পয়লা বৈশাখে রাজধানীতে যত আয়োজন




পয়লা বৈশাখে তৌহিদবাদী সংস্কৃতিতে আসুন : হেফাজতে ইসলাম




ছয় মাসেই ভেঙে পড়ল কলাপাড়ার নতুন মাছ বাজার ভবন

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভায় সদ্য নির্মিত মাছ বাজার ভবনের ব্যবহার শুরু হওয়ার ছয় মাসের মধ্যেই ধসে পড়েছে নির্মাণ মানের ঘাটতির চিত্র। ভবনের সিঁড়ির টাইলস উঠে গেছে, কোথাও কোথাও ফেটে পড়েছে, ফ্লোরে পানি জমে চলাচলে ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। অথচ ভবনের কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করে দেওয়া হয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ও তদারকির মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উঠেছে নানা প্রশ্ন।

জানা যায়, ২০২২ সালের ৭ জুলাই ‘মাছ বাজার ভবন, পাবলিক টয়লেট ও বাসস্ট্যান্ড যাত্রী ছাউনি’ নির্মাণ প্রকল্পের কাজ যৌথভাবে পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘অন্তরা ট্রেডিং কোম্পানি ও কমল চন্দ্র দাস’। প্রকল্প ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয় এক কোটি ৬২ লাখ টাকা। এ প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিল কলাপাড়া পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগের, যার তত্ত্বাবধানে কাজটি বাস্তবায়িত হয় নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায়।

চুক্তি অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবরের মধ্যে। কিন্তু বাস্তবে কাজ শেষ হয় ২০২৪ সালের জুনের শেষদিকে। যদিও বিল তৈরি হয় ২০২৩ সালের অক্টোবরেই এবং চূড়ান্ত চেক দেওয়া হয় ২০২৪ সালের মার্চে—অর্থাৎ প্রকল্প শেষ হওয়ার আগেই পুরো বিল পরিশোধ করা হয়।

সেখানে গিয়ে দেখা যায়, ভবনের উদ্বোধনের নামফলকে কৌশলে উদ্বোধনের তারিখ লুকানো হয়েছে। ভবনের ব্যবহারকারীরা জানান, ভবন ব্যবহার শুরুর মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই সিঁড়ির টাইলস উঠে গেছে, ফ্লোরে পানি জমে থাকে, যা চলাচলে ঝুঁকি তৈরি করছে। এতে বাজারে আসা ক্রেতা ও বিক্রেতারা পড়েছেন বিপাকে।

স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী মিন্টু মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কিছুই ঠিকমতো করে নাই। টাইলস ভেঙে গেছে, পানি জমে থাকে। আবার অনেকে সিঁড়ির পাশে ময়লা ফেলে রাখে। এই অবস্থায় আমরা কীভাবে ব্যবসা করব?”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানত হিসেবে আট লাখ ১২ হাজার টাকা প্রথমে আটকে রাখা হলেও, পরবর্তীতে সেই অর্থও ছাড় করা হয়। ফলে এখন এই ত্রুটিগুলোর দায়ভার কেউ নিচ্ছে না।

কলাপাড়া পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভবনের ত্রুটি সংশোধনের জন্য সাব-কন্ট্রাক্টর নুর মোহাম্মদকে দিয়ে মেরামতের কাজ করা হয়েছে। তবে বাস্তবে বাজারে গেলে দেখা যায়, সমস্যাগুলোর কোনো পরিবর্তন হয়নি।

স্থানীয়রা বলছেন, কাজ চলাকালীন প্রকৌশল বিভাগের তদারকির অভাব এবং গাফিলতির কারণে নির্মাণের গুণগত মান বজায় থাকেনি। অনেকেই অভিযোগ করছেন, কমিশন বাণিজ্য ও অবহেলার ফলেই এই দুরবস্থা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. রবিউল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



আমরা সবাই এক পরিবারের সদস্য: প্রধান উপদেষ্টা

ঢাকার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে অনুষ্ঠিত সম্প্রীতি ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, জাতি-ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে আমরা এক বৃহত্তর পরিবারের অংশ। দেশজুড়ে নানা মত ও ধর্মের সহাবস্থানই আমাদের শক্তির উৎস, আর বৈচিত্র্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে সত্যিকারের ঐক্য।

রোববারের এই আয়োজনে তিনি বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন জনগোষ্ঠী একত্রে একটি অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। এ দেশের প্রতিটি ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আমাদের জাতীয় পরিচয়ের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তিনি আরও বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের জাতিগত সম্প্রীতির অন্যতম প্রতীক। সকল ধর্ম, মত ও বিশ্বাসের মানুষ এই উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সৌহার্দ্যের বার্তা ছড়িয়ে দেয়।

অধ্যাপক ইউনূস বৌদ্ধ বিহারের ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে বলেন, এ বিহার শুধু ধর্মীয় স্থান নয়, বরং এটি জাতীয় স্বার্থে বহু সময় ধরে অবদান রেখে আসছে। গৌতম বুদ্ধের অহিংসা ও সাম্যের বাণী ধারণ করে বাংলাদেশের বৌদ্ধ সম্প্রদায় ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন ‘সম্প্রীতি ভবন’ দেশব্যাপী মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত তুলে ধরবে। অতীতে যেভাবে এ অঞ্চলের বৌদ্ধ বিহারগুলো শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিল, ঠিক তেমনভাবেই ভবিষ্যতেও এগুলো জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার কেন্দ্র হয়ে উঠবে বলে তিনি মত দেন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, অতীশ দীপঙ্করের মতো মনীষীরা এ দেশের গৌরব। মহামানব গৌতম বুদ্ধের শান্তির বাণী বহন করে তিনি তা নিয়ে গিয়েছিলেন তিব্বতের মতো দূর দেশে, যেখানে আজও তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করা হয়। তিনি বলেন, বৌদ্ধ ধর্মীয় নিদর্শন, স্থাপত্য ও মনীষীরা মানবসভ্যতার ইতিহাসে অনন্য স্থান দখল করে আছেন।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারের পরিবেশের প্রশংসা করে তিনি বলেন, এটি কেবল একটি ধর্মীয় স্থাপনা নয় বরং আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের প্রতীক। এখানে প্রতিটি প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের আসার সুযোগ রাখতে হবে, যাতে তারা এ দেশের ইতিহাস ও সম্প্রীতির শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।

সেনাবাহিনীর সদস্যদের নির্মাণ কাজে যুক্ত থাকার প্রশংসা করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এই কাজ একটি মহান দায়িত্ব। যারা এতে অংশ নিয়েছেন, তারা ইতিহাস গড়ার পথে রয়েছেন। তাদের নির্মাণশৈলী যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের আয়োজনে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম খালিদ হোসেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরিশালে ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ চক্রের সদস্য গ্রেফতার

বরিশালের বানারীপাড়ায় ভয়ঙ্কর প্রতারকচক্র ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’-এর এক সক্রিয় সদস্য খোকন শিকদারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে বানারীপাড়া বন্দর বাজার এলাকা থেকে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করা হয়।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে বানারীপাড়া পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোসাম্মৎ নয়ন বেগমকে কৌশলে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে খোকন শিকদার। তিনি ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ ব্যবহার করে নয়ন বেগমের কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা এবং কানের দুলসহ স্বর্ণালংকার হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে নয়ন বেগম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

শনিবার দুপুরে নয়ন বেগম নিজেই অভিযুক্ত খোকনকে বন্দর বাজারে চিনে ফেলেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে খোকন শিকদারকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে।

জিজ্ঞাসাবাদে খোকন স্বীকার করেন যে, তিনি ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ নামে একটি প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। তার বাড়ি নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার চনপাড়া ৬নং ওয়ার্ডে। তিনি ওই এলাকার গণি শিকদারের ছেলে।

রোববার তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বানারীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোস্তফা।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দূর্যোগ জয় করে বরিশালে প্রায় ৩ লাখ টন আলু উৎপাদন, তবু হতাশ কৃষকরা

প্রাকৃতিক প্রতিকূলতা ও খরার মাঝেও বরিশাল কৃষি অঞ্চলে এবার প্রায় ৩ লাখ টন গোলআলু উৎপাদিত হয়েছে। কিন্তু মৌসুম জুড়ে দাম কম থাকায় হতাশায় ভুগছেন এখানকার কৃষকরা। উৎপাদন বাড়লেও বাজারে গোলআলুর দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের মুখে পড়েছেন তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে বরিশাল কৃষি অঞ্চলে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। যদিও গত বছরের তুলনায় উৎপাদনের পরিমাণ কিছুটা বেশি, তবুও গড় ফলন কমেছে সামান্য—২৪.৭৮ টনের জায়গায় এবার হয়েছে ২৪.৭৬ টন।

বরিশাল অঞ্চলে গত বছরের মতো এবারও রবি মৌসুমে তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি। বরং নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত বৃষ্টির পরিমাণ ছিল স্বাভাবিকের চেয়ে ৮০-৯০ শতাংশ কম। এর ফলে রবি মৌসুমে অধিকাংশ ফসলের ফলনেই প্রভাব পড়ে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, মাঠে আলুর ফলন ভালো হলেও পাইকারি বাজারে তারা ৭-১০ টাকার বেশি দরে আলু বিক্রি করতে পারছেন না। এতে খরচের টাকা উঠে আসছে না, উল্টো লোকসানে পড়তে হচ্ছে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারে এবং সঠিক প্রযুক্তি প্রয়োগে হেক্টরপ্রতি ৩০ টন পর্যন্ত আলু উৎপাদন সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ইতোমধ্যে বারি উদ্ভাবিত ‘হিরা’, ‘আইলসা’, ‘ডায়মন্ট’, ‘কার্ডিনাল’, ‘চমক’, ‘ধীরা’, ‘গ্রানোলা’, ‘বিনেলা’সহ একাধিক উন্নত জাত মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষিত হয়েছে।

২০১০-১১ অর্থবছরে বরিশাল অঞ্চলে ১০ হাজার ৬০৫ হেক্টরে আলুর আবাদ হয়েছিল। ২০১১-১২ সালে সেই পরিমাণ বেড়ে উৎপাদন গিয়ে দাঁড়ায় ২.৩৬ লাখ টনে। চলতি বছর ১২ হাজার হেক্টর আবাদ করে প্রায় ২ লাখ ৮১ হাজার টন আলু উৎপাদন হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএই কর্মকর্তারা। তবে কৃষক পর্যায়ে দাম কমে যাওয়ায় প্রকৃত আয় কমে গেছে।

কৃষি বিশ্লেষকদের মতে, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এবং উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ ও প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হলে বরিশাল অঞ্চলেই আলু উৎপাদন দেড়গুণ বাড়ানো সম্ভব।


প্রতিবেদন: মো. তুহিন হোসেন,




বরিশালে খেয়াঘাটের ইজারা বাতিলসহ ১৮ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

বরিশালের কীর্তনখোলা (বেলতলা) খেয়াঘাটের ইজারা বাতিলসহ ১৮ দফা দাবি জানিয়েছে চরমোনাই ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ। এই দাবিতে রবিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মামুন। তিনি জানান, বরিশাল সদর উপজেলার কীর্তনখোলা নদীর বেলতলা খেয়াঘাট দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করেন। কিন্তু এই ঘাটে ইজারাদারেরা সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন, যা সাধারণ যাত্রীদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, কোনো অভিযোগ করলেও প্রতিকার মিলছে না। বরং ইজারাদারেরা পেশিশক্তি দেখিয়ে নানা অনিয়ম করে যাচ্ছেন এবং জেলা পরিষদের কোনো নিয়ম মানছেন না।

সংবাদ সম্মেলনে ঘোষিত ১৮ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য দাবি হলো:

  • খেয়াঘাটের ইজারা বাতিল করে উন্মুক্ত ঘোষণা
  • ইজারা বাতিল না হওয়া পর্যন্ত যাত্রী ভাড়া নির্ধারণ:
    • জনপ্রতি ৩ টাকা
    • মোটরসাইকেল ১০ টাকা
    • তিনচাকার বাহন ১৫ টাকা
    • বাইসাইকেল (চালকসহ) ৭ টাকা
    • গরু-মহিষ ১৫ টাকা
  • ছাত্র, ইমাম, প্রতিবন্ধীদের জন্য ভাড়া মওকুফ
  • অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে আইনি ব্যবস্থা
  • প্রতি ৫ মিনিট পরপর ট্রলার ছাড়ার ব্যবস্থা
  • পৃথকভাবে মানুষ ও পশু পরিবহনের নিয়ম
  • যাত্রী ছাউনি, বিশুদ্ধ পানি, নারী-সুলভ টয়লেট এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ

সংবাদ সম্মেলনে সৈয়দ মো. মাসুম বিল্লাহ, আবু হানিফ, খন্দকার রাকিব, সাহবুদ্দিন হাওলাদারসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. সোহরাব হোসেন বলেন, “ঘাটটি নিয়মিতভাবে ইজারা দেওয়া হয়ে থাকে। তবে ইজারাদারের কোনো অনিয়ম ধরা পড়লে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পায়রা সেতুর পাশে ‘ম্যাজিক চা’ এখন ভ্রমণপিপাসুদের নতুন গন্তব্য

পটুয়াখালীর লেবুখালীর পায়রা সেতুর পাশে গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমী এক পর্যটন কেন্দ্র— ‘পায়রা পয়েন্ট মার্কেট’। ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশেই এই এলাকায় গড়ে উঠেছে ‘ম্যাজিক চা’ নামের এক ব্যতিক্রমধর্মী চায়ের আসর, যা এখন পর্যটকদের ক্লান্তি ভুলিয়ে নতুন আনন্দের উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। এখানে চায়ের সঙ্গে পরিবেশিত হচ্ছে বাহারি মশলাদার পান, যার মধ্যে রয়েছে পাহাড়ি পান ও আগুন পান। বিশেষ স্বাদের এই পান ও চায়ের কারণে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করছেন এখানে।

বিশেষ মালাই চায়ের দাম ৫০ টাকা, রেগুলার ও মিনি চায়ের দাম ২০ টাকা করে। পাহাড়ি পান মিলছে ৩০ টাকায় এবং ব্যতিক্রমী স্বাদের আগুন পান বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়। তবে এই স্বাদের মূল আকর্ষণ দামে নয়, বরং পরিবেশ, উপস্থাপনা এবং এর পেছনের গল্পেই। নদী আর সেতুর সৌন্দর্য ঘেরা এই পয়েন্ট যেন একপ্রকার মিশরের কায়রোর মতো মানুষের আনাগোনায় সরগরম। দিন কিংবা রাত—চলছে চা-পান আর আড্ডা।

দোকানিরা বলছেন, প্রতিটি কাপে তারা শুধু চা নয়, পরিবেশন করছেন এক ধরনের ভ্রমণের অভিজ্ঞতা। কেউ উপভোগ করছেন ঘন দুধে তৈরি মালাই চা, কেউ আবার আকৃষ্ট হচ্ছেন বিশেষ মশলা চায়ে—যার নামই ‘ম্যাজিক চা’। অভিনব উপায়ে সাজানো এই চায়ের দোকানগুলো পর্যটকদের মন জয় করে নিচ্ছে খুব সহজেই।

ঢাকা, বরিশাল, খুলনা এমনকি দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা এখন শুধু পায়রা সেতুর সৌন্দর্য দেখতে নয়, বরং ম্যাজিক চায়ের স্বাদ নিতে ছুটে আসছেন পায়রা পয়েন্টে। নদীর ধারে বসে প্রকৃতির মাঝে চায়ের স্বাদ গ্রহণ করতে আসা এক পর্যটক জানান, “পায়রা সেতু দেখতে এসে এখানে ম্যাজিক চায়ের স্বাদ পেলাম, এমন স্বাদ আগে কখনও পাইনি—এটা সত্যিই অন্যরকম অনুভূতি।”

এই ক্ষুদ্র উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে তৈরি হয়েছে এক নতুন আশা। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এ ধরনের ব্যতিক্রমী ভাবনা ও উপস্থাপনা পর্যটন শিল্পকে যেমন উন্নত করবে, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিতেও আনবে বড় পরিবর্তন। যেমনভাবে পায়রা সেতু যাত্রীদের যাত্রাপথ সহজ করেছে, তেমনি তার পাশে গড়ে ওঠা এই ক্ষুদ্র ‘ম্যাজিক চা বাজার’ হয়ে উঠেছে এক অনন্য ভ্রমণ গন্তব্য—যেখানে প্রতিটি চুমুকেই আছে গল্প, স্বাদ আর স্মৃতি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



নির্বাচিত সরকারের বিকল্প আপনারা হতে পারেন না : সালাহ উদ্দিন

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমেদ, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মৎস্য উপদেষ্টা ফরিদা আখতারকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, “আপনারা নাকি নির্বাচিত হয়েছেন, জনগণ নাকি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আপনাদেরকে নির্বাচিত করেছে। তাহলে এদেশে ইলেকশন কমিশন আছে কেন? যদি রাস্তার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সরকার পরিবর্তন হয়, সেটা অবশ্যই এদেশের মানুষের কামনা। কিন্তু নির্বাচিত সরকারের বিকল্প তো আপনারা হতে পারেন না। আপনারা তো অনির্বাচিত, এটা প্রতিদিনই আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হবে।”

রোববার (১৩ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের অডিটোরিয়ামে ভাসানী অনুসারী পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গণতন্ত্রের বিপরীতে যাত্রা?
সালাহ উদ্দিন আহমেদ আরও বলেন, “গণতন্ত্রের কথা বলে আপনারা গণতন্ত্রের উল্টো দিকে যাত্রা শুরু করবেন, নির্বাচনের কথা বলে নির্বাচন নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি করবেন, এটা কি গণতন্ত্রের জন্য শুভ? গণঅভ্যুত্থানের জনআকাঙ্খা এবং প্রত্যাশা কি এটি ছিল?”

তিনি বলেছিলেন, “যখনই আমরা প্রধান উপদেষ্টার প্রতিশ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপের জন্য দাবি করি, তখনই বিভিন্ন উপদেষ্টাকে বলতে শুনি- জনগণ নাকি তাদেরকে ৫ বছরের জন্য চায়।” এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, “স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ চেয়ে অনেক কমেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে, এটা কি উনি দেখেননি?”

নির্বাচন এবং গণতান্ত্রিক অধিকার
সালাহ উদ্দিন আহমেদ ফরিদা আখতারের স্বামী ফরহাদ মজহারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “উনি কয়েকদিন আগে বলেছিলেন নির্বাচনের মাধ্যমে নাকি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয় না, লুটেরাদের সাম্রাজ্য নাকি প্রতিষ্ঠা হয়। যে নির্বাচন ও ভোটাধিকারের জন্য এই দেশে হাজার হাজার মানুষ শহীদ হয়েছেন, ফ্যাসিবাদের পতন ঘটেছে, সেই নির্বাচনকে অস্বীকার করছেন?”

তিনি আরও বলেন, “এদেশের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য এই দেশের জনগণ এক দফার আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল, যা গণতান্ত্রিক ছাত্র অভ্যুত্থান হিসেবে গড়েছিল। এই আন্দোলন ছিল কোনো সামাজিক বিপ্লব নয়, এটি ছিল গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য।”

গণতান্ত্রিক কাঠামোর সংস্কার
সালাহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই দেশে ভোটাধিকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আমাদের সংবিধান যেটা রোগাক্রান্ত হয়েছে, সেই সংবিধানকে যথাযথ সংস্কারের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সংবিধান দেখতে চাই।”

নতুন রাজনৈতিক দল এবং সম্মেলন
এ সময়, ভাসানী অনুসারী পরিষদ থেকে ভাসানী জনশক্তি পার্টি নামে নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। দলটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু এবং মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন ড. আবু ইউসুফ সেলিম।

এ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন, গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতা এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক ফয়জুল হাকিম লালা, জাগপা’র সহ সভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ।




সালমান খানের ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কা

বলিউডের সুপারস্টার সালমান খানের ক্যারিয়ারের বর্তমান অবস্থা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তার সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা সিকান্দার বক্স অফিসে তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। মাত্র দুই সপ্তাহে সিনেমাটি আয় করেছে ১১০ কোটি টাকা, যা ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত সালমানের সিনেমার জন্য একেবারে অপ্রত্যাশিত। একসময় ঈদ মানেই ছিল সালমানের সিনেমা আর বক্স অফিসে ঝড়, কিন্তু এখন সেই দিনগুলো পেছনে পড়ে গেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সিকান্দার ছবির ব্যর্থতার পর অনেকেই তার ক্যারিয়ার নিয়ে শঙ্কিত হচ্ছেন।

২০০৯ সালে ওয়ান্টেড সিনেমা দিয়ে তার নতুন যাত্রা শুরু হলেও, পরবর্তী বছরগুলোতে দাবাং, রেডি, বডিগার্ড, এক থা টাইগার, জয় হো, কিক, বজরঙ্গি ভাইজান, সুলতান, টাইগার জিন্দা হ্যায় ইত্যাদি সিনেমাগুলো বক্স অফিসে বিশাল সাফল্য পায়। তবে ২০১৮ সালের পর থেকে তার সিনেমাগুলোর ব্যবসা ধীরে ধীরে কমতে থাকে, এবং অন্তিম, রাধে, কিসি কা ভাই কিসি কী জান, টাইগার ৩, ও সিকান্দার-এর মতো সিনেমাগুলো প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি।

সালমানের একগুঁয়েমি?
সমালোচকদের মতে, সালমান খানের বক্স অফিসে ব্যর্থতার একটি বড় কারণ তার একগুঁয়েমি। তিনি অনেক সময় ভালো চিত্রনাট্য এবং পরিচালকের পরিবর্তে তার ‘কাছের মানুষ’দের সঙ্গে কাজ করতে পছন্দ করেছেন, যার ফলে কিছু কাজ তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি। উদাহরণ হিসেবে অন্তিম সিনেমার কথা বলা যায়, যেখানে তার ভগ্নিপতি আয়ুশ শর্মা নায়ক ছিলেন। সালমান অনেক সময়ই সিনেমার কাস্টিং, গান, এমনকি অন্যান্য কাজের সিদ্ধান্তে ব্যক্তিগত পছন্দকে প্রাধান্য দেন।

‘দ্য বুল’ সিনেমায় সালমানের বাদ পড়া
সালমান খানকে নিয়ে করণ জোহরের ধর্মা প্রোডাকশন দ্য বুল সিনেমা বানাতে চেয়েছিল। কিন্তু সালমানের একগুঁয়েমির কারণে তার সিনেমায় থাকাটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। সিনেমাটির দুটি সেনা কর্মকর্তার চরিত্রে একজনের জন্য সালমান এবং অন্যটিতে সিদ্ধার্থ মালহোত্রার নাম প্রস্তাবিত ছিল, কিন্তু সালমান অন্য চরিত্রে সিদ্ধার্থকে নিতেই রাজি হননি। তার পছন্দ ছিল নিজের দেহরক্ষীর সন্তানকে সিনেমায় নেওয়ার। কিন্তু করণ বা পরিচালক বিষ্ণু বর্ধন এ প্রস্তাব মেনে নিতে পারেননি এবং সালমান সিনেমাটি থেকে বাদ পড়েন।

নতুন সিনেমার সম্ভাবনা কম
গত বছর শোনা গিয়েছিল, জওয়ান নির্মাতা অ্যাট লির সঙ্গে সালমান একটি সিনেমা করবেন। তবে সম্প্রতি জানা গেছে, সেই সিনেমাও হচ্ছে না। শোনা যাচ্ছে, সিনেমাটির বিনিয়োগ জটিলতায় আটকে গেছে, কারণ সালমানের বর্তমান বাজারের অবস্থান অনুযায়ী বড় বাজেটের সিনেমায় বিনিয়োগ করতে কেউই আগ্রহী নয়।

সালমানের বর্তমান অবস্থা
সব মিলিয়ে, সালমান খানের ক্যারিয়ার এখন একটি বড় অনিশ্চয়তায় রয়েছে। তার সর্বশেষ সিনেমা সিকান্দার-এর সমালোচকরা প্রশংসা করেছেন তার অ্যাকশন দৃশ্যের জন্য, তবে অন্য দৃশ্যগুলোর জন্য তার অভিনয় ছিল সাধারণ মানের, এমন মন্তব্য এসেছে। একদিক থেকে তার পর্দায় উপস্থিতি কিছুটা ক্লান্তও মনে হয়েছে, যা তার ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য উদ্বেগজনক হতে পারে।

এখন প্রশ্ন হলো, সালমান কি অতিমানবীয় কোনো পারফরম্যান্স দিয়ে আবার নিজেকে প্রমাণ করতে পারবেন, নাকি তার ক্যারিয়ার আসলেই শেষ হয়ে যাবে ।