ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন হবেই, প্রস্তুত সশস্ত্র বাহিনী: সেনাপ্রধান

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেছেন, একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা সশস্ত্র বাহিনীর রয়েছে এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাই প্রস্তুত।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুর জেলা পরিদর্শন শেষে তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সেনাপ্রধান জানান, নির্বাচন আয়োজন নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন, পুলিশসহ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর মধ্যে পূর্ণ সমন্বয় রয়েছে। ফলে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার কোনো কারণ নেই।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে কিছু অপরাধী চক্র আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করতে পারে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হয়েছে। তবে সবাই এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

নির্বাচনী সহিংসতা বা বিশৃঙ্খলা প্রসঙ্গে সেনাপ্রধান বলেন, ভোটের দিন যারা ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেবে বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী সরাসরি অ্যাকশনে যাবে।

এ সময় নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বলেন, দিন ও রাতে নিয়মিত অভিযানের মাধ্যমে দুষ্কৃতকারীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। অপরাধীরা যেন সবসময় আতঙ্কে থাকে, সে পরিবেশ বজায় রাখাই লক্ষ্য। আমাদের সবার উদ্দেশ্য একটাই—নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।

বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ শান্ত রাখতে ভোটারদের মধ্যে আস্থা তৈরি করা জরুরি। এজন্য মাঠে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীর সদস্যদের দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়াতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা করার সুযোগ নেই।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, গাজীপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার সামরিক, বেসামরিক প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তিন বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব পালনে পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

পরিদর্শনকালে ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েন থাকা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দেন তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রেমিট্যান্সে চাঙ্গা রিজার্ভ, ছাড়াল ৩৩ বিলিয়ন ডলার

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ডলার কেনা এবং চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রবাসীদের পাঠানো বিপুল অঙ্কের রেমিট্যান্সে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক গতি ফিরেছে। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, জানুয়ারি মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। একই সময়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী ডলার কেনার ফলে রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হয়েছে। এসব মিলিয়ে ফেব্রুয়ারির শুরুতেই রিজার্ভে স্পষ্ট উল্লম্ফন দেখা গেছে।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৩ দশমিক ২৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভের পরিমাণ কিছুটা কম ধরা হয়, যা বর্তমানে ২৮ হাজার ৭৪৮ দশমিক ৯৫ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ২৮ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৬২ বিলিয়ন ডলার। একই সময়ে বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ২৮ দশমিক ০২ বিলিয়ন ডলার। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে উভয় হিসাবেই রিজার্ভ বৃদ্ধির প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আইএমএফের নিয়ম অনুযায়ী নিট বা প্রকৃত রিজার্ভ নির্ধারণ করা হয় বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে। মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি দায় ও অন্যান্য বাধ্যবাধকতা বাদ দিলে যে পরিমাণ থাকে, সেটিকেই প্রকৃত রিজার্ভ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই সূচকে রিজার্ভের অবস্থান উন্নতির দিকে থাকায় বৈদেশিক লেনদেন ও আমদানি ব্যয়ের চাপ সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সক্ষমতা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রবাসী আয়ে ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে এবং রপ্তানি আয়ের গতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী মাসগুলোতে রিজার্ভ আরও স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে আস্থা বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জুলাই গ্রাফিতিতে নতুন ১০ টাকার নোট, বাজারে আসছে আজ

বাংলাদেশের মুদ্রা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করতে জুলাই গ্রাফিতি সংবলিত ১০ টাকার নতুন নোট বাজারে ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, আজ ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এ নোট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচলনে আসছে। সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্য’ শীর্ষক নতুন নোট সিরিজের আওতায় বিভিন্ন মূল্যমানের কাগুজে নোট ছাপানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই সিরিজে ১০০০, ৫০০, ২০০, ১০০, ৫০, ২০, ১০, ৫ ও ২ টাকা মূল্যমানের নোট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এরই মধ্যে ১০০০, ৫০০, ১০০, ৫০ ও ২০ টাকার নতুন নোট বাজারে এসেছে। ধারাবাহিকভাবে এবার যুক্ত হচ্ছে নতুন নকশার ১০ টাকার নোট।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ. মনসুরের স্বাক্ষরযুক্ত এই নোটটি প্রথম ধাপে ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে মতিঝিলে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে ইস্যু করা হবে। পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যান্য অফিসের মাধ্যমেও নতুন নোটটি সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, নতুন ১০ টাকার নোট চালু হলেও বর্তমানে প্রচলিত সব কাগুজে নোট ও ধাতব মুদ্রা আগের মতোই বৈধ থাকবে। ফলে সাধারণ মানুষের লেনদেনে কোনো ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হবে না। পাশাপাশি মুদ্রা সংগ্রাহকদের জন্য বিশেষভাবে ১০ টাকার স্পেসিমেন নোটও ছাপানো হয়েছে। এসব নমুনা নোট বিনিময়যোগ্য নয় এবং আগ্রহীরা নির্ধারিত মূল্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের মিরপুরে অবস্থিত টাকা জাদুঘর বিভাগ থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।

নতুন ১০ টাকার নোটটির দৈর্ঘ্য ১২৩ মিলিমিটার এবং প্রস্থ ৬০ মিলিমিটার। নোটের সামনের অংশের বাম পাশে রয়েছে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের ছবি। মাঝখানে ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে পাতা ও কলিসহ প্রস্ফুটিত জাতীয় ফুল শাপলার নান্দনিক নকশা। নোটের পেছনের অংশে স্থান পেয়েছে ‘গ্রাফিতি–২০২৪’-এর চিত্র, যা সাম্প্রতিক সময়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রকাশভঙ্গিকে তুলে ধরে। পুরো নোট জুড়ে গোলাপি রঙের আধিক্য চোখে পড়বে।

নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যের দিক থেকেও নতুন নোটে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি। নোটের জলছাপে দেখা যাবে রয়েল বেঙ্গল টাইগারের মুখ, তার নিচে ইলেকট্রোটাইপে ‘১০’ সংখ্যা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম। সম্মুখভাগে রয়েছে ২ মিলিমিটার চওড়া নিরাপত্তা সুতা, যেখানে ‘$10 দশ টাকা’ লেখা আছে। আলোতে ধরলে সুতাটি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হয় এবং নোট নড়াচড়া করলে এর রং লাল থেকে সবুজে পরিবর্তিত হয়।

এছাড়া গভর্নরের স্বাক্ষরের ডান পাশে ‘সি-থ্রু ইমেজ’ প্রযুক্তিতে একটি বিশেষ প্যাটার্ন সংযোজন করা হয়েছে, যা আলোয় ধরলে ‘১০’ অঙ্কটি পরিষ্কারভাবে দেখা যায়। নোটের সম্মুখভাগে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক’ লেখার নিচে এবং পেছনের নির্দিষ্ট অংশে মাইক্রোপ্রিন্টিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নোট জালিয়াতি রোধে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

নতুন এই নোট বাজারে আসার মাধ্যমে দেশের মুদ্রা ব্যবস্থায় নান্দনিকতা ও নিরাপত্তার সমন্বয় আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠিকে আবার ‘দ্বিতীয় কলকাতা’ গড়ার অঙ্গীকার : নেয়ামুল করিম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝালকাঠি-২ (ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি) আসনে ১১ দলীয় জোট তথা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী এস. এম. নেয়ামুল করিম ঝালকাঠির হারিয়ে যাওয়া ব্যবসা-বাণিজ্যের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, এক সময়ের ‘দ্বিতীয় কলকাতা’ খ্যাত ঝালকাঠিকে আবার অর্থনৈতিকভাবে প্রাণবন্ত করতে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বাসসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে এস. এম. নেয়ামুল করিম জানান, ঝালকাঠিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া লবণ মিলগুলো পুনরায় চালুর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রায় বিলুপ্তপ্রায় কাসা ও পিতল শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে ঋণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং ঐতিহ্যবাহী শিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, রাজনীতির শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন। বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচিত জিএস হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং জুলাই আন্দোলনে ভূমিকা রাখার অভিজ্ঞতা তাকে মানুষের জন্য কাজ করতে আরও অনুপ্রাণিত করেছে। নির্বাচিত হলে ঝালকাঠির ঐতিহ্য ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে জেলার সামগ্রিক উন্নয়নে কাজ করবেন বলে জানান তিনি।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রসঙ্গে এস. এম. নেয়ামুল করিম বলেন, ঝালকাঠিতে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে উচ্চশিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার জন্য শিক্ষার্থী ও রোগীদের অন্য জেলায় ছুটে যেতে না হয়। পাশাপাশি মোংলা বন্দর ও পায়রা বন্দরের সঙ্গে ঝালকাঠির যোগাযোগ সহজ করতে আধুনিক ও টেকসই সড়ক অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। পেয়ারা শিল্পের সম্প্রসারণে আধুনিক সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

নলছিটি পৌরসভা দেশের প্রাচীন পৌরসভাগুলোর একটি হলেও দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, নলছিটিকে একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরীতে রূপান্তরের লক্ষ্যে সড়ক, ড্রেনেজ, পানি ও নাগরিক সুবিধা উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

নির্বাচনী আচরণবিধি প্রসঙ্গে এস. এম. নেয়ামুল করিম বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সব নির্দেশনা মেনে চলতে দলীয় নেতা-কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে সৌহার্দ্যপূর্ণভাবে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর আহ্বান জানান এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও সমর্থকদের প্রতি সহনশীল থাকার ওপর গুরুত্ব দেন।

জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোট নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাজারো মানুষ আহত ও পঙ্গু হয়েছেন। সেই ত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করতে এবং ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে, সে জন্য জুলাই সনদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া জরুরি। তিনি বলেন, এই সনদ বাস্তবায়নই হবে শহীদদের প্রতি প্রকৃত সম্মান।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রত্যাশা জানাতে গিয়ে এস. এম. নেয়ামুল করিম বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ ভূমিকা রাখতে হবে। কালো টাকার প্রভাব ও সন্ত্রাস বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তিনি।

ঝালকাঠি সদর ও নলছিটি উপজেলা নিয়ে গঠিত ঝালকাঠি-২ আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ আসনে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা তিন লাখ ৬৫ হাজার ৩৯৬ জন, যা আগের নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাড়তি ভোটারের বড় অংশই তরুণ, যারা প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ফলে তরুণ ভোটাররাই এবারের নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

এই আসনে জামায়াতে ইসলামীর এস. এম. নেয়ামুল করিম ছাড়াও বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনপিপি, জেএসডি, গণঅধিকার পরিষদ ও একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই জমে উঠছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিশ্বে দৃষ্টান্ত হবে নির্বাচন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে ঘিরে দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সরকার কোনো ধরনের শিথিলতা দেখাবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেছেন, এবারের নির্বাচন এমন একটি মানদণ্ড স্থাপন করবে, যা শুধু দেশের মধ্যেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হবে।

রোববার দুপুরে বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসনের আয়োজনে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬’ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ফ্যাসিবাদের দোসর, সন্ত্রাসী, দুষ্কৃতকারী এবং সমাজবিরোধী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্বাচনকে ঘিরে কেউ যেন কোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে জন্য ভোটের আগে অন্তত চার দিন নিবিড় টহল কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

তিনি জানান, চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত টহল আরও বাড়ানো হবে। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি ও অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন তিনি। নির্বাচনের পরিবেশ যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, নির্বাচনের দিন এমন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভোটাররা নির্বিঘ্নে, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হস্তে দমন করা হবে।

নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, রিটার্নিং অফিসার থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশন, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ, সশস্ত্র বাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি, আনসার-ভিডিপি, কোস্টগার্ড এবং বিচারিক ও ভ্রাম্যমাণ আদালত—সবাইকে পারস্পরিক সহযোগিতা ও তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে ‘সমন্বিত কার্যক্রমে’ কাজ করতে হবে। এই সমন্বয়ের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের গ্যাপ, অবহেলা, ত্রুটি বা দ্বন্দ্ব বরদাশত করা হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নৈতিকতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আত্মসম্মান বজায় রেখে সব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপহার দিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আইজিপি বাহারুল, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক, আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ এবং বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। স্বাগত বক্তব্য দেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। এ সময় বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. মঞ্জুর মোর্শেদ আলম ও বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামসহ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, অধিক গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের মাধ্যমে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’ ব্যবহার করা হবে। তিনি বলেন, অতীতে দুর্গাপূজায় এই অ্যাপ ব্যবহারে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে, তাই এবারও কেউ অপতৎপরতার চেষ্টা করলে ছাড় পাবে না।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালী-১ এ ধানের শীষে ঐক্য, ফাহিমের সমর্থন ঘোষণা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-১ আসনে নির্বাচনী রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতার ঘোষণা এসেছে। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর প্রতি আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছেন গণ অধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিম।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) পটুয়াখালী শহরের শেরে বাংলা সড়কস্থ সুরাইয়া ভিলায় আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই সমর্থনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলতাফ হোসেন চৌধুরী নিজে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় পটুয়াখালী-১ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে একযোগে কাজ করার ঘোষণা দেন গণ অধিকার পরিষদের নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শহিদুল ইসলাম ফাহিম বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ আন্দোলনে বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদ রাজপথে একসঙ্গে লড়াই করেছে। এই রাজনৈতিক সহযাত্রার ধারাবাহিকতায় এবং পটুয়াখালীর মানুষের জন্য একটি সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ার প্রত্যাশায় পটুয়াখালী-১ আসনে রাজনৈতিক সমঝোতা ও ঐক্য গড়ে উঠেছে।

তিনি আরও বলেন, এই সমঝোতার ফলে পটুয়াখালী-১ আসনে বিএনপি ও গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা এখন থেকে একটি শক্তিশালী ও সংগঠিত টিম হিসেবে মাঠে কাজ করবেন। পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি যেমন আন্তরিকভাবে গণ অধিকার পরিষদকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে, ঠিক তেমনি পটুয়াখালী-১ আসনেও আলতাফ হোসেন চৌধুরীর বিজয় নিশ্চিত করতে গণ অধিকার পরিষদ তাদের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে সক্রিয়ভাবে কাজ করবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মাকসুদ আহমেদ বায়েজিদ পান্না, সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ সরোয়ার কালাম, প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান, জেলা গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সদস্য সচিব শাহ আলম, যুগ্ম আহ্বায়ক সাদ্দাম মৃধা ও উর্মি আক্তার। এছাড়াও জেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি সাইফুল ইসলাম, সেক্রেটারি আব্দুর রহমান, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মহসিন ইসলাম, সেক্রেটারি রুবেল মাহমুদসহ দুমকি, সদর ও মির্জাগঞ্জ উপজেলার গণ অধিকার পরিষদ, যুব অধিকার ও ছাত্র অধিকার পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত থেকে পুরো আয়োজন কাভার করেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঐক্য পটুয়াখালী-১ আসনের নির্বাচনী মাঠে নতুন গতি আনবে এবং ভোটের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পিরোজপুর-১: নিরাপদ, দুর্নীতিমুক্ত ও উন্নয়নমুখী পিরোজপুর গড়ার প্রতিশ্রুতি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পিরোজপুর-১ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাসুদ সাঈদী জনগণের জন্য মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত একটি এলাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাস্তাঘাট ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্প কলকারখানা স্থাপন করে বেকার সমস্যা দূর করবেন।

মাসুদ সাঈদী জানান, দীর্ঘদিন ধরে পিরোজপুর-১ আসন অবহেলিত ও উন্নয়ন বঞ্চিত। তাই নির্বাচিত হলে তিনি পিরোজপুরকে একটি অর্থনৈতিক জোন হিসেবে ঘোষণা করবেন, যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয় এবং এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত হয়। তিনি বলেন, “একজন ব্যক্তি স্বাবলম্বী হলে একটি পরিবার স্বাবলম্বী হবে, পরিবার স্বাবলম্বী হলে সমাজ স্বাবলম্বী হবে এবং সমাজ স্বাবলম্বী হলে রাষ্ট্র স্বাবলম্বী হবে।”

পিরোজপুর পৌরসভা হলেও চলাচলের জন্য রাস্তাঘাটের সমস্যা চরম। বিগত সময়ে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন না হওয়ায় তিনি রাস্তাঘাটের উন্নয়নে সর্বাত্মক চেষ্টা করবেন। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতেও ব্যাপক উন্নয়ন আনা হবে, যাতে চিকিৎসার জন্য মানুষকে বড় শহরে যেতে না হয়। নদীবেষ্টিত এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হবে। তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতিমুক্ত, নিরাপদ এবং বাসযোগ্য পিরোজপুর উপহার দেবেন।

নির্বাচনী আচরণবিধি নিয়ে মাসুদ সাঈদী বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক দল। নেতাকর্মীদেরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কমিশনের আচরণবিধি মেনে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, তার দল জনগণের স্বাধীন মত প্রকাশে বিশ্বাসী এবং নির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে।

জুলাই সনদ বিষয়ক গণভোটের বিষয়ে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা ও জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি ও তার দল জুলাই সনদকে সমর্থন করে বলছেন, এটি আগামীতে নতুন ফ্যাসিবাদের সৃষ্টি প্রতিরোধ করবে।

মাসুদ সাঈদী পিরোজপুর-১ আসনের দুইবারের সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর পুত্র। রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন ২০১৪ সালে ইন্দুরকানী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়ে। তিনি বর্তমানে সাঈদী ফাউন্ডেশনের ভাইস চেয়ারম্যান।

পিরোজপুর-১ আসনটি জেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাশীল আসন। এখানে পিরোজপুর সদর, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী উপজেলা অন্তর্ভুক্ত, মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯২ হাজার ১৭৭ জন। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৮৬৬, যেখানে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৭০৮ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৯৩ হাজার ৪৬৯ জন। তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার নেই।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠিতে মাদকাসক্ত ছেলে হত্যা করল মা

ঝালকাঠি সদর উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের বৈদারাপুর মোল্লা বাড়ি এলাকায় এক নারীকে তার নিজ সন্তান হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত নারীর নাম শেফালী বেগম (৬২)। তিনি ওই গ্রামের আহম্মদ খানের স্ত্রী। হত্যাকাণ্ডের সময় অভিযুক্ত ছেলে সাগর খান (৩২) পরিবারের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ করছিল। স্থানীয়দের জানান, সাগর দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত এবং মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। প্রায়ই তিনি তার মাকে মারধর করতেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে মা ও ছেলের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাগর দাও দিয়ে তার মাকে কুপিয়ে হত্যা করে। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় শেফালী বেগমকে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহ উদ্ধার করে এবং পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে পাঠায়।

ঝালকাঠি সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. বেলায়েত হোসেন জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই সাগরকে আটক করা হয়েছে। তাকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রাথমিকভাবে হেফাজতে রাখা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নির্বাচনে পক্ষপাত দেখলে কঠোর ব্যবস্থা: ইসি সানাউল্লাহ

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কঠোর অবস্থান নেবে। রবিবার সকালে নগরীর সার্কিট হাউস মিলনায়তনে জেলা আইনশৃঙ্খলা, ভিজিলেন্স ও অবজারভেশন টিমের সঙ্গে এক সমন্বয় সভায় নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এই হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় কেউ যদি তার ব্যক্তিগত পছন্দ বা পক্ষপাতিত্বের কারণে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন, তা প্রমাণিত হলে তার পরিণতি কঠোর হবে। ভোটাধিকার সংরক্ষণে কমিশন সবকিছুকে খোলামেলাভাবে পর্যবেক্ষণ করবে এবং অন্যায় বা পক্ষপাতিত্বের প্রমাণ মিডিয়ায় প্রকাশ করতে পিছপা হবে না।

ইসি সানাউল্লাহ আরও বলেন, “নির্বাচনে সকলকে সমানভাবে আচরণ করতে হবে। আমাদের কাছে কোন প্রার্থী বড় বা ছোট, হেভি ওয়েট বা লাইট ওয়েট নয়। দায়িত্ব পালনে শতভাগ পেশাদারিত্ব দেখাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দৃঢ় থাকলে কেউ সুযোগ নিতে পারবে না, তবে মধ্যপন্থা অবলম্বন করতেই হবে।”

তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনী কর্মকর্তাদের সতর্ক করে বলেন, ভোটগ্রহণে কোনো অনিয়ম, জালিয়াতি বা পক্ষপাত ধরা পড়লে তা সহজভাবে বরদাস্ত করা হবে না। এই বিষয়ে কমিশন কঠোর অবস্থান নেবে।

সভায় রিটার্নিং অফিসার সভাপতিত্ব করেন। জেলার পুলিশ সুপারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংখ্যা বেড়ে ৩৩০

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ (ন্যাশনাল চার্টার) নিয়ে গণভোট পর্যবেক্ষণে অংশ নেবেন মোট ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক। এটি ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-সহ ছয়টি আন্তর্জাতিক সংস্থা অন্তত ৬৩ জন পর্যবেক্ষক পাঠাতে সম্মত হয়েছে। এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ১৬টি দেশ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ৩২ জন ব্যক্তি পর্যবেক্ষক হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

পূর্ববর্তী নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, ১২তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৫৮ জন, ১১তম নির্বাচনে ১২৫ জন, এবং ১০ম নির্বাচনে মাত্র চারজন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ছিলেন।

ওআইসি’র দুই সদস্যের পর্যবেক্ষক দল নেতৃত্ব দেবেন সংস্থাটির নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ইউনিটের প্রধান শাকির মাহমুদ বান্দার। এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (আনফ্রেল) থেকে ২৮ জন, কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট থেকে ২৫ জন, যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) থেকে ৭ জন এবং ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই) থেকে একজন পর্যবেক্ষক অংশ নেবেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ভয়েস ফর জাস্টিস, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল, এসএনএএস আফ্রিকা, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন এবং পোলিশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স-এর মতো সংস্থার প্রতিনিধিত্বকারী ৩২ জন ব্যক্তি পর্যবেক্ষক হিসেবেও নির্বাচনী কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের সফর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র সচিব ও এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ জানিয়েছেন, “আমরা আশা করছি আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আরও বাড়বে। কয়েকটি দেশ এখনও তাদের প্রতিনিধিদের নাম নিশ্চিত করেনি।”

বর্তমানে যারা এখনও প্রতিনিধি চূড়ান্ত করেনি, তাদের মধ্যে রয়েছে ভারত, নেপাল, অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, মিসর, ফ্রান্স, কুয়েত, মরক্কো, নাইজেরিয়া এবং রোমানিয়া। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সংস্থাগুলোর ফোরাম ফেমবোসা শিগগিরই তাদের পর্যবেক্ষকদের নাম ঘোষণা করতে পারে।

এবারের নির্বাচনে ৫০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার প্রার্থী ৩০০টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম