কোল্ডস্টোরেজ নেই, আলু পচে যাচ্ছে,পাথরঘাটায় মাথায় হাত কৃষকদের

বরগুনার পাথরঘাটায় আলু চাষ করে এখন মাথায় হাত কৃষকদের। উৎপাদন ভালো হলেও জেলায় কোল্ডস্টোরেজ না থাকায় সংরক্ষণের সুযোগ নেই। উপরন্তু পাইকাররা যে দাম দিচ্ছেন, তাতে খরচই উঠছে না।ফলে হতাশায় ডুবে আছেন চাষিরা। অনেকেই বাড়ির উঠান, পুকুরপাড় এমনকি ঘরের ভেতরেও আলু জমিয়ে রেখেছেন, কিন্তু তাতে লাভ হচ্ছে না, বরং দ্রুত পচে নষ্ট হচ্ছে ফসল।

চাষিরা বলছেন, এবার আলু চাষে খরচ পড়েছে অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি। বীজ, সার, কীটনাশক—সবকিছুর দাম বেড়েছে। কিন্তু এখন সেই ফসল বাজারে তুলেও বিক্রি করতে পারছেন না। স্থানীয় কৃষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “এমন দাম পাইতেছি, যাতে বেচলে খরচও উঠতেছে না। চোখের সামনে আলু পচতেছে, কিছুই করার নাই।”

কৃষি বিভাগ জানে, কিন্তু সমাধান নেই:
বরগুনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন বলেন, “কোল্ডস্টোরেজ স্থাপনের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, তবে এখনো বাস্তব কোনো অগ্রগতি হয়নি।” অন্যদিকে কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. শাহজাহান আলী বলেন, “সংরক্ষণের স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা না থাকায় কৃষকদের নিজ উদ্যোগেই ফসল রাখার চেষ্টা করতে হচ্ছে।”

উল্লেখ্য, চলতি বছরে বরগুনায় ৯৪২ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। মোট উৎপাদন হয়েছে ২৩ হাজার ৫২৫ মেট্রিক টন। এর একটি বড় অংশই এখন বাজার সংকট এবং সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হওয়ার পথে।


“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




ভোলায় অস্ত্র ও জাল নোটসহ দুই ইউপি সদস্যসহ গ্রেফতার ৩

 


ভোলা জেলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর চরে গোপন অভিযানে অস্ত্র ও জাল নোটসহ তিনজনকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। আটককৃতদের মধ্যে দুজন ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত সদস্য বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) সকালে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আটককৃতরা হলেন:

  • আলাউদ্দিন (৪৫), মদনপুর ইউপি’র ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য
  • লোকমান (৪২), একই ইউপি’র ৪ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য
  • জহির উদ্দিন বাবর (৪৮), একই এলাকার বাসিন্দা

তাদের বিরুদ্ধে ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য হওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

অভিযান ও জব্দকৃত আলামত:
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে কোস্ট গার্ডের একটি বিশেষ দল মদনপুর চরের একটি নির্দিষ্ট এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় আটককৃতদের কাছ থেকে তিনটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, তিনটি দেশীয় ধারালো অস্ত্র, চারটি কার্তুজ এবং ৯টি এক হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে আটক তিনজনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে। জনপ্রতিনিধিদের এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।


মো: তুহিন হোসেন
“স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




পায়রা বন্দর নিয়ে ষড়যন্ত্র, উন্নয়ন বৈষম্যে বঞ্চিত বরিশালবাসী

 

জাতীয় একনেকে অনুমোদিত ১৬টি উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে বরিশালের জন্য কোনো প্রকল্প না থাকায় এ অঞ্চলের মানুষদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় পায়রা সমুদ্র বন্দর নিয়ে সরকারের এক উপদেষ্টার বিতর্কিত মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।

গত ২০ এপ্রিল একনেক বৈঠকে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ পায়রা বন্দরকে “খাল বন্দর” বলে মন্তব্য করেন। অন্যদিকে চট্টগ্রামের উন্নয়নে একনেকে ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ থাকলেও, বরিশাল বিভাগ পুরোপুরি উপেক্ষিত হয়েছে। এতে বরিশালবাসীর মনে সরকারের প্রতি অসন্তোষ আরও বাড়ছে।

পায়রা বন্দরের জন্য জমি হারানো ব্যবসায়ী রেহান উদ্দিন বলেন, “আমরা আমাদের ভিটেমাটি হারিয়েছি। এখন যদি বন্দর নিয়ে ষড়যন্ত্র চলে, তাহলে আমাদের সর্বনাশ হয়ে যাবে।”

কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার বলেন, “যদি এই বন্দর খাল হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে কিভাবে মাদার ভেসেল সরাসরি ভিড়ে? উপদেষ্টার উচিত এখানে এসে বাস্তবতা দেখা।” তিনি ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রতিবাদের ঘোষণা দেন।

উন্নয়ন চাহিদা:
বরিশালবাসী চায়—

  • ভাঙা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করা,
  • পায়রা বন্দরকে আরও আধুনিক ও গতিশীল করা,
  • ভোলার গ্যাস পাইপলাইন বরিশালে সরবরাহ নিশ্চিত করা,
  • বরিশাল বিমানবন্দর আধুনিকীকরণ,
  • এবং চীনের প্রস্তাবিত তিন হাসপাতালের একটি বরিশালে স্থাপন।

বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক জি এম আতায়ের রাব্বি বলেন, “উন্নয়নের বৈষম্য নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন ধরে ভুগছি। বরিশালের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এখনই সরকারের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।”

পায়রা বন্দরের অগ্রগতি:
২০১৩ সালে যাত্রা শুরু করা পায়রা সমুদ্র বন্দরে ২০১৬ সালে প্রথম বিদেশি জাহাজ পণ্য খালাস করে। ইতোমধ্যে ৫০০টির বেশি মাদার ভেসেল এখানে পণ্য পরিবহন করেছে। প্রথম টার্মিনালের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে, এবং ৬ লেন সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত এগোচ্ছে। প্রায় ১,০০০ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আয় হয়েছে বলেও জানা গেছে।

পায়রা বন্দরের এক কর্মকর্তা জানান, “শুরু থেকেই এই বন্দর নিয়ে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। তবে বরিশালের জনগণ তা সফল হতে দেবে না।”


“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




ববি শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি, দুই দিনের আল্টিমেটাম

চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেয় ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ’ নামক শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন।

সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্বৈরাচারী আচরণ, পক্ষপাতদুষ্ট সিদ্ধান্ত এবং শিক্ষার্থীদের অধিকার খর্ব করার প্রতিবাদেই এ কর্মসূচি। তারা প্রশাসনকে আগামী দুই দিনের মধ্যে দাবি পূরণের আহ্বান জানায়, অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেয়।

চলমান দাবিসমূহ:
১. ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহসিন উদ্দিনের বিরুদ্ধে আনীত মিথ্যা অভিযোগ প্রত্যাহার এবং তাকে সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলে পুনর্বহাল করা।
২. আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট পদধারী রেজিস্ট্রার মনিরুল ইসলামকে অপসারণ।
৩. ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের সমর্থক শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের অপসারণ।
৪. প্রশাসনিকভাবে স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের জন্য উপাচার্যের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা।

ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চের মুখপাত্র রাকিন খান বলেন, “আমরা এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় চেয়েছিলাম যেখানে থাকবে গণতান্ত্রিক পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা। কিন্তু বাস্তবতা ঠিক উল্টো। আজ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠেছে স্বৈরাচারের অভয়ারণ্য।”

তিনি আরও বলেন, “দাবিগুলো যৌক্তিক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রশাসন ব্যবস্থা না নিলে এমন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে যা গোটা প্রশাসনকে নড়বড়ে করে দেবে।”

সংবাদ সম্মেলনে ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের ব্যর্থতার উপাখ্যান ও শিক্ষার্থীদের হাহাকার’ শীর্ষক একটি অভিযোগপত্র প্রকাশ করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যর্থতা, শিক্ষার্থীদের হয়রানি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগসহ ২০ দফা তুলে ধরা হয়।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে মেয়র মামলার রায় পেছালো,থমথমে নগরী

বরিশাল সিটি করপোরেশনের (বিসিসি) ২০২৩ সালের নির্বাচন নিয়ে দায়ের করা মামলার রায় আজ (২৪ এপ্রিল) ঘোষণার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে ৫ মে পুনরায় শুনানির দিন ধার্য করেছে আদালত। ফলে সকালে থেকেই বরিশাল নগরীতে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।

মামলাটি করেছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সমর্থিত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করিম। তিনি নির্বাচন বাতিল করে নিজেকে মেয়র ঘোষণার দাবি জানান।

আজকের শুনানিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই সদর রোড ও ফজলুল হক এভিনিউ এলাকায় অবস্থান নেন শতাধিক ইসলামি আন্দোলনের কর্মী-সমর্থক। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত তারা আদালতের মূল ফটকে বিক্ষোভ করেন। এ সময় যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা চরম ভোগান্তির শিকার হন।

মামলার আইনজীবী শেখ আবদুল্লাহ নাসির জানান, “আদালত আজ কোনো আদেশ না দিয়ে ৫ মে পুনরায় শুনানির দিন ঠিক করেছেন। আমরা বিশ্বাস করি, আদালত সত্য ও ন্যায়ের পক্ষেই রায় দেবেন।”

এদিকে, জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপসও পৃথক একটি মামলা দায়ের করেছেন। তিনি ২০১৮ ও ২০২৩ সালের নির্বাচনে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করে নিজেকে বৈধ মেয়র হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন।

তাঁর মামলায়ও নৌকা, হাতপাখা এবং অন্যান্য প্রার্থীদের বিবাদী করা হয়েছে। আদালত মামলাটিও পরবর্তী আদেশের জন্য রাখেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আজাদ রহমান।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পিতার ঠিকাদারি লাইসেন্স নিয়ে বিতর্ক, ক্ষমা চাইলেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব

নিজের বাবার নামে সরকারি প্রকল্পের ঠিকাদারি লাইসেন্স ইস্যুর ঘটনায় ‘অনিচ্ছাকৃত ভুল’ হিসেবে উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হলে বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) রাতে নিজের ফেসবুক পেইজে একটি ব্যাখ্যামূলক পোস্ট দেন তিনি।

পোস্টে আসিফ মাহমুদ লেখেন, “প্রথমেই আমার বাবার ভুলের জন্য সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। একজন সাংবাদিক আমার বাবার নামে ইস্যুকৃত লাইসেন্স বিষয়ে জানতে চাইলে আমি বিষয়টি যাচাই করি এবং নিশ্চিত হই, আমার বাবা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে একটি লাইসেন্স নিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “আমার বাবা একজন স্কুল শিক্ষক, আকুবপুর ইয়াকুব আলী ভূঁইয়া পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। স্থানীয় এক ঠিকাদার তার পরিচয় ব্যবহার করে কাজ সহজ করতে চাওয়ায় বাবাকে লাইসেন্স করার পরামর্শ দেন। আমার বাবা হয়তো বিষয়টির গভীরতা বোঝেননি।”

আসিফ মাহমুদ বলেন, “যেহেতু আমি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বে রয়েছি, তাই বাবার এই উদ্যোগ সরাসরি স্বার্থসংঘাত তৈরি করতে পারে। বিষয়টি তাকে বোঝানোর পর, আজই (২৪ এপ্রিল) তার আবেদনের প্রেক্ষিতে লাইসেন্সটি বাতিল করা হয়েছে।”

উল্লেখ্য, কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল জাজিরার অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের বুধবার (২৩ এপ্রিল) এক পোস্টে দাবি করেন, উপদেষ্টার পিতার নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স ইস্যু হয়েছে এবং এ বিষয়ে তিনি সরাসরি উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। প্রাথমিকভাবে উপদেষ্টা বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে বিষয়টি যাচাই করে স্বীকার করেন।

এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় অনেকেই উপদেষ্টার জবাবদিহিতার ভূয়সী প্রশংসা করছেন।

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বাংলাদেশে বিনিয়োগ আহ্বানে দোহায় অধ্যাপক ইউনূসের কৌশলগত বৈঠক

বাংলাদেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ বাড়াতে কাতারের দোহায় এক বিশেষ বৈঠকে অংশ নিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (২৩ এপ্রিল) রাতের এ বৈঠকে কাতার, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপসহ কয়েকটি দেশের প্রভাবশালী বিনিয়োগকারী ও উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা অংশ নেন।

বৈঠকে মালদ্বীপের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী, মালয়েশিয়ার রাজপরিবার ও সাবেক মন্ত্রী, কাতারের রাজপরিবারের একজন সদস্য, খ্যাতনামা ব্যাংকার এবং প্রবাসী বাংলাদেশি ধনীদের দেখা যায়। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় অর্থনীতি ও বহুমুখী বিনিয়োগ সুযোগ।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশকে একটি টেকসই উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এজন্য সকল ধরনের বৈদেশিক বিনিয়োগকে স্বাগত জানানো হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ‘বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল বিনিয়োগ গন্তব্য। আমরা বিশ্বমানের উৎপাদন শক্তিতে পরিণত হতে চাই।’

বিনিয়োগকারীরা উৎপাদন খাতের পাশাপাশি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি, ব্যাংকিং এবং পর্যটন খাতে, বিশেষ করে কক্সবাজারের রিসোর্ট জোনে বিনিয়োগ সম্ভাবনা যাচাইয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

অধ্যাপক ইউনূস তাদের বাংলাদেশ সফরের আহ্বান জানান এবং বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানান।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি সংযোগ বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে দাখিল পরীক্ষায় হিজাব না খোলায় ৪ ছাত্রী শাস্তির মুখে, অভিযোগে চাঞ্চল্য

পটুয়াখালীর বাউফলে দাখিল পরীক্ষার একটি কেন্দ্রে হিজাব না খোলার কারণে চারজন ছাত্রীকে শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২৩ এপ্রিল) বাউফল ছালেহিয়া ফাযিল মাদরাসা কেন্দ্রে হাদিস বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে এমন ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে কেন্দ্রের উত্তর ভবনের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে প্রবেশ করেন ট্যাগ অফিসার তুরাল প্রামাণিক। এ সময় তিনি চারজন ছাত্রীকে মুখ দেখাতে বলেন। তারা হিজাব না খোলায় তাদের কাছ থেকে উত্তরপত্র কেড়ে নেওয়া হয়। একজন ছাত্রী কান্নাকাটি করলে তার খাতা ফেরত দেওয়া হলেও বাকি তিনজনের খাতা আর ফেরত দেওয়া হয়নি।

এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমি ৮০ নম্বরের উত্তর লিখেছি। শুধুমাত্র হিজাব না খোলার কারণে আমার খাতা নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটা আমাদের ধর্মীয় অধিকার লঙ্ঘন। আমরা লজ্জিত, অপমানিত ও আতঙ্কিত।”

স্থানীয়রা জানান, পরীক্ষা কেন্দ্রে কালো পোশাক পরা এক পুরুষ কর্মকর্তার আচরণে অনেক ছাত্রী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। বিষয়টি অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।

তবে কেন্দ্র সচিব ও মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নজিরুল হক বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরীক্ষায় কোনো ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন না, কেবল ট্যাগ অফিসার উপস্থিত ছিলেন।”

অন্যদিকে ট্যাগ অফিসার তুরাল প্রামাণিক দাবি করেন, “আমি কোনো খাতা নেইনি বা হিজাব খোলার নির্দেশ দিইনি। বরং কেন্দ্রের অধ্যক্ষ কয়েকজন ছাত্রীকে পরিচয় যাচাইয়ের জন্য মুখ দেখাতে বলেন।”

ঘটনার বিষয়ে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কুয়েট ভিসির অপসারণ দাবিতে বরিশালে সড়ক অবরোধ

কুয়েটের উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে বরিশালে ব্লকেড কর্মসূচি পালন করেছে ‘বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন’-এর শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে প্রায় ১৫-২০ মিনিট সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। এর ফলে সড়কে যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষ ও দূরপাল্লার যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে শিক্ষার্থীরা সড়কের মাঝখানে অবস্থান নেওয়ার সময় উভয় পাশে অল্প পরিমাণ যান চলাচলের সুযোগ করে দেওয়া হয়।

বক্তব্য:
বিক্ষোভস্থলে বরিশাল মহানগরের বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সভাপতি শহিদুল ইসলাম শাহেদ বলেন,
“আমাদের ভাইয়েরা কুয়েটে অনশনে রয়েছেন। সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না, তাই বাধ্য হয়ে সড়কে নামতে হয়েছে। মানুষের সমস্যার জন্য আমরা দুঃখিত, তবে দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”

প্রেক্ষাপট:
১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েট শিক্ষার্থীদের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ছাত্রদল ও বহিরাগতরা হামলা চালিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীকে আহত করে।

১৩ এপ্রিল কুয়েট সিন্ডিকেট সভায় ৩৭ শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, যার মধ্যে অন্তত ৭ জন একটি রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠনের কর্মী বলে দাবি করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনও বহিষ্কৃতদের নাম প্রকাশ না করায় এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে কুয়েটের শিক্ষার্থীরা শিক্ষা কার্যক্রম চালুর দাবিতে ও উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেছে।

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবিগুলো মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

মো: তুহিন হোসেন




বরিশাল সিটির মেয়র ঘোষণার দাবিতে জাপা প্রার্থীর মামলা

বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) ২০২৩ সালের নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে নিজেকে বৈধ মেয়র ঘোষণার দাবি জানিয়ে আদালতে মামলা করেছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মেয়র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইকবাল হোসেন তাপস।

বুধবার (২৩ এপ্রিল) বরিশালের সিনিয়র সহকারী জজ ও বিসিসি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করা হয়। মামলার বিচারক হাসিবুল হাসান মামলাটি আদেশের জন্য গ্রহণ করেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের বিসিসি নির্বাচনও সুষ্ঠু হয়নি। আগেই শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন প্রার্থী তাপস, যে তাঁর জয় ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হবে। তাপসের দাবি, ভোট গ্রহণের দিন বহিরাগতদের এনে হোটেলে রাখা হয়, তাঁর পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়, এবং তিনি নিজেও সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন।

তাপস অভিযোগ করেন, ডিজিএফআই ও এনএসআই-এর কিছু সদস্য ক্ষমতাসীন প্রার্থী খোকন সেরনিয়াবাতের পক্ষে কাজ করেন। ইভিএমে কারচুপি করে তার ভোট কমিয়ে দেখানো হয় এবং উপস্থিত ভোটারের তুলনায় ফলাফলে অতিরিক্ত ভোটগ্রহণ দেখানো হয়।

এ পরিস্থিতিতে ২০২৩ সালের নির্বাচনের ফলাফল বাতিল করে প্রকৃত বিজয়ী হিসেবে তাঁকে (ইকবাল হোসেন তাপস) বরিশাল সিটির মেয়র ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়েছে মামলায়।

উল্লেখ্য, এর আগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিমও একই দাবিতে আদালতে মামলা করেছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম