বরিশালের জনবান্ধব ইউএনও

বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এম মশিউর রহমান, তার কার্যকালে এক অভিনব সিদ্ধান্ত নিয়ে সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। তিনি সর্বোচ্চ দরদাতার পরিবর্তে সর্বনিম্ন দরদাতাকে খেয়াঘাট ইজারা দিয়ে সাধারণ মানুষের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, যা স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।
মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ২৩টি খেয়াঘাটের ইজারা দেওয়া নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয় ১২ ফেব্রুয়ারি, যার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। এখানে, খেয়াঘাটের নির্ধারিত সম্ভাব্য মূল্য ছিল ৪ লাখ ৮ হাজার ৯০০ টাকা। কিন্তু, সর্বোচ্চ দরদাতা জুয়েল মৃর্ধা ১২ লাখ ৩১ হাজার ৫০০ টাকা জমা দিয়ে এই খেয়াঘাট ইজারা পাওয়ার প্রার্থী ছিলেন। তবে, আশ্চর্যজনকভাবে তাকে ইজারা দেওয়া হয়নি, এবং সর্বনিম্ন দরদাতাকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।
এই সিদ্ধান্তের পর, জুয়েল মৃর্ধা তার অভিযোগ প্রকাশ করতে সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি দাবি করেন, যে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে তিনি ইজারা পাওয়ার যোগ্য ছিলেন, তবে তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তবে, তিনি আরও জানান যে, যদি তাকে ইজারা দেওয়া হতো, তবুও সাধারণ মানুষের ওপর তেমন কোনো প্রভাব পড়ত না। তার মতে, এই সিদ্ধান্ত সত্যিই সাধারণ মানুষের স্বার্থে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা দাবি করেন, যদি খেয়াঘাট ইজারা তিন গুণ বেশি দামে দেওয়া হতো, তবে তার চাপ সাধারণ মানুষের ওপর পড়ত। তারা আরো বলেন, এমন সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিদিনই ইজারাদারদের সঙ্গে বিবাদ হতে পারতো, যা মানুষকে আরও বেশি সমস্যায় ফেলত।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) বরিশাল জেলার সাধারণ সম্পাদক রনজিৎ দত্ত জানান, যদিও সরকারি নীতি অনুযায়ী সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজারা দেওয়ার নিয়ম, তবুও এখানে প্রশাসন স্থানীয় জনগণের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, প্রভাবশালীরা প্রায়ই সরকারি নীতি অমান্য করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন, যা সাধারণ মানুষকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
মেহেন্দীগঞ্জের বন্দর বাজারের ব্যবসায়ী মনির হোসেন স্বপনও একই রকম মত প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে ইজারা পাওয়ার ফলে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করতে হতে পারে। তাই, সর্বনিম্ন দরদাতাকে ইজারা দেওয়া ছিল বাস্তবসম্মত এবং মানবিক সিদ্ধান্ত।
এ বিষয়ে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এম এম মশিউর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, “নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ দরদাতাকে ইজারা দেওয়া হওয়ার কথা ছিল, তবে দরপত্রে অংশগ্রহণকারী তিনজনই বিধি অনুসরণ করে বৈধ কাগজপত্র জমা দিতে পারেননি। তাই, সর্বোচ্চ দরদাতা হলেও তারা যোগ্যতা হারিয়েছে। ফলে সর্বনিম্ন দরদাতাকে ইজারা দেওয়া হয়েছে।”
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








