তাপপ্রবাহে দাহন, পটুয়াখালীতে স্বস্তির বার্তা হয়ে এলো বৃষ্টি

টানা কয়েকদিনের প্রচণ্ড খরতাপে দগ্ধ হয়ে ওঠা পটুয়াখালীর উপকূলজুড়ে হঠাৎ নামা এক পশলা বৃষ্টি যেন স্বস্তির বার্তা হয়ে হাজির হয়েছে। বৈশাখের চড়চড়ে রোদে হাঁসফাঁস জনজীবনে মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরের পর থেকে শুরু হওয়া এই বৃষ্টি এনে দিয়েছে প্রশান্তির পরশ।

দুপুর গড়িয়ে যাওয়ার পরই পটুয়াখালীর আকাশে জমতে শুরু করে ঘন কালো মেঘ। হঠাৎ করেই শুরু হয় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, কিছুক্ষণের মধ্যেই তা রূপ নেয় মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতে। জেলার বিভিন্ন স্থানে বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের খবর মিলেছে। যদিও কোথাও কোথাও পানি জমে থাকলেও স্বাভাবিক যান চলাচলে এর প্রভাব পড়ে না। বরং রাস্তাঘাটে খানিকটা ঠান্ডা পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট একটি দুর্বল লঘুচাপের প্রভাবে এই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এক থেকে দুই দিন এমন বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে চলমান তাপমাত্রা কিছুটা কমবে বলেও ধারণা দেওয়া হয়েছে। এ সময় উপকূলের মানুষ কিছুটা হলেও রক্ষা পাবে অতিরিক্ত গরমের যন্ত্রণা থেকে।

বৃষ্টির পরেই উপকূলের চিত্র পাল্টে যায়। রাস্তায় দেখা যায় ভিজতে থাকা তরুণ-তরুণীদের দল, আবার অনেকেই পরিবার নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন সমুদ্র সৈকতের পথে। দোকানপাট, চায়ের টং, খোলা বাজারেও লোকসমাগম বেড়ে যায় কয়েকগুণ। শহরের অলিগলিতেও জেগে ওঠে প্রাণ।

কুয়াকাটার স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন রাজু বলেন, “কয়েকদিন ধরে যে রকম গরম পড়ছিলো, আজকের বৃষ্টি যেন আল্লাহর রহমত। শরীর-মন দুইটাই শান্তি পেল।”
একই কথা জানান বাজার এলাকার ব্যবসায়ী আব্দুল কাইয়ুম। তিনি বলেন, “বিকেলে বৃষ্টি হলে মানুষ চা খেতে আসে, কেনাকাটা করে। আমাদের ব্যবসাও ভালো হয়।”

পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই ধরনের হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত আরো কিছুদিন চলতে পারে। এতে করে উপকূলীয় এলাকার মানুষের তাপজনিত কষ্ট কিছুটা কমে আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বৈশাখের দাবদাহের মধ্যে এমন স্বস্তির বৃষ্টি যেন প্রকৃতির এক অভূতপূর্ব উপহার। তপ্ত জনজীবনে এই শীতল পরশ এনে দিয়েছে স্বস্তি আর হাসি। পটুয়াখালীর মানুষ এখন এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকার প্রার্থনাই করছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



এক লক্ষ্যেই এগোচ্ছে ঐকমত্যের পথ : অধ্যাপক আলী রীয়াজ

জাতীয় সনদ রাষ্ট্র সংস্কারের স্বপ্ন বাস্তবায়নের দিকেই এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তাঁর ভাষায়, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসলে তা একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নয়, বরং একই লক্ষ্য অর্জনের প্রচেষ্টা। তাই টেবিলের দুই প্রান্তে থাকলেও আমরা আসলে এক পক্ষ—যেখানে আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য হলো রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংস্কার।

রাজধানীর সংসদ ভবনের এল.ডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (বাংলাদেশ)- এনডিএম-এর বৈঠকে আলোচনার শুরুতেই অধ্যাপক রীয়াজ এসব কথা বলেন। আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

অধ্যাপক রীয়াজ আরও বলেন, পথ ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু আলোচনা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার মধ্য দিয়েই আমরা ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে পারি। যেভাবে অতীতে আমরা সম্মিলিতভাবে ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পেরেছি, ঠিক সেভাবেই এই ঐক্য অটুট রেখে সংস্কারের পথ তৈরি করা সম্ভব হবে।

এদিন এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের প্রতিনিধি দল আলোচনায় অংশ নেয়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলটির মহাসচিব মোমিনুল আমিন, ভাইস-চেয়ারম্যান ফারুক উজ জামান চৌধুরী, যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার সাহিদুল আজমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রথম পর্যায়ে গঠিত সংস্কার কমিশনগুলোর মধ্যে রয়েছে সংবিধান, জনপ্রশাসন, নির্বাচন ব্যবস্থা, বিচার বিভাগ এবং দুর্নীতি দমন সংশ্লিষ্ট কমিশন। এসব কমিশনের দেওয়া সুপারিশ স্প্রেডশিট আকারে ৩৯টি রাজনৈতিক দলের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং তাদের সুনির্দিষ্ট মতামত আহ্বান করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৪টি দলের কাছ থেকে মতামত পাওয়া গেছে এবং ৯টি দলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা হয়েছে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ১৭ এপ্রিল বিএনপির সঙ্গে তাদের পরবর্তী আলোচনার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে।

এই সব তথ্য আজ কমিশনের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমে জানানো হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরগুনায় ডোপ টেস্টে পজিটিভ ৬ জন যুবক কারাগারে

বরগুনার সদর উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে মাদকসেবী সন্দেহে আটক ছয় যুবকের ডোপ টেস্টে পজিটিভ রিপোর্ট আসায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। আদালত পরবর্তী নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে রোববার (১৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে। বরগুনা সদর থানার পুলিশ মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা পরিষদের ভেতর থেকে ৬ জনকে আটক করে। রাতেই তাদের ডোপ টেস্ট করা হলে সকলের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপর তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন—

  • মোহাম্মদ মিঠুন (২৭), পিতা: মো. দেলোয়ার হাওলাদার, ঠিকানা: ঢলুয়া, সদর
  • মাহমুদুল হাসান (৪৩), পিতা: মৃত আব্দুল মালেক মিয়া, ঠিকানা: শাহাপট্টি
  • মো. সোহাগ (৪৪), পিতা: মো. আলি আকবর, ঠিকানা: পশ্চিম বরগুনা
  • মোহাম্মদ মহসিন (৪৫), পিতা: তোফায়েল মিয়া, ঠিকানা: ডিকেপি রোড
  • মো. ফারুক (৩৮), পিতা: মৃত আবুল হোসেন
  • শহিদুল ইসলাম (৩৬), পিতা: মৃত শানু মিয়া, ঠিকানা: কলেজ রোড

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, “ছয়জনের ডোপ টেস্ট রিপোর্ট পজিটিভ আসায় তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সোমবার দুপুরে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।”

এ ঘটনায় বরগুনায় আবারও মাদকবিরোধী অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক নির্মূলে এই ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চালানো হবে।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বৈশাখের প্রথম দিনে বিনোদন কেন্দ্রে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উদযাপন উপলক্ষে পহেলা বৈশাখের প্রথম দিনেই বরিশালের বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে নেমেছিল উৎসবের ঢল। ছুটির দিনে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা প্রিয়জনদের নিয়ে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে ভিড় করেছেন হাজারো মানুষ।

শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ ভিড় জমিয়েছে বরিশাল নগরীর বিনোদন কেন্দ্র ত্রিশ গোডাউন, এড্যামস পার্ক, বেলস পার্ক, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, এবং রূপাতলী আবদুর রব সেতু এলাকায়। সকাল থেকেই এসব স্থানে মানুষের ঢল নামে। বিকেল গড়াতেই বেড়ে যায় ভিড়। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

নগরীর ত্রিশ গোডাউনে ঘুরতে আসা স্কুলছাত্রী তানিশা বলে, আমরা প্রতি বছর বৈশাখে বের হই। এই বছর বন্ধুদের সঙ্গে এখানে এসেছি। খেতে পেরেছি পান্তা-ইলিশ, আর চুড়ি-ফিতা কেনাকাটাও করেছি।

রূপাতলীর বাসিন্দা এবং সরকারি কর্মচারী মো. জসিম উদ্দিন বলেন,সারা বছর কাজের ব্যস্ততা থাকে। আজ পরিবারকে সময় দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে। বাচ্চারা অনেক মজা করছে। প্রশাসনের নিরাপত্তাও ভালো ছিল।

নববর্ষ উপলক্ষে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও নজরদারি থাকায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। উৎসব উদযাপন নির্বিঘ্ন রাখতে পুলিশ, র‍্যাব ও স্বেচ্ছাসেবকদের টহল ছিল দিনভর।

বরিশালে এমন প্রাণবন্ত নববর্ষ উদযাপন অনেকদিন পর দেখা গেল। তারা চান, প্রতিবছরই যেন এমন নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে বৈশাখ পালন করা যায়। পহেলা বৈশাখের আনন্দে এদিন যেন পুরো বরিশালই পরিণত হয়েছিল এক বিশাল উৎসবমঞ্চে।




আসল রিজিক কী? হিকমাহ না অর্থ?

ডেস্ক রিপোর্ট:: আল্লাহ তা’আলা যাকে চান, তাকেই অঢেল ধন-সম্পদ দান করেন। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, তিনি তাকে ভালোবাসেন। তিনি যাকে ভালোবাসেন, তাকে দেন হিকমাহ—অর্থাৎ প্রজ্ঞা। আর যার মধ্যে হিকমাহ আছে, তার অন্তরে থাকে সাকিনা—শান্তি, ধৈর্য ও আত্মতৃপ্তি।

আমরা অনেক সময় দেখি, টেবিল ভর্তি খাবার থাকলেও কারো মন ভরে না। কারণ, সেখানে হিকমাহ নেই, নেই সাকিনা। অন্যদিকে কেউ কেউ আলু ভর্তা আর ডাল দিয়েও পরিপূর্ণ তৃপ্তি পায়, কারণ সে পেয়েছে হিকমাহ, সে জানে সন্তুষ্ট থাকার মানে।

একজন মানুষ উচ্চশিক্ষিত ও সুন্দর জীবনসঙ্গী পেয়েও অসুখী থাকতে পারে, আবার বিলাসবহুল গাড়িতে চড়েও দুঃখী হতে পারে—কারণ তার মধ্যে হিকমাহ নেই, সাকিনা নেই।

আল্লাহ যাকে হিকমাহ দেন, সে সব অবস্থায় তৃপ্ত ও প্রশান্ত থাকে। নিজের অবস্থা ও সীমাবদ্ধতাকে সে মানিয়ে নেয়। আর এটিই রিযিকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর।

রিযিক মানে শুধু টাকা-পয়সা না। এর বিস্তৃতি অনেক বেশি—

সর্বনিম্ন স্তর: সম্পদ ও অর্থ

সর্বোচ্চ স্তর: শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা

সর্বোত্তম স্তর: নেককার স্ত্রী ও সন্তান

পূর্ণতা: আল্লাহর সন্তুষ্টি

রিযিক নির্ধারিত—কে কত টাকা আয় করবে, কে কাকে জীবনসঙ্গী হিসেবে পাবে, কবে কোথায় মারা যাবে—সবই পূর্বনির্ধারিত। এমনকি কে কতটা খাবার খাবে, কোন ফল খাবে, তাও নির্দিষ্ট।

যে ফলটি আজ আপনি খাচ্ছেন, তা হয়তো হাজারো মানুষের হাত ঘুরে আপনার কাছে এসেছে। কারণ, এটি আপনার রিযিক। যত বাধা আসুক না কেন, যদি তা আপনার জন্য নির্ধারিত হয়—তবে তা আপনাকেই পৌঁছাবে।

এমনকি কোনো আত্মীয় যদি আপনার বাসায় এসে খায়, তবে সে আপনার খাবার খাচ্ছে না—সে নিজের রিযিকই গ্রহণ করছে, আর আপনি হচ্ছেন কেবল মাধ্যম।

আল্লাহ বলেছেন—“পৃথিবীতে বিচরণকারী এমন কোনো প্রাণী নেই যার রিযিকের দায়িত্ব আল্লাহ নিজে নেননি।”

(সুরা হুদ: আয়াত ৬)

আরও বলেছেন—“যে আল্লাহকে ভয় করে, তিনি তার জন্য পথ খুলে দেবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক দেবেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।”

(সুরা ত্বালাক: আয়াত ২-৩)

আমরা যেন হালাল পথে আস্থাশীল থাকি, হিকমাহ অর্জন করি, রিযিকের সঠিক অর্থ বুঝে তাতে সন্তুষ্ট থাকি। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হালাল রিযিক দান করুন, হারাম থেকে রক্ষা করুন।

(আমিন)




ডাক সেবার সেবায় গতি আনবে ই-বাইক




ঐক্য-আলোচনায় নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায় বিএনপি: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে ঐক্য ও আলোচনার মাধ্যমে একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সোমবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, আলোচনা ও ঐক্যের মাধ্যমে আমাদের মধ্যে একটি সার্থক সংহতি গড়ে উঠবে। নিঃসন্দেহে এই ঐক্য সম্ভব হবে এবং এর মধ্য দিয়ে আমরা সফল হবো।”

বর্তমান রাজনৈতিক সংকটের বিষয়ে তিনি বলেন, “এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের একমাত্র সমাধান হলো একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।”

দেশবাসীকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, “বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ জাতির সামনে একটি নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আমরা আশা করি। নতুন বছরের এই বৈশাখ যেন অতীতের সব গ্লানি ধুয়ে নিয়ে আসে এবং নতুন বাংলাদেশ গঠনে অনুপ্রেরণা জোগায়।”

উল্লেখ্য, মির্জা ফখরুল ও তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগম গত ৬ এপ্রিল সিঙ্গাপুরে যান স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য। এর আগে ২০১৫ সালে কারাবন্দি অবস্থায় তার ঘাড়ের ইন্টারন্যাল ক্যারোটিড আর্টারিতে ব্লক ধরা পড়ে। পরে মুক্তির পর তিনি সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা নেন এবং এরপর থেকে প্রতিবছরই নিয়মিত ফলোআপ চিকিৎসার জন্য সেখানে যান।

নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই এই বৈশাখ হোক পরিবর্তনের বার্তা। এই বছর যেন দেশের প্রতিটি মানুষ একটি নতুন সম্ভাবনা, নতুন উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শহীদ মাদ্রাসাছাত্র রাব্বির মরদেহ ৯ মাস পর নিজ গ্রামে গলাচিপায় দাফন

ঢাকায় পুলিশ গুলিতে নিহত ১২ বছর বয়সী মাদ্রাসাছাত্র শহীদ মো. রাব্বি মাতব্বরের মরদেহ মৃত্যুর প্রায় ৯ মাস পর নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়েছে। সোমবার (১৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া গ্রামে জানাজা শেষে তার দাফন সম্পন্ন হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আসাদুর রহমান।

রাব্বি ঢাকার মিরপুরের তা’লীমুল ইসলাম মাদ্রাসার হাফেজি বিভাগের ছাত্র ছিল এবং ইতোমধ্যে ১০ পারা কোরআন মুখস্থ করেছিল। সে বাঁশবাড়িয়া গ্রামের জুয়েল মাতব্বরের ছোট ছেলে।

রাব্বির বাবা জুয়েল মাতব্বর জানান, গত বছরের ১৯ জুলাই রাতে ঢাকার মিরপুরে ঢাকা মডেল কলেজের সামনে ছাত্র-জনতার একটি গণঅভ্যুত্থানের মিছিলে গুলি চালায় পুলিশ। রাব্বি ওই সময় দৌড়ে একটি ভ্যানগাড়ির নিচে আশ্রয় নিলেও পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। পরে পুলিশ মরদেহটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও জনতার বাধায় তা ব্যর্থ হয়।

তবে ওই রাতেই রাব্বির মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার উদ্যোগ নিলেও স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতার বাধা ও হুমকির মুখে পড়ে তা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ করেন জুয়েল মাতব্বর। বাধ্য হয়ে ছেলেকে মিরপুর গোরস্থানে দাফন করেন।

পরবর্তীতে গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আদালতের নির্দেশে রাব্বির মরদেহ উত্তোলনের আবেদন জানায় পরিবার। বিচারিক আদেশে ১০ এপ্রিল তার মরদেহ উত্তোলন করে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়। ১৩ এপ্রিল ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর রাতে মরদেহ গলাচিপার উদ্দেশে পাঠানো হয় এবং ১৪ এপ্রিল সকালে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে পুনরায় দাফন করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত রাব্বির পরিবার ঢাকার কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২০০-৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত করছেন কাফরুল থানার উপপরিদর্শক মো. বাশার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কালবৈশাখীতে লণ্ডভণ্ড দুমকী, আহত ২, শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত

পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলায় আকস্মিক কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে রাজাখালী ও চরবয়ড়া এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। ঝড়ের সময় লেবুখালি-বাউফল সড়কের পাশে উপড়ে পড়া রেইনট্রি গাছের নিচে চাপা পড়ে দুইজন আহত হয়েছেন। ঝড়ের প্রভাবে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে, পাশাপাশি সহস্রাধিক গাছ উপড়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

সোমবার (১ বৈশাখ) দুপুর দুইটার দিকে কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। সঙ্গে ছিল প্রবল বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া। ঝড়ের তাণ্ডব শুরু হলে অনেকেই আশ্রয়ের খোঁজে দিকবিদিক ছোটাছুটি করেন। এ সময় দুমকী-বগা-বাউফল মহাসড়কের রাজাখালী ফার্মগেট এলাকার পশ্চিম পাশে একটি মাহিন্দ্রা গাড়ি যাত্রী নিয়ে আশ্রয় নেয় একটি গাছের নিচে। দুর্ভাগ্যক্রমে তখনই উপড়ে পড়ে একটি বিশাল রেইনট্রি গাছ। গাছটি মাহিন্দ্রা গাড়িটিকে চাপা দিলে ভিতরে থাকা চালক হানিফ হাওলাদার (৩৫) ও এক যাত্রী গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পরে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। গাছটি রাস্তার মাঝখানে পড়ায় প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা পর গাছ অপসারণের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

ঝড়ের কারণে শুধু যানজট ও আহতরাই নয়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য টিনের ঘরের চালা উড়ে গেছে। উপড়ে পড়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও অসংখ্য গাছপালা। হঠাৎ আসা এই ঝড়ে অনেকেই ঘরহারা হয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কৃষিজমি ও খামার ঘর। ঝড় শেষে গোটা এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

দুমকী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন জানান, ঝড়ের খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস যৌথভাবে কাজ শুরু করে। দ্রুত গাছ অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি সহায়তা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের এই ক্ষয়ক্ষতির খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই আতঙ্কে রাত কাটিয়েছেন খোলা আকাশের নিচে। তারা দ্রুত পুনর্বাসন ও সহায়তার দাবি জানিয়েছেন প্রশাসনের কাছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে বসতঘর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

বরিশাল সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়নের কর্নকাঠী গ্রামে নিজ বাড়ি থেকে রাহাত (২৮)ও লামিয়া (২১) নামের স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত রাহাত পেশায় একজন অটোচালক ছিলেন। তার পিতা স্বপ্নন হাওলাদার। স্ত্রী লামিয়া গৃহিণী হিসেবে সংসার সামলাতেন।

সোমবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ৮টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। বরিশাল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল পর্যন্ত ঘর থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা সন্দেহ করেন। পরে জানালা দিয়ে উঁকি দিলে দেখা যায়, ঘরের মেঝেতে পড়ে আছে ওই দম্পতির নিথর দেহ। তৎক্ষণাৎ বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে বন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

পুলিশ জানিয়েছে, দম্পতির মধ্যে সম্প্রতি পারিবারিক কলহ চলছিল বলে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানা গেছে। সেই কলহ থেকেই এমন ট্র্যাজেডি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বরিশাল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন,
প্রাথমিকভাবে আমরা এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করছি। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ঘটনাস্থল থেকে কিছু আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পেছনে যদি অন্য কোনো কারণ থেকে থাকে, তা খতিয়ে দেখা হোক।