ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা, ভাড়া নিয়ে ভোগান্তিতে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীরা

দীর্ঘ ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলের পথে ফিরতে শুরু করেছেন দক্ষিণাঞ্চলের হাজারো মানুষ। বরিশাল নদী বন্দরের লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়ে দেখা গেছে তীব্র প্রতিযোগিতা—কে আগে উঠবে, কে আগে ডেকে জায়গা রাখবে। মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) দিনভর বরিশাল নদী বন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ১৩টি লঞ্চ ছেড়ে গেছে।
তবে এবার ভিন্ন এক অভিযোগ তুলে ধরেছেন যাত্রীরা। তাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় এবছর লঞ্চে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত।
এক যাত্রী অভিযোগ করেন, “ঢাকা যাওয়ার জন্য গত বছর যে ভাড়া দিয়েছি, এবার তার চাইতে অনেক বেশি নিচ্ছে। আমাদের কোনো বিকল্প নেই, তাই বাধ্য হয়ে এই ভাড়া দিচ্ছি।”
আরেক যাত্রী বলেন, “ঈদের সময় এলে ভাড়া যেন নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। কেউ দেখছে না আমাদের কষ্ট।”
অন্যদিকে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের দাবি, তারা সরকারের নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছেন।
লঞ্চ কর্তৃপক্ষের এক প্রতিনিধি জানান, “আমরা অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছি না। সরকার যে ভাড়া নির্ধারণ করেছে, সেটাই নেওয়া হচ্ছে।”
তবে শুধু ভাড়া নয়, অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগও করছেন অনেকে।
এক নারী যাত্রী বলেন, “লঞ্চে এত বেশি যাত্রী নিচ্ছে যে, ঠিকভাবে বসার জায়গাও পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়।”
এক তরুণ যাত্রী বলেন, “এই ভিড়ে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, দায় কে নেবে?”
এ বিষয়ে বরিশাল নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন যাত্রীদের হয়রানি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে।
বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল নদী বন্দরের উপ-পরিচালক শেখ মো. সেলিম রেজা বলেন, “আমরা সার্বক্ষণিক নজরদারি করছি যাতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। অতিরিক্ত ভাড়া বা যাত্রী বহন সম্পর্কে যেকোনো অভিযোগে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
সবশেষে, যাত্রীরা নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে কর্মস্থলে পৌঁছাক, এটাই সকলের প্রত্যাশা।
“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম“








