“নরপিশাচের ছোবলে লামিয়ার মৃত্যু বাংলাদেশের জন্য শিক্ষা: দুমকিতে সারজিস আলম”

পটুয়াখালীর দুমকিতে জুলাই আন্দোলনের শহীদ জসীমউদ্দীনের কন্যা লামিয়া আক্তারের জানাজায় অংশ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক (উত্তর অঞ্চল) সারজিস আলম বলেন, “কিছু নরপিশাচের ছোবল থেকে আমরা আমাদের বোন লামিয়াকে রক্ষা করতে পারিনি। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি বড় শিক্ষা।”

রোববার সন্ধ্যায় পাংগাশিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা পূর্ব সংক্ষিপ্ত আলোচনায় তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই, আর কোনো বোন যেন এভাবে হারাতে না হয়। এমন নির্মম ঘটনার যেন আর কখনো পুনরাবৃত্তি না ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আমাদের জোরালো দাবি, এই খুনিদের আগামী ৯০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হোক।”

সারজিস আলম আরও বলেন, “শুধু শাস্তি দিলেই চলবে না, আমাদের বোন আছিয়া এবং লামিয়ার খুনিদের বিচার এবং শাস্তির দৃশ্য ও ভিডিও পুরো বিশ্বের সামনে প্রকাশ করতে হবে। যেন পৃথিবী দেখে — এ দেশের মাটিতে আর কোনো নরপিশাচ জন্ম না নেয়।”

উল্লেখ্য, পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার শহীদ জসিমউদ্দীনের কন্যা কলেজ ছাত্রী লামিয়া আক্তার সম্প্রতি ঢাকায় আত্মহত্যা করেন। শনিবার রাতে রাজধানীর শেখেরটেক এলাকার ভাড়া বাসায় তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এর আগে, গত ১৮ মার্চ সন্ধ্যায় বাবার কবর জিয়ারত শেষে বাড়ি ফেরার পথে উপজেলার পাংগাশিয়া ইউনিয়নে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন লামিয়া। পরবর্তীতে তিনি নিজেই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযুক্ত সাকিব ও সিফাতকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে।


মো: আল-আমিন



পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পরিত্যক্ত স্ক্র্যাপইয়ার্ডে আগুন

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ধানখালীতে সদ্য চালু হওয়া ১৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র (আরএনপিএল) এর স্ক্র্যাপ শেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রোববার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বিশাল এই স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে হঠাৎ আগুন লেগে যায়। প্রায় ২০ একর এলাকাজুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্ক্র্যাপ শেডে জমাকৃত লোহা-লক্কর ও অন্যান্য ধাতব সামগ্রীতে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এতে অন্তত ১৩-১৪টি ডিউটি পোস্ট সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে হাজার টনের বেশি স্ক্র্যাপ মজুত ছিল, যা আগুনের তীব্রতা বাড়াতে ভূমিকা রাখে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ঘটনার খবর পেয়ে কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পাওয়ার প্লান্টের কর্মীদের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। আগুন যাতে মূল বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য বিশেষ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।

পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম ভূঁইয়া জানান, মূল প্লান্ট এখনো নিরাপদ রয়েছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে কোনো সমস্যা হয়নি। তিনি আরও বলেন, অগ্নিকাণ্ড নাশকতার ঘটনা কি না, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।

এদিকে, ঘটনার পরপরই কলাপাড়া উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং সার্বিক পরিস্থিতি তদারকি করছেন। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ ঘটনায় পুরো এলাকা জুড়ে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ঝালকাঠিতে মুগ ডাল চাষে কৃষকদের মুখে হাসি

ঝালকাঠি জেলার কৃষকদের জন্য চলতি মৌসুমটি অত্যন্ত সুখবর বয়ে এনেছে। মুগ ডালের বাম্পার ফলন এই অঞ্চলের কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও চাষিদের প্রশিক্ষণের ফলে এবারের মুগ ডালের আবাদ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৪০০ হেক্টর জমিতে বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। এই অঞ্চলের উৎপাদিত মুগ ডাল এখন স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে। কৃষকেরা লাভবান হওয়ার পাশাপাশি মুগ ডাল চাষে নতুন উদ্যোক্তাদের আগ্রহও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

নলছিটি উপজেলার কুলকাঠি গ্রামের কৃষকদের মতে, মুগ ডাল চাষে সময়মতো বীজ, সার ও প্রশিক্ষণ সহায়তা পাওয়ায় তাদের ফলন সন্তোষজনক হয়েছে। প্রায় প্রতিটি পরিবারে কৃষি কাজে নারীদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও মাঠে কাজ করছেন। এর ফলে উৎপাদন এবং লাভও বেড়েছে, যা নতুন কৃষি উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করছে।

ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, রাজাপুর এবং কাঁঠালিয়া উপজেলার মোট ২ হাজার ৬০৫ হেক্টর জমিতে মুগ ডাল চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও এই বছর ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ আশা করছে, এই উৎপাদন প্রায় ৩,৫০০ মেট্রিক টন মুগ ডাল হবে, যার বাজার মূল্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। বিশেষত বারি মুগ-৬ ও বারি মুগ-১৪ জাতের চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়েছে।

জেলার কৃষকরা জানাচ্ছেন, মুগ ডাল চাষে তাদের খরচ কম হলেও ভালো লাভ হচ্ছে। এমনকি সেচ ও সার ছাড়াও মুগ ডাল চাষ লাভজনক। কৃষকরা মুগ ডাল চাষে আরও আগ্রহী হয়ে উঠছেন, কারণ এটি তুলনামূলকভাবে কম রক্ষণাবেক্ষণের ফসল এবং খরচও কম।

নলছিটি উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের কৃষক রুস্তম আলী বলেন, “আবহাওয়া অনুকূল থাকায় এবং কৃষি বিভাগের সহায়তায় মুগ ডালের ফলন অত্যন্ত ভালো হয়েছে। খরচ বাদেও এবার ভালো লাভ হবে।”

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. রিফাত সিকদার জানান, আধুনিক জাতের মুগ ডাল চাষে কৃষকরা নতুন করে উৎসাহিত হয়েছেন। এ বছর মুগ ডালের ভালো ফলন হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষভাবে, কৃষি প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকেরা আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতিতে দক্ষতা অর্জন করেছেন, যা নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করছে এবং চাষিদের জন্য সাফল্যের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে।

এই চাষের ফলে মুগ ডাল শুধু খাদ্য হিসেবে নয়, পুষ্টিকর এবং লাভজনক একটি ফসল হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। কম সেচ এবং সার ব্যবহারের কারণে এটি কৃষকদের জন্য একটি সুবিধাজনক ফসল হয়ে উঠেছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভোলা থেকে বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা

ভোলা থেকে সব রু‌টে বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাস শ্রমিক ইউনিয়ন। বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা শ্রমিকদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে এই বাস চলাচল বন্ধ করা হয়। এর আগে, বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চরফ্যাশনে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে বাস ও অটোরিকশা শ্রমিকদের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের ৩-৪ জন লোক আহত হন।

এদিকে, সন্ধ্যা থেকে ভোলা-চরফ্যাশন রুটে অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে। অন্যদিকে, বাস শ্রমিকরা ভোলা বীর শ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি মিছিল করেছে। তবে বাসস্ট্যান্ডে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা মোতায়েন রয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম

 




ভোলায় সেতু-গ্যাস-মেডিকেলের দাবিতে ঢাকায় বিক্ষোভ

ঢাকায় বসবাসকারী ভোলার জনসাধারণ শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৫, সকাল ১০ টা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। ‘আগামীর ভোলা’ সংগঠনের ব্যানারে আয়োজিত এই সমাবেশে বক্তারা ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ, ভোলার গ্যাস সরবরাহ এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি এসব দাবি দ্রুত বাস্তবায়িত না হয়, তবে কঠোর আন্দোলন করা হবে।

বিক্ষোভে প্রায় দেড় হাজার মানুষ অংশ নেয়। সমাবেশের পর একটি বিক্ষোভ মিছিল পল্টন মোড় ঘুরে আবারও প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। এ সময় কিছু সময়ের জন্য পল্টন-প্রেসক্লাব এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়।

সমাবেশে উপস্থিত ভোলা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম বলেন, “ভোলা খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ, কিন্তু এখনও আমাদের প্রতিটি ঘরে গ্যাস নেই, সেতু নির্মাণ হয়নি, এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য কোনো মেডিকেল কলেজও নেই।” তিনি আরো বলেন, “চিকিৎসার অভাবে প্রতিদিন বহু মানুষ মারা যাচ্ছেন এবং শিক্ষা ব্যবস্থাও দুর্বল হয়ে পড়েছে।”

‘আগামীর ভোলা’ সংগঠনের মুখপাত্র সাংবাদিক মীর মোহাম্মদ জসিম বলেন, “আমাদের আন্দোলন চলবে যতদিন না আমাদের দাবিগুলো পূর্ণ হয়।”

এ সময় কিছু দুর্বৃত্ত সমাবেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের প্রতিহত করে। শাহবাগ থানার পেট্রোল ইন্সপেক্টর সরদার বুলবুল আহমেদ বলেন, “আমরা কোনো মারধর করিনি, বরং শান্তিপূর্ণভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরগুনার আমতলীতে মুগডালের ভালো ফলন, দামে খুশি কৃষকরা

বরগুনার আমতলী উপজেলার কৃষকরা রবি মৌসুমে মুগ ডালের চাষে সফলতা পেয়েছেন। স্থানীয় কৃষকদের জানানো মতে, এবার উপজেলায় সাত হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড মুগ ডালের চাষ করা হয়েছে, যা খুবই ভালো ফলন দিয়েছে। বাজারে দামেরও উন্নতি হয়েছে, ফলে কৃষকরা খুশি।

আমতলীর হলদিয়া, চাওড়া, কুকুয়া, আঠারগাছিয়া, গুলিশাখালী, আমতলী সদর ও আমতলী সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ও মাঠে মুগ ডালের সমারোহ দেখা গেছে। ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকরা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরুষ, নারী এবং শিশুরা মিলেমিশে ডাল তুলছেন।

আড়পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নের চাষি মো. বারেক মিয়া বলেন, “আমি চার একর জমিতে মুগ ডাল চাষ করেছি এবং ভালো ফলন পেয়েছি।”

হলদিয়া এলাকার চাষি মো. নান্নু মিয়া বলেন, “আমি দুই একর জমিতে মুগ ডাল চাষ করেছি এবং ফলনও ভালো হয়েছে। বাজারে দামও ভালো পাচ্ছি।”

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নিখিল চন্দ্র জানান, “এ বছর উপজেলায় সাত হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড মুগ ডাল চাষ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ৬০% বেশি পতিত জমিতে চাষ করা হয়েছে।”

এদিকে স্থানীয় বাজারের আড়তদাররা জানাচ্ছেন, বাজারে প্রতি মণ মুগ ডাল চিকন ৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং মুগ মোটা ডাল ৩ হাজার ৭০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে।

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, “কৃষি বিভাগের পরামর্শ, তদারকি এবং ভালো আবহাওয়ার কারণে বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে মুগ ডালের চাষ করা হয়েছে এবং হেক্টর প্রতি ৯০০ কেজি থেকে এক হাজার ২০০ কেজি ডাল ফলন হয়েছে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরগুনায় শেকলে বন্দী জেলেদের জীবন: দাদন প্রথার ফাঁদে আটকে হাজারো মৎস্যজীবী

বরগুনার উপকূলীয় অঞ্চলের মৎস্যজীবীরা শত বছরের পুরনো দাদন প্রথার ফাঁদে আটকে পড়েছেন, যা তাদের জীবনের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে যারা বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করছেন, তারা আজও অর্থনৈতিক মুক্তি পায়নি। দাদন প্রথার কারণে তাদের আয় এবং জীবনযাত্রা অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়েছে, যা এক ধরনের শেকল হিসেবে তাদের জীবনকে বাঁধিয়ে রেখেছে।

বরগুনার প্রায় ৯৫% জেলে এই দাদনের শেকলে বন্দী। যদিও তারা বছরে কোটি টাকার মাছ ধরেন, কিন্তু তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না। এই প্রথা তাদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত করে, এবং অনেকেই পেশা ত্যাগ করার চিন্তা করছেন।

উপকূলীয় অঞ্চলের হাজারো জেলের জীবনে টিকে থাকা এখন এক বড় চ্যালেঞ্জ। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে মহাজনের চক্র—এই দুটি কারণে তারা দিশেহারা। এদের মুক্তির জন্য প্রয়োজন টেকসই ও ন্যায়সংগত মৎস্যনীতি এবং সরকারি সহায়তা, যাতে তারা দাদনের খুঁটিনাটি থেকে মুক্তি পেতে পারে।

দাদন প্রথার ফলে, জেলেরা ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়ে মাছ ধরেন, এবং বাধ্য হয়ে নির্দিষ্ট আড়তে মাছ বিক্রি করতে হয়। এতে তাদের লাভ কমে যায় এবং তারা ন্যায্য দাম পায় না। বরগুনার ৭২ বছরের জেলে মো. আলম ফিটার বলেন, “এত বছরেও কিছুই পাল্টায়নি জীবনে। প্রতি বছর ঝড়ের কবলে পড়ে বঙ্গোপসাগরে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে মাছ ধরতে যেতে হয়, আর দাদনের বোঝা বহন করতে হয়।”

ট্রলার মালিকরা জানাচ্ছেন যে, দাদন প্রথার কারণে তাদের ক্ষতিও হয়, কারণ অনেক সময় জেলেরা আনা মাছের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ এনে দিতে পারেন না। এমনকি জেলেদের অপহরণের মতো ঘটনা ঘটলেও, ট্রলার মালিকরা চাঁদা দিয়ে তাদের মুক্ত করেন, তবে জেলেরা কখনো সেই টাকা শোধ করতে পারেন না।

বাংলাদেশ মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, “সাগরে মাছ কমে যাওয়ায় জেলে ও ট্রলার মালিকরা লোকসানে পড়ছেন, এবং ব্যাংক বা এনজিও ঋণ না দেওয়ার কারণে দাদনই একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

অর্থনীতিবিদ ড. শহিদুল জাহিদ বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংক যদি রিফাইন্যান্স ফান্ড গঠন করে, তাহলে উপকূলীয় জেলেদের স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া সম্ভব, যাতে তারা মহাজনের ওপর নির্ভর না করে স্বাধীনভাবে মাছ শিকার করতে পারে।”

বরগুনা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মহসীন জানান, “জেলেদের স্বাবলম্বী করতে সরকার বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদান করছে, কিন্তু নগদ অর্থ সহায়তার ব্যবস্থা নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমরা এই সমস্যা তুলে ধরব।”

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, “দাদন প্রথা বন্ধে কার্যকরী পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে, যাতে জেলেরা সরকারি সহায়তা পেতে পারে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভোলায় মুক্তা চাষে নতুন দিগন্তের সূচনা

ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চর গাজী গ্রামে পরীক্ষামূলক মুক্তা চাষে অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছে গ্রামীণ জনউন্নয়ন সংস্থা (জিজেইউএস)। এই চাষ প্রকল্পটি ইতোমধ্যেই সম্ভাবনার নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে এবং ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে, জিজেইউএস নিজস্ব অর্থায়নে যশোর থেকে অল্পসংখ্যক ঝিনুক সংগ্রহ করে শুরু করে এই পরীক্ষামূলক প্রকল্প। পুকুরের মাটি ও পানির গুণগত মান যাচাই করে, প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে ঝিনুকে কৃত্রিম মুক্তা প্রতিস্থাপন করে। এরপর ঝুড়িতে ডুবিয়ে রাখা হয় নির্দিষ্ট গভীরতায়, যেখানে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও যত্নের মাধ্যমে মুক্তার স্তর গঠিত হতে থাকে।

মুক্তা প্রস্তুত হতে সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস সময় লাগে, তবে এই প্রকল্পের অধীনে মাত্র ৭ মাসে সফলতা এসেছে। প্রতি ১৫ দিন পর পর পুকুরে ইউরিয়া, পটাশ, ড্যাব ও খৈল ছিটিয়ে ঝিনুকের জন্য প্রাকৃতিক খাদ্য তৈরি করা হয় এবং নিয়মিত পানি ও মাটির মান পরীক্ষা করা হয়।

জিজেইউএস-এর পরিচালক (লিগ্যাল এডভোকেসি ও প্রোগ্রাম) এডভোকেট বীথি ইসলাম জানান, “আমাদের এই পাইলট প্রকল্প সফল হয়েছে। ভবিষ্যতে আমরা এই চাষ পদ্ধতি আমাদের সদস্যদের মধ্যেও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছি।”

স্থানীয়দের মধ্যে মুক্তা চাষের ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে এবং অনেকেই ঝিনুক চাষ শুরু করার পরিকল্পনা করছেন। ভোলা মৎস্য অধিদপ্তরের খামার ব্যবস্থাপক এ এইচ এম জাকির হোসেন বলেন, “মুক্তা চাষে এই সফলতা অব্যাহত থাকলে দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা যেমন বাড়বে, তেমনি বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করাও সম্ভব হবে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং আত্মনির্ভরশীলতার পথ প্রশস্ত করবে। ভোলা সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নের চর গাজীতে এই পরীক্ষামূলক মুক্তা চাষ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




পিরোজপুরে নিজ গোপনাঙ্গ কেটে ফেললেন যুবক

পিরোজপুরের নাজিরপুরে নিজ পুরুষাঙ্গ কেটে ফেললেন মো. বায়েজিদ শিকদার (২৮) নামে এক যুবক। তিনি উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ বানিয়ারী গ্রামের এমেদুল শিকদারের ছেলে।

রোববার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে নিজ বাড়ির বসত ঘরে বসে ওই যুবক এ ঘটনা ঘটান। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডাক্তার শিমুল কৌশিক সাহা বলেন, রোববার দুপুরে ওই যুবককে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়। তার পুরুষাঙ্গ সম্পূর্ণ কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওই যুবকের চাচি জানান, যুবকের পিতা মাঠে ধান কাটার কাজে ও মা পরিবারের কাজে ব্যস্ত থাকায় দুপুরে তিনি তার নিজ বাড়ির বসত ঘরের বিল্ডিংয়ের দরজা আটকে নিজের পুরুষাঙ্গ কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এতে গুরুতর আহত হলে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তিনি আরও বলেন, ওই যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন। এর আগে গত বছর তিনি আত্মহত্যার উদ্দেশে নিজ বাড়ির ছাদ থেকে লাফিয়ে আহত হয়েছিলেন।

এ ব্যাপারে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদ আল ফরিদ ভুইয়া বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




খাল বাঁচলেই বরগুনা বাঁচবে: এখনও সম্ভব ভাড়ানি খাল রক্ষা

ভাড়ানি খাল বরগুনা শহরের প্রাণ। একসময় যেখানে ছিল খরস্রোতা নৌপথ, এখন সেখানে জমেছে আবর্জনা, দখল আর বিষাক্ত বর্জ্য। তবে পরিবেশবাদীরা বলছেন—আশা এখনও শেষ হয়নি, চাই শুধু কার্যকর পদক্ষেপ।

বরগুনা শহরের বুক চিরে খাকদোন নদী থেকে পায়রা নদীতে মিশে যাওয়া খালটির গুরুত্ব অপূরণীয়। পরিবেশ, নৌ-যোগাযোগ, শহরের সৌন্দর্য এবং পানির উৎস—সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই খালটি। অথচ দখলদারদের দাপট, পৌরসভার অবহেলা ও নাগরিকদের অসচেতনতার কারণে খালটি আজ মৃত্যুর মুখে।

২০১৮ সালে ‘বেলা’র করা মামলার রায়ে হাইকোর্ট খালের দুই কিলোমিটার এলাকার দখল উচ্ছেদের নির্দেশ দিলেও বাস্তবে তার অল্পই বাস্তবায়ন হয়েছে। ২০১৯ সালে ৫০টির বেশি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও বর্তমানে ১৫০টির বেশি অবৈধ স্থাপনা আবার গড়ে উঠেছে খাল ঘিরে। নিয়মিত আবর্জনা ফেলা, বাজার ও বাসাবাড়ির বর্জ্য নিঃসংশয়ে নিক্ষেপ—এটাই এখন বাস্তবতা।

পরিবেশ আন্দোলনকারীরা বলছেন, এটি শুধু খাল রক্ষার প্রশ্ন নয়, পুরো শহরের অস্তিত্ব রক্ষার বিষয়। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) বরগুনা শাখার সভাপতি মুশফিক আরিফ বলেন, “এই খাল শহরের অন্যতম জলাবদ্ধতা প্রতিরোধকারী প্রাকৃতিক ব্যবস্থাও বটে। এটি শুকিয়ে গেলে শহর বৃষ্টিতে ডুববে, বাস্তুতন্ত্র ভেঙে পড়বে।”

বরগুনা স্বাস্থ্য ফোরামের সিনিয়র সহসভাপতি জাহাঙ্গীর কবীর মৃধা বলেন, “মুরগির বর্জ্য, মাছ বাজারের আবর্জনা এই খালে পড়ছে, আর সেই পানি দিয়েই অনেক পরিবার রান্না ও গোসল করছে—এটা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।”

জনসাধারণ ও পরিবেশকর্মীরা একমত—খাল রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন ৩টি প্রধান পদক্ষেপ:

  1. নিয়মিত খাল পরিষ্কার কার্যক্রম
  2. নতুন দখল রোধে কঠোর নজরদারি
  3. জনসচেতনতা ও গণমাধ্যমে প্রচার

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন—এভাবে চলতে থাকলে একদিন পুরো খালটাই কেবল মানচিত্রেই থাকবে, বাস্তবে নয়। বরগুনাবাসী এখন পৌরসভার দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায়, যাতে ভাড়ানি খাল ফিরে পায় তার হারানো প্রাণ ও গৌরব।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /