৪৬টি নিরীক্ষা প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে পেশ

দেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) মো. নুরুল ইসলাম রাষ্ট্রের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে ৪৬টি নিরীক্ষা প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছেন। শনিবার রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এই হস্তান্তর অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার গণমাধ্যমকে জানান, হস্তান্তরিত প্রতিবেদনগুলোর মধ্যে দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং সংস্থার নিরীক্ষা কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব প্রতিবেদন সরকারের আর্থিক শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের স্বার্থে নিরীক্ষা প্রতিবেদনগুলো গুরুত্ব সহকারে পর্যালোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া ভবিষ্যতে যেন অনিয়ম বা ঘাটতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য নীতিনির্ধারকদের পক্ষ থেকে সুপারিশ প্রণয়নের উদ্যোগও নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক মহলের ধারণা, এই নিরীক্ষা প্রতিবেদনগুলো সরকারের নীতিমালা, ব্যয় ব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন গঠনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরিশাল-কুয়াকাটা ছয় লেন মহাসড়ক ও মীরগঞ্জ সেতু প্রকল্প শুরু ডিসেম্বরেই

বরিশালবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে এক বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খুব শিগগিরই শুরু হচ্ছে ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ছয় লেন মহাসড়ক এবং বরিশালের বহু প্রতীক্ষিত মীরগঞ্জ সেতু নির্মাণ কাজ।

শনিবার (১০ মে) বিকেল ৪টায় বরিশাল সার্কিট হাউজের ধানসিঁড়ি মিলনায়তনে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এই ঘোষণা দেন সরকারের অন্তর্বর্তীকালীন নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন এবং উপস্থিত ছিলেন শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান।

উপদেষ্টা জানান, ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যন্ত ছয় জেলার ওপর দিয়ে ছয় লেনের এই মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প সরকারের অনুমোদন পেয়েছে। প্রথম ধাপে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত কাজ শুরু হবে, এরপর ধাপে ধাপে বাকি অংশ বাস্তবায়ন হবে।

মীরগঞ্জ সেতু প্রকল্প নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বলেন, “এই সেতু দীর্ঘদিন ধরে বরিশালবাসীর একটি বড় দাবি ছিল। ডিসেম্বরের মধ্যেই এর নির্মাণ কাজ শুরু হবে।”

বরিশালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরে এই অঞ্চলের তেমন উন্নয়ন হয়নি। ঢাকার সঙ্গে তুলনা করলে এখানকার রাস্তাঘাট এখনো অনেক পিছিয়ে। বরিশাল উন্নয়নের জন্য আরও বেশি মনোযোগ পাওয়ার দাবিদার।”

তিনি আরও বলেন, বরিশাল স্টেডিয়ামের উন্নয়ন কাজ চললেও অগ্রগতি ধীর। তবে বিসিবির চেয়ারম্যান ও সিইওর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে ডিসেম্বরের মধ্যে মাঠ খেলার উপযোগী হবে বলে আশ্বাস পাওয়া গেছে।

বরিশালের নৌপথ উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, হিজলার মৌলভীর হাট লঞ্চঘাট পুনরায় চালু করা হয়েছে এবং সেখানে ড্রেজিং কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি ৭-৮টি আধুনিক লঞ্চঘাট নির্মাণ এবং নতুন নৌরুট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ঐতিহ্যবাহী স্টিমার সার্ভিস ফের চালুর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দুটি স্টিমারের সংস্কার কাজ চলমান, যা আগামী ৫-৭ মাসের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার আশা করা হচ্ছে।

এছাড়া খাল পুনঃখনন, বিশুদ্ধ পানির জন্য শোধনাগার নির্মাণ, মেহেন্দিগঞ্জে নদীভাঙন প্রতিরোধে ৬০০ কোটি টাকার প্রকল্পসহ আরও বেশ কিছু উন্নয়ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।

বরিশালের পুরনো বিনোদনকেন্দ্র ‘বেল্স পার্ক’ পুনরুদ্ধার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি একসময় বরিশালের প্রাণ ছিল। আমরা এটিকে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ পার্ক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। থাকবে ফুড জোন, থাকবে পারিবারিক পরিবেশ।”

মতবিনিময় সভায় বরিশালের সাংবাদিকরা বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে মতামত ও প্রস্তাব উপস্থাপন করেন।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম


 




অপার সম্ভাবনার নিদ্রা সমুদ্র সৈকত: একটি নতুন পর্যটন কেন্দ্র

বরগুনার তালতলী উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নে অবস্থিত নিদ্রা সমুদ্র সৈকত, যা স্থানীয়ভাবে ‘নিদ্রার চর’ নামেও পরিচিত, বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই সৈকতটি পর্যটকদের জন্য এক বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠছে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য:
নিদ্রা সৈকত তার অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পরিচিত। একদিকে সাগর, অন্যদিকে নদী এবং মাঝখানে সবুজ কেওড়া ও ঝাউবনের পরিবেশ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। এখানে জোয়ার-ভাঁটার খেলা, শ্বাসমূলের সমারোহ এবং বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তর পর্যটকদের কাছে এক অপূর্ব দৃশ্য উপস্থাপন করে।

পার্শ্ববর্তী পর্যটন স্থান:
নিদ্রা সৈকত তার আশেপাশে আরও কয়েকটি আকর্ষণীয় পর্যটন স্থান সমৃদ্ধ। এর কাছেই রয়েছে শুভসন্ধ্যা সমুদ্র সৈকত, যেখানে প্রতি বছর জোছনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন টেংরাগিরি, ফাতরার চর এবং সোনাকাটা ইকোপার্ক এই এলাকায় অবস্থিত। নিদ্রা সৈকত এবং এর আশপাশের এলাকা পর্যটকদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতার প্যাকেজ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

অধিকারী ব্যক্তির মতামত:
স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তা আরিফ রহমান বলেন, নিদ্রা সৈকতের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং বৈচিত্র্য পর্যটকদের সহজেই আকর্ষণ করতে সক্ষম। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি এখানে পর্যটন অবকাঠামো উন্নত করা যায়, তবে এটি খুব শীঘ্রই দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

এছাড়া, তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে সালমা বলেন, নিদ্রা সৈকতকে কেন্দ্র করে সরকারের পক্ষ থেকে পর্যটন শিল্পের বিকাশে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন।

কীভাবে যাবেন:
ঢাকা থেকে সড়কপথে সরাসরি বাসে বা নিজের গাড়িতে তালতলী উপজেলা হয়ে নিদ্রা সৈকতে যাওয়া যায়। নৌপথে বরগুনা বা আমতলীর লঞ্চে এসে ভাড়া গাড়ি বা মোটরসাইকেলে তালতলী হয়ে সোনাকাটা ইউনিয়নে অবস্থিত নিদ্রা সৈকতে পৌঁছানো সম্ভব।

তালতলী শহরের বিভিন্ন আবাসিক হোটেল এবং জেলা পরিষদ ডাক বাংলোয় রাত কাটানোর ব্যবস্থাও রয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




নাসুমের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে বাংলাদেশের লড়াকু পুঁজি

বাংলাদেশ ‘এ’ দল ওয়ানডে সিরিজ আগেই জয় করে নিয়েছিল, কিন্তু এবার ছিল ধবলধোলাইয়ের লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে আজ মিরপুরে অনুষ্ঠিত সিরিজের শেষ ম্যাচে নেমেছিল নুরুল হাসান সোহান নেতৃত্বাধীন দল। যদিও ব্যাটিংয়ের শুরুটা ভালো ছিল না, তবে শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ের মতো স্কোর দাঁড় করিয়ে বাংলাদেশ দল ২২৭ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়।

মিরপুরের মাঠে শুরুতেই বড় চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। মাত্র ১০৪ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে দুর্দশায় পড়ে স্বাগতিকরা। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করা নুরুল হাসান সোহানও এদিন খুব বেশিদিন টিকতে পারেননি। এরপর ইয়াসির আলী রাব্বি ও নাসুম আহমেদের দৃঢ়তায় বাংলাদেশের ইনিংস ঘুরে দাঁড়ায়। ইয়াসির ৬৩ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন এবং নাসুম আহমেদ তার লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি পূর্ণ করেন। তিনি ৯৭ বল খেলে ৬৭ রান করেন।

এই জুটির উপর নির্ভর করেই বাংলাদেশ দল লড়াইয়ের মতো পুঁজি পায়। শেষ উইকেটে ইবাদতকে নিয়ে ৪৬ রানের একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্টনারশিপে স্কোর ২০০ পার করেন নাসুম। নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন লেগ স্পিনার আদিত্য আশোক, যিনি ৩টি উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ‘এ’ দল: ৪৭.৩ ওভারে ২২৭/১০ (সাইফ ৩১, ইয়াসির ৬৩, নাসুম ৬৭; অশোক ৩/৪৪, ফক্সক্রফট ২/৩২, লেনক্স ২/৩৫)

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




তীব্র গরমে সুস্থ থাকতে মেনে চলুন এই সহজ অভ্যাসগুলো

দেশজুড়ে চলমান তীব্র গরমে জনজীবনে নেমে এসেছে অস্বস্তি ও ক্লান্তি। এই সময়ে সামান্য অবহেলাও শরীরের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাই গরমের এই মৌসুমে সতর্কতা অবলম্বন করে চলা অত্যন্ত জরুরি।

তীব্র গরমে সুস্থ ও সতেজ থাকতে যা করণীয়:

প্রচুর পানি পান করুন
এই গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে পানি দ্রুত বের হয়ে যায়। ফলে ডিহাইড্রেশনের আশঙ্কা থাকে। প্রতিদিন অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা জরুরি। পাশাপাশি ফলের রস, ডাবের পানি ও লেবু-শরবতও খেতে পারেন।

হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরুন
সূর্যের তাপ থেকে বাঁচতে হালকা রঙের সুতির এবং ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহার করুন। বাইরে বের হলে ছাতা, সানগ্লাস ও টুপি পরার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলুন
দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সূর্যের তাপমাত্রা সবচেয়ে বেশি থাকে। এই সময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়াই ভালো। যেতে হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন এবং ছায়াযুক্ত স্থানে অবস্থান করুন।

খাবারে সচেতন হোন
গরমে বেশি তেল-মসলাযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলুন। সহজে হজম হয় এমন হালকা খাবার খান। তরমুজ, বাঙ্গি, শসার মতো পানিযুক্ত মৌসুমি ফল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন
তাপমাত্রা বেশি থাকলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম ও মাঝে মাঝে বিশ্রাম নেয়া জরুরি।

শিশু ও বৃদ্ধদের বাড়তি যত্ন দিন
এই বয়সভিত্তিক দুই শ্রেণি গরমের ঝুঁকিতে বেশি থাকে। তাই তাদের পর্যাপ্ত পানি পান ও রোদ থেকে দূরে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে।

স্বাস্থ্য সমস্যা হলে অবহেলা নয়
অতিরিক্ত ঘাম, মাথা ঘোরা, বমি ভাব বা দুর্বল লাগলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। এগুলো হিটস্ট্রোকের প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু সাধারণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই তীব্র গরমেও নিজেকে সুস্থ রাখা সম্ভব।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




বরিশাল ৬ লেন মহাসড়ক সীমিত হলো পায়রা সেতু পর্যন্ত

বরিশাল-ফরিদপুর হয়ে পায়রা সেতু পর্যন্ত ছয় লেন মহাসড়ক প্রকল্প আপাতত সীমিত রাখা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ভূমি অধিগ্রহণজনিত জটিলতা এবং ব্যয়ের অতিরিক্ত বৃদ্ধি। পরিকল্পনা কমিশনের অনুমোদন না মেলায় ৬ হাজার কোটি টাকার উন্নীত প্রস্তাব আপাতত স্থগিত রেখে পূর্বে বরাদ্দকৃত ১,৮৫৭ কোটি টাকার মধ্যে প্রকল্প সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

একনেকের সর্বশেষ বৈঠকে প্রাথমিকভাবে ফরিদপুর থেকে বরিশাল হয়ে লেবুখালীর পায়রা সেতু পর্যন্ত ভূমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়। এই কাজ ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে ১,৮৫৭ কোটি টাকায় বরিশাল-ফরিদপুর ও বরিশাল-পটুয়াখালী-পায়রা-কুয়াকাটা মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করার জন্য ভূমি অধিগ্রহণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ২০২১ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন বছর অতিবাহিত হলেও এখনও অর্ধেকের বেশি জমি অধিগ্রহণ হয়নি। এ সময়ে জমির মূল্য প্রায় তিনগুণ বেড়ে গেছে, ফলে বরাদ্দকৃত অর্থে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের বরিশাল জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জানিয়েছেন, নতুন পরিকল্পনায় ফরিদপুর থেকে বরিশালের গড়িয়ার পাড় এবং দপদপিয়া সেতুর পাড় হয়ে জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত অধিগ্রহণের কাজ আগামী অর্থবছরের মধ্যে শেষ করার জন্য প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তবে বরিশাল বাইপাসের ১৬ কিলোমিটার অংশ আপাতত বাদ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, প্রকল্প ব্যয় ও সময় বাড়লেও ৬ জেলা প্রশাসনের অদক্ষতা এবং ল্যান্ড এক্যুইজিশন অফিসের উদাসীনতার কারণে প্রকল্প বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এডিবির আগ্রহও কমেছে, কারণ এখনো পরিপূর্ণ ডিপিপি অনুমোদন হয়নি। সবকিছু ঠিকঠাকভাবে হলে আগামী অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি সবুজ পাতায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আশা করছে সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়।

দক্ষিণাঞ্চলের ১১ জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের জন্য এই প্রকল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত পদ্মা সেতুর সুফল যেন পূর্ণ মাত্রায় পাওয়া যায়। যানজট ও দুর্ঘটনা কমাতে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ঈদে আসছে ‘উৎসব’: বড়পর্দায় সাদিয়া আয়মান, চমকে দেবেন জয়া-চঞ্চল-অপি করিম!

ঢাকা: বর্তমান সময়ের আলোচিত অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান এবার নাম লেখালেন বড়পর্দায়। ঈদুল আজহায় মুক্তির লক্ষ্যে নির্মিতব্য নতুন সিনেমা ‘উৎসব’-এর শুটিং ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। ছবিটি পরিচালনা করছেন ‘কাইজার’ খ্যাত গুণী নির্মাতা তানিম নূর

ছবিটি ঘিরে শুরু থেকেই দর্শকদের আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। গত মাসে বার্তা২৪.কম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সাদিয়া বলেছিলেন, “সিনেমা করছি, বড়পর্দার জন্যই করছি। পরিবার নিয়ে দেখার মতো একটি গল্প। সব ঠিক থাকলে কোরবানির ঈদেই ছবিটি মুক্তি পাবে।”

তবে সে সময় তিনি ছবির নাম, পরিচালক কিংবা সহশিল্পীদের বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি। অবশেষে জানা গেছে সব তথ্য—এবং তা নিশ্চিত করেছেন ছবির প্রযোজক ও নির্মাতা সৈয়দ আহমেদ শাওকী তার এক ফেসবুক পোস্টে।

ছবির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো তারকাবহুল কাস্টিং। ‘উৎসব’ ছবিতে দেখা যাবে দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান, শক্তিশালী অভিনয়ের জন্য খ্যাত অপি করিম, জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী এবং ছোটপর্দার কিংবদন্তি জাহিদ হাসানকে।

সাদিয়ার বিপরীতে এই ছবিতে নায়ক হিসেবে থাকছেন মঞ্চ ও টিভির সম্ভাবনাময় অভিনেতা সৌম্য জ্যোতি। বার্তা২৪.কম-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌম্য নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ছবিটি চার্লস ডিকেন্সের বিখ্যাত গল্প ‘A Christmas Carol’ অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে পরিচালক বা শিল্পীদের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কিছু বলা হয়নি।

সব মিলিয়ে, ঈদুল আজহার বড়পর্দার মুক্তির তালিকায় ‘উৎসব’ ইতোমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। তারকা জৌলুস, ক্লাসিক গল্প এবং নবীন-প্রবীণ অভিনয়শিল্পীদের একত্রে দেখা—সবই মিলিয়ে এই ছবিটি হতে পারে ঈদের অন্যতম চমক।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




‘ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য’ ব্যানারে চলবে আন্দোলন

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে চলমান ছাত্র-জনতার আন্দোলন এখন থেকে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য’ ব্যানারে পরিচালিত হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।

শনিবার (১০ মে) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি লেখেন, “গত দুই দিন ধরে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে ছাত্র-জনতা রাস্তায় আছে। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই এই অবস্থান কর্মসূচি চলছে। জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার পতনের পরও এখনো অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেনি—এটি আন্দোলনের অন্যতম প্রেরণা।”

সারজিস আলম আরও জানান, “এই আন্দোলন কোনো একক রাজনৈতিক দলের নয়। এটি বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক শক্তির সম্মিলিত প্রতিবাদ। বিভিন্ন মহল থেকে আন্দোলন প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা চলছে। তবে আমরা স্পষ্ট করছি—এই আন্দোলন বিতর্ক নয়, ঐক্যের নাম।”

ফেসবুক বার্তায় তিনি দেশবাসীকে আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “ঢাকাসহ সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে আহ্বান জানাচ্ছি—আসুন, আমরা সবাই জুলাইয়ের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হই। যতদিন না আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হচ্ছে, ততদিন গণঅভ্যুত্থানপন্থী সকল দল ও মত আন্দোলন চালিয়ে যাবে। জুলাই এখনো শেষ হয়নি।”

এখন থেকে সকল কর্মসূচি ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য’ ব্যানারে চলবে বলেও সারজিস আলম নিশ্চিত করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




ভারতের সীমান্ত এলাকায় প্রাণ গেল ২২ জনের, ঘরছাড়া হাজারো মানুষ

নয়া দিল্লি: পাকিস্তানের চালানো সাম্প্রতিক হামলাকে “সরাসরি আগ্রাসন” বলে আখ্যায়িত করেছে ভারতীয় সেনাবাহিনী। এই হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২২ জন নিহত হয়েছেন এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।

আলজাজিরার নয়া দিল্লি প্রতিবেদক উম্মে কুলসুম শরীফ জানিয়েছেন, পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন ও ভারী গোলাবারুদ ব্যবহার করে আক্রমণ চালায়। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বেশ কিছু ড্রোন শনাক্ত করে সফলভাবে ধ্বংস করেছে। তবে পরিস্থিতি এখনো উত্তপ্ত।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সীমান্তজুড়ে বিস্ফোরণ ও ভারী গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এটি ছিল পাকিস্তানের ‘পরিকল্পিত সামরিক আগ্রাসন’, এবং বিস্তারিত বিবৃতি পরে দেওয়া হবে।

হামলার কারণে সীমান্তবর্তী অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্কুল, বাজার ও কৃষিকাজ বন্ধ হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে এবং ত্রাণ সরবরাহ শুরু করা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে এ ধরনের সংঘর্ষ দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠতে পারে। আন্তর্জাতিক মহলের কাছে ইতোমধ্যেই শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




সচিবালয় ও যমুনা আশপাশে সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি

জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তার স্বার্থে সচিবালয় ও প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও আশপাশের এলাকায় সকল প্রকার সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

শনিবার (১০ মে) ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী, এনডিসি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নং-III/৭৬) এর ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এ আদেশ জারি করা হলো। নির্দেশনা অনুযায়ী, শনিবার (১০ মে) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সচিবালয়, যমুনা এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায়—হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, কাকরাইল মসজিদ মোড়, অফিসার্স ক্লাব মোড়, মিন্টু রোড এলাকায়—যে কোনো ধরনের সভা, মিছিল, শোভাযাত্রা, বা গণজমায়েত সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ।”

এই নির্দেশনা এমন সময়ে এলো, যখন রাজধানীতে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে এবং ‘গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগের বিচার’ দাবিতে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও রাজনৈতিক দলগুলো রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার (৮ মে) রাত ১০টা থেকে শিক্ষার্থীরা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করে। জাতীয় নাগরিক পার্টি, গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, জুলাই ঐক্য ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা এতে অংশ নেন।

ওই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যমুনার সামনে অবস্থান নেয় এবং পুলিশ ব্যারিকেড বসিয়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল মোড়ের রাস্তা পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রাখে। যান চলাচলও সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে পড়ে।

পরে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে ‘শাহবাগ ব্লকেড’ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এনসিপি’র দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এই কর্মসূচির নেতৃত্বে ছিলেন। বর্তমানে ওই কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /