জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় এনসিপি

জাতীয় ঐকমত্য গঠনের অংশ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দ্বিতীয় দফায় বৈঠকে বসেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে। মঙ্গলবার (৬ মে) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে নেতৃত্ব দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলম। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন সদস্য সচিব আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারসহ মোট চার সদস্য।

বৈঠকের শুরুতে সূচনা বক্তব্য দেন কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, “এর আগের আলোচনায় কিছু বিষয়ে অমীমাংসিত বিষয় ছিল, আজকের আলোচনার মধ্য দিয়ে তা নিরসনের আশা করছি।”

এ সময় এনসিপির পক্ষ থেকে একটি মৌলিক শাসন সংস্কারের রূপরেখা জমা দেওয়া হয়, যেখানে ক্ষমতার ভারসাম্য, বিকেন্দ্রীকরণ এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এনসিপির দাবি, ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠনে এ ধরনের সংস্কার অত্যাবশ্যক।

আলী রীয়াজ জানান, এনসিপির প্রস্তাব পর্যালোচনা করে পরবর্তী আলোচনায় তা প্রতিফলিত হবে এবং জাতীয় সনদ তৈরিতে এটি সহায়ক হবে। তিনি বলেন, “আমরা চাই, জাতীয় সনদ ভবিষ্যতের বাংলাদেশের জন্য একটি সুসংগঠিত, গণতান্ত্রিক দিকনির্দেশনা দেবে। এজন্য সব দলের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনাই আমাদের কৌশল।”

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। এনসিপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন আখতার হোসেন, সার্জিস আলম ও সারোয়ার তুষার।

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার কাঠামো প্রণয়নে এই ধরনের সংলাপকে ইতিবাচক মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ঝড়-বৃষ্টির সতর্কতা, ১০ অঞ্চলে ১ নম্বর সংকেত

বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সংস্থাটির পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য আগামীকাল মঙ্গলবার (৬ মে) দুপুর ১টা পর্যন্ত বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, দেশের কয়েকটি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার গতির দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পশ্চিম কিংবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত হওয়া এই দমকা হাওয়ার প্রভাবে রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা এবং সিলেট অঞ্চলে ঝড়ো বাতাসের পাশাপাশি বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এদিকে, আবহাওয়ার সর্বশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে শুরু করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ হয়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বিস্তৃত রয়েছে। এই অবস্থার প্রভাবে আগামীকাল (৬ মে) সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টি এবং বিদ্যুৎ চমকানো বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। তবে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মৌসুমি প্রভাব এবং বায়ুচাপের পার্থক্যের কারণে আবহাওয়া পরিবর্তনশীল থাকছে। সাধারণ জনগণকে সাবধানতা অবলম্বন ও প্রয়োজনে নৌযান চলাচলে সতর্কতা অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সাংবাদিক ছাঁটাই বন্ধে কড়া বার্তা তথ্য উপদেষ্টার

বিনা নোটিশে সাংবাদিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, কোনো সাংবাদিককে হঠাৎ করে চাকরিচ্যুত করা আইনি ও নৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, “তিনজন সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে, আমরা এর বিরোধিতা করি। সরকার চায় না কেউ কর্মহীন হোক। একজন মানুষের জীবিকার ওপর আঘাত এলে তা অনুচিত। সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া ছাড়া কাউকে চাকরিচ্যুত করা যাবে না।”

আজ সোমবার বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট আয়োজিত ‘ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সাংবাদিক হত্যা-নিপীড়ন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের হলরুমে।

তিনি বলেন, “দীপ্ত টিভি কাউকে কোনো নোটিশ না দিয়ে সংবাদ প্রচার বন্ধ করে দেয়, ফলে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় খবর হয়—যেন সরকার বন্ধ করে দিয়েছে। অথচ সরকার এমন কিছু করেনি। এটা ছিল টেলিভিশনটির একক সিদ্ধান্ত। সরকারের অবস্থান পরিষ্কার—কোনো গণমাধ্যম বন্ধ করা হবে না। তবে কোনো মাধ্যম পক্ষপাতদুষ্ট হয়ে কাজ করলে সেটি খতিয়ে দেখা হবে।”

মাহফুজ আলম আরও বলেন, “সরকারকে প্রশ্ন করা উচিত। প্রশ্ন করলে সরকার জবাবদিহিতার মধ্যে থাকে। তবে প্রশ্ন আর প্রোপাগান্ডা এক নয়। এখনো কিছু পত্রিকা ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ শব্দটি ব্যবহার না করে ‘আন্দোলন’ বলে উল্লেখ করছে। এভাবে তারা প্রকৃত ঘটনাকে আড়াল করছে। এতে বোঝা যায় তারা হাজার হাজার শহীদের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করছে, যেটা সত্যিই দুঃখজনক।”

তিনি বলেন, “গণমাধ্যমের কেউ যেন এ ঘটনার সত্যতা আড়াল না করে। আমরা কোনো সংবাদমাধ্যমে হস্তক্ষেপ করিনি, করবও না। কিন্তু ইতিহাস বিকৃতির প্রয়াস গণমাধ্যমের পক্ষেও কাম্য নয়। শেখ হাসিনা ও শেখ মুজিবের শাসনামল অন্য যে কোনো কালের তুলনায় স্বতন্ত্র। এই ইতিহাস ভুলে গেলে জাতি পথ হারাবে।”

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “আওয়ামী লীগের আমলে অনেক গণমাধ্যম লাইসেন্স পেয়েছে, যেগুলো তদন্ত করা হবে। কারণ গণমাধ্যমের স্বাধীনতার আড়ালে কেউ যেন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাজ না করে।”

তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনা নিজেই পালিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁর আগেও শেখ পরিবারের সদস্যরা পালিয়েছেন। আজ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা পালিয়ে বেড়াচ্ছে—এ দায় শেখ হাসিনার।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ। আরও বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা, দৈনিক যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ, দৈনিক আমার দেশ-এর সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, দৈনিক সংগ্রামের সাবেক সম্পাদক আবুল আসাদ, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, সহ-সভাপতি খায়রুল বাশার, প্রথম আলোর নির্বাহী সম্পাদক সাজ্জাদ শরিফ, নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলি এবং শীর্ষ নিউজের সম্পাদক একরামুল হক।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদা বেগম, তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা মো. নিজামূল কবীর, জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. কাউসার আহাম্মদ এবং গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ফায়জুল হক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীর করমজাতলায় জিও ব্যাগ ধসে আতঙ্কে নদীতীরবর্তী মানুষ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার করমজাতলা এলাকায় রাবনাবাদ নদীর পাড়ে জরুরি ভিত্তিতে স্থাপিত জিও ব্যাগ ও টিউব মাত্র চার মাসেই ধসে পড়তে শুরু করেছে। এতে বর্ষা মৌসুমের আগেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে নদীতীরবর্তী এলাকাগুলোতে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যবহৃত উপকরণগুলো ছিল নিম্নমানের এবং অনেক টিউব ছিল পুরনো ও ছেঁড়া, যার ফলে দ্রুত ধস দেখা দিয়েছে।

করমজাতলার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, “টিউবগুলো বসানোর সময়ই আমরা দেখেছি অনেকগুলো ছেঁড়া ছিল। নিচে জিও ব্যাগ না থাকায় সাপোর্টও ছিল না। বর্ষা এলেই বড় বিপদ হতে পারে।”

রফিকুল ইসলাম নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, “নদীতে ড্রেজিংয়ের কারণে ভাঙন আরও বেড়েছে। কিন্তু জরুরি কাজেও স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

পাউবো সূত্র জানায়, কলাপাড়া উপজেলার ৫৪/এ পোল্ডারের ১৩.০০ কিমি থেকে ১৪.১২০ কিমি পর্যন্ত—মোট ১,১২০ মিটার এলাকায় নদীভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ও টিউব বসানো হয়। এতে ব্যয় হয় প্রায় দেড় কোটি টাকা। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কলাপাড়া।

তবে পাউবো’র উপসহকারী প্রকৌশলী বিদ্যা রতন সরকার বলেন, “স্পটটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, মাটি সংকট ছিল, আমরা অনেক দূর থেকে সংগ্রহ করে কাজ করেছি। নিম্নমানের ব্যাগ বা ছেঁড়া টিউব ব্যবহারের অভিযোগ সঠিক নয়।”

তিনি আরও বলেন, “স্থায়ী প্রটেকশন না দিলে এই জায়গা নিরাপদ হবে না। ব্লক বসানোর প্রয়োজন রয়েছে।”

পাউবো’র উপবিভাগীয় প্রকৌশলী শাহ আলম ভূঁইয়া বলেন, “এটা খুবই ক্রিটিক্যাল জায়গা। স্থায়ী বাঁধ ছাড়া ভাঙন ঠেকানো সম্ভব নয়।”

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, রাবনাবাদ নদীর ভাঙন নিয়ে তারা প্রতিবছরই আতঙ্কে থাকেন। বছর বছর জরুরি কাজ হলেও, স্থায়ী কোনো বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় পরিস্থিতি অপরিবর্তিত। এবারও জরুরি কাজ ভেঙে পড়ায় এলাকাবাসীর ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে।

তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা না নিলে করমজাতলা ও আশপাশের গ্রামগুলো যে কোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যেতে পারে।

মো. আল-আমিন
স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কোরবানির চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্য মূল্য, পরিবহন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠুভাবে নিশ্চিত করতে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। আজ রবিবার (৪ মে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “দীর্ঘদিন ধরেই কোরবানির পশুর চামড়ার সঠিক মূল্য না পাওয়ায় সমাজের দরিদ্র জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছে। অনেকেই এই আয়টুকুর ওপর নির্ভরশীল। এই অব্যবস্থা চলতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, “চামড়ার বাজারে একটি অসাধু সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে, যারা কৃত্রিমভাবে মূল্য নিয়ন্ত্রণ করে। সরকার এবার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে যেন কোনো সিন্ডিকেট বা অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।”

এ সময় পশু পরিবহন ও হাট ব্যবস্থাপনায় নির্দয় আচরণ বন্ধ এবং পরিবেশবান্ধবভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। চামড়া প্রক্রিয়াকরণে ইটিপি ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপেরও নির্দেশ দেন।

এ সব বিষয়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দিনের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ কমিটিতে থাকবেন:

  • মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার
  • শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান
  • সড়ক পরিবহন ও সেতু উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান
  • পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান
  • তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম
  • স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
  • স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
  • প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী
  • বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন
  • শিল্প সচিব মো. ওবায়দুর রহমান
  • ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও চামড়া ব্যবসায়ী প্রতিনিধি
  • প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম

সভায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন উপদেষ্টা ও সচিবগণ। কোরবানির মৌসুমকে কেন্দ্র করে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে সচেতন মহল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



গাজীপুরে হাসনাত আব্দুল্লাহর গাড়িতে হামলা, আটক ২

গাজীপুরের ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর গাড়িতে দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনা রীতিমতো চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনায় গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক করেছে। রোববার (৪ মে) সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে এবং একই রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

পুলিশ জানায়, আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন গাজীপুর মহানগরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা মো. নিজাম উদ্দিন এবং কাশিমপুর থানাধীন শেখ রাসেল শিশু কিশোর পরিষদের সভাপতি মাসুম আহসেদ দিপু।

ঘটনার সময় গাড়ির চালক জানান, হাসনাত আব্দুল্লাহ গাড়িতে ছিলেন। ঠিক তখনই পেছন দিক থেকে মোটরসাইকেলে করে আসা একদল দুর্বৃত্ত তাদের গাড়ির ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। হামলায় গাড়ির জানালার কাচ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যায়।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) রবিউল হাসান সাংবাদিকদের জানান, হামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে দ্রুত অভিযান শুরু করা হয়। অভিযানে দুইজনকে আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আর যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ কঠোরভাবে দমন করা হবে। এর পেছনে রাজনৈতিক কোনো কারণ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।

এই হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এনসিপির পক্ষ থেকে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। দলটির একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা জানিয়েছেন, এ ধরনের ঘটনা গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকিস্বরূপ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি

রোহিঙ্গা সংকট কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়, বরং গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার উপর হুমকি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, সংকটটির সমাধানে আন্তর্জাতিকভাবে কার্যকর পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

রাজধানীতে আয়োজিত একটি সেমিনারে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অবস্থান করলেও এখনো তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের কোনো সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি নেই। তিনি জানান, মিয়ানমারে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সামরিক জান্তা এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরোধ – সব মিলিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের ভবিষ্যৎকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর থেকে শুরু হওয়া সহিংসতায় ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে কক্সবাজার ও ভাসানচরে ১৩ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে একজন রোহিঙ্গাও নিজ দেশে ফিরতে পারেনি।

তৌহিদ হোসেন আরও বলেন, এই সংকট প্রথম শুরু হয়নি ২০১৭ সালেই। ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে রোহিঙ্গারা ধীরে ধীরে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এ সংকট বর্তমানে এতটাই দীর্ঘমেয়াদী হয়ে উঠেছে যে, তা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্যের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, লাখো বাস্তুচ্যুত মানুষ, যাদের অর্ধেকই তরুণ, অনির্দিষ্টকালের জন্য শান্তিপূর্ণ থাকবে— এমন আশা করা অযৌক্তিক। এই অব্যাহত অনিশ্চয়তা উগ্রপন্থা ও অস্থিরতা তৈরির উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করছে।

তিনি বলেন, মিয়ানমারের অভ্যন্তরে আরাকান আর্মি, সামরিক জান্তা এবং এনইউজি নামে পরিচিত জাতীয় ঐক্য সরকার – এই তিন পক্ষই বর্তমানে রাখাইন রাজ্যে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। আরাকান আর্মি বর্তমানে রাখাইনের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে, যা প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, কেবল দ্বিপাক্ষিক আলোচনা দিয়ে এই সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। প্রয়োজন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে সমন্বিত কূটনৈতিক তৎপরতা এবং চাপ। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করে টেকসই প্রত্যাবাসনের পথ তৈরি করতে হবে।

সেমিনারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ সরকার মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কোনো মানবিক করিডোর গঠনে সম্মতি দেয়নি। তিনি বলেন, এ ধরনের গুজব বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এমনকি জাতিসংঘ মহাসচিবও ‘করিডোর’ শব্দটি ব্যবহার করেননি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এসএম কামরুল হাসান বলেন, রাখাইনে মিয়ানমারের সরকারি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণহীনতা এবং আরাকান আর্মির প্রভাব বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে কেবল দ্বিপাক্ষিক নয়, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও জোরালোভাবে প্রয়োজন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাহাব এনাম খান মূল প্রবন্ধে বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা এখন আর শুধু মানবিক সংকট নয়, বরং এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোর বড় একটি দুর্বলতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই সমাধানও হতে হবে সামগ্রিক ও কৌশলগত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



এক গ্রামে ছিলেন তিন জমিদার, ছিল না কোনো বিরোধ  হারিয়ে যাচ্ছে চাঁদশীর ইতিহাস

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার চাঁদশী গ্রামে এক সময় সহাবস্থান করতেন তিনজন প্রভাবশালী জমিদার—অন্মিকা চরন গুহ, কেদারনাথ বসু ও অন্যদা বসু। তাদের মধ্যে কখনো কোনো বিরোধ ছিল না, বরং ছিল আন্তরিক সহযোগিতা ও সুসম্পর্ক। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এবং দেশভাগের পর তারা দেশত্যাগ করলে তাদের সকল ঐতিহাসিক নিদর্শন ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে দখলদারদের কবলে।

প্রবীণরা জানান, ১৯৪৮ সালে দেশভাগের পর জমিদাররা ভারতে পাড়ি জমালে তাদের সম্পত্তি দখল করে নেয় স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি। তারা ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে জমিদার বাড়ি, দালান-কোঠা, মন্দির ও দীঘি দখল করে নিয়েছে। ধ্বংস করে দিয়েছে মূল্যবান সব নিদর্শন।

উত্তর চাঁদশী গ্রামের এই জমিদার একটি পঞ্চরত্ন সমাধী নির্মাণ করেছিলেন বাংলা ১৩১৮ সালে। বর্তমানে এই সমাধীটিও ধ্বংসপ্রায়, তার ইট দিয়ে তৈরি করা হয়েছে শৌচাগার। প্রায় ১১ একর জমিতে ছিল তার বাড়ি, দাওয়াখানা, দুর্গা মন্দির ও বিভিন্ন পুকুর। এলাকাবাসীর মতে, গুহ বাড়ির দীঘি এবং অনুষ্ঠানপূর্ণ জীবনযাপন আজ কেবল স্মৃতি।

তার বাড়িটি আজও দাঁড়িয়ে আছে, তবে জীর্ণ অবস্থায়। ছিল বৌঠাকুরানীর দীঘি, দুর্গা পূজার আয়োজন, ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ধারা। তিনি নিজেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ‘চাঁদশী ঈশ্বর চন্দ্র বসু মাধ্যমিক বিদ্যালয়’। তার অবর্তমানে কেয়ারটেকার জিতেন্দ্র নাথের পরিবার এখন ওই বাড়িতে বসবাস করছে।

তার নাতী তপন বসু এখনও বাস করছেন বিশাল অট্টালিকায়। তিনি জানান, দেশভাগ ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধে তাদের বাড়িতে পাকিস্তানি সেনারা হামলা চালায় এবং তার ভাইবোন শহীদ হন। কিন্তু আজও তারা শহীদ পরিবার বা মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি পাননি। সেই দুঃখ নিয়েই তিনি এখনো জমিদার বাড়ির ধ্বংসাবশেষ আগলে রেখেছেন।

চাঁদশী গ্রামের এই তিন জমিদার ছিলেন ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। তাদের মধ্যে ছিল বন্ধুত্ব, সহযোগিতা এবং সম্মানবোধ। আজ দখলদারদের অবহেলায় এবং প্রশাসনের উদাসীনতায় এই সমৃদ্ধ ইতিহাস ধ্বংসের মুখে। একসময়কার ঐশ্বর্যপূর্ণ জমিদার বাড়িগুলো এখন শুধু দুঃখের ইতিহাস আর বিলুপ্তপ্রায় স্মৃতিচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে ডায়াবেটিসবান্ধব ব্রি ধান-১০৫ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপযোগী ব্রি ধান-১০৫ এখন বরিশালের কৃষকদের মাঠেও সাফল্যের মুখ দেখছে। আশানুরূপ ফলন পাওয়ায় এই নতুন জাতের ধান চাষে উৎসাহিত হচ্ছেন দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকরা।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রী) উদ্ভাবিত ব্রি ধান-১০৫ হচ্ছে দেশের প্রথম কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জিআই) সম্পন্ন ধান, যা বিশেষভাবে ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ। বরিশালে এই জাতের ধান এ বছর প্রথমবার চাষ করা হয়েছে এবং কৃষকরা এর উৎপাদনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

বরিশাল ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আশিক ইকবাল খান জানান, “ব্রি ধান-১০৫-এর আন্তর্জাতিক গ্লাইসেমিক ভ্যালু ৫৫-এর নিচে। ফলে এই চালের ভাত খাওয়ার ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ে না, যা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বর্তমানে ধানটির উৎপাদন ও সম্প্রসারণ বাড়াতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।”

চাষের অনুমোদন পাওয়া ব্রি ধান-১০৫-এর গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৭.৮ টন হলেও সঠিক পরিচর্যা ও অনুকূল পরিবেশে ফলন হতে পারে ৮.৫ টন পর্যন্ত। এই ধানের জীবনকাল ১৪৮ দিন। কৃষকরা জানান, প্রথমবার চাষ করেই তারা ভালো ফলন আশা করছেন, ফলে ভবিষ্যতে এ ধানের চাষ আরও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে।

বরিশাল অঞ্চলের কৃষকদের মতে, ধানটি শুধু লাভজনকই নয়, জনস্বাস্থ্যের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা যেহেতু দিন দিন বাড়ছে, তাই এমন ধানের উৎপাদন বাড়লে তা খাদ্যনিরাপত্তার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসুরক্ষাতেও অবদান রাখবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালে মাদ্রাসার ছাদ থেকে পড়ে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

বরিশাল নগরীর বাজার রোড এলাকায় অবস্থিত খাজা মইনুদ্দিন মাদ্রাসার ছাদ থেকে পড়ে শেখ রাফি (১২) নামের এক ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ১ মে। মাদ্রাসার তিনতলার ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয় রাফি। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার (৪ মে) তার মৃত্যু হয়।

রাফির মৃত্যুর বিষয়টি তার মামা মনিরুল ইসলাম নিশ্চিত করেন।

নিহত রাফির পরিবার অভিযোগ করেছে, মাদ্রাসার ছাদে কোনো ধরনের রেলিং বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। এমনকি শিশুদের ছাদে যাওয়া নিয়ন্ত্রণে কোনো তদারকি ছিল না বলেও দাবি করেন তারা।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হালিম হুজুর বলেন, “ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা শিশুটির চিকিৎসা নিশ্চিত করেছি এবং পরিবারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়েছি।”

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শিশু শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /