ঢাকায় আসছে আইএমএফের প্রতিনিধি দল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : চলমান ৪৭০ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণ কর্মসূচির আওতায় আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে বাংলাদেশ ২৩৯ কোটি ডলার কিস্তির অর্থ পাবে। তবে অর্থ ছাড়ের আগে বিভিন্ন শর্ত পর্যালোচনা করতে আইএমএফের প্রতিনিধি দল ৬ এপ্রিল ঢাকায় আসছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গত ৮ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর আইএমএফের বড় কোনো দলের ঢাকায় এটি দ্বিতীয় সফর।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে জানা গেছে, ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির অর্থ ছাড়ের আগে শর্তগুলো পর্যালোচনার জন্য আইএমএফের দলটি ঢাকায় আসছে। এই দলটি ৬ এপ্রিল থেকে দুই সপ্তাহব্যাপী সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে বৈঠক করবে।




দেশে ফিরলেন প্রধান উপদেষ্টা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দুই দিনের থাইল্যান্ড সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। তিনি ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (বিমসটেক) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, প্রধান উপদেষ্টা ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইট শুক্রবার রাত ১০টা ৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

সফরকালে অধ্যাপক ইউনূস বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের পাশাপাশি বিমসটেক ইয়ং জেনারেশন ফোরামে বক্তব্য রাখেন।

শীর্ষ সম্মেলনে দেওয়া ভাষণে তিনি সদস্য দেশগুলোর প্রতি পারস্পরিক স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে আঞ্চলিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে সবাই লাভবান হতে পারে।

এছাড়া তিনি থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়েতংটার্ন সিনাওয়াত্রার কাছ থেকে আগামী দুই বছরের জন্য বিমসটেকের সভাপতিত্ব গ্রহণ করেন।

সফরের সময় অধ্যাপক ইউনূস ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।

তাছাড়া তিনি থাইল্যান্ড, ভুটান ও শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এবং বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্রা মণি পান্ডের সঙ্গে বৈঠক করেন।

থাইল্যান্ডের সামাজিক উন্নয়ন ও মানব সুরক্ষা মন্ত্রী ভারাউত শিলপা-আর্চা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংযুক্ত মন্ত্রী জিরাপর্ন সিন্ধুপ্রাই-ও অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

অধ্যাপক ইউনূস গত বৃহস্পতিবার বিমসটেক সম্মেলনে অংশ নিতে ব্যাংকক পৌঁছান।




বিমসটেক সম্মেলনে থাই ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইউনূসের বৈঠক

ব্যাংককে অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ বিমসটেক সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস একাধিক রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।

শুক্রবার থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পায়েতংতার্ন সিনাওয়াত্রা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন অধ্যাপক ইউনূস। পাশাপাশি তিনি ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গেও বৈঠক করেন।

এর আগের দিন, বৃহস্পতিবার, থাইল্যান্ডের সামাজিক উন্নয়ন ও মানব নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ভারাওয়াত সিল্পা-আর্চা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সম্পর্কিত মন্ত্রী জিরাপর্ন সিন্ধুপ্রাই অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




৪০ মিনিটের বৈঠক, আলাপ হলো কী নিয়ে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের শেষ দিন বৈঠক হয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহম্মদ ইউনূস এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। গত বছর আগস্টে ড. ইউনূস ক্ষমতা গ্রহণের পর এই প্রথম বৈঠক হলো বাংলাদেশ ও ভারতের দুই শীর্ষ নেতার।

এটি অবশ্য নির্ধারিত কোনো বৈঠক ছিল না; অর্থাৎ নরেন্দ্র মোদি কিংবা ড. মুহম্মদ ইউনূস— কারো সফরসূচিতেই এ বৈঠকের উল্লেখ ছিল না। দুই দেশের কূটনৈতিক কর্মকর্তাদের প্রচেষ্টার ফলেই সম্ভব হয়েছে দুই নেতার সাক্ষাৎ।

সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতের জাতীয় দৈনিক দ্য হিন্দু জানিয়েছে, ড. মুহম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের স্থায়িত্ব ছিল ৪০ মিনিট। পরে নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিক্রম মিশ্রি মন্ত্রণালয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “বৈঠকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন একটি স্থিতিশীল, শান্তিপূর্ণ, প্রগতিশীল এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনে ভারত সবসময় সহযোগিতা করবে। তিনি আরও বলেছেন যে ভারত দুই দেশের জনগণকেন্দ্রীক সম্পর্ক চায় এবং বিশ্বাস করে যে পারস্পরিক সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকলে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে দুই দেশের জনগণ।”

“প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক চায় ভারত। বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দেশটির সরকারপ্রধানকে অনুরোধ করেছেন তিনি। পাশাপাশি দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কলুষিত করতে পারে— এমন মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার আহ্বানও জানিয়েছেন।”

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি চীন সফরে গিয়ে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় ৭ রাজ্য বা সেভেন সিস্টার্স নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন ইউনূস। ভারতের রাজনীতিবিদরা বিষয়টি ভালোভাবে নেননি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ব্যাপক সমালোচনা করেছেন। ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের সময়ে সেদিকেই ইঙ্গিত দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।

এদিকে ড. মুহম্মদ ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সময় বর্তমানে সেখানে আশ্রিত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে প্রত্যার্পণ, তাকে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকার নির্দেশ প্রদান, সীমান্তে হত্যা বন্ধ করা, গঙ্গা চুক্তির নবায়ন ও তিস্তা চুক্তি স্বাক্ষরসহ বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সংক্রান্ত ইস্যু উত্থাপন করেছেন ইউনূস।

এসব ইস্যুর মধ্যে শেখ হাসিনাকে প্রত্যার্পণের ব্যাপারটি বিশেষভাবে উল্লেকযোগ্য। শিক্ষার্থী-জনতার ব্যাপক অভ্যুত্থানের মুখে টিকতে না পরে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে বেরিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। বর্তমানে নয়াদিল্লির একটি সুরক্ষিত এলাকায় আছেন তিনি।

তাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য গত ছয় মাসে কূটনৈতিক পন্থায় একাধিকবার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু সেসব সফল হয়নি।

শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার প্রত্যার্পণ নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারপ্রধানের মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে তা জানতে চান সাংবাদিকরা।

জবাবে বিক্রম মিশ্রি স্বীকার করেন যে এ ইস্যুতে তাদের মধ্যে কথাবার্তা হয়েছে, তবে কী কথা হয়েছে— সে সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি।




যুব ক্ষমতায়ন ও পরিবেশ রক্ষায় এক অদম্য তরুণ আরিফুর রহমান শুভ

আরিফুর রহমান শুভ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার তিমিরকাঠি গ্রামের এক প্রত্যন্ত পরিবেশে ২০০০ সালের ৭ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করার প্রবল ইচ্ছা তাকে ইয়ুথনেট গ্লোবালের নেতৃত্বে পৌঁছে দিয়েছে। এই আন্তর্জাতিক সংগঠন বর্তমানে ৫০টি জেলা ও ১১টি দেশে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, যেখানে যুব উন্নয়ন, সবুজ দক্ষতা এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে তার অসাধারণ অবদান রয়েছে। আরিফুর রহমান বাংলাদেশ যুব রেডক্রিসেন্টের বরিশাল সদর উপজেলার দলনেতা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০০৭ সালের সিডর দুর্যোগ তার জীবনের গতিপথ পরিবর্তন করে। পরিবার-পরিজনসহ ঘরবাড়ি হারানোর অভিজ্ঞতা তাকে জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবিক সংকটের ভয়াবহতা বুঝতে শেখায়। এই অভিজ্ঞতা থেকেই আরিফুর রহমান জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কাজ করার সংকল্প নেন। পরবর্তীতে তিনি ইয়ুথনেট গ্লোবালের মাধ্যমে যুবদের সবুজ দক্ষতা, টেকসই কৃষি, সৌরবিদ্যুৎ এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তির ব্যবহারে দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন। তার নেতৃত্বে মানতা সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে খাদ্য, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসন সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

শুভ ২০১৬ সালে ইয়ুথনেট গ্লোবাল প্রতিষ্ঠা করেন, যা জলবায়ু পরিবর্তন, মানবাধিকার, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও নারী ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তার নেতৃত্বে সংগঠনটি ৬ হাজারেরও বেশি তরুণকে সক্রিয়ভাবে করেছে এবং ২০,০০০ যুবককে সবুজ দক্ষতা ও আত্মকর্মসংস্থানে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। ২০১৯ সালে জলবায়ু ধর্মঘটের আয়োজনের মাধ্যমে বৈশ্বিক আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে, যা লাখো তরুণের মাঝে পরিবেশগত সচেতনতা তৈরি করেছে।

২০২৪ সালের ইয়াং অ্যাক্টিভিস্ট সামিটে বিশ্বের সেরা পাঁচটি তরুণ সংগঠনের মধ্যে ইয়ুথনেট গ্লোবালকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। আরিফুর রহমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্মেলনে যুব ক্ষমতায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন।

আরিফুর রহমান ২০২৪ সালে ছাত্র ও যুব নেতৃত্বে গণআন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। সহযোদ্ধা ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণের মৃত্যুর পরও তিনি দৃঢ় নেতৃত্ব অব্যাহত রাখেন। তার নেতৃত্বে এই আন্দোলন সমাজের প্রতি অঙ্গীকার এবং পরিবর্তনের জন্য প্রজ্ঞামূলক আহ্বান হিসেবে চিহ্নিত হয়।
বর্তমানে তিনি একজন অনুপ্রেরণাদায়ী যুব নেতা, যিনি জলবায়ু পরিবর্তন ও সামাজিক ন্যায়ের জন্য যুবদের একত্রিত করেছেন। তার সংগ্রামী জীবন ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি তরুণদের নতুন পথ দেখাচ্ছে এবং সাহসী উদ্যোগ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারে সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য: ব্যারিস্টার ফুয়াদ

আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এর -সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন,গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের পথে আমাদের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে। এই যাত্রায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। স্বাধীন সাংবাদিকতা টিকে থাকলেই জনগণের সত্য জানার অধিকার রক্ষা পাবে।

বৃহস্পতিবার ( ৩ এপ্রিল) দুপুরে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বরিশাল জেলা ও মহানগরের সাংবাদিক ও সুধীজনদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভার আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন,আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে গণতন্ত্র কেবল নামমাত্র থাকবে না, বরং তা কার্যকরভাবে প্রতিটি মানুষের অধিকার নিশ্চিত করবে। আজকের এই মতবিনিময় সভার মাধ্যমে আমরা সাংবাদিকদের সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও দৃঢ় করতে চাই, কারণ গণমাধ্যমই সত্য ও ন্যায়ের কণ্ঠস্বর।

তিনি সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন,আপনারাই জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি। আপনাদের নির্ভীক লেখনীই পারে অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে। এবি পার্টি সবসময় সত্যের পক্ষে এবং যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে। আমরা আপনাদের পাশে ছিলাম, আছি, থাকব।

বরিশাল প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এ সভায় উপস্থিত ছিলেন, এবি পার্টির বরিশাল জেলা ও মহানগর শাখার আহ্বায়ক প্রকৌশলী কল্লোল চৌধুরী, সদস্যসচিব জিএম রাব্বি, যুগ্ম আহ্বায়ক প্রকৌশলী মো. সুজন তালুকদার, এস এস অনিক, ছায়া সরকার বিষয়ক সম্পাদক ডা. তানভীর, যুগ্ম সদস্যসচিব মো. মেহেদী হাসান ও মো. রায়হান। এছাড়াও বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর ফাউন্ডেশন-এর প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আমানুল্লাহ খান নোমান এবং এবি পার্টির উপজেলা শাখার নেতাকর্মীরা সভায় অংশ নেন।

সভায় বক্তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার ও রাজনৈতিক সচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরেন। এবি পার্টির নেতারা দেশের অগ্রযাত্রায় গণমাধ্যমকর্মীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান।




“নিউইয়র্ক টাইমসে মিথ্যা রিপোর্ট করিয়েছে পরাজিত শক্তি: রিজভী”

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, পরাজিত শক্তি নিউইয়র্ক টাইমসে মিথ্যা তথ্য দিয়ে রিপোর্ট করিয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, ফ্যাসিবাদের দোসররা হাজার হাজার কোটি অবৈধ টাকার মালিক এবং তাদের এই অবৈধ টাকার মাধ্যমে তারা বাংলাদেশকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে।

আজ (২ এপ্রিল) বুধবার সকালে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, “এরা অবৈধ টাকা ব্যবহার করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চাইছে।”

রিজভী বলেন, “বাংলাদেশে উগ্রবাদের কোনো উত্থান ঘটেনি। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের কোনো প্রভাব নেই, মানুষ নির্বিঘ্নে ধর্মপালন করতে পারছে এবং নিজেদের মত প্রকাশ করতে পারছে।” তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন যে, “এবারের ঈদ ছিল আনন্দময়, ফ্যাসিবাদের কোন দৌরাত্ম ছিল না।”

বিশ্বব্যাপী অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগও করেন রিজভী। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের দোসররা শেখ হাসিনার জঙ্গি দমন নাটকটি বিশ্ববাসীকে দেখিয়েছে, যা মূলত রাজনৈতিক কৌশল ছিল ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য।” এছাড়াও, তিনি বলেন, “এমনকি এক সাবেক আইজিপির বইয়ে এ বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।”

অবৈধ অর্থের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্য আওয়ামী লীগের কঠোর সমালোচনা করেন রিজভী। তিনি আরও দাবি করেন যে, “আওয়ামী লীগ সরকার প্রশাসনে আওয়ামী লীগের দোসরদের বসিয়ে রেখেছে এবং ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে।”

রিজভী আরো বলেন, “একদিকে কিছু উপদেষ্টা বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, অন্যদিকে দেশের কৃষকদের দুর্দশা নিয়ে তারা কিছু বলছে না। মেহেরপুরে কৃষক আত্মহত্যা করেছে, অথচ তারা এসব নিয়ে চুপ।”

তিনি দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের জবাবদিহিতার উপর জোর দেন এবং বিএনপির বিরুদ্ধে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে তাদেরকে সতর্ক করেন। রিজভী বলেন, “সরকারের উচিত নির্বাচন দ্রুত আয়োজন করা, যাতে জনগণ তাদের ভোটের মাধ্যমে তাদের মতামত প্রকাশ করতে পারে।”

তিনি বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।” এবং “নির্বাচনী সরকার হতে হবে বৈধ সরকার, যা জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দেশবাসীর ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান খালেদা জিয়ার

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, “আগামীতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।” তিনি দেশবাসীর ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সকলকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। এই বক্তব্যটি তিনি ১ এপ্রিল, ২০২৫, সোমবার রাতে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতর এবং মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বলেন।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “আপনাদের এত ত্যাগ ও সংগ্রাম বৃথা যায়নি এবং যাবে না। আমরা সবাই মিলে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।” তিনি যোগ করেন, “দেশবাসীর ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা করতেই আমাদের এই সংগ্রাম, সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে একসাথে কাজ করতে হবে।”

এছাড়া, বেগম খালেদা জিয়া দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং দীর্ঘদিন পর সবাইকে এভাবে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “আগামীর পথচলায় দেশবাসীর দোয়া ও আল্লাহর সাহায্য কামনা করছি।”

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে আরো অংশগ্রহণ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, এবং আরো অনেক সিনিয়র নেতা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে ‘মেরিটাইম ট্রান্সপোর্ট কো-অপারেশন’ চুক্তি স্বাক্ষর

৩ এপ্রিল ২০২৫, বৃহস্পতিবার, ব্যাংককে বিমসটেক সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ‘মেরিটাইম ট্রান্সপোর্ট কো-অপারেশন’ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার উদ্দেশ্য হলো দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে টেকসই ও স্থিতিশীল বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে তোলা। চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

এদিন সকালে ব্যাংককের সাংরিলা হোটলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত, থাইল্যান্ড, ভুটান, মিয়ানমার এবং শ্রীলঙ্কার মন্ত্রীরা অংশ নেন। বৈঠকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং পরবর্তী পর্যায়ে বিমসটেকের মহাসচিব ও আইওআরএর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়।

এদিকে, বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে ব্যাংকক পৌঁছেছেন বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তী প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি সম্মেলনের বিভিন্ন অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবেন এবং এটির সাফল্য নিয়ে আলোচনা করবেন।

আজ বিকেল ৪টায়, সম্মেলন সম্পর্কে আপডেট জানাতে প্রেস ব্রিফিং করবে থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। সন্ধ্যা ৭টায়, ইয়াং জেনারেশন ফোরামের বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সম্মেলনের সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কর্মসূচি জানিয়ে মোদির পোস্ট, বাংলাদেশ প্রসঙ্গ উল্লেখ নেই

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন (বিমসটেক) সম্মেলনে অংশ নিতে থাইল্যান্ড সফরে গেছেন। ৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার তিনি থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে পৌঁছান। সম্মেলন শেষে, তিনি শ্রীলঙ্কা সফর করবেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (আগের টুইটার) মোদি তার সফরের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন।

মোদি তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি থাইল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কার সাথে ভারতের সহযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন। তিনি জানান, ব্যাংককে থাই প্রধানমন্ত্রী পায়েটোংটার্ন সিনাওয়াত্রার সঙ্গে ভারতের-থাইল্যান্ড সম্পর্ক এবং বন্ধুত্বের বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। পরবর্তীতে তিনি বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন এবং থাইল্যান্ডের রাজা মহা ভাজিরালংকর্নের সাথে বৈঠক করবেন।

তবে, মোদির পোস্টে বাংলাদেশের কোন উল্লেখ ছিল না। বিমসটেক সম্মেলনে যোগ দিতে থাইল্যান্ডে গেছেন বাংলাদেশ সরকারের অন্তর্বর্তী প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আজ (৩ এপ্রিল) সকালে তিনি ঢাকা ত্যাগ করে ব্যাংককের উদ্দেশে রওনা দেন। তিনি সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করবেন এবং বিকেলে বিমসটেক ইয়ুথ জেনারেশন ফোরামের কনফারেন্সে বক্তব্য রাখবেন।

এছাড়া, সম্মেলনের সাইডলাইনে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এটি তাদের মধ্যে প্রথমবারের মতো বৈঠক হতে যাচ্ছে।

তবে, মোদির পোস্টে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার নাম বা তার সাথে বৈঠকের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি, যা রাজনৈতিক পর্যায়ে কিছুটা মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম