বরিশালের বেলস পার্ক এখন হাটবাজার, দর্শনার্থীদের ক্ষোভ

বরিশালের বেলস পার্ক, যেটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, এখন আর তার পুরনো সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেছে। বরিশালের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই উদ্যান, যা বরিশালবাসীর জন্য এক সময় ছিল শান্তির আশ্রয়স্থল, এখন পরিণত হয়েছে একটি হাটবাজারে। এখানে দোকান-পাট, খাবারের স্টল এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য জায়গা দখল করে বসেছে, যার ফলে স্থানটির সৌন্দর্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বেলস পার্কে গড়ে উঠেছে ছোট বড় প্রায় ২৫০টি দোকান। প্রতি দিন সেখানে গড়ে উঠা এসব দোকান থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে, যা বেশ কয়েক লাখ টাকা হয়ে দাঁড়ায়। যদিও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন দাবি করেছে যে তারা ১৭৮টি দোকান বসানোর অনুমতি দিয়েছে, বাস্তবে দোকানের সংখ্যা অনেক বেশি। অধিকাংশ দর্শনার্থী এবং স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, এই দোকানগুলোর কারণে পার্কের সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।

সন্ধ্যার পর বেলস পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, পার্কের সৌন্দর্য রক্ষা করতে সর্বোচ্চ ২০-২৫টি দোকান থাকতে পারতো, কিন্তু বর্তমানে প্রায় ২৫০টি দোকান পার্কে গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া, অনেকেই মনে করছেন যে, প্রশাসনই তাদের মনবিকাশের জন্য এসব দোকান বসিয়ে পরিবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তাদের মতে, এইসব দোকানগুলো পার্কের ঐতিহাসিক সৌন্দর্যকে নষ্ট করছে এবং সেখানকার পরিবেশে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বাড়িয়ে দিয়েছে।

একজন প্রাতঃভ্রমণকারী জানান, বেলস পার্কে মাদকাসক্ত কিশোরদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে এবং সন্ধ্যার পর এখানকার পরিবেশ খুবই অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। তারা জানান, এটি ছিল বরিশালের ঐতিহাসিক জায়গা, যেখানে বড় বড় সরকারি অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক সভা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হতো। তবে এখন এটি শুধু দোকান-পাটের জন্য এক বিশৃঙ্খলা পরিণত হয়েছে।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা প্রশাসন দু’টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দায়িত্ববিভাগ নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে তারা পার্কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে, তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুসিকান্ত হাজং জানিয়েছেন যে, বেলস পার্কের মাঠ এবং ডিসি লেক জেলা প্রশাসনের অধীনে, তবে এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দোকান বসানোর দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের।

এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী খোশনুর আলম মিঠু বলেছেন, ‘‘বরিশালবাসী এক সময় এখানে এসে হাঁটাহাঁটি করতো, গল্প-আড্ডা দিতো, কিন্তু এখন পার্কটি দোকান, হাটবাজার, গ্যাং এবং মাদকাসক্তদের দখলে চলে গেছে।’’ তিনি আরও জানান, যদি প্রশাসন দোকানগুলোর সংখ্যা সীমিত করত এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করতো, তাহলে এটি পুনরায় একটি সুন্দর বিনোদন কেন্দ্র হতে পারতো।

বেলস পার্কের বর্তমান অবস্থা আসলেই উদ্বেগজনক। স্থানীয়দের মতে, যদি এটি ঠিক না করা হয়, তবে খুব শিগগিরই বরিশালের ঐতিহ্যবাহী এই উদ্যান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




বরিশালে বজ্রপাতে গৃহবধূর মৃত্যু

বরিশাল জেলার হিজলা উপজেলায় গৌরাব্দি ইউনিয়নের চর কুশুরিয়া এলাকায় রবিবার দুপুরে আকস্মিক বজ্রপাতে ইয়ানুর বেগম (৩০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। একই দিনে আরও একটি বজ্রপাতের ঘটনায় এক জেলে গুরুতর আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে হিজলা থানার ওসি মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, ইয়ানুর বেগম উপজেলার মান্দ্রার চর কুশুরিয়া গ্রামের হাবিব মাঝির স্ত্রী। রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে বজ্রপাতে ইয়ানুর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে, একই দিন দুপুরে মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে আহত হন জেলে জাকির হোসেন (২৪)। তাকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসলে, অবস্থার অবনতি দেখে চিকিৎসকরা তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। জাকির হোসেন বড় জালিয়া ইউনিয়নের খুন্না গোবিন্দপুর এলাকার খলিল হাওলাদারের ছেলে।




অগ্নিকান্ডে বসতঘর ভস্মিভূত, তিনজন আহত

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নের পশ্চিম বাউরগাতি গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে একটি বসতঘর সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়ে গেছে এবং অপর একটি ঘরের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। এই অগ্নিকান্ডে ফায়ারকর্মী মেহেদী হাসানসহ তিনজন আহত হয়েছেন।

শনিবার দিবাগত রাতে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সুত্রপাত ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। তবে, ততক্ষণে আব্দুল মন্নান মিয়ার বসতঘর পুরোপুরি ভস্মিভূত হয়ে যায় এবং পার্শ্ববর্তী রফিকুল ইসলামের দালান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. বিপুল হোসেন জানান, আগুনের কারণে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সরকারি সহায়তা প্রদান করা হবে বলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার রিফাত আরা মৌরি জানিয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব

বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধার বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করা হয়েছে। ইউপি সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, চেয়ারম্যানের স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম এবং দুর্নীতির ফলে তারা সরকার নির্ধারিত বেতন ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন এবং ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দকৃত প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

রবিবার দুপুরে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৯ ধারার বিধান মতে ১২ জন ইউপি সদস্যের মধ্যে ১১ জন স্বাক্ষরিত অনাস্থা প্রস্তাব উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে জমা দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধা এবং ইউপি সচিব রুহুল আমিন সরকারি বরাদ্দ এককভাবে আত্মসাৎ করেছেন এবং ইউপি সদস্যদের সঙ্গে কোন ধরণের যোগাযোগ না করে এসব টাকা নিয়ন্ত্রণ করেছেন।

এছাড়াও অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউপি সদস্যদের বেতন প্রায় ২৪ লাখ টাকা আটকে রয়েছে এবং চেয়ারম্যানের দুর্নীতির কারণে অন্যান্য প্রকল্পের টাকা, যেমন টিআর, কাবিখা, কাবিটা ও ৪০ দিনের কর্মসূচীর টাকার অনেকাংশই ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করা হয়েছে।

ইউপি সদস্যদের লিখিত অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষরকারী সদস্যরা হলেন:
১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলিম হাওলাদার, ২ নম্বর ওয়ার্ডের আহাদুল ইসলাম, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মো. ইসমাইল হোসেন হীরা, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের এফএম বাবুল হোসেন, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মামুন খলিফা, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের শহিদুল ইসলাম খান, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মো. গিয়াস খান, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আলাউদ্দিন মীর, ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাসুদুল ইসলাম, সংরক্ষিত ১ নম্বর ওয়ার্ডের রেহানা বেগম এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আলেয়া বেগম।

অন্যদিকে, ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধা এই অভিযোগগুলো মিথ্যে এবং ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, অধিকাংশ ইউপি সদস্যরা ৫ আগস্টের পর এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন এবং তাদের মোবাইল ফোনও বন্ধ রয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, ইউপি সদস্যরা তার সঙ্গে যোগাযোগ না করায় পরিষদের কার্যক্রম স্থগিত রাখা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের পরামর্শ এবং উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়নমূলক কাজ পরিচালিত হয়েছে, যার প্রকৃত তদন্তে সত্যতা প্রকাশ পাবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভাতিজার শাবলের আঘাতে চাচা নিহত

বরিশাল জেলার বানারীপাড়া উপজেলার ইলুহার ইউনিয়নের মলুহার গ্রামে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাতিজার শাবলের আঘাতে চাচা সুলতান হোসেন খান (৪৫) নিহত হয়েছেন। সুলতান হোসেন খান স্বরূপকাঠি উপজেলার ইন্দেরহাট বন্দর বাজারে কাপড় ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মোস্তফা জানান, ২১ দিন পর শনিবার (২৬ এপ্রিল) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে রাজধানী পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুলতান হোসেন খান মারা যান। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় পূর্বে দায়েরকৃত মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।

পূর্বের মামলার এজাহারে জানা যায়, জমির বন্টন নিয়ে ৫ এপ্রিল রাতে সুলতান হোসেন খান ও তার বড় ভাই শাহজাহান খানের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এর একপর্যায়ে শাহজাহানের ছেলে রুবেল খান চাচা সুলতান হোসেন খানকে শাবল দিয়ে আঘাত করে। আহত সুলতান খান প্রথমে বানারীপাড়া উপজেলা হাসপাতালে এবং পরে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হন। তার অবস্থা আরও খারাপ হলে তাকে রাজধানী পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় ৬ এপ্রিল সুলতান হোসেন খানের বোন নাসিমা বেগম বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে শাহজাহান খান, তার ছেলে রুবেল খান, ভাতিজার স্ত্রী লামিয়া আক্তার, বোন নিলুফা বেগম, মারুফা বেগম, বোনজামাতা মোশারফ হোসেন ও শাহ আলমকে আসামি করা হয়। পুলিশ ৬ এপ্রিল অভিযানে শাহজাহান খান, রুবেল খান ও লামিয়াকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে শাহজাহান খান ও তার ছেলে রুবেল খান বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




নিখোঁজের চারদিন পর গৃহবধূর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

অফিসে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয়েছিলেন বরিশালের গৃহবধূ জেসমিন আক্তার (২৮)। চারদিন পর বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর এলাকার একটি ব্রিজের নিচ থেকে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

নিহত জেসমিন কাশিপুর এলাকায় তার মায়ের সঙ্গে থাকতেন। চার বছর আগে বিয়ে হয়, রয়েছে দুই বছরের একটি ছেলে সন্তান। গত ২১ এপ্রিল সকালে অফিসে যাওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। অবশেষে ২৫ এপ্রিল তার মরদেহ পাওয়া যায়।

বাবুগঞ্জ থানার ওসি শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, “ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।” নিহতের পরিবার এটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করছে এবং দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে মামলার জট: তিন প্রজন্ম ধরে অপেক্ষা রায়ের

বরিশালে প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে মামলা জট। দীর্ঘদিন ধরে বিচারপ্রার্থীরা আদালতের বারান্দায় ঘুরেও পাচ্ছেন না রায়। জেলার বানারীপাড়া উপজেলার বাসিন্দা ওমর ফারুক (৫০) এমনই একজন যিনি ২৫ বছর ধরে জমি-সংক্রান্ত মামলার রায়ের অপেক্ষায় আছেন। তার দাদা ও বাবা—তিন পুরুষ ধরে একই মামলায় জড়িয়ে এখন নিজেও আদালতে ঘুরছেন।

এমনই আরেক ভুক্তভোগী গৌরনদীর বাটাজোর ইউনিয়নের ইউসুফ আলী জানান, ২০১৪ সাল থেকে এক মামলা নিয়ে ঘুরছেন। বর্তমানে একই ইস্যুতে চলছে চারটি মামলা, কিন্তু কোনো রায়ই মেলেনি।

বরিশালের বিভিন্ন আদালতে বর্তমানে বিচারক ও এজলাস সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। জানা গেছে, বর্তমানে প্রায় ৪৫ হাজার মামলা জটের মধ্যে রয়েছে।

বরিশাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, “দুইজন বিচারক ও দুটি এজলাসের সংকট রয়েছে। একই সঙ্গে জজ কোর্টেও পাঁচটি এজলাস সংকট রয়েছে।”

এদিকে আইনজীবীরা বলছেন, অবকাঠামো ও বিচারক সংকট ছাড়াও দুর্নীতি বড় একটি বাধা। সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হাফিজ আহমেদ বাবলু জানান, “দুর্নীতি কমাতে অনলাইন কার্যক্রম চালু করা প্রয়োজন।” একই দাবির সাথে একমত বরিশাল আইনজীবী সমিতির সভাপতি সাদিকুর রহমান লিংকনও।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ডিগ্রির দাবিতে বরিশালে ডিপ্লোমা নার্সদের বিক্ষোভ

“এইচএসসির পর ডিপ্লোমা নাই, ডিপ্লোমাকে ডিগ্রির সমমান চাই”—এই শ্লোগানে বরিশালে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে ডিপ্লোমা নার্সেস ইউনিয়ন। তাদের দাবি, ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সাইন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি এবং ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারি কোর্সগুলোকে স্নাতক বা ডিগ্রি পাস কোর্সের সমমান দিতে হবে।

রবিবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে বরিশাল নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনের সড়কে এই কর্মসূচি পালিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ সাদ ইসলাম রিয়ান। বাংলাদেশ ডিপ্লোমা স্টুডেন্ট নার্সেস ইউনিয়ন, বরিশাল শাখার উদ্যোগে আয়োজিত এ বিক্ষোভে নার্সিং শিক্ষার্থীরা বড় সংখ্যায় অংশ নেন।

বক্তারা বলেন, “চার বছর সময় নিয়ে আমাদের ডিপ্লোমা কোর্স শেষ করতে হয়, কিন্তু এর পরও আমাদের শিক্ষাগত মর্যাদা স্বীকৃতি পায় না। কেন আমরা স্নাতকের সমান সম্মান পাবো না?”

তারা আরও জানান, “এ বৈষম্য শুধু হতাশার নয়, বরং এটি আমাদের পেশাগত ভবিষ্যৎকেও বাধাগ্রস্ত করে। কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নতুবা আগামীতে কঠোর আন্দোলনের দিকে যেতে আমরা বাধ্য হবো।”

নার্সিং শিক্ষার্থীদের মতে, সমতাভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থার জন্য এই দাবি শুধু যৌক্তিকই নয়, সময়োপযোগীও।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




সেবা বিঘ্নে টিভিতে স্ক্রল বাধ্যতামূলক: উপদেষ্টার কড়া নির্দেশ

বিদ্যুৎ, রেলপথ, সড়ক বা মেট্রোরেলের যাত্রী ও গ্রাহকসেবা যদি বিঘ্নিত হয়, তবে সেই তথ্য অবিলম্বে টেলিভিশনে স্ক্রল হিসেবে প্রচার করতে হবে—এমন নির্দেশনা দিয়েছেন সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

রোববার (২৭ এপ্রিল) উপদেষ্টার দফতর থেকে এক দাপ্তরিক নির্দেশনায় বলা হয়, যেকোনো ধরনের সেবা বিঘ্নের ঘটনা টিভিতে স্ক্রল হিসেবে প্রচার করা বাধ্যতামূলক। সেই সঙ্গে সেবা স্বাভাবিক হলে তা জানিয়ে দুঃখপ্রকাশ করতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

এ নির্দেশনার পেছনে রয়েছে গত শনিবার দুটি ঘটনার প্রেক্ষাপট—প্রথমটি মেট্রোরেলের চলাচল সাময়িক বন্ধ থাকা এবং দ্বিতীয়টি খুলনা অঞ্চলে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিভ্রাট। এই গুরুত্বপূর্ণ দুটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব কিংবা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা উপদেষ্টাকে অবহিত করেননি। পরবর্তীতে উপদেষ্টা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেই বিষয়টি জানতে পারেন।

এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, “এমন অব্যবস্থাপনা গ্রহণযোগ্য নয়। জনগণকে অবহিত না করে দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়া চলবে না।” নির্দেশনায় সাফ জানানো হয়, “সেবা প্রদান জনগণের প্রতি দায়, এটি দয়া নয়।”

সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক সূত্র জানায়, এসব ঘটনায় উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান কড়া ভাষায় প্রশ্ন তুলেছেন এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যেন পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্যই এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




বাবার কবরের পাশে চিরঘুমে যাবেন লামিয়া

ঢাকায় জুলাই আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হওয়া পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার শহীদ জসিম উদ্দিনের কন্যা লামিয়া (১৭) শেষ ঠিকানা খুঁজে নিলেন বাবার কবরের পাশেই। রোববার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ২টায় পটুয়াখালীর পাংগাশিয়া ইউনিয়নে নামাজে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হবে। এ জন্য শহীদ জসিমের কবরের পাশে ইতোমধ্যে লামিয়ার জন্য কবর প্রস্তুত করা হয়েছে এবং জানাজার স্থানেও শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে।

শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শেখেরটেক এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে লামিয়ার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দ্রুত তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মর্মান্তিক এ খবরে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

শহীদ জসিম উদ্দিনের চাচাতো ভাই মো. কালাম হাওলাদার জানান, লামিয়া ছিলেন সাহসী ও প্রতিবাদী মেয়ে। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে শক্ত হাতে লড়েছিলেন। কিন্তু বিচারহীনতার ভয়, সামাজিক অবহেলা এবং মানসিক যন্ত্রণায় ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি বলেন, “আজ আমাদের লামিয়া নেই। আমরা তার আত্মার শান্তি কামনা করি এবং ঘটনার সঠিক বিচার চাই।”

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ মার্চ পটুয়াখালীর পাংগাশিয়া ইউনিয়নে নিজ বাড়ি থেকে নানা বাড়ি যাওয়ার পথে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয় লামিয়া। সাহস দেখিয়ে তিনি নিজেই থানায় গিয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে। ইতোমধ্যে দুমকি থানা পুলিশ অভিযুক্ত সাকিব ও সিফাতকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই মানসিকভাবে চরম ভেঙে পড়েন লামিয়া। সামাজিক লজ্জা, অবহেলা ও বিচার না পাওয়ার আশঙ্কায় তিনি চরম হতাশায় ভুগছিলেন। পরিবারের দাবি, এ হতাশা থেকেই লামিয়া আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

পটুয়াখালীর দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাকির হোসেন জানান, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লামিয়ার ময়নাতদন্তের কাজ প্রায় শেষের দিকে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

এদিকে, লামিয়ার মৃত্যুতে পাংগাশিয়া ইউনিয়নসহ গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রতিবেশী, বন্ধু ও স্বজনদের চোখে পানি, হৃদয়ে বেদনার ভার। অন্যায়ের বিরুদ্ধে যে কিশোরী বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছিল, সমাজের অবহেলা তাকে শেষ পর্যন্ত পরাজিত করল।

অন্যদিকে, শহীদ জসিম উদ্দিনের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন।

শোকাহত এলাকাবাসী আজ শুধু একটিই প্রশ্ন করছেন—ন্যায়বিচার আদৌ কি নিশ্চিত হবে?


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম