ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা, ভাড়া নিয়ে ভোগান্তিতে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা

দীর্ঘ ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলের পথে ফিরতে শুরু করেছেন দক্ষিণাঞ্চলের হাজারো মানুষ। বরিশাল নদী বন্দরের লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়ে দেখা গেছে তীব্র প্রতিযোগিতা—কে আগে উঠবে, কে আগে ডেকে জায়গা রাখবে। মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) দিনভর বরিশাল নদী বন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ১৩টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে।

তবে এবার ভিন্ন এক অভিযোগ তুলে ধরেছেন যাত্রীরা। তাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবছর লঞ্চে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত।

এক যাত্রী অভিযোগ করেন, “ঢাকা যাওয়ার জন্য গত বছর যে ভাড়া দিয়েছি, এবার তার চাইতে অনেক বেশি নিচ্ছে। আমাদের কোনো বিকল্প নেই, তাই বাধ্য হয়ে এই ভাড়া দিচ্ছি।”
আরেক যাত্রী বলেন, “ঈদের সময় এলে ভাড়া যেন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। কেউ দেখছে না আমাদের কষ্ট।”

অন্যদিকে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা সরকারের নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছেন।

লঞ্চ কর্তৃপক্ষের এক প্রতিনিধি জানান, “আমরা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছি না। সরকার যে ভাড়া নির্ধারণ করেছে, সেটাই নেওয়া হচ্ছে।”

তবে শুধু ভাড়া নয়, অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগও করছেন অনেকে।

এক নারী যাত্রী বলেন, “লঞ্চে এত বেশি যাত্রী নিচ্ছে যে, ঠিকভাবে বসার জায়গাও পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়।”

এক তরুণ যাত্রী বলেন, “এই ভিড়ে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, দায় কে নেবে?”

এ বিষয়ে বরিশাল নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন যাত্রীদের হয়রানি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে।

বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল নদী বন্দরের উপ-পরিচালক শেখ মো. সেলিম রেজা বলেন, “আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছি যাতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। অতিরিক্ত ভাড়া বা যাত্রী বহন সম্পর্কে যেকোনো অভিযোগে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

সবশেষে, যাত্রীরা নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে কর্মস্থলে পৌঁছাক, এটাই সকলের প্রত্যাশা।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গড়িয়ার দিঘি এখন বরিশালের স্বপ্নপুরী

দীর্ঘদিন অবহেলায় পড়ে থাকা বরিশালের ঐতিহ্যবাহী গড়িয়ার দিঘি এখন রূপ নিয়েছে এক আধুনিক বিনোদন কেন্দ্রে। নগরীর গড়িয়ারপাড় এলাকায় অবস্থিত এই দিঘি বর্তমানে পরিচিত ‘ক্যাফে গড়িয়া’ নামে, যা শুধু একটি ভাসমান রেস্তোরাঁ নয়—বরং হয়ে উঠেছে নগরবাসী ও দর্শনার্থীদের জন্য এক স্বপ্নময় গন্তব্য।

দিঘির মাঝখানে নির্মিত হয়েছে আকর্ষণীয় ভাসমান কাঠের রেস্তোরাঁ, যেখানে বাঁশ ও কাঠের তৈরি বসার জায়গা, চারপাশে স্বচ্ছ জলরাশি, মাঝেমধ্যে মাছের লাফ এবং ওপরে খোলা আকাশ—সব মিলে এক অনন্য পরিবেশ তৈরি করেছে। দর্শনার্থীরা এখানে বসে খাবারের স্বাদ নিতে পারছেন, একইসাথে উপভোগ করছেন প্রকৃতির নৈসর্গিক সৌন্দর্য।

দিনের বেলায় প্রাকৃতিক দৃশ্য মনোমুগ্ধকর হলেও, রাতের আলোয় দিঘির সৌন্দর্য হয়ে ওঠে স্বপ্নিল। পানির উপর রঙিন আলো প্রতিফলনের ফলে সৃষ্টি হয় এক জাদুকরী দৃশ্য, যা যে কাউকে মোহিত করে।

‘ক্যাফে গড়িয়া’র স্বত্বাধিকারী কামরুজ্জামান পনির জানান, বর্তমানে এখানে বার্গার, স্যুপ, অন্থুন, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, লাচ্ছি, কোল্ড কফি ও সেট মেনু পরিবেশন করা হচ্ছে। অচিরেই এখানে যুক্ত হচ্ছে লাইভ বারবিকিউ কর্নার, যেখানে দর্শনার্থীরা নিজেরা মাছ ধরে বারবিকিউ করতে পারবেন—যা বরিশালের জন্য সম্পূর্ণ নতুন অভিজ্ঞতা।

পটুয়াখালী থেকে আসা দর্শনার্থী তন্ময় ও সুস্মিতা জানান, “আমরা ফেসবুকে ছবি দেখে আগ্রহী হই। পরিবেশ অসাধারণ, তবে পানির গন্ধ ও স্বচ্ছতা আরও উন্নত হলে অভিজ্ঞতা আরও ভালো হতো।”

তারা আরও জানান, খাবারের দাম কিছুটা বেশি হলেও পরিবেশের দিক থেকে এটি খুবই চমৎকার একটি স্থান। দিঘির চারপাশে হাঁটার পথ নির্মাণ করলে এটি হতে পারে বরিশালের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র।

দীর্ঘদিন অবহেলিত দিঘিকে কেন্দ্র করে এই আধুনিক আয়োজন নিঃসন্দেহে বরিশালের পর্যটন শিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রক্ষণাবেক্ষণ ঠিকভাবে চালিয়ে গেলে ‘ক্যাফে গড়িয়া’ হয়ে উঠতে পারে বরিশালের সবচেয়ে ব্যতিক্রমধর্মী ও জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বিএনপির কর্মীসভায় উত্তেজনা, হাতাহাতিতে রূপ

বরিশাল নগরীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর কর্মীসভায় স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তা ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয়, ফলে সভা কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে হয়।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নগরীর অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে। ১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য ফরম বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মীসভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক, সদস্য সচিব জিয়া উদ্দিন সিকদারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, সভা চলাকালীন সময়ে ১০ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলামের অনুসারীরা মিছিল নিয়ে প্রবেশ করে এবং উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীরা বাধা দিলে প্রথমে কথা কাটাকাটি এবং পরে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

উত্তেজনার ফলে সাময়িকভাবে সভা স্থগিত হলেও, দলীয় নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং সভার কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়।

স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ জানান, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছিল এবং তাৎক্ষণিকভাবে তা সমাধান করা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে শৃঙ্খলা বজায় রেখে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জাটকা রক্ষায় অভিযানে জেলেদের হামলা, কোস্টগার্ড সদস্য আহত

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার গজারিয়া নদীতে জাটকা সংরক্ষণে পরিচালিত যৌথ অভিযানে জেলেদের হামলায় কোস্টগার্ডের এক সদস্য আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে গুলি ছুড়তে হয়েছে। অভিযানে একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের ট্রলার ও একটি পাইজাল জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) রাত ৯টার দিকে হিজলা উপজেলার মাঝেরচর এলাকায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড স্টেশন হিজলা, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হিজলা এবং নৌ-পুলিশ হিজলা যৌথভাবে এ অভিযান চালায়।

অভিযান চলাকালীন হঠাৎ ৪০-৫০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল ৭-৮টি কাঠের নৌকা নিয়ে অভিযানে অংশগ্রহণকারী সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা লাঠি, বাঁশ, ইট ও পাথর দিয়ে আক্রমণ করে। এ সময় কোস্টগার্ড সদস্য এম মনজুরুল এবি ডান হাতের কনুইয়ের নিচে আঘাত পেয়ে আহত হন।

পরে স্টাফ অফিসার (অপারেশনস) এর অনুমতি নিয়ে মাজহারুল ইসলাম এবি তার বহনকৃত ৭.৬২ মিমি সিএসএমজি অস্ত্র ব্যবহার করে চার রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এরপর ঘটনাস্থল থেকে একটি অবৈধ পাইজাল ও একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের ট্রলার জব্দ করা হয়।

আহত কোস্টগার্ড সদস্য মনজুরুলকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এ ঘটনায় কেউ আটক না হলেও হামলাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার প্রস্তুতি চলছে।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাটকা সংরক্ষণে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা চক্রের হুমকি বরদাস্ত করা হবে না। অবৈধভাবে মাছ আহরণে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে অন্নপূর্ণা জয়: বাবরের শিখরে পা রাখার গল্প

বাবর আলী, চট্টগ্রামের একজন সাহসী চিকিৎসক, লেখক, এবং অভিযাত্রী, ৭ এপ্রিল প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে বিশ্বের দশম সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ অন্নপূর্ণা-১ এর শিখরে পা রেখেছেন। তাঁর এই অসাধারণ অর্জন বাংলাদেশের পর্বতারোহণের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।

বাবর আলী—পর্বতের মানুষ

চিকিৎসাবিদ্যা বিষয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ৫১তম ব্যাচের ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা শুরু করা বাবর আলী, তবে তার জীবনের লক্ষ্য ছিল অনেক বড়—পর্বত জয়। ২০২৪ সালে তিনি প্রথম এভারেস্ট এবং লোৎসে শৃঙ্গে উঠেন, ২০২২ সালে প্রথম বাঙালি হিসেবে আমা দাবলাম পর্বত জয় করেন। এছাড়া, তিনি বাংলাদেশের ৬৪টি জেলা পায়ে হেঁটে ঘুরেছেন এবং কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী পর্যন্ত সাইকেল চালিয়ে পার হয়েছেন।

অন্নপূর্ণার পথে

২০২৪ সালের ২৪ মার্চ বাবর নেপাল যান এবং ২৮ মার্চ পৌঁছান অন্নপূর্ণা বেসক্যাম্পে। এরপর শুরু হয় তার ধৈর্য ও সংকল্পের পরীক্ষা। অন্নপূর্ণা শৃঙ্গে উঠার পথে অনেক ঝুঁকি এবং প্রাকৃতিক বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন তিনি। ৫ এপ্রিল জানা যায়, তিনি সফলভাবে ক্যাম্প-৩ এ পৌঁছেছেন, এবং ৬ এপ্রিল রাত ১২টায় তিনি চূড়ার পথে যাত্রা শুরু করেন। পরদিন ভোরে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা উড়েছিল অন্নপূর্ণা-১ এর শিখরে।

এক অর্জন, অনেক প্রশ্ন

বাবরের এই অর্জন নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক, তবে তার পথ ছিল সহজ নয়। তিনি সাফল্য অর্জন করেছেন, তবে তাঁর উদ্দেশ্য ছিল আরও তিনটি আট হাজার মিটার উচ্চতার পর্বত জয় করা, কিন্তু পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে তিনি প্রথম শৃঙ্গেই থেমে গেছেন। তাঁর অভিযানের ব্যবস্থাপক ফরহান জামান জানিয়েছেন, “বাবরের কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যবসায় এই সাফল্যের ভিত্তি। আমরা আশা করি, তার এই অর্জন পরবর্তীতে পৃষ্ঠপোষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে।” বাবরের লক্ষ্য ছিল ১৪টি আটহাজারী শৃঙ্গে বাংলাদেশি পতাকা উড়ানো।

অন্নপূর্ণা: এক দেবী শিখর

অন্নপূর্ণা শুধুমাত্র একটি পর্বত নয়, এটি হিমালয়ের দেবী, যার শিখরে ওঠার চেষ্টা এতটাই বিপজ্জনক যে মৃত্যুহার ৩২ শতাংশ পর্যন্ত ছিল। এখন পর্যন্ত মাত্র ৫১৪ জন মানুষ সফলভাবে এই শৃঙ্গে পৌঁছাতে পেরেছেন, যার মধ্যে বাবর আলী যুক্ত হয়েছেন।

বর্তমানে বাবর ক্যাম্প-২ এ অবস্থান করছেন এবং তার পরবর্তী পদক্ষেপ হবে বেসক্যাম্পে ফিরে আসা। তবে, তার এই অর্জন শুধু একটি শিখর জয় নয়, এটি একটি প্রেরণার গল্প। বাবরের মতো মানুষ প্রমাণ করেছেন, দেশের প্রতিনিধিত্ব শুধু কূটনীতির মাধ্যমে হয় না, কখনও কখনও তা হয় বরফে ঢাকা একটি নির্জন শিখরে, যেখানে পতাকার নড়াচড়া বলেই দেয়, “বাংলাদেশ এখানে ছিল।”

এস এল টি “স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম




হজযাত্রীরা ভাগ্যবান: ধর্ম উপদেষ্টা

হজ যাত্রা এক বিশেষ ভাগ্যের বিষয়, এমন মন্তব্য করেছেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, শুধু টাকা বা বিত্ত-বৈভব থাকলেই হজ করা সম্ভব নয়। অনেকের টাকা থাকা সত্ত্বেও, তারা নানা কারণে হজে যেতে পারেন না। মানুষ যখন মায়ের পেটে থাকে, তখনই তার জীবনের সময়, রিজিক, সৎকর্ম এবং হজে যাওয়ার ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায়।

আজ (৯ এপ্রিল) সকালে, রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হজযাত্রী প্রশিক্ষণ ২০২৫ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

ধর্ম উপদেষ্টা আরও বলেন, হজের জন্য অবশ্যই হালাল অর্থ ব্যবহার করতে হবে। হারাম অর্থ দিয়ে ইবাদত করলে তা কবুল হবে না। তিনি বলেন, সমাজে অনেকেই সুদ, ঘুষ, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে, কিন্তু এসব হারাম উপার্জিত অর্থ দিয়ে হজ করার কোনো লাভ নেই। তিনি হাদিস উদ্ধৃত করে বলেন, “কোনো দুর্নীতিবাজ, লুটেরা, সুদখোর বা ঘুষখোর যখন হারাম শরিফে গিয়ে বলেন ‘আল্লাহ, আমি হাজির’, তখন ফেরেশতারা সমস্বরে বলে ওঠে, ‘তোমার হাজিরা কবুল হয়নি’।” তাই, সৎপথে উপার্জন করতে সকলকে উৎসাহিত করেন তিনি।

হজব্রতের শারীরিক কষ্ট ও অর্থব্যয়ের বিষয়েও আলোকপাত করেন ড. খালিদ হোসেন। তিনি বলেন, হজের পথে বিভিন্ন পরিবহন সেবা পাওয়ার অভাব থাকতে পারে, হাজিদের মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা হেঁটে যেতে হতে পারে, তাই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। হজযাত্রীদের আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য কষ্ট ও ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা থাকতে হবে।

প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ মানুষকে কুশলী করে তোলে এবং হজের আনুষ্ঠানিকতা সহজে পালন করতে সহায়তা করে। তিনি হজযাত্রীদের প্রশিক্ষণে মনোযোগী হতে অনুরোধ করেন।

কবুল হজের ফজিলত বর্ণনা করে উপদেষ্টা বলেন, কবুল হজের প্রতিদান হলো জান্নাত। হাজিদেরকে আল্লাহতায়ালা সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশুর মতো নিষ্পাপ করে দেন।

হজ অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মতিউল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ধর্ম সচিব একেএম আফতাব হোসেন প্রামানিক, হাবের সভাপতি সৈয়দ গোলাম সরওয়ার, হজ অনুবিভাগের যুগ্মসচিব ড. মঞ্জুরুল হক ও হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার। এছাড়া, উপদেষ্টার একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ ও হজ অফিসের পরিচালক মো. লোকমান হোসেনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে, যেখানে ঢাকা জেলার বেসরকারি মাধ্যমে সাত শতাধিক হজযাত্রীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে।

এস এল টি “স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গাজীপুর সাফারি পার্কে প্রাণী নিখোঁজ, কঠোর অবস্থানে পরিবেশ উপদেষ্টা

গাজীপুর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে সম্প্রতি কিছু প্রাণী নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, যে কেউ এই ঘটনায় দায়ী হবে, তাদের বিরুদ্ধে শুধু চাকরিচ্যুতি নয়, এমন শাস্তি দেওয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের গাফিলতি করার সাহস না পায়।

উপদেষ্টা রিজওয়ানা বুধবার (৯ এপ্রিল) গাজীপুর সাফারি পার্ক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন। তিনি আরও জানান, তিনি পার্কের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করে অনুভব করেছেন যে, কিছু প্রাণী প্রাকৃতিক পরিবেশের মতো পরিবেশে থাকলেও অনেক প্রাণীর জীবনমান পর্যাপ্ত নয়। বিশেষ করে কিছু হাতি ও জাগুয়ারের আচরণগত অস্বাভাবিকতা তাকে উদ্বিগ্ন করেছে।

তিনি বলেন, সাফারি পার্ক শুধুমাত্র দর্শনার্থীদের বিনোদনের স্থান হওয়া উচিত নয়, এটি প্রাণীদের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতা শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়া উচিত।

সাম্প্রতিক প্রাণী নিখোঁজের বিষয়ে তিনি বলেন, “যদি একটি লেমুর হারিয়ে যায়, তবে তা বুঝতে হবে যে ব্যবস্থাপনায় কোনো ঘাটতি রয়েছে।” তিনি আরও জানান, এই ঘটনার তদন্তের জন্য বন্যপ্রাণী ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি শক্তিশালী তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং সিসিটিভি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি চিহ্নিত করা হয়েছে।

বন বিভাগের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, “সরকারি প্রকল্প এলেই কাজ করবে—এমনটা হতে পারে না। সাফারি পার্ক একটি জাতীয় সম্পদ, এবং এর উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে নিয়মিত বরাদ্দ ও সদিচ্ছা প্রয়োজন।” তিনি আরও জানান, হাতিদের কল্যাণে শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড ও ভারতের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে এবং নতুন একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

এছাড়া, উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গাজীপুরের স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে বলেন, “গাজীপুরে যারা বসবাস করছেন, তাদেরকেই প্রথমে দায়িত্ব নিতে হবে এই জাতীয় সম্পদ রক্ষার জন্য।” তিনি আরও বলেন, “প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা রোধ, অবৈধ পাখি বিক্রি বন্ধ, এবং নিখোঁজ প্রাণী উদ্ধারে প্রশাসনের পাশাপাশি জনসচেতনতাও জরুরি।”

এরপর, তিনি গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান পরিদর্শন করেন এবং বন অধিদফতর ও পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন, যেখানে গাজীপুর পরিবেশ ও বন সংরক্ষণে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেন।

এস এল টি “স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলা জেনারেল হাসপাতাল: চিকিৎসক-নার্স সংকটে সেবা ব্যাহত

ভোলা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে, কারণ এখানে চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য জনবল সংকট চলছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ রোগীরা।

ভোলা সদর উপজেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালটি ২০১৯ সালে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও, সেই ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে এখনো হাসপাতালটির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। ৬ বছরেও হাসপাতালটির শূন্য পদে চিকিৎসক, নার্সসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হয়নি, ফলে জেলার কয়েক লাখ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জানা গেছে, ভোলার মোট ১৭ লাখ মানুষের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট এই হাসপাতালটির ওপর নির্ভরশীল, তবে এখানে শূন্য রয়েছে ৩৭টি পদ। এর মধ্যে রয়েছে তত্ত্বাবধায়ক, সিনিয়র কনসালট্যান্ট, জুনিয়র কনসালট্যান্ট, অ্যানেসথেটিস্ট, রেডিওলজিস্ট, মেডিকেল অফিসার, ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সৃজনকৃত ৬০টি পদের মধ্যে ২৩ জন চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন, কিন্তু তত্ত্বাবধায়কসহ ৩৪টি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। এছাড়াও, বিভিন্ন উপজেলায় মোট ১৩৫টি চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে।

অন্যদিকে, হাসপাতালের ১০০ শয্যার পুরোনো ভবনে প্রতিদিন গড়ে ৩৬০ জন রোগী ইনডোরে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে অধিকাংশই শিশু। ২৫ শয্যার শিশু ইউনিটে ধারণক্ষমতার অনেক বেশি রোগী ভর্তি হওয়ায়, অনেক শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বারান্দার মেঝেতে। একেক বেডে ৪-৫টি শিশু রাখা হচ্ছে। চিকিৎসক এবং নার্সরা এত রোগীর চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন, আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা দেওয়ায় রোগীরা নতুন নতুন সংক্রমণে আক্রান্ত হচ্ছেন।

হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক (চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত) ডা. শেখ সুফিয়ান রুস্তম জানিয়েছেন, “লোকবল স্বল্পতার কারণে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের কার্যক্রম চালাতে কিছুটা কষ্ট হচ্ছে, তবে এই সীমিত জনবল দিয়েই আমরা সেবা প্রদান করছি।” তিনি আরও জানান, “আমরা প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার অবগত করছি।”

এদিকে, সিভিল সার্জন মু. মনিরুল ইসলাম বলেছেন, “যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ করা হলে হাসপাতালটির কার্যক্রম সচল করা সম্ভব হবে।”

এই পরিস্থিতিতে রোগীদের স্বজনরা দ্রুত সময়ের মধ্যে জনবল সংকট দূর করার দাবি জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। হাসপাতালের পরিবেশের প্রতি তাঁদের অভিযোগ, বিশেষত নতুন বহুতল ভবন থাকা সত্ত্বেও, এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাংলাদেশকে দেওয়া ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করল ভারত

বাংলাদেশকে দেওয়া ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করেছে ভারত সরকার। এর মাধ্যমে তৃতীয় কোনো দেশে পণ্য রফতানির জন্য ভারতীয় স্থলবন্দর ব্যবহার করার সুবিধা বাংলাদেশ হারিয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) ভারত সরকারের কেন্দ্রীয় পরোক্ষ কর ও শুল্ক বিভাগ একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে জানা গেছে, ২০২০ সালের ২৯ জুন জারি করা সার্কুলার বাতিল করা হয়েছে এবং এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, যদিও ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করা হয়েছে, তবে ইতোমধ্যে ভারতে প্রবেশ করা বাংলাদেশি কার্গোগুলোকে ভারতীয় অঞ্চল ত্যাগ করার সুযোগ দেওয়া হতে পারে।

এই সুবিধার আওতায়, ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশ নেপাল, ভুটান, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন তৃতীয় দেশে পণ্য পাঠাতে পারত। তবে, বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুসের চীনে সফরের পর ভারতের এই সিদ্ধান্ত এসেছে।

এটি ভারতের পক্ষ থেকে একটি বড় সিদ্ধান্ত, যার ফলে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ইসরায়েলি হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সংহতি জানিয়ে এবং গাজায় ইসরায়েলি গণহত্যা বন্ধের দাবিতে বরিশালে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিবাদে অংশ নেন বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন।

বুধবার (৯ এপ্রিল) সকাল ১১টায় নগরীর জিলাস্কুল মোড় থেকে প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন বরিশালের বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এরপর তারা নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে গিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। শিক্ষার্থীরা ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে তাদের ক্ষোভ জানিয়ে “গাজায় গণহত্যা বন্ধ করো” এবং “মানবাধিকারের বিরোধী আক্রমণ বন্ধ করো” স্লোগান দেয়।

এছাড়া, বাম গণতান্ত্রিক জোটও একই দাবিতে বেলা ১২টায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। সংগঠনটির নেতৃবৃন্দরা আগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে, পরে তারা সদর রোডে সমাবেশ করে। সমাবেশে বক্তারা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ফিলিস্তিনে চলমান গণহত্যা দ্রুত বন্ধ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত ব্যবস্থা নেয়।”

বিক্ষোভকারীরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি মানবাধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন এবং গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানান।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম