স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর– প্রথমবার চেয়ারপার্সন কার্যালয়ে বসেছেন তারেক রহমান

রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বসেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এক-এগারোর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এটি তার প্রথম আগমন।

আজ রবিবার দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমান গুলশান এভিনিউ থেকে গাড়ি যোগে কার্যালয়ে পৌঁছান। বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা—including ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী—ফুল দিয়ে তাকে অভ্যর্থনা জানান।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান গাড়ি থেকে নেমে উপস্থিত নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে কার্যালয়ের দোতলায় নিজের কক্ষে বসেন এবং দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

এছাড়া নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়েও তারেক রহমানের জন্য আলাদা কক্ষ তৈরি করা হয়েছে। দোতলায় চেয়ারপার্সনের কক্ষের পাশেই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের চেম্বার স্থাপন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৫ ডিসেম্বর লন্ডন থেকে ১৭ বছর পর দেশে ফিরে আসেন তারেক রহমান। ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাওয়ার পর সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন দেশে ফেরার সুযোগ পাননি তিনি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরিশাল টিটিসি মাঠ থেকে উদ্ধার হলো মানুষের মাথার খুলি

 

বরিশাল কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) থেকে মানুষের পুরনো মাথার খুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতের ঘটনা, নগরীর সিএন্ডবি রোডে টিটিসির খেলার মাঠে ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, কয়েকজন শিশু মাটি খুঁড়ছিলো। হঠাৎ মানুষের মাথার খুলি বের হওয়ায় তারা চিৎকার শুরু করে। আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করেন। পরে পুলিশ এসে খুলিটি উদ্ধার করে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. আল মামুন-উল ইসলাম জানান, খুলিটি বহু পুরনো এবং এটি ফরেনসিক টিমকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরিশালে কনকনে ঠান্ডা, হিমেল বাতাসে বিপাকে শ্রমজীবী মানুষ

 

বরিশালে কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল বাতাসে থমকে গেছে জনজীবন। স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের দৈনন্দিন জীবন কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

রোববার বরিশালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা শনিবার ছিল ১২.৪ ডিগ্রি। সকালে কুয়াশা কমলেও হিমেল বাতাসে দিনভর শীত অনুভূত হয়।

নগরীর নতুন বাজার এলাকার অটোরিকশা চালক সোহেল বলেন, “গত দুই-তিন দিন ধরে এমন ঠান্ডা বিরাজ করছে। রাস্তায় লোকজন কম বের হচ্ছে, ফলে আয় রোজগারও কমেছে।”

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের উচ্চ পর্যবেক্ষক প্রনব কুমার রায় জানিয়েছেন, চলতি মৌসুমে জেলা-wide সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং দিনের সর্বোচ্চ ২৫.৫ ডিগ্রি রেকর্ড করা হয়েছিল।

শীতের তীব্রতা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় শিশু ও বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষ অসুবিধায় পড়ছেন। হাসপাতালেও ঠান্ডাজনিত রোগে রোগীর চাপ বেড়েছে। পুরো জেলায় সকাল পর্যন্ত হালকা কুয়াশা বিরাজ করছিল এবং রোদ দেখা যায়নি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ওসমান হাদি হত্যা মামলায় ভারতে আটক হামলাকারীর দুই সহযোগী

 

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত হামলাকারীর দুই সহযোগীকে ভারতে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম।

রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দুটি বিদেশি পিস্তল, ৫২ রাউন্ড গুলি, ম্যাগাজিন, ছোরা, মোটরসাইকেল, ভুয়া নম্বরপ্লেট, অটোরিকশা এবং ৫৩টি অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ২১৮ কোটি টাকার স্বাক্ষরিত চেক জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পরপরই প্রধান হামলাকারী ফয়সাল ও আলমগীর ঢাকা থেকে পালিয়ে প্রথমে আমিনবাজার, পরে মানিকগঞ্জের কালামপুর হয়ে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে পৌঁছায়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী তারা সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করে। সীমান্ত পার হওয়ার আগে ফিলিপ ও সঞ্জয় নামে দুই ব্যক্তি তাদের সহায়তা করে। পরে মেঘালয়ের পুত্তি ও ট্যাক্সিচালক সামীর মাধ্যমে তারা তুরা এলাকায় পৌঁছায়।

ডিএমপি জানায়, অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমে মেঘালয় পুলিশের কাছ থেকে জানা গেছে—পুত্তি ও সামীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আসামিরা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেছিল।

এই মামলায় গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৬ জন স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন এবং ৪ জন সাক্ষী ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। তদন্ত প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। আগামী ৭ থেকে ১০ দিনের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হবে বলে আশা করছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কারা জড়িত—এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা গেলে পেছনের পরিকল্পনাকারীদের বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। তদন্তের স্বার্থে সম্ভাব্য নামগুলো প্রকাশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে জুমার নামাজ শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেলযোগে হামলার শিকার হন ওসমান হাদি। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে তিনি মারা যান।

হাদির মৃত্যুর পর মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) যুক্ত করা হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের পদত্যাগ

অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান রাষ্ট্রপতির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে পদত্যাগপত্রটি দাখিল করেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রাতে অ্যাটর্নি জেনারেল নিজেই কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অব্যাহতির আবেদন জমা দেন। কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়।

পদত্যাগপত্রে মো. আসাদুজ্জামান ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করেছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রোববার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে পদত্যাগপত্রটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

এর আগে গত ৫ নভেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে ভোটে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

উল্লেখ্য, গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ৮ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বিএনপির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান বাংলাদেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে এ পদে নিয়োগ প্রদান করেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল প্রায় ১২ কোটি টাকা

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স ও অনলাইনে জমা হওয়া দান গণনা করে এবার পাওয়া গেছে ১১ কোটি ৯১ লাখ ২৮ হাজার ৪৮১ টাকা। এর মধ্যে দানবাক্সে জমা ছিল ১১ কোটি ৭৮ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৮ টাকা এবং অনলাইনে দান এসেছে ১২ লাখ ৭৯ হাজার ৯৪৩ টাকা।

শনিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) সকাল থেকে দিনভর গণনা শেষে সন্ধ্যার পর এই তথ্য নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মো. এরশাদুল আহমেদ। দানবাক্স থেকে বিপুল অঙ্কের টাকার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপার অলংকারও পাওয়া গেছে।

শনিবার সকাল ৭টার দিকে প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা ও তত্ত্বাবধানে মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়। এ সময় মোট ৩৫ বস্তা টাকা পাওয়া যায়। দানবাক্স খোলার সময় জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া টাকা গণনায় অংশ নেন পাগলা মসজিদ সংলগ্ন মাদ্রাসার ১১০ জন ও আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ২৫০ জন শিক্ষার্থী, মসজিদের ৩৩ জন কর্মচারী, রূপালী ব্যাংকের ১০০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অর্ধশতাধিক সদস্য।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, পাগলা মসজিদকে কেন্দ্র করে একটি আধুনিক ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ১০ তলাবিশিষ্ট এই ভবনে অনাথ ও এতিমদের জন্য শিক্ষাব্যবস্থা, ধর্মীয় শিক্ষা কার্যক্রম, পাঠাগার, ক্যাফেটেরিয়া ও আইটি সেকশন থাকবে।

বর্তমানে মসজিদের আয়তন ৫ দশমিক ৫ একর হলেও নতুন কমপ্লেক্স নির্মাণে আরও জায়গা কেনা হবে। জেলা প্রশাসক জানান, এই মুহূর্তে পাগলা মসজিদের ব্যাংক হিসাবে দানকৃত অর্থের পরিমাণ ১০৪ কোটি টাকার বেশি। ইতোমধ্যে কমপ্লেক্সের নকশা জমা দিয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠান। যাচাই-বাছাই শেষে একটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করা হয়েছে এবং শিগগিরই কাজ শুরুর কার্যাদেশ দেওয়া হবে।

পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন জানান, দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পাগলা মসজিদে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত মানুষ নিয়মিত অর্থ ছাড়াও হাঁস, মুরগি, গরু, ছাগলসহ নানা সামগ্রী দান করে থাকেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম


 




মক্কা-মদিনায় এক মাসে প্রায় ৭ কোটি জিয়ারতকারী

পবিত্র মক্কা ও মদিনায় অবস্থিত মসজিদে হারাম এবং মসজিদে নববিতে মাত্র এক মাসে প্রায় ৭ কোটি উমরা পালনকারী, মুসল্লি ও জিয়ারতকারীর আগমন ঘটেছে। সৌদি আরবের দুই পবিত্র মসজিদের তত্ত্বাবধায়ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জমাদিউস সানি মাসে মোট ৬ কোটি ৮৭ লাখ ৪১ হাজার ৮৫৩ জন মানুষ এই দুই মসজিদে ইবাদত ও জিয়ারতে অংশ নেন। যা আগের মাসের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ বেশি।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে প্রায় ৩ কোটি মুসল্লি মসজিদে হারামে নামাজ ও ইবাদত আদায় করেন। এর মধ্যে ৯৪ হাজার ৭০০ জন মুসল্লি কাবা শরিফসংলগ্ন হাতিমে কাবায় নামাজ আদায়ের সুযোগ পান। একই সময়ে মদিনার মসজিদে নববিতে ইবাদত ও জিয়ারতের জন্য গেছেন প্রায় ২ কোটি ৩১ লাখ মুসল্লি।

এছাড়া পবিত্র রিয়াজুল জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছেন প্রায় ১৩ লাখ মুসল্লি। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এবং তাঁর দুই সাহাবির কবর জিয়ারত করেছেন আরও প্রায় ২৩ লাখ মানুষ।

সৌদি হজ ও উমরা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুধু জমাদিউস সানি মাসেই দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে ১ কোটি ১৯ লাখের বেশি মুসলমান উমরা পালন করেছেন। উন্নত ব্যবস্থাপনা, আধুনিক সেবা এবং ডিজিটাল সুবিধার কারণে উমরা পালনকারীর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানানো হয়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উক্ত সময়ে সৌদি আরবের বাইরে থেকে আগত উমরা যাত্রীর সংখ্যা ছিল ১৭ লাখের বেশি। ডিজিটাল ভিসা, সমন্বিত লজিস্টিক সেবা এবং সহজ আগমন প্রক্রিয়ার ফলে মুসল্লিরা স্বাচ্ছন্দ্যে ইবাদত করার সুযোগ পাচ্ছেন।

দুই পবিত্র মসজিদে মুসল্লি ও জিয়ারতকারীর এই ব্যাপক উপস্থিতি সৌদি আরবের ‘ভিশন ২০৩০’ বাস্তবায়নের অংশ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। হজ, উমরা ও জিয়ারত ব্যবস্থাকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় কাজ করছে সৌদি সরকার। যাত্রা পরিকল্পনা থেকে শুরু করে সৌদি আরব ত্যাগ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে মুসল্লিদের স্বস্তি ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তীব্র শীতে বরিশালে ফুটপাতে শীতের পোশাকে উপচেপড়া ভিড়

ঘন কুয়াশা ও হিমেল বাতাসে বরিশালসহ গোটা দক্ষিণাঞ্চলে শীতের তীব্রতা চরম আকার ধারণ করেছে। হাড় কাঁপানো এই শীত থেকে বাঁচতে বরিশালে ফুটপাতে বসা শীতের পোশাকের দোকানগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের ভিড়। স্বল্প আয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকজনও ভিড় করছেন এসব অস্থায়ী দোকানে।

সরজমিনে দেখা গেছে, বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সামনে জেলা পরিষদের পুকুরপাড় ঘিরে গড়ে ওঠা অস্থায়ী শীতের পোশাকের দোকানগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে। বিশেষ করে ফুটপাতের দোকানগুলোতে উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

এদিকে তীব্র শীত খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনকে আরও কঠিন করে তুলেছে। শিশু ও বয়স্কদের অবস্থা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। অনেকেই খোলা জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে কিংবা অপর্যাপ্ত গরম কাপড় পরিধান করে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। তবে প্রচণ্ড শীতের কারণে এসব উদ্যোগ অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকর হচ্ছে না।

দিনমজুর ও ছিন্নমূল মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে। ঘরবাড়ি না থাকা অনেক মানুষ লঞ্চঘাট, বাস টার্মিনালসহ খোলা স্থানে রাত কাটাচ্ছেন। শীতবস্ত্রের অভাবে খোলা আকাশের নিচে তাদের মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ বছর এখনও সংগঠিতভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চোখে পড়েনি।

শীতের পোশাক বিক্রেতারা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও কমদামে দেশি ও বিদেশি পুরোনো শীতের পোশাক বিক্রি করছেন তারা। ৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকার মধ্যে শীতের কাপড় পাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের ভিড় বেশি হচ্ছে। বিক্রিও আগের তুলনায় ভালো বলে জানান তারা।

অন্যদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। যদিও আপাতত শৈত্যপ্রবাহের কোনো আশঙ্কা নেই। বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্বর, সর্দি-কাশি, ডায়রিয়া, টাইফয়েড ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে শিশু ও বয়স্ক রোগীর চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে শীতের দাপটে শেবাচিমে শিশু ওয়ার্ডে ভয়াবহ বেড সংকট

শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বেড সংকটের কারণে অনেক অসুস্থ শিশু মেঝেতে বসে কিংবা ফ্লোরে শুয়েই চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছে। এতে শিশু ও তাদের অভিভাবকদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। ৪১ শয্যার এই ওয়ার্ডে বর্তমানে প্রায় আড়াই শতাধিক শিশু ভর্তি রয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় শয্যা কম থাকায় একটি বেডে ৩ থেকে ৪ জন শিশুকে রাখা হচ্ছে।

শিশু ওয়ার্ডের চিকিৎসকরা জানান, অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসক ও নার্সরা হিমশিম খাচ্ছেন। সীমিত জনবল ও অবকাঠামোর মধ্যেও চিকিৎসাসেবা অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে। এদিকে হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ জনের বেশি শিশু চিকিৎসা নিতে আসছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নেওয়ার পরও শিশুদের অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে হাসপাতালে আনতে হচ্ছে। শিশুদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে নিউমোনিয়া, জ্বর, সর্দি ও কাশিতে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. এ কে এম মসিউল মুনীর জানান, “শিশু ওয়ার্ডে শয্যা সংখ্যা সীমিত হলেও সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে।”

বরিশাল আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার নগরীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ঘন কুয়াশা ও মেঘলা আবহাওয়ার কারণে শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হয়ে উঠেছে, যার প্রভাব পড়ছে শিশুদের স্বাস্থ্যে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

বাংলা ট্যাগ:
#বরিশাল #শেবাচিম #শিশু_ওয়ার্ড #বেড_সংকট #শীতজনিত_রোগ#Barishal #SBMC #ChildWard #BedCrisis #WinterDiseases

 




১৮ বছর ধরে হাজারো শালিকের নির্ভরতার নাম পাথরঘাটার আব্দুল হক

বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার তালতলা চত্বরে প্রতিদিন ভোর হলেই চোখে পড়ে এক ব্যতিক্রমী মানবিক দৃশ্য। সকাল ছয়টা বাজতেই আব্দুল হকের ছোট দোকানের সামনে জড়ো হয় ৮ থেকে ১০ হাজার শালিক পাখি। আশপাশের গাছের ডাল ও বিদ্যুতের খুঁটিতে বসে কিচিরমিচির শব্দে যেন তারা অপেক্ষা করে প্রিয় মানুষটির জন্য।

২০০৭ সাল থেকে টানা ১৮ বছর ধরে নিজের উপার্জনের অর্থ থেকেই এসব শালিক পাখির খাবারের ব্যবস্থা করে আসছেন আব্দুল হক। কখনো গম, কখনো চাল, আবার কখনো ডালভাত কিংবা রুটি—যা থাকে, তাই ভাগ করে নেন পাখিদের সঙ্গে। অনেক সময় কয়েক কেজি আটা দিয়ে আলাদা করে রুটি বানিয়ে কুচিয়ে দেন শুধু শালিকদের জন্য। এই কাজে তার কোনো আর্থিক লাভ নেই, আছে কেবল ভালোবাসা ও মানসিক প্রশান্তি।

স্থানীয়রা জানান, কোনো কারণে একদিন খাবার দিতে দেরি হলে বা না দিতে পারলে পাখিরা দোকানের সামনে এসে কিচিরমিচির করে তাকে খুঁজতে থাকে। এলাকাবাসীর মতে, পাখিরাও মানুষকে চিনতে পারে—আর আব্দুল হকের মতো মানবিক মানুষ বর্তমান সময়ে খুবই বিরল। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শালিক পাখির সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। এই ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসছেন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষজন।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, শালিক পাখি পরিবেশের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তারা ফসলের ক্ষেতে পোকামাকড় খেয়ে কৃষকদের কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে সহায়তা করে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

এলাকার বাসিন্দা আব্বাস বলেন, “একসময় আব্দুল হক দীর্ঘদিন এলাকায় না থাকায় পাখিদের অস্থির আচরণ দেখেই বোঝা গিয়েছিল তিনি অনুপস্থিত। যেন তার অনুপস্থিতিতেই পাখিদের সঙ্গে গভীর বন্ধনের নিঃশব্দ আর্তনাদ প্রকাশ পেয়েছিল।”

আব্দুল হক বলেন, “২০০৭ সাল থেকে নিজের টাকায় প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ হাজার শালিক পাখিকে খাবার দিচ্ছি। ওরা আমার পরিবারের মতো। আমি না থাকলেও যেন কেউ তাদের অভাব পূরণ করে—এই কামনাই করি।”

পাথরঘাটা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. অরবিন্দ দাস বলেন, “আব্দুল হকের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। নিজের অর্থে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত পাখিদের খাবার দেওয়ার বিষয়টি বর্তমান সময়ে বিরল উদাহরণ। ভবিষ্যতে সরকারি কোনো সহায়তার সুযোগ তৈরি হলে তাকে সহযোগিতা করা হবে, যাতে তিনি এই মহৎ কাজটি চালিয়ে যেতে পারেন।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫