বরিশালে তাপপ্রবাহের তাণ্ডব, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে বিপর্যয়

বরিশালসহ মেঘনা অববাহিকায় প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার (৯ মে) বরিশালে মৌসুমের সর্বোচ্চ ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪.৫ ডিগ্রি বেশি।
এ দিন সকালেও তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রি, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৫ ডিগ্রি বেশি। রাতের শেষভাগে কুয়াশা থাকলেও দুপুরের আগেই সূর্যের প্রচণ্ড উত্তাপে তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষ, কৃষক ও রোগীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বরিশাল সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপের প্রভাবে এই তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে এবং তা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। শনিবার তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে এবং রোববার কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের ঘাটতিও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। গত বছরের অক্টোবর মাসে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ উপকূল অতিক্রম করার পর থেকে বরিশালে বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় ৯০-৯৫% কমে গেছে। এপ্রিল মাসে কিছুটা বৃষ্টি হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় ছিল নগণ্য। চলতি মে মাসে ২৪৫ থেকে ৩১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকলেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি হচ্ছে না।
এর প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতে। বোরো মৌসুমে অতিরিক্ত সেচের কারণে ধান চাষে খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি রোগবালাইয়ের আশঙ্কাও বাড়ছে।
স্বাস্থ্য খাতেও এর মারাত্মক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই বরিশাল বিভাগের সরকারি হাসপাতালে অন্তত ৩৫ হাজার মানুষ ডায়রিয়া ও পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। গত বছর একই ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়েছিল প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ।
শুক্রবার বিকেলে বরিশালের আকাশ মেঘে ঢেকে যায়, হালকা থেকে মাঝারি বজ্রপাতও হয়। এতে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করলেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি হয়নি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন বৈরী আবহাওয়া দিন দিন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। এর সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া তা মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /








