ইইউর নতুন তালিকা: বাংলাদেশসহ সাত দেশ নিরাপদ হিসেবে চিহ্নিত

আশ্রয়প্রার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বুধবার সাতটি দেশকে ‘নিরাপদ উৎস দেশ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে ওই দেশগুলোর নাগরিকদের আশ্রয়ের আবেদন গ্রহণযোগ্যতার সম্ভাবনা কমে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।বাসস

ব্রাসেলস থেকে এএফপি জানায়, ইউরোপীয় কমিশনের প্রস্তাবিত এই তালিকায় রয়েছে: কসোভো, বাংলাদেশ, কলম্বিয়া, মিশর, ভারত, মরক্কো ও তিউনিসিয়া।

ইইউর অভিবাসনবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনার বলেন, ‘অনেক সদস্য রাষ্ট্রেই আশ্রয় আবেদনের একটি বড় ব্যাকলগ রয়েছে। তাই আশ্রয় সিদ্ধান্ত দ্রুত নেওয়ার পক্ষে যা কিছু করা সম্ভব, তা-ই করা এখন অপরিহার্য।’

মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর কাছ থেকে এই উদ্যোগটি সমালোচনার মুখে পড়েছে। কারণ, এতে করে অনুমান করা হবে যে এসব দেশের নাগরিকদের আশ্রয়ের আবেদন যথাযথ নয়—এমন একটি পূর্বধারণা থেকেই প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হতে পারে।

জনমত নেতিবাচক হওয়ার কারণে ইউরোপীয় জনপরিসরে অভিবাসনবিরোধী মনোভাব বাড়ছে। এতে কট্টর-ডানপন্থী দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে অনিয়মিত প্রবেশ ঠেকানো ও দ্রুত বহিষ্কারের পক্ষে চাপ বেড়েছে।

কমিশন জানিয়েছে, যেসব দেশ ইইউ প্রার্থীতার মর্যাদা পায় তারাও নীতিগতভাবে ‘নিরাপদ’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে সংঘর্ষে জর্জরিত দেশগুলোর ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম থাকবে, যেমন ইউক্রেন এই তালিকা থেকে বাদ থাকবে।

২০১৫ সালে ইইউ একটি অনুরূপ তালিকা প্রকাশ করেছিল, কিন্তু তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে বিতর্কের কারণে সেই পরিকল্পনা পরিত্যক্ত হয়।

কমিশনের মতে, এই তালিকাটি ভবিষ্যতে সম্প্রসারিত বা পর্যালোচিত হতে পারে। তালিকাটি এমন দেশগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি যেখান থেকে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক আবেদনকারী আসে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিভিন্ন সদস্য দেশ এরই মধ্যে নিজেদের মতো করে ‘নিরাপদ’ দেশ চিহ্নিত করে থাকে। যেমন ফ্রান্সের তালিকায় রয়েছে মঙ্গোলিয়া, সার্বিয়া ও কেপ ভার্দে। তবে ইইউয়ের লক্ষ্য হলো একটি সমন্বিত ও অভিন্ন নীতিমালা তৈরি করা, যাতে সব সদস্য রাষ্ট্র একই মানদণ্ড অনুসরণ করে।

এক্ষেত্রে সদস্য রাষ্ট্ররা চাইলে অতিরিক্ত দেশ যুক্ত করতে পারবে, তবে তালিকা থেকে কোনো দেশ বাদ দিতে পারবে না।

‘প্রতারণামূলক ও বিপজ্জনক’ পদক্ষেপ বলে অভিযোগ

কমিশন জানিয়েছে, প্রত্যেক আশ্রয় আবেদন এখনও পৃথকভাবে পর্যালোচনা করতে হবে এবং আবেদনকারীদের সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা যাবে না। এভাবেই বর্তমান সুরক্ষা বিধানগুলো কার্যকর থাকবে।

তবে পরিকল্পনাটি কার্যকর করতে হলে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোর অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

এই পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। ইউরো-মেড রাইটস নামের একটি ছাতাসংগঠন বলেছে, তালিকাভুক্ত কয়েকটি দেশে নাগরিকদের ও অভিবাসীদের প্রতি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার প্রমাণ রয়েছে।

তাদের ভাষায়, ‘এই দেশগুলোকে ‘নিরাপদ’ আখ্যায়িত করা প্রতারণামূলক ও বিপজ্জনক।’

ইইউ সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্স জানিয়েছে, ২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে অনিয়মিত প্রবেশের সংখ্যা ৩৮ শতাংশ কমে ২,৩৯,০০০-তে দাঁড়ায়। তবে ২০২৩ সালে প্রায় এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবেশের ঘটনা ঘটে।

গত অক্টোবর মাসে ইতালি, ডেনমার্ক ও নেদারল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দেশের নেতৃত্বে ইইউ নেতারা দ্রুত ফেরত পাঠানোর জন্য নতুন আইন প্রণয়নের আহ্বান জানান এবং অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধে ‘উদ্ভাবনী’ পন্থা মূল্যায়নের জন্য কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান।

বর্তমানে ইইউ থেকে যারা বহিষ্কারের নির্দেশ পান, তাদের মধ্যে ২০ শতাংশেরও কম ব্যক্তিকে নিজ দেশে ফিরিয়ে পাঠানো সম্ভব হয় বলে ইইউ তথ্য জানায়।

গত মাসে ইইউ একটি নতুন ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা সংস্কারের প্রস্তাব দেয়, যাতে সদস্য দেশগুলো ইউরোপের বাইরেই অভিবাসন প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপন করতে পারে।

ইতালির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাত্তেও পিয়ানতেদোসি বুধবার এই পদক্ষেপকে ‘ইতালীয় সরকারের জন্য একটি সাফল্য’ বলে অভিহিত করেছেন।




১১টা পর্যন্ত কর্মসূচি শিথিল : কারিগরি ছাত্র আন্দোলন

\



টাইমের প্রভাবশালী তালিকায় ড. ইউনূস

যুক্তরাষ্ট্রের খ্যাতনামা সংবাদ সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন ২০২৫ সালের জন্য বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্থান করে নিয়েছেন। ‘নেতা’ ক্যাটাগরিতে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, একই তালিকায় রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার, মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া সেইনবোম এবং বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক।

ড. ইউনূসকে নিয়ে টাইমে প্রকাশিত একটি মন্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ফার্স্ট লেডি হিলারি ক্লিনটন বলেন, “ছাত্রদের নেতৃত্বে স্বৈরশাসক প্রধানমন্ত্রীর পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস গণতন্ত্রের পথ দেখাতে সামনে আসেন। তিনি বহু আগে গ্রামীণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ক্ষুদ্র ঋণের ধারণা বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেন, যা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন করে তোলে। ৯৭ শতাংশ সুবিধাভোগীই নারী, যারা নিজস্ব উদ্যোগে ব্যবসা শুরু করে মর্যাদা অর্জন করেছেন।”

হিলারি ক্লিনটন আরও স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমি ড. ইউনূসের সঙ্গে প্রথম দেখা করি যখন তিনি তাঁর কর্মসূচি আরকানসাসে শুরু করতে আমাদের সহায়তা চেয়েছিলেন। সেই সময় আমি গভর্নর বিল ক্লিনটনের সঙ্গে ছিলাম। এরপর বিশ্বের নানা প্রান্তে আমি তাঁর কাজের প্রভাব দেখেছি, যা অভাবনীয়ভাবে সমাজ বদলে দিয়েছে।”

প্রভাবশালী এই তালিকায় ড. ইউনূসের অন্তর্ভুক্তি বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করেছে এবং এটি দেশের জন্য এক গর্বের বিষয় হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় লবণ পানির হাত থেকে কৃষিজমি রক্ষাসহ একাধিক দাবিতে কৃষকদের অবস্থান ধর্মঘট

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় লবণ পানির অনুপ্রবেশ থেকে কৃষিজমি রক্ষা, স্লুইসগেট উন্নয়নসহ একাধিক দাবিতে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। বুধবার (১৬ এপ্রিল) বেলা ১১টায় উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সামনে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি, কলাপাড়া উপজেলা শাখার আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কৃষকদের প্রধান দাবি ছিল—নতুন স্লুইসগেট নির্মাণ, পুরাতন গেটসমূহের দ্রুত রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত, নদ-নদীর অবৈধ দখলমুক্তকরণ এবং বোরো ধান কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি লাভজনক দামে ক্রয়ের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

অবস্থান ধর্মঘট শেষে কৃষকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন।

ধর্মঘটে শতাধিক কৃষক অংশ নেন। এতে বক্তব্য রাখেন কৃষক সমিতির কলাপাড়া উপজেলা সভাপতি জিএম মাহবুবুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নয়নাভিরাম গাইন নয়ন, ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন আহ্বায়ক মো. শহীদুল ইসলাম, নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সদস্য মো. আলতাফ হোসেন গাজী এবং কৃষক আবুল কালাম আজাদ।

বক্তারা বলেন, “লবণ পানির কারণে দিন দিন কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে যাচ্ছে। কৃষকদের জীবন-জীবিকা বাঁচাতে হলে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন ও ধানের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করাই এখন সময়ের দাবি।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোলায় ‘মার্চ ফর প্যালেস্টাইন’ কর্মসূচিতে মানুষের ঢল, রাজপথ মুখরিত শ্লোগানে

ফিলিস্তিনে ইসরাইলের মুসলিম গণহত্যা বন্ধ এবং স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে ভোলায় অনুষ্ঠিত হলো বিশাল গণজমায়েত ও মিছিল। বুধবার (১৬ এপ্রিল) সকাল ১১টায় ‘প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট ভোলা’-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

ভোলা শহরের হাটখোলা জামে মসজিদ চত্বরে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমীর মাওলানা আব্দুর রহমান খান তালুকদার

সমাবেশে ভোলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, পৌরসভা ও আশপাশের উপজেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ মিছিল নিয়ে যোগ দেন। শহরের প্রতিটি রাস্তায় ছিল মানুষের স্রোত। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ‘ফিলিস্তিন জিন্দাবাদ, ইসরায়েল নিপাত যাক, ইসরায়েলি পণ্য বর্জন করো’—এই সব শ্লোগানে মুখরিত করে রাখেন গোটা শহর।

আয়োজক সংগঠন প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট ভোলা জানায়, কর্মসূচিকে সফল করতে গত কয়েকদিন ধরে তারা জেলার ২৫টি রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের সমন্বয়ে মসজিদ ও পাড়া-মহল্লায় ব্যাপক প্রচারণা চালায়। তাদের একত্র প্রচেষ্টায় এ কর্মসূচি রূপ নেয় একটি স্মরণকালের সেরা জনসমাবেশে।

শহরের প্রতিটি সড়কে মানুষের ঢল, হাতে ব্যানার-প্ল্যাকার্ড, ফিলিস্তিনের পতাকা—সব মিলিয়ে কর্মসূচিটি পরিণত হয় এক গণআন্দোলনের রূপে। বক্তারা ফিলিস্তিনের জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন, “ফিলিস্তিন শুধু একটি রাষ্ট্রের দাবি নয়, এটি মুসলিম উম্মাহর আত্মমর্যাদার প্রশ্ন।”

এই সমাবেশ ভোলা জেলার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেত্রীসহ তিনজন আটক

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের এক নেত্রীসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। বুধবার (১৬ এপ্রিল) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটক হওয়া ছাত্রী টিকলি শরিফ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং খুলনা মহানগর ছাত্রলীগের উপ-ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। যদিও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের অনুমোদিত কোনো কমিটি নেই, তবে তিনি সেখানে সংগঠনের পক্ষে গোপনে তৎপর ছিলেন বলে অভিযোগ।

জানা গেছে, টিকলি শরিফের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ চলাকালে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা রয়েছে। ছাত্রদল দাবি করেছে, টিকলি গোপনে ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। বিষয়টি জানার পর কয়েকজন ছাত্রদলকর্মী তাকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের উপস্থিতিতে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

আটকের সময় তার সঙ্গে ছিলেন একই বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের দুই শিক্ষার্থী—মামুন ও তরিকুল। তারাও পুলিশের হাতে সোপর্দ হন।

ঘটনার বিষয়ে টিকলি শরিফ বলেন, “আজ আমার সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা ছিল। লাইব্রেরিতে পড়ালেখা শেষে সন্ধ্যায় বাইরে বের হলে কয়েকজন জুনিয়রের সঙ্গে দেখা হয়। তাদের সঙ্গে চা খেতে গেলে সেখান থেকেই আমাকে আটক করা হয়।”
সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিয়ে তিনি আরও বলেন, “গণতান্ত্রিক প্রেক্ষাপটে যে কেউ ভালোবাসা থেকে কোনো সংগঠনের হয়ে কাজ করতে পারে।”

এদিকে ছাত্রদলের বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সদস্য মিনহাজুল ইসলাম বলেন, “টিকলি ক্যাম্পাসে ফিরে গোপনে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা করছিলেন। বিষয়টি জানার পর জুনিয়ররা তাকে আটক করে প্রক্টরের মাধ্যমে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সোনিয়া খান সনি বলেন, “কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর আমি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশের সঙ্গে কথা বলি এবং অভিযুক্তদের তাদের হাতে তুলে দিই। পরবর্তী পদক্ষেপ আইন অনুযায়ী পুলিশ গ্রহণ করবে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ছয় দফা দাবিতে পটুয়াখালীতে পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

পটুয়াখালীতে ছয় দফা বাস্তবায়নের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পটুয়াখালী চৌরাস্তা মোড়ে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। এতে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে সবধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে এবং শহরের বিভিন্ন মোড়ে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় বাধ্য হয়েই তারা সড়কে নামতে বাধ্য হয়েছেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া অনেকেই জানান, পূর্বে স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন করেও কাজ হয়নি। এবার দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না তারা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আসাদুল্লাহ বলেন, “২০২১ সালে যেভাবে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য হুমকি। আমরা হাইকোর্টের রায় বাতিলসহ ন্যায্য দাবি আদায়ে আন্দোলনে নেমেছি।”

আরেক শিক্ষার্থী জাকির রাজিবুল হক বলেন, “আমরা বারবার আমাদের ছয় দফা দাবি জানিয়েছি। প্রশাসনকে জানিয়েছি। কিন্তু কোনো আশ্বাস না পেয়ে বাধ্য হয়ে রাস্তায় নেমেছি।”

শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— ক্রাফট ইনস্ট্রাক্টরদের পদোন্নতির রায় বাতিল ও বিতর্কিত নিয়োগবিধি সংশোধন, ডিপ্লোমা কোর্সে বয়সসীমা নির্ধারণ ও মানসম্পন্ন কারিকুলাম চালুর দাবি, প্রকৌশলীদের নিয়োগে উপেক্ষার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, প্রশাসনে কারিগরি শিক্ষাবিহীন নিয়োগ বন্ধ ও শূন্যপদে বিজ্ঞপ্তি, কারিগরি ও উচ্চশিক্ষা বিষয়ক পৃথক মন্ত্রণালয় গঠন এবং উন্নত মানের টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় ও নির্মাণাধীন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তির সুযোগ নিশ্চিত করা।

তাদের ভাষ্যমতে, এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন হলে দেশের কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ আরও সুদৃঢ় হবে। তবে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, দাবি না মানা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ড. ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বিএনপি

জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ চূড়ান্ত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। আজ বুধবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর গুলশানে ড. ইউনূসের বাসভবন ‘যমুনা’তে এ বৈঠক শুরু হয়।

বিএনপির পক্ষ থেকে বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

বিশ্বখ্যাত নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন এবং নির্বাচনকালীন সময়ে দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক সংলাপে বসছেন।

বিএনপির পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, এই বৈঠকের মাধ্যমে একটি নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচনের রূপরেখা তৈরি হবে, যা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎকে সুদৃঢ় করবে।

বৈঠকে নির্বাচনকালীন সরকারের গঠনপ্রণালী, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা, ভোটের সময় নিরাপত্তা ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনা হচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়া রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, মামলা-হামলা বন্ধ এবং দলের নেতাকর্মীদের মুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় আসতে পারে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

বিএনপি বারবার বলে আসছে, বর্তমান সরকারের অধীনে তারা কোনো নির্বাচন গ্রহণ করবে না। তাই একটি নির্দলীয় ও গ্রহণযোগ্য সরকারের অধীনে নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক সংলাপকে গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।

অপরদিকে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের প্রকৃত রায় নিশ্চিত করতে সচেষ্ট। তিনি সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাতে চান।

বৈঠক শেষে বিএনপি নেতারা সাংবাদিকদের ব্রিফ করতে পারেন বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




যুক্তরাষ্ট্রের জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর




বিএনপির সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠক কাল

চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য পথ খুঁজে বের করতে আগামীকাল বুধবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সঙ্গে বৈঠকে বসছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে দুপুর ১২টায়, রাজধানীর সরকারি বাসভবন যমুনায়। বৈঠকের আয়োজন ও সময়সূচি সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আলোচনার প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে বসবে।

বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, এই বৈঠকটি দেশের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। রাজনৈতিক সমঝোতার পথ খোলার পাশাপাশি জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে এই সংলাপের মধ্য দিয়ে।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন মহল থেকে বর্তমান রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনে সংলাপ ও আলোচনার প্রয়োজনীয়তা বারবার তুলে ধরা হয়েছে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই পদক্ষেপ দেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এখন অপেক্ষা শুধু আগামীকালের আলোচিত বৈঠকের ফলাফলের দিকে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম