বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ১৭ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের পদ শূন্য ঘোষণা করে স্থানীয় সরকার বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনকে অবৈধ দাবি করে বরিশাল জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ এপ্রিল) বরিশাল সিটির ১ থেকে ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের নির্বাচিত পুরুষ কাউন্সিলররা যৌথভাবে এ মামলা দায়ের করেন। তারা হলেন মো. দেলোয়ার হোসেন (ওয়ার্ড-১), মো. কামরুল ইসলাম (ওয়ার্ড-২), মো. মিজানুর রহমান (ওয়ার্ড-৩), মো. সেলিম হোসেন (ওয়ার্ড-৪), মো. শাহিনুর রহমান (ওয়ার্ড-৫), মো. রফিকুল ইসলাম (ওয়ার্ড-৬), মো. জহিরুল ইসলাম (ওয়ার্ড-৭), মো. হাসান আলী (ওয়ার্ড-৮), মো. মজিবর রহমান (ওয়ার্ড-৯), মো. নাজমুল হক (ওয়ার্ড-১০), মো. মেহেদী হাসান (ওয়ার্ড-১১), মো. সাইফুল ইসলাম (ওয়ার্ড-১২), মো. জিল্লুর রহমান (ওয়ার্ড-১৩), মো. আলাউদ্দিন (ওয়ার্ড-১৪), মো. সোহেল রানা (ওয়ার্ড-১৫), মো. রবিউল ইসলাম (ওয়ার্ড-১৬) এবং মো. শাহিনুর রহমান (ওয়ার্ড-১৭)।
তাদের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন অ্যাডভোকেট মো. মাহাবুবুল হক টুকু, অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ সানু এবং অ্যাডভোকেট সুজন হালদার।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. রফিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে কাউন্সিলরদের কার্যক্রম বন্ধ করে তাদের পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়। এতে কাউন্সিলরদের কোনো নোটিশ বা কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়ে পদচ্যুত করা হয় বলে মামলার আবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বাদীপক্ষ বলছে, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের পদ বাতিল করে জনগণের রায় ও সাংবিধানিক অধিকার উপেক্ষা করা হয়েছে। তারা আদালতের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন: প্রজ্ঞাপন বাতিল, কাউন্সিলরদের বহাল রাখা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া।
মামলার প্রধান আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহাবুবুল হক টুকু বলেন, “এটি এক নজিরবিহীন ঘটনা। এটি সংবিধান এবং স্থানীয় সরকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। আমরা আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।”
সিটি কর্পোরেশনের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র জানায়, তারা বিষয়টি আইনি দিক থেকে পর্যালোচনা করছে এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
এই মামলার রায় বরিশাল সিটির প্রশাসনিক কার্যক্রমে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। একইসঙ্গে এটি দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনগুলোর জন্যও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম