বরিশালে তাপপ্রবাহের তাণ্ডব, কৃষি ও স্বাস্থ্য খাতে বিপর্যয়

বরিশালসহ মেঘনা অববাহিকায় প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। শুক্রবার (৯ মে) বরিশালে মৌসুমের সর্বোচ্চ ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ৪.৫ ডিগ্রি বেশি।

এ দিন সকালেও তাপমাত্রা ছিল ২৫ ডিগ্রি, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ০.৫ ডিগ্রি বেশি। রাতের শেষভাগে কুয়াশা থাকলেও দুপুরের আগেই সূর্যের প্রচণ্ড উত্তাপে তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষ, কৃষক ও রোগীরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, বরিশাল সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের লঘুচাপের প্রভাবে এই তাপপ্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে এবং তা আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। শনিবার তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে এবং রোববার কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধির পাশাপাশি বৃষ্টিপাতের ঘাটতিও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। গত বছরের অক্টোবর মাসে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ উপকূল অতিক্রম করার পর থেকে বরিশালে বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় ৯০-৯৫% কমে গেছে। এপ্রিল মাসে কিছুটা বৃষ্টি হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় ছিল নগণ্য। চলতি মে মাসে ২৪৫ থেকে ৩১০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকলেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি হচ্ছে না।

এর প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতে। বোরো মৌসুমে অতিরিক্ত সেচের কারণে ধান চাষে খরচ বেড়েছে। পাশাপাশি রোগবালাইয়ের আশঙ্কাও বাড়ছে।

স্বাস্থ্য খাতেও এর মারাত্মক প্রভাব দেখা যাচ্ছে। চলতি বছরের প্রথম চার মাসেই বরিশাল বিভাগের সরকারি হাসপাতালে অন্তত ৩৫ হাজার মানুষ ডায়রিয়া ও পেটের পীড়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন। গত বছর একই ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়েছিল প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ।

শুক্রবার বিকেলে বরিশালের আকাশ মেঘে ঢেকে যায়, হালকা থেকে মাঝারি বজ্রপাতও হয়। এতে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করলেও কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি হয়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন বৈরী আবহাওয়া দিন দিন আরও তীব্র আকার ধারণ করছে। এর সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া তা মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ফুটপাত দখলে বিআইডব্লিউটিএ, প্রশ্ন সাধারণ মানুষের

বরিশাল নগরীর বান্দ রোডে ফুটপাত দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। এই প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

জানা গেছে, বান্দ রোডের লঞ্চঘাট এলাকায় প্রায় পাঁচ ফুট প্রস্থের ফুটপাতটি ছিল জনসাধারণের চলাচলের জন্য নির্ধারিত। কিন্তু সম্প্রতি সেই ফুটপাতের ওপরই বিআইডব্লিউটিএ নতুন করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ শুরু করেছে। এমনকি ফুটপাতের নিচে থাকা ড্রেনও মাটি ও বালু দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার মো. রায়হান কাওসার শহরের ফুটপাত দখলমুক্ত ও জলাবদ্ধতা নিরসনে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। তার নির্দেশনায় ইতোমধ্যে নগরীর বহু সড়ক থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।

তবে একই সময়ে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক এই দখলের ঘটনায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা আরিফ হোসেন বলেন, “সরকারি প্রতিষ্ঠান কিভাবে জনসাধারণের হাঁটার জায়গা দখল করতে পারে?”
মাহিন্দ্রা চালক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “ফুটপাত দখল করে প্রাচীর নির্মাণ করলে মানুষ হাটবে কোথায়?”

বিষয়টি নিয়ে বরিশাল নদী বন্দরের কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা দাবি করেন, আগের জায়গাতেই পুরনো প্রাচীর ভেঙে নতুন প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে, ফলে ফুটপাত দখলের প্রশ্নই আসে না। অন্যদিকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী জানিয়েছেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ সুরক্ষায় এই ধরনের নির্মাণ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে যথাযথ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




আ.লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে উত্তপ্ত বরিশাল, মহাসড়কে আগুন

বরিশাল শহর উত্তাল হয়ে উঠেছে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে ছাত্র ও জনতার ফ্যাসিবাদবিরোধী বিক্ষোভে। শুক্রবার (৯ মে) রাত পৌনে ৮টার দিকে নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বর থেকে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার ব্যানারে একটি বিশাল মিছিল বের হয়।

মিছিলটি বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ঘুরে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে গিয়ে অবস্থান নেয়। সেখানে তারা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।

বিক্ষোভকারীরা আওয়ামী লীগকে ‘গণহত্যাকারী’ এবং ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে উল্লেখ করে দেশের রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। তারা বলেন, “জুলাই মাসে ছাত্র-জনতার ওপর যে নৃশংস হামলা হয়েছে, তা জাতির ইতিহাসে এক কলঙ্কময় অধ্যায় হয়ে থাকবে।”

বিক্ষোভকারীরা মহাসড়কের ওপর বসে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন এবং একপর্যায়ে টায়ার ও কাঠে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে এবং যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েন।

পরবর্তীতে আয়োজকরা এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানান, “গণতন্ত্র হত্যাকারী কোনো দলকে রাজনীতির মাঠে থাকার অধিকার নেই। এই আন্দোলন কোনো দলের নয়, এটি দেশের সাধারণ জনগণের ন্যায়ের দাবি।” তারা আরও বলেন, “শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও দাবি না মানলে এই আন্দোলন আরও তীব্র ও বৃহত্তর হবে।”

ঘটনাস্থলে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর রয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে আইনগত কোনো বাধা নেই: ড. আসিফ নজরুল

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, যদি কোনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের নিষিদ্ধকরণ দাবি করে অথবা বিচারিক আদালত এ বিষয়ে কোনো রায় বা পর্যবেক্ষণ দেয়, তাহলে আইন অনুযায়ী দ্রুতই দলটিকে নিষিদ্ধ করা সম্ভব। তিনি এ মন্তব্য করেন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি দীর্ঘ বিবৃতিতে।

বিবৃতিতে ড. আসিফ নজরুল অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে কিছু মানুষ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিত্তিহীন ও মানহানিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা বা বাধা দেওয়া পুলিশের এবং গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্ব। এটি কোনোভাবেই আইন মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারভুক্ত নয়। তিনি স্পষ্ট করে জানান, তার মন্ত্রণালয়ের আওতায় শুধু নিম্ন আদালতের বিচারকরা থাকেন, যারা কোনোভাবেই বিমানবন্দরে কাউকে আটকানোর বা পাহারা দেওয়ার দায়িত্বে থাকেন না।

আইন উপদেষ্টা আরও জানান, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধকরণের সুযোগ রেখে আইসিটি আইনের সংশোধিত খসড়া তৈরি হয়েছিল আইন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং সেই খসড়া তিনিই উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উত্থাপন করেছিলেন। সেই প্রস্তাবের বিরোধিতা তার পক্ষ থেকে হওয়া সম্ভব নয়। বরং উপদেষ্টা পরিষদের প্রতিটি সদস্যের সম্মিলিত মতামতের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। তিনি দোষারোপের রাজনীতি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপ নিতে আইনগত কাঠামোতে কোনো সমস্যা নেই। প্রয়োজনে আইসিটি আইন কয়েক দিনের মধ্যেই সংশোধন করা সম্ভব। এছাড়া সন্ত্রাস দমন আইনসহ বিদ্যমান অন্যান্য আইনেও দলের নিষিদ্ধকরণের পথ খোলা আছে।

সবশেষে ড. আসিফ নজরুল বলেন, যদি রাজনৈতিক দলগুলো এই নিষিদ্ধকরণের দাবি তোলে কিংবা বিচারিক আদালত প্রাসঙ্গিক কোনো পর্যবেক্ষণ দেয়, তাহলে আইন মেনেই দ্রুত আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। তিনি এ বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “আমরা সেই প্রত্যাশায় আছি। ইনশাল্লাহ।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



চট্টগ্রামে আসছেন প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রথমবারের মতো যাচ্ছেন নিজ জেলা চট্টগ্রামে। তাঁর আগমনকে ঘিরে বন্দরনগরীতে চলছে জোর প্রস্তুতি, আর চট্টগ্রামের জনগণ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন মাটির সন্তানকে বরণ করে নেওয়ার জন্য।

আগামী ১৪ মে অধ্যাপক ইউনূস যোগ দেবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে। বিশ্ববিদ্যালয়টি তাঁর নিজ গ্রাম হাটহাজারী উপজেলার জোবরা গ্রামের পাশেই অবস্থিত। এই জোবরা গ্রামেই তিনি একসময় ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সম্ভাব্যতা যাচাই করে ছিলেন, যা পরে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে।

চট্টগ্রামে আসার দিন তাঁর ব্যস্ত কর্মসূচির সূচনা হবে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-৫ এলাকায় একটি সভার মাধ্যমে। এই সভায় বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ব্যবহারকারী সংগঠন এবং বাণিজ্য প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। সেখানে বন্দরের বর্তমান কার্যক্রম, সক্ষমতা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর একটি মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা করা হবে।

পরে তিনি যাবেন চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে, যেখানে বহুল প্রত্যাশিত কালুরঘাট সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন করবেন। এই সেতু কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরের লাখো মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রাম হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের দলিল হস্তান্তর এবং স্থানীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কাজের উদ্বোধনও রয়েছে তাঁর সফরসূচিতে।

দুপুরে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন এবং বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিতব্য ৫ম সমাবর্তনে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে ভাষণ দেবেন। ২০১১ থেকে ২০২৩ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত প্রায় ২২ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীকে ডিগ্রি প্রদান করা হবে, যেখানে পিএইচডি ডিগ্রি পাবেন ২২ জন। অধ্যাপক ইউনূসকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ডি-লিট উপাধিতে ভূষিত করবে, তাঁর দারিদ্র্য বিমোচন ও বিশ্বশান্তির অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ।

এ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক সিআর আবরার এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজ। সমাবর্তনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহইয়া আখতার। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এক লাখেরও বেশি মানুষ এই জমকালো আয়োজনে উপস্থিত হবেন।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ছোট পাহাড় ও টিলা ঘেরা ২৩০০ একর জমির চারপাশজুড়ে চলছে সাজসজ্জার কাজ। সবমিলিয়ে, অধ্যাপক ইউনূসের সফর ঘিরে চট্টগ্রামে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ, যা নতুন করে গৌরব এনে দিচ্ছে এই জেলার মানুষের জন্য।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ধ্বংসের মুখে উপকূলের স্লুইসগেট, কৃষিতে শঙ্কা

কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকরা বর্তমানে চরম দুরবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। কারণ এলাকার অধিকাংশ স্লুইসগেট এখন আর কার্যকর নেই। যেগুলো কিছুটা সচল, সেগুলো দখলে রেখেছে এক শ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি। কৃষিকাজের জন্য জরুরি এই স্লুইসগেটগুলো এখন মাছ ধরার ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ফলে কৃষকদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাঠালপাড়ার ছয় ভেন্টের স্লুইসগেটটির অবস্থা এতটাই করুণ যে, এর পিলার থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে রড বেরিয়ে গেছে। কপাটগুলো নষ্ট হয়ে লোনা পানির অনবরত চলাচলে এলাকাজুড়ে কৃষিকাজ হুমকিতে পড়েছে। গাইড ওয়াল ভেঙে গেছে, নিরাপত্তা রেলিং উধাও, আর প্রতিটি গেটের উপর ঝুলছে জাল। স্লুইস গেটটির সামনে মাছ ধরেই এক মহল প্রতিদিন ৫ থেকে ২০ হাজার টাকা আয় করছে।

এই স্লুইসের সুবিধাভোগী অন্তত ৩০টি গ্রামের কৃষকরা এখন পানি প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে না রাখতে পেরে হতাশ। এক সময় যে গেট তাদের জীবন ও জীবিকার প্রধান সহায়ক ছিল, এখন তা ধ্বংসের কিনারায়। শুধু কলাপাড়ার চাকামইয়া নয়, বরগুনার তালতলী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের কৃষকরাও এই স্লুইস ব্যবহার করতেন। কিন্তু ৬৫ সালে নির্মিত গেটটি এখন অচল।

এদিকে তালতলীর তিনটি ইউনিয়নের সঙ্গে কলাপাড়ার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। স্লুইস সংলগ্ন নদীপাড়ের অন্তত ৩০ হাজার কৃষক শঙ্কার মধ্যে দিন পার করছেন। কৃষকরা বলছেন, এভাবে চললে সবজি, রবিশস্যসহ অন্যান্য উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

একই সমস্যা দেখা দিয়েছে নীলগঞ্জের যুগীর স্লুইসগেটেও। এখানকার শতকরা ৮০ ভাগ কৃষক নিজস্ব উদ্যোগে বাঁধ দিয়ে মিঠা পানির সংরক্ষণ করে সারা বছর সবজি উৎপাদন করেন। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ স্লুইসটির রক্ষণাবেক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেই।

কৃষক সুলতান গাজী জানান, তাদের উৎপাদিত সবজি কলাপাড়ার প্রায় অর্ধেক চাহিদা পূরণ করে। অথচ এই স্লুইসের ওপর তারা কোনো নিয়ন্ত্রণ পান না। শতকরা ৯০ ভাগ স্লুইসগেটই এখন আর প্রকৃত কৃষকের নিয়ন্ত্রণে নেই। রাজনৈতিক দলের ছত্রছায়ায় থাকা প্রভাবশালীরা এসব গেটের মালিকানা দাবি করে মাছ ধরার জন্য ব্যবহার করছে।

গত ২৫ বছরে স্লুইসগেটের দখল নিয়ে ঘটেছে প্রায় ৩০টি রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও অসংখ্য মামলা। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কোনো নজর নেই। প্রশাসনিকভাবে স্লুইসগেট পরিচালনার জন্য কমিটি গঠনের নিয়ম থাকলেও, তা শুধু কাগজেই সীমাবদ্ধ। ফলে ভোগান্তি বাড়ছে কৃষকদের।

প্রকৃত কৃষকরা বলছেন, স্লুইসগেটগুলো এখন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের আয়ের উৎস। তারা মাছ ধরেই লাভবান হচ্ছেন, অথচ কৃষকের ধান-পানির ব্যবস্থা নেই। এভাবে প্রায় অর্ধশত স্লুইসগেট ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন সিকদার বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পায়রা বন্দর উন্নয়নের নামে ধানখালী ও লালুয়ার ১৩টি খাল ভরাট করে মানুষের সর্বনাশ করা হয়েছে। এসব এলাকায় নয়টি স্লুইসগেট এখন অকেজো। ফলে জলাবদ্ধতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে হাজার হাজার মানুষ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য মতে, কলাপাড়ায় মোট ১২৭টি স্লুইসগেট রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি সম্পূর্ণ অকেজো, ৩০টি আংশিক বিকল। নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শাহ আলম জানিয়েছেন, ৪৫টি স্লুইসগেটের গেট সংস্কার প্রয়োজন। কাঠালপাড়ার স্লুইসটি নতুন করে নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। নীলগঞ্জের নিচকাটায় নতুন একটি আট ভেন্টের স্লুইস নির্মাণ কাজ চলমান। পর্যায়ক্রমে সবগুলো স্লুইসগেট মেরামতের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

তবে বাস্তবায়নের অভাবে কৃষকরা শঙ্কিত। তারা সরকারের কাছে দ্রুত স্লুইসগেট পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কৃষিকে বাঁচাতে হলে স্লুইসগেটকে কৃষকের দখলে ফেরানোই একমাত্র সমাধান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি বিবেচনায়, সরকার সিদ্ধান্ত নেবে আলোচনার পর

দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি। স্বৈরশাসন ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এসব দাবিকে সরকার গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করছে বলে জানা গেছে।

সরকার ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে। এই আলোচনা থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুতই চূড়ান্ত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়। বিশেষ করে, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিবেদনে যেসব সন্ত্রাসী কার্যকলাপের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, সেগুলোকেও সরকার পর্যালোচনার আওতায় এনেছে।

সরকার দেশের জনগণের আবেগ ও দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ইতোমধ্যে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। ছাত্রলীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে প্রচলিত আইনের অধীনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, দেশের জনগণ যেন অযথা উদ্বিগ্ন না হন এবং সংবেদনশীল এই সময়ে সকলকে ধৈর্য ধারণ করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

এদিকে, মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত সংগঠন ও ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সংক্রান্ত আইনে সংশোধনী আনার জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারক মহলের মতে, এই সংশোধনী কার্যকর হলে অতীতে ও বর্তমানে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

এছাড়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও একাধিক হত্যা মামলার আসামি আবদুল হামিদের বিদেশ গমনের ঘটনা দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। জনগণের এ ক্ষোভের ব্যাপারে সরকার অবগত এবং স্পষ্টভাবে জানিয়েছে—ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক না কেন, উপযুক্ত তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কারাগারে সাবেক মেয়র আইভী

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে মিনারুল হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। শুক্রবার (৯ মে) সকাল ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈনউদ্দিন কাদিরের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মামলার তদন্তকারী সংস্থা জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার আলোচিত মিনারুল হত্যা মামলার প্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. কাইয়ুম খান গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করে বলেন, সাবেক মেয়র আইভীকে এই মামলার আওতায় আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে ভোরে শহরের দেওভোগ এলাকায় তার নিজ বাসভবন চুনকা কুটির থেকে তাকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারণ করা হয়েছে ২৬ মে। এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা গুঞ্জন শুরু হয়েছে। দলীয় ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে আইভীর গ্রেফতার ও আদালতের নির্দেশনার পর।

সাবেক মেয়র হিসেবে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জে ব্যাপক পরিচিত এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে এই মামলার গ্রেফতারকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বললেও, অনেকেই আইনের শাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।

আইনি প্রক্রিয়ায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত আসা পর্যন্ত ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নারায়ণগঞ্জ কারাগারে রাখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পিরোজপুরে ইয়াবা মামলায় ২ জনের ১০ বছরের কারাদণ্ড

পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় ইয়াবা রাখার দায়ে দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ মে) দুপুরে পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোক্তাগীর আলম আসামিদের অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার পুটিয়াখালী এলাকার আরাফাত আল আহসান ওরফে রিয়াদ তালুকদার (৫২) এবং ভান্ডারিয়ার লক্ষিপুরা এলাকার ইকবাল মল্লিক (৪৫)।

বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ওয়াহিদ হাসান বাবু জানান, ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর ভান্ডারিয়া থানার পুলিশ শহরের রির্জাভ পুকুর এলাকা থেকে ৩২৯ পিস ইয়াবাসহ আসামিদের আটক করে। পরদিন থানার এসআই নুর আমিন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। এরপর ৩০ নভেম্বর এসআই খন্দকার মো. কামরুল ইসলাম ৮ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।

মামলায় অপর ছয় আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেন আদালত।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪.কম




বরগুনার নদীতে নিষিদ্ধ জালে পোনা নিধন, হুমকিতে মৎস্যসম্পদ

প্রতিদিন কোটি কোটি পোনা পাচার, প্রশাসনের অভিযানে সফলতা সামান্য

বরগুনার বিষখালী, বলেশ্বর ও পায়রা নদীতে প্রকাশ্যে নিষিদ্ধ জাল দিয়ে পোনা আহরণ চলছে। এতে ধ্বংস হচ্ছে দেশীয় শতাধিক প্রজাতির মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর বংশবিস্তার। রাতের আঁধারে এসব পোনা পাচার হচ্ছে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন হ্যাচারিতে। প্রশাসনের অভিযান থাকলেও জনবল সংকট ও সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের প্রভাবে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না।

পোনা আহরণ এখন ‘মহোৎসব’:
স্থানীয়রা জানায়, প্রতিদিন শুধু পাথরঘাটা এলাকার নদীতেই কয়েক কোটি পোনা ধরা হয়। চরদুয়ানী, বাদুড়তলা, কাঁঠালতলী, রূপধনসহ নদীতীরবর্তী অঞ্চলে গড়ে উঠেছে পাইকারি বাজার। পোনার দাম মাত্র এক টাকা করে হলেও পাইকাররা এসব খুলনা-বাগেরহাটে মোটা দামে বিক্রি করে। মাসোহারার বিনিময়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় চলছে এই অবৈধ ব্যবসা।

মৎস্য কর্মকর্তা ও ট্রলার মালিকদের উদ্বেগ :
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন বলেন, “নিষিদ্ধ পোনা আহরণ মৎস্যসম্পদের ওপর বড় হুমকি। অভিযান চলছে, তবে জনবল কম থাকায় শতভাগ সফলতা সম্ভব হচ্ছে না।”
ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে মাছের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে। এখনই পদক্ষেপ দরকার।”

জীববৈচিত্র্যের ক্ষয়ক্ষতি প্রকট:
পোনা আহরণের ফলে মাছের ঘাটে মাছের উপস্থিতি কমে গেছে বলে জানান চরদুয়ানী বাসিন্দা নুরুজ্জামান আলমাস। “আগে প্রতিদিন টনকে টন মাছ আসত, এখন অনেকে দিন ঘাটে এক বোতল পানিও পড়ে না,”—বললেন তিনি।

কোস্ট গার্ডের অভিযানেও ধরা পড়ে না মূল অপরাধী :
কোস্ট গার্ড সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রায় ২০ লাখ পোনা ও ১৫ লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা। তবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশবাদীদের মতে, এখনই কঠোর নজরদারি, সচেতনতা এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের উদ্যোগ না নিলে এক দশকের মধ্যে দক্ষিণাঞ্চলের নদীগুলো মাছশূন্য হয়ে পড়তে পারে।

এস এল টি তুহিন / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২৫