পিরোজপুরে স্কুলছাত্রীকে অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি: গ্রেফতার হতে পারে অভিযুক্তরা

পিরোজপুরে ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী তামান্না ইসলামকে অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তারই সহপাঠীদের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৪ মে) দুপুরে পিরোজপুর জেলা গণগ্রন্থাগারের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী তামান্না ইসলাম পিরোজপুর শহরের মধ্যরাস্তা এলাকার বাসিন্দা এবং পিরোজপুর করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্তরা হলেন—পিরোজপুর করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী লুবনা ও নিলা এবং কদমতলা জর্জ হাই স্কুলের শিক্ষার্থী সিয়াম।

হুমকি দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিল স্কুলের সহপাঠী ও জনতা:
বুধবার বেলা ১২টার দিকে তামান্না ইসলাম কোচিংয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গণগ্রন্থাগারের সামনে আসেন। এ সময় অভিযুক্তরা তাকে পথ রোধ করে এবং অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা ঘটনার প্রেক্ষাপটে জড়ো হয়ে যায়। পরে তামান্না তার মাকে ফোন করেন, যিনি ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশে খবর দেন।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”ভুক্তভোগী তামান্না ইসলাম বলেন, “আমার সম্পর্কে খারাপ কথা বলার কারণে লুবনা ও নিলা আমাকে একাধিকবার হুমকি দিয়েছে। আজ তারা সরাসরি আমাকে অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দেয়।”

অভিযুক্ত লুবনা বলেন, “তামান্না আমার সম্পর্কে বাজে কথা বলছে, সে কারণে আমি তাকে সাবধান করতে বলেছি।”পিরোজপুর করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আ. হালিম হাওলাদার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

তামান্নার মা লিপি বেগম বলেন, “আমার মেয়েকে অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দিয়েছে তারই সহপাঠী। আমি স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম


 




পিরোজপুরে স্কুলছাত্রীকে অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি: গ্রেফতার হতে পারে অভিযুক্তরা

পিরোজপুরে ১৫ বছর বয়সী স্কুলছাত্রী তামান্না ইসলামকে অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তারই সহপাঠীদের বিরুদ্ধে। বুধবার (১৪ মে) দুপুরে পিরোজপুর জেলা গণগ্রন্থাগারের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী তামান্না ইসলাম পিরোজপুর শহরের মধ্যরাস্তা এলাকার বাসিন্দা এবং পিরোজপুর করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্তরা হলেন—পিরোজপুর করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী লুবনা ও নিলা এবং কদমতলা জর্জ হাই স্কুলের শিক্ষার্থী সিয়াম।

হুমকি দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিল স্কুলের সহপাঠী ও জনতা:
বুধবার বেলা ১২টার দিকে তামান্না ইসলাম কোচিংয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গণগ্রন্থাগারের সামনে আসেন। এ সময় অভিযুক্তরা তাকে পথ রোধ করে এবং অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দেয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দা ঘটনার প্রেক্ষাপটে জড়ো হয়ে যায়। পরে তামান্না তার মাকে ফোন করেন, যিনি ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশে খবর দেন।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”ভুক্তভোগী তামান্না ইসলাম বলেন, “আমার সম্পর্কে খারাপ কথা বলার কারণে লুবনা ও নিলা আমাকে একাধিকবার হুমকি দিয়েছে। আজ তারা সরাসরি আমাকে অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দেয়।”

অভিযুক্ত লুবনা বলেন, “তামান্না আমার সম্পর্কে বাজে কথা বলছে, সে কারণে আমি তাকে সাবধান করতে বলেছি।”পিরোজপুর করিমুন্নেছা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আ. হালিম হাওলাদার এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে অস্বীকার করেছেন। তবে তিনি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবারকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

তামান্নার মা লিপি বেগম বলেন, “আমার মেয়েকে অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দিয়েছে তারই সহপাঠী। আমি স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাছে এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম 




ভোলায় ১০ বছর পর ডাকাতির ঘটনায় পিটিয়ে হত্যার দায়ে ৪ জনের যাবজ্জীবন

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় ২০১৫ সালে ডাকাতির ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ১০ বছর পর আদালত চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। পাশাপাশি, আট আসামিকে মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আজ (১৪ মে, ২০২৫) দুপুরে চরফ্যাশনের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। আদালতের সহকারী জজ সাখাওয়াত হোসাইন আসামিদের অনুপস্থিতিতে এই রায় দেন, যা রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি (এপিপি) মোহাম্মদ হিরন নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা:

১. হাফেজ মনির উদ্দিন (ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড, হাজী আ. লতিফ মিয়ার ছেলে)
২. জাভেদ মিয়া (প্রয়াত হাজী আবু তাহেরের ছেলে)
৩. মো. হাবিত (হাফেজ মনির উদ্দিনের ছেলে)
৪. মোস্তফা জমাদার টুটুল (উত্তর ফ্যাশনের শাজাহান মানিক জমাদারের ছেলে)

মনে করা হচ্ছে, মনির উদ্দিন ও টুটুলকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

২০১৫ সালের ২৪ এপ্রিল চরফ্যাশনের ওসমানগঞ্জ ইউনিয়নের উত্তর ফ্যাশন গ্রামে নুর উদ্দীনের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে, যেখানে তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হন। ভুক্তভোগীদের দাবি, ডাকাতির ঘটনায় জাফর ইমাম স্বপন জড়িত ছিলেন।

ঘটনার পরদিন, ২৫ এপ্রিল, স্বপন রিকশায় চড়ে নায়েবের পুল বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় মনির উদ্দিন এবং টুটুল তাকে আটক করে লতিফ মিয়ার হাটে নিয়ে যান। সেখানে তাকে বেঁধে মারধর করা হয়, এবং নির্যাতনের এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলেই স্বপন মারা যান।

এ ঘটনায় চরফ্যাশন থানার তৎকালীন এসআই ছগীর মিয়া ১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালত এই মামলার শুনানি শেষে, চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন এবং তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা দেন। জরিমানা না দিলে, তাদের আরও তিন মাস কারাবাস করতে হবে।

এ রায়ের মাধ্যমে ১০ বছর পর স্বপনের হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে এবং বিচারপ্রার্থীরা কিছুটা হলেও শান্তি পেয়েছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




শাহরিয়ার হত্যার প্রতিবাদে ববিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্যের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ (১৪ মে, ২০২৫) দুপুরে ববি ক্যাম্পাসের গ্রাউন্ড ফ্লোরে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা এ কর্মসূচি পালন করেন।

প্রতিবাদ সভায় বক্তারা শাহরিয়ারের হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এছাড়া ঢাবি ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব আরোপ করা হয়। প্রতিবাদ মিছিলটি ববি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে।

বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন:

  • ইনজাম শাওন
  • আশিক আহমেদ
  • মোশাররফ হোসেন
  • আরিফ হোসেন শান্ত
  • আজমাইন সাকিব

এসময়, ববি ছাত্রদল নেতা আশিক আহমেদ বলেন, “এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। ৫ আগস্টের পর থেকে যখন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতিবাচক কাজ করছে, তখন তাদের উপর এ হামলা চালানো হয়েছে। আমরা চাই, অন্তবর্তীকালীন সরকার দ্রুত বিচার নিশ্চিত করুক, নতুবা নির্বাচনের ব্যবস্থা করুক।”

আরেকজন ববি শিক্ষার্থী মোশাররফ হোসেন জানান, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এখন আর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নেই। এজন্য আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। যদি তা না করা হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরা কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।”

এই প্রতিবাদ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দৃঢ় সংকল্প প্রকাশ করেছেন, এবং হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরাপত্তার দাবিতে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন ছিল : শফিকুল আলম

জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “আমরা সবাইকে আহ্বান জানাই—নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে যেন বাংলাদেশের জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা হয়।”

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জাতীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, “আওয়ামী লীগ কর্তৃক সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ক্ষত এখনো গভীরভাবে অনুভূত হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা প্রত্যক্ষ করেছি—আওয়ামী লীগ কিভাবে গণতান্ত্রিক কাঠামো ধ্বংস করেছে, রাজনৈতিক পরিসর সংকুচিত করেছে এবং বিগত ১৫ বছরে তাদের স্বৈরশাসন ও লুটপাটে দেশের সার্বভৌমত্বকে বিপদের মুখে ফেলেছে।”

শফিকুল আলম বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ‘জুলাই আন্দোলনের’ কর্মীদের নিরাপত্তা বিধান এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার স্বার্থে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন।”

নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ একাধিকবার প্রহসনের আশ্রয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া বিকৃত করেছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অপূরণীয় ক্ষতির মুখে ঠেলে দিয়েছে।”

তিনি আরও জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বর্তমানে একটি কার্যকর সংস্কার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনর্গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



টানা আন্দোলনে ববি উপাচার্যসহ তিন প্রশাসক অপসারণ

দীর্ঘ ২৯ দিনের টানা আন্দোলনের পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিন, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারারকে একযোগে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ মে) রাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব এএসএম কাসেম স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ববি’র বর্তমান উপাচার্য, প্রো-ভিসি ও ট্রেজারারকে অপসারণ করে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

নতুন অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. তৌফিক আলম-কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সুজয় শুভ এই খবর নিশ্চিত করেন।

শিক্ষার্থীরা প্রথমে ২২ দফা দাবি নিয়ে আন্দোলন শুরু করলেও পরে তা চার দফায় পরিণত হয় এবং শেষে একদফা—উপাচার্য অপসারণের দাবিতে রূপ নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনে তালা, উপাচার্যের বাসভবনে অবরোধ, ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত এবং আমরণ অনশনসহ নানা কর্মসূচি ছিল এই আন্দোলনের অংশ।

শেষপর্যন্ত ১২ মে রাত ১১টা থেকে আমরণ অনশন এবং ১৩ মে বিকেল থেকে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনকারীরা। এই চাপের মুখেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।

উপাচার্য অপসারণের ঘোষণায় মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা আনন্দ মিছিল বের করেন। যদিও রাত পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রজ্ঞাপনটির কপি প্রকাশ হয়নি।

ছাত্রদের প্রতিক্রিয়া:
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বলছেন,

“এই অপসারণ আমাদের ন্যায্য দাবির বিজয়। আমরা চাই, ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি সম্মান বজায় থাকুক।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




লক্ষ্মীপুরে মাদ্রাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার: পরিবার বলছে হত্যা, শিক্ষকরা বলছেন আত্মহত্যা

লক্ষ্মীপুর জেলা শহরের উত্তর তেমুহনী এলাকায় অবস্থিত আল-মুঈন ইসলামী একাডেমি থেকে হেফজ বিভাগের ৭ বছর বয়সী ছাত্র সানিম হোসাইনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, তাকে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বলছে, সে আত্মহত্যা করেছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং তা ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ ঘটনায় মাদ্রাসার শিক্ষক মাহমুদুর রহমান-কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।

নিহত সানিম লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার কুচিয়ামারা গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী হুমায়ুন মাতাব্বরের ছেলে। তার পরিবারের দাবি, মাদ্রাসার শিক্ষক মাহমুদুর রহমানের নির্যাতনে সে প্রাণ হারায়।

সানিমের ফুফাতো ভাই বকশি মোহাম্মদ শাহেদ হোসাইন বলেন,“সানিম ২০ পারা হাফেজ ছিল। কয়েকদিন ধরে খবর পাচ্ছিলাম, হুজুর তার ওপর ক্ষুব্ধ। মঙ্গলবার জানানো হয় সে নাকি টয়লেটে গিয়ে গলায় ফাঁস দিয়েছে। কিন্তু আমরা মাদ্রাসায় এসে মরদেহ টয়লেটে পাইনি, বরং নিচতলার একটি কক্ষে বিছানার ওপর পাই। এটা আত্মহত্যা না, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। আমরা এর বিচার চাই।”

মাদ্রাসার একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, সানিম গামছা নিয়ে টয়লেটে ঢুকছে, তবে তার বেরিয়ে আসার কোনো দৃশ্য নেই। এছাড়া মরদেহ ৩য় তলার টয়লেট থেকে নিচে নামানোর কথা বলা হলেও, সেই প্রমাণস্বরূপ কোনো ভিডিও দেখাতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

সানিমের মৃত্যুর খবরে তার মা-বাবা মাদ্রাসার মেঝেতে কান্নায় বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। শোকাহত অবস্থায় তারা কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা বশির আহমেদ বলেন, “ক্লাস শেষে নামাজ ও খাবারের বিরতিতে সানিমকে আর দেখা যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় সে গামছা নিয়ে টয়লেটে ঢুকেছে। সেখান থেকেই পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।”

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রেজাউল হক জানান, “ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। মরদেহে গলায় ও শরীরে কালো দাগ রয়েছে। এটি হত্যা না আত্মহত্যা, তা নির্ধারণে তদন্ত চলছে এবং একজন শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।”

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অভিভাবকরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /




উপাচার্য অপসারণের দাবিতে ববি শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শুচিতা শরমিনের অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আরও বিস্তৃত রূপ নিয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ মে) বিকেল ৫টায় বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ফলে উভয় পাশে শতাধিক যানবাহন আটকে পড়ে এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

এর আগে সোমবার (১২ মে) রাত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে আমরণ অনশনে বসেছেন ১১ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে পাঁচজন শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।

আন্দোলনের কারণ ও বক্তব্য:
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, উপাচার্যের স্বৈরাচারী ও একনায়কতান্ত্রিক আচরণের কারণে তারা বাধ্য হয়ে কঠোর কর্মসূচিতে নেমেছেন। আন্দোলনের নেতৃত্বে রয়েছেন ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের রবিউল ইসলাম, আইন বিভাগের ওয়াহিদুর রহমান ও শওকত ওসমান স্বাক্ষর, এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের রায়হান ও ইমন হাওলাদার।

শিক্ষার্থী সুজয় শুভ বলেন,

“উপাচার্যকে আমরা অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছি। তিনি আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে হঠাৎ ফেসবুক লাইভে এসে মন্তব্য করেছেন। তাই আমরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব।”

অনশনরত শিক্ষার্থী মোকাব্বেল শেখ বলেন,”আমরা যৌক্তিক দাবি আদায়ের জন্যই অনশনে বসেছি। দাবি পূরণ না হলে আমরা ফিরে যাব না।”

মহাসড়ক অবরোধের ফলে বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যাত্রীরা অসহ্য গরমে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে বাধ্য হন।

কলাপাড়াগামী যাত্রী ইয়াসিন মিয়া বলেন,”গরমে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে হাঁপিয়ে উঠেছি। বাস চলছে না, তীব্র কষ্টে আছি।”

এ অবস্থায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও সংকটময় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /

 




চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য বিকৃতির ঘটনায় বিভ্রান্তি ছড়ানো প্রতিবেদন শনাক্ত করেছে বাংলাফ্যাক্ট

জেনোসাইডের সংজ্ঞা নিয়ে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ তাজুল ইসলামের বক্তব্য ভুলভাবে প্রচার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর অধীন ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট

বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধানে উঠে আসে, সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে “জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে কোনো গণহত্যা হয়নি: চিফ প্রসিকিউটর” শিরোনামে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা বিভ্রান্তিকর এবং চিফ প্রসিকিউটরের মূল বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছে।

মূল বক্তব্য অনুযায়ী, চিফ প্রসিকিউটর স্পষ্ট করেন যে, প্রচলিত ভাষায় ব্যাপক হত্যাকাণ্ডকে ‘গণহত্যা’ বলা হলেও, আন্তর্জাতিক আইনে জেনোসাইড ও মাস কিলিংয়ের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের প্রচলিত ভাষায় যদি একসঙ্গে বেশি মানুষ মারা যায়, আমরা বলি গণহত্যা হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইনের সংজ্ঞায় এটি জেনোসাইড নয়।”

তিনি আরও বলেন, “জেনোসাইড অর্থে গণহত্যা বলতে বোঝায় পরিকল্পিতভাবে কোনো নির্দিষ্ট জাতিগত, ধর্মীয়, বর্ণগত বা ন্যাশনাল গোষ্ঠীকে ধ্বংসের উদ্দেশ্যে চালানো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড। রাজনৈতিক গোষ্ঠী এর আওতায় পড়ে না।”

এ কারণে, এমন হত্যা যদি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে হয়, তবে তা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়, জেনোসাইড হিসেবে নয়। এই ভুল ব্যাখ্যার কারণে সাধারণ পাঠকের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাফ্যাক্ট জানায়, ভারত থেকে পরিচালিত কিছু গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশবিরোধী প্রচারণা সম্প্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব অপপ্রচার ঠেকাতে ও জনগণকে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে কাজ করছে তারা।

মো: আল-আমিন, স্টাফ রিপোর্টার, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চিকিৎসা সেবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

চিকিৎসা সেবার পরিবেশকে নিরাপদ, জনবান্ধব ও অনুকূল রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

আজ (১৩ মে) রাজধানীর শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত দুই দিনব্যাপী সিভিল সার্জন সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “সিভিল সার্জনরা জেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যখাতের চালিকাশক্তি। তাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করে।”

চিকিৎসা খাতে জনবান্ধবতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরেন, যেমন:

  • পোস্টমর্টেম সেবা থানা পর্যায়ে নেওয়া,
  • মহিলাদের জন্য মহিলা ডাক্তার দ্বারা পোস্টমর্টেম ও ধর্ষণ সংক্রান্ত পরীক্ষা,
  • মানহীন বেসরকারি মেডিকেল কলেজ বন্ধ করা,
  • ইন্টার্ন চিকিৎসকদের গ্রামে ৬ মাস প্রশিক্ষণ ও ভাতা বৃদ্ধি।

তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে জনগণ দ্রুত সেবা পাবে ও স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নীত হবে।

মাদকবিরোধী অভিযানে চিকিৎসকদের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, “থানা বা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে মাদক পুনর্বাসন ও কাউন্সেলিং কার্যক্রম চালাতে হবে।”

চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি নিয়ে জনগণের অভিযোগের বিষয়েও তিনি স্পষ্টভাবে কথা বলেন। বলেন, “অনেক সরকারি চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে থাকেন না, যা জনগণের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করছে।”

প্রশ্নোত্তর পর্বে সিভিল সার্জনরা জেলা হাসপাতালে কেপিআই (Key Point Installation) স্বীকৃতি, পোস্টমর্টেম সেন্টার আধুনিকীকরণ, নিরাপত্তার জন্য গানম্যান প্রভৃতি দাবি উত্থাপন করেন। উপদেষ্টা এসব যৌক্তিক দাবির ব্যাপারে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব ডা. মো. সারোয়ার বারী।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম।