তাপপ্রবাহে দাহন, পটুয়াখালীতে স্বস্তির বার্তা হয়ে এলো বৃষ্টি

টানা কয়েকদিনের প্রচণ্ড খরতাপে দগ্ধ হয়ে ওঠা পটুয়াখালীর উপকূলজুড়ে হঠাৎ নামা এক পশলা বৃষ্টি যেন স্বস্তির বার্তা হয়ে হাজির হয়েছে। বৈশাখের চড়চড়ে রোদে হাঁসফাঁস জনজীবনে মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরের পর থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টি এনে দিয়েছে প্রশান্তির পরশ।
দুপুর গড়িয়ে যাওয়ার পরই পটুয়াখালীর আকাশে জমতে শুরু করে ঘন কালো মেঘ। হঠাৎ করেই শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, কিছুক্ষণের মধ্যেই তা রূপ নেয় মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতে। জেলার বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের খবর মিলেছে। যদিও কোথাও কোথাও পানি জমে থাকলেও স্বাভাবিক যান চলাচলে এর প্রভাব পড়ে না। বরং রাস্তাঘাটে খানিকটা ঠান্ডা পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি দুর্বল লঘুচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এক থেকে দুই দিন এমন বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে চলমান তাপমাত্রা কিছুটা কমবে বলেও ধারণা দেওয়া হয়েছে। এ সময় উপকূলের মানুষ কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে অতিরিক্ত গরমের যন্ত্রণা থেকে।

বৃষ্টির পরেই উপকূলের চিত্র পাল্টে যায়। রাস্তায় দেখা যায় ভিজতে থাকা তরুণ-তরুণীদের দল, আবার অনেকেই পরিবার নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন সমুদ্র সৈকতের পথে। দোকানপাট, চায়ের টং, খোলা বাজারেও লোকসমাগম বেড়ে যায় কয়েকগুণ। শহরের অলিগলিতেও জেগে ওঠে প্রাণ।
কুয়াকাটার স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন রাজু বলেন, “কয়েকদিন ধরে যে রকম গরম পড়ছিলো, আজকের বৃষ্টি যেন আল্লাহর রহমত। শরীর-মন দুইটাই শান্তি পেল।”
একই কথা জানান বাজার এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম। তিনি বলেন, “বিকেলে বৃষ্টি হলে মানুষ চা খেতে আসে, কেনাকাটা করে। আমাদের ব্যবসাও ভালো হয়।”
পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ধরনের হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত আরো কিছুদিন চলতে পারে। এতে করে উপকূলীয় এলাকার মানুষের তাপজনিত কষ্ট কিছুটা কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বৈশাখের দাবদাহের মধ্যে এমন স্বস্তির বৃষ্টি যেন প্রকৃতির এক অভূতপূর্ব উপহার। তপ্ত জনজীবনে এই শীতল পরশ এনে দিয়েছে স্বস্তি আর হাসি। পটুয়াখালীর মানুষ এখন এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকার প্রার্থনাই করছে।











