স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টার শ্রদ্ধা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতির বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বুধবার (২৬ মার্চ) সকাল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে রাষ্ট্রপতি ও ৬টার দিকে প্রধান উপদেষ্টা সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানান।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে কিছু সময় নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। এ সময় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর চৌকস একটি দল রাষ্ট্রীয় কায়দায় সালাম জানান। পরে রাষ্ট্রপতির স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে রাখা প্রদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন তারা।




গোলশূন্য ড্রয়ে সন্তুষ্ট বাংলাদেশ

এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে ০-০ গোলের ড্র করেছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে একের পর এক সুযোগ সৃষ্টি করেও গোলের দেখা পায়নি লাল-সবুজের দল। দ্বিতীয়ার্ধে ভারত কিছুটা আধিপত্য বিস্তার করলেও ম্যাচে আর কোনো দলই গোল করতে পারেনি।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ভারতের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতেই সুযোগ আসে বাংলাদেশের সামনে। মাত্র ৩১ সেকেন্ডে জনি ভারতীয় গোলরক্ষকের ভুল পাস পেয়েও তা গোলে পরিণত করতে ব্যর্থ হন। এরপর একাধিক সুযোগ পেলেও বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরা তা কাজে লাগাতে পারেননি। ইমন হেড থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন, হৃদয়ের শট লক্ষ্যে থাকলেও ভারতের রক্ষণভাগ সেটি প্রতিহত করে।

প্রথমার্ধে বেশ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে বাংলাদেশ। মাঝমাঠের দখলও ছিল বেশি। অন্যদিকে, ভারত রক্ষণাত্মক কৌশলে খেললেও মাঝে মাঝে আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেছিল। তবে বাংলাদেশি ডিফেন্ডাররা সহজেই প্রতিহত করেন প্রতিপক্ষের প্রচেষ্টা।

প্রথমার্ধের সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে তপু বর্মনের চোটে। অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডারকে ম্যাচের শুরুতেই মাঠ ছাড়তে হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কিছুটা ভারত নিয়ে নেয়। ৫৭ মিনিটে ডি-বক্সের ভেতরে সুনীল ছেত্রীর হেড ভয় ধরিয়েছিল বাংলাদেশের রক্ষণভাগে। তবে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা হামজা চৌধুরীর অসাধারণ ট্যাকলে সে যাত্রায় রক্ষা পায় বাংলাদেশ। ৬০ মিনিটে জনির বাড়ানো বল একটুর জন্য পাননি রাকিব।

৭১ মিনিটে ম্যাচের সবচেয়ে বড় সুযোগ পেয়েছিল ভারত। ডি-বক্সের বাইরে হৃদয় পিছলে গেলে প্রতিপক্ষ সুবিধাজনক জায়গায় বল পেয়ে যায়। তবে হৃদয় দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে দুর্দান্ত এক ট্যাকলে দলকে রক্ষা করেন। ৮৫ মিনিটে মাঠ ছাড়েন ভারতের অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার সুনীল ছেত্রী।

অতিরিক্ত সময়ে বাংলাদেশের রাকিব গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ম্যাচ ০-০ গোলে ড্র হয়।

হামজা চৌধুরীর অভিষেক ম্যাচে জয় চেয়েছিল বাংলাদেশ। যদিও প্রত্যাশা পূরণ হয়নি, তবে ভারতের মাঠে পয়েন্ট পাওয়া দলের জন্য ইতিবাচক দিক।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিধবা রাজিয়া বেগমের মানবেতর জীবন: ভাঙা ঘরে দিন কাটছে একাকী

একটি জরাজীর্ণ ঘরে একা বসবাস করছেন ষাটোর্ধ বিধবা রাজিয়া বেগম। ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের পুটিয়াখালি গ্রামের মৃত মজিদ হাওলাদারের স্ত্রী, রাজিয়া বেগমের জীবন কাটছে দারিদ্র্য ও অসহায়ত্বের মধ্যে। যে ঘরে তিনি বসবাস করেন, তা এতই জরাজীর্ণ যে, যে কোনো সময় তা ভেঙে পড়তে পারে। মাথার উপর ফাটা টিনের ছাউনি, দেয়ালে বাঁশের জীর্ণ কাঠের অবলম্বন এবং টুকরো টুকরো পলিথিনে ঘেরা, এ যেন দারিদ্র্যের এক ভয়াবহ চিত্র।

এক যুগ আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর রাজিয়া বেগমের জীবন একেবারে নিঃসঙ্গ হয়ে গেছে। তার কোনো সন্তান নেই, এবং আজও তিনি বিধবা বা বয়স্ক ভাতা পাননি। সরকারি সাহায্য বা সমাজের সহযোগিতা কিছুই নেই। এর মধ্যে তার একমাত্র সহায় ছিল প্রতিবেশীদের সহযোগিতা, কিন্তু সে সাহায্যও সীমিত। শীত, গ্রীষ্ম এবং বর্ষায় এই ভাঙা ঘরে তার জীবন এক তীব্র সংগ্রামের মতো। ঘরের মধ্যে জীর্ণ অবস্থায় থাকা তার জন্য অনেকটাই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এ সময় তিনি বলেন, “দশ বছর আগে আমার স্বামী মারা গেছেন। আমি একাই স্বামীর ভিটায় আছি। কোনো সন্তান নেই, আর সরকারি কোনো সাহায্যও পাই না। কেউ কেউ খাবার দেন, কেউ সামান্য টাকা-পয়সা দেন, আবার বৃষ্টির সময় আশ্রয় দেয়। এভাবেই দিন কাটছে।”

রাজিয়া বেগমের কাছে একটি ঘর, যেখানে ঝড়-বৃষ্টি এসে তাকে কষ্ট না দেয়, এমন একটি স্বপ্ন রয়েছে। তার এই স্বপ্ন পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জীবন এক গভীর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে চলেছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা মারুফ বিল্লাহ বলেন, “রাজিয়া বেগম পলিথিনে মোড়ানো ঘরে বসবাস করছেন। বর্ষায় ঘরে পানি ঢুকে যায় এবং শীতে শীতল বাতাসে কাঁপতে হয়। সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমরা চেষ্টা করছি তার জন্য একটি ঘর তৈরি করার। বিত্তবানরা যদি সহযোগিতা করেন, তবে তার থাকার জায়গার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।”

রাজিয়া বেগমের প্রতিবেশী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “বৃষ্টি হলে ঘরের সব কিছু ভিজে যায়। তখন তাকে আমার ঘরে আশ্রয় নিতে হয়। আমরা চেষ্টা করি তাকে সাহায্য করতে, কিন্তু তেমন কোনো সরকারি সাহায্য নেই। সরকার যদি তাকে ঘর দেয়, তাহলে তার একটু আশ্রয়ের ব্যবস্থা হতে পারতো।”

পুটিয়াখালী ভলান্টিয়ার্স সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সৈয়দ শাহাদাত বলেন, “রাজিয়া বেগমের জীবন এক নিঃসঙ্গ যন্ত্রণা। সরকারী সহায়তা পেলে তার জীবন কষ্টমুক্ত হতে পারে। সামাজিক সহায়তায় তার জন্য একটি ঘর তৈরি হলে তার জীবন কিছুটা শান্তিপূর্ণ হবে।”

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম জানান, রাজিয়া বেগম বিধবা ভাতার জন্য কখনো তার কাছে আসেননি এবং সরকারের তরফ থেকে গত ৪ বছর ধরে বিধবা ভাতা প্রদান বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহুল চন্দ বলেন, “রাজিয়া বেগমকে তার বসতঘর মেরামত করার জন্য টিন দেওয়া হবে এবং ঈদ উপলক্ষে তাকে ১০ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে তাকে আরও সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হবে।”

এমতাবস্থায়, স্থানীয় প্রশাসন এবং সমাজের বিত্তবানদের প্রতি অনুরোধ, রাজিয়া বেগমের জন্য একটি নিরাপদ ঘরের ব্যবস্থা করতে এগিয়ে আসুন, যাতে তিনি তার শেষ বয়সে শান্তিতে জীবন কাটাতে পারেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 হজযাত্রা নিরাপদ করতে সরকার একটি মোবাইল অ্যাপ তৈরি করেছে

পবিত্র হজযাত্রাকে আরও মসৃণ এবং নিরাপদ করতে বাংলাদেশ সরকার একটি নতুন মোবাইল অ্যাপ তৈরি করেছে। এই অ্যাপটি হজযাত্রীদের যাত্রার পূর্ব, চলাকালীন এবং ফিরে আসার পরেও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে, বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) মহান স্বাধীনতা দিবস ও পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, “হজ মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে গভীর আধ্যাত্মিক সফরগুলোর মধ্যে একটি। তবে অনেক সময় বাংলাদেশের হাজিরা ভাষাগত বাধা, স্বাস্থ্যঝুঁকি, অতিরিক্ত ভিড়, প্রশাসনিক জটিলতা এবং লজিস্টিক সমস্যার সম্মুখীন হন।” তিনি আরও জানান, এই অ্যাপটি বাংলা ভাষায় রিয়েল-টাইম নির্দেশনা এবং সহায়তা প্রদান করবে এবং এটি সরকার-সমর্থিত বিশেষ ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে বিদেশে আর্থিক লেনদেনের ব্যবস্থা করবে। এছাড়া, হাজির লাগেজ হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমাতে লাগেজ ট্র্যাকিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে হজযাত্রীরা প্রতিদিনের করণীয়, যাতায়াতের বিস্তারিত বিবরণ, এবং কোন দোয়া পড়তে হবে, তা জানতে পারবেন। এছাড়া, বিভিন্ন পবিত্র স্থান সম্পর্কিত ছবিসহ ইতিহাস ও তথ্য প্রদান করা হবে। যদি হাজিদের কোনো প্রশ্ন থাকে, তারা কল সেন্টারের মাধ্যমে তা জানতে পারবেন এবং শারীরিক সমস্যা হলে ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগও করা যাবে।

ড. ইউনূস আরও বলেন, “হজের মূল লক্ষ্য যেন ভ্রমণের দৈনন্দিন ঝামেলা দ্বারা বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সকল ব্যবস্থাই এই অ্যাপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে ৮৭ হাজার ১শ’ জন হজের জন্য চূড়ান্ত নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ২শ’ জন এবং বেসরকারিভাবে নিবন্ধন করেছেন ৮১ হাজার ৯শ’ জন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সামগ্রিক ঐক্য পলাতক শক্তির গায়ে জ্বালা ধরিয়ে দিচ্ছে’: ড. মুহাম্মদ ইউনূস

বাংলাদেশে রাজনৈতিক এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর সামগ্রিক ঐক্য সৃষ্টি হওয়ায় পলাতক শক্তির গায়ে জ্বালা ধরেছে, এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এই কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, “আমাদের সামগ্রিক ঐক্য পলাতক শক্তির গায়ে জ্বালা ধরিয়ে দিচ্ছে। তারা এই ঐক্য ভাঙতে চায় এবং এর জন্য তারা অভিনব কৌশল অবলম্বন করছে।” তিনি আরো যোগ করেন, “আপনি টেরও পাবেন না, কখন তারা আপনাকে পুতুল বানিয়ে ফেলবে। আমাদের সচেতনতা এবং ঐক্য দিয়েই পলাতক অপশক্তির ষড়যন্ত্রকে ব্যর্থ করে দিতে হবে।”

এছাড়া, গুজবের বিষয়ে ড. ইউনূস সতর্ক করে বলেন, “দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য একের পর এক মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। বিভিন্ন ঘটনার ছবি জুড়ে দেয়া, এক দেশটির ঘটনা অন্য দেশের হিসেবে চালিয়ে দেয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় সৃষ্টি করার মতো অভিনব প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচনের সময় এই গুজব আরো ভয়ংকর রূপ নিতে পারে।”

ড. ইউনূস তার বক্তব্যে আরো বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম পর্ব সফলভাবে শেষ হয়েছে এবং দ্বিতীয় পর্ব শুরু হয়েছে। আমরা যুদ্ধাবস্থায় আছি। গুজবই হলো জুলাই অভ্যুত্থানকে ব্যর্থ করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। গুজব দেখা মাত্র তার উৎস খুঁজে বের করুন এবং গুজবকে অবহেলা করবেন না। বহু অভিজ্ঞ সমর বিশারদ এবং সীমাহীন অর্থ এই গুজবের পেছনে কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য, জুলাই অভ্যুত্থানকে সফল করা, এবং তা ব্যর্থ হতে দেয়া যাবে না।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 ভোলায় তরমুজের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

ভোলায় এবছর তরমুজের ফলন আশাতীত ভাবে বেশি হয়েছে, যার ফলে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ভালো ফলন হওয়ায় তরমুজ শুধু স্থানীয় চাহিদা পূরণ করছে না, বরং দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও সরবরাহ হচ্ছে। তরমুজ চাষীরা যেমন খুশি, তেমনি রোজায় তরমুজ পেয়ে খুশি ক্রেতারা।

ভোলা, মেঘনা, তেঁতুলিয়া এবং সাগর বেষ্টিত এক বৃহত্তম দ্বীপ জেলা। এখানকার কৃষকরা প্রতিবছরই বিভিন্ন রবি শস্যের সঙ্গে তরমুজ চাষ করেন। তবে আবহাওয়া থেকে তরমুজ চাষ অনেকাংশেই নির্ভরশীল, তাই অনেক সময় কৃষকরা ঝুঁকির মুখে পড়েন। কিন্তু এ বছর আগাম চাষ করার কারণে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের আগে তরমুজ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন কৃষকরা। রোজার মাসে ভালো দাম পাচ্ছেন, ফলে তাদের লাভও হচ্ছে।

কৃষকরা আশাবাদী, যদি আবহাওয়া আরও এক মাস অনুকূল থাকে, তবে তারা পূর্বের লোকসান কাটিয়ে অনেকটা সঞ্চয় করতে পারবেন। তবে যদি কোনো প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হন, তাহলে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।

ভোলা সদরের বাঘমারা চরের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, তিনি এবছর ১৮ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন এবং এতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৮ লাখ টাকা। তরমুজের ফলন খুব ভালো হওয়ায় তিনি ইতোমধ্যে তার মূল পুঁজির তিনভাগ ফেরত পেয়েছেন এবং আরও লাভের আশা করছেন। একইভাবে সদর উপজেলার মাঝের চরেও তরমুজের ভালো ফলন হয়েছে। সেখানে কৃষক আবু তাহের ৪ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন এবং তারও ফলন আশাব্যঞ্জক।

এ বছর ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় সবচেয়ে বেশি তরমুজের ফলন হয়েছে। যদিও কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন, তবে কিছু দুষ্কৃতকারী তরমুজ চাষিদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করছে, যা নিয়ে স্থানীয়রা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডক্টর শামিম আহমেদ জানান, এ বছর তরমুজের বাম্পার ফলনের জন্য কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ এবং প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ভালো আবহাওয়ার কারণে তরমুজের ফলন বেড়েছে।

তিনি জানান, এবছর ভোলায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তবে এখন পর্যন্ত ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ উৎপাদিত হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভুয়া ভিসা ও বিএমইটি স্মার্টকার্ড তৈরি চক্রের ৩ সদস্য গ্রেফতার

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভুয়া ভিসা ও জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ভুয়া স্মার্টকার্ড তৈরি চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এ চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে লোকজনের সাথে প্রতারণা করে আসছিল।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) বিকেলে ডিএমপির উপ কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান গ্রেফতারের খবর নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রোববার মিরপুর এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এই তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিবি মিরপুর বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ, গাড়ী চুরি প্রতিরোধ ও উদ্ধার টিম জানায়, কিছু অবৈধ এজেন্সি লাইসেন্স ছাড়া ভুয়া বিএমইটি স্মার্টকার্ড ও জাল ভিসা তৈরি করে লোকজনকে প্রতারণা করছে। তাদের প্রথম গ্রেফতার করা হয় শিউলি আক্তারকে, যিনি মিরপুর মডেল থানাধীন ডাচ বাংলা ব্যাংকের শাখা থেকে আটক হন। এরপর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুরান পল্টনে অবস্থিত একটি অফিস থেকে মো. ওমর ফারুককে গ্রেফতার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে ওমর ফারুক জানায়, সে অবৈধভাবে বিএমইটি স্মার্টকার্ড ও জাল রাশিয়ান ভিসা তৈরি করে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির কাছে সরবরাহ করত। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী শাকিল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়, এবং তার অফিস থেকে বেশ কিছু কম্পিউটার, ২৩টি বিএমইটি স্মার্টকার্ড, দুটি মোবাইল ফোন ও ভুয়া ওয়েবসাইটে ব্যবহৃত সিডি জব্দ করা হয়।

শাকিল হোসেন জানান, তার বাসায় ১৪টি ভুয়া ভিসা সম্বলিত পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়, যা তিনি অবৈধভাবে তৈরি করেছিলেন। গ্রেফতারকৃত শিউলি আক্তারের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিজয়নগর এলাকায় তার অফিসে অভিযান চালিয়ে আরও কিছু ভুয়া পাসপোর্ট এবং মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ভুয়া ভিসা ও বিএমইটি স্মার্টকার্ড তৈরি করে লোকজনকে প্রতারণা করছে এবং ১০-১২ জন এজেন্টের মাধ্যমে প্রায় ২০০-২৫০ জন লোকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে স্বীকার করেছে তারা।

এ ঘটনায় পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন। চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মানববন্ধন করতে এসে অভিযুক্ত নারীকে পেয়ে মারধর

ভোলায় বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করতে এসে অভিযুক্ত নারীকে পেয়ে মারধরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মারধরের শিকার ওই নারীকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত নারীর নাম নাজনীন (৩৫)। তিনি ভোলা পৌর ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ভদ্রপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের খাবার হোটেল ব্যবসায়ী নাঈম ও তার পরিবারের সদস্যরা দুপুরের দিকে ভোলা প্রেসক্লাবের সামনে ওই নারীর বিরুদ্ধে মানবন্ধন করতে আসেন। এসময় ওই নারী এলে মানববন্ধনে আসা কয়েকজন নারীর সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নাজনীনকে মারধর করেন মানববন্ধনে আসা কয়েকজন নারী ও দুই কিশোর। পরে কয়েকজন পথচারী ওই নারীকে ছাড়িয়ে আনেন।

আহত নারী নাজনীন বলেন, ‘আমাকে বেশ কিছুদিন ধরে ফোনে বিরক্ত করছিলেন খাবার হোটেল ব্যবসায়ী নাঈম। ১৭ মার্চ সন্ধ্যায় আমার বাড়িতে গিয়ে কুপ্রস্তাব দেন। পরে আমি কয়েকজনকে জানালে তারা এসে নাঈমকে আমার ঘরে পান। এরপর আমি নাঈমকে জুতাপেটা করি, যাতে তিনি আর এমন কাজ করার সাহস না পান। পরে তিনি আমিসহ উপস্থিত সবার কাছে মাফ চেয়ে চলে যায়। এ ঘটনায় নাঈম ও তার পরিবার ক্ষিপ্ত হয়ে আজ মানববন্ধনের আয়োজন করে। সেখানে আমাকে মারধর করেছেন।’

তবে অভিযুক্ত নাঈম ও তার পরিবারের দাবি, মানববন্ধন করতে গেলে নাজনীন এসে হুমকি ও মানববন্ধন পণ্ড করতে চান। পরে তার সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয়। পরে তারা মানববন্ধন শেষ করে চলে যান।

ভোলা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাত হাসনাইন পারভেজ জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন। কিন্তু কেউ এখনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




সেনাবাহিনী সবসময় দেশমাতৃকার কল্যাণে পাশে থাকবে: সেনাপ্রধান

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, “সমরে আমরা, শান্তিতে আমরা, সর্বত্র আমরা দেশের তরে” এই মূলমন্ত্র বুকে ধারণ করে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের কল্যাণে সবসময় পাশে থাকবে।

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) ঢাকা সেনানিবাসে আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ৭২ জন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন, পাশাপাশি সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এই আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী যোদ্ধারা জাতির গর্ব হয়ে উঠেছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই আন্দোলনে তরুণ সমাজ শুধু অংশগ্রহণ করেনি, বরং তাদের এই কর্মসূচি সত্য ও সঠিক পথে ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায় করার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা জুলাই যোদ্ধাদের স্বপ্ন পূরণে পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”

তিনি দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ, সততা, মানবিকতাবোধ ও নিয়মানুবর্তিতার সমন্বয়ে সবাই একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করলে আমাদের দেশ একটি সুখী ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।”

সেনাপ্রধান সবশেষে, দেশকে আরো উন্নত করতে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পক্ষ থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহত ও নিহত যোদ্ধাদের প্রতিটি পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম 




গণতন্ত্রের পথে চলার সুযোগ তৈরি হয়েছে: তারেক রহমান

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “ফ্যাসিবাদের পতনের পর এখন সুযোগ এসেছে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে আরও মজবুত করার।”

মঙ্গলবার (২৫ মার্চ) দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী স্বাক্ষরিত এক বানীতে তারেক রহমান এই বক্তব্য দেন।

তিনি জানান, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস আমাদের জাতীয় জীবনে একটি নতুন সূর্যের উদয় ঘটায়। হাজার বছরের সংগ্রামের ফলস্বরূপ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আমাদের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন। স্বাধীনতা দিবসে তিনি দেশবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান।

তারেক রহমান বলেন, “আজকের দিনে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের আত্মদানকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। এই দিনে তাদের অবিস্মরণীয় আত্মদানেই দেশমাতৃকার মুক্তি অর্জিত হয়েছে।” তিনি বিশেষভাবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

তিনি আরও বলেন, “মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। তাঁর ঐতিহাসিক ঘোষণায় জাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছিল।” তবে, গণতন্ত্রবিনাশী শক্তির চক্রান্ত এখনও থেমে নেই।

তারেক রহমান দাবি করেন, একদলীয় শাসনব্যবস্থার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অবৈধ সরকার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠান ভেঙে ফেলেছে, যার ফলে দেশের মানুষ স্বাধীনতার সুফল এখনও পুরোপুরি ভোগ করতে পারেনি।

তিনি বলেন, “আজকের দিনে আমাদের সকল দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দল, সংগঠন, ব্যক্তি এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্রের পথে চলার এবং স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সংহত করার জন্য কাজ করতে হবে। এটিই স্বাধীনতার মূল চেতনা।”

শেষে, তিনি দেশবাসীকে একত্রিত হয়ে ‘৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা বহুমত ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান। তিনি দেশের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম