পরীক্ষাকেন্দ্রে বাবার মৃত্যুসংবাদ জানে না তাসফিয়া, হৃদয়বিদারক দৃশ্য বাউফলে

পটুয়াখালীর বাউফলে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। এসএসসি পরীক্ষার্থী তাসফিয়া যখন সকালে চোখের পানি মুছে পরীক্ষাকেন্দ্রে প্রবেশ করছিল, তখন তার অসুস্থ বাবা জীবনের শেষ সময় গুনছিলেন। পরীক্ষার হলে বসে থাকা মেয়েটি তখনো জানত না—চিরতরে চলে গেছেন তার বাবার ছায়া।

বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তাসফিয়া পরীক্ষা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হঠাৎই তার বাবা মাহবুবুর রহমান বুকে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করে মাটিতে পড়ে যান। স্বজনরা দ্রুত তাকে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সঙ্গে ছিলেন মেয়ে তাসফিয়াও। কিন্তু বাবার অনুরোধে মেয়েটিকে পরীক্ষাকেন্দ্রে নামিয়ে দেওয়া হয়।

এর কিছুক্ষণের মধ্যেই মাহবুবুর রহমান মারা যান। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তিনি ছিলেন কালিশুরী এস.এ ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক। তার বাড়ি উপজেলার ভড়িপাশা গ্রামে।

তাসফিয়া ওই স্কুল থেকেই এ বছর এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছেন। মেয়ে পরীক্ষার্থী হওয়ায় মাহবুবুর রহমান এ বছর পরীক্ষার কেন্দ্র সচিবের দায়িত্ব নেননি।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। সহপাঠী, শিক্ষক এবং স্থানীয়রা সবাই গভীরভাবে মর্মাহত হন। বাউফল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু ইউসুফ বলেন, “স্যার সব সময় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতেন। আজ নিজের মেয়েকে পরীক্ষায় পাঠিয়ে নিজেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন—ভাবতেই চোখে পানি চলে আসে।”

এখনো পরীক্ষার হলে বসে থাকা তাসফিয়া জানেন না তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসার মানুষটি নেই। বাবার মৃত্যুর সংবাদ তাকে জানানো হবে কখন, কীভাবে—তা নিয়েও শঙ্কায় শিক্ষক ও স্বজনরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠিতে জুলাই আন্দোলনের আহতদের মাঝে স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ

ঝালকাঠিতে ২০২৩ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আহত হওয়া ছাত্র ও জনতার মধ্যে স্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান আহতদের হাতে স্বাস্থ্য কার্ড তুলে দেন।

প্রাথমিকভাবে ২৩ জন আহতকে এই কার্ড প্রদান করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পর্যায়ক্রমে অন্য আহতদেরও এ কার্ড দেওয়া হবে, যাতে তারা সহজে ও বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারেন।

অনুষ্ঠানে জেলা সিভিল সার্জন মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক কাওছার হোসেন, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি আল-আমিন তালুকদার ও সাংবাদিক আজমীর হোসেন তালুকদারসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান বলেন, “জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে আহত ছাত্র-জনতার ত্যাগের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি নতুন ধারায় প্রবেশ করে। তাদের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবার নিশ্চয়তা দিতে সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বঙ্গোপসাগরে ট্রলারে দস্যু হামলা: গুলিবিদ্ধসহ আহত অর্ধশত জেলে

বরগুনার পাথরঘাটা উপকূল থেকে ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে বঙ্গোপসাগরের বড় বাইজদা এলাকায় মাছ ধরার ট্রলারগুলোতে সশস্ত্র ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৯ এপ্রিল) গভীর রাতে সংঘটিত এই হামলায় অন্তত ১০টি ট্রলারে ডাকাতি করা হয়। এতে গুলিবিদ্ধসহ অন্তত ৫০ জন জেলে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাকাতির শিকার ট্রলারগুলোর মধ্যে রয়েছে এফবি তারেক-২, এফবি তুফান-২, এফবি রাজু ও এফবি মা। এসব ট্রলার পাথরঘাটার বিভিন্ন মালিকের অধীন। প্রত্যক্ষদর্শী জেলেদের বরাতে ট্রলার মালিকরা জানিয়েছেন, সশস্ত্র দস্যুরা ট্রলারে হামলা চালিয়ে জেলেদের মারধর করে এবং দূর থেকে গুলি ছোড়ে। ডাকাতরা মাছ ও অন্যান্য রসদ লুট করে নিয়ে যায়।

এফবি মা ট্রলারের মাঝি মনির হোসেনের সূত্রে মালিক সেলিম চৌধুরী জানান, ট্রলারে থাকা জেলেরা ডাকাতদের বাধা দিলে তারা অতর্কিত হামলা চালায়। এরপর ট্রলারে উঠে অস্ত্রের মুখে জেলেদের মারধর এবং গুলিবর্ষণ করে।

আহত জেলেদের অনেকে এখনও নিখোঁজ বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছেন। নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে তাদের অবস্থা জানা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন মালিকরা।

বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, “ডাকাতির খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ও কোস্টগার্ডকে অবহিত করেছি। আমরা জেলেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি।”

এদিকে বরগুনার পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম জানান, ট্রলার মালিকদের কাছ থেকে ডাকাতির বিষয়টি জেনে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ‘ফ্রি’ পার্কে টিকিট, ভাসমান দোকান থেকেও অর্থ আদায় করলো বিসিসি

উদ্বোধনের প্রায় নয় বছর পর বরিশালের গ্রিন সিটি পার্কে প্রবেশ এবং রাইড ব্যবহারে শুরু হয়েছে ‘সেবামূল্যের’ নামে টিকিট সংগ্রহ। একইসঙ্গে বেলস পার্ক সংলগ্ন ফুটপাত ও সড়ক দখল করে থাকা ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকেও অর্থ আদায় করছে বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি)। এ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।

২০১৬ সালের ২৯ জানুয়ারি তৎকালীন মেয়র আহসান হাবিব কামালের হাত ধরে গ্রিন সিটি পার্কটি উদ্বোধন হয়। শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে নির্মিত এক একর আয়তনের এ পার্কে রয়েছে ১৪টি রাইড, ১০টি বসার বেঞ্চ, দুটি খাবার ঘর এবং একটি বিশ্রামাগার। সেসময় পার্কে প্রবেশ কিংবা রাইড ব্যবহারে কোনও ফি নির্ধারণ করা হয়নি।

তবে ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরের দিন (৩১ মার্চ) থেকে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সিদ্ধান্তে পার্কে জনপ্রতি ১০ টাকা করে প্রবেশমূল্য নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি গার্ড বসিয়ে দেওয়া হয় টিকিট ব্যবস্থা। একই সময় থেকে বেলস পার্ক এলাকার ফুটপাত ও সড়ক দখল করে বসা প্রায় দেড় শতাধিক ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকেও প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার টাকা আদায় করছে বিসিসি। দোকানের ধরন অনুযায়ী ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

এ নিয়ে অভিভাবক ও সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, সামান্য টাকার বিনিময়ে পার্কের পরিবেশ আগের চেয়ে উন্নত হয়েছে। তবে দরিদ্র শিশুরা এতে বঞ্চিত হচ্ছে। আবার কেউ কেউ বলছেন, পূর্বে যে সুবিধাগুলো বিনামূল্যে ছিল, সেটি হঠাৎ অর্থের বিনিময়ে দেওয়াটা গ্রহণযোগ্য নয়।

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী জানান, পার্কে কর্মরত ১৫ জন নিরাপত্তাকর্মী, পরিচ্ছন্নতা কর্মী এবং অন্যান্য ব্যয় মেটাতে এই অর্থ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বরাদ্দ না থাকায় বাধ্য হয়েই এই ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।

অন্যদিকে, অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকান থেকে অর্থ আদায়কে ‘অবৈধতা কে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা’ বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল জেলার সদস্যসচিব রফিকুল আলম। তিনি বলেন, ‘‘সিটি করপোরেশন অবৈধ দোকান থেকে টাকা তুলে তাদের আরও উৎসাহিত করছে। এতে জনভোগান্তি বাড়বে, ফুটপাত ও সড়ক দখল আরও বাড়বে।’’

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, এসব উদ্যোগ শহর ব্যবস্থাপনার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবকে স্পষ্ট করছে। নগরবাসীর স্বস্তির চেয়ে অসন্তোষ বাড়ছে বলেও মত তাদের।

“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী তিন বহুজাতিক কোম্পানি




এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু




দেশের মেধাবীদের জন্য সুযোগের অভাব: আশিক চৌধুরীর গল্প

বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে কখনও মেধা বা দেশপ্রেমের অভাব ছিল না। তাদের মধ্যে রয়েছে অগণিত আশিক, যারা দেশের জন্য কিছু করতে চান, কিন্তু তাদের জন্য সুযোগ কোথাও নেই।

এমনই একজন ছিলেন আশিক চৌধুরী, যিনি সিঙ্গাপুরে দামী চাকরি ছেড়ে দিয়ে দেশে ফিরে এসেছিলেন। তার জীবনের মোড় ঘুরে যায় ৫৯ সেকেন্ডের একটি ফোন কলের মাধ্যমে। ড. ইউনূস নিজে ফোন করে তাকে দেশের কাজে যুক্ত হওয়ার সুযোগ দেন। আশিক সাহেব, যিনি বিদেশে বসে দেশকে নিয়ে ভাবতেন, সেই এক ফোন কলেই সিদ্ধান্ত নেন দেশের জন্য কাজ করার।

এছাড়া, ২০২২ সালে আমেরিকার একটি শীর্ষস্থানীয় ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করা এক গবেষক, দেশের জন্য ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করেও পদ পাননি। কারণ, বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এসব পদ টাকার বিনিময়ে বিক্রি হয়।

এমন গল্পের অভাব বাংলাদেশে নয়, বরং সমস্যাটা হচ্ছে—অবসরপ্রাপ্ত বা যোগ্য মানুষদের কাছে যথাযথ সুযোগ না দেওয়া। মেধাবীদের সঠিক জায়গায় পৌঁছে দেওয়া রাষ্ট্রের কাজ। যে কাজটি মালয়েশিয়ার মাহথির মোহাম্মদ যেমন করে করেছিলেন, তেমনি ড. ইউনূসও করেছেন—একটি ফোন কল দিয়ে দেশের জন্য কাজ করার সুযোগ দিয়ে।

এটাই দেশের মানুষের প্রকৃত চিত্র। তারা নিজেদের জান দিয়ে দেশকে ভালোবাসতে প্রস্তুত, কিন্তু তাদের শুধু একটি সুযোগ দরকার।


 




২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু আজ, সরকার নিয়েছে কঠোর ব্যবস্থা

আজ বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল ২০২৫, শুরু হচ্ছে ২০২৫ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা। দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৯ লাখ ২৮ হাজার ১৮১ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করবেন।

পরীক্ষার তত্ত্বীয় অংশ ১৩ মে পর্যন্ত চলবে এবং ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ১৫ মে থেকে ২২ মে পর্যন্ত। এ বছর পরীক্ষার সুষ্ঠু আয়োজনের জন্য বিভিন্ন সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বিশেষত, প্রশ্ন ফাঁসের গুজব প্রতিরোধের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের আশেপাশে ফটোকপি মেশিন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষা শুরুর দিন থেকে ১৩ মে পর্যন্ত দেশের সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষার্থীরা যেন পরীক্ষার হলে কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে উপস্থিত হন, সেজন্য গাইডলাইন দেওয়া হয়েছে। মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকবে।

এছাড়া, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত গুজব ছড়ানো বা নকল করার চেষ্টা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ১৯ লাখ ২৮ হাজার ১৮১ জন, যার মধ্যে ১৪ লাখ ৯০ হাজার ১৪২ জন সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে, ২ লাখ ৯৪ হাজার ৭২৬ জন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবং ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩১৩ জন কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন।

সরকারের উদ্যোগে, এই পরীক্ষা যাতে নকলমুক্ত এবং সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সে জন্য জাতীয় মনিটরিং ও আইনশৃঙ্খলা কমিটি সর্বদা তৎপর থাকবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গৌরনদীতে প্রথম উপজেলা পর্যায়ের শিশু পার্ক ও হাইজিন কর্নার উদ্বোধন

বরিশালের গৌরনদীতে উপজেলা পর্যায়ে প্রথমবারের মতো শিশুদের জন্য উন্মুক্ত শিশু পার্ক, ছাত্রীদের জন্য হাইজিন কর্নার এবং অভিভাবকদের জন্য ছাউনি উদ্বোধন করা হয়েছে। ব্যতিক্রমী এ উদ্যোগে শিশুদের বিনোদন, স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিবারবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন।

বুধবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় গৌরনদী উপজেলা পরিষদ চত্বরের ডাকবাংলোর সামনে জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে এবং কেক কেটে ‘গৌরনদী শিশু পার্ক’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

শিশু পার্কটি বাস্তবায়ন করেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. আবু আবদুল্লাহ খান, পৌরসভার অর্থায়নে। পার্কে স্থাপন করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন বিভিন্ন রাইড ও খেলার সরঞ্জাম, যা শিশুদের আনন্দের নতুন ঠিকানা হয়ে উঠেছে।

উদ্বোধনের দিন থেকেই শত শত শিশু অভিভাবকদের সঙ্গে পার্কে ছুটে আসেন। দীর্ঘদিন বিনোদন থেকে বঞ্চিত গৌরনদীবাসী এ পার্ককে ঘিরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। শিশু পার্ক নির্মাণের প্রধান উদ্যোক্তা ইউএনও আবু আবদুল্লাহ খান ও তার সহধর্মিণী অ্যাডভোকেট ফাতিমা আক্তার অভিভূত হয়ে বলেন, “এই আনন্দ শিশুদের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য আমাদের সব শ্রম সার্থক করেছে।”

একই দিন বিকেলে জেলা প্রশাসক আরও উদ্বোধন করেন গৌরনদীর বাটাজোর অশ্বিনী কুমার ইনস্টিটিউট ও মাহিলাড়া এএন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের হাইজিন কর্নার এবং গৌরনদী সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিভাবক ছাউনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাপতিত্বে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাজিব হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা জাহানারা পারভীন, উপজেলা প্রকৌশলী অহিদুর রহমান, প্রেসক্লাবের কো-আহ্বায়ক জহুরুল ইসলাম জহির, খোন্দকার মনিরুজ্জামান, ইসাবেলা ইয়াসমিন ও বিএডিসির উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাহেদ আহমেদ চৌধুরী প্রমুখ।

এই উদ্যোগ শুধু শিশুদের হাসিমুখই নয়, একটি মানবিক ও উন্নয়নমুখী উপজেলা প্রশাসনের প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে নারী মাদককারবারীকে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে ডিবি এএসআই বরখাস্ত

বরিশালে ডিবি পুলিশের এক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) নিজ দায়িত্বপূর্ণ এলাকার বাইরে অভিযান চালিয়ে নারী মাদক ব্যবসায়ীকে মাদকসহ আটকের পর অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। অভিযুক্ত কর্মকর্তা আউয়াল হোসেন বর্তমানে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত রয়েছেন।

বুধবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় নগর গোয়েন্দা শাখার এএসআই আউয়াল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ আউয়াল হোসেন অনুমতি ছাড়াই গৌরনদী উপজেলার একটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে নারী মাদক ব্যবসায়ী মিজানুর রহমানের স্ত্রীকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও ৭৪ হাজার টাকাসহ আটক করেন। পরে ইয়াবা ও টাকা রেখে তাকে ছেড়ে দেন।

ঘটনার পর মিজানুর রহমান স্বয়ং নগর পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরই প্রেক্ষিতে গোয়েন্দা শাখার ইনস্পেক্টর ছগির হোসেনও আউয়ালের বিরুদ্ধে নিয়ম বহির্ভূতভাবে অভিযান চালানোর অভিযোগ আনেন।

নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার রিয়াজ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর এএসআই আউয়ালকে বরখাস্ত করা হয়।

সূত্রমতে, আউয়াল হোসেন কনস্টেবল হিসেবে চাকরি শুরু করলেও পদোন্নতির পর এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বরিশালে কর্মরত ছিলেন। একই স্থানে দীর্ঘদিন থেকে তিনি নবগ্রাম রোডে কোটি টাকা মূল্যের দুটি প্লট, একাধিক জমি ও বিপুল ব্যাংক সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার স্ত্রীর নামেও রয়েছে সম্পদ।

এএসআই আউয়ালের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি নিয়মিত মাদকের চালান আটক করে মামলা না দিয়ে মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে আসামিদের ছেড়ে দিতেন এবং উদ্ধার হওয়া মাদক গোপনে বিক্রি করতেন।

ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে সাংবাদিক পরিচয় শুনেই আউয়াল হোসেন তার মোবাইল ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং পরবর্তীতে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম