সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বড় পরিবর্তন, আসছে নিরাপত্তার কড়া নজরদারি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাম্য হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল স্থানে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও উদ্যান সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেইজে একটি পোস্টের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তগুলো জনসমক্ষে তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাজু ভাস্কর্যের পেছনের গেটটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে। এছাড়া উদ্যান থেকে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ, মাদক ব্যবসা রোধ এবং পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় সম্মিলিতভাবে অভিযান চালানো হবে।
এই উদ্যোগে অংশ নেবে গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। যৌথভাবে এই সংস্থাগুলোর একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে, যা নিয়মিত অভিযান এবং নজরদারি পরিচালনা করবে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে আধুনিক ও নিরাপদ রাখতে আরও কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্যানজুড়ে পর্যাপ্ত আলো স্থাপন ও সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। এসব ক্যামেরার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ চালানো হবে। একইসাথে উদ্যানে একটি ডেডিকেটেড পুলিশ বক্স স্থাপন করা হবে, যাতে তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
রমনা পার্কের আদলে উদ্যানে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে এবং রাত ৮টার পর জনসাধারণের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে। এর ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ও অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকার এই পদক্ষেপ বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা কামনা করেছে। সাম্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইতোমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত গুরুত্বসহকারে এগিয়ে চলছে। দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানকে আর আতঙ্ক নয়, বরং শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ স্থান হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে সংশ্লিষ্ট মহল। এই রূপান্তরের মাধ্যমে উদ্যান ফিরে পাবে তার গৌরবময় ঐতিহাসিক ও সামাজিক গুরুত্ব।








