে আটক করেন।

শিবিরের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের আদর্শ, শৃঙ্খলা এবং ইসলামী নৈতিকতার বিরুদ্ধে কাজ করার অভিযোগে মাইনুল ইসলাম পলাশকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।’

ছাত্রশিবির আরো জানায়, ‘সংগঠনের পক্ষ থেকে সকল অভিযোগ যাচাই-বাছাই করার পর, মাইনুল ইসলামের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাই জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।’

শিবির আরও স্পষ্ট করে বলেছে যে, ‘ছাত্রশিবির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ছাত্রদের চরিত্র গঠন এবং নৈতিক উৎকর্ষতার প্রতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে এবং কখনোই কোনো নীতি-নৈতিকতা বিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রশ্রয় দেয় না।’

তারা সামাজিক মিডিয়ার মাধ্যমে জানায়, ‘এ বিষয়ে যা কিছু প্রচারিত হচ্ছে, তা সংগঠনের কোনো বক্তব্যের প্রতিফলন নয়। আমরা সবাইকে সত্যতা যাচাই করে মন্তব্য করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।’

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




বরিশালে সাড়ে ৩ লাখ শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর উদ্যোগ

বরিশালে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করা হয়েছে। এ বছরের কার্যক্রমে সিটি করপোরেশনসহ পুরো বরিশাল জেলা মিলিয়ে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৯০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

বরিশাল নগরের কাউনিয়া এলাকায় নগর মাতৃসদন কম্পাউন্ডে সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের সূচনা করা হয়।

এবারে, বরিশাল সিটি করপোরেশনসহ জেলার ১০ উপজেলায় মোট ৩০টি ওয়ার্ডে ৫৮ হাজার ৪৬০ শিশু এবং ১০টি উপজেলার ২৫৮টি ওয়ার্ডে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫৯০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বরিশাল জেলার ছয় থেকে ১১ মাস বয়সী ৩৪ হাজার ৩৪১ শিশুকে নীল রঙের এক লাখ ওট ক্ষমতা সম্পন্ন ভিটামিন ক্যাপসুল দেওয়া হবে, এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ লাখ ৭৬ হাজার ৭৮৯ শিশুকে লাল রঙের দুই লাখ ওট ক্ষমতা সম্পন্ন ভিটামিন ক্যাপসুল দেওয়া হবে।

এছাড়া, এই টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করবে ৪ হাজার ১৪৬ জন স্বেচ্ছাসেবক, যারা বরিশাল জেলার ২ হাজার ৭৩টি স্থায়ী-অস্থায়ী টিকাদান কেন্দ্রে সেবা প্রদান করবেন।

বরিশাল সিটি করপোরেশনও এর আওতায় ২২০টি কেন্দ্রের মাধ্যমে ৫৮ হাজার ৪৬০ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. খন্দকার মনজরুল ইসলাম শুভ্র জানান, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়ন করার লক্ষে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




গাজীপুরে ট্রাক-অটোরিকশার সংঘর্ষে নিহত ৩

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ট্রাক এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৫ মার্চ) সকালে কালিয়াকৈর উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের নামাশুলাই এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিয়াদ মাহমুদ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তা থেকে যাত্রী নিয়ে অটোরিকশাটি কালিয়াকৈরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথে নামাশুলাই এলাকায় পৌঁছালে কালিয়াকৈর থেকে আসা ইট ভর্তি ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশার চালক ওবায়দুল (৩৫), অজ্ঞাত এক নারী (৫৬) এবং অজ্ঞাত এক বৃদ্ধ (৭০) ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

এছাড়া, গুরুতর আহত এক ব্যক্তিকে উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তবে, ঘাতক ট্রাক চালক ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে।

মো: তুহিন হোসেন,
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম, 




 বরিশালের ৬৪৬টি ঝুঁকিপূর্ণ স্কুল শিক্ষার্থীদের জীবনের শঙ্কা

বরিশাল বিভাগের ৬৪৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল অবস্থা লক্ষাধিক শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। এসব বিদ্যালয়ের ছাদ, পিলার ও দেয়াল যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে, যা শিক্ষার্থীদের জীবন ও শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য মারাত্মক বিপদ হতে পারে।

বরিশাল নগরীর দিয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৪৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে এটি একটি পরিত্যক্ত ভবনে রূপ নিয়েছে। ক্লাস চলাকালীন শিক্ষার্থীরা বই-খাতার চেয়ে বেশি সময় কাটান ছাদের দিকে, কখন পলেস্তারা খসে পড়ে তার আশঙ্কায়। ২০১২ সালে তিনটি কক্ষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও এখনও সেগুলোতে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে, এবং ভবনটি যেকোনো সময় ধসে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।

বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক আফসানা মুন্নি বলেন, “আমরা যে কক্ষে ক্লাস করছি, সেটি ১২ বছর আগে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। একবার ক্লাস চলাকালীন সময়ে পিলার ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছিল, এমনকি সিলিং ফ্যানও পড়ে গিয়েছিল। এখনো যে কোনো মুহূর্তে পুরো ভবন ধসে পড়তে পারে। বারবার জানানো সত্ত্বেও কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা সম্ভব হয়নি।”

বরিশাল নগরীর সাগরদী রুপাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ফাউন্ডেশন ছাড়াই নির্মিত এই দোতলা ভবনটির অবস্থা ভয়াবহ। ইতোমধ্যে অন্তত ১০ জন শিক্ষকসহ বিভিন্ন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, কারণ ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছিল।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক আরিফুর রহমান বলেন, “আমাদের স্কুলে কোনো দপ্তরি নেই। ফলে আমাকে ঘণ্টা বাজাতে এসে স্কুলে থাকতে হয়। একদিন দেয়াল ধসে পড়ে, এবং আমি গুরুতর আহত হয়েছিলাম। পুরো স্কুলে ফাটল ধরেছে, যেকোনো সময় ভবনটি ধসে পড়তে পারে।”

অপর এক শিক্ষক ইলিয়াস রহমান বলেন, “ক্লাস চলাকালীন ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে, রড বের হয়ে আসে, এতে কয়েকজন শিশু আহত হয়েছে। আমরা বাধ্য হয়ে সেই কক্ষ পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছি। একের পর এক শ্রেণিকক্ষ অনুপযোগী হয়ে পড়ছে, শিক্ষার্থীদের জন্য জায়গার সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।”

বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক শাহানারা বেগম জানান, “আমরা শিক্ষার্থীদের চাপ সামলাতে গিয়ে কোনো ফাউন্ডেশন ছাড়াই দোতলা ভবন নির্মাণ করেছি। কিন্তু প্রতিনিয়ত ভীম ও দেয়াল খসে পড়ছে। নিরাপত্তার কারণে আমরা ভর্তি কমিয়ে দিয়েছি। বহুবার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি, কিন্তু এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”

স্কুলগুলোর ভয়াবহ অবস্থায় সবচেয়ে বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অভিভাবকরা। অভিভাবক ইসরাত জাহান ইভা বলেন, “স্কুলের পড়াশোনা ভালো, কিন্তু এই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বাচ্চাকে রেখে নিশ্চিন্তে থাকতে পারি না। স্কুলে পলেস্তারা খসে পড়ে, দেয়াল ফাটল ধরা, ক্লাসে পানি পড়ে—এসব আমাদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।”

অন্য এক অভিভাবক ফাতেমা আক্তার বলেন, “স্কুল ভবনের যা অবস্থা, তাতে প্রতিদিন টেনশন নিয়ে থাকি। যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।”

বরিশাল বিভাগের ৬টি জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬,২৪১টি। এর মধ্যে প্রায় ১০ শতাংশ স্কুল মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব স্কুলে প্রায় ১ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছে। বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে শিক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, বিষয়টি উচ্চ পর্যায়ে জানানো হয়েছে এবং বরাদ্দ পেলে সংস্কার ও পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা বরিশাল বিভাগের উপ-পরিচালক নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, “ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলো পরিদর্শন শেষে তালিকা তৈরি করা হয়েছে। অতি ঝুঁকিপূর্ণ স্কুলগুলোর ক্লাস পাশের কোনো ভবনে স্থানান্তর করতে বলা হয়েছে। জরুরি তহবিল থেকে সাময়িক সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করা হবে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 কক্সবাজারে রোহিঙ্গা সদস্যের মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টার শোক

কক্সবাজারের উখিয়া ক্যাম্পে ইফতারের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা এক রোহিঙ্গা সদস্য দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এই ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

শুক্রবার (১৪ মার্চ) রাতে, প্রধান উপদেষ্টা তাঁর প্রেস উইং থেকে এক শোকবার্তায় জানান, “আমরা অত্যন্ত দুঃখিত যে, আজ বিকেলে ইফতারের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের এক সদস্য দুর্ঘটনাবশত প্রাণ হারিয়েছেন।” এর সাথে, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসসহ হাজার হাজার রোহিঙ্গা ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এতে আরও জানানো হয়, কর্তৃপক্ষের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সত্ত্বেও দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, যা উপস্থিত সকলকে গভীরভাবে শোকাহত করেছে। নিহত ব্যক্তির পরিবার ও সহযাত্রীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।

নিহত রোহিঙ্গা সদস্য নেয়ামত উল্লাহ (৪৩) এর মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দ্রুত তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ক্যাম্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠান চলাকালে ৫ জন রোহিঙ্গা আহত হন, যার মধ্যে নেয়ামত উল্লাহকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যরা প্রাথমিক চিকিৎসার পর বাড়ি ফিরেছেন, এবং তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।

এদিকে, ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন এবং বাকিরা আশঙ্কামুক্ত।

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১৪ মার্চ) উখিয়া ক্যাম্পে এক লাখ রোহিঙ্গা উপস্থিত হয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব এবং প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ইফতার করেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জাতিসংঘ মহাসচিবের সঙ্গে দুপুরে বিএনপির বৈঠক

বাংলাদেশে সফররত জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে আজ শনিবার দুপুরে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল বৈঠক করবে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন।

বৈঠকটি ১৫ মার্চ, ২০২৫, শনিবার দুপুর ১টায় রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের অন্যান্য প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।

এর আগে, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ১৪ মার্চ, ২০২৫, বৃহস্পতিবার, বাংলাদেশ সফরের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আমন্ত্রণে চার দিনের সফরে বাংলাদেশে আসেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব শুক্রবার সকালে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করেন। এরপর তারা একই বিমানে কক্সবাজার রওনা দেন, যেখানে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেন।

এর আগে, গুতেরেস পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সাথে বৈঠক করেন এবং বাংলাদেশের চলমান সংস্কার প্রক্রিয়া এবং জাতিসংঘ-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রতি বাংলাদেশের উদারতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের দৃঢ় প্রতিশ্রুতির জন্য ধন্যবাদ জানান।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আজ ১৪ লাখ শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে

বরিশাল সিটি করপোরেশনসহ বিভাগের ৪২টি উপজেলায় ৫ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ১৪ লাখ ৬০ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এই কার্যক্রমটি রাতকানা এবং অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হিসেবে দেশব্যাপী ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে আয়োজিত হচ্ছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনসহ জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য দপ্তরগুলো এই ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। শুক্রবার, জুম্মার নামাজের খুতবার আগে প্রায় প্রতিটি মসজিদের খতিবরা বিষয়টি মুসুল্লীদের অবহিত করেছেন।

বিভাগীয় কমিশনার ও নগর প্রশাসক রায়হান কাওসার এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল বলেছেন, “শিশুদের রাতকানা রোগ প্রতিরোধ এবং শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিটামিন এ একটি অত্যাবশ্যকীয় স্বাস্থ্য উপকরন। তবে মানবদেহে কখনো ভিটামিন এ তৈরি হয় না, তাই ইউনিসেফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থার সহায়তায় প্রতিবছর দুবার ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়ে থাকে।”

বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী সাড়ে ৮ হাজার এবং ১০ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৪৯ হাজার ৫শ শিশুকে নগরীর ২০০টি কেন্দ্রে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এ ছাড়া ৪২টি উপজেলায় ৫ মাস থেকে ৯ মাস বয়সী ১ লাখ ৪৩ হাজার শিশুকে এবং ১০ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ১১ লাখ ১৮ হাজার শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

প্রায় ১৮ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক ৯ হাজার কেন্দ্রে এসব ক্যাপসুল খাওয়ানোর দায়িত্ব পালন করবেন। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত টিকা খাওয়ানো হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম