শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ১০ সদস্যের এনআইডি লক

জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ নির্বাচন কমিশনের অধীনে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের ১০ সদস্যের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) লক করেছে। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একটি চিঠির মাধ্যমে এই ১০ জনের এনআইডি লক করা হয়েছে। নথিপত্র অনুযায়ী, ১৬ ফেব্রুয়ারি জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবীরের মৌখিক নির্দেশে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়। তবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সরাসরি নির্দেশ ছিল কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

যাদের এনআইডি লক করা হয়েছে, তারা হলেন- শেখ হাসিনা, সজীব আহমেদ ওয়াজেদ, সায়মা ওয়াজেদ, শেখ রেহানা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক, শাহিন সিদ্দিক, বুশরা সিদ্দিক, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং তারিক আহমেদ সিদ্দিক।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান এবং বর্তমানে সেখানে অবস্থান করছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীতে ২৪২টি আয়রন ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ, ভোগান্তিতে লাখো মানুষ

পটুয়াখালীর আটটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নির্মিত আয়রন ব্রিজগুলোর ২৪২টি বর্তমানে চরমভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক ৯০ দশক থেকে ২০০০ সালের মধ্যে নির্মিত এসব ব্রিজ একসময় গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বর্তমানে এসব ব্রিজের অধিকাংশই ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এতে করে বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষদের যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বহু এলাকায় খেয়া-নৌকা কিংবা বিকল্প পথ ব্যবহার করেও ঝুঁকি এড়ানো যাচ্ছে না।

এসব ব্রিজের অধিকাংশ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন থাকায় জংধরা, পাটাতন নষ্ট হয়ে যাওয়া কিংবা জলযানের ধাক্কায় আংশিক ভেঙে পড়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে। জেলা এলজিইডির তথ্য অনুযায়ী, এই জরাজীর্ণ ব্রিজগুলোর মধ্যে বাউফলে ৬৩টি, মির্জাগঞ্জে ৫৬টি, সদর উপজেলায় ৪২টি, গলাচিপায় ৩৫টি এবং দশমিনা, রাঙ্গাবালী ও কলাপাড়ায় ১০টি করে রয়েছে। যদিও ৪টি ব্রিজ মেরামতের উপযোগী থাকলেও বাকিগুলোর ক্ষেত্রে নতুন করে নির্মাণ ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা যায়, দুমকি উপজেলার লেবুখালী সরকারি হাবিবুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে ভাড়ানী খালের ওপর থাকা আয়রন ব্রিজটি ২০২১ সালে বালুভর্তি ট্রলারের ধাক্কায় একাংশ ভেঙে পড়ে যায়। এরপর থেকে বাজারের লোকজন ও শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণভাবে নৌকায় পারাপার হতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসীরা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও আজও নির্মাণ শুরু হয়নি।

এছাড়া কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের লক্ষীবাজার সংলগ্ন খাপড়াভাঙ্গা নদীর ওপর আয়রন ব্রিজটি ২০০৮-০৯ অর্থবছরে নির্মাণ করা হলেও ২০২০ সালের ২ এপ্রিল ব্রিজটি প্রচণ্ড জোয়ারের চাপে মাঝ বরাবর ভেঙে পড়ে। বর্তমানে অন্তত ১৫ গ্রামের মানুষ বিকল্প পথে চরম দুর্ভোগ নিয়ে চলাচল করছে।

গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হোসেন জানান, তার এলাকায় অন্তত ৫টি আয়রন ব্রিজ দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভেঙে পড়ে রয়েছে। এলজিইডি ও উপজেলা উন্নয়ন কমিটিতে একাধিকবার আবেদন করলেও কোনো সমাধান মেলেনি বলে অভিযোগ তার।

এ বিষয়ে জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী হোসেন আলী মীর বলেন, “জেলার বিভিন্ন এলাকার ২৪২টি ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের তালিকা তৈরি করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলে প্রাক্কলন তৈরি করে বাজেটের আবেদন করা হবে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই মেরামত বা পুনঃনির্মাণ শুরু করা হবে।”

এদিকে প্রতিদিন এইসব ব্রিজ দিয়ে হাজার হাজার মানুষ, স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী ও রোগী চলাচল করে থাকায় দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



প্রাইম এশিয়ার শিক্ষার্থী হত্যা: বনানী থেকে গ্রেফতার ৩

রাজধানীর বনানীতে প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম পারভেজ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে বনানী থানা পুলিশ। তবে তারা কেউই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন—আল কামাল শেখ ওরফে কামাল, আলভী হোসেন জুনায়েদ ও আল-আমিন সানি। রোববার (২১ এপ্রিল) রাতে বনানী এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

বনানী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মেহেদী হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “গতকাল রাতে প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সির শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম পারভেজ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন, তবে ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার প্রমাণ সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া গেছে।”

তিনি আরও জানান, “বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

উল্লেখ্য, পারভেজ হত্যাকাণ্ডটি বনানী এলাকায় শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ইউনেস্কো মহাপরিচালক পদপ্রার্থী গাব্রিয়েলা রামোসের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

২০২৫-২৯ মেয়াদে ইউনেস্কোর মহাপরিচালক পদপ্রার্থী গাব্রিয়েলা রামোস পাতিনা গতকাল রোববার (১৪ এপ্রিল) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় বাংলাদেশে মেক্সিকোর অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত ফেডেরিকো সালাসও উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে গাব্রিয়েলা রামোস বাংলাদেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের অগ্রগতি নিয়ে প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে দৃঢ় মনোভাব, নীতির প্রতি অঙ্গীকার ও সমতার ভিত্তিতে অর্থবহ পরিবর্তন আনা যায়। ইউনেস্কো বাংলাদেশকে কেবল সদস্য রাষ্ট্র নয়, বরং এক প্রতিশ্রুতিশীল অংশীদার হিসেবেও বিবেচনা করে।”

তিনি অধ্যাপক ইউনূসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আপনার নেতৃত্ব বিশ্বে স্বচ্ছতা ও নৈতিক প্রশাসনের পক্ষপাতীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস। আপনি কেবল বাংলাদেশ নয়, বরং আন্তর্জাতিক পরিসরেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।”

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস গাব্রিয়েলার সফর ও ইউনেস্কো মহাপরিচালক পদের জন্য তাঁর প্রার্থিতাকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, “আমরা এখন একটি কঠিন, কিন্তু অত্যন্ত জরুরি পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছি। জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য আমরা দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

তিনি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বিনিয়োগ সম্মেলনের কথা উল্লেখ করে বলেন, “এটি কেবল একটি সম্মেলন ছিল না, এটি ছিল একটি বার্তা—বাংলাদেশ উন্মুক্ত, সংস্কারমুখী এবং দায়িত্বশীল প্রবৃদ্ধির পথে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

বৈঠকে উভয়পক্ষ বাংলাদেশ ও মেক্সিকোর কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিকে ঘিরে শিক্ষা, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মূখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



চীনা প্রেসিডেন্টকে আম পাঠাতে চান অধ্যাপক ইউনূস

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংকে নিজ হাতে একটি ঝুড়ি আম পাঠানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। রোববার (২০ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত এক বৈঠকে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের কাছে এই অভিপ্রায় প্রকাশ করেন তিনি।

চীন সফর পরবর্তী এই বৈঠকে উঠে আসে কৃষি-বাণিজ্যসহ দ্বিপাক্ষিক নানা অগ্রগতির চিত্র। জানা যায়, চলতি মৌসুমেই বাংলাদেশ থেকে চীনে আম রপ্তানি শুরু হবে। এর ধারাবাহিকতায় আগামী বছর কাঁঠাল রপ্তানিও যুক্ত হবে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমি নিজেই চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংকে এক ঝুড়ি তাজা আম উপহার দিতে চাই।”

বৈঠকে পাট রপ্তানির প্রসার এবং চীনা বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত খুলে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে লোকোমোটিভ খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চীনের প্রতি আহ্বান জানান অধ্যাপক ইউনূস। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও সৈয়দপুরে লোকোমোটিভ তৈরির কেন্দ্র ও রক্ষণাবেক্ষণ সুবিধা গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন তিনি। এর পাশাপাশি স্থানীয় জনবলের দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার ওপর জোর দেওয়া হয়।

চীন থেকে চারটি নতুন জাহাজ কেনার পরিকল্পনাও বৈঠকে আলোচিত হয়। চীনা পক্ষ আশ্বাস দিয়েছে যে, আগামী জুনের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন জানান, চীনা বাণিজ্যমন্ত্রী খুব শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন এবং নতুন বিনিয়োগ সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবেন। বিডার চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জানান, চীনা বিনিয়োগকারীদের নিয়ে একটি ছোট আকারের বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকে চীনের পূর্ব প্রতিশ্রুত ১ হাজার শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের বিষয়ে আবারও আশ্বাস দেওয়া হয়। পাশাপাশি চট্টগ্রামে একটি আধুনিক বার্ন ইউনিট গড়ার আগ্রহের কথাও জানায় চীন।

যোগাযোগ উন্নয়নের অংশ হিসেবে কুনমিং থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সরাসরি ফ্লাইট চালুর বিষয়ে অগ্রগতি হয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। বাংলাদেশি রোগীদের জন্য মেডিকেল ভিসা সহজীকরণেও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, প্রধান উপদেষ্টার উচ্চ প্রতিনিধি ড. খলিলুর রহমান, বিডার চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া এবং এসডিজি সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাংলাদেশ থেকে আরও নারী শান্তিরক্ষী নিয়োগে জাতিসংঘকে প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বাংলাদেশ থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আরও বেশি নারী শান্তিরক্ষী নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। আজ রোববার (১৪ এপ্রিল) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শান্তি কার্যক্রমবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যাঁ-পিয়ের লাক্রোয়ার সঙ্গে বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম সংক্রান্ত নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমি যা উৎসাহিত করি তা হলো শান্তিরক্ষা মিশনে আরও বাংলাদেশি নারীর অংশগ্রহণ।” তিনি আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জানান, প্রয়োজনে বাংলাদেশ অতিরিক্ত সেনা ও পুলিশ সদস্য প্রেরণেও প্রস্তুত রয়েছে।

বর্তমানে ৫,৬৭৭ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ১১টি সক্রিয় মিশনের মধ্যে ১০টিতে কাজ করছেন। শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বে শীর্ষ তিনের একটিতে রয়েছে।

জাতিসংঘ আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জ্যাঁ-পিয়ের লাক্রোয়া জানান, নারীদের শান্তিরক্ষায় সম্পৃক্ত করার বিষয়ে জাতিসংঘের একটি সুপরিকল্পিত নীতিমালা রয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা নারীদের নির্দিষ্ট কোনো ভূমিকায় সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না। বরং শান্তিরক্ষার প্রতিটি স্তরে তাদের সম্পৃক্ততায় আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় সদর দপ্তর ও মাঠপর্যায়ে বাংলাদেশি নেতৃত্ব আরও বাড়াতে আগ্রহী। জাতিসংঘ পক্ষও এ বিষয়ে বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে বলে আশ্বাস দেন জ্যাঁ-পিয়ের লাক্রোয়া।

প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, শান্তিরক্ষী নিয়োগে জাতিসংঘের যাচাই প্রক্রিয়া বাংলাদেশ কঠোরভাবে অনুসরণ করে এবং প্রশিক্ষণ, মানবাধিকার ও জবাবদিহিতার দিকগুলো আরও শক্তিশালী করতে জাতিসংঘসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা আরও বাড়ানো হবে।

এছাড়া তিনি মিয়ানমারে চলমান সহিংসতা, সীমান্তে গোলাগুলি, বেসামরিক হতাহত এবং নাফ নদী এলাকায় জীবিকা সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সতর্ক করেন, এ অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নতুন করে আন্তর্জাতিকভাবে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় তিনি স্মরণ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাম্প্রতিক কক্সবাজার সফরের কথা। ওই সফর রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে নতুন আশার সৃষ্টি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শান্তিরক্ষা মিশনে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো উচিত: প্রধান উপদেষ্টা




দুমকিতে বৃদ্ধাকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে নাতি আটক

পটুয়াখালীর দুমকিতে অমানবিক ও মর্মান্তিক এক ঘটনার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে গভীর রাতে নিজ ঘরে হামলার শিকার হন এক পরিবার। দুর্বৃত্তের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন অন্ধ ও অসহায় এক বৃদ্ধা। ৮০ বছর বয়সী ওই নারীকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মনির হোসেন (৪৮) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাতের ওই ঘটনায় আহত হন বৃদ্ধার ছেলে ওমর ফারুক ওরফে বাবুল খান। তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত মনির হোসেন নিহত বৃদ্ধার চাচাতো নাতি। সে তার নানা বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছিলেও তার স্থায়ী ঠিকানা লেবুখালী ইউনিয়নের বাদশাবাড়ি এলাকায়। তার বাবার নাম হোসেন মিরা।

স্থানীয়রা আরও জানান, ঘটনার রাতে অভিযুক্ত মনির প্রথমে বাবুল খানের স্ত্রী রশিদা বেগমের কাছে পানি চাইতে ঘরের দরজায় আসে। আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা গেলেও রশিদা দরজা খোলেননি। এরপর ঘরের পেছনের অংশ ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়ে মনির। প্রবেশ করেই সে টাকা দাবি করে, কিন্তু টাকা না পেয়ে বাবুল খানকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে ফেলে। এরপর ওই ঘরের ভেতর অবস্থান করা বৃদ্ধা পিয়ারা বেগমকে ধর্ষণ করে নির্মমভাবে হত্যা করে সে। ঘটনাস্থল থেকে বৃদ্ধার নগ্ন দেহ উদ্ধার করা হয়, যাতে ধর্ষণের আলামতসহ শরীরজুড়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

রশিদা বেগম বলেন, “ওদের সাথে আমাদের কোনো বিরোধ ছিল না। গতকালও সে ভালোভাবে কথা বলেছে। কিন্তু তার আচরণ একটু অস্বাভাবিকই মনে হয়েছিল। ঘর ভাঙার শব্দ পেয়ে আমি প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে পাশের ঘরে আশ্রয় নিই।”

নিহতের স্বজনেরা অভিযুক্ত মনিরের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং বলেন, তার ছোট ভাইও মাদকাসক্ত, পরিবারটি আগেও নানা অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত ছিল।

ঘটনার বিষয়ে দুমকি থানার পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ

পটুয়াখালী জেলায় ডায়রিয়ার প্রকোপ দিনদিন উদ্বেগজনক হারে বেড়েই চলেছে। সদর হাসপাতাল থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও রোগীর চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫ হাজার ১১২ জন।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ৭২ জন ডায়রিয়া রোগী। এর মধ্যে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২১ জন, গলাচিপায় ১৭ জন, বাউফলে ১৫ জন, মির্জাগঞ্জে ৮ জন, দশমিনায় ৭ জন, কলাপাড়ায় ৩ জন এবং দুমকিতে ৩ জন রোগী ভর্তি আছেন।

তবে হাসপাতালে ভর্তি ছাড়াও অনেকে ঘরে থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। এক সপ্তাহেই জেলায় চিকিৎসা নিয়েছেন ৪৫৩ জন, আর গত এক মাসে এই সংখ্যা ১ হাজার ৫৯৮ জনে গিয়ে ঠেকেছে।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ২১টি বেডে শুয়ে আছেন ৭১ জন রোগী। বেড সংকটের কারণে বারান্দা, চলাচলের পথ এমনকি টয়লেটের সামনেও রোগীদের রাখা হচ্ছে। কোথাও কোথাও এক বেডে দুই থেকে তিনজনকে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা জানান, “চিকিৎসক সংকট থাকা সত্ত্বেও আমরা ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে চিকিৎসা দিচ্ছি। বেশিরভাগ রোগীই দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন।”

তিনি আরও বলেন, “হাসপাতালের নিজস্ব মজুতে রয়েছে ২ হাজার ব্যাগ কলেরা স্যালাইন। সিভিল সার্জনের দপ্তর থেকেও সরবরাহ করা হয়েছে ৪০০ ব্যাগ।”

পটুয়াখালীর সিভিল সার্জন ডা. মো. খালেদুর রহমান মিয়া জানান, “আমাদের হাতে বর্তমানে ১ হাজার সিসির ৩ হাজার ১৩৮ ব্যাগ এবং ৫০০ সিসির ৩ হাজার ৪০৬ ব্যাগ স্যালাইন রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত পরিস্থিতির উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে।”

জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন বলেন, “প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে সক্রিয় রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে স্থানীয়ভাবে ওষুধ সংগ্রহ করে চিকিৎসা দেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, “জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সবাইকে নিরাপদ পানি পান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সামনে গরম আরও বাড়লে ডায়রিয়ার প্রকোপ আরও তীব্র হতে পারে। এখনই সচেতন না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

 

মো:আল-আমিন



বরিশালে ১৭ কাউন্সিলরের পদ শূন্যের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ, আদালতে মামলা

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১৭ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পদ শূন্য ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনকে অবৈধ দাবি করে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) বরিশাল সিটির ১ থেকে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত পুরুষ কাউন্সিলররা যৌথভাবে এ মামলা দায়ের করেন। তারা হলেন মো. দেলোয়ার হোসেন (ওয়ার্ড-১), মো. কামরুল ইসলাম (ওয়ার্ড-২), মো. মিজানুর রহমান (ওয়ার্ড-৩), মো. সেলিম হোসেন (ওয়ার্ড-৪), মো. শাহিনুর রহমান (ওয়ার্ড-৫), মো. রফিকুল ইসলাম (ওয়ার্ড-৬), মো. জহিরুল ইসলাম (ওয়ার্ড-৭), মো. হাসান আলী (ওয়ার্ড-৮), মো. মজিবর রহমান (ওয়ার্ড-৯), মো. নাজমুল হক (ওয়ার্ড-১০), মো. মেহেদী হাসান (ওয়ার্ড-১১), মো. সাইফুল ইসলাম (ওয়ার্ড-১২), মো. জিল্লুর রহমান (ওয়ার্ড-১৩), মো. আলাউদ্দিন (ওয়ার্ড-১৪), মো. সোহেল রানা (ওয়ার্ড-১৫), মো. রবিউল ইসলাম (ওয়ার্ড-১৬) এবং মো. শাহিনুর রহমান (ওয়ার্ড-১৭)।

তাদের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন অ্যাডভোকেট মো. মাহাবুবুল হক টুকু, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ সানু এবং অ্যাডভোকেট সুজন হালদার।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে কাউন্সিলরদের কার্যক্রম বন্ধ করে তাদের পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়। এতে কাউন্সিলরদের কোনো নোটিশ বা কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়ে পদচ্যুত করা হয় বলে মামলার আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

বাদীপক্ষ বলছে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পদ বাতিল করে জনগণের রায় ও সাংবিধানিক অধিকার উপেক্ষা করা হয়েছে। তারা আদালতের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন: প্রজ্ঞাপন বাতিল, কাউন্সিলরদের বহাল রাখা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া।

মামলার প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল হক টুকু বলেন, “এটি এক নজিরবিহীন ঘটনা। এটি সংবিধান এবং স্থানীয় সরকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।”

সিটি কর্পোরেশনের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, তারা বিষয়টি আইনি দিক থেকে পর্যালোচনা করছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

এই মামলার রায় বরিশাল সিটির প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একইসঙ্গে এটি দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনগুলোর জন্যও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম