ইলিশের আকাশচুম্বী দামে পান্তা-ইলিশ এখন স্বপ্ন!

পহেলা বৈশাখ বাঙালির প্রাণের উৎসব। আর এ উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো পান্তা-ইলিশ। কিন্তু পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় অঞ্চলে এবার এই ঐতিহ্যবাহী খাবারটি যেন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজারে ইলিশের সরবরাহ যেমন কমেছে, তেমনি দাম বেড়েছে কয়েকগুণ। ফলে পান্তা-ইলিশ খাওয়ার রেওয়াজ পরিণত হয়েছে এক ধরনের বিলাসিতায়।

জেলার বিভিন্ন হাটবাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক কেজি ইলিশ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ২৫০০ থেকে ৩০০০ টাকা পর্যন্ত। পটুয়াখালীর নিউ মার্কেট, পুরান বাজার, মহিপুর মাছঘাট ও কলাপাড়া বাজারে মাছের দামে হাহাকার চলছে। কোথাও কোথাও এক কেজির নিচের ইলিশও ২০০০ টাকার কমে পাওয়া যাচ্ছে না।

স্থানীয় শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন জানান, “গত বছর যেখানে এক কেজি ইলিশ ৮০০-৯০০ টাকায় কিনেছি, এবার সেখানে একই মাছ কিনতে ২৫০০ টাকা দিতে হচ্ছে। এবারের পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ খাওয়া আমাদের জন্য অসম্ভব হয়ে গেছে।”

একই হতাশা ঝরে পড়ে তরুণ ব্যবসায়ী আব্দুল মজিদের কথায়, “প্রতি বছর পান্তা-ইলিশ খাওয়ার আয়োজন করতাম পরিবারে। কিন্তু এবার বাজারে গিয়ে শুধু দাম দেখে ফিরে আসতে হয়েছে। আমরা ভাবছি, অন্য খাবার দিয়ে বৈশাখ উদযাপন করবো।”

ইলিশ সংকটের পেছনে রয়েছে আবহাওয়া পরিবর্তন ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব। জেলেরা বলছেন, এপ্রিলের শুরু থেকে সাগরে মাছ ধরার জন্য অনুকূল আবহাওয়া ছিল না। জলোচ্ছ্বাস ও সমুদ্র উত্তাল থাকায় তারা ঘাটে ফিরেছেন খালি হাতে। পাশাপাশি দেশের ছয়টি ইলিশ অভয়াশ্রমে চলমান নিষেধাজ্ঞার কারণে নদী ও মোহনায় ইলিশ ধরা পুরোপুরি বন্ধ।

মহিপুরের জেলে রফিক মাঝি বলেন, “তিনদিন সমুদ্রে গিয়েও একটাও ইলিশ পাইনি। আগে দিনে ২০ কেজি পর্যন্ত মাছ পেতাম। এখন সাগরেও মাছ নেই, নদীতেও নিষেধাজ্ঞা চলছে।”

এদিকে মাছ ব্যবসায়ীরাও পড়েছেন বিপাকে। মহিপুর বাজারের বিক্রেতা কবির হাং বলেন, “জেলেরা মাছ আনছে কম, আমাদের কিনতে হচ্ছে অনেক বেশি দামে। ফলে আমাদেরও বিক্রি করতে হচ্ছে উচ্চ দামে। এতে ক্রেতা যেমন কমে গেছে, বিক্রিও কমে গেছে।”

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, “ইলিশ সংরক্ষণ মৌসুমে দেশের ছয়টি অঞ্চলে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। পাশাপাশি আবহাওয়া বৈরীতার কারণে এবার ইলিশের সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। তাই বাজারে দাম বেড়ে গেছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি কেবল সাময়িক নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি কারণ। জলবায়ু পরিবর্তন, নদী দূষণ ও অতিরিক্ত মাছ ধরার ফলে প্রতিবছরই ইলিশ সংকট বাড়ছে। এই সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন টেকসই পরিকল্পনা ও সচেতনতা।

পহেলা বৈশাখে পান্তা-ইলিশ বাঙালির গর্ব হলেও, ইলিশের এই সংকট যেন ঐতিহ্যকে প্রতিনিয়ত ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সময় এসেছে কেবল উৎসব নয়, টেকসই মাছ ব্যবস্থাপনার দিকেও গুরুত্ব দেওয়ার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে ডিএমপির ট্রাফিক নির্দেশন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আনন্দ উচ্ছ্বাসের সাথে আগামী ১৪ এপ্রিল বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উদযাপিত হবে। বাসস

এ উপলক্ষে ডিএমপি কিছু ট্রাফিক নির্দেশনাসমূহ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

আজ শনিবার ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এতে বলা হয়,ডাইভারশন/ব্যারিকেড পয়েন্টসমূহ: ১৪ এপ্রিল সোমবার ভোর ৫টা হতে রমনা পার্ক (রমনা বটমূল), সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ও আশপাশের নিম্নলিখিত এলাকাসমূহে সড়কে যানচলাচল নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে রাস্তা বন্ধ/রোড ডাইভারশন দেয়া হবে:

১। বাংলামোটর ক্রসিং/নেভি গ্যাপ ২। পুলিশ ভবন ক্রসিং ৩। সুগন্ধা ক্রসিং ৪। কাকরাইল চার্চ ক্রসিং ৫। কদম ফোয়ারা ক্রসিং ৬। হাইকোর্ট ক্রসিং (পূর্ব ও দক্ষিণ) ৭। দোয়েল চত্বর ক্রসিং ৮। রোমানা ক্রসিং ৯। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার ১০। জগন্নাথ হল ক্রসিং ১১। ভাস্কর্য ক্রসিং ১২। নীলক্ষেত ক্রসিং ও ১৩। কাঁটাবন ক্রসিং।

গাড়ি চলাচলের দিকনির্দেশনা:

রমনা পার্ক (রমনা বটমূল), সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ডাইভারশন পয়েন্টসমূহ ব্যতীত নিম্নলিখিত রাস্তাসমূহে যানবাহন চলাচল করবে। যানবাহন চলাচলের রাস্তাসমূহ নিম্নরূপ :

১। মিরপুর-ফার্মগেট হতে শাহবাগ অভিমুখী যাত্রীবাহী যানবাহন বাংলামোটর ক্রসিং বামে মোড় নিয়ে মগবাজার ক্রসিং হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাবে।

২। গোলাপশাহ মাজার ক্রসিং-হাইকোর্ট ক্রসিং হতে শাহবাগ অভিমুখী যাত্রীবাহী যানবাহন কদম ফোয়ারা ক্রসিং-ইউবিএল ক্রসিং- নাইটিংগেল ক্রসিং হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাবে।

৩। সায়েন্সল্যাব ক্রসিং হতে শাহবাগ অভিমুখী যাত্রীবাহী যানবাহন মিরপুর রোড দিয়ে আজিমপুর ক্রসিং-চাঁনখারপুল ক্রসিং-বকশীবাজার ক্রসিং হয়ে গন্তব্যে পৌঁছাবে।

গাড়ি পার্কিং স্থানসমূহ:

১। নেভি গ্যাপ হতে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত।

২। মৎস্যভবন ক্রসিং হতে সেগুনবাগিচা পর্যন্ত (আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িসমূহ)।

৩। শিল্পকলা একাডেমি গলি (আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়িসমূহ)।

৪। কাঁটাবন ক্রসিং হতে নীলক্ষেত ক্রসিং হয়ে পলাশী ক্রসিং পর্যন্ত।

৫। দোয়েল চত্বর ক্রসিং হতে শহীদুল্লাহ হল ক্রসিং পর্যন্ত।

৬। আব্দুল গনি রোড।

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে উদযাপনের জন্য সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।




বরিশালে কমদামে বিক্রি হচ্ছে আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়ি ও জমি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চাপে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বরিশালে দলটির নেতাদের বাড়ি ও জমি কম দামে বিক্রির প্রবণতা দেখা গেছে। একাধিক নেতার বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও পলাতক থাকার প্রেক্ষাপটে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে একটি নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সূত্র।

সূত্র জানায়, বরিশালে আওয়ামী লীগের অন্তত তিন নেতা ও একজন সাবেক আমলার সম্পত্তি বিক্রির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক সহকারী খায়রুল ইসলামের সাত একরের বাগানবাড়ি, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক শামিমের ‘বেগম ভবন’, ব্যারিস্টার শাহাজান ওমরের রাজকীয় ডুপ্লেক্স, এবং নীরব হোসেন টুটুলের ১০ তলা ভবনের ফ্ল্যাট ও জমি।

জাহিদ ফারুক শামিমের বেগম ভবন:: 
নবগ্রাম রোডে অবস্থিত বেগম ভিলাটি প্রায় তিন কাঠা জমির ওপর গড়া পাঁচতলা ভবন। এটি ছিল তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র। ২০২৩ সালের শেষ দিকে নির্মাণ শেষ হলেও ২০২৪ সালের আগস্টে আন্দোলনকারীদের হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পর ভবনটি আড়াই কোটি টাকায় বিক্রি হয়।

ব্যারিস্টার শাহাজান ওমরের বাড়ি::
ব্র্যান্ড কম্পাউন্ড এলাকার তিনতলা বিশিষ্ট এই ডুপ্লেক্স বাড়িটি ৫০ শতক জমির ওপর অবস্থিত। অপসোনিন কোম্পানি লিমিটেডের কাছে এটি হস্তান্তর হয়েছে বলে জানা গেছে। বাড়িটির নিরাপত্তা এখন কোম্পানির নিরাপত্তাকর্মীদের তত্ত্বাবধানে।

নীরব হোসেন টুটুলের ফ্ল্যাট:: 
নাজিরপুল এলাকার ১০ তলা বাড়ির অধিকাংশ ফ্ল্যাট ও সামনের জমি ইতোমধ্যে বিক্রি করে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ নেতা টুটুল। সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত এই নেতা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

খায়রুল ইসলামের বাগান বাড়ি:: 
রূপাতলীর গ্যাস টারবাইন সড়কের প্রান্তে অবস্থিত প্রায় সাত একর জমির আলোচিত বাগান বাড়িটি এক প্রভাবশালী বিএনপি নেতার সঙ্গে বিক্রির চুক্তিতে পৌঁছেছে। শতকোটি টাকার এই সম্পত্তি খুব কম দামে বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি করছে সূত্রগুলো।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের ঘটনার পর থেকেই এসব সম্পত্তি বিক্রির আলোচনা চলছিলো। রাজনৈতিক পালাবদলের এই বাস্তবতায় নেতাদের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্ক ও আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে।


“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ফিলিস্তিন সংকটে সক্রিয় পদক্ষেপ চায় জনগণ: রহমাতুল্লাহ

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি হামলার নৃশংসতা ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ চেয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের মো. রহমাতুল্লাহ।

শনিবার (১২ এপ্রিল) দুপুরে বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে স্বাধীনতা ফোরাম বরিশাল শাখা আয়োজিত এক ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “ফিলিস্তিনে যে বর্বরোচিত হামলা চলছে, তা মানবতার বিরুদ্ধে স্পষ্ট অপরাধ। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের জনগণ সরকারের কাছ থেকে শুধুমাত্র বিবৃতি নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিসরে সাহসী ও সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করছে।”

তিনি বলেন, “বিএনপি সংঘাত নয়, শান্তিপূর্ণ সমাধানে বিশ্বাসী একটি দল। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা ফিলিস্তিন সংকটের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি চাই।”

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সবসময় নিপীড়িত মানুষের পাশে থেকেছে। বর্তমান সরকার অন্তর্বর্তী হলেও, এই সংকটে নৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে সরাসরি ভূমিকা রাখা উচিত।

বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বরিশাল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি হুমায়ুন কবির, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ হোসেন, জাহিদুর রহমান রিপন, স্বাধীনতা ফোরামের মহানগর শাখার সদস্য সচিব নাজমুস সাকিব, ছাত্রদল নেতা ওবায়দুর ইসলাম উজ্জ্বল, স্বেচ্ছাসেবক দলের আনোয়ার হোসেন টিটু, তারিক সুলাইমান, এবং ছাত্রদল নেতা আসিফ আল মামুন।

সমাবেশ থেকে মুসলিম বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক সমাজকে ফিলিস্তিনের পক্ষে রাস্তায় নামার আহ্বান জানানো হয়।


“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




লোকদেখানো ড্রেজিংয়ে দক্ষিণের নৌপথ বন্ধের মুখে

বরিশাল-ঢাকা নৌপথসহ দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদীপথগুলো এখন নাব্য সংকটে। খনন কার্যক্রমের এক বছর না ঘুরতেই আবারও ডুবোচর দেখা দিচ্ছে কীর্তনখোলা নদীতে। লঞ্চ মালিকদের অভিযোগ, লোকদেখানো ও অপরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের কারণে নদীপথে চলছে দুর্ভোগ, আর নৌযানগুলো পড়ছে চরম বিপাকে।

লঞ্চ মালিকদের ভাষ্য, প্রতি বছর ড্রেজিংয়ের নামে কোটি কোটি টাকা খরচ দেখানো হলেও বাস্তবে সুফল মিলছে না। খননের বরাদ্দের প্রায় ৭০ শতাংশই আত্মসাৎ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও ড্রেজিং বিভাগ। এতে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নদীপথগুলো একে একে অচল হয়ে পড়ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মেঘনা, গজারিয়া, বরিশাল-ভোলা, বরিশাল-পাতারহাট-লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন নদীপথে শুকনো মৌসুমে পানি তলানিতে নেমে যায়। এতে যাত্রীবাহী লঞ্চ ও পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বরিশাল নৌবন্দরেও একই রকম নাব্য সংকট বিরাজ করছে।

ঢাকা, পটুয়াখালী, ভোলা, লক্ষ্মীপুর, হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জসহ বিভিন্ন রুটের যাত্রীরা জানান, প্রতিবছরই ড্রেজিং করা হলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন দেখা যায় না। বরং ডুবোচরে লঞ্চ আটকে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জোয়ারের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। এতে নৌযাত্রীদের পাশাপাশি লঞ্চ মালিকরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ লঞ্চমালিক সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, “আগে ড্রেজিংয়ের সময় বিআইডব্লিউটিএ ও লঞ্চ মালিকদের প্রতিনিধি রাখা হতো। এখন তা বাদ দিয়ে একচেটিয়াভাবে খনন কাজ করছে ড্রেজিং বিভাগ। ফলে চাহিদা অনুযায়ী কাজ হচ্ছে না, বরং সরকারি অর্থ লোপাটের পথ খুলে গেছে।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “ভাটায় এক ফুট বালি কাটে আর জোয়ারে এসে মাপে পাঁচ ফুট—এভাবেই বিল উঠানো হয়। নদীর বালি নদীতেই পড়ে থাকে।”

লঞ্চমালিক সমিতির প্রেসিডেন্ট আক্কাস সিকদারও ড্রেজিং কার্যক্রমের দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বলেন, “ড্রেজিংয়ের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ হচ্ছে। তাই একে একে বন্ধ হচ্ছে দক্ষিণের নৌপথ। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দরকার। নৌ-পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

অন্যদিকে বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল নদীবন্দরের যুগ্ম পরিচালক শেখ মোহাম্মদ সেলিম রেজা জানান, ডুবোচর খননের বিষয়টি জানানো হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

ড্রেজিং বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন উর রশীদ অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এখন সব কিছুই স্বচ্ছতার সঙ্গে করা হচ্ছে। আগের পরিস্থিতি কেমন ছিল জানি না, তবে সামনে বিআইডব্লিউটিএ ও লঞ্চ মালিকদের প্রতিনিধি নিয়ে ড্রেজিং করা হবে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গৌরনদীতে জমি বিরোধে ভাসুর নিহত, অভিযুক্ত ছোট ভাইয়ের স্ত্রী

বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় পারিবারিক জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর হামলায় দেলোয়ার হোসেন ফকির (৬৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের সিংগা গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত দেলোয়ার হোসেন ফকির ওই গ্রামের মৃত সোহরাফ হোসেন ফকিরের ছেলে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

নিহতের ছেলে ফরসাল ফকির জানান, তার ছোট চাচা জাহাঙ্গীর হোসেন ফকিরের সঙ্গে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শনিবার সন্ধ্যায় দুই পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তার ছোট কাকি সুরমা আক্তার সাথী ও চাচাতো ভাই জাহিদ হোসেন মিলে দেলোয়ার ফকিরের ওপর হামলা চালান। এতে ঘটনাস্থলেই দেলোয়ার মারা যান বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। গৌরনদী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইকবাল হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহাঙ্গীর হোসেন ফকির। তিনি বলেন, “বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে দেলোয়ার হোসেন হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং পরে মারা যান।”

গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। রবিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ডেঙ্গুতে আরও দুইজনের মৃত্যু, বাড়ছে শঙ্কা

দেশজুড়ে আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন আরও দুইজন। মৃতরা বরগুনা জেলার বাসিন্দা, একজন নারী (৩৬) ও অপরজন পুরুষ (৪০)।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২২ জন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগেই সর্বোচ্চ ১০ জন ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ভর্তি হয়েছেন ৬ জন, জেলা পর্যায়ে ৪ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জন।

চলতি বছর (২০২৫) এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৬ জন। জানুয়ারিতে ১০ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩ জন এবং এপ্রিলে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৩ জন। একই সময়ে দেশে মোট ২,০৭৪ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের মধ্যে ১,৯৫৬ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন।

পূর্বের বছরগুলোর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৩ সালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ও মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়। সে বছর হাসপাতালে ভর্তি হন ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন এবং মৃত্যু হয় ১,৭০৫ জনের। ২০২৪ সালে আক্রান্তের সংখ্যা কিছুটা কমলেও মৃত্যু হয় ৫৭৫ জনের এবং আক্রান্ত হন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন।

বরিশাল বিভাগে সংক্রমণ বাড়ার পেছনে উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে জানানো হয় স্থানীয়ভাবে এডিস মশার বিস্তার। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, “২০২১ সালে বরিশালে প্রথম ডেঙ্গুর প্রকোপ দেখা দেয়। সে সময় আক্রান্তদের বেশিরভাগই বাইরে থেকে ভ্রমণ করে এসেছিলেন। কিন্তু এখন প্রায় সবাই স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত হচ্ছেন। অর্থাৎ এডিস মশা এখন বরিশাল অঞ্চলে স্থায়ীভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “স্বাস্থ্য বিভাগের একার পক্ষে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এর জন্য দরকার সমন্বিত সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগ এবং সর্বস্তরের জনসচেতনতা।”
বর্তমানে আক্রান্তদের অধিকাংশই গ্রামীণ অঞ্চলের বাসিন্দা বলে জানান তিনি।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জুনের মধ্যে নির্বাচনের বিষয়ে একমত নয় বিএনপি

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বিএনপি ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চায়। এর বাইরে অন্য কোনো সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিরুদ্ধে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ।

আগামী ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার যে তাগিদ দিয়েছেন, তার সঙ্গে একমত নয় বিএনপি।

শনিবার বিকেলে প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ ও সদস্য বদিউল আলম মজুমদার বৈঠক করেন। সেখানে প্রধান উপদেষ্টা এ তাগিদ দেন বলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং গণমাধ্যমকে জানিয়েছে। এরপর রাতে বিএনপির বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাব তৈরির সঙ্গে যুক্ত সালাহ উদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে এ প্রতিক্রিয়া জানান।

এর আগে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছিল প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। তখন সালাহ উদ্দিন আহমদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘যদি তিনি (প্রধান উপদেষ্টা) এ কথা বলে (ডিসেম্বরে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য) থাকেন, তাহলে সেটাকে আমরা পজিটিভলি দেখছি।’

তবে সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা মনে করি, উনি ডিসেম্বরে নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন, নির্দেশনা দেবেন এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় জাতির সামনে সে ঘোষণা দেবেন।’

পরে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে বক্তব্য সংশোধন করে জানানো হয়, আগামী ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে তাগিদ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।

এ বিষয়ে পরে সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার তাগিদের বিষয়ে আমরা একমত নই। আমরা এ বছরের ডিসেম্বরের আগে নির্বাচন দাবি করি। আশা করি, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এ ব্যাপারে নির্দেশনা দেবেন।’

বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টা যদি ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে থাকেন, তাহলে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসে তাঁদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তাঁরা কোনো কর্মসূচি দেবেন কি না।

সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আগামী ১৬ এপ্রিল আমরা প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বসব। আমরা জানতে চাইব, আসলে উনি কী চাইছেন।’




জাতীয় নির্বাচনের লক্ষে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত করার তাগিদ প্রধান উপদেষ্টার




পহেলা বৈশাখ ঘিরে বাউফলের পাল পাড়ায় মৃৎশিল্পীদের প্রাণচাঞ্চল্য

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পাল পাড়ায় পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। শত বছরের পুরনো এই শিল্পপল্লীতে এখন চলছে দিনরাত কর্মযজ্ঞ। কারো হাতে মাটি, কারো হাতে রঙ, আবার কেউ আগুনে পোড়াচ্ছেন তৈরি সামগ্রী—চিত্রটা যেন এক বিশুদ্ধ শিল্পমেলায় রূপ নিয়েছে।

এই এলাকায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে মৃৎশিল্পের চর্চা। মাটির তৈরি ডিনার সেট, হাঁড়ি-পাতিল, খেলনা, দেব-দেবীর মূর্তি ছাড়াও এখন তৈরি হচ্ছে আধুনিক ঘরানার প্লেট, বাটি, গ্লাস, মগ ও বিভিন্ন শোপিস। বৈশাখ এলে এসব পণ্যের চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়, ফলে স্থানীয় হাট-বাজার ও মেলাগুলোতে সরবরাহের জন্য ব্যস্ত সময় কাটাতে হয় শিল্পীদের।

মৃৎশিল্প শ্রমিক মো. নিজাম মোল্লা জানান, “প্রায় ১৫ বছর ধরে এ পেশায় কাজ করছি। বৈশাখ এলেই অর্ডারের চাপ বেড়ে যায়। এখন প্রতিদিন প্রায় ১৫ থেকে ১৬ ঘণ্টা কাজ করতে হচ্ছে।”

তরুণ উদ্যোক্তা হৃদয় রায় বলেন, “পহেলা বৈশাখ এবার ঈদের পরে হওয়ায় আমাদের প্রস্তুতির সময় পেয়েছি। তাই অনলাইন এবং অফলাইনে ভালো সাড়া পাচ্ছি। প্রতিদিন প্রায় ১০০টিরও বেশি কার্টন ডেলিভারি যাচ্ছে, বিশেষ করে ঢাকার গুলশান, চট্টগ্রাম ও সিলেটে আমাদের পণ্যের চাহিদা বেশি।”

বরুণ মৃৎশিল্পের কর্ণধার বরুণ পাল জানান, “চার দশক ধরে এই পেশার সঙ্গে আছি। বৈশাখ এলেই টার্গেট অনুযায়ী প্রস্তুতি শুরু করি। এবারও সারাদেশ থেকে পাইকাররা এসে পণ্য নিচ্ছেন। আমরা কয়েকটি মেলাতেও অংশ নেব।”

বাউফলের পাল পাড়ার এই মৃৎশিল্প শুধু গ্রাম নয়, ছড়িয়ে পড়ছে দেশজুড়ে। বৈশাখ তাদের জন্য যেমন উৎসব, তেমনি উপার্জনের সুবর্ণ সময়ও।

মো. আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম