ড. ইউনূস বাংলাদেশকে ‘গ্লোবাল ফ্যাক্টরি’ বানাতে চান: প্রেস সচিব

বাংলাদেশকে একটি ‘গ্লোবাল ফ্যাক্টরি’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। চট্টগ্রাম বন্দরের উন্নয়ন ও বিদেশি বিনিয়োগকে কেন্দ্র করে এই লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ করছেন তিনি, জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

আজ (৮ মে) দুপুরে চট্টগ্রাম রেডিসন ব্লুতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শফিকুল আলম। তিনি বলেন, “দেশে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি করাই প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের মূল লক্ষ্য।”

শফিকুল আলম আরও জানান, ড. ইউনূস চট্টগ্রাম পোর্ট নিয়ে ২০০৭-০৮ সাল থেকে অনেক কাজ করে আসছেন এবং দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়ন নিয়ে তার দৃষ্টিভঙ্গি অত্যন্ত প্রো-ব্যবসা। তিনি বলেন, “ড. ইউনূস একজন বড় ব্যবসায়ী, যিনি সবসময় বাংলাদেশের জন্য নতুন নতুন বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করেন।”

প্রেস সচিব বলেন, “ড. ইউনূস যখন দাভোসে গিয়েছিলেন, তিনি একদিনে ২৩টি মিটিং করেছেন। নিউইয়র্কে গিয়ে চারদিনে ৫১টি মিটিং করেছেন। সেখানে তিনি বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগ আনার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।”

চট্টগ্রাম অঞ্চলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, “চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষ বিদেশে কাজ করতে যাচ্ছে। আমরা চাই, তারা দেশে ফিরে তাদের উপার্জন এখানেই ব্যয় করুক। চট্টগ্রাম বন্দরকে আধুনিকায়ন করলে আরও অনেক বিনিয়োগ আসবে।”

শফিকুল আলম বলেন, “অনেকেই মনে করেন, চট্টগ্রাম বন্দরের বিদেশি অপারেটরদের হাতে দিলে চাকরি চলে যাবে, তবে আমি বলি, চাকরি কমবে না, বরং ১০ গুণ বৃদ্ধি পাবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




অপারেশন ‘সিন্দুরে’ শতাধিক সন্ত্রাসী নিহত: ভারতের দাবি

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং দাবি করেছেন, পাকিস্তান ও পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর অঞ্চলে চালানো সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিন্দুরে’র মাধ্যমে শতাধিক সন্ত্রাসবাদীকে হত্যা করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) দিল্লিতে আয়োজিত সর্বদলীয় বৈঠকে এই তথ্য দেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। বৈঠকে তিনি বলেন, “অপারেশন সিন্দুরে একটি চলমান অভিযান এবং ভারত কোনো নতুন হামলার ইচ্ছা পোষণ করে না। তবে পাকিস্তান যদি সংঘাত বাড়ানোর চেষ্টা করে, তাহলে উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে।”

ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই এবং একাধিক শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে অংশ নেওয়া বিরোধী দলগুলোর নেতাদের সামনে সরকার পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে কিছু তথ্য গোপনীয় বলে উল্লেখ করা হয়।

বৈঠক শেষে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সাংবাদিকদের বলেন, “সরকারের বক্তব্য আমরা মনোযোগ দিয়ে শুনেছি। জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে আমরা সবাই একসাথে আছি।”

ভারতের পক্ষ থেকে এই ধরনের সামরিক পদক্ষেপের ফলে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশালের গৌরনদীতে সরকারি খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার পিঙ্গলাকাঠী বাজার এলাকায় সরকারি খাল দখল করে অবৈধভাবে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছেন এক কলেজ শিক্ষক। প্রশাসনের বাঁধা উপেক্ষা করে পুনরায় নির্মাণকাজ শুরুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

জানা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দা ও কলেজ শিক্ষক কামাল হোসেন তিন মাস আগে খাল দখল করে নির্মাণকাজ শুরু করলে উপজেলা প্রশাসন তা বন্ধ করে দেয়। তবে সম্প্রতি তিনি আবারও কাজ শুরু করেন। বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, খালের জায়গা দখল করে গায়ের জোরে স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে, যা জনস্বার্থ ও পরিবেশের জন্য হুমকিস্বরূপ।

অভিযোগ অস্বীকার করে শিক্ষক কামাল হোসেন দাবি করেন, “আমি আমার নিজস্ব জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করছি।” তবে কেন প্রশাসন কাজ বন্ধ করে দিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

নলচিড়া ইউনিয়নের ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. আব্বাস আলী বলেন, “আমাদের নিষেধ সত্ত্বেও প্রভাবশালী ব্যক্তি খাল দখল করে নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বিষয়টি আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।”

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাজিব হোসেন সাফ জানিয়ে দেন, “সরকারি স্বার্থে আমরা কঠোর। কেউ খাল দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করলে তা আইনানুগভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা নেব।”

স্থানীয়রা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, “সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপই পারে এমন অন্যায় ঠেকাতে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / 




বরিশালে সাবেক সেনা সদস্যের সংবাদ সম্মেলন, ফিলিং স্টেশন দখল ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

ফিলিং স্টেশন দখল ও ব্যবসার মূলধনের ৪০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য মজিবুর রহমান মাঝি। বৃহস্পতিবার (৮ মে) বরিশালের গৌরনদী উপজেলা সদরের কারিতাস হলরুমে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

লিখিত বক্তব্যে মজিবুর রহমান অভিযোগ করেন, গৌরনদীর কটকস্থল বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন আরিফ ফিলিং স্টেশনের অংশীদার হয়েও প্রতিপক্ষের প্রভাব খাটিয়ে তাকে ও তার পরিবারকে নানা হয়রানির মধ্যে ফেলা হয়েছে। তিনি জানান, ষ্ট্যাম্প চুক্তির মাধ্যমে তার মেঝ ছেলে ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলেও সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি। বরং ফিলিং স্টেশনটির আরেক অংশীদার হারুন বেপারী, তার মেয়ে পপি বেগম ও মেয়েজামাতা আজমল সিদ্দিক সোহাগ ফিলিং স্টেশনটি দখলের উদ্দেশ্যে মিথ্যা মামলায় তার সন্তান ও নাতিদের কারাগারে পাঠান।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে ফিলিং স্টেশনটি অবৈধভাবে দখলে রাখা হয়েছে এবং পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হারুন বেপারীর ভাই ও বোনেরা দাবি করেন, হারুন বেপারী তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। আরিফ ফিলিং স্টেশনের মোট ৫৮ শতক জমির মধ্যে হারুন বেপারীর মালিকানা মাত্র ২.৩৮ শতক। তার লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসায় কোনো বিনিয়োগ নেই বলেও দাবি করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ আব্দুল গনি মাঝি, শরীফুর রহমান, কহিনুর বেগম, হোসনেয়ারা বেগম, সখিনা বেগম, সালমা পারভীন ও ওয়াহীদ সম্রাট।

মজিবুর রহমান প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও সঠিক তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




দেশের ৮০% আমড়ার জোগান বরিশাল থেকেই

সারা দেশের আমড়ার প্রায় ৮০ শতাংশ চাহিদা পূরণ করে বরিশাল বিভাগ। ভৌগোলিক নির্দেশক (GI) স্বীকৃতি পাওয়া বরিশালের এই মৌসুমি ফল এখন শুধু একটি স্বাদযুক্ত খাদ্য নয়, বরং দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগে ১,৮৫৫ হেক্টর জমিতে আমড়ার চাষ হয়। এখান থেকে বছরে প্রায় ২৪,৬৮৪ মেট্রিক টন আমড়া উৎপাদন হয়। উৎপাদনের দিক থেকে পিরোজপুর, ঝালকাঠি ও পটুয়াখালী শীর্ষে থাকলেও, সবচেয়ে বেশি জমিতে আমড়া চাষ হয় ঝালকাঠিতে।

জেলাভিত্তিক প্রধান উৎপাদন এলাকা:

  • পিরোজপুর: ৮,৬৭৭ মেট্রিক টন
  • ঝালকাঠি: ৪,৫৭৮ মেট্রিক টন
  • পটুয়াখালী: ৩,৯০০ মেট্রিক টন
  • বরিশাল: ৩,৩৮৪ মেট্রিক টন
  • ভোলা: ২,৮৯০ মেট্রিক টন
  • বরগুনা: ১,২৫৫ মেট্রিক টন

বরিশালের বানারীপাড়া, মেহেন্দিগঞ্জ, মুলাদী ও বাকেরগঞ্জ সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উৎপাদন অঞ্চল। স্থানীয় চাষি শরিফুল ইসলাম জানান, তার ৩ হাজার গাছ থেকে তিনি গত মৌসুমে ৬০ লাখ টাকার বেশি আমড়া বিক্রি করেছেন।

পদ্মা সেতু চালুর পর বরিশালের আমড়া রাজধানী ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে মাত্র তিন ঘণ্টায়। এছাড়াও সড়কপথে দেশের প্রায় সব বড় শহরে পৌঁছাচ্ছে বরিশালের আমড়া।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোসাম্মৎ মরিয়ম বলেন, “বরিশালের মাটি ও পানি আমড়া চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। এখন এটি চাষিদের জন্য একটি লাভজনক অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। GI স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারেও বরিশালের আমড়ার পরিচিতি বাড়বে।”

গত ৩০ এপ্রিল বরিশালের জেলা প্রশাসকের হাতে আমড়ার GI সনদ তুলে দেওয়া হয়, যা এ অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / 




অবশেষে শুরু হচ্ছে বরিশাল-ফরিদপুর ৬ লেন মহাসড়কের ভূমি অধিগ্রহণ

বরিশাল-ফরিদপুর এবং বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্প অবশেষে শুরু হচ্ছে। বুধবার অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে প্রাথমিক পর্যায়ে বরাদ্দকৃত ১,৮৫৭ কোটি টাকার মধ্যেই ফরিদপুর থেকে বরিশালের লেবুখালী পর্যন্ত ভূমি অধিগ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কাজটি সম্পন্ন করার সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত।

প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও জটিলতায় ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় তিনগুণ বৃদ্ধি পেয়ে সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়। যদিও অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশন অনুমোদন না দেওয়ায় আপাতত বরিশাল বাইপাস এবং কুয়াকাটা অংশ বাদ রেখে সীমিত পরিসরে ভূমি অধিগ্রহণ কার্যক্রম চালু রাখা হচ্ছে।

জরুরি এই প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত আছে:

  • ফরিদপুর থেকে বরিশাল মহানগরীর গড়িয়ারপাড় পর্যন্ত
  • দপদপিয়া সেতু পার হয়ে পায়রা সেতু পর্যন্ত ছয় লেনের মহাসড়ক

বরিশাল সড়ক জোনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ভূমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তবে বরিশাল বাইপাসের জন্য বরাদ্দ বাদ পড়ায় ভবিষ্যতে সেটির জন্য আলাদা অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে।

এই প্রকল্পের গুরুত্ব প্রসঙ্গে বলা হয়, দক্ষিণাঞ্চলের ১১টি জেলার পরিবহন সংযোগ এই মহাসড়কের ওপর নির্ভর করে। পদ্মা সেতুর সুফল পেতে হলে ফরিদপুর-বরিশাল-পায়রা-কুয়াকাটা মহাসড়ককে উন্নয়ন করতেই হবে। বর্তমানে যানবাহনের চাপ, দুর্ঘটনা এবং ধীরগতি পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে ব্যাহত করছে।

উল্লেখ্য, ২০১৫-১৮ সালে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (ADB) সহায়তায় ২১১ কিলোমিটার দীর্ঘ মহাসড়কের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও নকশা তৈরি হয়েছিল। পরে ২০১৮ সালে ১,৮৫৭ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন হলেও নির্ধারিত ২০২১ সালের সময়সীমার মধ্যেও অর্ধেক জমির অধিগ্রহণ হয়নি।

অধিগ্রহণের জটিলতা, বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের ধীর গতি এবং প্রশাসনিক উদাসীনতা প্রকল্পটি বারবার পিছিয়ে দিয়েছে। এডিবিও নতুন করে সম্ভাব্যতা সমীক্ষার দাবি করেছে, যা প্রকল্পের অগ্রগতিকে আরও ধীর করেছে।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশাবাদী, আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) প্রকল্পটি সম্পূর্ণ রূপে অন্তর্ভুক্ত করা গেলে বাস্তবায়ন আরও দ্রুত হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বিএনপিতে কারা যোগ দিতে পারবেন জানালেন : রিজভী

আওয়ামী লীগ থেকে আসা এবং দলটির দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিরাও বিএনপির সদস্য হতে পারবেন বলে জানিয়েছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) দুপুরে বিএনপির নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

রিজভী বলেন, “আগামী ১৫ মে থেকে ১৫ জুলাই পর্যন্ত বিএনপির সদস্য নবায়ন এবং নতুন সদস্য সংগ্রহ অভিযান চলবে। যারা আওয়ামী লীগের দুর্নীতি, দুঃশাসন ও অনিয়মের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন, তাদের আমরা স্বাগত জানাব। তারা বিএনপির সদস্য হতে পারবেন।”

তিনি আরও বলেন, “স্বৈরাচার আমলে বহু মানুষ বিএনপিতে যোগ দিতে সাহস পাননি। এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। দেশজুড়ে বিএনপির প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে।”

রিজভী দাবি করেন, এই সদস্য সংগ্রহ অভিযানের লক্ষ্য হলো এক কোটি নতুন কর্মী দলভুক্ত করা। দেশের সব বিভাগীয় শহরে একযোগে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই কার্যক্রম শুরু হবে বলেও জানান তিনি।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




রমনা বটমূলে বোমা হামলা রায়ের পরবর্তী অংশ ঘোষণা ১৩ মে

 চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ  রমনা বটমূলে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় হত্যা মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন)  রায় ঘোষণা শুরু করেন আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২৫ মিনিটে এবং বেলা একটার দিকে আদালত পরবর্তী রায় ঘোষণার জন্য ১৩ মে ধার্য  করেন ।

বেলা সোয়া একটার দিকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, রায় ঘোষণা শুরু হয়েছে। আজ এজাহার, অভিযোগ ও সাক্ষীদের বক্তব্যের দিকগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। রায়ের বাকি অংশ ঘোষণার জন্য আগামী মঙ্গলবার দিন রেখেছেন।

আজ শুরুতে আদালত বলেন, আজ ঘটনা ও সাক্ষী পর্যালোচনা করা হবে। বাকিটা (রায়) পরবর্তী তারিখে হবে।

এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী এস এম শাহজাহান বলেন, ‘তাহলে রায়ের আদেশ অংশ (সিদ্ধান্ত) আজ হচ্ছে না?’

তখন আদালত বলেন, ‘আজ আদেশ অংশ হচ্ছে না।’ এরপর রায় ঘোষণা শুরু হয়।

এর আগে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। এরপর গত ৩০ এপ্রিল বিষয়টি আদেশের জন্য আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আদালত রায়ের জন্য আজ বৃহস্পতিবার (৮ মে) দিন ধার্য করেন। এ অনুসারে মামলাটি রায়ের জন্য আজ আদালতের কার্যতালিকায় ১৬৩ নম্বর ক্রমিকে ওঠে।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানে বোমা হামলা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন নিহত হন। পরে হাসপাতালে মারা যান একজন। এ ঘটনায় করা মামলা রমনায় বোমা হামলা মামলা হিসেবে পরিচিতি পায়।

মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর ২০১৪ সালে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে আসে। অন্যদিকে কারাগারে থাকা দণ্ডিত আসামিরা জেল আপিল ও নিয়মিত আপিল করেন। ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির জন্য গত বছরের ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্টের ওই বেঞ্চের কার্যতালিকায় ওঠে। পেপারবুক উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে শুনানি শুরু হয়।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও সরওয়ার আহমেদ। দুই আসামির পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানি করেন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসিফ ইমরান।

রাজধানীর রমনা বটমূলে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রুহুল আমিন রায় দেন। রায়ে মুফতি হান্নানসহ আটজনের মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মুফতি হান্নান ছাড়া মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন আকবর হোসেন, আরিফ হাসান, সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই মো. তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, আবদুল হাই ও শফিকুর রহমান। তবে সিলেটে গ্রেনেড হামলা মামলায় মুফতি হান্নানের মৃত্যুদণ্ড ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে।

বিচারিক আদালতের রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডিত ব্যক্তিরা হলেন শাহাদাতউল্লাহ জুয়েল, সাব্বির, শেখ ফরিদ, আবদুর রউফ, ইয়াহিয়া ও আবু তাহের।

কোনো ফৌজদারি মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে। এটি ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি দণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের জেল আপিল, নিয়মিত আপিল ও বিবিধ আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। ডেথ রেফারেন্স এবং এসব আপিল ও আবেদনের ওপর সাধারণত একসঙ্গে শুনানি হয়ে থাকে।

বোমা হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের (ডেথ রেফারেন্স) জন্য রায়সহ নথিপত্র হাইকোর্টে আসে, যা ২০১৪ সালে ডেথ রেফারেন্স মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়। এরপর শুনানির পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) তৈরি করা হয়। অন্যদিকে কারাগারে থাকা আসামিরা পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন। হত্যা মামলায় পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) প্রস্তুতসহ আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়ার পর ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল ২০১৬ সালে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চে প্রথম শুনানির জন্য ওঠে।

শুনানিও শুরু হয়। পরে কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এ নিয়ে আলোচিত এই মামলায় আট আসামির ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিল হাইকোর্টের তিনটি বেঞ্চের কার্যতালিকায় উঠলেও শুনানি শেষে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়নি। এরপর আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিল হাইকোর্টের ওই দ্বৈত বেঞ্চে শুনানির জন্য গত বছরের ৮ ডিসেম্বর কার্যতালিকায় ওঠে। এর ধারাবাহিকতায় শুনানি শেষে এই মামলায় আজ রায় দেওয়া শুরু হলো।




রমনা বটমূলে বর্ষবরণ হামলার রায়ের ঘোষণা শুরু

রাজধানীর রমনা বটমূলে ২০০১ সালে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে সংঘটিত ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণা শুরু হয়েছে হাইকোর্টে। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে এই রায়ের কার্যক্রম শুরু হয়।

তবে দণ্ডাদেশ সংক্রান্ত আদেশের অংশ আজ ঘোষণা করা হবে না বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাহজাহান। এর আগে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট এ মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের দীর্ঘ শুনানি শেষে রায় প্রস্তুতের জন্য বিষয়টি সিএভি (Curia Advisari Vult) অর্থাৎ “বিচারাধীন” ঘোষণা করেন। পরে ৮ মে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করা হয়।

হাইকোর্টে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী এস এম শাহজাহান, সরওয়ার আহমেদ ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতানা আক্তার রুবী।

২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের প্রথম প্রহরে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে রমনা বটমূলে সংঘটিত হয় বর্বরোচিত এই বোমা হামলা। এই হামলায় ঘটনাস্থলেই নয়জনের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা যান। হামলার পরপরই নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত সার্জেন্ট অমল চন্দ্র চন্দ রমনা থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার সাত বছর পর ২০০৮ সালের ৩০ নভেম্বর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ১৪ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সাক্ষ্য ও প্রমাণ পর্যালোচনার পর ২০১৪ সালের ২৩ জুন বিচারিক আদালত রায় ঘোষণা করেন। সেই রায়ে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ আটজনের মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— মুফতি আব্দুল হান্নান, মাওলানা আকবর হোসেন, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, মাওলানা আবু বকর ওরফে মাওলানা হাফেজ সেলিম হাওলাদার, মাওলানা আবদুল হাই এবং মাওলানা শফিকুর রহমান। এদের মধ্যে মুফতি হান্নানের মৃত্যুদণ্ড ইতোমধ্যে সিলেটের গ্রেনেড হামলা মামলায় কার্যকর হয়েছে।

বিচারিক আদালতের রায়ের পর নিয়ম অনুযায়ী মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে হাইকোর্টে আসে এবং আসামিপক্ষ জেল আপিলও করে। রমনা বটমূল হামলার রায়ের মাধ্যমে এ দেশের বিচার ব্যবস্থায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচিত হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মুলাদীতে কুমির দেখার গুজব, নদীপাড়ে উদ্বেগ

বরিশালের মুলাদী উপজেলার জয়ন্তী নদীতে কুমির দেখার একটি ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে, যদিও বাস্তবে এর কোনো প্রমাণ মেলেনি।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ১৭ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দুটি কুমির সাঁতার কাটছে বলে দাবি করা হয়। ভিডিওতে বলা হয়, এটি মুলাদীর চরকালেখান এলাকার জয়ন্তী নদীর দৃশ্য। ভিডিওটি কয়েকটি ভিন্ন আইডি থেকে আপলোড ও হাজারবারের বেশি শেয়ার হয়।

এমন পোস্টে অনেকেই নদীতে সাঁতার কাটা ও মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তবে এলাকাবাসী ও স্থানীয় জেলেদের মতে, গত দুই-তিন মাসে জয়ন্তী নদীতে কোনো কুমির দেখা যায়নি

চরকালেখান ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. বেলাল হোসেন বলেন, “এটি পুরোপুরি গুজব। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ভিডিওটি ছড়িয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে।”

ভিডিওটি শেয়ার করা তরিকুল ইসলাম হিরণ জানান, তিনি ভিডিওটি অন্য একটি আইডি থেকে ডাউনলোড করে দিয়েছেন, তবে ভিডিওর সত্যতা সম্পর্কে নিশ্চিত নন।

স্থানীয়দের মতে, ‘ভাইরাল’ হওয়ার উদ্দেশ্যে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে, যা সামাজিক অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করছে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের উচিত গুজব ছড়ানো এই ধরনের পোস্ট নজরদারিতে আনা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /