নাজিরপুরে নকল ব্র্যান্ডের শিশু খাবার তৈরির সময় আটক ২

পিরোজপুরের নাজিরপুরে নকল ব্র্যান্ডের শিশু খাবার এবং অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী তৈরি করার সময় দুই জনকে আটক করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (১৯ মার্চ) উপজেলার শ্রীরামকাঠী বাজার সংলগ্ন জয়নাল হাওলাদারের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে প্রায় এক ডজন বিভিন্ন ধরনের নকল খাদ্য সামগ্রী, শিশু খাবার, চালসহ অন্যান্য পণ্য প্যাকেট করার সময় তাদের আটক করা হয়।

এসময়, ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক দুজনকে ২ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মো. মিরাজ হাওলাদার (৩৫) ও তার ভাই মো. রাব্বি হাওলাদার (২২), যাঁরা শ্রীরামকাঠী গ্রামের বাসিন্দা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফজলে রাব্বি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। সেখানে নকল ব্র্যান্ডের খাবারের প্যাকেট, শিশু খাবার এবং অন্যান্য খাদ্য সামগ্রী পাওয়া যায়, যা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোড়কে প্যাকেট করে বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে প্রস্তুত করা হচ্ছিল। অভিযানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মশিউর রহমান, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহমেদ এবং জেলা ভোক্তা অধিদফতরের সহকারী পরিচালক দেবাশীষ রায় উপস্থিত ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বরিশাল শহরের বিভিন্ন মার্কেটগুলোতে জমে উঠেছে কেনাকাটা। শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতf ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে এসে মার্কেটগুলোতে ভিড় করছেন। তবে, এই আনন্দের মাঝে কিছু অসন্তোষও দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে দাম নিয়ে কিছু ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

বুধবার (১৯ মার্চ) বরিশালসহ আশপাশের জেলা শহরের মার্কেটগুলোতে ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষভাবে বরিশালের বিখ্যাত পার্ক মার্ট, টপটেন, চিপস বাজারসহ অন্যান্য মার্কেটগুলোতে মানুষ ঈদের কেনাকাটা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনেকেই এসব মার্কেটগুলোতে কেনাকাটা করছেন এবং শিশু, প্রবীণসহ সব বয়সী মানুষ উপস্থিত হচ্ছেন।

কর্মব্যস্ত শহর বরিশালের এসব মার্কেটে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। সকাল থেকেই মানুষ কেনাকাটায় বের হচ্ছে এবং বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভিড় আরও বেড়ে যাচ্ছে। তবে, কিছু ক্রেতা অভিযোগ করছেন যে, এবারের ঈদের পণ্যের দাম অন্যান্য বছরের তুলনায় অনেকটা বেড়ে গেছে, যা তাদের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করেছে।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, ঈদ মৌসুমে তাদের ব্যবসা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বাজারে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পোশাক, জুতা, প্রসাধনী এবং অন্যান্য পণ্য বিক্রি হচ্ছে। তবে, কিছু ক্রেতা বিশেষত ভারতীয় অরগেনজা, মেঘা, পাকিস্তানি সারারা, গারারা এবং শাড়ির দাম বেড়ে যাওয়ায় হতাশ। এছাড়া, বাচ্চাদের পোশাক ও কসমেটিক্সের চাহিদাও বেড়েছে।

সিনিয়র সাংবাদিক কামরুজ্জামান বাচ্চু (৫২) বলেন, “ঈদ আসলেই পরিবার নিয়ে কেনাকাটা করতে এখানে আসি। পছন্দের দোকানে গিয়ে কেনাকাটা করা বেশ ভালো লাগে, তবে দামগুলো একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে।” অপরদিকে, ক্রেতা নাজমিন জামান মুক্তি জানান, “বাচ্চাদের জন্য এখানে কেনাকাটা করতে আসি, প্রতিবছর টপটেন ও পার্ক মার্টে কেনাকাটা করি, এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।”

ক্রেতা আসাদুজ্জামান সোহাগ জানান, “আমি শুধু প্রয়োজনের তাগিদেই কেনাকাটা করতে আসি। তবে এখন দাম বেশিই হয়ে গেছে, আমাদের মতো নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য দামটা সহনীয় নয়।”

মার্কেটের মালিকরা জানান, ঈদ মৌসুমে পণ্যের বিক্রি বেড়েছে, তবে তাদের কাছে কেনা পণ্যের দামও বেড়েছে, যা বিক্রির ওপর প্রভাব ফেলছে। তাদের দাবি, পোশাকের কোয়ালিটি অনুযায়ী দাম নির্ধারণ করা হয়।

বরিশালের কোহিনূর জুতা দোকানের মালিক আজিম হোসেন বলেন, “আমরা নিজেরাই জুতা তৈরি করি, তাই আমাদের জুতার দাম সাশ্রয়ী। তবে, বাটা, লোটো বা সাম্পান থেকে কিছুটা বেশি দাম লাগছে, কারণ পরিবহন খরচ বেড়েছে।”

এছাড়া, আল আমিন হোসেন নামে এক কর্মী জানান, “আমরা যখন দাম বাড়িয়ে পণ্য কিনি, তখন বিক্রিও সেই অনুযায়ী করতে হয়, তবে আমরা সব কিছু ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রাখার চেষ্টা করি।”

বরিশালের চকবাজার, হেমায়েতউদ্দিন সড়ক, সিটি মার্কেট, ফাতেমা কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন ছোট-বড় মার্কেটগুলোতে বাচ্চাদের পোশাক, শাড়ি, থ্রি-পিস, গহনাসহ অন্যান্য প্রসাধনীর চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে, মূল্য বৃদ্ধির কারণে অনেক ক্রেতা হতাশ। শহরের বড় মার্কেটগুলোর মধ্যে নারীদের তুলনায় পুরুষদের ভিড় কম দেখা যাচ্ছে, তবে তরুণ-তরুণীরা শার্ট, প্যান্ট, পাঞ্জাবির দোকানে ভিড় করছেন।

এখনও পর্যন্ত ঈদের কেনাকাটা জমে উঠেছে, তবে কিছু জায়গায় ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়েও লাভের মুখ দেখছেন। এবারের ঈদে পোশাকের দাম বেশি হওয়ায় অনেক পরিবারের বাজেট ছাড়িয়ে গেছে। পরিবহন খরচ ও পণ্যের দাম বাড়ানোর কারণে ক্রেতারা বিকল্প পন্থা গ্রহণ করতে পারছেন না।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ফের ৪ দিনের রিমান্ডে ডা. দীপু মনি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক হত্যা মামলায় সাবেক শিক্ষা ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. দীপু মনিকে ফের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বুধবার (১৯ মার্চ) সকালে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শাহিন রেজার আদালতে দীপু মনিসহ অন্যান্য আসামিদের হাজির করা হয়। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে রিমান্ডের বিষয়ে কথা না বলার জন্য তার আইনজীবীকে নিষেধ করেন ডা. দীপু মনি। তার আইনজীবী বলেন, ‘আপা, আজকে সাত দিনের রিমান্ড চেয়েছে।’ দীপু মনি প্রতিউত্তরে বলেন, ‘যা রিমান্ড দেয় দিক। শুনানিতে কিছু বলবি না। কিছু বলার দরকার নেই।’ এরপর তার আইনজীবী বলেন, ‘আপা, শুধু রিমান্ড বাতিলের আবেদন দিয়েছি। কোনো শুনানি করব না।’

এদিন সকালে পুলিশ প্রহরায় দীপু মনিসহ অন্যান্য আসামিদের ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তোলা হয়। পরবর্তীতে যাত্রাবাড়ী থানার ওবায়দুল ইসলাম হত্যা মামলায় সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এরপর ১০টা ২৫ মিনিটে পুলিশ প্রহরায় আদালত থেকে দীপু মনিকে হাজতখানায় নেওয়া হয়। এ সময় তাকে হাতকড়া, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরিয়ে নেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ আগস্ট বারিধারা এলাকা থেকে দীপু মনিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার অভিযোগে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গত ৪ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে যাত্রাবাড়ীর কাজলা পেট্রোল পাম্পের সামনে আওয়ামী লীগ নেতাদের নেতৃত্বে ১৪ দলের নেতাকর্মীরা অবৈধ অস্ত্র নিয়ে হাজার হাজার জনতার ওপর গুলি চালান, যার ফলে ওবায়দুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় স্বজন মো. আলী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ৫৮ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




স্থানীয় সরকার থেকে প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়নি: আসিফ মাহমুদ

স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, এমন ঘোষণা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

বুধবার (১৯ মার্চ) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ কথা জানান।

আসিফ মাহমুদ বলেন, “স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ওয়ার্ড প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এখনও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন। সুতরাং নির্বাচনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হওয়ার পূর্বে প্রশাসক নিয়োগের প্রশ্ন অবান্তর।”

তিনি আরও বলেন, “জনগণের প্রাত্যহিক নানা সেবার জন্য স্থানীয় সরকারের ওপর নির্ভরশীল। সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি ও পৌর ওয়ার্ডগুলোতে জনপ্রতিনিধি না থাকায় এসব সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তাই জনগণের দুর্ভোগ নিরসনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়ে বারবার বলছি।”

এ সময় স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, “প্রশাসক নিয়োগের এ বিষয়ে সরকারের চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। নির্বাচনের মাধ্যমে প্রকৃত জনপ্রতিনিধি দিয়ে স্থানীয় সরকার পরিচালনাই সর্বোত্তম।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পুলিশের সমস্যা সমাধানে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের সুবিধা-অসুবিধা, প্রতিবন্ধকতা ও নানা সমস্যা সমাধানে করণীয় বিষয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভায় পুলিশের কল্যাণে বেশ কিছু দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বুধবার (১৯ মার্চ) স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় এই নির্দেশনা দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বলেন, কর্মসম্পাদনের ফলাফলের ভিত্তিতে জেলা পুলিশকে শ্রেণীভুক্ত করা হবে এবং যারা কম পারফর্ম করেন, তাদের কর্মক্ষমতা বাড়ানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুলিশকে প্রস্তুতি গ্রহণের তাগিদও দেন।

পুলিশের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের কল্যাণে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন প্রধান উপদেষ্টা। নির্দেশনাগুলো হলো:

১. ঝুঁকি ভাতার প্রচলিত সিলিং তুলে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা।
২. পুলিশের জন্য নতুন ৩৬৪টি পিকআপ এবং ১৪০টি প্রিজনার ভ্যান কেনার উদ্যোগ নেওয়া।
৩. পুলিশের চলমান নির্মাণ প্রকল্পগুলোর যেগুলোর কাজ ৭০% এর নিচে সম্পাদিত হয়েছে, সেগুলোতে অর্থ ছাড় করা।
৪. ভাড়া করা ভবনে অবস্থিত ৬৫টি থানার জমি অধিগ্রহণের জন্য অর্থ ছাড় করা।
৫. পুলিশের এসআই ও এএসআই র‍্যাংকের মোটরসাইকেল কেনার জন্য সুদমুক্ত ঋণের বিষয়টি বিবেচনা করা।

এর আগে, গত সোমবার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ১২৭ পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই বৈঠকে কর্মকর্তারা নিজেদের সুবিধা, অসুবিধা ও সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গৌরনদী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব বহিস্কার

গৌরনদী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর ফরিদ মিয়া দলবল নিয়ে পৌরসভা অফিসে প্রবেশ করে এক কর্মচারীকে মারধর করার ঘটনায় সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে সকল পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন।

বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৬ মার্চ ফরিদ মিয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়, কিন্তু তিনি কোনো জবাব দেননি। নোটিশ পাওয়ার পরেও ফরিদ মিয়া আবারও দলবল নিয়ে পৌর কর্মচারী গিয়াস উদ্দিন খন্দকারের কাছ থেকে জোরপূর্বক সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিতে চেষ্টা করেন। এই ধৃষ্টতাপূর্ণ আচরণের কারণে তাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ১১ মার্চ দুপুরে পৌরসভা অফিসে ফরিদ মিয়া তার দলবল নিয়ে পৌরসভার পানি শাখার কর্মচারী গিয়াস উদ্দিন খন্দকারের রুমে প্রবেশ করে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং অপ্রত্যাশিতভাবে হামলা চালিয়ে মারধর করেন। গিয়াস উদ্দিন খন্দকার অভিযোগ করেন, ফরিদ মিয়া ও তার সহযোগিরা স্থানীয় এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার প্রভাব খাটিয়ে টিসিবির মালামাল নেয়ার প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হয়ে এ হামলা চালিয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সাগরে ৫৮ দিনের জন্য মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় সব ধরনের মাছ আহরণ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। সামুদ্রিক মাছের প্রজনন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারও এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব এইচ. এম. খালিদ ইফতেখার স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, “সামুদ্রিক মৎস্য বিধিমালা, ২০২৩” অনুযায়ী, ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় সকল প্রকার মৎস্য নৌযান কর্তৃক যে কোনো প্রজাতির মাছ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

প্রতি বছর এই সময়কালকে সামুদ্রিক মাছের প্রধান প্রজনন মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। মাছের সংখ্যা বাড়াতে এবং মৎস্য সম্পদ টিকিয়ে রাখতে এই নিষেধাজ্ঞা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ইলিশসহ অন্যান্য সামুদ্রিক মাছের বংশবৃদ্ধির জন্য এই সময়টি সংরক্ষিত রাখা হয়।

নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন সময়ে কেউ মাছ ধরতে গেলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ সময়ে সরকারি নজরদারি বাড়ানো হবে এবং কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথ অভিযান পরিচালনা করবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বকেয়ায় বন্ধ শেভরনের উন্নয়ন, উৎপাদন ধসের শঙ্কা!

বিল না পাওয়ার কারণে উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে আমেরিকান কোম্পানি শেভরন বাংলাদেশ, যার ফলে গ্যাস উৎপাদনে ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কোম্পানিটি বর্তমানে দেশের ৬০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ করছে, কিন্তু তাদের গ্যাস ফিল্ডে উন্নয়ন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ায় উৎপাদন কমে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জালালাবাদ গ্যাস ফিল্ডে কমপ্রেসর বসানোর প্রকল্পটি ঝুলে গেছে, যা গ্যাস উৎপাদন দৈনিক ৭০ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়ানোর আশা করেছিল। তবে, বর্তমানে শেভরনের বকেয়া বিল ১৬০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা তাদের ৪ মাসের গ্যাস বিলের সমান। প্রতিদিন ৪০ মিলিয়ন ডলারের গ্যাস সরবরাহের পরেও বিল পরিশোধ করা হয়নি, যার ফলে উন্নয়ন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের শুরুতে শুরুর কথা ছিল, কিন্তু এখনো কোনো অগ্রগতি হয়নি। বাংলাদেশ সরকার গত অক্টোবর মাসে একটি রোডম্যাপ ঘোষণা করেছিল, যেখানে প্রতিমাসে ২০ মিলিয়ন ডলার বকেয়া পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়। তবে, এখনো পরিস্থিতি উন্নতি হয়নি এবং বকেয়া পরিমাণ আরও বাড়তে শুরু করেছে।

শেভরন বাংলাদেশের মিডিয়া এবং কমিউনিকেশন বিভাগের ম্যানেজার শেখ জাহিদুর রহমান জানান, বকেয়া পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত জালালাবাদ গ্যাস প্ল্যান্টে উৎপাদন বৃদ্ধির প্রকল্প স্থগিত রাখা হয়েছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে দ্রুত বকেয়া পরিশোধের আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে, শেভরনের পাশাপাশি কাতার সরকারেরও পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য তাগাদা রয়েছে। কাতার থেকে এলএনজি আমদানির জন্য বাংলাদেশ প্রতি বছর ৪০ কার্গো এলএনজি নিয়ে থাকে, কিন্তু বিল পরিশোধের জন্য উভয় দেশই চাপের মুখে রয়েছে।

এছাড়া, পেট্রোবাংলার কাছেও বিভিন্ন গ্যাস কোম্পানি এবং বিদ্যুৎ খাতের কাছ থেকে ২৮ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে, যা সমস্যার সৃষ্টি করছে। এসব বকেয়া পরিশোধ না হওয়ার কারণে এলএনজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহ হারাচ্ছে, ফলে গ্যাস সংকটের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কূটনৈতিক পাড়ায় ভবনের ফ্লোর দখলে হামলা, দু’দফায় সংঘর্ষ

রাজধানীর গুলশানে কূটনৈতিক পাড়ায় ভবনের ফ্লোর দখলের পাঁয়তারা নিয়ে দুটি সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাটি ঘটেছে রাজধানীর গুলশান ২ নম্বরে অবস্থিত গুলশান সেন্টার পয়েন্টের ১৮ তলার ৩০ হাজার বর্গফুটের ফ্লোর নিয়ে।

এসএস বিল্ডার্সের মালিক সাব্বির ইসলাম অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ফ্লোর দখলের জন্য সন্ত্রাসীদের ভাড়া করেছেন। হামলা দু’টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে ঘটেছে, যা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বড় প্রশ্ন তোলেছে।

২০০৬ সালে এসএস বিল্ডার্সের সঙ্গে ভবন মালিক পক্ষের একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়, যেখানে ভবনের ১০ তলার ১৪ হাজার স্কয়ার ফুট বিক্রির কথা ছিল। তবে, বিভিন্ন কারণে পুরো অর্থ পরিশোধ না করায় এই ফ্লোরটি দখল করা সম্ভব হয়নি। এরপর, ২০২১ সালের পর ফ্লোরটি দখল নিতে এ ধরনের হামলার ঘটনা ঘটে।

২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় হামলা চালানো হলেও, দ্বিতীয় দফায় ৯ মার্চ আরও এক দল সন্ত্রাসী হামলা চালায়। ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা হামলাকারীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা নিরাপত্তারক্ষীদের শারীরিক নির্যাতন করে।

এরপর, ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিদর্শন করে, তবে হামলাকারীরা সারারাত ধরে ভাঙচুর চালায় এবং শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।

বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চললেও, সিসিটিভি ফুটেজ এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রমাণ ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সিসিটিভি ফুটেজে হামলাকারীদের দলে দলে ভবনে প্রবেশ এবং ভাঙচুরের দৃশ্য স্পষ্ট দেখা গেছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য, ‘তুলসি গ্যাবার্ডের মন্তব্য গুরুতর’

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং ইসলামিক খিলাফত নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিতে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা প্রধান তুলসি গ্যাবার্ডের মন্তব্যকে ‘গুরুতর’ বলে বর্ণনা করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় যে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থান ওটাই।”

গতকাল (১৯ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই মন্তব্য করেন উপদেষ্টা তৌহিদ।

তুলসি গ্যাবার্ডের মন্তব্যে বলা হয়েছিল, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, ক্যাথলিকসহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে চলমান নিপীড়ন, হত্যা ও নির্যাতন মার্কিন সরকারের উদ্বেগের একটি প্রধান বিষয়। তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন মন্ত্রিসভার আলোচনা শুরু হয়েছে, তবে এটি উদ্বেগের একটি মূল জায়গা হয়ে রয়েছে।”

এর পর, সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিবৃতি প্রকাশ করা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা গভীর উদ্বেগ ও দুঃখের সঙ্গে তুলসি গ্যাবার্ডের মন্তব্য লক্ষ্য করেছি। তাঁর বক্তব্য বিভ্রান্তিকর ও ক্ষতিকর, যা বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও সুনামকে আঘাত করে।”

এতে আরও বলা হয়, তুলসি গ্যাবার্ডের মন্তব্য নির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ বা অভিযোগের ভিত্তিতে করা হয়নি। “বাংলাদেশ সন্ত্রাস ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ক্রমাগত এই সমস্যাগুলো মোকাবিলা করছে,” বলা হয়েছে বিবৃতিতে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম