পরিবারতন্ত্র আর আত্মীয়তাই বরগুনা বিএনপির পতনের কারণ?

বরগুনা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতা এখন এক প্রজন্মের রাজনৈতিক ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। সরকারের পতনের পরও দলটি সেখানে তেমন কোনো কার্যকর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি। বরং বরগুনার রাজনীতিতে এখনো আওয়ামী লীগের একতরফা দাপটই পরিলক্ষিত হচ্ছে।

স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও পর্যবেক্ষকদের মতে, বিএনপির এই দুর্বলতার অন্যতম কারণ দলীয় নেতৃত্বের পরিবারতন্ত্র এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে আত্মীয়তাপূর্ণ সম্পর্ক। বরগুনায় বিএনপির নেতৃত্ব দীর্ঘদিন ধরে একই পরিবারের হাতে থাকলেও দলের সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত হয়নি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রায় সব পদেই নিয়োজিত রয়েছেন মোল্লা পরিবারের সদস্যরা। অভিযোগ রয়েছে, দলীয় পদ-পদবি ব্যবহার করে তারা ব্যক্তি স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

বিএনপির জেলা অফিসের একাংশ বলছে, এই পরিবারতন্ত্রের ফলে দলের মধ্যে কোনো গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে ওঠেনি। বরং পদ বিক্রির অভিযোগে কেন্দ্র থেকে পর্যন্ত বিলুপ্ত করা হয়েছে জেলা কমিটি। সেই সঙ্গে রয়েছে আত্মীয়তাজনিত দ্বৈত রাজনৈতিক সম্পর্ক। একদিকে বিএনপি, অন্যদিকে পরিবারের অনেক সদস্যই সরাসরি আওয়ামী লীগের পদ-পদবিধারী। ফলে রাজনৈতিকভাবে পক্ষান্তর ঘটেছে নিঃশব্দে, কার্যত আওয়ামী লীগেরই ছায়ায় সক্রিয় রয়েছেন অনেকে।

২০২৫ সালের আগস্টে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের দাবিতে বরগুনায় যে মিছিল-সমাবেশ হয়, তা আওয়ামী লীগের সক্রিয়তা এবং বিএনপির নীরবতার একটি বড় উদাহরণ হয়ে দাঁড়ায়। ওই কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা জাহাঙ্গীর কবির পরে গ্রেপ্তার হলেও দ্রুত জামিন পান। ফেসবুক লাইভে ঈদ উপহার বিতরণ, শহীদবেদিতে ফুল দেওয়া, গান প্রকাশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি আওয়ামী লীগ অব্যাহত রাখলেও বিএনপি বরাবরই ছিল নিষ্ক্রিয়। এমনকি পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে—বিএনপির পক্ষ থেকে মামলা করতে গেলে তা গ্রহণ না করার অভিযোগ উঠেছে বর্তমান পুলিশ সুপারের বিরুদ্ধে।

এদিকে আওয়ামী লীগ নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাগুলো দুর্বল তদন্ত ও প্রমাণের অভাবে বারবার জামিনযোগ্য হয়ে উঠছে বলে দাবি করেছে বিএনপি। বরগুনা বিএনপির অনেক নেতাকর্মী বলেন, “পুলিশ ও প্রশাসন একপক্ষের হয়ে কাজ করছে। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমাদের নিজেদের অভ্যন্তরীণ নেতৃত্ব সংকট।”

অভিযোগ অস্বীকার করে মোল্লা পরিবারের প্রবীণ নেতা নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, “বরগুনায় বিএনপি মানেই মোল্লা পরিবার। আমরা দলের শেল্টার দিই, আত্মীয়ের রাজনৈতিক মতামতের দায় আমরা নিই না।” তবে স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক বিভাজনের পাশাপাশি পারিবারিক আত্মীয়তার জাল থেকে বের হতে না পারলে বরগুনা বিএনপি কখনোই পুনরুত্থান ঘটাতে পারবে না।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভূমি জটিলতায় থমকে বরিশাল-ফরিদপুর ৬ লেন মহাসড়ক প্রকল্প

বরিশাল-ফরিদপুর এবং বরিশাল-পায়রা-কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার প্রকল্প দীর্ঘসূত্রতার কবলে পড়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে। ভূমি অধিগ্রহণে দীর্ঘ বিলম্ব এবং ব্যয় তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় এখনো চূড়ান্ত হয়নি সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি)। ফলে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের বহুপ্রতীক্ষিত এ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলের ১১টি জেলার যাতায়াত ব্যবস্থা এই প্রকল্পের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণে দেরির কারণে প্রকল্পের ব্যয় ১,৮৬৭ কোটি টাকা থেকে বেড়ে প্রায় ৬,৫০০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনে সংশোধিত ডিপিপি আটকে থাকায় কাজ এগোচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো একাধিক বৈঠক করলেও এখনো প্রকল্প চূড়ান্ত হয়নি।

২০১৫ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এডিবি’র অর্থায়নে ২১১ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা তৈরি হয়। তখনই ধরা হয় প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ২১ হাজার কোটি টাকা। ২০১৮ সালে আলাদা একটি প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ১,৮৬৭ কোটি টাকা। নির্ধারিত সময় ছিল ২০২১ সালের জুন, যা পরে বাড়িয়ে ২০২৪ করা হয়। তবুও অর্ধেক জমিও অধিগ্রহণ হয়নি।

তথ্য মতে, জমির দাম বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন বাইপাস নির্মাণ, বরিশাল বিমানবন্দর ডাইভার্শন এবং কিছু স্থাপনা পুনর্বাসনের প্রয়োজন হওয়ায় অতিরিক্ত ২০০ হেক্টরের মতো জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। এতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়াবে ৬,৫০০ কোটির বেশি। ইতোমধ্যে বরিশালের ৩৩ কিমি ও মাদারীপুরের ১০ কিমি এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে, কিন্তু গত অর্থবছরের বরাদ্দের ৮৯০ কোটি টাকার প্রায় সবটাই ফেরত গেছে।

সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং সড়ক অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমি অধিগ্রহণ নিয়ে জটিলতা এবং ছয়টি জেলার প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে প্রকল্পটির অগ্রগতি ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে এডিবি পুরনো সমীক্ষা ও নকশা বাতিল করে নতুন করে কাজ শুরুর শর্ত দিয়েছে, কিন্তু সে দিকেও অগ্রগতি নেই।

পদ্মা সেতু চালুর পর বরিশাল অঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার সরাসরি যোগাযোগ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কিন্তু মহাসড়কের দুরবস্থা এবং বাড়তি যানবাহনের কারণে বরিশাল থেকে ফরিদপুর অংশে ৯১ কিমি রাস্তা অতিক্রম করতে ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগছে। পাশাপাশি বাড়ছে দুর্ঘটনাও।

পরিকল্পনা কমিশনের উচ্চ পর্যায় থেকে সরেজমিন পরিদর্শনে ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেলেও এখনো প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)-তে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী হলেও বাস্তবতা এখনো হতাশাজনক।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মাছের ঘাটের ইজারা দ্বিগুণ, দুশ্চিন্তায় বরিশালের বাজার

বরিশালের শহীদ জিয়া পাইকারি মৎস্য অবতারণ কেন্দ্রের ইজারার মূল্য হঠাৎ দ্বিগুণ করায় চরম উদ্বেগে পড়েছেন স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীরা। বিআইডব্লিউটিএর এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা।

রবিবার বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মো. জহির সিকদার। লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০২৪ সালে ঘাটটির ইজারার সর্বনিম্ন দর ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং সর্বোচ্চ দর ছিল ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। অথচ ২০২৫ সালের জন্য নতুন করে সর্বনিম্ন দর নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা, যা আগের তুলনায় দ্বিগুণ।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এ সিদ্ধান্ত একতরফাভাবে নেওয়া হয়েছে এবং এতে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। তারা মনে করছেন, এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে ঘাটে মাছের আনয়ন কমে যাবে, যার প্রভাব পড়বে বরিশালের বাজারে। এতে মাছের সরবরাহ সংকট এবং দাম বাড়ার আশঙ্কা করছেন তারা, যা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কঠিন পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।

তারা আরও অভিযোগ করেন, ইজারা নীতিমালায় থাকা সরকারি রেট অনুযায়ী টনপ্রতি আদায় হওয়ার কথা ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা, অর্থাৎ মণপ্রতি প্রায় দেড় টাকা। কিন্তু বাস্তবে তাদের কাছ থেকে আদায় করা হচ্ছে মণপ্রতি ১০০ টাকা—যা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ।

বিশ্লেষকদের মতে, ইজারা মূল্যের এ ধরনের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি শুধু ইজারাদারের মুনাফা নিশ্চিত করে না, বরং মাছের পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। বরিশালের এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাছ সরবরাহ হয়। তাই ইজারার বাড়তি খরচ ব্যবসায়ীরা পুষিয়ে নেবেন সাধারণ ভোক্তার কাছ থেকে, ফলে বাড়বে মাছের দাম।

ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন, যদি এই পরিস্থিতি চলতে থাকে, তারা বিকল্প ঘাট ব্যবহারের দিকে যেতে বাধ্য হবেন, যা শহীদ জিয়া মৎস্য অবতারণ কেন্দ্রের গুরুত্ব ও ঐতিহ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ সেলিম রেজা জানান, ইজারার মূল্য নির্ধারণ হয় বিআইডব্লিউটিএর প্রধান কার্যালয় থেকে। স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে তিনি স্বীকার করেন, ইজারাদারদের প্রতিযোগিতার কারণেও মূল্য বাড়তে পারে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, কেবল মূল্য বৃদ্ধিই নয়, মূল সমস্যা হচ্ছে স্বচ্ছতার অভাব ও নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন। তাই তারা চায়, ঘাট ইজারায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণ এবং সরকারি রেট সিস্টেম কঠোরভাবে অনুসরণ করা হোক।

এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের বাজারে মাছের সংকট দেখা দিতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী কবির কাজী, আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে ইসলামী ব্যাংকের ত্রৈমাসিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর বরিশাল জোনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ত্রৈমাসিক ব্যবসায় উন্নয়ন সম্মেলন।
শনিবার (২৬ এপ্রিল) বরিশাল জোনাল অফিসের কনফারেন্স রুমে এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর (চলতি দায়িত্ব) মো. ওমর ফারুক খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মো. আলতাফ হুসাইন, ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মুহাম্মদ সাঈদ উল্লাহ এবং এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু নোমান মো. সিদ্দিকুর রহমান।

সম্মেলনের সভাপতিত্ব করেন বরিশাল জোনপ্রধান মো. সারোয়ার হোসাইন। এতে জোনের আওতাধীন সব শাখা ও উপশাখার প্রধানগণ অংশগ্রহণ করেন।

ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অগ্রগতি, সেবা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




শহীদ কন্যা লামিয়ার দাফন সম্পন্ন, জানাজায় রিজভি ও সারজিস আলমসহ বিশিষ্টজনেরা

জুলাই আন্দোলনে শহীদ পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার সন্তান জসিম উদ্দিনের কন্যা লামিয়া (১৭) শেষবারের মতো বাবার কবরের পাশেই চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন। রোববার (২৭ এপ্রিল) রাতে পাংগাশিয়া ইউনিয়নের নিজ এলাকায় জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে সন্ধ্যায় পাংগাশিয়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে লামিয়ার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় অর্থ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম ফাহিম, পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাজেদুল ইসলাম, জেলা বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল মানুষ।
শোকের আবহে জানাজা শেষে তাকে বাবার কবরের পাশে দাফন করা হয়।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ মার্চ লামিয়া তার বাবার কবর জিয়ারত শেষে নানাবাড়ি যাওয়ার পথে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন। সাহসিকতার সঙ্গে তিনি নিজেই থানায় গিয়ে মামলা দায়ের করেন। তবে ঘটনার পর থেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সামাজিক লজ্জা, অবহেলা এবং বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা তাকে হতাশার অতল গহ্বরে ডুবিয়ে দেয়। এক পর্যায়ে এই মানসিক যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় বলে তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।

শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শেখেরটেক এলাকার একটি ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন লামিয়া। তাকে দ্রুত সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
তার মৃত্যুতে সারাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় মোহাম্মদপুর এলাকায় পুলিশের গুলিতে আহত হন লামিয়ার বাবা শহীদ জসিম উদ্দিন। দীর্ঘ চিকিৎসার পর ১ আগস্ট তিনি শহীদ হন। বাবার স্মৃতি বুকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে চাইলেও নির্মম বাস্তবতা আর বিচারহীনতার যন্ত্রণায় লামিয়ার জীবন থেমে গেল অকালে।

বর্তমানে ধর্ষণ মামলার দুই আসামি পটুয়াখালী জেলা কারাগারে আটক রয়েছে। তবে এলাকাবাসীসহ দেশের সচেতন মানুষ লামিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় দ্রুত এবং যথাযথ বিচার দাবি করেছেন।


মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



গরমে রাস্তার পাশের শরবতে সর্বনাশ!

গরমে শরীর থেকে ঘাম বের হয়, যা শরীরকে দুর্বল করে ফেলে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ, অসুস্থ ব্যক্তি এবং যারা বাইরে কাজ করেন, তাদের জন্য এই ঘাটতি পূরণে পানি ও শরবত পান করা খুবই জরুরি। তবে গরমে তৃষ্ণা মেটাতে রাস্তার পাশে পাওয়া শরবত অনেকেই খেয়ে থাকেন, কিন্তু এই শরবত আসলেই স্বাস্থ্যসম্মত কি না, তা নিয়ে রয়েছে শঙ্কা।

রাস্তার পাশে শরবত: বিপদ কি না?

গরমের সময় রাস্তাঘাটে পাওয়া যায় লেবু, বেল, কাঁচা আমের শরবতসহ নানা রকম শরবত। সস্তা হওয়ায় এগুলো তৃষ্ণা মেটাতে অনেকেই পান করে থাকেন। তবে চিকিৎসকরা এসব শরবতকে বিপদজনক বলে দাবি করেছেন। রাস্তার পাশে বিক্রি হওয়া এসব শরবত তৈরিতে স্বাস্থ্যকর পানি ব্যবহার না করা, বরফের অস্বাস্থ্যকর ব্যবহার এবং অপরিষ্কার উপকরণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

বিশুদ্ধ পানি, পরিষ্কার ফল এবং চিনি ব্যবহার করে যদি শরবত তৈরি করা হয়, তবে তা উপকারী। কিন্তু ফুটপাতে বিক্রি হওয়া শরবতগুলিতে এই স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণের অভাব থাকে। ফলে ডায়রিয়া, জন্ডিস এবং অন্যান্য পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।

স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও অস্বাস্থ্যকর বরফ

অনেক জায়গায় দেখা যায়, শরবত তৈরির জন্য যে বরফ ব্যবহার করা হয়, তা মাছের বাজার থেকে আনা হয়। মাছ সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত বরফ শরবত তৈরিতে ব্যবহার করা হলে তা মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হতে পারে। বরিশালের সচেতন নাগরিকরা এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং ভ্রাম্যমাণ দোকানদারদের উপর নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

বরিশাল সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, রাস্তার পাশে অস্বাস্থ্যকর শরবত ও খাবার খেয়ে মানুষ ডায়রিয়া, টাইফয়েড, জন্ডিস, বমি ইত্যাদি সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। তিনি সকলকে এসব অস্বাস্থ্যকর খাবার ও পানীয় থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে গরমে শরীরে পানি ঘাটতি পূরণের জন্য বিশুদ্ধ পানি, ওরাল স্যালাইন এবং ডাবের পানি পান করার কথা বলেছেন।

রিক্সাচালক ও পথচারীরা জানান, তারা তৃষ্ণা মেটাতে রাস্তার পাশের শরবত পান করে থাকেন। তবে তারা কখনোই নিশ্চিত হতে পারেন না, শরবতের পানি ও বরফ কতটা নিরাপদ। এক রিক্সাচালক বলেন, “তৃষ্ণা পেলে শরবত খাই, ভালো-মন্দ চিন্তা করার সময় নেই।”

গরমের সময়ে শরবত পান করতে গিয়ে যদি স্বাস্থ্যঝুঁকি হয়, তবে আমাদের সকলেরই উচিত এসব অস্বাস্থ্যকর শরবত থেকে দূরে থাকা। বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যকর উপকরণ এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশে প্রস্তুত খাবার ও পানীয় খাওয়া আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ভালো।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




শেষ হচ্ছে ইলিশ ধরার দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা, ব্যস্ত জেলেরা 

ভোলার জেলেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন, কারণ খুব শীঘ্রই শেষ হচ্ছে ইলিশ ধরার জন্য দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞা শেষ হতে চললে তারা আবার নদীতে নামবেন এবং জাল-নৌকা মেরামত করছেন গত কয়েকদিন ধরে। এই সময়ের মধ্যে অনেক কষ্টে জীবন কাটানোর পর, তারা আশা করছেন ইলিশ ধরার মৌসুম শুরু হলে ঋণ শোধ করার সুযোগ পাবেন।

মার্চ এবং এপ্রিল মাসে, সরকার জাটকা সংরক্ষণ লক্ষ্যে ভোলার নদীর ১৯০ কিলোমিটার জলসীমায় অভয়াশ্রম ঘোষণা করেছিল। নিষেধাজ্ঞার সময়কালে প্রায় ৩ লাখ জেলে, যার মধ্যে ১ লাখ ৭০ হাজার ২৪৩ জন নিবন্ধিত জেলে, বেকার হয়ে পড়ে। এই সময় সরকার ৮৯ হাজার ৬০০ হতদরিদ্র জেলের জন্য চাল বরাদ্দ করেছিল, কিন্তু অভিযোগ উঠেছে যে বেশিরভাগ জেলে সেই চাল পাননি।

ভোলার দক্ষিণাঞ্চলের চরফ্যাশনের সামরাজ এলাকায় জেলেরা একত্রিত হয়ে জাল মেরামত ও নৌকা সংস্কার করছেন। পুরোনো নৌকা পুনরায় সংস্কার এবং নতুন নৌকা তৈরি করছেন তারা। নৌকার নতুন আলকাতরা মাখানোর সময় এক ঝাঁজালো গন্ধ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়েছে। একদিকে, অনেক জেলে পুরোনো জাল তুনছেন, আর অন্যদিকে নতুন সুতায় শক্তপোক্ত করার কাজ চলছে।

জেলেরা জানাচ্ছেন, ১ মে থেকে তারা ইলিশ ধরতে নদীতে নামবেন এবং নিজেদের নতুন জাল ও নৌকা নিয়ে মাছ ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা আশা করছেন, ইলিশের ভরা মৌসুম শুরু হলে ভালো মাছ ধরতে পারবেন এবং এর মাধ্যমে তাদের ঋণ শোধ করতে পারবেন। অনেক জেলে জানিয়েছেন, গত দুই মাস বেকার থাকার কারণে তারা ঋণের বোঝা বাড়িয়ে ফেলেছেন।

ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে বরাদ্দ করা চালের ব্যাপারে অভিযোগ উঠেছে যে, প্রভাবশালী নেতারা তা আত্মসাৎ করেছেন এবং স্থানীয় কিছু কর্মীকে প্রদান করেছেন। ভোলা মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক বিশ্বজিৎ কুমার দেব এসব অভিযোগের বিষয়ে জানান, “যদি লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভোলার জেলেরা জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে অনেকেই ঋণ পরিশোধের জন্য সরকারের চাল বরাদ্দ আশা করছিলেন, কিন্তু তাতে অনিয়মের কারণে তাদের দুর্দশা আরও বেড়েছে। এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলার মৎস্য আড়তদার শাহাবউদ্দিন ফরাজি বলেন, “হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ সঠিকভাবে পৌঁছানোর জন্য কোনো কমিশন গঠন করা হয়নি। এটি হওয়া উচিত ছিল।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




দুটি পিএসসি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত: আসিফ মাহমুদ

সরকার দুটি পিএসসি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। এটি সরকারের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুততর ও স্বচ্ছ করতে সহায়ক হবে।

আসিফ মাহমুদ তার ফেসবুক পোস্টে জানান, পিএসসি নিয়ে সর্বশেষ ক্যাবিনেট মিটিংয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তিনি বলেন, “দীর্ঘসূত্রিতা, অনিয়ম এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার আরও উন্নতির জন্য সরকার দুটি পিএসসি প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে। ছাত্রদের দাবিগুলো দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো হয়েছে।”

উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, “ছাত্রদের দাবিগুলো সবসময় আমার কাছে প্রথম প্রাধান্য পায়। কুয়েটের আন্দোলন চলাকালে ছাত্রদের প্রতিনিধি দলকে আমি ব্যক্তিগতভাবে স্মারকলিপি পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেছি এবং নিয়মিত আপডেট রাখার চেষ্টা করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “ফেসবুকের মাধ্যমে আন্দোলনকে ত্বরান্বিত করা সবসময় ফলপ্রসূ নয়। তবে আমার পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব, আমি তা করে যাচ্ছি এবং সামনে আরও করব, ইনশাআল্লাহ।”

আসিফ মাহমুদ উল্লেখ করেন যে, বেকারত্ব দূরীকরণে সরকারের বর্তমান প্রচেষ্টা সফল হচ্ছে। বিশেষ করে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন এবং সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হচ্ছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সামনের কয়েক মাসে আরও অন্তত ১০ হাজার নতুন নিয়োগ হবে।

অপরদিকে, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেলে শহীদ জসিম ভাইয়ের মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনায় পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান তিনি। তিনি জানান, “ভোর ৫ টায় তাদের না পেয়ে ফিরে এসেছি। তবে গ্রেপ্তারকৃতদের জামিনের খবরটি সঠিক নয়, তারা সিআইডিতে রয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা চলছে।”

আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, “পিএসসি একটি সাংবিধানিক ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। আপনাদের দাবিগুলো ইতোমধ্যেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানো হয়েছে এবং আমি আবারও এ বিষয়ে কথা বলব।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




শীর্ষ ২ কার্ডিনালের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ভ্যাটিকানের শীর্ষ দুই কার্ডিনাল, সিলভানো মারিয়া তোমাসি এবং জ্যাকব কুভাকাদ। পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার পর এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এদিন, কার্ডিনাল সিলভানো মারিয়া তোমাসি এবং কার্ডিনাল জ্যাকব কুভাকাদ, পৃথকভাবে ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা পোপ ফ্রান্সিসের জীবনব্যাপী দারিদ্র্য বিমোচন, যুদ্ধবিহীন ও পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের প্রচার এবং দরিদ্রবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের জন্য ড. ইউনূসের অবদানকে গভীরভাবে কৃতজ্ঞতা জানান।

পোপের সঙ্গে সম্পর্কের স্মৃতিচারণ

ড. ইউনূস তার দীর্ঘ সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “পোপ ফ্রান্সিস ছিলেন এক অসাধারণ মানুষ, যার সঙ্গে আমি বহুবার সাক্ষাৎ করেছি। একবার ভ্যাটিকান ব্যাংকের সংস্কার নিয়ে একটি কঠোর চিঠি লিখেছিলাম, যা ভ্যাটিকানের অফিসিয়াল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।” তিনি আরও জানান, পোপ তাকে ভ্যাটিকান ব্যাংক সংস্কার এবং চার্চের দরিদ্রবান্ধব উদ্যোগে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করেন, যার ফলস্বরূপ গত নভেম্বর মাসে রোমে ‘পোপ ফ্রান্সিস-ইউনূস থ্রি জিরো ক্লাব’ চালু হয়।

ভিয়েতনামের উন্নয়ন মডেল ও আন্তঃধর্মীয় সংলাপ

কার্ডিনাল সিলভানো মারিয়া তোমাসি, সম্প্রতি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া সফর করে ভিয়েতনামের দ্রুত উন্নয়নের বিষয়ে আলোচনা করেন। এসময়, ড. ইউনূস ভিয়েতনামের উন্নয়ন মডেল অনুসরণ করার পরিকল্পনার কথা জানান।

এছাড়া, কার্ডিনাল জ্যাকব কুভাকাদ, ভ্যাটিকানের ইন্টাররিলিজিয়াস ডায়ালগের প্রধান, আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে একটি আন্তঃধর্মীয় সংলাপ আয়োজনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। ড. ইউনূস এ বিষয়ে বলেন, “বাংলাদেশে ধর্মীয় সহাবস্থান এবং সংলাপ আমাদের ঐতিহ্য, এবং সরকার এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।”

অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এসডিজি সমন্বয়কারী লামিয়া মোরশেদ, ভ্যাটিকানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক আরিফুল ইসলাম, এবং ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রকিবুল হক।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশাল মেরিন একাডেমির মেধাবী ছাত্র সুলাইমান ও বোনের শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তার কবলে

বরিশাল মেরিন একাডেমির মেধাবী ছাত্র সুলাইমান মল্লিক ও তার ছোট বোন সুরাইয়ার জীবন এখন সীমাহীন অনটনে বিপর্যস্ত। শৈশব থেকেই একাধিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়লেও তারা কখনোই পড়াশোনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়নি। সুলাইমান, যিনি ৫ম ও ৮ম শ্রেণীতে বৃত্তি পেয়েছিল, বর্তমানে জিপিএ-৫ সহ মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে বরিশাল মেরিন একাডেমিতে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তাঁর স্বপ্ন, মেরিন টেকনোলজিতে উচ্চশিক্ষা নিয়ে সমুদ্রগামী জাহাজে কাজ করে সারা পৃথিবী ভ্রমণ করা। তবে এখন তাঁর সামনে এক কঠিন বাস্তবতা—অর্থনৈতিক অভাব।

সুলাইমানের শিক্ষা জীবন

সulaiমানের মা হাসিনা বেগম ও নানা মোমিন আলী, তাদের দুটি সন্তানকে নিজের সীমিত আয়ের মধ্যে বড় করেছেন। সুলাইমানের বাবা এক অজ্ঞাত কারণে পরিবার ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, যা তাদের জীবনে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করেছে। সেসব অভাব-অনটনের মধ্যেও মেধাবী সুলাইমান কখনো পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়েননি। তার ছোট বোন সুরাইয়া, যিনি বর্তমানে শহিদ জিয়াউর রহমান কলেজে পড়াশোনা করছেন, তারও একই রকম পরিস্থিতি।

বৈরি পরিস্থিতির পরেও দুই সন্তানই দারুণ কৃতিত্বের সাথে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। সুলাইমানের একাডেমিতে ভর্তি হওয়ার খরচে সাহায্য পাওয়া গেলেও, তার সেমিস্টার ফি এবং আবাসিক হোস্টেলে থাকার খরচ পরিশোধ করার মতো কোনও ব্যবস্থা এখনও করা সম্ভব হয়নি। এই অবস্থায় সুলাইমানের জন্য আগামী দিনের পথ আরো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁর ছোট বোন সুরাইয়া, যিনি প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে কলেজে যান, একাধিক শারীরিক কষ্টের সম্মুখীন হচ্ছেন।

মা হাসিনা বেগমের সংগ্রাম

মা হাসিনা বেগম, যিনি শুরু থেকেই সন্তানদের সুখ-দুঃখের সাথী ছিলেন, এখনো একে একে তাদের পড়াশোনার খরচ যোগানোর জন্য মানুষের বাড়িতে কাজ করছেন। কিন্তু তাঁর সামর্থ্য সীমিত হওয়ায়, সংসারের খরচ আর দুই সন্তানের লেখাপড়ার খরচ চালানো এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে তাদের স্বপ্ন যেন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। মা হাসিনা এবং নানা মোমিন আলী তাদের সন্তানদের একটি ভালো জীবন দেওয়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করছেন, তবে অভাবের কারণে তাদের স্বপ্ন প্রায়ই ভেঙে পড়ছে।

সহায়তার প্রয়োজন

এই মেধাবী ভাই-বোনদের জন্য এখন সহায়তার প্রয়োজন। যদি তারা অর্থনৈতিক সহায়তা পায়, তাহলে তারা তাদের পড়াশোনায় আরও ভালো করতে পারবে এবং ভবিষ্যতে দেশের জন্য ভালো কিছু করতে সক্ষম হবে। সুলাইমানের শিক্ষার দিকে সমাজের মানুষের সহানুভূতির হাত বাড়ানো গেলে, তারা তাদের স্বপ্ন পূরণের পথে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম