নতুন রাষ্ট্রগঠনে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের ডাক মাহফুজ আলমের

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রগঠন প্রক্রিয়ায় অভ্যুত্থানপন্থী সকল শক্তিকে দূরদর্শী ও বাস্তবমুখী ভূমিকা নিতে হবে। সোমবার দিবাগত রাতে তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি লিখেন, আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হলেও মূল লড়াই এখনো শেষ হয়নি। তার মতে, মুজিববাদের নামে পরিচালিত সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক রাজনীতিকে পরাজিত করতে হবে। একইসঙ্গে ফ্যাসিবাদ থেকে জন্ম নেওয়া সামাজিক ফ্যাসিবাদকেও নির্মূল করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, “মজলুম জনগণ যেন ক্ষমতার অপব্যবহারে জালিমে পরিণত না হয়, বরং সবার ন্যায্য অধিকার ও ন্যায়বিচারের পক্ষে সক্রিয় থাকতে হবে।”

রাষ্ট্রের পুনর্গঠনে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়া এবং নীতিগত ঐকমত্যের উপর জোর দিয়ে মাহফুজ আলম বলেন, “দেশের স্বাধীনতা, অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে, যুগপৎভাবে বা পৃথকভাবে হলেও একটি সর্বাত্মক গণমুখী আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, “১৯৭১ পরবর্তী আওয়ামী লীগ মুজিববাদের আদলে রাষ্ট্রগঠনের পথ রুদ্ধ করেছিল এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে ফেলেছিল। সেই ব্যর্থতা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে, আমাদের প্রয়োজন একটি ‘লীগমুক্ত বাংলাদেশ’ যেখানে নতুন রাজনৈতিক চুক্তির মাধ্যমে শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে।”

তার মতে, এই পরিবর্তন যদি এখনই না আনা যায়, তবে ভবিষ্যৎ ইতিহাস জাতিকে ক্ষমা করবে না।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম।



নিবন্ধন পুনরুদ্ধারে জামায়াতের শেষ চেষ্টার শুনানি শুরু

রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নিবন্ধন পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপে পৌঁছেছে দলটি। বাতিল হওয়া নিবন্ধন ফিরে পেতে তাদের করা আপিলের শুনানি মঙ্গলবার (১৩ মে) সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে। আপিল বিভাগে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এই শুনানি গ্রহণ করছেন।

জামায়াতের পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতনামা আইনজীবী ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির এবং ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন। দলটির তরফে আদালতে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এ টি এম মাছুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের এবং অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল।

এর আগে, ১২ মার্চ সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য এই শুনানি শুরু হলেও তা আর এগোয়নি। তবে এবার নতুন উদ্যমে জামায়াত আইনি লড়াইয়ে ফিরেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে আপিল বিভাগের এক আদেশে জামায়াতের আগের খারিজ হওয়া আপিল পুনরুজ্জীবিত হয়। সেই থেকে দলটি আবার নিবন্ধন ও প্রতীক (দাঁড়িপাল্লা) ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে আসছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ১ আগস্ট হাইকোর্টের এক ঐতিহাসিক রায়ে জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল ও অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপরে নির্বাচন কমিশন ২০১৮ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে দলটির নিবন্ধন বাতিল করে। জামায়াত এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করলেও আইনজীবী অনুপস্থিত থাকায় ২০২৩ সালের নভেম্বরে আপিল খারিজ হয় ‘ডিসমিস ফর ডিফল্ট’ হিসেবে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সাল থেকে জামায়াত ও এর অঙ্গ সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপে ছিল। ২০২৩ সালে সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও পরে ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে।

জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা দেশের প্রচলিত আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং সাংবিধানিক পথে থেকে রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে। এখন দেখার বিষয়, আপিল বিভাগের এই শুনানি দলটির রাজনীতিতে ফিরতে নতুন পথ খুলে দেয় কি না।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম।

 




চোখের অস্ত্রোপচারের জন্য ব্যাংককে গেলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল

চোখের জটিল সমস্যার চিকিৎসা নিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে গেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

বুধবার (১২ মে) দিবাগত রাত ২টা ৪৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তিনি ঢাকা ত্যাগ করেন। তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী রাহাত আরা বেগম

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, ব্যাংককের রুটনিন আই হাসপাতালে মির্জা ফখরুলের চোখের রেটিনায় অস্ত্রোপচার করা হবে।

এর আগে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে চেকআপে গেলে চিকিৎসকেরা তাকে দ্রুত অস্ত্রোপচারের জন্য থাইল্যান্ড যাওয়ার পরামর্শ দেন।

উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের ৬ এপ্রিলেও সস্ত্রীক চিকিৎসার উদ্দেশ্যে সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিবের এ ধরনের চিকিৎসার খবরে রাজনীতিতে কিছুটা আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তবে চিকিৎসাজনিত কারণে বিদেশ যাত্রা রাজনীতিকদের জন্য নতুন কিছু নয়। আশা করা যায়, তার অস্ত্রোপচার সফল হবে এবং তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে দেশে ফিরবেন।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম।

 




ঈদে নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিতে প্রস্তুত সরকার: আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

আসন্ন ঈদ-উল-আযহায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা যেন নিরাপদ, নির্বিঘ্ন এবং আনন্দময় হয়, তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া

তিনি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানান, ঈদের সময় যাত্রীদের বাড়তি চাপ সামলাতে রেলপথে বগি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

তিনি আরও জানান, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে ইতোমধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই সভায় ভাড়া বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি, ছিনতাইসহ সড়ক, নৌ ও রেলপথে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে

সজীব ভূঁইয়া বলেন, “গত ঈদের মতো এবারও সরকার বদ্ধপরিকর যাত্রীদের নিরাপদ এবং আনন্দময় যাত্রা নিশ্চিত করতে।”

বিশ্লেষণ:
প্রতি ঈদেই ঘরমুখো মানুষের দুর্ভোগ একটি বড় ইস্যু হয়ে দাঁড়ায়। তাই এবার সরকারের এই আগাম পদক্ষেপ ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় প্রশংসনীয়। বগি বাড়ানো, নিরাপত্তা জোরদার করা এবং ভাড়া নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্যোগ যাত্রীদের মাঝে আস্থা তৈরি করবে বলে আশা করা যায়।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম।

 




আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের সব রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা প্রকাশ

বাংলাদেশ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং এর সব অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ ও ব্যাখ্যা তুলে ধরে মঙ্গলবার (১৩ মে) রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি বিবৃতি প্রকাশ করে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলাগুলো চলমান থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগ এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রকাশনা, প্রচার, মিছিল, সভা-সমাবেশ এবং যেকোনো ধরনের জনসমাগম সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ থাকবে। এই নির্দেশনা দলটির নেতা-কর্মী ও সদস্যদের ওপরও প্রযোজ্য হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত কেবলমাত্র নির্দিষ্ট দল ও সংগঠনগুলোর ওপর প্রযোজ্য এবং অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এতে বিঘ্নিত হবে না। আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড কিংবা সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা বা মত প্রকাশের স্বাধীনতা এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় নয়।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ বছরে বিশেষ করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গসংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে গুম, খুন, নির্যাতন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ দেশের বিভিন্ন আদালতে একাধিক মামলা বিচারাধীন।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, বিচার প্রক্রিয়া ব্যাহত করতে আওয়ামী লীগ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো বিচারপ্রার্থী ও সাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে, হামলা চালাচ্ছে এবং সন্ত্রাসী কার্যকলাপ চালিয়ে যাচ্ছে। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সরকার ১২ মে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ। একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল ও এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা দেশের গণতান্ত্রিক ধারায় গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও সরকার বলছে এটি নিরাপত্তা ও বিচার প্রক্রিয়ার স্বার্থে নেওয়া পদক্ষেপ, তবে এটি রাজনৈতিক মেরুকরণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম।

 




ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫: বাস্তবায়নে শঙ্কা, তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আশ্বাস

সম্প্রতি, বাংলাদেশ সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন করেছে এবং শিগগিরই রাষ্ট্রপতির অনুমতির পর এটি কার্যকর হবে। নতুন এই অধ্যাদেশের উদ্দেশ্য হচ্ছে দুর্বল ব্যাংকগুলোর সমাধান করা, তবে এর বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে কিছু উদ্বেগ এবং শঙ্কা রয়েছে ব্যাংক খাতের মধ্যে।

এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংক এখন থেকে দুর্বল ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারবে। এর মাধ্যমে ব্যাংকগুলোর একীভূতকরণ, অস্থায়ী প্রশাসক নিয়োগ, শেয়ার ও সম্পদ হস্তান্তরের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমনকি, ইসলামী ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রেও এই আইন প্রযোজ্য হবে। যদি ব্যাংক পরিচালনায় ব্যর্থতা ঘটে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগও থাকবে।

ব্যাংক খাতের উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে, যদি এই আইনটির অপব্যবহার করা হয়, তবে ব্যাংক খাতের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যেতে পারে। ব্যাংকগুলোর আশঙ্কা যে, মালিকানা জোর করে নেওয়া হলে পুরো খাত ঝুঁকির মুখে পড়বে, বিশেষত যদি রাজনৈতিক প্রভাব এই আইনের বাস্তবায়নকে প্রভাবিত করে।

এ বিষয়ে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেছেন, ‘এটি ব্যাংক খাতের জন্য একটি প্রয়োজনীয় আইন, তবে সঠিক বাস্তবায়নের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রয়োজন।’ শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের এমডি মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ বলেছেন, ‘এটি সরকারের উদ্যোগ, তবে প্রয়োগের দিকটি গুরুত্বপূর্ণ। সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি ব্যাংক খাতের উন্নতির জন্য সহায়ক হবে।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছে যে, তারা এই আইনের অপব্যবহার প্রতিরোধে সতর্ক থাকবে এবং এটি শুধুমাত্র দুর্বল ব্যাংকগুলোর জন্য তৈরি। সুতরাং, শক্তিশালী ব্যাংকগুলোর জন্য এটি কোন সমস্যা সৃষ্টি করবে না। ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক একটি বিশেষ বিভাগ খোলার পরিকল্পনা করেছে এবং ব্যাংক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কিছু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানও সহায়তা প্রদান করতে প্রস্তুত। সরকারের পাশাপাশি, আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংক থেকে তহবিল নেয়া হবে, যা দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন কাজে লাগানো হবে।

তবে, এই আইনটি বাস্তবায়ন করা হলে দেশের ব্যাংক খাতে দীর্ঘমেয়াদি উন্নতি আশা করা হচ্ছে, তবে এটি সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করবে সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োগের ওপর।

 

আল-আমিন



মে মাসে রেমিট্যান্সে উৎসাহজনক প্রবাহ

২০২৫ সালের মে মাসের প্রথম দশ দিনেই প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স আশাজাগানিয়া মাত্রায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে দেশে এসেছে ৯০ কোটি ৩৪ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার। দৈনিক গড় হিসেবে দেশে এসেছে প্রায় ৯ কোটি ৩ লাখ ডলার, যা অর্থনীতির জন্য বেশ ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

রেমিট্যান্সের উৎস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—

  • বিশেষায়িত ব্যাংক থেকে এসেছে ৯ কোটি ৮১ লাখ ৫০ হাজার ডলার,
  • বেসরকারি ব্যাংক থেকে এসেছে ৫৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার ডলার,
  • বিদেশি ব্যাংক থেকে এসেছে ১৬ লাখ ১০ হাজার ডলার,
  • এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক থেকে এসেছে ২৭ কোটি ৯০ হাজার ডলার।

গত এপ্রিল মাসেও দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছে, যা ছিল ২৭৫ কোটি ১৯ লাখ ডলার। আর মার্চ মাসে এসেছে দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স—৩২৮ কোটি ৯৯ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার।

প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসাবে মার্চের রেমিট্যান্সের দেশীয় মুদ্রায় পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ৪০ হাজার ১৩৮ কোটি টাকা।

এ ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

 

আল-আমিন

 




জাতীয় নির্বাচনে বয়সসীমা ১৮ করার প্রস্তাব নেজামে ইসলাম পার্টির

জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের ন্যূনতম বয়সসীমা ১৮ বছর নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে নেজামে ইসলাম পার্টি। এছাড়া, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবিত ১৬৬ দফার মধ্যে ১৬০টির সঙ্গে দলটি একমত পোষণ করেছে।

সোমবার (১২ মে) বিকেলে জাতীয় সংসদের এলডি হলে অনুষ্ঠিত ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে এক বৈঠকে দলটির পক্ষ থেকে এসব প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

বৈঠক শেষে নেজামে ইসলাম পার্টির নেতারা জানান,

  • সংবিধানে বহুত্ববাদের পরিবর্তে একত্ববাদ যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন তারা।
  • ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা বিলুপ্ত করে সেগুলো উপজেলা পরিষদের সঙ্গে একীভূত করার কথা বলেছেন।
  • আইনজীবীদের দলীয় রাজনীতি বন্ধ করার সুপারিশও করেন।

ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বৈঠকে বলেন,

“ফ্যাসিবাদ পালিয়ে গেলেও কাঠামোগত পরিবর্তন না ঘটলে গণতান্ত্রিক রূপান্তর সম্ভব নয়। মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক, কিন্তু দেশ ও জাতির স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য জরুরি—এতেই দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত হবে।”

 

আল-আমিন



স্টক সূচকে টানা ঊর্ধ্বগতি, বিনিয়োগে ভরসা বাড়ছে

দেশের দুই প্রধান শেয়ারবাজার, ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে আজও সূচকের ইতিবাচক ধারা অব্যাহত রয়েছে। বড় কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বেড়েছে, যা বাজারে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আজ ১৯.৩ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,৯২২ পয়েন্টে, যেখানে গতকাল এটি ছিল ৪,৯০২ পয়েন্ট। তবে বাজারে লেনদেনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কিছুটা কমেছে। আজ ডিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৩৬০ কোটি টাকা

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ব্যাংক খাতে (২১.৯%), এরপর রয়েছে মিউচুয়াল ফান্ড (১৩.৬%) এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত (১০.৮%)। শেয়ার দরের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে মিউচুয়াল ফান্ড (৩.৬%), সাধারণ বীমা (৩.৪%) এবং ব্যাংক (১.৩%) খাতে।

তবে সব খাতেই শেয়ার বাড়েনি। পাট (১.১%), সেবা (০.৯%), এবং সিরামিক (০.৭%) খাতে শেয়ারের দাম কিছুটা কমেছে।

আজ ডিএসইতে মোট ৩৯৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ১৮৯টির দর বেড়েছে, ১৫৮টির কমেছে, আর ৫০টির দাম অপরিবর্তিত থেকেছে।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক ঊর্ধ্বমুখী ছিল। সিএসই সিলেকটিভ ক্যাটাগরি ইনডেক্স (সিএসসিএক্স) বেড়েছে ১৪.৪ পয়েন্ট, এবং অল শেয়ার প্রাইস ইনডেক্স (সিএএসপিআই) বেড়েছে ১৯.২ পয়েন্ট

 

আল-আমিন



গণতন্ত্রের পথে ঐক্যবদ্ধ অগ্রযাত্রা : আলী রীয়াজ

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের জুলাই ও আগস্ট মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসকের পতন ঘটেছে এবং এতে গণতন্ত্রের প্রথম বিজয় অর্জিত হয়েছে। তবে এই অর্জনকে টেকসই করতে হলে সম্মিলিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে আয়োজিত এক আলোচনায় অংশ নিয়ে অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, গত ৫৩ বছরে বাংলাদেশের মানুষ বারবার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করেছে, কিন্তু তা এখনো পূর্ণ বাস্তবায়নে পৌঁছায়নি। তাই গণতান্ত্রিক ধারায় নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত ভূমিকা এখন অপরিহার্য।

তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে স্বাধীনতার পর প্রথমবার গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ এসেছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে তা হবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সঙ্গে অন্যায়।” ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র নির্মাণ এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা রক্ষাই এখন সকলের দায়িত্ব বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনায় গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি ২০ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়। এতে অংশগ্রহণ করেন বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল এম. এল এর সভাপতি কমরেড হারুন চৌধুরী, সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সভাপতি কমরেড আলি হোসেন, পিডিপি’র মহাসচিব হারুন আল রশীদ খান এবং সমাজতান্ত্রিক মজদুর পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. সামছুল আলম। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।

 

আল-আমিন