বরগুনায় আলু চাষে ভাটা, বাড়তি খরচে দুশ্চিন্তায় কৃষকরা

বরগুনা জেলায় চলতি মৌসুমে আলু চাষ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সার, কীটনাশক ও বীজের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সংরক্ষণের সমস্যা—জেলায় আলুর জন্য কোনো হিমাগার না থাকায় উৎপাদনের পর ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকেরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগের মধ্যে আলু উৎপাদনে বরগুনার অবস্থান তৃতীয়। গত বছর যেখানে জেলায় ৯৭৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, এ বছর তা কমিয়ে ৯৪৫ হেক্টর নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে বরগুনা সদর উপজেলায় ১২০ হেক্টর, পাথরঘাটায় ৫৬২, বামনায় ৪২, বেতাগীতে ১৩২, আমতলীতে ১৯ এবং তালতলীতে ৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এতে মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২৩ হাজার ৬২৫ টন।

এদিকে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এখন পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলায় মোট ৫৭০ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে পাথরঘাটায় সবচেয়ে বেশি ৩৫০ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। তবে এখনও প্রায় ৩৭৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ বাকি রয়েছে। কৃষকদের অভিযোগ, সঠিক সময়ে মানসম্মত বীজ না পাওয়া এবং সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় চাষ সম্প্রসারণে আগ্রহ কমছে।

সরেজমিনে পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা যায়, নারী-পুরুষ মিলিয়ে আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। পুরুষরা জমি প্রস্তুতের কাজ করছেন, আর নারীরা বীজ বপনে যুক্ত রয়েছেন। তবে অনেকেই জানিয়েছেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভের পরিবর্তে লোকসানের আশঙ্কাই বেশি।

কালমেঘা ইউনিয়নের কৃষক সুলতান ফকির জানান, প্রতি বছর ধানের পাশাপাশি আলু চাষ করলেও এবার এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি সহায়তা পাননি। স্থানীয় বাজার থেকে বেশি দামে সার ও ওষুধ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন তিনি।

একই এলাকার নারী কৃষক হেনারা বেগম বলেন, সার সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ে সার না পাওয়ায় জমির সব অংশে আলুর গাছ সমানভাবে ওঠেনি। গত বছর এক একর জমিতে আলু চাষ করে প্রায় ৭০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছিল। এবার ভালো দামের আশায় আবার চাষ করেছেন, তবে দাম না পেলে এবারও লোকসানের শঙ্কা রয়েছে।

আরেক কৃষক মো. মুসা অভিযোগ করেন, প্রতি বছরই সার, বীজ ও কীটনাশক সরবরাহে সিন্ডিকেটের প্রভাব থাকে। মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ না পাওয়ায় অনেক সময় ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কথায় চাষাবাদ করতে হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষক মো. রাহাত বলেন, উৎপাদন খরচ ক্রমাগত বাড়তে থাকলে একসময় কৃষকরা বাধ্য হয়ে আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবেন।

কৃষকদের এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, চলতি মৌসুমে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে তারা আশাবাদী। আলু সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা চলছে। কোনো বেসরকারি উদ্যোক্তা এগিয়ে এলে প্রশাসনিকভাবে সহায়তা দেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, নির্ধারিত দামের বেশি দামে সার বা কীটনাশক বিক্রির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাথরঘাটা এলাকায় বেশি আলু চাষ হওয়ায় সেখানে সার বরাদ্দও তুলনামূলক বেশি দেওয়া হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




লঞ্চ দুর্ঘটনায় নিভে গেল চার প্রাণ, ভোলায় শোকের ছায়া

চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের ভয়াবহ সংঘর্ষে চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় ভোলার লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলায় নেমে এসেছে গভীর শোক। নিহতদের সবাই নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্য এবং অধিকাংশই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে গ্রামগুলোর আকাশ-বাতাস।

নিহতরা হলেন—লালমোহন উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের কাজীরাবাদ গ্রামের সেরাজুল হকের ছেলে আব্দুল গনি (৩৫), একই উপজেলার কালু খাঁনের ছেলে মো. সাজু (৪৭), গজারিয়া ইউনিয়নের কচুয়াখালী গ্রামের মো. মিলনের স্ত্রী রিনা আক্তার (৩৫) এবং চরফ্যাশন উপজেলার আহম্মেদপুর ইউনিয়নের ফরিদাবাদ গ্রামের মো. হানিফ (৬০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে চরফ্যাশনের ঘোষেরহাট থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায় এমভি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটি। পথে বোরহানউদ্দিনের দেউলা ঘাট থেকে যাত্রী নিয়ে রাতের বেলা চাঁদপুরের হরিণা এলাকায় পৌঁছালে ঘন কুয়াশার কবলে পড়ে লঞ্চটি। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির বরিশাল-ঝালকাঠিগামী এমভি অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি সজোরে ধাক্কা দেয়।

সংঘর্ষে জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটির এক পাশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ডেকে ঘুমিয়ে থাকা চার যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হন আরও কয়েকজন, যাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

নিহত রাজমিস্ত্রি আব্দুল গনি ছিলেন তিন সন্তানের জনক। ঋণের বোঝা সামাল দিতে কাজের সন্ধানে ঢাকায় যাচ্ছিলেন তিনি। তার বৃদ্ধ মা শাহানুর বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলেটা ছাড়া সংসার চলবে কেমনে? এখন আমার নাতি-নাতনিদের কে দেখবে?’

গনির স্ত্রী বলেন, ঋণ করে টিনের ঘর তুলেছিলেন। সেই ঋণ শোধ করতেই স্বামী ঢাকায় যাচ্ছিলেন। এখন সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

একইভাবে মো. সাজুর বাড়িতেও চলছে শোকের মাতম। কৃষিকাজ ও দিনমজুরির মাধ্যমে সংসার চালানো সাজু ছোট মেয়ের বিয়ের দেনা শোধ করতে ঢাকায় যাচ্ছিলেন বলে জানান তার স্ত্রী মনোয়ারা বেগম। তিনি বলেন, ‘স্বামীকে হারিয়ে আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি।’

নিহতদের স্বজনরা এ দুর্ঘটনাকে অবহেলা ও অব্যবস্থাপনার ফল বলে দাবি করে দোষীদের বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগ, নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করায় বারবার এমন প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান জানিয়েছেন, নিহতদের পরিবারকে সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হবে। লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতদের মরদেহ শনিবার ভোরে নিজ নিজ গ্রামে পৌঁছানোর পর জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




কক্সবাজারে সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজে আগুন, ১ জন নিহত

কক্সবাজার: কক্সবাজারের নুনিয়াছড়া বিআইডব্লিউটিএ ঘাট সংলগ্ন বাঁকখালী নদীতে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল ৭টার দিকে সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজ ‘দ্যা আটলান্টিক ক্রুজ’-এ আগুন লেগেছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিলা তাসনিম জানান, আগুনের সময় জাহাজে পর্যটক ছিলেন না। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। জাহাজটি সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ সহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন জানান, জাহাজের এক কর্মচারীর ভস্মীভূত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি একটি কক্ষে ঘুমাচ্ছিলেন। এছাড়া অন্য কেউ জাহাজে ছিলেন কিনা তা খুঁজে দেখা হচ্ছে। আগুন লাগার কারণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

এই দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ তথ্য জানার অপেক্ষা চলছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




শুঁটকির স্বর্ণখনি চিথলিয়া, বছরে উৎপাদন শতাধিক টন

পিরোজপুর সদর উপজেলার চিথলিয়া গ্রামে গড়ে উঠেছে শুঁটকি উৎপাদনের এক ব্যস্ত কর্মভূমি। কচা নদীর তীর ঘেঁষে বাঁশের মাচায় সারি সারি শুকানো মাছ, বাতাসে শুঁটকির পরিচিত গন্ধ আর শ্রমিকদের ব্যস্ত পদচারণায় শীত মৌসুম এলেই প্রাণ ফিরে পায় এই শুঁটকি পল্লী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদী ও বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী হওয়ায় সদর উপজেলার পাড়েরহাট এলাকায় গড়ে ওঠে একটি গুরুত্বপূর্ণ মৎস্য বন্দর। সেই বন্দরের আশপাশেই চিথলিয়া গ্রামে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে এই শুঁটকি পল্লী। অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত চলে শুঁটকি উৎপাদন ও বাণিজ্য।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরের দক্ষিণ পাশে কচা নদীর তীরে পাঁচটি বাসাকে কেন্দ্র করে এই পল্লী গড়ে উঠেছে। এখানে ৫ থেকে ৭ জন শুঁটকি ব্যবসায়ী এবং ১৫০ থেকে ২০০ শ্রমিক কাজ করছেন। কেউ মাছ সংগ্রহ ও পরিষ্কার করছেন, কেউ বড় মাছ কাটছেন, আবার কেউ লবণ পানিতে ভিজিয়ে বাঁশের মাচায় মাছ শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শুকানো শুঁটকি বস্তাবন্দি করে সংরক্ষণ করা হচ্ছে দেশের বিভিন্ন মোকামে পাঠানোর জন্য।

ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় ১৮ বছর আগে একটি বাসা থেকে এই শুঁটকি কার্যক্রম শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে তা বিস্তৃত হলেও বর্তমানে স্থায়ীভাবে পাঁচটি বাসায় শুঁটকি উৎপাদন হচ্ছে। এখানে কোরাল, লইট্টা, ছুরি, চিতল, হাইতা, মর্মা, ঢেলা, চাপিলা, মধু ফ্যাপসাসহ প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ প্রজাতির মাছ শুঁটকি করা হয়। শীতকালে এসব মাছ সাগরে বেশি ধরা পড়ে এবং ঠান্ডা আবহাওয়ায় শুঁটকির মানও ভালো থাকে।

শুঁটকির মানভেদে প্রতি কেজি শুঁটকি ৬০০ টাকা থেকে শুরু করে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কোনো ধরনের রাসায়নিক বা কীটনাশক ব্যবহার না করায় এখানকার শুঁটকি নিরাপদ খাদ্য হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

শুঁটকি ব্যবসায়ী মো. আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে শুঁটকি তৈরি করা হয়। ভালো মানের কারণে মোকামে আমাদের শুঁটকির চাহিদা বেশি।

অপর ব্যবসায়ী আলী সরদার জানান, পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরে জেলেরা সরাসরি মাছ নিয়ে আসেন। সেখান থেকেই শুঁটকির জন্য মাছ সংগ্রহ করা হয়। নিরাপদ ও রাসায়নিকমুক্ত হওয়ায় এখানকার শুঁটকি ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করেছে।

চার বছর ধরে এখানে কাজ করা শ্রমিক মো. ইব্রাহিম মুন্সি বলেন, রোদে শুকিয়ে পরিষ্কারভাবে শুঁটকি তৈরি করা হয় বলেই এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

শুঁটকি ব্যবসায়ী শাজাহান হাওলাদার বলেন, মৌলিক কিছু অবকাঠামো সুবিধা যেমন—টিউবওয়েল, ছোট সেতু ও বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা গেলে এই শিল্প আরও সম্প্রসারিত করা সম্ভব।

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, এই শুঁটকি পল্লী থেকে প্রতিবছর ১০০ টনেরও বেশি শুঁটকি উৎপাদন হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা। স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা এই খাতের উন্নয়নে সহজ শর্তে ঋণ ও সরকারি সহায়তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সঞ্জীব সন্নামত জানান, শীত মৌসুমে প্রায় চার মাস শুঁটকি কার্যক্রম চলে। মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং শুঁটকি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবনাও রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে তদারকি বাড়বে এবং ভবিষ্যতে এখানকার শুঁটকি দেশের বাইরেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভাঙ্গায় ট্রাক-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে ভাই-বোনসহ প্রাণ গেল ৩ জনের

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে ভাই-বোনসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত সবাই অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রী ছিলেন।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের মনসুরাবাদ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—যশোরের কেশবপুর উপজেলার চালতীবাড়ী গ্রামের বাবর আলীর ছেলে মিজানুর রহমান (৪০), তার বোন বিউটি বেগম (৩০) এবং মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জ গ্রামের রহমত উল্লাহর ছেলে নিশান উল্লাহ (২৩)। আহত দুইজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ সূত্র জানায়, খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করা হাজী অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের একটি অ্যাম্বুলেন্সে পাঁচজন যাত্রী ছিলেন। অ্যাম্বুলেন্সটি মনসুরাবাদ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ভারী ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটির সামনের অংশ সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সের তিন যাত্রী মারা যান। আহত অপর দুইজনকে দ্রুত উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি ঘটনাস্থলে রেখে চালক পালিয়ে যায়।

ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলালউদ্দিন জানান, ঘন কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কম থাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। পলাতক ট্রাকচালককে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্স হাইওয়ে থানায় জব্দ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই পরিবারের ভাই-বোনের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের মাঝে নেমে এসেছে গভীর শোক।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ৩৫ বস্তা টাকা, চলছে হিসাব

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে এবার বিপুল অঙ্কের টাকা পাওয়া গেছে। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে মসজিদের ১৩টি লোহার দানবাক্স খোলা হলে সেখানে পাওয়া যায় মোট ৩৫ বস্তা টাকা। এর পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও উদ্ধার হয়েছে। বর্তমানে টাকাগুলোর গণনা কার্যক্রম চলছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, প্রায় ৩ মাস ২৭ দিন পর সকাল ৭টা ১০ মিনিটে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লার উপস্থিতিতে এই কার্যক্রম শুরু হয়। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান মারুফসহ সেনাবাহিনী, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দানবাক্স থেকে বের করা টাকাগুলো প্রথমে বস্তাবন্দি করা হয়। পরে মসজিদের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে গিয়ে শুরু হয় গণনার কাজ। মসজিদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, মাদরাসা ও এতিমখানার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পার্শ্ববর্তী জামিয়া এমদাদিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ এই গণনায় অংশ নিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গণনা শেষ হলে মোট টাকার পরিমাণ জানা যাবে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এবারের দানের পরিমাণ ১৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর আগে গত ৩০ আগস্ট দানবাক্স খোলা হলে ৩২ বস্তা টাকা পাওয়া গিয়েছিল, যার মোট পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২০ টাকা। ফলে এবার নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হতে পারে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, সাধারণত প্রতি তিন মাস পরপর পাগলা মসজিদের দানবাক্স খোলা হলেও এবার দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সময় কিছুটা বাড়ানো হয়। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধর্মপ্রাণ মানুষ এই মসজিদে এসে দান করে থাকেন। অনেকের বিশ্বাস, এখানে মানত ও দান করলে মনের আশা পূরণ হয়।

প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে ছয়তলা বিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন পাগলা মসজিদ ও ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এই কমপ্লেক্সে একসঙ্গে অর্ধলাখ মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি পাঁচ হাজার নারীর জন্য আলাদা নামাজের স্থান রাখা হবে। প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১১৫ কোটি টাকা।

ঐতিহাসিকভাবে প্রায় আড়াইশ বছরের পুরোনো এই পাগলা মসজিদ বর্তমানে দেশের অন্যতম আয়কারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। মসজিদের দান থেকে প্রাপ্ত অর্থ বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা ও সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হয়।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, টাকার গণনা শেষ হতে সারাদিন লেগে যেতে পারে। আশা করা হচ্ছে, এবারের দান আগের সব রেকর্ড ভেঙে নতুন মাইলফলক তৈরি করবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




শহীদ ওসমান হাদির কবরে শ্রদ্ধা জানালেন তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শহীদ শরিফ ওসমান হাদি ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবর জিয়ারত করেছেন। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে তিনি ঢাকার বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে অবস্থিত সমাধিস্থলে গিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

দলীয় সূত্র জানায়, বেলা ১১টা ১৬ মিনিটে তারেক রহমান সমাধিস্থলে পৌঁছান। সেখানে কিছু সময় অবস্থান করে কবর জিয়ারত ও দোয়া মোনাজাত করেন তিনি। এরপর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ত্যাগ করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে তিনি নিজ বাসা থেকে রওনা হন।

কবর জিয়ারতকালে তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ কেন্দ্রীয় পর্যায়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা।

বিএনপি জানিয়েছে, কবর জিয়ারত শেষে তারেক রহমান নির্বাচন কমিশনে যাবেন। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধন ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতেই তার এই সফর। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৬ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে তারেক রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফিরে বিমানবন্দর থেকে পূর্বাচল ৩০০ ফিট এলাকায় দলের পক্ষ থেকে দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন তিনি। এরপর অসুস্থ মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান।

দলীয় সূত্র আরও জানায়, নির্বাচন কমিশনের কাজ শেষে তারেক রহমান ধানমন্ডির শ্বশুরবাড়িতে যাবেন। সেখান থেকে পুনরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে মায়ের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার কথা রয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বাম্পার ফলনেও লোকসানে বরিশালের সবজি চাষিরা

বরিশাল জেলায় চলতি শীত মৌসুমে শীতকালীন সবজির বাম্পার ফলন হলেও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চরম হতাশায় পড়েছেন কৃষকেরা। মাঠ পর্যায়ে উৎপাদিত সবজি অত্যন্ত কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হলেও শহরের বাজারে সেই সবজিই বিক্রি হচ্ছে কয়েকগুণ বেশি দামে।

জেলার বাবুগঞ্জ, উজিরপুর, আগৈলঝাড়া ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকেরা পাইকারদের কাছে ফুলকপি বিক্রি করছেন মাত্র ৮ থেকে ১০ টাকা, বাঁধাকপি ৬ থেকে ৮ টাকা এবং শিম ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে। এত কম দামে বিক্রি করে অনেক কৃষকই উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন না।

বাবুগঞ্জ উপজেলার কৃষক আব্দুল খালেক জানান, চলতি মৌসুমে বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুযায়ী সবজির দাম না বাড়ায় তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। অনেকেই ঋণের টাকা শোধ করতে পারবে কিনা, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় আছেন।

অন্যদিকে বরিশাল নগরীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা গেছে, মাঠ পর্যায়ে কম দামে কেনা সেই সবজিই খুচরা বাজারে দ্বিগুণ বা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে সাধারণ ক্রেতাদের মাঝেও ক্ষোভ বাড়ছে।

একজন ক্রেতা বলেন, কৃষকেরা যদি এত কম দামে সবজি বিক্রি করেন, তাহলে আমাদের কেন বেশি দামে কিনতে হবে—এটা বোঝা যাচ্ছে না। মাঝখানে কারা লাভ করছে, সেটা খতিয়ে দেখা দরকার।

কৃষি খাত সংশ্লিষ্টদের মতে, একাধিক মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য, পরিবহন সংকট এবং পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধার অভাবের কারণেই কৃষক ও ভোক্তার দামের মধ্যে এত বড় পার্থক্য তৈরি হচ্ছে।

এ বিষয়ে বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মামুনুর রহমান বলেন, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে বাজার ব্যবস্থাপনায় আরও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। কৃষক বাজার চালু, পাইকারি বাজারে নজরদারি বৃদ্ধি এবং কৃষক সমবায় গড়ে তোলা গেলে এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাম্পার ফলনের প্রকৃত সুফল যদি কৃষকের ঘরে না পৌঁছায়, তাহলে কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তারেক রহমান শহিদ হাদির কবর জিয়ারতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে

ঢাকা: বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান শহিদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারতে আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পৌঁছেছেন। তিনি সকাল ১০টা ৪০ মিনিট নাগাদ গুলশানের বাসভবন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্দেশে রওয়ানা দেন।

মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, সকাল ১১টায় তারেক রহমান কবি নজরুল ইসলামের কবরে পাশে শায়িত শহিদ শরিফ ওসমান হাদির কবর জিয়ারত সম্পন্ন করবেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি মহাসচিবসহ দলের সিনিয়র নেতারা।

তারেক রহমানের এই কবর জিয়ারতের জন্য শাহবাগ ছেড়ে আজিজ সুপার মার্কেটের সামনে অবস্থান নিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। হাদির কবর জিয়ারতের পর তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন কার্যক্রমে অংশ নিতে নির্বাচন কমিশনে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে ১টি আসনও ছাড়বেন না ইসলামী আন্দোলন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বরিশালের ছয়টি আসনে রাজনৈতিক উত্তেজনা বেড়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই প্রার্থী ঘোষণা ও প্রচারণায় মাঠে নেমেছে। সমমনা ইসলামী দলগুলোর মধ্যে আট-দলীয় জোট গঠনের আলোচনা থাকলেও বরিশালের সব আসন নিজেদের পক্ষে রাখতে অঙ্গীকার করেছে ইসলামী আন্দোলন।

বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমীর ও বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনের প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম জানান, “বরিশাল আমাদের জন্মভূমি এবং ইসলামী আন্দোলনের ঘাঁটি। দক্ষিণাঞ্চলে আমাদের সাংগঠনিক শক্তি ভালো। আমরা এখানে কোনো আসন ছাড়তে চাই না। দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি দুটি আসনে নির্বাচন করব। তবে জোট হলে কিছু ক্ষেত্রে সমঝোতার সম্ভাবনা আছে। যেখানে জামায়াত বা অন্য দল শক্তিশালী, সেখানে আমরা ছাড় দিতে পারি।”

সৈয়দ ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ আসনের পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। ২০০১ ও ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি তৃতীয় হন এবং প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল প্রায় ১১ শতাংশ। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি ২৭ হাজারের বেশি ভোট পান। সর্বশেষ ২০২৩ সালের বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ৩৩ হাজার ৮২৮ ভোট পান।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মুয়াযযম হোসেন হেলাল জানিয়েছেন, আট-দলীয় ইসলামী জোটে এখনও আসন বণ্টন চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসলে পরবর্তী নির্বাচনি কৌশল নির্ধারণ করা হবে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বরিশালের ছয়টি আসনে ইসলামী আন্দোলনের ভোটভিত্তি জামায়াতে ইসলামীর তুলনায় বেশি। ২০০১ সালে বরিশালে ইসলামী আন্দোলন ১১.৩০ শতাংশ ভোট পায়। ২০০৮ সালে ১১.৬০ শতাংশ ভোট পান। ২০১৮ সালে বরিশাল সদর আসনে ২৭ হাজার ৬২ ভোট প্রাপ্তি নিশ্চিত হয়। বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে প্রার্থীর ভোটভিত্তি প্রায় ৯.২০ শতাংশ। মোটমাটিভাবে বরিশাল বিভাগে ইসলামী আন্দোলনের গড় ভোটের হার ৮–১২ শতাংশের মধ্যে, যা জামায়াতে ইসলামীর তুলনায় বেশি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫