প্রাথমিক শিক্ষায় মানোন্নয়নে দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে : থমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে দ্রুত সময়ে শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। শনিবার (১৫ মার্চ) পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি ও পদায়ন স্বচ্ছতার মধ্যে আনতে কাজ করছে। বদলির প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে অনলাইনে আনা হয়েছে, যা শিক্ষকদের জন্য সুবিধাজনক হবে। পাশাপাশি, সরকারেরও পরিপূর্ণ ধারণা থাকবে যে, কোন জেলায় বা উপজেলায় কত জনবল নিয়োজিত আছে।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সকল কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য শিশুদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা। শিক্ষকরা শিক্ষা দেবেন, শিক্ষার্থীরা শিক্ষাগ্রহণ করবে—আমাদের প্রধান কাজ তাদের সহায়তা করা। শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষার পাশাপাশি ইংরেজিতে দক্ষতা অর্জন ও গণিতে পারদর্শী হতে সহায়তা করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোল্লা বখতিয়ার উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মিজানুল হক, জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক নিলুফা ইয়াসমিন এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের অব্যাহত সমর্থন, গুতেরেসের আশ্বাস

রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে জাতিসংঘের অব্যাহত সমর্থন দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। আজ সকালে রাজধানীর গুলশানে জাতিসংঘের নতুন ভবনে এক অনুষ্ঠানে তিনি এই আশ্বাস দেন।

গুতেরেস বলেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশের প্রতি তার সমর্থন অব্যাহত রাখবে, বিশেষত রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা মোকাবেলায়। তিনি বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের অবদানও স্মরণ করেন, যাদের আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

এ সময়, তিনি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সংস্কার উদ্যোগের বিষয়েও আলোচনা করেন। গুতেরেস আরও জানান, জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের ৫০তম বার্ষিকী উপলক্ষে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, যেখানে তিনি অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠকের পর গুতেরেস গুলশানে জাতিসংঘের নতুন ভবন পরিদর্শন করেন এবং ‘ইউএন হাউস ইন বাংলাদেশ’ এর উদ্বোধন করেন। এই অনুষ্ঠানে শিল্প, গৃহায়ন ও গণপূর্ত বিষয়ক উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী গুয়েন লুইস উপস্থিত ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় তরমুজের অভাবনীয় ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

এ বছর ভোলায় তরমুজের রেকর্ড ফলন হয়েছে, যা কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। জেলায় তরমুজের প্রচুর উৎপাদন, স্থানীয় চাহিদা পূরণ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে। বিশেষ করে রোজার মাসে তরমুজের চাহিদা বাড়ায় কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন।

ভোলার কৃষকরা জানান, এবছর আগাম চাষের ফলে তরমুজ বাজারে দ্রুত পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে, যা খুশি এনে দিয়েছে। তবে কৃষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন।

জেলার মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও সাগরের মধ্যবর্তী অবস্থানে ভোলা একটি কৃষি প্রধান জেলা। এখানকার কৃষকরা প্রতিবছর তরমুজ চাষ করেন, যা স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ হয়ে থাকে। তবে, এবছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় অধিকাংশ কৃষক ভালো ফলন পেয়েছেন।

সদর উপজেলার বাঘমারা চর এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, তিনি এবার ১৮ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন এবং তার খরচ হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে তিনি তার মূল পুঁজি ফিরে পেয়েছেন এবং ভালো লাভের আশা করছেন।

অপরদিকে, চরফ্যাশন উপজেলার কৃষকরা আরও বেশি ফলন পেয়েছেন। এখানকার কৃষক আবু তাহের জানান, ৪ একর জমিতে তরমুজ চাষ করে তিনি বর্তমানে লাভের মুখ দেখছেন।

এদিকে, ভোক্তারা খুশি যে রোজায় তরমুজ সহজে পাওয়ায়, বিশেষ করে ইফতারিতে তরমুজের শরবত খেতে তারা আগ্রহী। তবে কিছু দুষ্কৃতকারী কৃষকদের সঙ্গে চাঁদাবাজি করছে, বিষয়টি প্রতিরোধের জন্য তারা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. শামিম আহমেদ বলেন, “এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে, কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।” তিনি জানান, এবছর ভোলায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষের টার্গেট ছিল, যার মধ্যে ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ উৎপাদিত হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“মৌলিক সংস্কারের ভিত্তি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই করতে হবে: নাহিদ ইসলাম”

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন, মৌলিক সংস্কারের ভিত্তি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই তৈরি করতে হবে এবং এজন্য সকল রাজনৈতিক দলগুলিকে একটি ঐকমত্যে পৌঁছাতে হবে। তিনি বলেন, “জুলাই সনদে স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।”

শনিবার (১৫ মার্চ) রাজধানীর শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে গোল টেবিল বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমাদের সংস্কারের যে কমিটমেন্ট রয়েছে, সেটা বাস্তবায়নের জন্য জুলাই সনদের দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি।” তিনি আরও বলেন, “৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশের গণতন্ত্র যে সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।”

সংবিধান সংস্কারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণপরিষদের মাধ্যমে সংস্কার করতে হবে, অন্যথায় সংসদের সংবিধান সংস্কার টেকসই হবে না। আমরা আমাদের দলীয় অবস্থান সংক্ষেপে উপস্থাপন করেছি।”

জাতিসংঘ মহাসচিবের মন্তব্য তুলে ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, “তিনি বলেছিলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যেন নিজেদের মধ্যে সমঝোতা তৈরি করে এবং গণতন্ত্রের মূল ভাবনা মাথায় রেখে একসঙ্গে কাজ করতে পারে।”

এনসিপি আহ্বায়ক আরও বলেন, “আমরা নির্বাচনকে সংস্কারের একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছি, এবং কোন ধরনের সংস্কার ছাড়াই নির্বাচন কার্যকরী হবে না। যদিও কিছু রাজনৈতিক দলের মধ্যে এই বিষয়ে মত পার্থক্য রয়েছে, তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে এসব পার্থক্য সমাধান হবে।”

বিচারের বিষয়ে জাতিসংঘের সহযোগিতা চাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা বিচার ও সংস্কার বিষয়ে জাতিসংঘের সার্বিক সহযোগিতা চেয়েছি এবং তারা আশ্বাস দিয়েছেন যে, যদি আমরা নিজেদের মধ্যে ঐক্যমতে আসতে পারি, তবে তারা সহায়তা প্রদান করবেন।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“সংস্কারের অভাবে পর্যটক হারাচ্ছে বরগুনার হরিণঘাটা”

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি হরিণঘাটা পর্যটনকেন্দ্রে এখন পর্যটকদের আগমন কমে গেছে। সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জনপ্রিয় এই পর্যটন কেন্দ্রের অবস্থান ক্রমেই অবনতি ঘটছে।

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার হরিণঘাটা, যা সুন্দরবনের চেয়ে বড় প্রজাতির মায়াবি চিত্রা হরিণের জন্য পরিচিত, সাগরের বিশাল জলরাশি, বন্যপ্রাণী এবং নৈসর্গিক দৃশ্যের জন্য এক সময় অত্যন্ত জনপ্রিয় ছিল। এখানকার সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের দৃশ্য পর্যটকদের মুগ্ধ করত। তবে বর্তমানে, বন বিভাগের অভ্যন্তরীণ সংস্কারের অভাব ও রক্ষণাবেক্ষণহীনতার কারণে পর্যটক সংখ্যা কমে যাচ্ছে।

১৯৬৭ সালে বন বিভাগ হরিণঘাটার বনের সম্প্রসারণ শুরু করেছিল এবং পরবর্তী সময়ে সেখানে সুন্দরী ও ঝাউবনের বিস্তার ঘটে। ২০১৫ সালে হরিণঘাটাকে ইকো-ট্যুরিজম স্পট হিসেবে গড়ে তোলার পর, পর্যটকদের সুবিধার্থে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হয়েছিল, যেমন ফুট ট্রেইল, বিশ্রামাগার এবং ওয়াচ টাওয়ার। তবে, এক বছরের মধ্যে এই স্থাপনাগুলোর অবস্থা খুব খারাপ হয়ে গেছে এবং এটি পর্যটকদের সংখ্যা কমিয়ে দিয়েছে।

সৈকতের পাথর ও রেলিং ভেঙে গেছে, সেতুর অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এখানকার হোটেল এবং রেস্তোরাঁগুলোতে কর্মচারীরা অলস সময় পার করছেন, কারণ পর্যটকরা কম আসছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “এখানে আসার রাস্তাঘাট খারাপ, আর সেতু ও ফুট ট্রেইল ভাঙাচোরা।”

হরিণঘাটায় বেড়াতে আসা পর্যটকরা জানান, এখানে সৌন্দর্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় হলেও অবকাঠামোগত দুরবস্থার কারণে তারা এই স্থানটি পরবর্তীতে এড়িয়ে যাচ্ছেন।

এ বিষয়ে স্থানীয় বন বিভাগের বিট কর্মকর্তা আব্দুল হাই জানান, “ঘূর্ণিঝড় রেমালের পর থেকে অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবে শিগগিরই সমস্যাগুলোর সমাধান করা হবে।”

বরগুনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম আশ্বাস দেন যে, “হরিণঘাটার অবকাঠামোগত উন্নয়নে একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, এবং আমরা আশা করছি, এর মাধ্যমে এই কেন্দ্রটি আরও আকর্ষণীয় হবে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঢাকায় জাতিসংঘের নতুন আবাসিক কার্যালয়ের উদ্বোধন করলেন মহাসচিব গুতেরেস

ঢাকায় জাতিসংঘের নতুন আবাসিক কার্যালয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন সফররত জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। শনিবার (১৬ মার্চ) তিনি অফিস প্রাঙ্গণ পরিদর্শন করেন এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ লাভের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোকচিত্রী প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।

জাতিসংঘের নতুন অফিস উদ্বোধনের সময় মহাসচিব গুতেরেস জাতিসংঘের পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় জাতিসংঘের বাংলাদেশ কান্ট্রি টিমের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনের আগে জাতিসংঘ মহাসচিব কার্যালয়ে কর্মরতদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিবের এ সফর বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে, কারণ এটি জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ অর্জনের ৫০ বছর পূর্তির সাথে সম্পর্কিত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




“জাতিসংঘের গোলটেবিল বৈঠক নিয়ে বিএনপি মহাসচিবের মন্তব্য”

শনিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাথে অনুষ্ঠিত গোলটেবিল বৈঠক নিয়ে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, “জাতিসংঘ মহাসচিব এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এটি আমাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়। আসলে এই গোলটেবিল বৈঠকটা আমি সঠিকভাবে বুঝতে পারিনি।”

এছাড়া, তিনি জানান যে, জাতিসংঘ মহাসচিবের কাছে দেশের রাজনৈতিক সংস্কার নিয়ে যা আলোচনা হয়েছে, তা জানিয়ে দেয়া হয়েছে। আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এ বিষয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবকে অবহিত করেছেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, “সংস্কার অবশ্যই করতে হবে, তবে তা যত দ্রুত সম্ভব করতে হবে। আমরা যেটা বলেছি, মূলত নির্বাচন-centrik সংস্কারগুলো করে ফেলা এবং দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার জন্য। পরবর্তীতে সংসদ মাধ্যমে অন্যান্য সংস্কার কার্যক্রম চালানো হবে। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া, এবং আমরা এটাতেই বিশ্বাসী।”

এ বিষয়ে টাইম ফ্রেম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, “আমাদের কোনো টাইম ফ্রেম নির্ধারণের প্রয়োজন নেই। এটি আমাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়, এবং আমরা সংস্কার কমিশনগুলোর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছি। তারা যা চাচ্ছে আমরা তা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রদান করছি। ইতোমধ্যে তাদের সঙ্গে আমাদের একটি বৈঠকও হয়েছে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাংলাদেশে দ্রুততম লাইসেন্সিং পেতে পারে স্টারলিংক : গ্রিফিথস

স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক বাংলাদেশে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করতে পারে, এমনটি জানিয়েছেন স্পেসএক্স এবং কাতারের রাজপরিবারের গ্লোবাল এনগেজমেন্ট অ্যাডভাইজার রিচার্ড এইচ গ্রিফিথস।

শুক্রবার, ১৪ মার্চ, বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “স্টারলিংক বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরুর জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হতে পারে, যা বিশ্বের দ্রুততম লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া হতে পারে।”

সম্প্রতি নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে স্টারলিংক নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। অধ্যাপক ইউনূস স্টারলিংকের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন এবং এর লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে একটি বিশেষ দল গঠন করেছেন।

স্টারলিংক মূলত বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, স্কুল এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলের ইন্টারনেট সংযোগ উন্নয়নে কাজ করবে। রোহিঙ্গা শিবিরের মতো মানবিক সংকটপূর্ণ এলাকায়ও ইন্টারনেট সেবা প্রদান করা হতে পারে।

গ্রিফিথস বলেন, “স্টারলিংক প্রতিটি দেশের জন্য আলাদা মূল্য নির্ধারণ করবে, যা বাংলাদেশেও প্রযোজ্য হবে। তবে, সরকার যেন অতিরিক্ত ফি ধার্য না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এছাড়া, গ্রাহকদের জন্য টার্মিনাল ভাড়ার মডেল চালুর সম্ভাবনাও রয়েছে।”

বাংলাদেশে স্টারলিংকের নিবন্ধনের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি জানান, “প্রথম ধাপ হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছা। একবার এটি থাকলে বাকিটা সহজেই হয়ে যায়। বাংলাদেশের সরকার কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে না বরং তারা সহায়ক ভূমিকা পালন করছে, যা থেকে বোঝা যায় যে এটি দ্রুত সম্পন্ন হবে।”

স্টারলিংক তথ্য নিরাপত্তা বিষয়েও বলেছে, “বর্তমানে বিশ্বের ১১৪টি দেশে নিরাপদে পরিচালিত হচ্ছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”

এদিকে, মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদী গ্রিফিথস। তিনি বলেন, “স্টারলিংকের আগমনের ফলে অন্যান্য মার্কিন কোম্পানির আগ্রহও বৃদ্ধি পাচ্ছে, বিশেষ করে নতুন সরকারের আগমনের পর পরিস্থিতি আরও ইতিবাচক হয়েছে।”

ইলন মাস্কের বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে তিনি বলেন, “এটি একটি সম্ভাবনা, তবে সময়সূচির ওপর নির্ভর করছে। যদি স্টারলিংক বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে, মাস্ক সরেজমিনে দেখতে আগ্রহী হবেন। অধ্যাপক ইউনূসের আমন্ত্রণে মাস্ক আগ্রহ দেখিয়েছেন, এবং একসঙ্গে তাদের উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।”

বাংলাদেশে স্টারলিংকের সফল কার্যক্রম কেবল ইন্টারনেট সংযোগই উন্নত করবে না, বরং দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক সংযোগ বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শরীয়াহ ব্যাংকিং দারিদ্র্য দূরীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে: ধর্ম উপদেষ্টা

ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, “ইসলামী ব্যাংকিং যাকাত, সাদাকা এবং ওয়াকফের মতো ব্যবস্থার মাধ্যমে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে কাজ করে। এটি দারিদ্র্য দূরীকরণ ও আয় বৈষম্য কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।”

শনিবার, ১৫ মার্চ, রাজধানীর বাড্ডায় ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে “ইনস্টিটিউট অফ ইসলামিক ব্যাংকিং, ফিন্যান্স এন্ড ইকোনমিক্স” উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, “বর্তমানে ইসলামী ব্যাংকিং শুধু মুসলিম দেশেই নয়, বরং যুক্তরাজ্য, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মালয়েশিয়া, এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও এটি একটি নির্ভরযোগ্য ও লাভজনক ব্যাংকিং ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত।” তিনি উল্লেখ করেন যে, সারা বিশ্বে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ১.৮ ট্রিলিয়ন ডলার পরিচালিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. আবুল কাশেম মিয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক। অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন প্রফেসর ড. গিয়াস উদ্দীন তালুকদার এবং সেন্ট্রোল শরীয়াহ বোর্ড ফেলোস ফোরামের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ শরীফ।

ড. খালিদ হোসেন ইসলামিক ফিন্যান্সের ন্যায্যতা এবং নৈতিকতা সম্পর্কে বলেন, “ইসলামিক ফিন্যান্স একটি ন্যায়সঙ্গত এবং স্বচ্ছ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, যা সুদের পরিবর্তে লাভ-ক্ষতির ভিত্তিতে লেনদেন করে। এটি শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, বরং যে কেউ ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অংশ হতে পারে।”

অনুষ্ঠানে ধর্ম উপদেষ্টা ইনিস্টিটিউট অফ ফিন্যান্স, ব্যাংকিং এন্ড ইকোনমিক্স ভবনের ফলক উন্মোচন করেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আছিয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ আজ লজ্জিত: জামায়াত আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আছিয়ার মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের কারণে আজ বাংলাদেশ লজ্জিত। অপসংস্কৃতির প্রভাবে এমন ঘৃণিত ঘটনা ঘটেছে। যদি ইসলামী শাসন ব্যবস্থা থাকতো, তাহলে এই ধরনের ঘটনার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা যেত।”

শনিবার, ১৫ মার্চ, শ্রীপুর উপজেলার সোনাইকুন্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে শিশু আছিয়ার উপর নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় এক দোয়া ও মাগফিরাত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এমবি বাকেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন ডাক্তার শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, “৯০ দিনের মধ্যে এই ঘটনায় বিচার কার্য সমাধান করতে হবে এবং রায় কার্যকর করতে হবে। এর পাশাপাশি, এই ধরনের নরপশুদের সামাজিকভাবে বয়কট করা উচিত।”

অনুষ্ঠানের পরে, ড. শফিকুর রহমান আছিয়ার বাড়িতে গিয়ে তার মায়ের সাথে দেখা করার চেষ্টা করেন, কিন্তু তাকে জানানো হয় যে আছিয়ার মা শারীরিক অসুস্থতার কারণে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তিনি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে কথা বলে সেখান থেকে চলে আসেন।

এর আগে, তিনি মাগুরার শ্রীপুরের সোনাইকুন্ডি জামিয়া উমর বিন খাত্তাব (রা) কবরস্থানে গিয়ে আছিয়ার কবর জিয়ারত করেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম