বরিশালের বেলস পার্ক এখন হাটবাজার, দর্শনার্থীদের ক্ষোভ

বরিশালের বেলস পার্ক, যেটি দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, এখন আর তার পুরনো সৌন্দর্য হারিয়ে ফেলেছে। বরিশালের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই উদ্যান, যা বরিশালবাসীর জন্য এক সময় ছিল শান্তির আশ্রয়স্থল, এখন পরিণত হয়েছে একটি হাটবাজারে। এখানে দোকান-পাট, খাবারের স্টল এবং অন্যান্য ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য জায়গা দখল করে বসেছে, যার ফলে স্থানটির সৌন্দর্য রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বেলস পার্কে গড়ে উঠেছে ছোট বড় প্রায় ২৫০টি দোকান। প্রতি দিন সেখানে গড়ে উঠা এসব দোকান থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে, যা বেশ কয়েক লাখ টাকা হয়ে দাঁড়ায়। যদিও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন দাবি করেছে যে তারা ১৭৮টি দোকান বসানোর অনুমতি দিয়েছে, বাস্তবে দোকানের সংখ্যা অনেক বেশি। অধিকাংশ দর্শনার্থী এবং স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, এই দোকানগুলোর কারণে পার্কের সৌন্দর্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে।
সন্ধ্যার পর বেলস পার্কে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, পার্কের সৌন্দর্য রক্ষা করতে সর্বোচ্চ ২০-২৫টি দোকান থাকতে পারতো, কিন্তু বর্তমানে প্রায় ২৫০টি দোকান পার্কে গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া, অনেকেই মনে করছেন যে, প্রশাসনই তাদের মনবিকাশের জন্য এসব দোকান বসিয়ে পরিবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তাদের মতে, এইসব দোকানগুলো পার্কের ঐতিহাসিক সৌন্দর্যকে নষ্ট করছে এবং সেখানকার পরিবেশে কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বাড়িয়ে দিয়েছে।
একজন প্রাতঃভ্রমণকারী জানান, বেলস পার্কে মাদকাসক্ত কিশোরদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে এবং সন্ধ্যার পর এখানকার পরিবেশ খুবই অস্বস্তিকর হয়ে উঠছে। তারা জানান, এটি ছিল বরিশালের ঐতিহাসিক জায়গা, যেখানে বড় বড় সরকারি অনুষ্ঠান, রাজনৈতিক সভা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হতো। তবে এখন এটি শুধু দোকান-পাটের জন্য এক বিশৃঙ্খলা পরিণত হয়েছে।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এবং জেলা প্রশাসন দু’টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দায়িত্ববিভাগ নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি রয়েছে। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে তারা পার্কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে রয়েছে, তবে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) লুসিকান্ত হাজং জানিয়েছেন যে, বেলস পার্কের মাঠ এবং ডিসি লেক জেলা প্রশাসনের অধীনে, তবে এর অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দোকান বসানোর দায়িত্ব সিটি কর্পোরেশনের।
এ বিষয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী খোশনুর আলম মিঠু বলেছেন, ‘‘বরিশালবাসী এক সময় এখানে এসে হাঁটাহাঁটি করতো, গল্প-আড্ডা দিতো, কিন্তু এখন পার্কটি দোকান, হাটবাজার, গ্যাং এবং মাদকাসক্তদের দখলে চলে গেছে।’’ তিনি আরও জানান, যদি প্রশাসন দোকানগুলোর সংখ্যা সীমিত করত এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করতো, তাহলে এটি পুনরায় একটি সুন্দর বিনোদন কেন্দ্র হতে পারতো।
বেলস পার্কের বর্তমান অবস্থা আসলেই উদ্বেগজনক। স্থানীয়দের মতে, যদি এটি ঠিক না করা হয়, তবে খুব শিগগিরই বরিশালের ঐতিহ্যবাহী এই উদ্যান পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাবে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম







