ভোলার গ্যাস এলএনজি নয়, অগ্রাধিকার পাচ্ছে পাইপলাইন প্রকল্প

ভোলার উদ্বৃত্ত গ্যাস এলএনজি আকারে জাতীয় গ্রিডে আনার পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। পরিবর্তে ভোলা-বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইন প্রকল্পকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র জানায়, এলএনজি প্রকল্পটি ব্যয়বহুল এবং দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির দাবি করে, যেখানে গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে বিনিয়োগ ফেরত পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তদুপরি, প্রতি ঘনমিটারে এলএনজি সরবরাহে খরচ দাঁড়াবে প্রায় ৫৫ টাকা, যেখানে পাইপলাইনে তা অনেক কম।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে প্রতিদিন ২৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতির বিপরীতে ৮০-১০০ মিলিয়ন এলএনজি কোনও বাস্তব সমাধান নয়। বরং দীর্ঘমেয়াদে পাইপলাইনই কার্যকর ও টেকসই সমাধান হতে পারে।
বর্তমানে ভোলায় গ্যাস উত্তোলনের সক্ষমতা রয়েছে ১৯০ মিলিয়ন ঘনফুট, কিন্তু চাহিদা ও অবকাঠামোর অভাবে তা পুরোটা ব্যবহৃত হচ্ছে না। পাইপলাইন না থাকায় জাতীয় গ্রিডেও সংযুক্ত করা যাচ্ছে না।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, ভোলায় আরও ১৫টি কূপ খননসহ পাইপলাইন বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে। ভোলা-বরিশাল রুটের সমীক্ষা শেষ হয়েছে এবং বরিশাল-জাজিরা-আমিনবাজার অংশের কনসালটেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিলম্বিত সিদ্ধান্তের কারণে গ্যাস খাতে ২০২৭ সালের মধ্যে ভয়াবহ সংকট দেখা দিতে পারে। বিবিয়ানা গ্যাস ফিল্ডের মজুদ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, যেখানে বর্তমানে উৎপাদন কমে দাঁড়িয়েছে ৯৪১ মিলিয়নে এবং আগামী কয়েক বছরের মধ্যে তা ৪০০ মিলিয়নের নিচে নেমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জ্বালানি উপদেষ্টা ড. ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের মধ্যেই ৫০টি গ্যাস কূপ খনন শেষ করে দৈনিক উৎপাদনে আরও ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ চলছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই ভোলা-বরিশাল-ঢাকা পাইপলাইন বাস্তবায়নে জোর পদক্ষেপ না নিলে গ্যাসখাতের ভবিষ্যৎ গভীর সংকটে পড়বে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /









