স্বাধীনতার ৫০ বছর পর সন্দ্বীপে কার্যকর যাতায়াত ব্যবস্থা চালু, ‘লজ্জার বিষয়’: প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ রুটে ফেরি চালু হওয়ায় এখন সবাই নিরাপদে যাতায়াত করতে পারবেন। বিশেষ করে যারা শিশু, অসুস্থ বা বৃদ্ধ, তারা নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবেন। সন্দ্বীপ, যা বাংলাদেশের অন্যতম উপকূলীয় দ্বীপ, স্বাধীনতার অর্ধশতক পরেও এই দ্বীপের সঙ্গে কার্যকর যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। এটা একটা লজ্জার বিষয়, বলেন তিনি।
৫৪ বছর পর আজ চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌপথে ফেরি চালু হওয়ার পর সন্দ্বীপ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, ৫০ বছর পার হলেও শহর-বন্দরসহ সব কিছু চললেও সন্দ্বীপবাসীকে মধ্যযুগীয় কায়দায় যাতায়াত করতে হচ্ছিল। এই কলঙ্ক থেকে মুক্তি পাওয়া যাচ্ছে, এটি আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই ফেরি চালু হওয়ার মাধ্যমে সন্দ্বীপের মানুষ আর ভয় পাবে না। যাতায়াত সহজ হওয়ায় তারা এখন পরিবারসহ যেকোনো জায়গায় নিরাপদে যেতে পারবে। তিনি আরো বলেন, “সন্দ্বীপের লোক সারা পৃথিবী ঘুরে আসে, নিউ ইয়র্কসহ পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সন্দ্বীপের অনেক মানুষ রয়েছে। গর্ব করার মতো বিষয় হলো, চট্টগ্রাম শহরের কিছু সুযোগ-সুবিধা সন্দ্বীপেও পাওয়া যাচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, সন্দ্বীপের মানুষের জীবনযাত্রা অনেক কঠিন ছিল। সেখানে সরাসরি যান চলাচলের ব্যবস্থা ছিল না, যাতায়াত ব্যবস্থার অভাবে রোগীদেরও হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এখন ফেরি চালু হওয়ার ফলে এসব সমস্যা অনেকটাই দূর হবে।
তিনি বলেন, “এছাড়া, সন্দ্বীপকে নৌবন্দর ঘোষণা, কুমিরা গুপ্তছড়া ঘাট উন্মুক্ত করা, ঢাকা-কুমিরা বাস চালু করা, ফেরিঘাট এলাকায় সড়ক নির্মাণ এবং নৌপথে নিয়মিত ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।” এসব উদ্যোগ সন্দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমিয়ে আনবে।
অবশেষে তিনি বলেন, সন্দ্বীপের মানুষ রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। এখন তাদের জীবনযাত্রা আরও উন্নত হবে। তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান, নিজেদের উন্নয়নের জন্য কাজ করার জন্য এবং এই মাইলফলক অর্জনে সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম









