পিরোজপুরে ডায়রিয়ার প্রকোপ, হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে দ্বিগুণ

পিরোজপুরে প্রচণ্ড গরমের কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেছে। সদর হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে বর্তমানে রোগীর সংখ্যা দু’গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা হাসপাতালের ধারণক্ষমতার বাইরে। বিশেষ করে শিশুদের সংখ্যা বেশি হওয়ায়, বেড সংকটের কারণে মেঝেতেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ফলে হাসপাতালের নার্স ও চিকিৎসকরা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে হাসপাতালে অপরিচ্ছন্নতা ও সেবা না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল ফিতরের পর থেকেই জেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বর্তমানে এর তীব্রতা বেড়েছে। হাসপাতালে লোকবল সংকট এবং সেবার ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ এপ্রিল) সকালে পিরোজপুর জেলা হাসপাতাল পরিদর্শন করে জানা যায়, ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২৬টি বেডের বিপরীতে ৫২ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ২৯ জন রোগী ভর্তি হয়েছে, এবং ১৬ জন রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এক সপ্তাহে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে মোট ২১৮ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।


মাকসুদা বেগম, যিনি সদর উপজেলার হুলারহাট গ্রাম থেকে তার মেয়েকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য এসেছেন, ঢাকা পোস্টকে বলেন, “গত এক সপ্তাহ ধরে আমার মেয়ে অসুস্থ, তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছি। প্রথমে বেড পাইনি, ফ্লোরে থাকতে হয়েছে। এক দিন পর বেড পেয়েছি, হাসপাতালের চাপ অনেক বেশি।”

কাউখালী উপজেলার শিয়ালকাঠি থেকে আসা রহিমা বেগম বলেন, “চার দিন ধরে আমার মেয়ে অসুস্থ, তবে আজকে হাসপাতালে এসেছি, কিন্তু বেড পাচ্ছি না। রোগীর চাপ অনেক বেশি।”

পাশের জেলা বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ থেকে আসা নাদিরা আক্তার বলেন, “এখানে দুই দিন ধরে ভর্তি আছি, কিন্তু হাসপাতাল থেকে সব ওষুধ দেওয়া যাচ্ছে না, বাইরে থেকেও কিনতে হচ্ছে।”

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের নার্স অঞ্জলি রায় বলেন, “ঈদের পর থেকেই রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। আমাদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য মাত্র একজন কর্মী রয়েছে, আর নার্সের সংখ্যাও কম। লোকবলের তুলনায় রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি, ফলে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছি।”

পিরোজপুর জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. নিজাম উদ্দীন বলেন, “ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫২ জন রোগী ভর্তি হয়েছে, এবং গত সাত দিনে ২১৮ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে আমাদের পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী মজুদ রয়েছে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ায় যুবদল নেতাকে মারধরের অভিযোগ

ঝালকাঠির রাজাপুরে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসনসহ বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় যুবদল নেতা মো. হালিম গাজীকে মারধর এবং অবরুদ্ধ করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৩ এপ্রিল) ঝালকাঠি প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

হালিম গাজী বলেন, গত ১১ এপ্রিল বিকেল ৪টায় রাজাপুর উপজেলার মঠবাড়ি মাহামুদিয়া মাদরাসার মাঠে ৬নং মঠবাড়ী ইউনিয়ন যুবদলের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করার কথা ছিল ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আবুল কালাম হায়দার সিকদারের, কিন্তু তাকে বাদ দিয়ে সভাটি পরিচালনা করেন উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মাসুম বিল্লাহ পারভেজ। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ও জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম জামাল, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজাপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি তালুকদার আবুল কালাম আজাদ এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

হালিম গাজী তার বক্তব্যে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি এবং আওয়ামী দোসরদের পুনর্বাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, “এ সময় আমি যখন এসব বিষয় নিয়ে বক্তব্য দিতে যাই, তখন আমার কাছ থেকে মাইক কেড়ে নিয়ে আমাকে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এরপর আমাকে মাদরাসার লাইব্রেরিতে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে নাসিম উদ্দিন আকন ও তার অনুসারীরা আমার ওপর হামলা চালায়। আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে, মোবাইল ফোন কেড়ে নেয় এবং দুই ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে।”

হালিম গাজী আরও বলেন, ঘটনার পর তিনি প্রধান অতিথি মো. রফিকুল ইসলাম জামালের কাছে অভিযোগ করেন, কিন্তু তিনি তার অভিযোগ আমলে না নিয়ে বরং হুমকি দেন, “নাসিম আকনের বাইরে কেউ রাজনীতি করতে পারবে না।” এর পরও হালিমের রাজনীতি শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

হালিম দাবি করেন, ঘটনার পর থেকে নাসিম আকন ও তার অনুসারীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে, যার ফলে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 বৈশাখে আকাশছোঁয়া দামে ইলিশ, বরগুনায় মণপ্রতি ১.৬ লাখ টাকা!

পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে বরগুনার পাথরঘাটায় ইলিশের বাজারে হঠাৎ করে লেগেছে আগুন। ১ কেজি ওজনের বেশি ইলিশ মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকায়! বাজার ঘুরে দেখা গেছে, চাহিদা অনেক বেশি হলেও ঘাটে সরবরাহ তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ফলে দামও বাড়ছে হু-হু করে।

দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটে জেলেরা প্রতিদিন মাছ নিয়ে ফিরছেন, কিন্তু তাদের ট্রলারে দেখা যাচ্ছে না কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ইলিশ। একাধিক ব্যবসায়ী ও মৎস্যজীবীর দাবি, সাগর ও নদীতে ট্রলিং জাহাজের আধিক্য, অবৈধ জাল এবং জলবায়ুর প্রভাবের কারণে ইলিশ কমে যাচ্ছে। এদিকে বাংলা নববর্ষে ইলিশের ব্যাপক চাহিদা থাকায় দাম বেড়ে গেছে দ্বিগুণেরও বেশি।

পাথরঘাটা ঘাটের একাধিক আড়তদার জানায়, বর্তমানে—

  • ১ কেজির বেশি ওজনের ইলিশ: মণপ্রতি ১.৩-১.৬ লাখ টাকা
  • ৭০০ গ্রাম থেকে ১ কেজির নিচে: মণপ্রতি ৮০-৯৫ হাজার
  • ৫০০–৭০০ গ্রামের ইলিশ: ৩৫-৭০ হাজার টাকা
  • ছোট ইলিশ (৩০০–৪০০ গ্রাম): ২৫–৩০ হাজার টাকা

স্থানীয় জেলে মো. সেলিম বলেন, সাগরে যেসব বড় ট্রলিং জাহাজ মাছ ধরছে, তারা বাচ্চা ইলিশ নিধন করছে। এতে করে বড় ইলিশ ধরা পড়ছে না। আরেক ব্যবসায়ী জাহিদুল আলম বলেন, বৈশাখ উপলক্ষে মানুষের মধ্যে ইলিশ কেনার আগ্রহ অনেক বেশি, কিন্তু সরবরাহ নেই বললেই চলে। তাই দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

মৎস্য গবেষক বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, ইলিশ ডিম দেয়ার সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় প্রজনন ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত জাল ও অবৈধ উপায়ে মাছ ধরা বন্ধ না হলে ইলিশ সংকট আরও ভয়াবহ হতে পারে।

অভিজ্ঞ আড়তদার মো. আব্দুর রহমান বলেন, তিনি ২০১২ সাল থেকে ব্যবসা করছেন, কিন্তু এ সময়ে এত কম ইলিশ আর এত বেশি দামে কখনও দেখেননি।
তিনি বলেন, “সাধারণ মানুষ এখন ৫০০ টাকার নিচে ইলিশ কিনতে পারে না, আর এখনকার বাজারে ২০-২৫ হাজার টাকার মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০-৪০ হাজারে!”

বাংলা নববর্ষের আনন্দে মানুষ ইলিশ কিনতে চাইলেও বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে ইলিশ। বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে অবৈধ জাল বন্ধ এবং ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা এখন সময়ের দাবি।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বৈচিত্র্যের মাঝেও আমরা এক পরিবার: প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

নানা ধর্ম, মত ও সংস্কৃতির ভিন্নতার মধ্যেও বাংলাদেশের মানুষ এক পরিবার—এ কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “এই দেশে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, পাহাড়ি ও সমতলের জনগোষ্ঠী—সবাই মিলে গড়ে তুলেছে এক অনন্য সাংস্কৃতিক ঐক্য।”

রোববার (১৩ এপ্রিল) সকালে ঢাকার মেরুল বাড্ডায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে ‘সম্প্রীতি ভবন’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বাংলা নববর্ষের অগ্রিম শুভেচ্ছাও জানান।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “বাংলা নববর্ষ আমাদের সম্প্রীতির প্রতীক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই নিজ নিজ রীতিতে এ উৎসব পালন করেন। এটাই আমাদের সংস্কৃতির সৌন্দর্য।”

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহার শুধু ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, এটি সমাজে জনকল্যাণমূলক কাজেও ভূমিকা রাখছে। ‘সম্প্রীতি ভবন’ এই ঐতিহ্যেরই একটি নতুন অধ্যায় হবে।”

তিনি গৌতম বুদ্ধ, অতীশ দীপঙ্কর ও বাংলাদেশের প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “বৌদ্ধধর্ম সব প্রাণীর মঙ্গলের কথা বলে। শান্তি, সহমর্মিতা ও সহাবস্থানের বার্তা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের সম্প্রীতি ভবন বাংলাদেশের ধর্মীয় ও সামাজিক ঐক্যের প্রতীক হয়ে উঠবে এবং বিশ্ববাসীর কাছেও দেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ ভাবমূর্তি তুলে ধরবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে ৪২ বছরের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলা বন্ধে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা

বরিশালের ৪২ বছরের পুরনো বৈশাখী মেলা এ বছর আর হচ্ছে না। নিরাপত্তা ইস্যুর কথা উল্লেখ করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) মেলাটির অনুমতি দেয়নি। এতে হতাশা প্রকাশ করেছেন আয়োজক সংগঠন উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী ও সংস্কৃতি কর্মীরা।

বিএমপি কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, “নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ প্রস্তুতি থাকলেও, বৈশাখী মেলার মতো বড় আয়োজনে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। একই সময়ে সরকারি উদ্যোগে বেলস পার্কে বড় পরিসরে মেলা হচ্ছে, তাই আরেকটি মেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।”

তবে আয়োজকদের দাবি, ১৩৮৯ বঙ্গাব্দ থেকে ব্রজমোহন বিদ্যালয় মাঠে এই মেলার আয়োজন হয়ে আসছে। প্রতিবছর তিন দিনের আয়োজন থাকলেও এবার এসএসসি পরীক্ষার কারণে ছোট পরিসরে একদিনের মেলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।

উদীচী বরিশালের সভাপতি অ্যাডভোকেট বিশ্বনাথ দাস মুন্সী বলেন, “আমরা লিখিতভাবে অনুমতির আবেদন করেছিলাম, কিন্তু কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে অনুমতি দেওয়া হবে না। অথচ পহেলা বৈশাখ তো রাজনীতির কোনো ইস্যু নয়।”

উদীচী কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক বদিউর রহমান বলেন, “সারা দেশে বর্ষবরণ হচ্ছে, তাহলে বরিশালে এই ঐতিহ্যবাহী মেলা বন্ধের যুক্তি কোথায়? উদীচী মেলা চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে। কেউ জোর করে বন্ধ করতে চাইলে সেটা তারাই করবে।”

এর আগে ৮ এপ্রিল বরিশালের কাউনিয়া এলাকায় তিলক’স গ্রুপ থিয়েটারের রামায়ণ নাটকের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, এসএসসি পরীক্ষা এবং স্থানীয়দের আপত্তির কারণেই অনুমতি দেওয়া হয়নি।

বর্ষবরণ উপলক্ষে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বরিশালের বেলস পার্কে সপ্তাহব্যাপী মেলার আয়োজন চললেও ঐতিহ্যবাহী ব্রজমোহন বিদ্যালয় মাঠে উদীচীর মেলা বন্ধ হওয়ায় স্থানীয় সংস্কৃতি মহলে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বিনিয়োগ সম্মেলনের সাফল্য অর্জিত না হলে তা দু:খজনক

বিনিয়োগ সম্মেলনের সাফল্য অর্জিত না হলে তা দু:খজনক হবে, এমনটি জানিয়েছে ‘আমার বাংলাদেশ পার্টি’ (এবি পার্টি)। দলটি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে, মধ‍্যম আয়ের দেশ হবার পরিকল্পনা থেকে সরে না আসলে বাংলাদেশ বিনিয়োগ সম্মেলন থেকে কোনো ফলপ্রসূ সুবিধা পাবে না।

রোববার (১৩ এপ্রিল) ঢাকার বিজয় নগরস্থ এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, “বাংলাদেশ যদি ২০২৬ সালের নভেম্বরে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে চায়, তবে এ লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না যদি বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশে বড় ধরনের পরিবর্তন না আনা হয়।”

তিনি আরও বলেন, গত রেজিমের দেওয়া মিথ‍্যা তথ্যের কারণে দেশের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে দেশের অর্থনীতি ও ব্যবসা ক্ষেত্রের স্বচ্ছতা আনা জরুরী।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান এই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বিনিয়োগ সম্মেলন সফল করার জন্য দেশে এবং বিদেশে বিনিয়োগকারীদের জন্য নিরাপদ ও কার্যকর পরিবেশ তৈরি করতে হবে। স্থানীয় বাজারের সক্ষমতা, অবকাঠামোগত সুবিধা, কর-ভ‍্যাট সিস্টেম এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর সমাধান করা দরকার।

মঞ্জু আরও জানান, “এলডিসি গ্রাজুয়েশন যদি চালিয়ে যাওয়া হয়, তবে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের মনোভাব পরিবর্তিত হতে পারে। তাই এবি পার্টি মনে করে যে, সরকারকে এই উদ্যোগ স্থগিত রাখতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব‍্যারিস্টার যোবায়ের আহমদ ভূঁইয়া, অ‍্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন রানা, আনোয়ার সাদাত টুটুলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ইউক্রেনে রুশ মিসাইল হামলা, নিহত ৩১

ইউক্রেনের সামি অঞ্চলে ভয়াবহ মিসাইল হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ৩১ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও ৮৪ জন। স্থানীয় সময় রোববার (১৩ এপ্রিল) সকালে এই হামলা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন সামির ভারপ্রাপ্ত মেয়র আরতেম কোবজার।

হামলার পর এক বিবৃতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, “এই হামলায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তারা কেউই যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এটি সরাসরি বেসামরিক জনগণের ওপর চালানো একটি বর্বরতা।” তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এই ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখানোর আহ্বান জানান।

গত কয়েকদিন ধরেই ইউক্রেনের পক্ষ থেকে আশঙ্কা জানানো হচ্ছিল যে, সামি অঞ্চল দিয়ে রুশ বাহিনী প্রবেশ করতে পারে। সেই সতর্কতার মধ্যেই এ হামলা চালানো হয়, যা শহরটির জন্য ছিল অত্যন্ত বিপর্যয়কর।

হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন ইউক্রেনীয় নাগরিকরা। সেরহি স্টারনেনকো নামে একজন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ লিখেছেন, “রবিবার ইস্টারের আগে খ্রিষ্টানদের ছুটির দিনে রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছে। অথচ বিশ্ব নেতারা এখনও নিশ্চুপ, কেউ কেউ তো পুতিনকে ধন্যবাদ জানানোরও প্রস্তুতি নিচ্ছেন।”

এ হামলায় ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নতুন মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। ইতোমধ্যে এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বাড়ছে অপরাধ, পুলিশের নিরবতায় জনমনে উদ্বেগ

বরিশাল বিভাগের ছয় জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে অপরাধ। চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, অপহরণ ও জমি-সংক্রান্ত সহিংসতা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। এসব অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে পুলিশের নিরবতা ও মাঠপর্যায়ে কার্যকর তৎপরতার অভাবকে দায়ী করছেন সচেতন নাগরিকরা।

বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ছয় জেলায় মোট ৪৮০টি অপরাধ সংগঠিত হয়। কিন্তু আগস্ট ২০২৪ থেকে জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৮০টিতে। এর মধ্যে রয়েছে ৮১টি হত্যাকাণ্ড, ১৪৬টি ধর্ষণ ও ধর্ষণ চেষ্টা, ১৪টি অপহরণ, ২৬টি ডাকাতি, ২১টি দস্যুতা এবং ২৯২টি চুরির ঘটনা।

নগরীর কাশীপুর এলাকার ইছাকাঠী থেকে উদ্ধার হওয়া এক নারীর মরদেহের সাতটি অংশ আজও অজ্ঞাত রয়েছে। উজিরপুরে ঘাট ইজারাকে কেন্দ্র করে ভাতিজার হাতে চাচা খুন, ঝালকাঠিতে ব্যবসায়ী সুদেব হত্যাকাণ্ড, গৌরনদীতে জমি বিরোধে ভাসুর নিহত, হোসনাবাদে শিশুকে খুন এবং স্কুলছাত্রী ধর্ষণের মতো একের পর এক ভয়াবহ ঘটনার তদন্তে ধীরগতি ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে জনমনে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

মানবাধিকার কর্মী দীপু হাফিজুর রহমান বলেন, “৫ আগস্টের পর দেশে কার্যকর সরকার না থাকায় পুলিশের মনোবল ভেঙে পড়ে। সেই সুযোগে বাড়তে থাকে অপরাধ।” তিনি পুলিশের পাশে দাঁড়িয়ে মনোবল ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।

টিআইবি-সংশ্লিষ্ট সংগঠন ‘সুজন’-এর বরিশাল জেলা সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, “খুন, নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি যেভাবে বেড়েছে, তা নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের আন্তরিকতা ও জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি।”

সনাক বরিশালের সভাপতি অধ্যক্ষ গাজী জাহিদ হোসেন বলেন, “পুলিশ যদি নিরপেক্ষ না হয়, তাহলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে। তাদের পেশাদারিত্ব ও দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হবে।”

অন্যদিকে, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মঞ্জুর মোর্শেদ আলম জানান, “৫ আগস্টের পর কিছুটা ধীরতা ছিল, তবে এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক, ছাড় দেওয়া হবে না।”

জনগণের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ সমাজব্যবস্থা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনের আরও সক্রিয় এবং জবাবদিহিমূলক ভূমিকাই এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




প্রেমের ফাঁদে ব্যবসায়ী খুন, প্রেমিকা ও তার পিতা গ্রেফতার

বরিশালের কলেজ এভিনিউতে আলোচিত ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। প্রেমের সম্পর্কের আড়ালে প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানায় তদন্তকারী সংস্থা। ঘটনার মূল অভিযুক্ত প্রেমিকা হাফিজা বেগম শান্তা (৩১) এবং তার বাবা শওকত হোসেন মোল্লা (৬৩) কে গ্রেফতার করা হয়েছে।

রোববার (১৩ এপ্রিল) বরিশালের নথুল্লাবাদ এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এর আগে, ৯ এপ্রিল কলেজ এভিনিউর জিমি ভবনের দোতলায় নির্মম এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

পুলিশ জানায়, মাসুদুর রহমানের সঙ্গে শান্তার দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সেই সম্পর্কের আড়ালে শান্তা তার কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করতেন। ঘটনার দিন বিয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করলে মাসুদুর রাজি না হওয়ায় দু’জনের মধ্যে শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা। এক পর্যায়ে শান্তা ও তার সহযোগীরা মাসুদুরকে ছুরিকাঘাত করে আহত করে এবং তার সঙ্গে থাকা ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়।

স্থানীয়রা মাসুদুরকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে নিহতের ভাই কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা সুরতহাল, ময়নাতদন্ত, প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাদের গ্রেফতার করা হয়। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ মামলাটি অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত করে মূল রহস্য উদঘাটন করেছে।

বর্তমানে গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শিল্পখাতে গ্যাসের নতুন মূল্যহার, বাড়ল ১০-১২ টাকা

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) শিল্প খাতে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করেছে। নতুন শিল্প গ্রাহক ও অনুমোদিত লোডের চেয়ে অতিরিক্ত গ্যাস ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখন থেকে প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের জন্য গুণতে হবে ৪০ টাকা, যা আগে ছিল ৩০ টাকা। ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ প্লান্টে এই হার আরও বেশি—৩১.৭৫ টাকা থেকে বেড়ে এখন হয়েছে ৪২ টাকা।

রোববার (১৩ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ নতুন এ গ্যাসদর ঘোষণা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের অন্যান্য সদস্য মিজানুর রহমান, সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, আব্দুর রাজ্জাক ও শাহীদ সারোয়ার।

নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান বা যারা অনুমোদিত লোডের চেয়ে বেশি গ্যাস ব্যবহার করেন, তাদেরকে এখন ৩০ টাকার বদলে ৪০ টাকা প্রতি ঘনমিটারে গ্যাস বিল পরিশোধ করতে হবে। এই নতুন মূল্যহার চলতি এপ্রিল মাস থেকেই কার্যকর হবে।

ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ প্লান্টের জন্যও বাড়ানো হয়েছে গ্যাসের দাম। এখন প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের মূল্য ৪২ টাকা, যা পূর্বে ছিল ৩১.৭৫ টাকা। তবে অনুমোদিত লোডের ৫০ শতাংশের কম গ্যাস ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জন্য আগের দামই বহাল থাকবে, অর্থাৎ প্রতি ঘনমিটার ৩১.৫০ টাকা।

যেসব পুরাতন শিল্প গ্রাহক অনুমোদিত লোডের ৫০ শতাংশের বেশি গ্যাস ব্যবহার করবেন, তাদের ক্ষেত্রেও নতুন মূল্যহার প্রযোজ্য হবে—ঘনমিটারপ্রতি ৪০ টাকা। তবে ৫০ শতাংশের কম ব্যবহার করলে তারা আগের মতোই ৩০ টাকা হারে বিল পরিশোধ করবেন।

মাঝারি শিল্প খাতে গ্যাসের দামও ৩০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমোদিত লোডের অতিরিক্ত ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ১০ টাকা বেশি বিল গুনতে হবে।

এই মূল্যবৃদ্ধি শিল্পখাতে ব্যয় বাড়াবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে সরকার বলছে, বাজার সমন্বয় ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম