ভুয়া ডিবি সেজে চাঁদাবাজি, বরগুনায় দুই প্রতারক গ্রেফতার

বরগুনার তালতলী উপজেলায় নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে মামলার তদন্তের নামে চাঁদাবাজি করার অভিযোগে দুই প্রতারককে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। শনিবার (৩ মে) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তালতলীর পঁচাকোড়ালিয়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—রিয়াজ উদ্দিন (২৬), পিতা মো. হাবিব তালুকদার এবং রাসেল (২৫), পিতা মো. আবু হানিফ। রিয়াজ পেশায় আইনজীবীর সহকারী এবং রাসেল ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলচালক। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, হুমকি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, রোববার তাদের আদালতে পাঠানো হবে।

ডিবি পুলিশের তথ্যমতে, এই প্রতারক চক্র কোর্ট থেকে বিভিন্ন মামলার কপি সংগ্রহ করে তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের বাড়িতে গিয়ে নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিত। পরে মামলার তদন্তের কথা বলে হুমকি-ধমকি দিয়ে টাকা দাবি করত। অনেকেই হয়রানি ও ভয়ে টাকা দিয়ে তাদের ‘ম্যানেজ’ করে আসছিল।

তাদের প্রতারণার শিকার হন আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা মাসুম মৃধা। তিনি বিষয়টি সন্দেহজনক মনে করে বরগুনা জেলা ডিবি পুলিশের ইনচার্জ মো. ইকরাম হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করে ডিবি। নজরদারির একপর্যায়ে অভিযুক্তদের প্রতারণার একাধিক প্রমাণ পাওয়ার পর শনিবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

বরগুনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ মো. ইকরাম হোসেন বলেন, “আমরা লিখিত অভিযোগ পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হালিমকে বিষয়টি জানাই। তার নির্দেশনায় তদন্ত করে সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হালিম বলেন, “এই ধরনের প্রতারণা শুধু ভুক্তভোগীদের হয়রানি নয়, বরং পুলিশের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করে। তাই দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন কাজ করার সাহস না পায়।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভোলা সমিতি ঢাকার নতুন নেতৃত্বে ৭১ সদস্যের কমিটি গঠন

ঢাকাস্থ ভোলাবাসীদের বৃহৎ অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভার মাধ্যমে “ভোলা সমিতি ঢাকা”র নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি)-এর সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন আইইবি ঢাকা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন তালুকদার।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় বসবাসরত ভোলার বিশিষ্ট শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, আইনজীবী, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। আলোচনা শেষে সর্বসম্মতভাবে প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন তালুকদারকে আহ্বায়ক এবং গোলাম মাসুদ খান লাবলুকে সদস্য সচিব করে ৭১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন করা হয়।

অনুষ্ঠানটি এক সময় ঢাকাস্থ ভোলাবাসীর মিলনমেলায় পরিণত হয়। সভায় আরও গঠন করা হয় ৮ সদস্যের একটি উপদেষ্টা পরিষদ। উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন:

  • মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম – বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী
  • নাজিম উদ্দিন আলম – বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি
  • হাফিজ ইব্রাহিম – বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি
  • আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর – ভোলা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক
  • নুরুল ইসলাম নয়ন – জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক
  • আমিনুল হক – বিএনপি কেন্দ্রীয় ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক
  • সাইফুল ইসলাম নিরব – বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য
  • হায়দার আলী লেলিন – বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য

ভবিষ্যতে ঢাকায় বসবাসরত ভোলাবাসীর সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে এই কমিটি অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয় সভায়।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




জিও ব্যাগ ফেলতে গিয়ে নদীতে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে কাজ করার সময় পা পিছলে পড়ে মো. মোসলেম উদ্দিন মোল্লা (৪৫) নামের এক শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার সকালে শহরের পুলিশ লাইনের সামনে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল।

নিহত মোসলেম উদ্দিন ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার ধলীগর নগর ইউনিয়নের পূর্ব চতলা এলাকার বাসিন্দা। পেশাগত কারণে তিনি ঝালকাঠি শহরে অবস্থান করছিলেন এবং নদী খনন কাজে জিও ব্যাগ ফেলায় নিয়োজিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, সকালবেলা শহরের কুতুবনগর এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলতে গিয়ে হঠাৎ পা পিছলে নদীতে পড়ে যান মোসলেম। সঙ্গে সঙ্গে নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। খবর পেয়ে ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। তবে অভিজ্ঞ ডুবুরি না থাকায় বরিশাল থেকে অতিরিক্ত ডুবুরি দল আনা হয়।

প্রায় দুই ঘণ্টার অভিযান শেষে সকাল ১০টার দিকে পুলিশ লাইনের সামনে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “খবর পাওয়ার পর আমরা উদ্ধার কাজ শুরু করি। পরে বরিশাল থেকে আসা ডুবুরি দলের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার সম্ভব হয়।”

ঝালকাঠি সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রিয়াজুল ইসলাম জানিয়েছেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /


 




সিনিয়র আইনজীবীর মৃত্যুতে স্থগিত চিন্ময়ের জামিন শুনানি

সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এম. আই. ফারুকীর ইন্তেকালে শ্রদ্ধা জানাতে আজ রবিবার (৪ মে) সুপ্রিম কোর্টে বিচারিক কার্যক্রম আংশিকভাবে স্থগিত রাখা হয়। এ কারণে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জামিন পাওয়া সাবেক ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর জামিন স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে নির্ধারিত আজকের শুনানি হয়নি।

সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আপিল বিভাগের বিচারিক কার্যক্রম সকাল ১১টা পর্যন্ত এবং হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম দুপুর ১টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে। এরপর দিনটিতে আর কোনো বিচারিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে না।

প্রয়াত আইনজীবী এম. আই. ফারুকীর (অ্যাডভোকেট রোল নম্বর-৭) মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি। তার সম্মানে এবং প্রধান বিচারপতির নির্দেশে এ দিন সুপ্রিম কোর্টে কার্যক্রম বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়।

চিন্ময়ের আইনজীবী অ্যাডভোকেট অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য দুপুরে গণমাধ্যমকে জানান, আজকের শুনানি হচ্ছে না। তবে আগামীকাল সোমবার শুনানি হতে পারে।

এদিকে, এই জামিন শুনানিকে ঘিরে চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আদালত চত্বরে প্রবেশ পথে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। বিচারপ্রার্থী ও কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে।

সকাল ১১টার দিকে ‘ছাত্রসমাজ’ নামে একটি সংগঠনের কর্মীরা আদালত প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন। তারা আইনজীবী আলিফ হত্যার বিচার ও চিন্ময়ের মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান।

গত ৩০ এপ্রিল রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন প্রশ্নে হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে ৪ মে চেম্বার আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ তখন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

এর আগে হাইকোর্টের বিচারপতি আতোয়ার রহমান খান ও বিচারপতি আলী রেজা মো. আবু জাফর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ চিন্ময়ের জামিন মঞ্জুর করে রুল যথাযথ ঘোষণা করেন। তবে সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপক্ষ এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করে, যার শুনানির জন্য ৪ মে তারিখ নির্ধারিত ছিল।

উল্লেখ্য, চিন্ময় কৃষ্ণ দাস গত পাঁচ মাস ধরে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার হয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




প্রবাসী মনিরের লাশ ফিরে এলো দুমকিতে, স্ত্রীর কান্নায় ভারী আকাশ-বাতাস

একটু ভালো জীবনের আশায় পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার দুমকি গ্রামের মোহাম্মদ মনির হোসেন পাড়ি জমিয়েছিলেন সংযুক্ত আরবআমিরাতে। স্ত্রী, সন্তান, বাবা-মাকে দেশে রেখে গিয়েছিলেন স্বপ্ন নিয়ে—অস্বচ্ছলতার দিন শেষ করে সুখ-শান্তি ফিরিয়ে আনবেন পরিবারের মুখে। কিন্তু সেই স্বপ্ন থেমে গেল এক করুণ দুর্ঘটনায়। জীবিকার আশায় প্রবাসে যাওয়া মনির শেষবারের মতো দেশে ফিরলেন লাশ হয়ে।

মৃত্যুর প্রায় দুই মাস পর রবিবার (৪ মে) সকাল ৯টায় ইউএস-বাংলার বিএস ৩৪২ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় তার মরদেহ। প্রিয়জনকে শেষবারের মতো বরণ করতে গিয়ে স্ত্রী, সন্তান, স্বজনদের আহাজারিতে বিমানবন্দর এলাকা হয়ে ওঠে শোকস্তব্ধ। মনিরের স্ত্রী বারবার বলতে থাকেন, “তোমার কি লাশ হয়ে আমার কাছে ফেরার কথা ছিলো? এমন তো কথা ছিলো না…”

মনিরের চাচা শ্বশুর, বন্ধু ও স্ত্রী লাশ গ্রহণ করে বাড়িতে নিয়ে যান। বিকেলে জানাজা শেষে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহত মনির হোসেন দুমকি উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। তার বয়স হয়েছিল ৪০ বছর। তিনি তিন কন্যা সন্তানের জনক। পরিবার জানায়, প্রায় ১৫ মাস আগে তিনি আমিরাতে পাড়ি জমিয়েছিলেন। গেল রমজান মাসে কর্মক্ষেত্রে একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

মনিরের স্ত্রীর হৃদয়বিদারক কান্নায় উপস্থিত মানুষজন চোখের পানি আটকে রাখতে পারেননি। তার একাকীত্বের আর্তি যেন গোটা সমাজকে নাড়া দিয়েছে—এই মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, হাজারো প্রবাসী পরিবারের দুর্ভাগ্যের প্রতিচ্ছবি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সুগন্ধা নদীতে জিও ব্যাগ ফেলতে গিয়ে শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু

ঝালকাঠির সুগন্ধা নদীতে জিও ব্যাগ ফেলতে গিয়ে পানিতে ডুবে প্রাণ হারিয়েছেন মোছলেউদ্দিন মোল্লা (৪৫) নামে এক শ্রমিক।

রবিবার (৪ মে) সকাল ১০টার দিকে পুলিশ লাইনের সামনের অংশে নদী থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের দুই ঘণ্টার অভিযান শেষে এই উদ্ধার অভিযান সফল হয়।

নিহত মোছলেউদ্দিন ভোলা জেলার লালমোহন উপজেলার ধলীগর নগর ইউনিয়নের পূর্ব চতলা গ্রামের করিম মোল্লার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে কয়েকজন শ্রমিক মিলে নদীতে জিও ব্যাগ ফেলার কাজ করছিলেন। কাজের এক পর্যায়ে মোছলেউদ্দিনের পা পিছলে তিনি নদীতে পড়ে যান এবং নিখোঁজ হন।

ঝালকাঠি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম জানান, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা উদ্ধার অভিযানে নামে এবং বরিশাল ডুবুরি দলের সহযোগিতায় লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরিশালের নদীপথে নেই নির্দেশনা বাতি, রাত্রিকালীন নৌযান চলাচলে চরম ঝুঁকি

বরিশালের নদীপথে নেই পর্যাপ্ত নৌপথ নির্দেশনা বাতি। ফলে বিশেষ করে রাতের বেলায় যাত্রীবাহী নৌযানগুলো চরম ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। চুরি ও যন্ত্র বিকলের কারণে অধিকাংশ নির্দেশনা বাতি অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলতে হচ্ছে হাজার হাজার যাত্রী ও নৌযান চালকদের।

বরিশাল অঞ্চলে প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ নৌপথে রয়েছে অসংখ্য চর ও সংকীর্ণ পথ। দুর্ঘটনা এড়াতে এসব ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় স্থাপন করা হয়েছিল ১৩৮টি নৌপথ নির্দেশনা বাতি। এর মধ্যে রয়েছে ৪০টি বয়া ও ৯৮টি বিকন বাতি।

কিন্তু বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের তথ্য অনুযায়ী, এসব বাতির অধিকাংশই এখন আর সচল নেই। বড় একটি অংশ চুরি হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, একটি অসাধু জেলে গোষ্ঠী বাতি চুরির সঙ্গে জড়িত।

নৌপথে চলাচলকারী চালকেরা বলছেন, এই অবস্থায় রাতে চলাচল করা রীতিমতো দুঃসাহসিক কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্ধকারে চর দেখা না যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি ভয়াবহভাবে বেড়েছে।

“বাতি না থাকায় চর দেখা যায় না। ছোট একটি ভুলেই বড় দুর্ঘটনা হয়ে যেতে পারে। আমরা নিজেরাই আতঙ্কে থাকি, যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা তো বলাই বাহুল্য,” — জানান এক লঞ্চচালক।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের নৌপথ নির্দেশনা বিভাগের পরিদর্শক মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, বাতি চুরির ঘটনায় ইতোমধ্যে ৪৯টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত একটি ঘটনারও কোনো সমাধান হয়নি।

বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রেজওয়ান আহমেদ বলেন,
“বিষয়টি নিয়ে আমরা কঠোর নজরদারিতে আছি। স্থানীয় পুলিশ ফোর্সকে বিশেষভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

বরিশাল নৌবন্দর কর্মকর্তা শেখ মোহাম্মদ সেলিম রেজা জানিয়েছেন,আসন্ন কোরবানির ঈদ ও বর্ষা মৌসুমের আগেই সমস্যার সমাধানে কাজ শুরু করা হবে। বিকল বাতিগুলো সংস্কার ও নতুন বাতি স্থাপন করা হবে।”

উল্লেখ্য, প্রতিটি বয়ার বাজারমূল্য ২৬ থেকে ৩০ লাখ টাকা এবং প্রতিটি বিকনের দাম প্রায় ৩ লাখ টাকা। অথচ এই মহামূল্যবান যন্ত্রপাতি নিরাপত্তার অভাবে আজ অকার্যকর ও অদৃশ্য হয়ে গেছে।

নদীবেষ্টিত বরিশালে নৌপথ যেন প্রাণরক্ষার চেয়ে প্রাণহানির আশঙ্কা বেশি করে তুলছে। রাতের অন্ধকারে নির্দেশনা বাতি ছাড়া নৌযান চালানো একটি ভয়াবহ বাস্তবতা। এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছেন সচেতন নাগরিকরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




জুলাই আন্দোলন থামেনি, রাস্তাগুলো ছাড়লে শত্রু ফিরে আসবে: প্রেস সচিব শফিকুল আলম

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন, জুলাই আন্দোলন এখনো শেষ হয়ে যায়নি। কারণ, যারা এই আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিল, তারা এখনও সক্রিয়ভাবে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি লিখেছেন, “গত নয় মাসে আমি বুঝেছি—জুলাই কেবল একটি সময়কাল নয়, এটি একটি ফ্রন্টলাইন, যেটিকে প্রতিদিন রক্ষা করতে হয়। এই বিরোধীরা হারিয়ে যায়নি, বরং সুযোগের অপেক্ষায় আছে।”

শফিকুল আলম বলেন, “এটি দুটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির লড়াই—একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও মুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখে; অন্যটি চায় লুটেরা, বংশগত ও দুর্নীতিপরায়ণ শাসনব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, “তুমি যখন বিশ্রাম নাও, ভাবো যে লড়াই শেষ—তখনই তারা ফিরে আসে হিংসা, প্রপাগান্ডা ও বিষ নিয়ে। তারা অপেক্ষা করে রাস্তাগুলো ফাঁকা হওয়ার, যেন সেগুলো আবার দখল নিতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “এই আন্দোলনের পথ শুধু বাস্তব রাস্তায় নয়, আদর্শের পথেও চলতে হবে। কারণ বিপ্লব-পরবর্তী সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সত্য রক্ষা করা।”

প্রেস সচিব উদাহরণ দিয়ে বলেন, “বিহারিদের ভাগ্য দেখো। মুক্তিযুদ্ধের সময় কিছু লোক দালালি করলেও, অধিকাংশ ছিল নিরীহ—যারা প্রান্তিক ছিল, নিস্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আজ জেনেভা ক্যাম্পে জন্ম নেয়া প্রজন্ম লজ্জা নিয়ে বড় হয়, নিজেদের গল্প বলার সুযোগও পায় না। এটাই কি আমাদের ভবিষ্যৎ হবে?”

তিনি বলেন, “যেখানে জীবন আমাকে নিয়ে যাক না কেন, আমি এই লড়াই ছাড়বো না। আমি জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলা থামাবো না, সত্য বলাও থামাবো না। কারণ ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত সময়টা ছিল দমন, ভয় আর ডিজিটাল দাসত্বের সময়কাল।”

শফিকুল আলম আরও বলেন, “নতুন বাংলাদেশের জন্য এই লড়াই শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি আমার ব্যক্তিগত যুদ্ধও। এটি আমার অস্তিত্বের প্রশ্ন। আর আমি এই যুদ্ধে হারতে পারি না, হারবও না।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



জাতীয় ঐকমত্যে এগোচ্ছে দেশ, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যের কথা বললেন আলী রীয়াজ

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় জাতীয় ঐকমত্য তৈরি এবং একটি সুনির্দিষ্ট জাতীয় সনদ প্রণয়নের লক্ষ্যে কাজ করছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এ কথা জানিয়েছেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

শনিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের সঙ্গে অনুষ্ঠিত সংলাপে সূচনা বক্তব্যে তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য খুবই স্পষ্ট—দেশে গণতন্ত্রের পূর্ণ প্রতিষ্ঠা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে তোলা। এর ভিত্তিতে একটি জাতীয় সনদ তৈরি হবে।”

তিনি আশা প্রকাশ করেন, “রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও গণতন্ত্রের ভিত্তি গঠনে রাজনৈতিক দল ও জোটগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে কিছুটা ছাড় দিয়ে এগিয়ে আসবে। সবাই যদি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়, তাহলে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব।”

আলী রীয়াজ আরও বলেন, “ভিন্ন ভিন্ন আদর্শ থেকে মতামত এলেও রাষ্ট্র ও গণতন্ত্রকে সামনে রেখে কিছু বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব। সেগুলো নিয়েই আমাদের কাজ।”

তিনি উল্লেখ করেন, “গত জুলাইয়ে গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে জাতীয় ঐক্যের সূত্রপাত হয়েছে, সেটি দেশকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা সব রাজনৈতিক শক্তিকে একত্রে আনার প্রয়াস চালাচ্ছি। এটা জরুরি হলেও মানে এই নয় যে সবাই সব বিষয়ে একমত হবেন। তবে রাষ্ট্র গঠন ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো তৈরিতে কিছু বিষয়ে ঐক্য সম্ভব।”

সংলাপে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট (এনপিপি) জানায়, কমিশনের দেওয়া ১৬৬টি প্রস্তাবের মধ্যে তারা ১১২টিতে একমত, ২৬টিতে একমত নয় এবং ২৮টিতে আংশিক একমত।

জোটের চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নেয়। তিনি বলেন, “অনির্বাচিত সরকার দীর্ঘ সময় দায়িত্বে থাকলে তা নানা সমস্যার জন্ম দেয়। অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত এমন একটি ভোটের ব্যবস্থা করা, যাতে মানুষ বলতে পারে—দীর্ঘ পনেরো বছর পর একটি নিরপেক্ষ ভোট দেখেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা চাই, যাতে দেশের মানুষ ভোট দিয়ে নিজের পছন্দের সরকার গঠন করতে পারে। সেটিই গণতন্ত্রের মূল চেতনা।”

বৈঠকটি পরিচালনা করেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঐকমত্য কমিশনের সদস্য সফর রাজ হোসেন, ড. বদিউল আলম মজুমদার ও ড. ইফতেখারুজ্জামান।

প্রসঙ্গত, সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বিবেচনায় নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার অনুমোদনে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গঠিত হয় ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশন’। সাত সদস্যের এ কমিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কমিশনটি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে সাচিবিক সহায়তা পাচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



চরমোনাই পীরের হুঁশিয়ারি: আগে সংস্কার, পরে নির্বাচন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে বলেছেন, আগে দেশ সংস্কার করুন, তারপর নির্বাচন দিন। তিনি বলেন, দুর্বল হাতে দেশ চালানো যায় না, তাই শক্ত হাতে দেশ পরিচালনার আহ্বান জানাচ্ছি। না হলে এমন বিপদের মুখোমুখি হবেন, যেখান থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয়—না আপনাদের, না গোটা জাতির।

শনিবার (৩ মে) শেষ বিকেলে পটুয়াখালীর বড় চৌরাস্তার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মসজিদ সংলগ্ন মাঠে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পটুয়াখালী জেলা শাখা আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বক্তৃতায় তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটাপন্ন। এ অবস্থায় নির্বাচনের আগে প্রয়োজন পূর্ণ সংস্কার। তিনি স্পষ্ট করেন, এই সংস্কার নিয়ে কোনো ধরনের আপস করবে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

রেজাউল করিম বলেন, অতীতে যে সরকারগুলো দেশ পরিচালনা করেছে, তারা নিজেদের স্বার্থে সংবিধানে একের পর এক পরিবর্তন এনেছে, তৈরি করেছে জনবিরোধী আইন। এসব বাতিল করেই কেবল একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথে যাওয়া সম্ভব। তিনি মনে করিয়ে দেন, জাতীয় পার্টির স্বৈরশাসন, বিএনপির দুর্নীতিপরায়ণতা এবং আওয়ামী লীগের দমন-পীড়ন ও সহিংসতা জাতি প্রত্যক্ষ করেছে। এই তিনটি শাসনের অভিজ্ঞতা দেশবাসীকে দিয়েছে তিক্ত বাস্তবতা।

তিনি বলেন, “এরা আমাদেরকে সবসময় ব্যবহার করেছে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসেবে। এবার সেই ভুল আর করবো না। আমাদেরকে আর বোকা ভাববেন না। আমাদের দাবি স্পষ্ট—একটি পূর্ণ সংস্কারমূলক, শক্ত হাতে পরিচালিত সরকার এবং পরবর্তীতে একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন।”
রেজাউল করিম আরও বলেন, “ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কী চায় তা নতুন করে বলার কিছু নেই, তবুও জাতির উদ্দেশ্যে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি—আমরা আল্লাহভীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে চাই, যেখানে জনগণের অধিকার থাকবে, অন্যায়-দুর্নীতির ঠাঁই থাকবে না।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম