ভোলায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের

ভোলার সদর উপজেলায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মো. মোস্তফা (৬২) নামে এক অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিহত হয়েছেন।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জেলা সদরের ইলিশা বাঘার হাওলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে আঞ্চলিক মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মোস্তফা রাস্তা পার হচ্ছিলেন, এ সময় ইলিশা ফেরিঘাটগামী একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা তাকে পেছন দিক থেকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পথচারীরা দ্রুত তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মো. মোস্তফা ভোলা জেলার ৬নং বাঘার হাওলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন। তিনি পূর্ব ইলিশা মৌলভীরহাট এলাকার প্রয়াত মাওলানা আনোয়ার উল্লাহ্ হুজুরের পুত্র।

ভোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসনাইন আহমেদ পারভেজ দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর অটোরিকশা চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পিরোজপুরের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

পিরোজপুরের নেছারাবাদে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী চতুর্থ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১১) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মো. অহিদুল ইসলাম (৫৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

শুক্রবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে এ বিষয়ে নেছারাবাদ থানায় ভুক্তভোগী প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর মা বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন।

নেছারাবাদ থানার ওসি মো. বনি আমিন অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

অভিযুক্ত মো. অহিদুল ইসলাম পেশায় একজন জেলে। তিনি উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ভরতকাঠী গ্রামের মো. আজিজ তালুকদারের ছেলে।

স্কুলছাত্রীর মা অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। বাড়ির পাশে একটি প্রাইমারি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। বুদ্ধি কম থাকায় বাড়ির আশপাশে ঘুরে বেড়ায়। গত মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) বিকেল ৪টার দিকে রাস্তা দিয়ে পার্শ্ববর্তী নানা বাড়ি যাওয়ার সময় মো. অহিদুল ইসলাম জোরপূর্বক ধরে তার ঘরে নিয়ে যায়। এ সময় তার পায়জামা খুলে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। পরে সে ভয়ে চিৎকার দিলে আশপাশের লোক গিয়ে তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। এই অন্যায়ের বিচার চাই।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে নিয়ে আমি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে বিচার চাইতে গেলে আজকাল করে আমাদের ঘুরাচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ, নদীর পাড়ে সরকারি জায়গায় একটু ঘর বানিয়ে থাকি। আমাদের ঘরবাড়ি নেই। তাই কেউ সহযোগিতা করে না। শুক্রবার বিচার পাওয়ার আশায় থানায় অভিযোগ দিয়ে এসেছি।

গ্রাম চকিদার সত্য রঞ্জন ব্যাপারী বলেন, বিষয়টি শুনে আমি ওই বাড়িতে গিয়েছিলাম। প্রতিবন্ধী মেয়েটির মুখ থেকে সব শুনেছি। তাকে থানায় অভিযোগ দেওয়ার কথা বলেছি। মেয়েটির পরিবার গরিব ও সহজ সরল বলে থানায় যেতে সাহস পাচ্ছে না।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত অহিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলার জন্য তার বাড়িতে গেলে কাউকে পাওয়া যায়নি। এমনকি তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

নেছারাবাদ থানার ওসি মো. বনি আমিন বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। পাটিকেলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির উপপুলিশ পরিদর্শক অমল কৃষ্ণ দে এর মাধ্যমে বিষয়টির তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 




যেসব জেলায় টানা পাঁচ দিন ঝরবে বৃষ্টি

আগামী পাঁচ দিন দেশের বেশ কয়েকটি অঞ্চলে চলবে টানা বৃষ্টিপাত। এর ফলে হ্রাস পেতে পারে তাপমাত্রা—এমন পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সংস্থাটির আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক জানান, ১৩ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন বিভাগে বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হতে পারে। এই সময়ে দেশের কিছু এলাকায় দমকা হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

🌧️ প্রতিদিনের সম্ভাব্য বৃষ্টি পূর্বাভাস:

📅 ১৩ এপ্রিল (রোববার):
রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় হতে পারে বজ্রসহ বৃষ্টি।

📅 ১৪ এপ্রিল (সোমবার):
রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও সিলেট বিভাগে ঝড়ো হাওয়াসহ হতে পারে বৃষ্টিপাত।

📅 ১৫ এপ্রিল (মঙ্গলবার):
রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

📅 ১৬ এপ্রিল (বুধবার):
রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেটের কিছু কিছু এলাকায় এবং খুলনা ও বরিশালের কিছু স্থানে ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

📅 ১৭ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার):
বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়বে বলে জানানো হয়েছে। তাপমাত্রাও ধীরে ধীরে হ্রাস পাবে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশের অন্য অংশে আবহাওয়া থাকবে আংশিক মেঘলা ও শুষ্ক। তবে পুরো সপ্তাহজুড়েই বজ্রসহ বৃষ্টির প্রবণতা থাকবে অধিকাংশ অঞ্চলে। দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রথম দিকে সামান্য বাড়লেও পরবর্তীতে তা কিছুটা কমে আসতে পারে।

এই ধারাবাহিক বৃষ্টিপাতে জনজীবনে কিছুটা ভোগান্তি তৈরি হলেও কৃষি খাতে তা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।


মো: তুহিন হোসেন,

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে অপরাধের লাগাম টানছে না, বাড়ছে উদ্বেগ

বরিশাল বিভাগজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ। খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, ডাকাতি, দস্যুতা ও চুরির পাশাপাশি জমি সংক্রান্ত বিরোধ এবং নীরব চাঁদাবাজিও বেড়ে চলেছে। থানা পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণে অপরাধীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ করছেন স্থানীয়রা।

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় জেলায় ৪৮০টি অপরাধ সংঘটিত হয়েছিল। আর আগস্ট ২০২৪ থেকে জানুয়ারি ২০২৫—এই ছয় মাসে অপরাধের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮০টিতে। এর মধ্যে রয়েছে ৮১টি হত্যা, ১৪৬টি ধর্ষণ ও ধর্ষণচেষ্টা, ১৪টি অপহরণ, ২৬টি ডাকাতি, ২১টি দস্যুতা এবং ২৯২টি চুরির ঘটনা।

বরিশাল নগরীর কাশীপুরের ইছাকাঠী এলাকায় এক নারীর শরীরের সাতটি অংশ উদ্ধার হলেও এখনও ভিকটিমের পরিচয় মিলেনি। এরপর ঘাট ইজারা সংক্রান্ত বিরোধে চাচাকে খুন করে নদীতে ফেলে দেয় ভাতিজা।

সম্প্রতি ঝালকাঠির বাউকাঠী বাজারের ব্যবসায়ী সুদেব হত্যাকাণ্ড, গৌরনদীতে জমি নিয়ে বিরোধে এক শিশুর নির্মম মৃত্যু, বরিশাল নগরীতে যুবদল নেতাকে খুন, বানারীপাড়ায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণের মতো একাধিক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি পুলিশকে। এতে করে অপরাধীরা আরও সাহস পাচ্ছে, আর ভুক্তভোগীরা মুখ বন্ধ করে থাকতে বাধ্য হচ্ছে।

স্থানীয় মানবাধিকারকর্মী ও উন্নয়ন সংগঠক দীপু হাফিজুর রহমান বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে পুলিশের মধ্যে এক ধরনের নিষ্ক্রিয়তা এসেছে, যা অপরাধীদের বাড়তি সুযোগ দিচ্ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পুলিশের মনোবল ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পাশে দাঁড়ানো জরুরি।”

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) বরিশাল জেলার সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, “দিন দিন অপরাধ বাড়ছে—এটা খুবই বিপজ্জনক। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই ব্যর্থতা সরকারের কাঁধে বর্তাবে।”

সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) বরিশাল সভাপতি গাজী জাহিদ হোসেনের মতে, “পুলিশকে আরও পেশাদার হতে হবে এবং নিরপেক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।”

তবে বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মঞ্জুর মোর্শেদ আলম বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁর দাবি, “আমরা আগের যে ধীরগতির মধ্যে ছিলাম, তা কাটিয়ে উঠেছি। পুলিশ এখন জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। সামাজিক কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও সংগঠিত অপরাধ কেউ করে পার পাবে না।”

মো: তুহিন হোসেন,

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বিমানের নকশায় অভিনব নৌকা বানালেন বরিশালের মোস্তফা কামাল

বরিশালের বানারীপাড়ায় চৌমোহনা বাজারের ওয়ার্কশপ মালিক মোস্তফা কামাল ইঞ্জিন মেরামতের পেশার বাইরে গিয়ে এবার তৈরি করেছেন একেবারে ভিন্ন কিছু—বিমানের আদলে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর এই ব্যতিক্রমী আবিষ্কার ইতিমধ্যেই আলোচনার ঝড় তুলেছে।

মোস্তফা কামাল দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে ইঞ্জিন মেরামতের সঙ্গে জড়িত। নিজস্ব ওয়ার্কশপ এবং একটি ছোট ডকইয়ার্ডে কৃষির যন্ত্রপাতি থেকে শুরু করে ট্রলার পর্যন্ত তৈরি করেন। তবে এবার নিজের খেয়াল থেকে তিনি বানিয়েছেন এমন এক নৌকা, যা দেখতে অনেকটা বিমানের মতো।

মোস্তফা জানান, “রাত জেগে কাজ করার সময় আকাশে উড়তে থাকা বিমান দেখে ভাবনা এলো, এমন কিছু বানালে কেমন হয়? আগে তো অনেক কিছু বানিয়েছি—এই সাহস থেকেই শুরু করলাম।”

নকশা থেকে শুরু করে প্রতিটি খুঁটিনাটি নিজেই তৈরি করেছেন তিনি। নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা না থাকায় ধীরে ধীরে কাজ করেছেন নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী। সব মিলিয়ে এটি বানাতে সময় লেগেছে প্রায় দুই বছর। তবে তিনি মনে করেন, পর্যাপ্ত অর্থ থাকলে মাত্র দুই মাসেই এটি তৈরি করা সম্ভব হতো।

এই ‘বিমাননৌকা’ সম্পূর্ণ স্টিলের তৈরি। এতে রয়েছে ১৬ হর্স পাওয়ারের ডিজেল ইঞ্জিন, ভেতরে ঠান্ডা রাখার জন্য দুটি ফ্যান, এবং আলোকসজ্জার জন্য এলইডি লাইট। পুরো প্রকল্পে খরচ হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

দেড় বছর আগে এটি প্রথম ভাসানো হয় সন্ধ্যা নদীতে। এরপর থেকে তিনি নিজেই এটি চালিয়ে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে বেড়ান। নৌকাটিতে ১০–১২ জন আরামসে চলাফেরা করতে পারেন, সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১৮ জন পর্যন্ত।

এই ব্যতিক্রমধর্মী নৌকার প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েই চলছে। অনেকে এসে চড়ছেন, আনন্দ নিচ্ছেন। মোস্তফা বলেন, “আমার নৌকায় উঠে পোলাপান শান্তি পায়, বিমানে উঠার মতো আনন্দ পায়। অনেকে তো বাড়ি ফিরে গিয়ে বলে, ‘বিমানে উঠছিলাম।’”

এমন এক সৃষ্টিশীল প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে স্থানীয় উদ্ভাবকদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মঙ্গল শোভাযাত্রার’ নতুন নাম?

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : বাংলা নববর্ষের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রার’ নাম পরিবর্তন করে রাখা হলো ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। শুক্রবার (১১ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এবারের আয়োজনে ২৮ জাতিগোষ্ঠীর অংশগ্রহণের মধ্য শোভাযাত্রাটি ‘সকলের হয়ে উঠবে’ বলে মনে করছেন আয়োজন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার সকাল ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চারুকলা অনুষদের ডিন আজহারুল ইসলাম বলেন, সকলকে সঙ্গে নিয়ে এবারের শোভাযাত্রা আনন্দময় হবে।




অল্প সময়ের মধ্যেই পাচার করা সম্পদের জব্দ করা হবে: গভর্নর

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ‘ছয় মাসের মধ্যে বিদেশে পাচার করা সম্পদের বড় একটি অংশ জব্দ করা হবে। এ জন্য আমরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কথা বলছি। বিভিন্ন দেশ ও সংস্থাকে চিঠি দিচ্ছি। বিদেশি আইনি সংস্থা বা ফার্মের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে, এ কাজে তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে। এরই মধ্যে আমরা বেশ কিছু সম্পদ যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের কাছ থেকে যথেষ্ট সহযোগিতাও পাচ্ছি। এই প্রক্রিয়ায় ছয় মাসের মধ্যে বিদেশে থাকা সম্পদ জব্দ করা হবে।’ কথাগুলো বলছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের চট্টগ্রাম কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে আজ শুক্রবার এ কথা বলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ কার্যক্রম ও সমসাময়িক ব্যাংকিং নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর বলেছেন, পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ একেবারেই নতুন। এটি দেশের আইনে নয়, বিদেশের আইনের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে করতে হবে। কোন দেশে কোথায় কী আছে, এ তথ্য আগে আনতে হবে। সম্পদ জব্দ করার পর আদালতের মাধ্যমে বাকি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

দেশে আগে মুদ্রাস্ফীতি কমিয়ে দেখানো হতো জানিয়ে আহসান এইচ মনসুর বলেন, খাদ্য মুদ্রাস্ফীতি ৯-১০ শতাংশ দেখানো হতো। কিন্তু প্রকৃত খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ১৩-১৪ শতাংশ। গত মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৮-৯ শতাংশে নেমে এসেছে। সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতি স্বস্তিদায়ক অবস্থানে আছে। আগামী বছর মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশ বা তার নিচে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন গভর্নর।




দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী নেই, তবুও আড়াই কোটি টাকার হোস্টেল

বরিশালের বাবুগঞ্জে নেই কোনো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী। তারপরও প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছে আধুনিক দুটি আবাসিক হোস্টেল। সরকারি অর্থায়নে নির্মিত ভবন দুটি পাঁচ বছরেও উদ্বোধন হয়নি। প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না থাকায় এসব অব্যবহারযোগ্য ভবন পড়ে রয়েছে অযতেœ। একটি আংশিক ব্যবহৃত হলেও অন্যটি বছরের পর বছর তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দুটি হোস্টেল ভবন করান সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

২০১৮ সালে ‘দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য হোস্টেল নির্মাণ ও সম্প্রসারণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত অধিদপ্তর। তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী সমাজকল্যাণমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন তার নিজের নামে প্রতিষ্ঠিত বাবুগঞ্জ হাই স্কুল (বালক) এবং বাবুগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে (বালিকা) এ দুটি হোস্টেল নির্মাণের অনুমোদন দেন। একই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে স্থানীয় দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রায় আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ২০ শয্যার আবাসিক এ দুটি হোস্টেলের নির্মাণকাজ শুরু করে। ২০২০ সালে কাজ শেষে ভবন দুটি সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বরিশাল সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “অপরিকল্পিতভাবে কেবল ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে মন্ত্রী মেনন এ ভবন দুটি বরাদ্দ দিয়েছিলেন। এতে সরকারি অর্থের অপচয় হয়েছে, ভবন দুটি কোনো কাজেই আসছে না।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, হোস্টেল দুটি নির্মাণের শুরুতেই জানা গিয়েছিল, এগুলো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য। কিন্তু এলাকায় এমন শিক্ষার্থী না থাকায় কোটি টাকার ভবনগুলো বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে অপ্রয়োজনে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু হান্নান বলেন, “এই ভবনগুলোর জায়গায় যদি কোনো কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা কমিউনিটি ক্লিনিক হতো, তাহলে এলাকার ছেলেমেয়েদের উপকার হতো। এখানে উন্নয়নের নামে যে কাজ হয়েছে, তা শুধু লোকদেখানো। আমাদের এলাকার মানুষের কোনো উপকারে আসেনি।”

ভবন দুটি চালুর বিষয়ে বরিশাল সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ কে এম আখতারুজ্জামান মামুন বলেন, “প্রয়োজনীয় জনবল চেয়ে আমরা ইতিমধ্যে মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছি। সমাজসেবা ও গণপূর্ত অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সরকারের উদ্দেশ্য ছিল এ হোস্টেলগুলোতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা আবাসিক সুবিধা নিয়ে লেখাপড়া করবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বাবুগঞ্জের ওই দুই বিদ্যালয়ে বর্তমানে কোনো দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী নেই। ফলে হোস্টেল দুটি চালু করাও সম্ভব হচ্ছে না।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মুসলিম উম্মাহর দুর্বলতার মূল কারণ: ‘ওহন’ নামক রোগ এবং এর প্রতিকার

বর্তমান বিশ্বে মুসলিম উম্মাহ এক অভাবনীয় বিপর্যয়ের সম্মুখীন। একদিকে দুনিয়ার মোহ, অন্যদিকে একতার অভাব এবং আত্মত্যাগের মানসিকতার পতন এসব মিলেই উম্মাহ আজ পরাজিত, অবমানিত এবং নির্যাতিত। অথচ সংখ্যায় মুসলমানরা কোটি কোটি। তাহলে এই দুর্বলতার মূল কারণ কী?

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বহু পূর্বেই এই দুর্দশার ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন। তিনি বলেন:

قال رسول الله صلى الله عليه وسلم:
“يوشك أن تداعى عليكم الأمم كما تداعى الأكلة إلى قصعتها”… إلى آخر الحديث
(رواه أبو داود، 4297)

হাদীসের অনুবাদ ও ব্যাখ্যা::

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
“এক সময় আসবে, যখন জাতিসমূহ (অবিশ্বাসীরা) তোমাদের বিরুদ্ধে এমনভাবে একত্রিত হবে, যেভাবে আহারকারীরা খাবারের থালার চারপাশে জড়ো হয়।”
সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, “হে আল্লাহর রাসূল! তখন কি আমরা সংখ্যায় কম হবো?”
তিনি বললেন, “না, বরং তোমরা সংখ্যায় অনেক থাকবে, কিন্তু তোমরা হবে স্রোতের ফেনার মতো—অর্থহীন, দুর্বল, ও ছিন্নভিন্ন।”
“আল্লাহ তোমাদের শত্রুদের অন্তর থেকে তোমাদের প্রতি ভয় উঠিয়ে নেবেন এবং তোমাদের অন্তরে ‘ওহন’ নামক দুর্বলতা নিক্ষেপ করবেন।”
সাহাবীগণ বললেন, “ওহন কী?”
রাসূল বললেন, “দুনিয়ার প্রেম ও মৃত্যুকে অপছন্দ করা।”

বর্তমান বাস্তবতায় হাদীসের প্রতিফলন::

আজ আমরা এই বাস্তবতার সাক্ষী। ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, সিরিয়া, উইঘুর, রোহিঙ্গা, সুদানসহ বহু মুসলিম অঞ্চল রক্তে রঞ্জিত। মুসলমানেরা নির্যাতিত, বিভক্ত এবং বিশ্বমঞ্চে প্রায় গুরুত্বহীন। দুনিয়াপ্রীতি আমাদের অন্তর থেকে তাকওয়া ও আত্মত্যাগের শক্তি কেড়ে নিয়েছে।

আমাদের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ এমনকি ধর্মীয় নেতারাও অনেকে এই ওহনের শিকার। মুসলিম জাতি কেবল গৌরবময় অতীত মনে করে আবেগে তুষ্ট থাকে, কিন্তু সেই অতীত ফিরিয়ে আনার জন্য কর্মে, ত্যাগে ও ঈমানে প্রস্তুত নয়।

ওহনের লক্ষণ::

১. দুনিয়ার প্রতি অতিমাত্রায় আসক্তি
২. আখিরাতকে অবহেলা
৩. দ্বীনের কাজকে পিছনে ফেলে দুনিয়ার সফলতাকেই সাফল্য ভাবা
৪. আত্মত্যাগের অভাব
৫. মুসলিম উম্মাহর প্রতি দায়িত্ববোধের অভাব

প্রতিকার কী?::

১. ইখলাস ও তাকওয়া অর্জন: প্রত্যেক কাজে আল্লাহর সন্তুষ্টি লক্ষ্য রাখা
২. আখিরাতমুখী চিন্তাভাবনা: মৃত্যুকে স্মরণ ও দুনিয়ার মোহ থেকে বেরিয়ে আসা
৩. ইসলামি শিক্ষা ও আমলের বিস্তার: ঘরে ও সমাজে দ্বীনি চর্চার পুনরুজ্জীবন
৪. উম্মাহর ঐক্য ফিরিয়ে আনা: দলাদলি, গোত্র, রাজনীতি ইত্যাদির ঊর্ধ্বে উঠে এক প্ল্যাটফর্মে আসা
৫. সাহসী নেতৃত্ব ও আত্মত্যাগের মানসিকতা গঠন: ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে আল্লাহর পথে ত্যাগে প্রস্তুত হওয়া

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে ‘ওহন’ রোগের কথা বলেছেন, তা এখন বাস্তব। এ রোগ শুধু ব্যক্তি নয়, গোটা উম্মাহকে গ্রাস করেছে। এখন সময়, আমরা নিজেদের পরিশুদ্ধ করি, দুনিয়ার মোহ থেকে ফিরে আখিরাতকে মুখ্য করি এবং সাহাবীদের মতো একটি ঈমানদার, শক্তিশালী উম্মাহ গঠনের পথ গ্রহণ করি।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে ‘ওহন’ নামক দুর্বলতা থেকে মুক্ত করে ঈমান, একতা ও তাকওয়ায় বলীয়ান করুন। আমীন।

প্রতিবেদক :: (মো: মনিরুজ্জামান, লেখক ও সংবাদকর্মী ) 




যুদ্ধ না করেও মুক্তিযোদ্ধা! পিরোজপুরের নান্না শিকদারের বিরুদ্ধে জাল সনদের অভিযোগ

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার হাবিবুর রহমান নান্না শিকদারকে ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও তিনি দীর্ঘদিন ধরে মুক্তিযোদ্ধার সনদ ব্যবহার করে সরকার প্রদত্ত সকল সুবিধা ভোগ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় মিরাজ শিকদার জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে অভিযোগ দায়ের করে দাবি করেছেন—নান্না শিকদার একজন স্বঘোষিত মুক্তিযোদ্ধা, প্রকৃতপক্ষে তিনি ছিলেন রাজাকার। তাঁর বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে হত্যাকাণ্ড, লুটপাট, অগ্নিসংযোগের মতো অপরাধে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগও রয়েছে। এমনকি সাব-সেক্টর কমান্ডার মেজর জিয়া উদ্দিন আহম্মেদের প্রত্যয়নপত্রেও নান্নাকে রাজাকার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগের মূল পয়েন্টসমূহ:

  • ভুয়া সনদ: মুক্তিযোদ্ধা সনদ নং ০৬০৫০৫০৬৪ ব্যবহার করলেও নান্না কখনো যুদ্ধে যাননি।
  • অভিযোগের ভিত্তি: রাজাকার তালিকায় নাম থাকা, ১৯৭১ সালে ৭ জন হত্যার অভিযোগে মামলা, ও মুক্তিযুদ্ধকালীন সম্পত্তি লুটের অভিযোগ।
  • অতিরিক্ত সম্পত্তি: পৈত্রিকভাবে ১৩ কাঠা জমির মালিক হলেও বর্তমানে রয়েছে ৮০০ কাঠা জমি—যার উৎস সন্দেহজনক।
  • প্রশাসনিক তদন্তে পক্ষপাতিত্ব: স্থানীয় ইউএনও সাক্ষীদের বক্তব্য উপেক্ষা করে ‘মনগড়া’ তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন বলে অভিযোগ।

ভান্ডারিয়া মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাচ্চুও জানান, নান্না শিকদারের যুদ্ধ করার কোনও প্রমাণ নেই বরং তার বাবা ছিলেন রাজাকার, যিনি জেলও খেটেছেন।

অভিযুক্ত নান্না শিকদার সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত শত্রুতা ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হচ্ছে।” তবে তিনি অভিযোগগুলো নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে এড়িয়ে যান।

এই ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল যদি যথাযথ তদন্ত করে, তবে সত্য উদঘাটনের আশা রয়েছে।