মেঘনা-তেঁতুলিয়ার অভয়াশ্রম এখন জেলেশূন্য, জাটকা সংরক্ষণে চলছে কঠোর অভিযান

ভোলার চরফ্যাশন উপকূলবর্তী মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর মিঠা পানির অভয়াশ্রম এলাকায় বর্তমানে কোনো জেলের উপস্থিতি নেই। মার্চ-এপ্রিল দুই মাসব্যাপী জাটকা সংরক্ষণ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই এ চিত্র দেখা যাচ্ছে।

চরফ্যাশন উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য দপ্তর, পুলিশ ও কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযানে ইতিমধ্যে পরিচালিত হয়েছে ৫২টি অভিযান ও ১১টি মোবাইল কোর্ট। উদ্ধার করা হয়েছে ৯৮ লাখ মিটার ইলিশ ধরার জাল, ১৭৭ লাখ মিটার কারেন্ট জাল ও ১১৭টি অন্যান্য অবৈধ জাল। সবগুলোই ধ্বংস করা হয়েছে। মামলার আওতায় আনা হয়েছে ৪৭ জনকে, যার মধ্যে ৬ জনকে জেল ও অন্যদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সর্বশেষ অভিযানে ধরা পড়া একজনকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং প্রায় ১৮ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ২০টি বেহুন্দি জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়।

কোস্টগার্ডের কন্টিজেন্ট কমান্ডার সাইফুল ইসলাম জানান, অভিযানের সময় ২ ও ৩ এপ্রিল জেলেদের হামলার শিকার হতে হয়। এতে একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি ছুঁড়তে হয়। এ ঘটনায় ২৬ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, সীমিত বাজেট, জনবল সংকট ও যানবাহনের অভাবে বিশাল জলায়তন এলাকাকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এছাড়া, চরফ্যাশন উপজেলার প্রায় অর্ধেক জলাশয় এখনো অভয়াশ্রমের আওতার বাইরে।

তিনি আরও বলেন, কিছু অসাধু জেলে শুরুতে অভিযান পর্যবেক্ষণ করে পরে নদীতে নামে। তবে এবার যৌথ টাস্কফোর্স কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং নদীর অভয়াশ্রম এখন সম্পূর্ণ ফাঁকা।

মো: তুহিন হোসেন, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বোরো মৌসুমে রেকর্ড আবাদ, লক্ষ ১৮ লাখ টন চাল উৎপাদনের 

বরিশাল অঞ্চলে চলতি বোরো মৌসুমে প্রায় ৪ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এই আবাদ থেকে ১৮ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও প্রাকৃতিক কিছু বাধা এবং সেচ ব্যবস্থার ব্যয় বাড়ার কারণে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, তবুও কৃষকরা আশাবাদী এ বছর উৎপাদনে রেকর্ড সৃষ্টি হবে।

চৈত্রের শেষে ও এপ্রিলের শুরু পর্যন্ত আবাদ চলায় কিছু বিলম্ব হলেও, বর্তমানে মাঠে সবুজ ধানের সমারোহ চোখে পড়ছে। কোথাও ধানে থোর এসেছে, কোথাও ছড়া বেরিয়েছে। কৃষকরা নিবিড়ভাবে পরিচর্যা করছেন তাদের ফসল।

বরিশালের কৃষক শাহজাহান মোল্লা বলেন, “প্রতিবারই আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে ফলন, তবে এবার মাঠের অবস্থা ভালো। শুধু সেচের খরচটা বেশি।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজেলচালিত সেচ যন্ত্রের উচ্চ খরচ কৃষকদের চাপের মধ্যে ফেলেছে। প্রতি মণ ধান উৎপাদনে ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১২৫০ টাকা। বিকল্প হিসেবে বিদ্যুৎচালিত ও সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে।

বরিশাল কৃষি অফিস জানিয়েছে, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) এ অঞ্চলে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে ২৩০টি বিদ্যুৎচালিত ও ২০টি সৌরচালিত সেচযন্ত্র বিতরণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI) ও আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (IRRI) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাতগুলো কৃষকদের বড় সহায়ক হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে BRRI উদ্ভাবিত প্রায় ১১৫টি জাত কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

বরিশাল অঞ্চলে সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং সরকারী সহায়তা অব্যাহত থাকলে এ বছর বোরো উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন কৃষিবিদ ও কৃষকরা।

: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বৈশাখকে ঘিরে হালখাতার প্রস্তুতি, ঐতিহ্য রক্ষায় ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা

বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সমাজে বৈশাখ মাস মানেই নতুন বছরের শুরু, পুরনো হিসাব-নিকাশ শেষ করে নতুন খাতা খোলার সময়। এই প্রথা দীর্ঘদিন ধরেই হালখাতা নামে পরিচিত। বরিশালের ব্যবসায়ীরাও সেই ঐতিহ্য ধরে রেখে চৈত্র মাসের শেষ সময়টিতে হালখাতা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

বরিশালের বাজার রোড, পোর্ট রোডসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় জোরকদমে তৈরি হচ্ছে হালখাতার জন্য প্রয়োজনীয় খাতা—জবেদা, খতিয়ান, হাচ্ছিটা, চাপাটালি, বন্ডবুক, পাকাটালি ইত্যাদি। যদিও কাগজের মূল্য এবং শ্রমিক মজুরি বৃদ্ধির কারণে খাতার দাম কিছুটা বেড়েছে, তবে ব্যবসায়ীদের মতে এটি এখনো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য।

পোর্ট রোডের ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান বলেন, “বৈশাখে হালখাতা খোলা বাঙালি ব্যবসায়ীদের শত বছরের ঐতিহ্য। প্রযুক্তির যুগে আমরা কম্পিউটার ব্যবহার করলেও হালখাতার গুরুত্ব অটুট। এটি ব্যবসায়ে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা আনে।”

আরেক দোকান মালিক শাহ আলম জানান, “হালখাতা শুধু হিসাব রাখার খাতা নয়, এটি আমাদের সততা ও ব্যবসায়িক শৃঙ্খলার প্রতীক। কাগজের দাম বাড়লেও এর গুরুত্ব কমেনি।”

বাজার রোডের ব্যবসায়ী মহিউদ্দিন মিয়া বলেন, “সরকার হয়তো ডিজিটাল পদ্ধতিকে উৎসাহ দিচ্ছে, তবে আমাদের মাঝে এই ঐতিহ্য আজও জীবিত। হালখাতা শুধু হিসাব নয়, এটি আস্থা, সম্পর্ক এবং সংস্কৃতির অংশ।”

এ বছর বরিশালে প্রায় ১০ হাজার হালখাতার চাহিদা রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাতাব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, নতুন খাতায় পুরনো দেনার হিসাব লিখে রাখার মাধ্যমে ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা এবং সম্পর্ক উন্নয়ন সম্ভব হয়।

হালখাতা এখন শুধু একটি হিসাব খাতাই নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে বরিশালের ব্যবসায়িক সমাজের সংস্কৃতি, মর্যাদা এবং ঐতিহ্যের প্রতীক।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে প্রেমিকের মৃত্যু

বরিশালে প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে মাসুদুর রহমান (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি নগরীর নতুন বাজার টেম্পুস্ট্যান্ড এলাকার হাবিবুর রহমানের ছেলে এবং পেশায় বেকারী ব্যবসায়ী।

মাসুদের পরিবারের অভিযোগ, বুধবার (৯ এপ্রিল) রাতে মাসুদুর রহমানকে পরিকল্পিতভাবে বাসায় ডেকে নিয়ে প্রেমিকা শান্তা ছুরি দিয়ে আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

অভিযুক্ত নারী
অভিযুক্ত নারী : ছবি চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম 

নিহতের ভাই মাহফুজুর রহমান জানান, মাসুদের প্রথম স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি কলেজ রোড এলাকার শওকত মোল্লার মেয়ে শান্তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। বুধবার বেকারির মালামাল আনতে মাসুদুর রহমান দুই লাখ টাকা নিয়ে বের হলে শান্তা তাকে ফোন করে বাসায় ডেকে নেন। পরে শান্তা ও তার ভাই লোকমান হোসেন টাকা নিতে চাপ দিলে মাসুদ তা দিতে অস্বীকার করেন। তখনই শান্তা মাসুদের পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন বলে অভিযোগ।

এ বিষয়ে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, মাসুদুর রহমানের সঙ্গে শান্তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এখনো থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ফিটনেসবিহীন বাসে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের ভোগান্তি

দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়কপথে যাত্রী পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে বিআরটিসির ফিটনেসবিহীন, পুরনো ও ভাঙাচোরা বাস। বরিশাল বিআরটিসি বাস ডিপোর আওতাধীন এসব বাসের অধিকাংশই ব্যবহার অযোগ্য হলেও নিয়মিত সড়কে চলছে, যার ফলে প্রতিদিনই দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।

পদ্মা সেতু চালুর পর সড়কপথে যাতায়াত বেড়ে গেলেও সেই অনুপাতে বাড়েনি বাসের মান। বরং যাত্রী চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ রাস্তায় নামিয়েছে বছরের পর বছর পুরনো, ঝুঁকিপূর্ণ বাস। অনেক বাসের দরজা-জানালা ভাঙা, কোথাও পলিথিনে মোড়া, এমনকি এসি বাস হলেও এসি ও ফ্যান অকেজো। এতে পরিবার নিয়ে যাতায়াত করাও হয়ে উঠছে কঠিন।

এমনকি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নির্ধারিত একটি দোতলা বিআরটিসি বাসও এখন যাত্রী পরিবহনে ব্যবহার করছে ডিপো কর্তৃপক্ষ। যাত্রীদের অভিযোগ, এসব বাস লোকাল বাস থেকেও নিন্মমানের।

একজন ভুক্তভোগী যাত্রী মারিয়া আক্তার বলেন, “বাসে উঠলেই মনে হয় দুর্ঘটনা ঘটে যাবে। দরজা ঠিকমতো খোলে না, জানালা বন্ধ করা যায় না, আর গরমে তো শ্বাস নেয়াই কষ্ট। এসি বাসে এসি চলে না, ফ্যানও চলে না। এটা কীভাবে সরকারি সেবা?”

অন্য যাত্রী ইলিয়াস হাওলাদার অভিযোগ করেন, “প্রতিবছর সরকার গাড়ি মেরামতের জন্য বাজেট দেয়। কিন্তু তার কোনো বাস্তব প্রয়োগ দেখি না। সামান্য মেরামত দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করা হয়।”

এ বিষয়ে বরিশাল বিআরটিসি ডিপোর অপারেশন ম্যানেজার মোঃ জামিল হোসেন বলেন, “২০১৯ সালের পর নতুন কোনো বাস বরাদ্দ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে পুরনো বাসগুলোই মেরামত করে চালানো হচ্ছে।”

তবে যাত্রীদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে বড় ধরনের সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়ানো যাবে না। তারা দ্রুত নতুন, ফিটনেসযুক্ত ও নিরাপদ বাস সরবরাহের জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাংলাদেশের অটল অবস্থান: ফিলিস্তিন ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে আইসিসি’র সঙ্গে সম্পৃক্ততা জোরদার

জাতিসংঘের প্রস্তাবসমূহের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে একটি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম। তুরস্কে আয়োজিত ‘আনাতোলিয়া কূটনীতি ফোরাম (এডিএফ)-২০২৫’ এর ফাঁকে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর করিম এ.এ. খানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি আগ্রাসনের মুখে ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে গাজায় মানবিক বিপর্যয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগের প্রসঙ্গ উত্থাপন করে, আইসিসির ভূমিকার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান উপদেষ্টারা। একইসঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়, যেখানে তারা জাতিগত নিধনের অভিযোগের বিচার নিশ্চিত করতে আইসিসির পদক্ষেপকে স্বাগত জানান।

বৈঠকে আরও আলোচিত হয় বাংলাদেশ ও আইসিসির মধ্যে চলমান সম্পর্ক, যার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি দেন উভয় পক্ষ। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থায় অটল অবস্থান এবং রোম সংবিধির প্রতি আনুগত্যের প্রশংসা করেন প্রসিকিউটর করিম খান। বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের জন্য আইসিসির সঙ্গে যৌথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধির কর্মসূচি গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেন তৌহিদ হোসেন। পাশাপাশি মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধরা হয়।

এ সময় তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতসহ দুই পক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তিন দিনব্যাপী ‘আনাতোলিয়া কূটনীতি ফোরাম (এডিএফ)-২০২৫’ এ বিশ্ব নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি ছিল লক্ষণীয়। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিভক্ত বিশ্বে কূটনীতি পুনরুদ্ধার’, যেখানে বৈশ্বিক সংঘাত ও মতভেদ দূর করে সম্মিলিত পদক্ষেপের উপযোগী পথ খুঁজে বের করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।

বিশ্বের ২০টিরও বেশি রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান, ৫০ জনের বেশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ৭০ জনের বেশি মন্ত্রী ও ৬০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক সংস্থার সিনিয়র প্রতিনিধি এডিএফ-২০২৫ এ অংশগ্রহণ করেন। শিক্ষার্থীসহ প্রায় ৪ হাজার অতিথির অংশগ্রহণে এ ফোরাম বিশ্বের কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পাচার হওয়া সম্পদ ছয় মাসে জব্দের ঘোষণা, এক বছরে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য: গভর্নর আহসান এইচ মনসুর

বিদেশে পাচার হওয়া কয়েক লাখ কোটি টাকার সম্পদ আগামী ছয় মাসের মধ্যে চিহ্নিত ও জব্দ করে এক বছরের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর।

শুক্রবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালীর বাংলাদেশ ব্যাংক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানান তিনি।

গভর্নর বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে পাচার হওয়া অর্থ দ্রুত জব্দ করে দেশে ফিরিয়ে আনা। ইতোমধ্যে বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। মিউচুয়াল ও লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স চুক্তির মাধ্যমে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি জানান, “চট্টগ্রামের একটি বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী ব্যাংক খাত থেকে প্রায় সোয়া এক লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। শুধু বেক্সিমকো গ্রুপই পাচার করেছে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা। দেশে বর্তমানে অনাদায়ী ঋণের পরিমাণ প্রায় পাঁচ লাখ কোটি টাকা, যা অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ‘আউট অব কোর্ট সেটেলমেন্ট’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থ ফেরত আনার পথ খোলা রাখা হবে যদি তথ্য প্রমাণ সুনির্দিষ্ট হয়।”

মুদ্রাস্ফীতি বিষয়ে গভর্নর জানান, “খাদ্যপণ্যে আগে প্রকৃত মুদ্রাস্ফীতি ছিল ১৩-১৪ শতাংশ। বর্তমানে তা ৮-৯ শতাংশে নেমে এসেছে। আগামী অর্থবছরে তা ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ চলছে।”

তিনি আরও বলেন, “ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি দুর্বল ব্যাংক এখন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। রেমিট্যান্স প্রবাহও ইতিবাচক ধারায় ফিরছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তবে অকারণে কাউকে বরখাস্ত করা হবে না।”

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিন, পরিচালক সালাহ উদ্দীন, আরিফুজ্জামান, আশিকুর রহমান, স্বরূপ কুমার চৌধুরী ও ফাইন্যান্স ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের পরিচালক আনিসুর রহমান।


মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কারা হেফাজতে নিহত ছাত্রদল নেতা মিলনের পরিবারের খোঁজ নিলেন তারেক রহমানের প্রতিনিধি

কারা হেফাজতে মৃত্যুবরণকারী ছাত্রদল নেতা জাকির হোসেন মিলন-এর পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা ও ‘দেশমাতা ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান সমন্বয়ক ব্যারিস্টার আবু সায়েম

আজ শুক্রবার (১১ এপ্রিল ২০২৫) সকাল ১১টায় গাজীপুরের টঙ্গী উপজেলার মাজুখান গ্রামে গিয়ে মরহুম মিলনের বাসায় তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এ সময় তিনি তারেক রহমানের পক্ষ থেকে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন—আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব ও দেশমাতা ফাউন্ডেশন-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, জাতীয় প্রেসক্লাবের স্থায়ী সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি, এবং বেসরকারি টিভি চ্যানেল নিউজ টুয়েন্টিফোর-এর নির্বাহী সম্পাদক ফরহাদুল ইসলাম ফরিদ

ব্যারিস্টার আবু সায়েম জানান,তারেক রহমান চাচ্ছেন মিলনের পরিবারের সন্তানদের যেন কোনো সমস্যায় না পড়তে হয়। দেশমাতা ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে শহীদ মিলনের দুই কন্যাকে নিয়মিত শিক্ষা বৃত্তির আওতায় আনা হয়েছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৬ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাব থেকে ফেরার পথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হন জাকির হোসেন মিলন। অভিযোগ রয়েছে, শাহবাগ থানায় আটক অবস্থায় তার ওপর চালানো হয় অমানবিক নির্যাতন। পরে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি এবং ১২ মার্চ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

ঘটনাটি এখনো ‘কারা হেফাজতে মৃত্যুর’ একটি আলোচিত উদাহরণ হয়ে আছে। দলটির পক্ষ থেকে বারবার বিচার দাবি করা হলেও আজও দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নামাজরত নারীর গলায় ছুরি ধরে স্বর্ণ ও টাকা লুট, আতঙ্কে বানারীপাড়া

বরিশালের বানারীপাড়ায় মাগরিবের নামাজরত এক নারীর গলায় ছুরি ধরে সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ তিন লাখ টাকা লুট করেছে মুখোশধারী তিন দুর্বৃত্ত। বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের গরদ্দার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, গৃহকর্তা আ. সত্তার মোল্লা নামাজ পড়তে পাশের মসজিদে গেলে, তার স্ত্রী তহমিনা বেগম (৫০) ঘরে মাগরিবের নামাজে মগ্ন ছিলেন। সে সময় মুখোশ পরা তিনজন দুর্বৃত্ত টিনশেড ঘরে ঢুকে তাকে জবাই করে হত্যার ভয় দেখিয়ে গলায় ছুরি ধরে, মুখ চেপে ধরে কাঠের বাক্স থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও টাকা লুট করে নেয়।

ঘটনার সময় ঘরের অন্য একটি কক্ষে গৃহিণীর ছয়জন নাতি-নাতনি অবস্থান করলেও তারা কিছু বুঝতে পারেনি। কিছুক্ষণ পর বাড়ি ফিরে স্বামী আ. সত্তার মোল্লা তার স্ত্রীকে অচেতন অবস্থায় মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখেন। জ্ঞান ফিরে এলে তহমিনা বেগম ভয়ঙ্কর সেই ঘটনার বর্ণনা দেন। ছুরির চাপে তার গলায় ক্ষতের চিহ্ন দেখা গেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মোস্তফা কামাল তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তিনি জানান,“ঘটনার সময় ঘরের ভেতরে শিশুরাও ছিল, অথচ তারা কিছু টের পায়নি। বিষয়টি ঘোলাটে, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বৈশাখী মেলার অনুমতি নেই, তবুও চলছে প্রস্তুতি

বরিশালে বাংলা নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি পুরোদমে চললেও, নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে এবছর বৈশাখী মেলার অনুমতি দিচ্ছে না নগর পুলিশ। তবে জেলা প্রশাসন ও সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী জানাচ্ছে, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী মেলার প্রস্তুতি তারা নিচ্ছে।

শহরের বিএম স্কুল মাঠে বৈশাখী মেলার আয়োজনের কথা জানিয়েছে উদীচী বরিশাল জেলা সংসদ। সংগঠনটির সভাপতি বিশ্বনাথ দাশ মুন্সি বলেন,আমরা বৈশাখী মেলা করতে চাই এবং সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি।

বরিশাল জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আছে। ৭ দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।

তবে,ভিন্ন কথা জানালেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) কমিশনার শফিকুল ইসলাম স্পষ্ট করে বলেন,আমি কোন অনুমতি দিবো না। শহরের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত।

এদিকে চারুকলা অনুষদের উদ্যোগে মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রস্তুতি চলছে। ঐতিহ্যবাহী মুখোশ, ঘোড়া, হাতি তৈরির কাজ চলছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার উপকরণ ও উপস্থাপনায় কিছুটা কাটছাঁট করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বৈশাখ ঘিরে বরিশালের ইলিশের বাজারে আগুন। শহরের পোর্টরোড মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে ক্রেতাদের ভিড় বাড়লেও, মাছের দাম আকাশচুম্বী। এক কেজি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে ৩৩০০ টাকায়, দেড় কেজির মাছ ৪০০০ টাকা, আর ছোট ইলিশ (৮০০ থেকে ৯০০ গ্রাম) ২৭০০ টাকায়।

ব্যবসায়ীরা জানান, চাহিদা অনেক, তবে সরবরাহ কম। এই সুযোগেই দাম বাড়াচ্ছে কিছু সিন্ডিকেট। ক্রেতাদের অভিযোগ, পালাপার্বণে বাজার পুরোপুরি সিন্ডিকেটের দখলে চলে যায়।

বর্ষবরণে মেলা হবে কি না, সে প্রশ্ন থাকলেও বরিশালের মানুষ প্রস্তুত নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে। এখন দেখার বিষয় উদযাপন কতটা পূর্ণতা পায় প্রশাসনের সিদ্ধান্তের আলোকে।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”