আগৈলঝাড়ায় র‍্যাবের সঙ্গে সংঘর্ষে যুবক নিহত, দুই মামলা

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় র‍্যাব-৮ এর মাদকবিরোধী অভিযানে সংঘর্ষের ঘটনায় সিয়াম মোল্লা (১৮) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন তিনজন, যার মধ্যে দুজন র‍্যাব সদস্য এবং একজন মাদক সংশ্লিষ্ট সন্দেহভাজন রয়েছে।

সোমবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার দক্ষিণ মোল্লাপাড়া গ্রামের জোড়া ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত সিয়াম মোল্লা উজিরপুর উপজেলার বাহেরঘাট গ্রামের বাসিন্দা এবং কারফা আইডিয়াল কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন।

আহত রাকিব মোল্লা চলতি এসএসসি পরীক্ষার্থী। র‍্যাব দাবি করেছে, সিয়াম ও রাকিব মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিল।

ঘটনার পর র‍্যাব-৮ এর ডিএডি শেখ রিয়াজুল ইসলাম মঙ্গলবার বিকেলে আগৈলঝাড়া থানায় দুটি মামলা দায়ের করেন—একটি সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে এবং অন্যটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে। মামলায় নাম উল্লেখ করে ২ জন ও অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

র‍্যাব-৮ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাদের একটি সাদা পোশাকের টিম মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে সিয়াম ও রাকিবের নেতৃত্বে একটি দল র‍্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায়। এতে আহত হন র‍্যাব সদস্য ওপেল মাহামুদ রাজিব ও আরিফুল ইসলাম সাকিব। আত্মরক্ষার্থে র‍্যাব পাল্টা গুলি চালালে সিয়াম ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং রাকিব গুরুতর আহত হন।

ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় এবং নিহতদের বাড়িতে পুরুষ সদস্যদের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। নারী সদস্যদের মুখেও আতঙ্কের ছাপ ছিল।

নিহত সিয়ামের চাচাতো বোন মীম আক্তার জানান, “সিয়াম ঘটনার দিন বিকেল পর্যন্ত বাসাতেই ছিল।”

রাকিবের সহপাঠী আলী হোসেন বলেন, “আমরা একসঙ্গে পরীক্ষা দিয়েছি। সন্ধ্যায় শুনি রাকিব গুলিবিদ্ধ হয়েছে।”

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. অলিউল ইসলাম জানান,
“র‍্যাবের দায়ের করা মামলার আসামিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মেহেন্দীগঞ্জে নদীতে যৌথ অভিযান: ১৬ মন জাটকা জব্দ, ৯৭ হাজার মিটার জাল ধ্বংস

বরিশালের হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলায় মৎস্য সম্পদ রক্ষায় পরিচালিত এক যৌথ অভিযানে জব্দ করা হয়েছে প্রায় ১৬ মন জাটকা মাছ ও একটি মাছ ধরার ট্রলার। পাশাপাশি অভিযানকালে নদী থেকে জব্দ করা হয় প্রায় ৯৭ হাজার মিটার কারেন্ট জাল, যা পরে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

রবিবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়ে সোমবার (২২ এপ্রিল) সকাল ১১টা পর্যন্ত টানা এ অভিযান পরিচালনা করে মৎস্য অধিদপ্তর হিজলা ও মেহেন্দীগঞ্জ, কোস্ট গার্ড হিজলা এবং নৌ পুলিশ হিজলার সমন্বিত টিম।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন হিজলা উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম, কোস্ট গার্ড হিজলার কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. হুসনুর জামান সালামী এবং নৌ পুলিশ হিজলার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান।

মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলম জানান,”অভিযান চলাকালে অবৈধভাবে মাছ ধরার দায়ে একটি ট্রলার আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত জাটকা মাছ স্থানীয় পাঁচটি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন,”জাটকা রক্ষায় সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে নিয়মিতভাবে এমন অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আমরা মৎস্য সম্পদ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে রয়েছি।”

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দেশে ফেরাতে প্রক্রিয়ায় শেখ হাসিনা ও টিউলিপ : দুদক

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিককে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুদকের কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কমিশনার জানান, দুদক ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত আনার কার্যক্রম শুরু করেছে। বিশেষ করে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলএআর) এর মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে, যা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিদেশি দূতাবাস ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে পাঠানো হবে।

গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র ও জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা, গুম, দুর্নীতি, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের হয়।

বিশেষ করে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর প্লট বরাদ্দে জালিয়াতি করে ১০ কাঠা করে ৬০ কাঠা প্লট নেওয়ার ঘটনায় শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যসহ মোট ২৩ জনের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা করেছে দুদক।

কমিশনার হাফিজ আহসান ফরিদ আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে মামলা থাকায় তাকেও দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাকে বিদেশি নাগরিক হিসেবে নয়, বরং বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মামলার সকল নথিপত্র তার বাংলাদেশি ঠিকানাতেই পাঠানো হয়েছে।

তবে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কমিশনার বলেন, “রেড অ্যালার্ট বিষয়টি কমিশনে এখনো আলোচনা হয়নি। হয়তো আগামী সপ্তাহের কমিশন সভায় আলোচিত হবে।”

দুদকের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক দুর্নীতি দমন সংস্থার সঙ্গেও যোগাযোগ শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে যদি এসব সংস্থার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়, তবে সেখান থেকেও সহযোগিতা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, ক্ষমতা হারানোর পর যারা দেশ ত্যাগ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা থেকে এ ধরনের পদক্ষেপ এক সময়ের অনিবার্য পরিণতি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




দোহার আর্থনা সম্মেলনে ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসার শক্তির কথা শোনালেন অধ্যাপক ইউনূস

ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসার মাধ্যমে কীভাবে দরিদ্র মানুষের জীবন বদলে যেতে পারে, সেই অনুপ্রেরণামূলক গল্প তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত ‘আর্থনা শীর্ষ সম্মেলন-২০২৫’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি এই বক্তব্য দেন।

সম্মেলনে তিনি বলেন, “শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী করে তুলতে ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক ব্যবসা একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে কাজ করছে। এটি বৈষম্য কমিয়ে পৃথিবীকে আরও টেকসই করে তুলতে পারে।”

অধ্যাপক ইউনূস আরও উল্লেখ করেন, যুব সমাজ, উদ্যোক্তা এবং সামাজিক সংগঠনগুলোকে এই ক্ষেত্রগুলোতে বেশি করে সম্পৃক্ত করলে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।

এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি বাসসকে বলেন, “অধ্যাপক ইউনূস তাঁর বক্তব্যে শুধু তাত্ত্বিক কথা বলেননি, বরং বাস্তব জীবনের উদাহরণ তুলে ধরেছেন, কীভাবে ক্ষুদ্রঋণ ও সামাজিক উদ্যোগ মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।”

এদিকে, একই সফরে এলএনজি আমদানি ব্যয় পরিশোধ নিয়ে সরকারের অগ্রগতির বিষয়েও প্রেস সচিব জানান। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার সরকারের আমলে কাতার থেকে আমদানিকৃত এলএনজির বিপরীতে শত শত মিলিয়ন ডলার দেনা পড়ে থাকলেও, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই দেনা পরিশোধে সক্রিয় হয়েছে। এখনো ৩৭ মিলিয়ন ডলার বাকি রয়েছে, যা আগামী ২-১ দিনের মধ্যে পরিশোধ করা হবে।”

প্রসঙ্গত, ২২ ও ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন। এতে যোগ দিতে অধ্যাপক ইউনূস চার দিনের সফরে বর্তমানে কাতারে অবস্থান করছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কাতারে শেখ মোজার সঙ্গে অধ্যাপক ইউনূসের বৈঠক

কাতার সফরে গিয়ে কাতারের আমিরের মা ও কাতার ফাউন্ডেশনের চেয়ারপার্সন শেখ মোজা বিনতে নাসেরের সঙ্গে এক বিশেষ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

মঙ্গলবার দোহায় আয়োজিত ‘আর্থনা শীর্ষ সম্মেলন-২০২৫’–এর ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তারা দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম, নারী শিক্ষা ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন বলে জানা গেছে।

একই দিন অধ্যাপক ইউনূস কাতার ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের চেয়ারপার্সন শেখ থানি বিন হামাদ বিন খলিফা আল-থানির সঙ্গে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেন। এতে তিনি দারিদ্র্য বিমোচন, টেকসই উন্নয়ন এবং সামাজিক ব্যবসা উদ্যোগে কাতারের অংশগ্রহণ বিষয়ে মতবিনিময় করেন।

এছাড়াও তিনি কাতার চ্যারিটির আন্তর্জাতিক অপারেশনস সেক্টরের সহকারী প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নওয়াফ আবদুল্লাহ আল হাম্মাদির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে কাতার চ্যারিটির আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রসঙ্গত, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চার দিনের সফরে কাতারে অবস্থান করছেন ‘আর্থনা শীর্ষ সম্মেলন ২০২৫’-এ অংশ নিতে। সোমবার (ঢাকা সময়) সন্ধ্যা ৭টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে রওনা দিয়ে স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৪০ মিনিটে হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। এ সময় কাতারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. নজরুল ইসলাম তাঁকে অভ্যর্থনা জানান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সংবিধান সংশোধন ছাড়াও সংস্কার সম্ভব: ড. আসিফ নজরুল

রাজনৈতিক ঐকমত্য থাকলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়েও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সম্ভব বলে মত দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। এক জাতীয় দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি জানান, আশু বাস্তবায়নযোগ্য সংস্কারের বেশিরভাগ কাজ আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে করা হবে। ইতোমধ্যে সংস্কারগুলোর তালিকা প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি উদ্যোগের সময়সীমা, আর্থিক সংশ্লিষ্টতা ও অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সম্পৃক্ততা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিছু সংস্কার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরুও হয়েছে।

ড. নজরুল বলেন, এক থেকে দুই মাসের মধ্যে সাধারণ মানুষ বিস্তর আইনি সংস্কার দেখতে পাবে। তবে যেসব সংস্কার সংবিধানের সঙ্গে সম্পর্কিত, সেগুলো চ্যালেঞ্জিং হবে এবং সেখানে রাজনৈতিক ঐকমত্য জরুরি। সংসদের কাঠামোগত পরিবর্তন, ৭০ অনুচ্ছেদের সংশোধন কিংবা প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা সীমিত করা—এসব বিষয়ের সংস্কারে দলীয় ঐক্যমত্য ছাড়া এগোনো সম্ভব নয় এবং বর্তমান সরকার এককভাবে তা করবে না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, বাম দলসহ সকল রাজনৈতিক দল যদি ‘জুলাই চার্টারে’ স্বাক্ষর করে, তবে তা বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হবে। ঐকমত্যের ভিত্তিতে এমনকি সংবিধান সংশোধন ছাড়াও কার্যকর সংস্কার সম্ভব।

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস যে সময়সূচি দিয়েছেন, তাতে কোনো ব্যত্যয় হবে না। নির্বাচন ডিসেম্বর ২০২৫ এর আগে এবং জুন ২০২৬ এর পরে হবে না।

শিক্ষার্থী প্রতিনিধিদের অন্তর্বর্তী সরকারে থাকা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করে কিনা—এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ছাত্রদের গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক ভূমিকা আছে, কিন্তু তারা কখনও নিজেদের সরকার গঠনের দাবিতে আসেনি। তিনি আশ্বস্ত করেন, তারা নির্বাচন করলে সরকার থেকে সরে দাঁড়াবে।

মব জাস্টিস পরিস্থিতি নিয়ে আইন উপদেষ্টা বলেন, শুরুতে কিছুটা শৈথিল্য থাকলেও বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে। বিপ্লব-পরবর্তী সময়ের পরিবর্তন একদিনে হয় না, তবে সরকার ভবিষ্যতে কঠোর অবস্থানে থাকবে।

এনসিপি নেতাদের কিছু আচরণ নিয়ে আলোচনা থাকলেও তিনি বাস্তববাদিতার ওপর গুরুত্ব দেন। নতুন দলের প্রতি তিনি স্বচ্ছ আর্থিক নীতিমালা গঠনের পরামর্শ দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন, এর খসড়া ইতোমধ্যেই তৈরি হয়েছে।

বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নির্বাচন অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে ড. আসিফ নজরুল বলেন, তাদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট কারও অজানা নয়। তিনি মনে করেন, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে তারা নির্বাচনমুখী হতে পারেন।

আওয়ামী লীগকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধের প্রসঙ্গে আইন উপদেষ্টা জানান, এ বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বিষয়টি বিচারিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই ঠিক হবে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ না করলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের কী প্রভাব পড়বে—জানতে চাইলে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় অনুসারে দোষী প্রমাণিত হলে এবং তবু যদি ভারত তাকে ফেরত না পাঠায়, তাহলে তা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়াবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



আগৈলঝাড়ায় র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধ’: নিহত ১, আহত ৪

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার সাহেবের হাট সংলগ্ন ওরাভাশবাড়ী বাজার এলাকায় র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব-৮) সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধসহ মোট চারজন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুইজন র‍্যাব সদস্য রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম।

নিহত যুবকের মো. সিয়াম মোল্লা (২২)। তিনি বরিশালের উজিরপুর উপজেলার বাহেরঘাট গ্রামের বাসিন্দা এবং রিপন মোল্লার ছেলে। আহত গুলিবিদ্ধ ব্যক্তি হলেন রাকিব মোল্লা (২৭), একই এলাকার খালেক মোল্লার ছেলে। তারা দুজনেই পুলিশ সূত্রে ‘চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী’ হিসেবে পরিচিত।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, র‍্যাব-৮ এর একটি সিভিল টিম গোপনে মাদকবিরোধী অভিযানে গেলে মাদক ব্যবসায়ীরা র‍্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ শুরু করে। আত্মরক্ষার্থে র‍্যাব সদস্যরাও পাল্টা গুলি ছোড়ে। গোলাগুলির এক পর্যায়ে সিয়াম ও রাকিব গুলিবিদ্ধ হন। এছাড়া সংঘর্ষে দুই র‍্যাব সদস্যও আহত হয়েছেন। আহতদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় মোহনকাঠী গ্রামের মোটরসাইকেল চালক হাসান মৃধা জানান, একটি ইজিবাইক থেকে কয়েকজন অপরিচিত ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ সিয়ামকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য তার মোটরসাইকেল ব্যবহার করে। পরে গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালে পৌঁছালে চিকিৎসক সিয়ামকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসক জাকিয়া রহমান জানান, তার বুকে গুলির চিহ্ন ছিল এবং হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর র‍্যাব, পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা এলাকা ঘিরে ফেলে। এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

বরিশাল আগৈলঝাড়া থানার ওসি মো. অলিউল ইসলাম বলেন, মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে গিয়ে র‍্যাব সদস্যরা হামলার শিকার হন। গুলিবিনিময়ের সময় একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হন। ঘটনার তদন্ত চলছে।

বরিশাল গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. ইউনুস মিয়া জানান, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

অন্যদিকে, র‍্যাব-৮ এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। তবে একটি নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ সিয়াম ও রাকিব নিজের দলের গুলিতেই আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।




ম্যাজিক চায়ের মোহে মাতোয়ারা দুমকির পায়রা পয়েন্ট

পটুয়াখালীর লেবুখালী পায়রা সেতুর পাশে গড়ে উঠেছে এক ব্যতিক্রমধর্মী পর্যটন কেন্দ্র—‘পায়রা পয়েন্ট মার্কেট’। এখানে শুধু নদী কিংবা সেতুর নয়, এক কাপ চায়ের স্বাদ নিতে ভিড় করছেন দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা। প্রকৃতির নয়নাভিরাম সৌন্দর্য আর বিশেষভাবে তৈরি এক কাপ ‘ম্যাজিক চা’ পর্যটকদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছে এক ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা।

দিন হোক কিংবা রাত, ‘ম্যাজিক চা’ উপভোগ করতে এখানে দর্শনার্থীদের ঢল লেগেই থাকে। নানা মশলার সমন্বয়ে তৈরি চা, যার স্বাদে থাকে ঘন দুধের মালাই, সুগন্ধি মশলা আর মনকাড়া পরিবেশনা—সব মিলিয়ে এটি যেন এক কাপ চায়ে এক নতুন জীবন।

চায়ের দোকানের উদ্যোক্তা কাজী দুলাল জানান, “আমরা শুধু চা বিক্রি করছি না, মানুষের ভালো লাগাকেও বিক্রি করছি। আমাদের চা খেয়ে যারা প্রশান্তি খুঁজে পান, তাদের মুখের হাসিই আমাদের প্রেরণা।” ঢাকা, খুলনা, বরিশালসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এসে এই চায়ের স্বাদ নিচ্ছেন। চা এখন আর শুধুই পানীয় নয়, এটি একটি ব্র্যান্ডে রূপ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিন ধরনের চা পাওয়া যায় এখানে—স্পেশাল মালাই চা (৫০ টাকা), রেগুলার চা (২০ টাকা) এবং মিনি চা (২০ টাকা)। সঙ্গে পাওয়া যাচ্ছে জনপ্রিয় দুই ধরনের পান—‘পাহাড়ি পান’ (৩০ টাকা) ও ‘আগুন পান’ (১০০ টাকা)। বিশেষ মশলায় তৈরি ‘আগুন পান’ মুখে দিলেই জিভে ছড়িয়ে পড়ে রোমাঞ্চকর ঝাঁজ, যার অভিজ্ঞতা পর্যটকরা ভুলতে পারেন না।

ঢাকা থেকে আসা শিক্ষার্থী তানজিলা হোসেন বলেন, “এই চা খেয়ে আমি সত্যিই মুগ্ধ। স্বাদ, পরিবেশনা, দোকানের সৌন্দর্য—সব কিছুতেই ছিল এক ভিন্নতা। মনে হলো, এটা শুধু চা নয়, এক রকম অভিজ্ঞতা।”

পায়রা পয়েন্ট মার্কেট এখন কেবল চায়ের গন্তব্য নয়, বরং এটি হয়ে উঠেছে দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র। নদী আর সেতুর সংযোগস্থলে বসে এক কাপ চায়ের চুমুকে মিলছে প্রশান্তি, যা পর্যটকদের ক্লান্তি মুহূর্তেই মুছে দেয়।

এ চায়ের স্পটটি শুধু পর্যটকদের হৃদয় জয় করেনি, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও এনেছে চাঙা ভাব। তৈরি হয়েছে কর্মসংস্থান, বেড়েছে স্থানীয়দের আয়, ঘুরে দাঁড়িয়েছে এলাকা। স্থানীয় বাসিন্দা শামীম আহমেদ বলেন, “এমন উদ্যোক্তারা পর্যটনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। পায়রা পয়েন্ট এখন শুধু জায়গা নয়, একটি অনুভবের নাম।”

চা কেন্দ্রিক এই পর্যটন স্পটে ধীরে ধীরে যুক্ত হচ্ছে আরও নানা আয়োজন। থাকছে স্থানীয় হস্তশিল্পের প্রদর্শনী, কুয়াকাটার ফটোগ্যালারি, শিশুদের জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা, এমনকি লাইভ মিউজিকও। উদ্যোক্তারা বলছেন, পর্যটকদের সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতাকে সমৃদ্ধ করতে তারা কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত।

পায়রা পয়েন্টের ‘ম্যাজিক চা’ যেন জীবন্ত প্রমাণ, এক কাপ চাও মানুষের মনে সৃষ্টি করতে পারে গভীর আনন্দ ও স্মৃতিময় মুহূর্ত। তাই যারা পায়রা সেতু দেখতে যাচ্ছেন, তারা যেন কখনো ভুলেও ‘ম্যাজিক চা’-এর স্বাদ না মিস করেন। কারণ এই এক কাপ চা হয়তো হতে পারে আপনার ভ্রমণের সবচেয়ে সুন্দর অংশ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীর বল্লভপুরে মরুভূমির স্বাদ—সাম্মাম চাষে সাফল্য কামরুজ্জামান জুয়েলের

সোনালি রোদে ঝলমল করছে মাঠজুড়ে এক বিদেশি ফল। প্রথম দেখায় মনে হতে পারে, যেন কোনো মরুভূমির চিত্র। কিন্তু এটি বাস্তবে বাংলাদেশের পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রাম। আর এ দৃশ্যের নেপথ্য নায়ক কামরুজ্জামান জুয়েল—এক ব্যতিক্রমী কৃষি উদ্যোক্তা।

জুয়েল পেশায় একজন ব্যাংকার, বর্তমানে রূপালী ব্যাংকের জেলা শাখায় সহকারী মহাব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত। তবে হৃদয়ের টানে কৃষিকেই বেছে নিয়েছেন স্বপ্নপূরণের মাধ্যম হিসেবে। দীর্ঘ সাত বছর ধরে চাষাবাদ করে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘হাওলাদার এগ্রো’। এই খামারে তিনি সফলভাবে চাষ করছেন সৌদি আরবের জনপ্রিয় তিন ধরনের সাম্মাম ফল—মাস্ক মেলন, রক মেলন ও হানি ডিউ মেলন।

৪৬ শতক জমির পাঁচটি প্লটে প্রায় দুই লাখ টাকা বিনিয়োগ করে শুরু করেন এই চাষ। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, যেমন সেক্স ফেরামোন ও হলুদ আঠালো ফাঁদ, মালচিং পেপারসহ বিভিন্ন পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে গড়ে তোলেন ফলন। বর্তমানে তার খামার থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হচ্ছে সাম্মাম, যা পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তার খামারে ছুটে যাচ্ছেন নানা জেলার মানুষ। কেউ দেখছেন, কেউ কিনছেন—সবাই মুগ্ধ ফলের স্বাদ ও ঘ্রাণে। খামার পরিদর্শনে আসা ভবানী শংকর সিংহ বলেন, “এমন স্বাদ ও রঙের ফল দেশের মাটিতে হবে, ভাবতেই অবাক লাগে।” এক খুচরা ক্রেতা মোজাম্মেল হোসেন বলেন, “ফলটি চমৎকার! শুধু নিজেই আসিনি, বন্ধুদেরও নিয়ে এসেছি। দামও তুলনামূলক কম।”

নিজ অভিজ্ঞতা নিয়ে জুয়েল বলেন, “প্রথম দিকে অনেক প্রতিকূলতা এসেছিল, ক্ষতির মুখেও পড়েছিলাম। কিন্তু ধৈর্য, পরিশ্রম ও পরিকল্পনায় আমি আজ এই জায়গায়। আমাদের দেশে বিদেশি ফল চাষ সম্ভব নয়—এই ভুল ধারণা আমি ভাঙতে চেয়েছি। আগ্রহীদের আমি সবধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত।”

উল্লেখ্য, হাওলাদার এগ্রো খামারে সাম্মাম ছাড়াও গরু, ছাগল, মাছ, আম ও ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে। এতে কর্মসংস্থান হয়েছে ৪-৫ জনের।

পটুয়াখালী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “জুয়েল সাহেব আধুনিক কৃষির একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। সাম্মাম চাষ আমাদের জন্য নতুন হলেও তার সফলতা প্রমাণ করে দেয়, ইচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে অনেক কিছুই সম্ভব। আমরা তার পাশে আছি।”

কামরুজ্জামান জুয়েলের এই সাফল্য শুধু বল্লভপুর নয়, পুরো পটুয়াখালীকে গর্বিত করেছে। তরুণদের জন্য এটি হতে পারে এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা।

মো. আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



চীনের সঙ্গে নতুন অধ্যায় শুরু, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশ-চীন

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস চীনের সঙ্গে পারস্পরিক আস্থা ও বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায় সূচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি চীনের ইউনান প্রদেশের গভর্নর ওয়াং ইউবোর সঙ্গে এক বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তির প্রেক্ষাপটে এই সম্পর্কের ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবে আলোচনা করেছেন।

সোমবার (২১ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে তিনি বলেন, “এটা সবে শুরু। আমরা এত কাছাকাছি আছি, তবু এত দূরে। আসুন, আমরা এটি পরিবর্তন করি। আমরা আশা করি, আপনি শিগগিরই আবার আমাদের সঙ্গে দেখা করবেন। আমরা ভালো প্রতিবেশী হতে চাই, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, খুব ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হতে চাই।”

প্রধান উপদেষ্টা তার সাম্প্রতিক চীন সফরের কথা স্মরণ করে বলেন, ‘এই সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক টার্নিং পয়েন্ট।’ তিনি চীনের উষ্ণ আতিথেয়তার প্রশংসা করেন এবং দুদেশের সম্পর্ক জোরদার করার জন্য রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গভর্নর ইউবো বলেন, ‘আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যেই এই সফর। ইউনান দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের উন্মুক্ত কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুত।’

বৈঠকে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যুব বিনিময় এবং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা প্রসারের বিষয়ে আলোচনা করা হয়। গভর্নর ইউবো জানান, প্রফেসর ইউনূসের প্রবর্তিত ক্ষুদ্রঋণ ব্যবস্থা ইতোমধ্যে ইউনানের একটি চীনা ব্যাংক গ্রহণ করেছে, যা অনেক চীনা নাগরিকের জন্য উপকারি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং ডিজিটাল ও ভাষা শিক্ষায় সহযোগিতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি সামুদ্রিক খাদ্য, আম ও কৃষি পণ্যের মতো খাতে বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন।’

প্রধান উপদেষ্টা তার বক্তব্যে বলেন, ‘স্বাস্থ্য ও শিক্ষা থেকে শুরু করে বাণিজ্য ও প্রশিক্ষণ – আপনি যা বলেছেন তার সবকিছুতেই আমরা একমত। আমরা এই বিষয়গুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করতে চাই।’

বৈঠকে চিকিৎসা পর্যটন প্রসারিত করার জন্য কুনমিংয়ে হাসপাতালের সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করা হয়, যা বাংলাদেশের রোগীদের জন্য একটি নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।

প্রধান উপদেষ্টা জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা আমাদের তরুণদের চীনে পড়াশোনা করতে এবং ভাষা শিখতে উৎসাহিত করবো।’

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিতে বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার আগ্রহ পুনর্ব্যক্ত করে, উন্নত ভবিষ্যতের জন্য দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম