বরিশালে ফয়জুল করিমকে মেয়র ঘোষণার দাবিতে গনমিছিল

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমকে বৈধ মেয়র হিসেবে ঘোষণা করার দাবিতে বরিশালে অনুষ্ঠিত হয়েছে ছাত্র ও যুব জনতার গণমিছিল।

শনিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে নগরীর অশ্বিনী কুমার হলের সামনে ‘বরিশাল সিটি করপোরেশনের সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে আয়োজিত এই গণমিছিলে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ। সমাবেশে তারা দাবি জানান, ২০২৩ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করিম প্রকৃত বিজয়ী ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মের মাধ্যমে তাকে জোরপূর্বক পরাজিত দেখানো হয়।

বক্তব্যে অভিযোগ তুলে ধরা হয়, আওয়ামী লীগের সমর্থিত সন্ত্রাসী বাহিনী ও প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতায় নির্বাচনকে প্রভাবিত করা হয়। নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা না রেখে একতরফাভাবে নৌকা প্রতীকের পক্ষে অবস্থান নেয়। বক্তারা আরও বলেন, ভোটের দিন শহরের বিভিন্ন কেন্দ্রে হামলা, ভীতি প্রদর্শন ও জালিয়াতির ঘটনা ঘটে যা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

জনতার পক্ষ থেকে জোরালো দাবি জানানো হয়—বরিশালের প্রকৃত বিজয়ীকে মেয়র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। বক্তারা বলেন, “আমরা যে মানুষটিকে ভোট দিয়েছি, তাকেই মেয়র হিসেবে দেখতে চাই। প্রকৃত জনরায় উপেক্ষা করে গঠিত কোনো প্রশাসন জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না।”

এদিকে, নির্বাচনের ফল বাতিল করে নিজেকে বৈধ মেয়র ঘোষণার আবেদন জানিয়ে মুফতি ফয়জুল করিম ইতোমধ্যে ১৭ এপ্রিল বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালত ও সিটি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তাঁর পক্ষে মামলাটি দাখিল করেন আইনজীবী শেখ আবদুল্লাহ নাসির।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন— যুব নেতা রেজাউল করিম,
আমান হোসেন রিয়াদ, ছাত্রনেতা গাজী রিদওয়ান,
এফ এম সালাউদ্দিন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইব্রাহীম ও মেহেদী, বিএম কলেজের শিক্ষার্থী হান্নান উদ্দিন শাকিল ও হাসিবুল হাসান শান্ত, হাবিবুল্লাহ রনি, এবং বরিশাল পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ছাত্র জহিরুল ইসলাম জিহাদ

তাদের মতে, এই গণআন্দোলন সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে একটি শান্তিপূর্ণ প্রতিক্রিয়া, যা ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সহায়ক হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ইতিহাসের ‘সেরা নির্বাচন’ হবে: প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সেরা ও স্মরণীয় নির্বাচন—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে বাংলাদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনস (এএনএফআরইএল) প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় প্রতিনিধিদের আশ্বস্ত করে প্রধান উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকে পরিণত করতে সরকার বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি নির্বাচন আয়োজন করতে চাই, যেটি শুধু অংশগ্রহণমূলকই নয়, বরং ইতিহাসের পাতায় বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয় হিসেবে স্থান পাবে। জনগণের আস্থা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এটি হবে একটি অনন্য উদাহরণ।”

প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ছিলেন—এএনএফআরইএল’র নির্বাহী পরিচালক ব্রিজা রোসালেস, বাংলাদেশ নির্বাচন ও গণতন্ত্র কর্মসূচির পরামর্শক মে বুটয়, সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার থারিন্ডু আবেরত্না, প্রোগ্রাম অফিসার আয়ান রহমান খান এবং প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট আফসানা আমেই। তারা বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় করেন এবং সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকারকে স্বাগত জানান।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনায় প্রতিনিধিদল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশে একটি অবাধ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন আয়োজনে তারা অংশীদার হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবে। সেইসঙ্গে এএনএফআরইএল নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ও সহায়তা কার্যক্রমও অব্যাহত রাখবে।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং জনগণের মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষায় আসন্ন নির্বাচন এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিতে কর্মবিরতি ও মানববন্ধন

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ তিন দফা দাবিতে কর্মবিরতি, একাডেমিক শাটডাউন এবং মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক, মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা। শনিবার (১৯ এপ্রিল) সকাল থেকে একাডেমিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে তারা এই কর্মসূচি শুরু করেন।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—হাসপাতাল ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ১৪ এপ্রিলের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করে দোষীদের শাস্তি দেওয়া এবং ৫০০ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল দ্রুত চালু করে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. সবুর সুমন, ডা. সুমাইয়া সাইমা শর্মী, ডা. স্বর্ণা মজুমদারসহ আরও অনেকে। তারা অভিযোগ করে বলেন, “নিরাপত্তার অভাবে চিকিৎসা ও শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হামলার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অথচ এখনও তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ হয়নি, বরং একজন শিক্ষককে আগেই ওএসডি করা হয়েছে, যা অপ্রত্যাশিত।”

আন্দোলনকারীরা জানান, দাবি বাস্তবায়নে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে হাসপাতালের আউটডোর বন্ধ এবং কর্মবিরতি আরও কঠোর করা হবে।

পরে তারা কলেজ অধ্যক্ষ বরাবর স্মারকলিপি দেন।

এ বিষয়ে মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ ডা. এ এফ এম আতিকুর রহমান বলেন, “তাদের দাবিগুলো যৌক্তিক। নিরাপত্তা ও দোষীদের শাস্তির বিষয়টি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য কাজ চলছে। ইতোমধ্যে ৫০০ শয্যার হাসপাতালের কাজ শেষ হয়েছে এবং আগামী জুলাই মাসেই এটি চালু করার প্রস্তুতি চলছে। জনবল নিয়োগের বিষয়েও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



১০৭৯ কোটি টাকা আত্মসাতে সাবেক এমপি মহিউদ্দীনের নামে দুদকের মামলা

পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. মহিউদ্দীন মহারাজের বিরুদ্ধে ১,০৭৯ কোটি ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৮৩৯ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলায় একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ না করেই এই বিপুল পরিমাণ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। এ ঘটনায় পিরোজপুর এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলীসহ মোট ২৭ জনকে আসামি করে পৃথক আটটি মামলা করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইতিমধ্যে পাঁচজন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—

  • এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আলি আখতার হোসেন
  • সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুর রশীদ খান
  • সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুস সাত্তার হাওলাদার
  • মেসার্স হরিণপালা ট্রেডার্সের মালিক ও সাবেক এমপি মো. মহিউদ্দীন মহারাজ

উল্লেখ্য, মহিউদ্দীন মহারাজ ভান্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মরহুম শাহাদাৎ হোসেনের বড় পুত্র। গত ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতা আন্দোলনের পর তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে চলে যান।




ঝাড়ু মিছিলে থেমে গেল সড়ক নির্মাণ, জেগে উঠেছে প্রশাসন

নিম্নমানের ইট ব্যবহার করে সড়ক নির্মাণের প্রতিবাদে ঝাড়ু মিছিল করে কাজ বন্ধ করে দিলো তালতলীর সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানালেও প্রশাসনের নীরবতায় ক্ষুব্ধ হয়ে এবার গণবিক্ষোভে নামেন স্থানীয়রা। ঘটনাটি দেশব্যাপী চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন, এবং অবশেষে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে সড়ক নির্মাণের কার্যক্রম।

বরগুনার তালতলী উপজেলার বড়বগী ইউনিয়নের মালিপাড়া থেকে নয়াপাড়া পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ১০০ মিটার দীর্ঘ এ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ২১ লাখ ৯২ হাজার টাকা। দরপত্রের মাধ্যমে কাজটি পেয়েছে মেসার্স এনামুল এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু নির্মাণ শুরুর পর থেকেই ব্যবহার করা হচ্ছিল নিম্নমানের ইট ও সামগ্রী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা একাধিকবার উপজেলা প্রকৌশলীকে বিষয়টি জানানোর পরও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই এলাকাবাসী ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভে নামেন এবং নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন।

বিক্ষোভের জেরে শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বরগুনা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম এবং তার টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণ সামগ্রীর মান পরিদর্শন করেন। তিনি নমুনা সংগ্রহ করে ইটের গুণগত মান পরীক্ষার নির্দেশ দেন এবং উন্নতমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দেন।

এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এনামুল এন্টারপ্রাইজের মালিক এনামুল বলেন, “আমি এখনো কোনো লিখিত নোটিশ পাইনি, তবে জেলা অফিস থেকে মৌখিকভাবে ইট সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। তাই সম্মানের খাতিরে আমরা তা করছি।”

উপজেলা প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “ঠিকাদারকে লিখিতভাবে নিম্নমানের ইট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছি। তিনি সেটা পেয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত না হলেও এ বিষয়ে আমাদের আন্তরিকতা রয়েছে।”

তবে সহকারী প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়রা মনে করছেন, প্রশাসনের এই তৎপরতা চলমান থাকলে প্রকল্পটি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্নীতিমূলক কার্যক্রমে লাগাম টানা সম্ভব হবে।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গ্যাস সংযোগ ও উন্নয়ন দাবিতে ভোলায় ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ, ইন্ট্রাকোর গাড়ি আটকে দিলেন

ভোলায় ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ ও গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপনসহ পাঁচ দফা দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে স্থানীয় ছাত্র ও জনতা। শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছাত্র-জনতা ইন্ট্রাকো গ্যাস কোম্পানির একটি গ্যাসবাহী গাড়ি আটকে দেয় এবং বিক্ষোভ শুরু করে।

আন্দোলনকারীদের মধ্যে ছিলেন রহিম ইসলাম, আতাউর রহমান আরিফ ও মো. রাজু। তারা বলেন, “ভোলার মাটির নিচে গ্যাসের বিশাল মজুদ থাকা সত্ত্বেও এখানকার মানুষ এখনো গৃহস্থালির কাজে গ্যাস ব্যবহার করতে পারছে না। এছাড়া গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানাও গড়ে ওঠেনি। বারবার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি জানালেও সরকার কর্ণপাত করেনি।”

তাদের পাঁচ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ
২. গ্যাসভিত্তিক শিল্পকারখানা স্থাপন
৩. ভোলা-বরিশাল সংযোগ সেতু নির্মাণ
৪. পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ স্থাপন
৫. স্থানীয় উন্নয়নে গ্যাস রাজস্বের ন্যায্য অংশ বরাদ্দ

আন্দোলনকারীরা হুঁশিয়ারি দেন, এসব দাবি পূরণ না হলে ভোলা থেকে কোনোভাবেই গ্যাস বহন করতে দেওয়া হবে না।

ভোলা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদাৎ হাসনাইন পারভেজ বলেন, “খবর পাওয়ার পরই আমরা ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। ইন্ট্রাকো কর্তৃপক্ষ এবং আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চলছে।”

রাত সোয়া ১টা পর্যন্ত বিক্ষোভরত ছাত্র-জনতা গ্যাসবাহী গাড়িটি আটকে রেখেছিলেন।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভ্রমণপিপাসুদের তৃপ্তির ঠিকানা এখন পায়রার ‘ম্যাজিক চা’

পটুয়াখালীর লেবুখালীর পায়রা সেতুর পাশে নতুন করে যোগ হয়েছে এক চমকপ্রদ ভ্রমণ গন্তব্য—‘ম্যাজিক চা’। ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে পায়রা পয়েন্ট মার্কেটে গড়ে উঠা এই ব্যতিক্রমধর্মী চায়ের আসর এখন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের প্রথম পছন্দ। শুধু চা নয়, এখানে মিলছে অনন্য পরিবেশ, মনভোলানো দৃশ্য আর চায়ের প্রতিটি চুমুকে এক নতুন অভিজ্ঞতা।

পায়রা সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা মানুষগুলো এখন আর শুধু ব্রিজে নয়, কিছুটা সময় কাটাচ্ছেন ‘ম্যাজিক চা’ স্পটে। চায়ের স্বাদের পাশাপাশি এখানে পাওয়া যাচ্ছে বাহারি মশলাদার পানও—যা স্থানীয়ভাবে পরিচিত হয়ে উঠেছে ‘পাহাড়ি পান’ ও ‘আগুন পান’ নামে। পাহাড়ি পান বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায় আর অনন্য স্বাদের আগুন পান বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকায়।

তিনটি স্বাদের চা পাওয়া যাচ্ছে এখানে—স্পেশাল মালাই (৫০ টাকা), রেগুলার ও মিনি চা (২০ টাকা)। তবে দামের চেয়ে চায়ের স্বাদ, পরিবেশনা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই এখানে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ। নদী, সেতু আর প্রকৃতির নিসর্গে ঘেরা পায়রা পয়েন্ট এখন যেন হয়ে উঠেছে এক খোলা বাতায়ন—যেখানে প্রতিটি চুমুকে লুকিয়ে আছে স্বাদ, গল্প আর আবেগ।

দোকানিদের ভাষ্যমতে, এই চায়ের বিশেষত্ব হলো প্রতিটি কাপে তারা দিচ্ছেন একধরনের ভ্রমণের অনুভূতি। কেউ উপভোগ করছেন ঘন দুধের মালাই চা, কেউবা ঝাল-মিষ্টি মশলার মিশেলে তৈরি স্পেশাল ম্যাজিক চা। অভিনব পরিবেশনা আর অতিথি আপ্যায়নের ধরন চা প্রেমীদের কাছে এটি করে তুলেছে অবিস্মরণীয়।

ঢাকা, বরিশাল, খুলনা সহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা কুয়াকাটার পথে কিংবা ফেরার সময় থেমে যাচ্ছেন এই স্পটে। অনেকেই বলছেন, শুধু চা নয়, প্রকৃতির মাঝে বসে চায়ের স্বাদ গ্রহণ করা যেন হয়ে উঠেছে জীবনের এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

 

একজন পর্যটক বলেন, “পায়রা সেতু দেখতে এসেছিলাম। এখানে এসে ‘ম্যাজিক চা’ খেয়ে মনটাই ভরে গেল। এমন স্বাদ, এমন পরিবেশ জীবনে প্রথম!”

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই ব্যতিক্রমী চা-উদ্যোগ পায়রা সেতুর সৌন্দর্যকে কেন্দ্র করে পর্যটনে যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। এর মাধ্যমে যেমন বাড়ছে পর্যটকদের আগ্রহ, তেমনি উন্নয়ন হচ্ছে স্থানীয় অর্থনীতিরও। পায়রা সেতু যেমন যাত্রীদের পথ সুগম করেছে, তেমনি তার ছায়ায় গড়ে ওঠা এই ‘চায়ের শহর’ হয়ে উঠছে হৃদয়ের নতুন ঠিকানা—যেখানে এক কাপ চা মানেই শত গল্পের শুরু।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




৯ মাস পর কবর থেকে শহীদ ইমনের মরদেহ উত্তোলন

ভোলার আলীনগরে দাফনের ৯ মাস পর শহীদ ইমনের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করেছে পুলিশ। ঢাকার উত্তর বাড্ডায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় আদালতের নির্দেশে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের সাচিয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থান থেকে মরদেহটি উত্তোলন করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং নিহতের পরিবারের সদস্যরা।

মরদেহটি ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য।

নিহত ইমন সাচিয়া গ্রামের দিনমজুর নান্টু মিয়া ও পোশাক শ্রমিক কুলসুম বেগমের ছেলে। গত বছরের ২০ জুলাই দুপুরে ইমন ঢাকার উত্তর বাড্ডা এলাকার জামতলা মেইন রোডে গুলিবিদ্ধ হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন ২১ জুলাই মরদেহ ভোলায় এনে দাফন করা হয়।

শহীদের মা কুলসুম বেগম গত ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। এতে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামালসহ মোট ৯২ জনকে অভিযুক্ত করেন।

এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহসান হাফিজ জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মুফতি ফয়জুল করিমকে মেয়র ঘোষণার দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন

বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন ২০২৩-এর ফলাফল বাতিল করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমকে বরিশালের বৈধ মেয়র ঘোষণার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে ‘বরিশাল সিটি করপোরেশনের সর্বস্তরের জনগণ’ ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের সিটি নির্বাচনে ‘হাতপাখা’ প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করিম প্রকৃত বিজয়ী হলেও, আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী ও দলীয় প্রশাসনের সহায়তায় তাকে পরাজিত ঘোষণা করা হয়। তারা বলেন, নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে এবং নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে। ভোটগ্রহণের দিন widespread সহিংসতা, জালিয়াতি ও অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয় বলেও বক্তারা অভিযোগ তোলেন।

বক্তারা আরও বলেন, বরিশালের জনগণ প্রকৃত বিজয়ীকে মেয়র হিসেবে দেখতে চায়। তাই তারা নির্বাচন বাতিল করে মুফতি ফয়জুল করিমকে মেয়র ঘোষণা করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান।

এদিকে, বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) মুফতি ফয়জুল করিম বরিশাল সদর সিনিয়র সহকারী জজ ও সিটি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি ২০২৩ সালের সিটি নির্বাচন বাতিল করে তাঁকে বৈধ মেয়র ঘোষণার আবেদন জানান। আইনজীবী শেখ আবদুল্লাহ নাসির তাঁর পক্ষে মামলাটি দাখিল করেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঝালকাঠিতে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় ১২ পরীক্ষার্থী বহিষ্কার, ৯ শিক্ষককে অব্যাহতি

ঝালকাঠিতে চলমান এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ১২ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একইসঙ্গে দায়িত্বে অবহেলার কারণে ৯ জন শিক্ষককে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) রাজাপুর ও নলছিটি উপজেলার বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় এসব অনিয়ম ধরা পড়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শাকিলা রহমান।

বহিষ্কার ও অব্যাহতির বিবরণ:

  • রাজাপুরে:
    • বড়ইয়া ডিগ্রি কলেজ
    • গালুয়া ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়
    • কানুদাসকাঠি ইসলামিয়া মাদরাসা
      এসব কেন্দ্র থেকে মোট ৪ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।
  • নলছিটিতে:
    • হদুয়া বৈশাখিয়া ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে দাখিল গণিত পরীক্ষায় নকলের দায়ে ৮ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।
    • একই ঘটনায় কেন্দ্রসচিব, হল সুপারসহ ৭ জন সহকারী শিক্ষককে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঝালকাঠি জেলার ৩১টি কেন্দ্রে এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১১,০৪৬ জন। তবে আজ পরীক্ষার তৃতীয় দিনে অনুপস্থিত ছিলেন ১৪১ জন।


মো: তুহিন হোসেন,বরিশাল