“আগামীর বাংলাদেশ হবে শান্তি ও সম্প্রীতির”: আবদুস সোবাহান

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সোবাহান বলেছেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে শান্তি ও সম্প্রীতির এক উন্নত এবং সমৃদ্ধশালী দেশ। এমন একটি স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, যিনি তার নেতৃত্বে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তরিত করবেন। এজন্য তার হাতকে শক্তিশালী করতে সব নেতা-কর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

রবিবার (১৬ মার্চ) বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চাঁদশী ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক ইফতার মাহফিলের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, দেশের মধ্যে এখনো গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ধর্মের দোহাই দিয়ে একটি রাজনৈতিক দল দলের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে তিনি দলের নেতাকর্মী এবং সমর্থকদের প্রতি দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন, “বক্তব্যের চেয়ে দল ও দেশের প্রতি ভালোবাসা থাকতে হবে।”

এছাড়া তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “যারা দলের চেয়ারপার্সনের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ওয়ান ইলেভেনের মতো ষড়যন্ত্র করবে, তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ইফতার মাহফিলটি গৌরনদী উপজেলা বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট এইচএম নজরুল ইসলামের পরিচালনায় এবং সমাজ সেবক গাজী আব্দুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল আউয়াল লোকমান, গৌরনদী পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শাহে আলম ফকির, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত তোতা, তাইফুর রহমান কচি, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আব্দুল মালেক আকন এবং অন্যান্য নেতারা।

ইফতার পূর্ববর্তী সময়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত কামনা, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্বাধীনতা দিবসে কুচকাওয়াজ না হওয়ার ঘোষণা দিলেন স্বরাষ্ট্র সচিব

এ বছরেও ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবসে কুচকাওয়াজ আয়োজন করা হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি। তিনি বলেছেন, “আমরা আনন্দ করার মেজাজে নেই, তাই গত বিজয় দিবসের মতো এবারও স্বাধীনতা দিবসে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে না।”

রোববার (১৬ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে পবিত্র ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

নাসিমুল গনি আরও বলেন, “গত ১৬ ডিসেম্বরেও কুচকাওয়াজ হয়নি, এবারও হচ্ছে না। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, আমরা এখন ‘ওয়ার মুডে’ আছি, আনন্দ করার মেজাজে নেই।”

স্বাধীনতা দিবসের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি বা হুমকি নেই বলে জানান স্বরাষ্ট্র সচিব। তিনি বলেন, “বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি আমরা দেখছি না।”

সভায় ঈদ, স্বাধীনতা দিবস এবং রমজান মাসের ছুটির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ঈদযাত্রা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই রোধ এবং শপিং মলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া, শ্রমিকদের বেতন ও ভাতা নির্ধারিত সময়ে পরিশোধের বিষয়ে বিকেএমইএ প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে।

ঈদের সময় ঢাকা শহরের ফাঁকা হওয়া নিয়ে স্বরাষ্ট্র সচিব জানান, “চুরি-ডাকাতি ঠেকাতে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, পুলিশের কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। এখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




স্ত্রীসহ সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও কুষ্টিয়া-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনু এবং তার স্ত্রী আফরোজা হকের বিরুদ্ধে ৬ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং প্রায় ১২ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুটি মামলা দায়ের করেছে।

রোববার (১৬ মার্চ) দুদক থেকে এ তথ্য জানা যায়।

প্রথম মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে ৪ কোটি ৮৪ লাখ ২৫ হাজার ৫০৭ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং ৪টি ব্যাংক হিসাবে মোট ১১ কোটি ৮৮ লাখ ১৬ হাজার ১৯ টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

দ্বিতীয় মামলায়, তার স্ত্রী আফরোজা হক এবং তার স্বামী হাসানুল হক ইনুর সহায়তায় ১ কোটি ৪৯ লাখ ৮৫ হাজার ৭৪ টাকার সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। আসামিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা, তৎসহ মানিলন্ডারিং আইন ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর বাংলাদেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে: প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমানে ভালো রয়েছে এবং এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী সময়ে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।

রোববার (১৬ মার্চ) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল আলম এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর শুল্ক সুবিধা না থাকায় সিপিডির এক বক্তব্যের প্রতি দ্বিমত পোষণ করেন। সিপিডি দাবি করেছিল যে, এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রফতানি খাতে বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হতে পারে। তবে প্রেস সচিব এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন।

সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এবং সিনিয়র সহকারী প্রেস সেক্রেটারি ফয়েজ আহম্মদ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, শনিবার রাজধানীর এফডিসিতে এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের চ্যালেঞ্জ নিয়ে আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জানান, বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর শুল্ক সুবিধা না থাকার কারণে রফতানি খাতে ৮ বিলিয়ন ডলার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন। তিনি আরও বলেন, জলবায়ু অর্থায়ন ক্ষেত্রেও উন্নয়ন সহযোগিতা কমে যেতে পারে।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা করবে ইইউ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী নির্বাচন পরিচালনাকে সমর্থন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইইউ বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় সহায়তা প্রদান করবে এবং দেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচনে অংশ নিতে তাদের সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।

রোববার, ১৬ মার্চ, রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে বেলা ১১টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠক করেন মাইকেল মিলার। বৈঠকে তিনি তার নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন।

রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, “এটি আমাদের দ্বিতীয় সভা। আলোচনায় আমরা জানতে পারি, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কীভাবে আগামী নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “এবার আমরা বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে তিনটি মূল বার্তা প্রদান করেছি।”

প্রথমত, তিনি জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশে একটি দৃঢ় অংশীদার হিসেবে থাকবে। বিশেষ করে, গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সময়ে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা প্রদান করবে। দ্বিতীয়ত, ইইউ বাংলাদেশে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে চায়, এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করতে প্রস্তুত রয়েছে। এর মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গত বছর জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

তৃতীয়ত, মাইকেল মিলার জানান, ইইউ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বাংলাদেশের নির্বাচন পরিচালনায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে এবং এজন্য আর্থিক সহায়তা ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করবে।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




চার বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা গণপিটুনিতে অভিযুক্ত যুবকের মৃত্যু

বরিশালে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে গণপিটুনিতে সুজন নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৫ মার্চ) সন্ধ্যায় বরিশাল নগরীর ধান গবেষণা রোড এলাকার জিয়ানগরে এই ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর পিটুনিতে গুরুতর আহত সুজনকে পুলিশ উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মার্চ দুপুরে সুজন তার প্রতিবেশীর চার বছরের শিশুকন্যাকে নিজ বাসায় ডেকে নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। শিশুটি চিৎকার শুরু করলে আতঙ্কিত হয়ে সে শিশুটিকে বাসায় পাঠিয়ে দেয়। বাসায় ফিরে শিশুটি তার মায়ের কাছে ঘটনা জানায়। এরপর শিশুর মা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
শনিবার ( ১৫ মার্চ) দুপুরে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্ত সুজনকে ধরে ফেলে। উত্তেজিত জনতা তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে পিটুনি দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় সুজনকে উদ্ধার করে। পরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান জানান,নিহতের পরিবার অভিযোগ দিলে হত্যা মামলা হবে, অন্যথায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে লাশের ময়নাতদন্ত করা হবে।



“আমাদের টার্গেট প্রতিটি স্কুল চলবে ওয়ান শিফটে : গণশিক্ষা উপদেষ্টা”

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, “আমাদের লক্ষ্য শিক্ষার মান উন্নয়ন করা। তবে অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও আমরা কাজ করবো, তবে প্রধান লক্ষ্য শিক্ষার মান উন্নয়ন।” তিনি আরও জানান, ।

আজ রবিবার (১৬ মার্চ) সকালে বরিশাল নগরীর পিটিআই অডিটোরিয়ামে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বরিশালের স্টেক হোল্ডারদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

এ সময় উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার জানান, “যেসব বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত চালু রয়েছে, তাদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। সেগুলোর বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে।” তিনি উল্লেখ করেন, “আগামী বছর থেকে হয়তো আর ভর্তি নেয়া হবে না, আর যারা আছেন তারা ধীরে ধীরে বের হয়ে যাবে।”

তিনি আরও বলেন, “পিটিআইতে যেসব সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তা দিয়েই আমরা শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করতে পারবো। যদিও অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ রয়েছে, তবে নানা কারণে কাঙ্ক্ষিত নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হচ্ছে না। এ কারণে উন্নয়নকাজে মনোযোগ দিতে হবে এবং প্রশাসনের সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি, যখন স্কুল খোলা থাকে তখন যেন শিক্ষকদের অন্য কাজে কম নিয়োগ করা হয়।”

বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আবু নুর মো. শামসুজ্জামান, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের পরিচালক মোহাম্মদ কামরুল হাসান, বরিশাল প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালক নিলুফা ইয়াসমিনসহ বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা।

দুপুরে বরিশাল মহানগরীতে ৩০০ প্রধান শিক্ষক ও প্রাথমিক শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়নে করণীয় বিষয়ে মতবিনিময় করেন উপদেষ্টা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাজেটে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকায় উন্নীত করার সুপারিশ

উচ্চ মূল্যস্ফীতির প্রেক্ষাপটে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আগামী অর্থবছরের বাজেটে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। বর্তমানে এক ব্যক্তি করদাতার জন্য আয়সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা নির্ধারিত রয়েছে, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫০ হাজার টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে সিপিডি।

রোববার (১৬ মার্চ) সিপিডি তাদের কার্যালয়ে আগামী বছরের বাজেটের সুপারিশ তুলে ধরে। তারা বলেছে, যদি সরকার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করে, তবে তা বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়াবে, যা সাধারণ মানুষকে আরও বেশি কষ্টে ফেলবে। তাই, সাধারণ মানুষের জন্য করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর মাধ্যমে কিছুটা স্বস্তি প্রদান করা যেতে পারে।

বর্তমানে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ৫%, ১০%, ১৫%, ২০%, এবং ২৫% হারে কর নির্ধারিত রয়েছে। প্রথম সাড়ে তিন লাখ টাকার ওপর কোনো কর নেই, এরপর এক লাখ টাকার জন্য ৫%, ৪ লাখ টাকার জন্য ১০%, ৫ লাখ টাকার জন্য ১৫%, ৫ লাখ টাকার জন্য ২০% এবং বাকি অর্থের ওপর ২৫% হারে কর আরোপ করা হয়।

এছাড়া, সিপিডি তাদের প্রতিবেদনে ভ্যাট ফাঁকি কমানোর জন্য ভ্যাটের হার ১৫% থেকে কমিয়ে ১০% করার সুপারিশ করেছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ হবে ৭ কলেজের নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম

রাজধানীর সরকারি সাত কলেজ নিয়ে গঠিত নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম চূড়ান্ত হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামে পরিচিত হবে।

রোববার (১৬ মার্চ) ইউজিসিতে অনুষ্ঠিত একটি সভায় শিক্ষার্থীদের ৩২ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণ করে এবং এই নামের ওপর সম্মত হন।

নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুটি মতামত উঠে আসে। ১৭ জন শিক্ষার্থী ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামটির পক্ষে মত দেন, তবে অন্য শিক্ষার্থীরা ‘ফেডারেল ইউনিভার্সিটি’ নাম চেয়েছিলেন। তারা উল্লেখ করেন, ঢাকা কলেজের পূর্ব নাম ছিল ঢাকা সেন্ট্রাল কলেজ, তাই ফেডারেল ইউনিভার্সিটি নামটি পছন্দ করেন তারা। তবে ইউজিসি পরবর্তীতে তাদের আলোচনার পর সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য পরামর্শ দেয় এবং অবশেষে সবাই একমত হয়ে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ নামের পক্ষে মত দেন।

এই সিদ্ধান্তের পর ইউজিসি কর্তৃপক্ষ ১৩ মার্চ সাত কলেজের নামকরণ সংক্রান্ত বিষয়ে ছাত্র প্রতিনিধিদের মতবিনিময় সভার আয়োজন করে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম চূড়ান্ত করা হয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“উচ্চমূল্যস্ফীতির চাপে মানুষের অবস্থা শোচনীয়: সঞ্চয় ভেঙে চলছে জীবন”

উচ্চমূল্যস্ফীতির চাপে দিশাহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সঞ্চয়পত্র ভেঙে কিংবা শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করা শেয়ার লোকসানে বিক্রি করে, সংসার চালাচ্ছে অনেকে। গত কয়েক বছর ধরে অবস্থা এমনই চলছিল, তবে সম্প্রতি পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে উঠেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, “মুষ্টিমেয় মানুষের হাতে বিপুল অর্থ রয়েছে, কিন্তু বৃহত্তর জনগণ দিন দিন নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছে। একদিকে উন্নতি হলেও অন্যদিকে বৈষম্য বাড়ছে, যা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে।”

অর্থনীতি পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে সরকার সফল হতে পারেনি। বিশেষ করে, চাল, ডাল, পেঁয়াজ, চিনি, ভোজ্যতেলসহ বেশিরভাগ ভোগ্যপণ্যের দাম আকাশছোঁয়া হয়ে গেছে। যদিও বাজারে পর্যাপ্ত চালের সরবরাহ রয়েছে, তবুও দাম বাড়ছে। গত আড়াই বছর ধরে দেশে উচ্চমূল্যস্ফীতি দেখা যাচ্ছে, যা স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য আরও বেশি কষ্টকর হয়ে উঠেছে। তবে, আশার কিছু সংকেত দেখা যাচ্ছে, কারণ সম্প্রতি মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমতে শুরু করেছে।

জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সার্বিক মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ এবং খাদ্যমূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২৪ শতাংশে নেমে এসেছে।

সরকার কিছুটা সাহায্য দিতে চাল, ভোজ্যতেলসহ নিত্যপণ্যের শুল্ক কমিয়েছে, তবে সেসব সুবিধা মধ্যস্বত্বভোগীদের পকেটে চলে গেছে। এছাড়া, রোজার আগে পণ্যগুলোর পর্যাপ্ত আমদানি করা হলেও বাজারের পরিস্থিতি আগের মতোই অব্যাহত রয়েছে।

এনবিআরের সাবেক সদস্য ফরিদ উদ্দিন বলেন, “অতীত অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, শুল্ক-কর কমিয়ে বাজার স্থিতিশীল করা যায়নি। বরং রাজস্ব ক্ষতির মুখে পড়েছে সরকার।” বাজারের তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার করার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে, ব্যাংক বা সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারী অনেকেই এখন তাদের সঞ্চয় ভেঙে সংসার চালাচ্ছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত তিন মাসে গ্রাহকরা ২৫ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র ভেঙেছেন। এছাড়া, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথমার্ধে সঞ্চয়পত্র কেনার হার ২৭ শতাংশ কমে গেছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উচ্চমূল্যস্ফীতির কারণে ব্যয় বেড়েছে, কিন্তু আয় বৃদ্ধি পায়নি। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে তাদের সঞ্চয় ভেঙে ফেলছেন। বিশেষ করে মধ্যবিত্তদের জন্য দীর্ঘ সময় ধরে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তাফা কে মুজেরি বলেন, “এখন অনেকেরই আয় নেই, কিন্তু ব্যয় বেড়েছে। তাই তারা সঞ্চয় ভেঙে জীবিকা নির্বাহ করছেন।”

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য বিনিয়োগ বাড়াতে হবে এবং মূল্যস্ফীতি কমিয়ে অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে হবে।”

কিন্তু, একদিকে যতই ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে আয় কমছে। সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমে যাওয়ার পেছনে এটিই অন্যতম প্রধান কারণ। এখন মানুষকে সুদিনের আশায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে, তবে এই পরিস্থিতি কতদিন থাকবে তা সময়ই বলে দেবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম