আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা রুখে দেওয়ার ঘোষণা এনসিপি আহ্বায়কের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, “যারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করবে, তাদের কঠোর হাতে দমন করা হবে। যদি ক্যান্টনমেন্ট বা ভারত আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার পথ করে দিতে চায়, তবে তাদেরও প্রতিহত করা হবে।”

শনিবার (২২ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর বকশিবাজারে কারা কনভেনশন সেন্টারে লালবাগ থানা এনসিপি আয়োজিত ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “শুধু আওয়ামী লীগ নয়, ফ্যাসিবাদের দোসরদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে। রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে আওয়ামী দোসরদের মুক্ত করতে হবে এবং যারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছে, তাদেরকেও শাস্তির আওতায় আনতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “যেসব প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালের আন্দোলনে স্বৈরাচারের সহযোগিতা করেছিল, সেসব প্রতিষ্ঠানের দোষীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনতে হবে।”

জুলাই বিপ্লবে শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠিত এই ইফতার ও দোয়া মাহফিলে এনসিপির কোতোয়ালি, বংশাল, লালবাগ, চকবাজার ও কামরাঙ্গীরচরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সাংবাদিকবান্ধব পরিবেশ গঠনে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, গণমাধ্যম মালিক, সম্পাদক ও অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে সাংবাদিকতার পরিবেশকে সাংবাদিকবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

শনিবার রাজধানীর তথ্য ভবনে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মৃত্যুবরণকারী সাংবাদিকদের পরিবার এবং অসুস্থ ও অসচ্ছল সাংবাদিকদের মাঝে কল্যাণ অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।

সাংবাদিকদের মানবেতর জীবনযাপন ও স্বল্প বেতনের বাস্তবতা

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. মাহফুজ আলম বলেন, “ঢাকা শহরের সাংবাদিকদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। আমি নিজেও সাংবাদিকতা করার চেষ্টা করেছি। তখন দেখেছি, ১০-১২ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করা হয় সাব-এডিটর বা নিউজরুম এডিটরের জন্য। এই বেতনে তো পরিবারের খরচ দূরের কথা, একটা ফ্ল্যাট ভাড়াও সম্ভব নয়।”

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের নিয়মিত বেতন-ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা থাকলে কল্যাণ অনুদান প্রদানের প্রয়োজন হতো না। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার কাজ করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।

গুজব প্রতিরোধ ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচারের আহ্বান

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, “সাংবাদিকদের কল্যাণে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। তবে গুজব ও অপপ্রচার মোকাবিলায় সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করতে হবে।”

অনুদান বিতরণ ও উপস্থিত ব্যক্তিত্ব

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন—গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, সাংবাদিক মুহাম্মদ খায়রুল বাশার, সাজিদ আরাফাত ও মীর মুশফিক আহসান।

অনুষ্ঠানে ৩৭৪ জন সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের মাঝে মোট ১ কোটি ৯৩ লাখ ৯০ হাজার টাকার অনুদান চেক বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ১১টি পরিবার মৃত্যুবরণকারী সাংবাদিকদের, আর ১৯২ জন সাংবাদিক বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গণমাধ্যম সংস্কারের নতুন প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করেছে। প্রতিবেদনে একাধিক সুপারিশের মধ্যে অন্যতম হলো—এক মালিকের একাধিক সংবাদমাধ্যম না রাখা, সাংবাদিকদের সুরক্ষায় নতুন আইন প্রণয়ন এবং টিআরপি যাচাইয়ের জন্য তৃতীয় পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

শনিবার দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার হাতে প্রতিবেদন তুলে দেন কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ। পরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের মালিকানায় কোনো পরিবর্তন আসেনি, যা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নিরপেক্ষতার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করছে। এক মালিকের একাধিক সংবাদমাধ্যম না রাখার সুপারিশ তুলে ধরে তিনি বলেন, মালিকদের একটিকে বেছে নিতে হবে অথবা অন্যগুলোর মালিকানা হস্তান্তর করতে হবে।

এছাড়া, সাংবাদিকদের সুরক্ষায় একটি পৃথক আইন প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নে যেমন সাংবাদিকদের ফোন তল্লাশি করা যায় না, তেমনই বাংলাদেশেও এমন আইন কার্যকর করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টেলিভিশন চ্যানেলগুলো অনুমোদনের জন্য জনগণের স্বার্থকে গুরুত্ব না দিয়ে কেবল সরকারের উন্নয়ন প্রচারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তাই গণমাধ্যম যেন নিরপেক্ষ থাকে, সে জন্য নতুন সম্প্রচার সংস্থা গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারকে স্বাধীন প্রতিষ্ঠানের আওতায় পরিচালনার সুপারিশ করেছে কমিশন। সরকারি বিজ্ঞাপন ও সংবাদমাধ্যমের সার্কুলেশন নিয়ে অনিয়মের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে সাংবাদিকদের বেতন কাঠামো নির্ধারণের বিষয়েও সুপারিশ করা হয়েছে। বিসিএস নবম গ্রেডের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা এন্ট্রি-লেভেলের সাংবাদিকদের জন্য নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, সংবাদপত্রের কর্পোরেট ট্যাক্স প্রত্যাহার করার সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে গণমাধ্যম শিল্পের ব্যয় কমে আসে এবং একটি সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




১৬ বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর আজকের পরিস্থিতি: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, “আমরা ১৬ বছর রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে আজকের এই পরিস্থিতিতে পৌঁছেছি। কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস আমরা নিতে পারছি।”

শনিবার (২২ মার্চ) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশে (আইইবি) আয়োজিত রুয়েটের প্রাক্তন ছাত্রদল (রুয়েট এক্স-জেসিডি অ্যাসোসিয়েশন) নেতাদের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

রিজভী আরও বলেন, “আমরা চাই ভবিষ্যতে যেন আরও বেশি স্বস্তির নিশ্বাস নিতে পারি এবং এটি যেন চিরস্থায়ী হয়। এজন্য অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, এবং ভিন্ন মতের প্রতি সহনশীলতা, অর্থাৎ গণতন্ত্রের উপাদানগুলো প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।”

তিনি বলেন, “স্বস্তির নিশ্বাস দীর্ঘ করতে হলে সামনে কিছুটা পথ আমাদের পাড়ি দিতে হবে। সেই পথ যাতে নির্বিঘ্নে পার করতে পারি, সেই প্রচেষ্টা আমাদের নিতে হবে। তা না হলে আমাদের মনে রাখতে হবে, পরাজিত স্বৈরাচারের দানব ঘুমিয়ে থাকলেও মাঝে মাঝে জেগে ওঠার চেষ্টা করে।”

রিজভী বলেন, “এই ঘুমন্ত দানবের যাতে প্রত্যাবর্তন না ঘটে এবং নব্য বাকশাল বা অগণতান্ত্রিক শক্তির পুনরুত্থান না ঘটে, সেজন্য আমাদের সকল মতপার্থক্য সত্ত্বেও সাধারণ ঐক্যের মধ্যে থাকতে হবে।”

রুয়েটের প্রাক্তন ছাত্রদল নেতা ও বিএনপির কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহসম্পাদক প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিএনপির কোষাধ্যক্ষ রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রকৌশলীদের সংগঠন অ্যাবের সাবেক মহাসচিব প্রকৌশলী আলমগীর হাছিন আহমেদ, প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন, প্রকৌশলী মাহবুব আলম, প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাজ্জাক রুহানি, শামীম রাব্বী সঞ্চয়, আব্দুল মোমিন তালকুদার প্রিন্সসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম 




রাজাপুরের হাজিবাড়ি মসজিদ: নান্দনিক স্থাপত্যে মুগ্ধ দর্শনার্থীরা

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলায় কানুদাসকাঠি গ্রামে অবস্থিত মনিরা হারুন জামে মসজিদ, স্থানীয়ভাবে হাজিবাড়ি মসজিদ নামে পরিচিত, বর্তমানে দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। অপূর্ব স্থাপত্যশৈলী এবং চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্যের কারণে মসজিদটি শুধু স্থানীয় মুসল্লিদেরই নয়, দূরদূরান্তের মানুষদেরও মুগ্ধ করছে।

১৯৮১ সালে সাবেক সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুনের বাবা মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন, এবং ২০২১ সালে নিজের অর্থায়নে এটি পুনর্নির্মাণ করেন। আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীর ছোঁয়ায় মসজিদটির গম্বুজ, মিনার এবং খোদাই করা নকশা সকলকে মুগ্ধ করে। মসজিদের ছাঁদে একই সাইজের চারটি মিনার এবং এক বড় গম্বুজ রয়েছে।

এটি অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিকভাবে অত্যন্ত মনোরম এবং আকর্ষণীয়। গম্বুজের সৌন্দর্য, সুদৃশ্য মিনার এবং কারুকার্যপূর্ণ কাজ দর্শকদের মুগ্ধ করে। মসজিদের নকশায় আধুনিকতার সাথে ঐতিহ্যকে সম্মিলিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা এটিকে অন্য যেকোনো মসজিদের থেকে আলাদা এবং অনন্য করে তুলেছে। নির্মাণের পর থেকেই মসজিদটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে, এবং এখানে প্রতিদিন বহু মানুষ নামাজ পড়তে আসছেন।

স্থানীয় মুসল্লি মো. সিদ্দিক মুনশি বলেন, “আগের মসজিদটি ছোট ছিল, জায়গা সংকুলান হতো না। এখন আল্লাহর রহমতে একটি সুন্দর ও প্রশস্ত মসজিদ পেয়েছি, যেখানে অনেক দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ এসে নামাজ আদায় করছেন।”

দর্শনার্থী মাহিন খান রোমান জানান, “ফেসবুকে দেখে এখানে এসেছি। সত্যিই মসজিদটি অসাধারণ! এত সুন্দর মসজিদ আগে কখনো দেখিনি। এখানে এলে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়।”

মসজিদের সভাপতি মাওলানা মোস্তাকিম বিল্লাহ জানান, “মরহুম মাওলানা আবদুর রব প্রথম মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। তার ছেলে ২০২১ সালে এটি পুনর্নির্মাণ করেছেন, যাতে আধুনিক স্থাপত্যের ছোঁয়া দেওয়া হয়েছে।”

এই মসজিদটি দক্ষিণ অঞ্চলের ইসলামি স্থাপত্যের একটি বিশেষ দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটি শুধু একটি উপাসনালয় নয়, বরং এক অনন্য স্থাপত্য নিদর্শনও। যারা সৌন্দর্য ও প্রশান্তির সন্ধানে আছেন, তাদের জন্য এটি একটি দর্শনীয় স্থান।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আগুনে পুড়ে শেষ সম্বল, রহিম-লিপির চরম দুর্ভোগ

ঝালকাঠি সদর উপজেলার পোনাবালিয়া ইউনিয়নের চর কুতুবনগর প্রকল্পের ৪৭ নম্বর ঘরে থাকা আব্দুর রহিম ও লিপি বেগমের সংসারের সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রান্নাঘরের আগুনে তাদের শেষ সম্বল হারিয়ে গেছে, আর এখন তারা পথে বসার অবস্থায়।

রান্নাঘরের আগুনে পুড়ে যায় আব্দুর রহিম ও লিপি বেগম দম্পতির ঘরের সবকিছু। ছবি: আজকের পত্রিকা

নিজস্ব জমি না থাকার কারণে এই দম্পতির ঠাঁই হয়েছিল সরকারী প্রকল্পের একটি ঘরে। আব্দুর রহিম পেশায় গাড়িচালকের সহকারী হলেও বয়স এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে বর্তমানে কাজ করেন না। তবে সরকারের দেওয়া ঘরের সামনে একটি ছোট দোকান দিয়েছিলেন, যা থেকে তাদের সংসার চলত। কিন্তু আজকের অগ্নিকাণ্ডে সব কিছু শেষ হয়ে গেছে।

আজ শনিবার দুপুরে আব্দুর রহিমের রান্নাঘর থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো ঘরে। যদিও প্রতিবেশীদের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়, কিন্তু ওই ঘরের সব কিছু পুড়ে গেছে। সৌভাগ্যক্রমে, অন্যান্য ঘরগুলো রক্ষা পেয়েছে।

প্রতিবেশীরা জানান, দুপুরে ইফতার ও রাতের খাবার রান্না করার সময় রান্নাঘরের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। তীব্র বাতাসের কারণে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং তাদের ঘরের তিনটি কক্ষসহ সবকিছু পুড়ে যায়। ঘরটি ছাড়া তাদের শরীরে পরিহিত জামাকাপড় ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট নেই।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে লিপি বেগম আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমরা কোথাও মাথা গোঁজার ঠাঁই না পেয়ে এই প্রকল্পের ঘরটিতে থাকতাম। আজ দুপুরে রান্না করার সময় হঠাৎ করে দমকা বাতাসের সঙ্গে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আমার সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। যে চাল কাল এনেছিলাম, তা-ও পুড়ে গেছে। এখন কী খাব, কোথায় থাকব, কিছুই বুঝে পাচ্ছি না।’

ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, ‘খবর পাওয়ার পর আমাদের টিম ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল। কিন্তু নদীপথের কারণে আমাদের পৌঁছানোর আগেই ঘরটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় বাকি ঘরগুলো রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।’

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটির জন্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।’


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরগুনায় সিন্ডিকেটের দাপটে ভোক্তারাও চড়া দামে কিনতে বাধ্য

বরগুনা জেলার কৃষি ক্ষেত্রে তরমুজ একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং লাভজনক ফসল। তবে এবছর আবারও তরমুজ চাষিরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, আর সিন্ডিকেটের গ্যারাকলে ভোক্তারা চড়া দামে তরমুজ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষ করে, রমজানের আগে আগাম তরমুজ চাষে উৎসাহী কৃষকরা এবারও সঠিক দাম পাচ্ছেন না, আর বাজারের দাম বেড়ে যাচ্ছে অতিরিক্ত।

গত কয়েক বছরে বৈরী আবহাওয়া ও বাজারজাতকরণের সমস্যায় পড়ার পর, এ বছর তরমুজের ফলন ভালো হওয়ার আশায় চাষিরা আগাম তরমুজ চাষ করেন। কিন্তু তাদের স্বপ্ন পূর্ণ হয়নি, কারণ তরমুজের দাম বাজারে ৪ থেকে ৫ গুণ বেড়ে যাচ্ছে। কৃষকরা যা ১৫০ টাকায় বিক্রি করছিলেন, তা খুচরা বিক্রেতারা ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি করছেন।

সরজমিনে তদন্ত করলে জানা যায়, কৃষক থেকে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত ৪ হাত ঘুরে তরমুজের দাম বেড়ে যাচ্ছে। কৃষকরা ১৫০ টাকায় তরমুজ বিক্রি করে থাকেন, আর সেই তরমুজ পাইকার ও আড়তদারের হাতে পৌঁছে গিয়ে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। খুচরা বিক্রেতা সেই তরমুজ ৫০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি করছেন। এর ফলে, কৃষকরা তাদের স্বপ্নের লাভ থেকে অনেক পিছিয়ে পড়ছেন, আর ভোক্তারা অতিরিক্ত দাম দিয়ে তরমুজ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

বরগুনার তরমুজ চাষিরা বলছেন, তারা বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রমের পরও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। একজন চাষি জানান, “আমরা এখানে তিন থেকে চার মাস কঠোর পরিশ্রম করি। সার ও কীটনাশকের দাম বেড়েছে, লেবার খরচও বেশি, অথচ পাইকাররা আমাদের কাছ থেকে তরমুজ ৮০-১২০ টাকায় কিনে আবার ৩০০ টাকায় বিক্রি করছে।”

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এবং কৃষি বিপণন কর্মকর্তা বলছেন, তারা বাজার মনিটরিং করছেন এবং নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন। তবে তাদের মতে, খুচরা বিক্রেতারা নিয়মিত দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন, যা তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না।

এদিকে কৃষি বিপণন কর্মকর্তার মতে, কৃষকদের লাভ এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

বরগুনায় এ বছর তরমুজের চাষ ১২,৩০০ হেক্টর জমিতে করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ১,৭০০ কোটি টাকা হতে পারে। কৃষকদের আশা, তারা তাদের ক্ষতি পূর্ণ করতে পারবেন। তবে এই দামে যারা লাভবান হচ্ছেন তারা হচ্ছে পাইকার এবং খুচরা বিক্রেতা, যারা কৃষকদের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত করছেন।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




“যেকোনো মূল্যে ঐক্য ধরে রাখতে হবে”: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “যেকোনো মূল্যে ঐক্য ধরে রাখতে হবে, যাতে পতিত স্বৈরাচারী শক্তি আমাদের কাঁধে চেপে না বসে।” তিনি আরো জানান, দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার (২২ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক ইফতার মাহফিলে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ১২ দলীয় জোট এই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছিল।

তারেক রহমান বলেন, “আমাদের রাজনৈতিক দলের মধ্যে ভিন্নমত থাকতে পারে, তবে সমস্যা সৃষ্টি হলে আলোচনা করে তা সমাধান করব। যেকোনো মূল্যে ঐক্য ধরে রাখতে হবে, যাতে স্বৈরাচারী শক্তি আমাদের পথ আটকে না দিতে পারে।” তিনি আরো যোগ করেন, “আমরা দেশের মানুষের জন্য এক আদর্শে একসাথে আছি, আমাদের মূল লক্ষ্য দেশের কল্যাণ।”

তিনি বলেন, “যে ঐক্য নিয়ে আমরা স্বৈরাচারকে বিদায় দিয়েছি, আসুন আমরা ঐক্য ধরে রাখি এবং জনগণের প্রত্যাশিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করি।”

তারেক রহমান আরো বলেন, “এক উদ্ভব পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে যেখানে সংস্কার এবং নির্বাচনকে মুখোমুখি দাঁড় করানো হচ্ছে। গণতন্ত্র মানে নির্ভয়ে নির্বাচন করা, কিন্তু বর্তমানে এটিকে সংস্কারের মুখোমুখি করা হচ্ছে।”

তিনি গত ২ বছরে রাষ্ট্র কাঠামো মেরামত করার জন্য বিএনপির ৩১ দফা প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, “বিএনপির মূল লক্ষ্য দেশের উন্নয়ন এবং জনগণের কল্যাণ।”

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, জামায়াতে ইসলামী, নাগরিক ঐক্য, নাগরিক পার্টি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক নেতারা।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




প্রাথমিক শিক্ষার মান না বাড়ায় উদ্বিগ্ন গণশিক্ষা উপদেষ্টা

প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত উন্নয়ন দৃশ্যমান হলেও, শিক্ষার মানের উন্নয়ন ঘটছে না বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। তিনি বলেন, “এ বিষয়টি নিয়ে আমরা গভীর উদ্বিগ্ন।”

শনিবার (২২ মার্চ) ময়মনসিংহের টাউন হলের তারেক স্মৃতি অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে জেলার বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণশিক্ষা উপদেষ্টা এ কথা জানান।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ের প্রাথমিক স্কুলের বিকল্প না থাকলেও, এখন মানুষ কিন্ডারগার্টেন এবং মাদরাসায় শিশুদের পাঠাচ্ছেন। সরকার প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক, উপবৃত্তি, বেতনহীন শিক্ষা প্রদান করছে, তবুও অভিভাবকরা কেন তাদের শিশুকে অন্য প্রতিষ্ঠানে পাঠাচ্ছেন, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, “আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার অবকাঠামো উন্নত, শিক্ষকরা দক্ষ, বেতন কাঠামোও ভালো, তবে সত্ত্বেও কেন অভিভাবকরা তাদের শিশুদের অন্য স্কুলে পাঠাচ্ছেন, তা স্পষ্ট নয়।”

ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার উল্লেখ করেন, মানসম্মত শিক্ষা সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণে ভূমিকা রাখবে এবং শিশুদের মাতৃভাষায় দক্ষতা অর্জন করা নিশ্চিত করা উচিত। যদি শিশুরা মাতৃভাষায় দক্ষ হয়, তাহলে তারা অন্যান্য ভাষায়ও পারদর্শী হতে পারবে।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা সভায় বিভাগের অন্যান্য নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন, যারা প্রাথমিক শিক্ষার উন্নতির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল

ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা তেঙ্গারা প্রদেশে লেওতোবি লাকি-লাকি আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাতে ছাইয়ের কুণ্ডলি আকাশে ৮ কিলোমিটার উচ্চতায় ছড়িয়ে পড়ায় বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে অঞ্চলটিতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

গত শুক্রবার (২২ মার্চ) বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, অস্ট্রেলিয়ার একটি বিমান সংস্থা কোয়ান্টাস এয়ারওয়েজ বালি থেকে আন্তর্জাতিক কিছু ফ্লাইট বাতিল করেছে। স্থানীয় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানান, গত শুক্রবার সকালে সাতটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয় এবং কিছু অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট বিলম্বিত হয়।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় ভূতাত্ত্বিক সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে লেওতোবি লাকি-লাকি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত শুরু হয়। এর আগে ১৩ মার্চ থেকেই সেখানে ছোট আকারে অগ্ন্যুৎপাত ঘটছিল। দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার তথ্য মতে, স্থানীয়দের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সময় একজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন, তবে সরিয়ে নেওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা এখনও জানানো হয়নি।

এটি প্রথমবার নয়, গত বছরের নভেম্বরেও লেওতোবি লাকি-লাকি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে আশপাশের গ্রামগুলিতে লাভার প্রবাহ ছড়িয়ে পড়েছিল, যা ৯ জনের প্রাণহানি ঘটিয়েছিল এবং হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

ইন্দোনেশিয়ায় প্রায় ১৩০টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি রয়েছে। এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অব ফায়ারে অবস্থিত, যেখানে ভূমিকম্পের সক্রিয়তা বেশি।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম