বাস বন্ধে দুর্ভোগে যাত্রী, প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পটুয়াখালী-ঢাকা রুটে স্বাভাবিক বাস চলাচল

পটুয়াখালী-ঢাকা রুটে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ায় মোবাইল কোর্টের অভিযানে জরিমানা করার পর থেকে একযোগে বাস চলাচল বন্ধ রাখে অধিকাংশ পরিবহন কোম্পানি। এতে শুক্রবার (৪ এপ্রিল) রাত থেকেই টার্মিনালের অন্তত ২০টির বেশি কাউন্টার বন্ধ ছিল, যার মধ্যে ছিল সেবা গ্রীনলাইন, হানিফ, সাকুরা, ডলফিন, শ্যামলী এন আর, লাবিবা, ইউনিক পরিবহন ইত্যাদি। ফলে ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির মুখে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
জানা যায়, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাতটি বাস কোম্পানিকে মোট ৫৪ হাজার টাকা জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এরপর থেকে বাস মালিকপক্ষ বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়।
সীমিত সংখ্যক বাস চললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম হওয়ায় অনেকে ঢাকা যাওয়ার জন্য বিকল্প পথে রওনা দেন। কেউ বরিশাল ঘুরে ঢাকা যেতে বাধ্য হন, আবার কেউ লঞ্চে নির্ভরশীল হন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে যাত্রীরা আগেই টিকিট কেটেও গন্তব্যে যেতে পারেননি।
সাকুরা পরিবহনের যাত্রী আনোয়ার হোসেন বলেন, “আগেই টিকিট কেটেছিলাম, কিন্তু বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে শুনি বাস যাবে না। পরে টিকিটের টাকা ফেরত দিয়ে দিলেও অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।”
ঢাকার আহসানুল্লাহ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী হুরি জান্নাত মিম বলেন, “হানিফ পরিবহনের কাউন্টারে গেলে ১২০০ টাকা ভাড়া চায়। প্রতিবাদ করতেই বলে টিকিট প্রশাসনের কাছে আছে, সেখান থেকে নিতে।”
এদিকে ডলফিন, লাবিবা পরিবহনের কাউন্টারম্যানরা জানান, মালিকপক্ষের নির্দেশেই তারা বাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন এবং যাত্রীদের ফেরত পাঠাচ্ছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শনিবার (৫ এপ্রিল) রাতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও বাস মালিকদের সঙ্গে আলোচনা শেষে পুনরায় বাস চলাচল স্বাভাবিক হয়। পাশাপাশি যাত্রীদের ভোগান্তি লাঘবে নির্ধারিত সময়সূচির বাইরে আরও দুটি ঢাকাগামী লঞ্চ যুক্ত করা হয়।
পটুয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারেক হাওলাদার বলেন, “আমরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছি। বাস মালিকদের সঙ্গে কথা বলে পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক করা হয়েছে। যাত্রীদের কথা মাথায় রেখে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অতিরিক্ত দুটি লঞ্চ যুক্ত করা হয়েছে।”
মো: আল- আমিন














