ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী অংশ যেন মৃত্যুফাঁদ

ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী অংশ যেন মৃত্যুফাঁদ দুই বছরে অর্ধশতাধিক দুর্ঘটনায় নিহত ২৫, আহত শতাধিক

ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের বরগুনার আমতলী অংশে সড়ক দুর্ঘটনার প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাত্র ২৬ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কে গত দুই বছরে ঘটেছে ৫০টিরও বেশি দুর্ঘটনা। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৫ জন, আহত হয়েছেন শতাধিক।

বাঁক, বাজার ও থ্রি-হুইলারের কারণে বিপজ্জনক অবস্থা :
স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবহন চালকদের মতে, সড়কের একাধিক বাঁক, যত্রতত্র বাজার বসা এবং থ্রি-হুইলারের অবাধ চলাচল মহাসড়কটিকে কার্যত মৃত্যুফাঁদে পরিণত করেছে। যদিও মহাসড়কে থ্রি-হুইলার চলাচল নিষিদ্ধ, বাস্তবে আমতলী উপজেলার চৌরাস্তা থেকে পটুয়াখালী ও কুয়াকাটার দিকে প্রতিনিয়ত অটোরিকশা ও মাহিন্দ্রা চলাচল করছে।

সড়ক পরিদর্শনে দেখা গেছে, মহাসড়কের পাশে অবৈধ দোকানপাট, ট্রাক্টর ও টমটমের দৌরাত্ম্য এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি কোনো গ্রামীণ সড়ক বলেই মনে হয়।

বরিশাল থেকে কুয়াকাটাগামী বাসচালক মিজান বলেন, “অবৈধ দোকানপাটের কারণে পথচারীরা রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে।”

শ্যামলী পরিবহনের চালক রফিকুল ইসলাম বলেন, “থ্রি-হুইলারগুলো হঠাৎ রাস্তা পার হয়। তখন আমাদের গাড়ি বাঁচাতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।”
চালক সোহেল জানান, “রাস্তায় প্রচুর বাঁক রয়েছে। কুয়াশার সময় এগুলো দেখা যায় না। চিহ্নিত করার জন্য লাইট বসানো হলে দুর্ঘটনা কমবে।”

আমতলী থানার ওসি আরিফুল ইসলাম বলেন, “বাঁক, বাজার ও থ্রি-হুইলার—তিনটির সম্মিলিত কারণেই দুর্ঘটনা ঘটছে।”
বরগুনার পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম খলিল বলেন, “আমতলী থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত হাইওয়ে পুলিশের ব্যবস্থা নেই। তারপরও আমরা ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছি।”

সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরিশাল অফিস জানিয়েছে, মহাসড়কের এই অংশকে চার লেনে উন্নীত করতে জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এস এল টি /




ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণে ১৭ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প ঘোষণা

ভোলা ও বরিশালকে যুক্ত করতে কালাবদর ও তেঁতুলিয়া নদীর ওপর ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বহুমুখী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেতু নির্মাণে প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ১৭ হাজার কোটি টাকা।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) বিকেলে ভোলা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানায় সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। সভায় অংশগ্রহণ করেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. শেখ মইনউদ্দিন এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সেতু বিভাগের যুগ্ম সচিব ও সেতু কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রক পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ।

ড. মইনউদ্দিন বলেন, “এই সেতু নির্মিত হলে বরিশাল-ভোলা অঞ্চলের বহু সমস্যার সমাধান হবে।”
মোহাম্মদ আবদুর রউফ জানান, “সেতুটি ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ হবে এবং এটি বহুমুখী ব্যবহারের জন্য উপযোগীভাবে নির্মিত হবে।”

সভায় সভাপতিত্ব করেন ভোলা জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান। বক্তারা প্রকল্পের সম্ভাবনা, প্রয়োজনীয়তা, চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন।

সভার বাইরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ভোলা-বরিশাল সেতুর দাবিতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের spontaneous মানববন্ধন ও স্লোগান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বোঝা যায়, স্থানীয়দের কাছে এই সেতুর গুরুত্ব কতটা গভীর।

প্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন, সেতু নির্মিত হলে বরিশাল ও ভোলার মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা আমূল পরিবর্তিত হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি গতিশীলতা পাবে।




বরিশালে আসছেন দুই উপদেষ্টা, হিজলায় ড্রেজিং প্রকল্পসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করবেন

সরকারি সফরে বরিশালের হিজলা উপজেলা সফর করছেন দেশের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত দুই উপদেষ্টা। শুক্রবার (৯ মে) সকাল ১০টা থেকে শুরু হবে তাদের দুইদিনব্যাপী কর্মসূচি।

জেলা প্রশাসক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, সফররত উপদেষ্টারা হলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং নৌ-পরিবহন ও শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন।

তারা আজ হিজলা উপজেলার পুরাতন লঞ্চঘাট এবং প্রায় এক যুগ ধরে পরিত্যক্ত মৌলভীর হাট লঞ্চঘাট এলাকা পরিদর্শন করবেন। বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক সেখানে ড্রেজিং কার্যক্রমের মাধ্যমে ঘাট পুনরায় চালুর পরিকল্পনা থাকলেও, স্থানীয়দের মধ্যে প্রকল্পটি নিয়ে রয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। অনেকে মনে করছেন, প্রকল্পের আসল উদ্দেশ্য লঞ্চ চলাচল নয় বরং বালুর ব্যবসা, যা প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতেই নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বসতভিটা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন অনেক সাধারণ মানুষ। এই প্রেক্ষাপটে সরেজমিনে প্রকল্পের বাস্তবতা ও প্রয়োজনীয়তা যাচাই করতে যাচ্ছেন উপদেষ্টারা।

বিকেল ৩টায় তারা বাবুগঞ্জ-মুলাদী সংযোগ সেতুর নির্মাণ কার্যক্রমও পরিদর্শন করবেন। আগামীকাল শনিবার (১০ মে) সকাল ১০টায় বরিশাল সার্কিট হাউসে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন তারা। বিকেল ৪টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সাথেও মতবিনিময় করবেন এবং রাতেই নৌ-রুটে ঢাকার উদ্দেশে বরিশাল ত্যাগ করবেন।

উল্লেখ্য, উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানের জন্ম চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় হলেও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন বরিশালের হিজলা উপজেলার কৃতি সন্তান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ববি কর্মকর্তার মর্মান্তিক মৃত্যু

বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নুর ইসলাম মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (৮ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন কৃষি জমির পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার বাহাউদ্দিন গোলাপ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত নুর ইসলামের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ হলেও তিনি পরিবারসহ বরিশালে তালুকদার মার্কেট এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

জানা গেছে, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে কিছু কৃষি জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদের কাজ করতেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ওই জমির পাশেই বৈদ্যুতিক পাম্প চালু করার সময় পানিতে পড়ে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক তারে পা ফসকে পড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে থানা পুলিশ বিকেল ৪টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন ববি’র প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানি, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ, প্রক্টরসহ শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

ববি উপাচার্য ড. শুচিতা শরমিন এক শোকবার্তায় বলেন, “নুর ইসলামের মৃত্যুতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে শোকাহত। আমি তার রুহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ববি ভিসির অপসারণে শিক্ষক-শিক্ষার্থী একত্র, আন্দোলনের নতুন মোড়

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য ড. শুচিতা শরমিনের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনে এবার একাত্মতা প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বৃহস্পতিবার (৮ মে) দুপুরে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে এই ঘোষণা দেন তারা।

শিক্ষকদের এই সংহতির মধ্য দিয়ে ২৪ দিন ধরে চলা আন্দোলন নতুন গতি পেয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একযোগে ক্যাম্পাস ও আশেপাশের সড়কে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে ববি’র শিক্ষক ড. মুহসিন উদ্দিন লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষক ড. হাফিজ আশরাফুল হক ও উন্মেষ রায়। তারা অভিযোগ করেন, উপাচার্যের অব্যবস্থাপনার কারণে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

তাদের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে:

  • মাসের অধিকাংশ সময় ক্যাম্পাসে অনুপস্থিত থাকা
  • প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা
  • বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো উন্নয়ন কার্যক্রম না হওয়া
  • অসুস্থ শিক্ষার্থীর সাহায্যের আবেদন পর্যন্ত উপেক্ষা
  • শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করে ভয়ভীতি সৃষ্টি

শিক্ষকরা একবাক্যে বলেন, “এই ভিসি যদি থাকেন, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস হয়ে যাবে।”

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সুজয় শুভ বলেন, “আমরা বর্তমান উপাচার্যকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছি। তাকে দ্রুত অপসারণ করে একজন শিক্ষার্থী বান্ধব ভিসি নিয়োগে ইউজিসির হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




বরিশালে ছাত্রলীগ নেতাকে আটকে ১০ লাখ টাকা দাবি, তিন ছাত্রদল কর্মী আটক

বরিশালে ছাত্রলীগের এক নেতাকে অপহরণ করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবির অভিযোগে তিন ছাত্রদল কর্মীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার (৮ মে) সকালে নগরীর হাটখোলা এলাকা থেকে অপহৃত ছাত্রলীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান শাকিলকে উদ্ধার করা হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন মেট্রোপলিটন ডিবি ইন্সপেক্টর ছগির হোসেন। এ সময় তিন ছাত্রদল কর্মী—জহিরুল ইসলাম প্রিন্স, সৈয়দ সাইফুল ইসলাম সুজন ও সোলায়মান সুজনকে আটক করা হয়। তারা বরিশাল মহানগর ছাত্রদলের এক প্রভাবশালী নেতার ঘনিষ্ঠ বলে জানা গেছে।

সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালেই চকবাজার এলাকা থেকে ছাত্রলীগ নেতা শাকিলকে আটকে ফেলে অভিযুক্তরা। তাকে হাটখোলা এলাকার একটি কাঠের দোকানে আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে ৬ লাখ টাকার আশ্বাস দিলে শাকিলের ভাইকে টাকা আনতে পাঠানো হয়। বিষয়টি জানিয়ে শাকিলের পরিবার পুলিশকে অবহিত করলে, তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ শাকিলকে উদ্ধার ও তিনজনকে আটক করে।

তবে ঘটনার পরেই ছাত্রলীগ নেতা শাকিলকে রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাকিলের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। যদিও তার ঘনিষ্ঠদের দাবি, তিনি বর্তমানে সব মামলায় জামিনে রয়েছেন।

এদিকে, আটক ছাত্রদল কর্মীরা দাবি করছেন, তাদের পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। এই বিষয়ে ডিবি ইন্সপেক্টরের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় সম্ভব হয়নি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




ঝালকাঠিতে তিল চাষে সাফল্যের পথে চাষিরা

ঝালকাঠির চাষিরা এখন আশাবাদী—তিল চাষ বাড়িয়ে বদলে দেবেন নিজেদের ভাগ্য। কম খরচ, কম রোগবালাই এবং কম পরিচর্যার ফসল হওয়ায় দিন দিন জনপ্রিয়তা বাড়ছে তিল চাষে। লাভ বেশি হওয়ায় এ কৃষি খাতে ফিরছে নতুন প্রাণ।

চলতি ২০২৫ মৌসুমে ঝালকাঠিতে ৩৯৬ হেক্টর জমিতে তিলের আবাদ হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেড়েছে। বিশেষ করে কাঠালিয়া উপজেলায় তিল চাষের ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে। জেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, ঝালকাঠি সদরে ৮৬ হেক্টর, নলছিটিতে ৩৫ হেক্টর, রাজাপুরে ১১০ হেক্টর এবং কাঠালিয়ায় সর্বোচ্চ ১৬৫ হেক্টর জমিতে তিল চাষ হয়েছে।

স্থানীয় চাষিরা জানাচ্ছেন, দেশি জাত ছাড়াও বারি তিল-২, বারি তিল-৪ এবং বিনা তিল-৩ জাতের তিল আবাদ করে তারা সফল হয়েছেন। ফসল বপনের তিন মাসের মধ্যেই চাষিরা তিল ঘরে তুলতে পারেন। তিল চাষে অধিক লাভজনক হওয়ার পাশাপাশি রোগবালাই খুব কম হয়, ফলে কীটনাশক বা রাসায়নিক সার ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না। এতে উৎপাদন খরচও অনেক কমে আসে।

নলছিটি উপজেলার চাষি মো. ফারুক হোসেন বলেন, “তিল চাষে পরিশ্রম কম, আবার লাভ অনেক বেশি। প্রতিবছর আবাদ বাড়াচ্ছি। আশাবাদী, তিলই আমাদের নতুন ভরসা হয়ে উঠবে।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে। কৃষি উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “তিল চাষ সম্প্রসারণ হলে দেশে ভোজ্যতেলের ঘাটতি পূরণেও ভূমিকা রাখতে পারবে। আমরা চাষিদের প্রশিক্ষণ, প্রদর্শনী ও প্রযুক্তি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি।”

তিল চাষকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠির চাষিরা এখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখছেন। সহজ চাষাবাদ এবং বাজারে ভালো দামের কারণে এ ফসল হতে পারে আগামী দিনের কৃষি অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




নতুন রাজনৈতিক সমাধান ছাড়া উত্তরণের সুযোগ নেই: মাহফুজ আলম

বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যুত্থানের বাস্তবতা নিয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন অর্ন্তবর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। ৮ মে, বৃহস্পতিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে “কৈফিয়ত কিংবা বাস্তবতা” শিরোনামে একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি মন্তব্য করেন, জোড়াতালি দিয়ে গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্ভব নয়। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ছাড়া রাষ্ট্রের কাঠামোগত সংকট নিরসন অসম্ভব। ক্ষমতার ভরকেন্দ্র এখন আর সরকারের হাতে নেই, বরং প্রশাসন, বিচারবিভাগ ও পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করছে অন্যরা। রাজনৈতিক দলগুলো এখন আর সহযোগী নয়, কিন্তু প্রশাসনে তারা সক্রিয়ভাবে জড়িত।

ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম স্পষ্ট করেন, রাষ্ট্রপতি অপসারণ আন্দোলনের পর থেকেই ছাত্র প্রতিনিধিদের কোনঠাসা করা হচ্ছে। অর্ন্তবর্তী সরকারে তিন ডজন নিয়োগপ্রাপ্তের মধ্যে মাত্র দু’জন ছাত্র প্রতিনিধি থাকায় প্রভাব বিস্তার অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, “আমরা দু’জন সর্বোচ্চ ব্যালেন্সিং এক্ট করতে পারছি, কিন্তু সুষম প্রতিনিধিত্ব ছাড়া তা যথেষ্ট নয়।”

তিনি আরও বলেন, ছাত্রদের বিভক্তি এবং অভিজ্ঞতার অভাব তাদের আন্দোলনকে দুর্বল করে ফেলেছে। একাধিক ছাত্র সংগঠন থাকায় ঐক্যের অভাব প্রকট। নাগরিক কমিটিই হতে পারত দীর্ঘমেয়াদি অভ্যুত্থানের শক্তি, কিন্তু সেটি টেকসই হয়নি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন প্ল্যাটফর্ম দেশজুড়ে ছাত্রদের ঐক্যবদ্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

আন্দোলনের ছাত্র-জনতা এখন বিভক্ত ও দ্বিধান্বিত। সামরিক ও বেসামরিক আমলাতন্ত্র, মিডিয়া ও ব্যবসায় লীগ-নিয়ন্ত্রিত বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। রাজনৈতিক অর্থনীতিতেও পরিবর্তন আসেনি। বিচার বিভাগ এখনো দ্বিদলীয় প্রভাবমুক্ত নয়।

তিনি অভিযোগ করেন, বাম ও ডান রাজনৈতিক শক্তি বাস্তবতা অনুধাবনে ব্যর্থ হয়েছে। ডানপন্থীরা আবেগের বশবর্তী হয়ে ভুল করেছে এবং বামপন্থীরা সরকারের বিরুদ্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। ছাত্র রাজনীতিতে দুর্নীতি, দলবাজি ও কোরামবাজির কারণে সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল ছাত্ররাও হতাশ হয়ে পড়েছে।

তিনি জানান, আন্দোলনের পক্ষে কাজ করা ছাত্র-জনতা এখনো শক্তিশালী সিভিল সোসাইটি গঠন করতে পারেনি। সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসন এবং রাজনৈতিক এলায়েন্সে তাদের কোনো অংশীদারিত্ব নেই। শহিদ ও আহতদের বিচার প্রশ্নেও সরকারসহ সব পক্ষ ব্যর্থ।

তার মতে, অভ্যুত্থান শহর ছাড়িয়ে গ্রামে পৌঁছাতে না পারার পেছনে ছাত্রদের অনভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক দলগুলোর স্বার্থবাদিতা এবং প্রশাসনিক অনমনীয়তা দায়ী।

পোস্টের একেবারে শেষে মাহফুজ আলম বলেন, “ছাত্রদের ন্যায্য অংশীদারিত্ব ছাড়া রাষ্ট্রে কোনো টেকসই পরিবর্তন সম্ভব নয়। আর এর জন্য প্রয়োজন ছাত্রদের মধ্যে সততা, আদর্শ, নিষ্ঠা ও ঐক্য ফিরিয়ে আনা।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মুন্সীগঞ্জে ট্রিপল হত্যা মামলায় ৩ জনের ফাঁসি, ৫ জনের যাবজ্জীবন

মুন্সীগঞ্জের আলোচিত ট্রিপল হত্যা মামলায় তিন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার একটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া অপর ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মাসুদ করিম এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর মো. বিলাল হোসেন এবং আসামিপক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট আব্দুল গণি টিটু ও অন্যান্যরা।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—সৌরভ, শিহাব ও রনি। যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—সাকিব, শামীম, অনিক, ছোট জাহাঙ্গীর ও রায়হান। তাদের প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২৪ মার্চ মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার উত্তর ইসলামপুরে মনিকে ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে রাতে একটি সালিশ বসে। সালিশ শেষে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে আওলাদ হোসেন মিন্টু, শাকিব ও ইমনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। ঘটনাস্থলে ইমন, পরদিন মিন্টু এবং পরে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাকিব মারা যান।

ঘটনার দুই দিন পর, ২৬ মার্চ নিহত মিন্টুর স্ত্রী খালেদা আক্তার বাদী হয়ে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে ২০২২ সালের ৮ জুন পুলিশ ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে।

আদালত ১৭ সেপ্টেম্বর চার্জ গঠন করে এবং বিভিন্ন সময় মোট ২৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ রায় ঘোষণা করে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাসের ধাক্কায় অ্যাম্বুলেন্সের ৫ যাত্রী নিহত

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে থেমে থাকা একটি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সে যাত্রীবাহী বাসের সজোরে ধাক্কায় নারীসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) দুপুর ১টার দিকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার নিমতলা এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলেই এক নারী নিহত হন, বাকি চারজন মারা যান ঢাকায় নেওয়ার পথে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও অ্যাম্বুলেন্সের এক যাত্রী স্বর্ণা আক্তার জানান, দক্ষিণবঙ্গ থেকে একজন রোগীকে ঢাকার গ্রীন রোডের সিটি হাসপাতালে নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সটির চাকা পাংচার হয়। ফলে গাড়িটি এক্সপ্রেসওয়ের পাশে দাঁড়ানো ছিল। এ সময় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি দ্রুতগামী বাস পেছন থেকে এসে অ্যাম্বুলেন্সটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।

এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান অ্যাম্বুলেন্সে থাকা এক নারী। গুরুতর আহত অবস্থায় চারজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়।

সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, নিহতদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।

এই দুর্ঘটনা মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দ্রুতগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই আবারও সামনে নিয়ে এলো।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /