বরিশালে সরিষার বাম্পার ফলনে মৌচাষিদের মুখে হাসি

বরিশালে সরিষার ফলন এই বছর আশাতীত ভাবে ভালো হওয়ায়, সেখানে মৌচাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। সরিষার ক্ষেতের পাশে মৌচাষের ফলে মধু উৎপাদনে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। কৃষকদের মতে, এই বছরে মধু উৎপাদন গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি।

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলা ঘুরে প্রায় প্রতিটি ফসলের মাঠেই এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। এ অঞ্চলের চাষিরা মধু সংগ্রহের জন্য খাঁচা পদ্ধতি ব্যবহার করছেন, যা তাদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করছে। কৃষি বিভাগের মতে, সরিষা ক্ষেতের পাশের মধু চাষের ফলে পরাগায়ন ঘটে, যার ফলে সরিষার ফলন ২৫ শতাংশ বেড়ে যায়।

বাবুগঞ্জ উপজেলার রাকুদিয়া গ্রামে সরিষার বাম্পার ফলন লাভের কারণে গত দুই বছর ধরে বাণিজ্যিকভাবে মধু চাষ করছেন এক খামারি। টাঙ্গাইল থেকে এসে এই অঞ্চলে মধু চাষ শুরু করেছেন তিনি। মধু চাষি মো. মুন্না খান জানান, “১০৫টি বাক্সে ৮০০টিরও বেশি চাক বসিয়েছি। এক মাসে ১৫ মণ মধু সংগ্রহ করেছি, আর এখনও ৫ মণ মধু সংগ্রহের আশা করছি।”

আরেক চাষি আয়নাল হক বলেন, “এ বছর গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি মধু পাওয়া যাবে।”

মধু কিনতে আসা ক্রেতারা বলছেন, সরাসরি মৌচাক থেকে মধু সংগ্রহ করা হচ্ছে, ফলে এতে কোনো ভেজালের শঙ্কা নেই। স্থানীয় ক্রেতা নাসির উদ্দিন বলেন, “এভাবে কখনো মধু আহরণ দেখিনি, এখানে ভেজাল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাই নিজের চোখে দেখে মধু কিনে নিচ্ছি।”

এছাড়া, কৃষক এনায়েত করিম জানান, সরিষার ক্ষেতের পাশে মধু চাষের কারণে আগের চেয়ে ২০ শতাংশ বেশি ফলন হয়েছে।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মুরাদুল হাসান বলেন, “মৌমাছির পরাগায়ন কার্যক্রম সরিষার ফলন বাড়ানোর পাশাপাশি মৌচাষিদেরও লাভবান করেছে। এর ফলে এ বছর সরিষা ও মধু চাষে বৃদ্ধি পেয়েছে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম


 




আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা

আগামীকাল সোমবার দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের ১২৭ জন কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে বসবেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

আজ রোববার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এই বাস্তবতায় মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন প্রধান উপদেষ্টা।

বৈঠকে পুলিশ সুপার থেকে শুরু করে মহানগর কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, ক্রাইম টিমের সদস্যসহ ১২৭ জন শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা অংশ নেবেন। পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বৈঠকে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন। সেখানে ৫ আগস্টের পর থেকে পুলিশের নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গৃহীত পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে।

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, আগামী ২৯ এপ্রিল পুলিশ সপ্তাহ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ দিকনির্দেশনা দেবেন। এরই অংশ হিসেবে আগাম আলোচনার জন্য আগামীকালের বৈঠক ডাকা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরগুনায় নিহত মন্টু দাসের বাড়িতে যাচ্ছেন জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান

নিহত মন্টু চন্দ্র দাসের পরিবারের সার্বিক খোঁজ-খবর নিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান সোমবার (১৭ মার্চ) সকাল ১০টায় বরগুনা যাচ্ছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল লতিফ।

মন্টু দাসের পরিবারের দাবি, তার মেয়েকে অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ এনে তিনি থানায় মামলা করেন, আর সেই কারণেই তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার চার দিন পরও পুলিশ হত্যাকারী শনাক্ত করতে পারেনি। এর পর, নিহত মন্টুর স্ত্রী অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেছেন। যদিও এখনও পুলিশ কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি, তবে অপহরণ ও ধর্ষণের মামলায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অপহরণ ও ধর্ষণের মামলার প্রধান আসামি সৃজীব চন্দ্র রায়, তার বাবা শ্রীরাম রায় এবং সহযোগী কালু ও রফিক গ্রেফতার হয়ে আদালতের নির্দেশে কারাগারে আছেন।

গত মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দিবাগত রাত ১টার দিকে বরগুনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কালিবাড়ি করইতলা এলাকার নিজ বাড়ির পেছন থেকে মন্টু চন্দ্র দাসের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে, তার স্ত্রী অজ্ঞাতনামা আসামি করে বরগুনা সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

নিহত মন্টুর বাড়িতে তার স্ত্রীর মুখাবয়বে দুঃখ ও আতঙ্ক স্পষ্ট। দেড় মাস বয়সী শিশুকন্যার পাশে নির্বাক হয়ে বসে আছেন তিনি, আর চার বছর ও ১০ বছর বয়সী দুই মেয়েও বাবাকে হারিয়ে শোকাহত। নিহতের স্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “মেয়েকে ধর্ষণের পর স্বামী মামলা করেন, কিন্তু মামলা করার দিন রাতেই তাকে হত্যা করা হয়। আমাদের সন্দেহ, ধর্ষণ মামলার অভিযুক্তদের স্বজনরা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এখন আমরা আতঙ্কের মধ্যে আছি, কীভাবে আমাদের সংসার চলবে, তা জানি না।”

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর বরগুনা জেলা নায়েবে আমির মাওলানা আবদুল লতিফ জানিয়েছেন, “জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমান নিহত মন্টু দাসের পরিবারের সার্বিক খোঁজ-খবর নিতেই বরগুনা আসছেন। জামায়াতে ইসলামী সবসময় এই পরিবারের পাশে রয়েছে এবং থাকবে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌরুটে ফেরি চলাচলে জোয়ার-ভাটার প্রভাব

লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌরুটে ফেরি চলাচল বর্তমানে সম্পূর্ণরূপে জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। নাব্য সংকট ও ডুবোচরের কারণে এই নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচলে নানা বাধা তৈরি হচ্ছে। মেঘনা নদীর ডুবোচরে আটকা পড়ায়, যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ছেন এবং তাদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

নাব্য সংকটের কারণে বর্তমানে ফেরি চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে, যার ফলে মজু চৌধুরী হাট ফেরি ঘাটে আটকা পড়ছে পণ্যবাহী যানবাহন। লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌরুটে ফেরি চলাচল করতে জোয়ার-ভাটার সময়কেই বড় করে দেখা হচ্ছে। তবে, এমন পরিস্থিতি সত্ত্বেও প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী নিয়ে লঞ্চ ও ফেরি চলাচল করছে এই রুটে।

ফেরি চলাচলে জোয়ার-ভাটার প্রভাব:

২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে মজু চৌধুরী হাট ফেরি সার্ভিস চালু হয়। তখন থেকেই এই নৌরুটে হাজার হাজার যাত্রী চলাচল করছে। বর্তমানে ৪টি ফেরি এবং ৮ থেকে ১০টি লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করছে। তবে, মেঘনা নদী ও সংলগ্ন চ্যানেলগুলিতে নাব্য সংকট ও ডুবোচরের কারণে ফেরি ও লঞ্চ চলাচলে বিপত্তি তৈরি হচ্ছে।

চালকদের অভিজ্ঞতা:

ট্রাক চালকরা জানান, ফেরির চলাচলে দীর্ঘ সময় নষ্ট হচ্ছে, এমনকি ফেরি আটকা পড়ছে ডুবোচরে। এর ফলে সময়ের অপচয় হচ্ছে এবং কাঁচামাল নষ্ট হচ্ছে। ট্রাক চালক শহিদুল আলম বলেন, “ফেরি চলাচলে ৩ ঘণ্টা লাগার কথা, কিন্তু ৮ ঘণ্টা সময় লাগছে।” ট্রাকচালক স্বপন বলেন, “ফেরি সংখ্যা কম হওয়ায় তিন থেকে চার দিন ঘাটে আটকা পড়তে হয়।”

এমভি চন্দ্র লঞ্চের মাস্টার নজরুল ইসলাম বলেন:

“মজুচৌধুরী হাট চ্যানেলের অবস্থা খারাপ, লঞ্চ নিয়ে নিয়মিত ঘাটে আসা সম্ভব হচ্ছে না। ড্রেজিং করেও চ্যানেল ঠিক না করলে ঈদে ঘুরতে আসা লাখ লাখ মানুষ চরম সমস্যায় পড়বে।”

নদী ও ফেরি ঘাটের ব্যবস্থাপনা:

মজুচৌধুরী হাট ফেরি ঘাটের ব্যবস্থাপক মো. আতিকুজ্জামান বলেন, “নাব্য সংকট ও ডুবোচরের কারণে ফেরি চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

নৌরুটের দৈর্ঘ্য ও গুরুত্ব:

লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌরুটের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। এটি বিআইডব্লিউটিসির সবচেয়ে দীর্ঘ নৌরুটগুলোর মধ্যে একটি।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




চট্টগ্রাম-নোয়াখালী-ভোলা রুটে আবারও চলবে যাত্রীবাহী জাহাজ

চট্টগ্রাম থেকে নোয়াখালীর হাতিয়া ও ভোলার চরফ্যাশন রুটে আবারও চালু হতে যাচ্ছে যাত্রীবাহী জাহাজ চলাচল। আগামী ২০ মার্চ থেকে এমভি বার আউলিয়াএমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস নামে দুটি অত্যাধুনিক জাহাজ প্রতিদিন যাত্রী নিয়ে চট্টগ্রামের সদরঘাট থেকে ভোলার চরফ্যাশন, মনপুরা, ঢালচর ও নোয়াখালীর হাতিয়া হয়ে আসা-যাওয়া করবে।

বিআইডব্লিউটিসি‘র ভোলা অঞ্চলের ম্যানেজার (মেরিন) মো. আল-আমিন জানান, এমভি বার আউলিয়া একটি অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ও দ্রুতগতি সম্পন্ন নৌযান, যা উপকূলবাসীর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ববহ হবে। অন্যদিকে, এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস ব্যক্তি মালিকানাধীন একটি জাহাজ, যা বিআইডব্লিউটিসির সাথে সমন্বয় করে যাত্রী বহন করবে।

২০২৩ সালে এই দুই জাহাজ একটি মাসব্যাপী চলাচল করেছিল, তবে তখনকার সরকারের সময়ের আভ্যন্তরীণ রুটের অসাধু লঞ্চমালিক সিন্ডিকেটের কারণে এই যাত্রীবাহী জাহাজগুলোর চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে, সম্প্রতি নৌ-পরিবহন উপদেষ্টার হস্তক্ষেপে আগামী ২০ মার্চ থেকে ফের নিয়মিতভাবে এই জাহাজগুলো চলাচল করবে।

বার আউলিয়া জাহাজের ম্যানেজার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন সকাল ৮ টায় চট্টগ্রাম সদরঘাট থেকে একটি জাহাজ নোয়াখালী হয়ে ভোলার চরফ্যাশনের উদ্দেশ্যে রওনা হবে এবং একই সময়ে ভোলার চরফ্যাশন থেকে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।

উল্লেখযোগ্য বিষয়:
এমভি বার আউলিয়া ও এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস জাহাজগুলো যাত্রীদের জন্য আরামদায়ক ও নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুত। দক্ষিণাঞ্চলের ভোলা ও নোয়াখালীর হাতিয়া অঞ্চলের চট্টগ্রামের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির জন্য এই উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম


 




ঝালকাঠির সাবেক সিনেমা হল এখন মসজিদ

এক সময়ের জনপ্রিয় সিনেমা হল আজ মসজিদে পরিণত হয়েছে। ঝালকাঠি শহরের প্রাণকেন্দ্র কালিবাড়ি রোডস্থ আমতলা মোড়ের উত্তরপূর্ব পাশে অবস্থিত ‘মিতু’ সিনেমা হলটি এখন নামাজের স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এখানে এখন নিয়মিত আজান হয় এবং পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।

এই হলটি একসময় বাংলা ছায়াছবি এবং অশ্লীল সিনেমা প্রদর্শন করতো। তবে ২০১১ সালে সিনেমা প্রদর্শন বন্ধ করে স্থানীয়রা এটি মসজিদে রূপান্তরিত করেন। বর্তমানে, এটি ‘খানকায়ে মুছলিহীন ঝালকাঠি’ ও ‘কায়েদ মহল’ নামে পরিচিত।

ঝালকাঠি শহরে এক সময় তিনটি সিনেমা হল ছিল—‘মিতু’, ‘পলাশ’, এবং ‘রূপালী’। দর্শকের অভাবে ‘পলাশ’ ও ‘রূপালী’ হল দুটি অনেক আগেই বন্ধ হয়ে যায়। তবে ‘মিতু’ হলের দর্শকরা শেষ সময় পর্যন্ত অশ্লীল সিনেমা দেখতেন, যা শহরের রাস্তা ও পত্রিকায় অশালীন পোস্টারে সয়লাব ছিল।

এটি দেখে, প্রখ্যাত আলেম মাওলানা আজিযুর রহমান নেছারাবাদী (কায়েদ সাহেব) এক সময় বলেছিলেন, “এই জায়গাটা একসময়ে নামাজের স্থান হবে। আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে নামাজের জন্য আহ্বান করা হবে।” তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী আজ বাস্তবে পরিণত হয়েছে।

২০১১ সালের পৌর নির্বাচনের সময় হলটি বন্ধ হয়ে যায় এবং পরে এটি বিক্রি করা হয়। এরপর, মাওলানা কায়েদ সাহেবের ছেলে মাওলানা মুহা. খলিলুর রহমান নেছারাবাদী ভবনটি কিনে সেখানে খানকাহ স্থাপন করেন। বর্তমানে, এখানে জামায়াতে নামাজ, জিকির আসগার, এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

মুসল্লি আরিফুর রহমান বলেন, “ছোটবেলা থেকেই এই ‘মিতু’ সিনেমা হল দেখতাম, কিন্তু কখনো ভাবিনি একদিন এটি নামাজের স্থান হবে। এখন আমরা এখানে নামাজ আদায় করছি, যা আমাদের জন্য অনেক আনন্দের বিষয়।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঝালকাঠির সাবেক পিপি আব্দুল মন্নান রাসুল কারাগারে

ঝালকাঠি জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এবং পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুল মন্নান রাসুলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ (১৬ মার্চ) রোববার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনটি মামলায় আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে, বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আব্দুল মন্নান রাসুল বর্তমানে জেলা কৃষক লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মাহেব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মন্নান রাসুলের বিরুদ্ধে মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি মামলায় তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে, বাকি তিনটির শুনানি ১৮ মার্চ ধার্য করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর থেকে আব্দুল মন্নান রাসুল আত্মগোপনে চলে যান এবং এরপর তাকে আর দেখা যায়নি।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে অধ্যাপক ইউনূস, ২৮ মার্চ

আগামী ২৮ মার্চ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার (১৬ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন অধ্যাপক ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

এ বৈঠকের পাশাপাশি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা হবে চীনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও।

এ সফরের আগে, চীনা রাষ্ট্রদূত অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বৈঠকে চীনের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশের উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী করার প্রচেষ্টা থাকবে বলে জানান শফিকুল আলম।

প্রধান উপদেষ্টা আগামী ২৬ মার্চ চীন সফরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন বলে জানা গেছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে চুরির অপবাদে দুই যুবককে বেঁধে নির্যাতন, ভিডিও ভাইরাল

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ব্রিজ এলাকায় চুরির অভিযোগে দুই যুবককে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। রোববার (১৬ মার্চ) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে, যেখানে দেখা যায়, দুই যুবককে পৃথকভাবে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে এবং এক যুবক মাটিতে পড়ে গড়াগড়ি খাচ্ছে। তাকে এক ব্যক্তি শক্ত তার দিয়ে পেটাচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেবা ইঞ্জিনিয়ারিং নামক দোকান থেকে লোহার পাত চুরির অভিযোগে মিঠুন (২০) এবং লিংকন (২৩) নামক দুই যুবককে আটক করা হয়। তারা অভিযোগের ভিত্তিতে দোকানের মালিক মো. হাসান ও স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ে। এরপর তাদের রশি দিয়ে বেঁধে পেটানো হয়।

ভিডিওটির মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত জানা যায়, তবে পরবর্তীতে যুবকদের স্বজনরা এসে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যান।

বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির সিকদার জানান, তিনি ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে দেখেছেন, তবে এ বিষয়ে কেউ লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ করেনি। তবে, তিনি বিষয়টি তদন্ত করতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছেন এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।




‘হাইকোর্টে আবরার হত্যাকাণ্ডের রায়ে সুবিচার নিশ্চিত হবে’ – মিয়া গোলাম পরওয়ার

বুয়েটের ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উচ্চ আদালত ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখায় সুবিচার নিশ্চিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল এবং সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।

রোববার (১৬ মার্চ) এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক এবং এর মাধ্যমে সত্যিকার সুবিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি আশাবাদী যে, রায় দ্রুত কার্যকর হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ন্যায় বিচার পাবে।

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর, বুয়েটের শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরার ফাহাদকে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। আবরারের পিতা তার হত্যার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর, ২০২০ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অভিযোগপত্র গঠন হয় এবং ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আজ (১৬ মার্চ) হাইকোর্টের রায়ে সেই ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখায়, মিয়া গোলাম পরওয়ার জানিয়েছেন, এ রায়ে তারা মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছেন।

তিনি আরও বলেন, “এই রায়টি ন্যায়বিচারের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ এবং ইনশাআল্লাহ, বিচারের ক্ষেত্রে এটি আরও একটি মাইলফলক তৈরি করবে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম